কিভাবে যাবেন কলকাতায় ???

কিভাবে যাবেন কলকাতায় ???

কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা।

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন?

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ভ্রমনের বিস্তারিত তথ্য

ভুটান ভ্রমন করবেন কেন? পৃথিবীর এত এত দেশ থাকতে আপনাকে ভুটান ভ্রমন করতে হবে কেন? এই জিজ্ঞাসা সবার আগেই করা উচিৎ। তার কারন, যে দেশে ভ্রমন করবেন সে দেশ সম্পর্কে আপনার জানা থাকা জরুরী। তাই ভুটান সম্পর্কে কিছু ধারনা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। ভ্রমন প্রিয় মানুষের প্রথম এবং প্রধান উদ্যেশ্য থাকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য উপভোগ করা। যতটুকু সম্ভব কাছে থেকে উপভোগ করা। এছাড়াও থাকে সেই ভৌগলিক এলাকার কালচার, আচার আচরন চলাফেরা ইত্যাদি। এসব দিক বিবেচনা করলে ভুটান ভ্রমন একজন পর্যটকের ভ্রমন তালিকায় উপরের দিকে থাকে। ইউরোপ আমেরিকার অনেক মানুষই এই দেশটিকে ভ্রমন করে তৃপ্ত হয়েছেন। তাহলে আপনি কেন নন? আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন?

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন? কিভাবে ভুটান যাবেন?

ভৌগলিক দিক থেকে ভুটান এবং বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব অনেক কম। এ কারনে সড়ক পথে ভ্রমন করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়। ভারতের ট্রানজিট ভিসা নেওয়াটা একেবারে সহজ ব্যাপার নয়। অনেক ঝামেলার। তাছাড়াও সড়ক পথে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ভুটান যেতে প্রায় ২৪ঘন্টার মত সময় লাগে। কারন বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থল বন্দর খোলে সকাল নয়টার দিকে। আপনি ঢাকা থেকে যে বাসে চড়েই যান না কেন, তা যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। ট্রাফিক জ্যাম না থাকলে গিয়ে পৌঁছায় ভোর ছয়টার দিকে। এবার বসে থাকতে হয় স্থল বন্দর খোলার জন্যে। খোলার পরেও আরাম নেই, সেখানে অনেক লম্বা লাইন। এখান থেকে পার পেতে পেতে প্রায় দুপুর একটা। দুই দেশের স্থল বন্দরে ডিপারচার/এন্ট্রি নিতে নিতে দিনের অর্ধেক যাবে খতম হয়ে।

এ কারনে আপনি এসব ঝামেলা এড়াতে বিমানে যেতে পারেন। ভুটান বিমানে যেতে চাইলে আগে থেকে ভিসা প্রসেসিং এর দরকার নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বিমান বন্দরেই এন্ট্রি পারমিশন দেয়া হয়। তবে ভুটানের বিমান বন্দর খুবই ছোট এবং সেটা পারো নগরীতে অবস্থিত। এখানে খুবই কম ফ্লাইট থাকে। Drukair(Royal Bhutan Airlines) ঢাকা থেকে পারো পর্যন্ত কিংবা কোলকাতা থেকে পারো ফ্লাইট আছে।

তারপরেও কথা থেকে যায়। যাদের ভ্রমন বরাদ্ধ খুবই কম তাদের বেলায় বিমান নির্বাচন করা যায় না। বাস বা রেল পথ হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা উপায়।

বাসে যাবেন?

যেকোন বাস মানিক, হানিফ অথবা শ্যামলী পরিবহন ছাড়াও এস আর পরিবহন ব্যবহার করে বুড়িমারি চলে যান। বাসের লোকেরাই মাত্র ৯০০টাকার বিনিময়ে আপনাকে ঐ পাড়ে যেতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ সরকারের ভ্যাট যা এখান থেকেই বাসের লোকেরা জমা দিয়ে দেয়। সকাল ৯টা থেকে আপনার পালা আসতে যত সময় লাগে ততটুকুই হচ্ছে দেরি।

ঐ পাড়ে মানে ভারতে ঢুকার পর আপনার এন্ট্রি করানো হবে। সেখানেও একই বাসের কাউন্টার পার্ট বা টীম আপনাকে গ্রহন করে কাজটা বাংলাদেশী টাকা ১০০এ করে দিবে। এবার আপনার ভুটান যাবার পালা।

সরাসরি ভুটান কোন বাস যায় না। তবে আপনি চ্যাংরাবান্ধা বাস স্টপে গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে চলে যেতে পারেন ময়নাগুঁড়ি বাইপাস এ। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়ালেই কিছুক্ষন পরে পাবেন শিলিগুঁড়ি জয়গাঁ বাস। এই বাস অনেক স্টেশনে থামলেও আপনাকে ঠিকই নিয়ে যাবে জয়গাঁ পর্যন্ত। ভাড়া সাধারনত ৮০/৭০ রুপি।

জয়গাঁ এলে আপনাকে ইন্ডিয়া স্থল বন্দর খুঁজে নিতে হবে। ভ্যান বা রিক্সা নিয়ে খুঁজতে পারেন। সেখানে আবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ভুটান গেইট খোলা থাকে একই সময় পর্যন্ত। জয়গাঁ এ কাজ হয়ে গেলে চলে যান ভুটান গেইট। খুবই পরিচিত। অনেকেই দেখিয়ে দেয়। ভুটান গেইট এলে এখানে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়ে একটি ফর্ম পূরন করে পাসপোর্টের এক কপি ফটোকপি জমা দিলে এন্ট্রি পারমিশন পাওয়া যাবে। এন্ট্রি সাধারনত আপনার অন্যান্য দেশের ভিসার মেয়াদের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়। এখানে কোন বাড়তি খরচ নেই।

এতক্ষন ধরে যদি আপনি উল্যেখিত পথ আর যানবাহন ধরে এগিয়ে আসেন তবে ধরে নিচ্ছি তখন ভুটান সময় অনুসারে সন্ধ্যা ৬টা বা সাড়ে ৬টা বাজে। বাংলাদেশের সময়ও এখন তাই। এই সময়ে আপনি থিম্পু কিংবা পারো এর কোন দিকেই যেতে পারেন না। কারন সেখানে যেতে প্রায় ৫ঘন্টা লাগে। রাত ১০টার ভুটানে হোটেল খুঁজে পাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ন। আমার পরামর্শ হচ্ছে এখানে মানে পুয়েন্টসলিং এ থেকে যান। এখানে ৭৫০ রুপি থেকে শুরু করে অনেক বেশি দামের হোটেল আছে। যার যার ইচ্ছামতো হোটেল বুকিং নিয়ে নিন। রাত ৮টার আগে হোটেল না পেলে আপনার কপালে দুঃখ আছে হয়ত।

কিছু তথ্য মনে রাখুনঃ

সময়ঃ আগেও বলেছি, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় আর ভুটানের স্থানীয় সময় একই। তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। এখানে রাত ৮টায় সব দোকান পাট অবাক করা বিস্ময়ে বন্ধ করে দেয়।

খাবারঃ খাবার সব সময় সাথে রাখার দরকার নেই বলে মনে হয়। কারন এখানের খাবার তেমন দামী নয়। অন্তঃত আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের রেস্তোঁরার চেয়ে সস্তা। কিন্তু এই খাবার সন্ধ্যা হবার সাথে সাথে আপনাকে সাথে রাখতে হবে। কারন অনেক রাতে বা ১১টার দিকে যদি ক্ষিদে পায় আপনি খাবার পাবেন না।

অর্থনীতিঃ টাকা পয়সা বা ডলার যদি সাথে নিয়ে যান তবে তা চ্যাংড়াবান্ধাতেই ইন্ডিয়ান রুপি করে নিয়ে যান।  ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি চলে কোন বাধা ছাড়াই। তাই নিয়ে নিন যা লাগে। ভুটানে কোথাও আপনি ডলার কনভার্ট করার সুযোগ পাবেন না। যদিও পান তারা অনেক কম দামে কিনে নিবে।

যোগাযোগঃ ভুটানে একটি নিজস্ব টেলিকম(বি মোবাইল) আছে যার সিম কিনতে হলে অনেক দূরে অফিসে যেতে হয়। কিন্তু এটি না নিয়ে আপনি অন্য যে কোন টেলিকম লাইন নিতে পারেন। বি মোবাইল এর নেটওয়ার্ক ভাল নয়। তবে খরচ অনেক কম কিন্তু বি মোবাইলে। ইন্টারনেট ১জিবি ৯৯রুপি।

ইন্টারনাল যানবাহনঃ ভুটানের বাসে চড়ে ভ্রমন খুব ঝামেলার। ট্যাক্সি নিয়ে নিন যেখানে খুশি যেতে পারবেন। খরচ ইন্ডিয়া থেকে কিছু কম।

কোথায় কোথায় যাবেনঃ ইমিগ্রেশন এ যখন অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন তখন আপনার কাছে ভুটান ভ্রমনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার নাম চাওয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষেই থিম্পু, পারো এর নাম উল্যেখ করেন। এখান থেকে মূলত এই দুই জায়গায় ভ্রমনের অনুমতি দেয়া হয়। কেউ যদি পুনাখা যেতে চান থিম্পু থেকে অনুমতি নিতে পারেন। একই রকম ফর্ম পূরন করে পুনাখা যেতে হয়। ছুটির দিনে থিম্পু ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ থাকে।

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন এর প্রথম এবং প্রাইমারি তথ্য সমূহ দেয়ার চেষ্টা করেছি। এর পরে আবার অন্য সময়ে আরো বিস্তারিত কিছু তথ্য দেয়া হবে যাতে শুধু মাত্র বিভিন্ন স্থানের বর্ননা পাওয়া যাবে। এছাড়াও আপনাদের মধ্যে কেউ যদি কিছু জানতে চান তবে কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন।

নেপাল ভ্রমণ

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

   নেপাল ভ্রমণ

পোখারার কাছে সারাংকোট থেকে হিমালয় পর্বতমালার মাছাপুচ্ছুরে পর্বতের ওপর সূর্যোদয়।এবার ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বা করছেন। এই ছুটিতে প্রতিবেশী দেশ হিমালয়কন্যা নেপালের কথা ভাবতে পারেন আপনি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অল্প সময় এবং অল্প টাকায় এত চমৎকার একটি দেশে ঘুরতে যাওয়া সত্যি অসাধারণ অভিজ্ঞতার ব্যাপার। আপনার ছুটি কত দিনের তার ওপর ভিত্তি করে আপনার পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন। আকাশ ও সড়কপথে নেপাল যাওয়া যায়। তবে আকাশপথে খরচ বেশি হবে আর সময় ও শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা বেশি হবে সড়কপথে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু এবং কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা চলাচল করে প্রতিদিন। ঢাকা থেকে ফ্লাইটে কাঠমান্ডু পৌঁছাতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো। বোর্ডিং কার্ড নেওয়ার সময় বাঁ দিকে আসন নেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাহলে ল্যান্ডিংয়ের আগে একনজর হিমালয় দেখে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে নিরাপত্তা

তল্লাশিচৌকিতে দীর্ঘ লাইন হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। নেপালে শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাই নয়, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সুবিধাও রয়েছে।

তিন–চার দিনের ছুটি হাতে নিয়ে গেলে আপনি শুধু ঘুরতে পারবেন কাঠমান্ডু এবং এর আশপাশের কিছু এলাকা। আর সাত বা আট দিন সময় পেলে পোখারা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোও ঘোরার সুযোগ পাবেন আপনি। যাঁরা এভারেস্ট বা অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে ট্রেকিংয়ের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা পরিকল্পনা। বলে রাখি, সুন্দর আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পূর্বপরিকল্পনা ভীষণ জরুরি। পোখারার নয়নাভিরাম ফেওয়া লেক। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই বিনা মূল্যে করে নিতে হবে অন অ্যারাইভাল ভিসা। ভিসা করার সময় পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হয়, তাই সঙ্গে কয়েক কপি ছবি রাখবেন। সঙ্গে ছবি না থাকলে অবশ্য এয়ারপোর্টে ছবি তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এয়ারপোর্টেই পাবেন মানি এক্সচেঞ্জ আর ট্যাক্সি ভাড়া করার বুথ। এখানে কিছু ডলার নেপালি রুপিতে বদলে নিন ট্যাক্সি ভাড়া, হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য খরচের জন্য। সরকারি এজেন্সি থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করুন। ভাড়া সবখানেই চড়া, কিন্তু সরকারি এজেন্সির গাড়িচালক এবং গাড়িগুলো নির্ভরযোগ্য।

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকার নাম থামেল। এটি কাঠমান্ডুর পুরোনো এলাকার দিকে অবস্থিত। প্রতিটি গলিতে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং কেনাকাটার প্রচুর দোকান আছে। বেশির ভাগ ভ্রমণকারী থামেলেই থাকেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেশে বসেই দেখে নিতে পারেন আপনার বাজেট অনুসারে হোটেলগুলোর অবস্থা। এ ছাড়া ওয়ো (OYO) মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও খুঁজে নিতে পারেন আপনার পরিকল্পনামতো পছন্দের হোটেল। তবে বলে রাখি, অ্যাপে বা নেটে দেখা ছবি ও রেটিংয়ের সঙ্গে আসল জায়গার মিল সব সময় নাও থাকতে পারে। কাজেই সরাসরি থামেলে পৌঁছে, পায়ে হেঁটে কিছু হোটেল সরাসরি দেখে নিয়ে বুকিং করাও একটা ভালো উপায়। চেক-ইনের সময় দেখে নিন হোটেলে যেন গরম পানি, ওয়াই-ফাই, পরিষ্কার লিনেন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস থাকে। এ হোটেলগুলো আপনি প্রতিদিন বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। আর যাঁরা অনেকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকতে চান বা ব্যাকপ্যাকার পরিবেশে থাকতে চান, তাঁদের জন্য আছে জোস্টেল (Zostel) নামের দারুণ হোটেল চেইন। কাঠমান্ডু, পোখারা দুই শহরেই পাবেন জোস্টেলের সুবিধা। বুকিং করে নিতে হবে ওয়েবসাইট থেকে। এগুলোতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়

বাঙ্ক বেড আর ২ হাজার টাকার মধ্যে পাবেন আলাদা কক্ষ। সুবিধা ও চাহিদা অনুসারে দামের হেরফের হতে পারে। তাই আগেভাগে বুকিং করা ভালো।

হোটেলের আশপাশেই পেয়ে যাবেন খাবার রেস্তোরাঁ। অনেক সময় রেস্তোরাঁগুলোতে যে খাবার দেয় তা দুজনে ভাগ করে খাওয়াও সম্ভব। কাঠমান্ডু পৌঁছে ইন্টারনেট প্যাকেজসহ একটি মোবাইল সিমকার্ড কিনে নিন। নেপালে ফোনকলের খরচ অনেক বেশি। ইন্টারনেট থাকলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্রি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।

কাঠমান্ডুর বৌদ্ধনাথ স্তূপের প্রেয়ার হুইল।প্রথম দিন বিকেলের বাকি সময় কাটাতে পারেন থামেলের কাছে ‘গার্ডেন অব ড্রিমস’–এ ঘুরে। হেঁটে ঘুরতে পারেন পুরোনো কাঠমান্ডুর অলিগলি। দরবার স্কয়ারের দিকে সন্ধ্যাটা বেশ জমে ওঠে নানা বয়সী মানুষের ভিড়ে। পুরোনো কাঠমান্ডু আর থামেলের আশপাশটা পায়ে হেঁটে ঘোরাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যায় থামেলের গলিগুলো জমে ওঠে পর্যটকদের পদচারণে। ওপেন এয়ার রেস্তোরাঁর গানের আওয়াজ আর বাতাসে প্রেয়ার ফ্ল্যাগের আলোড়ন আপনাকে আমোদিত করবে। হালকা নাশতার জন্য রাস্তার পাশে ছোট ছোট খাবারের

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

দোকানে পাবেন মোমো, বিভিন্ন কাঠি কাবাব আর চাওমিন। তবে রাত ১০টার দিক থেকে রাস্তাগুলো খালি হতে শুরু করে আর ক্লাবগুলো সরব হতে থাকে। এ সময় হেঁটে ঘোরাঘুরি করতে পারেন দল বেঁধে। নেপালে একদম ফিক্সড প্রাইজ সুপারশপ বাদে সব জায়গাতেই দামদর করে জিনিস কিনবেন। দ্বিতীয় দিনটি রাখা উচিত কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্য। আর যদি তিন–চার দিনের ছোট ট্যুর হয়, তবে দিনটা শুরু করা উচিত নগরকোটে সূর্যোদয় দেখে। সাধারণত, যে হোটেলে থাকবেন, সেখান থেকে পরের দিনের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার সার্ভিস নিতে পারেন। প্রতিটি হোটেলের নিজস্ব গাড়ি বা পরিচিত এজেন্সি থাকে, যেগুলো এই কাজে নিয়োজিত। আপনি সারা দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা। নগরকোটে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে মাঝরাতে রওনা হতে হবে। এখানে আপনাকে ড্রাইভার বা গাইডের ওপর নির্ভর করতে হবে, যদি আপনি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন। তাঁরাই আপনাকে জানিয়ে দেবে সবকিছু। সূর্যোদয় দেখার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে বাড়তি দেড় থেকে দুই হাজার বাংলাদেশি টাকা।নেপালে প্রথমবার হলে ড্রাইভার বা গাইডের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে। আর নেপালেসঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে। আর নেপালে নিতে পারেন

পরিকল্পনা ঠিক করে ড্রাইভার বা গাইডকে জানান। কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের মূল দর্শনীয় স্থানগুলো হলো কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার, শয়ম্ভুনাথ মন্দির, বৌদ্ধনাথ মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দির এবং প্রাচীন ভক্তপুর শহর। এর বাইরেও রয়েছে বহু মন্দির ও চক এবং স্কয়ার। কাঠমান্ডু এমন একটি শহর যেখানে ইতিহাস মিশে রয়েছে প্রতিটি ইঞ্চিতে। যে জায়গাগুলো টিকিট কেটে দেখতে হয়, সেগুলোতে সার্কভুক্ত দেশের জন্য টিকিট মূল্য নামমাত্র। অনেক জায়গায় বাংলাদেশি হওয়ার কারণে আপনি বিনা টিকিটেই সেসব জায়গা দেখার সুযোগ পাবেন।

চার দিনের ভ্রমণ হলে ভক্তপুরকে পরের দিন দেখার জন্য রেখে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে শপিংয়ের জন্য কিছুটা সময় পাবেন হাতে। আর যদি আপনি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা চান, তবে প্রথম বা দ্বিতীয় দিন হোটেলে ফিরেই বুকিং করে ফেলুন ‘দা লাস্ট রিসোর্টে’ এক দিনের ট্রিপ। থামেলেই আছে এদের অফিস। ভোর ছয়টায় ওদের শাটল-বাসে করে রওনা হয়ে ঘণ্টা চারেকের মধ্যে পৌঁছে যাবেন রিসোর্টে। সেখানে আছে বাঞ্জি জাম্প, সুইং জাম্প, রিভার র‍্যাফটিংসহ নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ। কেউ রাতে থাকতে চাইলে ক্যাম্পিংয়ে সুযোগও আছে। বিভিন্ন প্যাকেজ থেকে আপনার নিজের পছন্দের প্যাকেজটি আপনাকে বেছে নিতে হবে।

কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক বৌদ্ধনাথ স্তূপ।কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বাসে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে। কাঠমান্ডুতে যে হোটেলে উঠবেন তাদের বললেই তারা আপনাকে সব ব্যবস্থা করে দেবে। অথবা আপনিও একটু খবর নিয়ে পোখারা যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে ফেলতে পারেন গুগলের সাহায্য নিয়ে। পোখারা যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের খাবারের রেস্তোরাঁগুলোতে বাস থামবে। সেগুলোতে খাওয়াদাওয়াসহ আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে হবে আপনাকে। পোখারার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে ফেওয়া হ্রদ ও তার আশপাশের এলাকা, ওয়ার্ল্ড পিস প্যাগোডা, ডেভি’স ফলস, ভারাহি মন্দির ও বেশ কিছু জাদুঘর।

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ঘুরে বাসযাত্রায় বেশ আনন্দ পাবেন। পোখারা শহর অনেক গুছানো। সেখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করবে আপনাকে। পোখারা পৌঁছে সময় পেলে হোটেলে ব্যাগ বোঁচকা রেখে চলে যান লেকের ধারে। লেকের পাড়ে বসে, পাহাড়ের আড়ালে সূর্যাস্ত দেখা অসাধারণ স্মৃতি হিসেবে থাকবে আপনার আজীবন। পোখারার মূল আকর্ষণ ফেওয়া হ্রদ এবং এর ওপর করা প্যারাগ্লাইডিং। পাহাড়ের ওপর থেকে ফেওয়া হ্রদের ওপর দিয়ে উড়ে বেড়ানোর সময় পুরো পোখারা উপত্যকা দেখতে পাবেন। এই হ্রদের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কের পাশে পাবেন পুরো ট্যুরিস্ট জোন এবং হোটেল ও দোকানপাট। মূল শহরটি এই লেক রোড থেকে বেরিয়ে ভেতরের দিকে।

পোখারার সারাংকোট থেকেও আপনি দেখতে পারেন হিমালয়ের কোলে সূর্যোদয়। ভোর হওয়ার আগে আপনাকে যেতে হবে সারাংকোট। মাচাপুচ্ছুরে পর্বতের গায়ে সূর্যোদয় দেখতে বহু মানুষ আসে এখানে। আগের মতোই এখানেও হোটেলে থাকা–খাওয়া এবং ঘোরাঘুরির সব ব্যবস্থা করতে পারবেন। হোটেলের জন্য এখানে খরচ পড়বে ৬ হাজার ৮ হাজার বাংলাদেশি টাকার মতো।

কাঠমান্ডুর থামেলে একটি রেস্তোরাঁয় সন্ধ্যাকালীন নেওয়ারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এখানে ভাড়া পাওয়া যায় বাইসাইকেল বা মোটরবাইক/স্কুটার। ভাড়া করা তাই বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল/স্কুটারে করে নিজের পছন্দমাফিক ঘুরতে বেশ মজা। আর না হলে, সারা দিনের জন্য ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন অথবা সাধারণ যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন। বাইসাইকেলের ভাড়া সারা দিন ৫০০ টাকার মতো পড়বে। মোটরবাইক/স্কুটার নিতে পারবেন যদি আপনার বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে। লাইসেন্স না থাকলে পাসপোর্ট জমা রাখতে হতে পারে।

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

সন্ধ্যায় ক্যাফে আর পাবগুলো সরব হয়ে ওঠে পোখারার লেক রোডে। বিভিন্ন জায়গায় এক কাপ কফির সঙ্গে খেলতে পারেন স্নুকার বা অন্য কোনো বোর্ড গেম। ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন দোকান, কেনাকাটার জন্য। পোখারায় বেশ কিছু নামকরা নেওয়ারি (নেপালি) খাবারের দোকান আছে। আর আছে কিছু নামকরা পিজ্জারিয়া বা পিৎজার দোকান। রাতের খাবার সারতে পারেন এগুলোতে। পোখারাতে দর্শনীয় জায়গাগুলো হয়তো এক দিনেই দেখে ফেলা সম্ভব। তবে তারপরও পরামর্শ থাকবে পোখারাতে এক দিন বেশি থাকার। শহর, হ্রদ মিলিয়ে অসাধারণ সুন্দর জায়গা পোখারা। আর হাতে টাকা থাকলে পোখারা থেকে মাউন্ট এভারেস্ট সাইট সিয়িং ফ্লাইটে উড়ে আসতে পারেন এভারেস্টের চূড়ার কাছ থেকে। খরচ পড়বে প্রতিজনের জন্য ২০০ ডলার বা ১৭ হাজার বাংলাদেশি টাকার মতো।

পোখারা থেকে কাঠমান্ডু ফিরবেন বাসে করে। বিকেল ও সন্ধ্যাটা ঘুরেফিরে, কিছু শপিং করে চলে যাবে। পরদিন ফিরতি ফ্লাইট। একটু সময় নিয়ে চলে যান এয়ারপোর্টে। যথারীতি চেষ্টা করবেন বাঁ দিকে আসন নেওয়ার। তাহলে ফিরতি পথেও দেখা হয়ে যাবে হিমালয়।

[/pl_text]
[/pl_col]
[/pl_row]