সুন্দরবন বাচিঁয়ে দিল ঘূর্নিঝড় বুলবুলের হাত থেকে

সপ্তম আর্চায এর তালিকার মধ্যে ছিল সুন্দরবন। হয়ত বা কোন কারনে তা অর্জন করতে পারে নাই। পৃথিবির অন্যতম ম্যানগ্রোেব ফরেষ্ট এর তালিকায় রয়েছে সুন্দরবন। মায়ের আঁচলের মতো ঢাল হয়ে আবারও খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত বুকে ধারণ করায় ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনে আঘাতহানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ভোর ৫টায় সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করে। এ সময় থেমে থেমে তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে যায় ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে। সুন্দরবনের কারনে ঘূর্নিঝরের বুলবুলের গতিবেগ কমে দাড়িয়েছে ঘন্টায় ৭০-৮০ কি.মি.।  

এই ঝড়ে খুলনার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় কয়েক হাজার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর পড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

কয়রার বেদকাশী এলাকার বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, বুলবুলের প্রভাব ঠেকিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। না হলে আরও অনেক ক্ষতি হতো।

উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন না থাকলে ২০০৭ সালের সিডরের তাণ্ডবের মতোই ভয়াবহ হতো বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি।

আমাদের উচিত সুন্দরবনকে রক্ষা করা যেকোন মানবসৃষ্ট কারন থেকে । সুন্দরবন আমাদের প্রাকিতৃক বিপর্যয় থেকে ঢাল সরূপ কাজ করে থাকে। সুন্দরবন না থাকলে হয়তবা আমরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মূখিন হতাম। সুন্দরবন যেরকম আমাদের প্রাকিতৃক বিপর্যয় হাত থেকে রক্ষা করে থাকে ঠিক তেমনি অক্সিজেনে ভান্ডার হিসেবে কাজ করে থাকে। পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত ও বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের সীমানা ঝুরে রয়েছে আমাদের এই সুন্দরবন। প্রতি বছরই কোন না কোন কারন বশত সুন্দরবনের অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্মূাখন হচ্ছে। যা ভবিশ্যতে আমাদের জন্য হুমকি সরূপ হযে দাড়াবে।   তাই সংশ্লিষ্ট মহলকে অবশ্যই সুন্দরবনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর তা না হলে এরকম প্রাকিতৃক বিপর্যয়ের মধ্যে আমরা আমাদের উপকূলীয় এলাকা সমূহ হারিয়ে ফেলব।

কয়রার বেদকাশী এলাকার বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, বুলবুলের প্রভাব ঠেকিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। না হলে আরও অনেক ক্ষতি হতো।

উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন না থাকলে ২০০৭ সালের সিডরের তাণ্ডবের মতোই ভয়াবহ হতো বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ড থেকে ঘুরে আসুন

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস


প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে এই মাধবকুন্ড জলপ্রপাত দেখতে। সারা বছরই দেশী বিদেশী পর্যটকের আনা গোনা লেগেই আছে এখানে।

সুউচ্চ ২০০ফুট পাহাড় থেকে উপচে পড়া পানির দৃশ্য দেখে আপনার ভালো লাগবে অবশ্যই। প্রেমিকদের নিকট প্রিয়ার বিদায় নেয়ার দৃশ্য, প্রিয়া যেন মাথার চুল এলিয়ে দুলিয়ে চলে যাচ্ছে দূর কোথায়। ইচ্ছে হবে পানির সাথে মিতালী করতে। পানি এত পরিষ্কার যে ,ভাবতে আপনার বিস্ময়ের ভাব কাটবে না ।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

কোথা থেকে এত পানি আসছে প্রচন্ড গতিতে, যে টিলার উপর থেকে পানি পড়ছে সেটা সম্পূর্ন পাথরের টিলা । ২০০ ফুট উচু টিলাটি কালো বর্নের পাথরের । নীচে রয়েছে অসংখ্য পাথর নানা প্রকার ভেদে। কুন্ডের ডানদিকে রয়েছে একটি গুহা যা পাথর বেষ্টিত। স্তানীয় ভাষায় গুহা কে কাব বলে । দেখলে মনে হয় এটা মানুষের তৈরী ,অথচ এটা প্রাকৃতিক ভাবেই সৃষ্টি হয়েছে । আশে-পাশের নৈসর্গিক দৃশ্য আর সবুজ চা-পাতাময় বাগানগুলো আপনার মন কেড়ে নিবে। মাধবকুন্ড কে আকর্ষনীয় করার জন্য রয়েছে মাধবকুন্ডের ইকো-পার্ক, জেলা পরিষদের রেষ্ট হাউস,পিকনিক সেড ও গাড়ী পার্কিং জায়গা রয়েছে।

দেশের প্রথম ইকোপার্ক, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের আশপাশ এলাকার চা বাঁগান, পাঁহাড়ি টিলা ও দেশী-বিদেশী পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের দিন দিন কাছে টানছে।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ডতে ভিতরে রয়েছে পর্যটনের রেস্তরা এবং বাহিরে রয়েছে অসংখ্য দোকান-পাট।   সিলেট শহর থেকে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই সিএনজি অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে যেতে হবে।   সকাল সকাল বের হয়ে গেলে আপনি ভালমতন ঘুরে আসতে পারেন।  

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

মাধবকুন্ডের পথে যেতে যেতে আপনি অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবেন।  আরও অনেক টিলা দেখতে পারবেন যা আপনাকে অবিভূত করে তুলবে।  মাধবকুন্ডের ভিতরে প্রবেশ করতে কিছুক্ষন হেঁটে আপনাকে যেতে হবে।   এক বিশাল পাথরের গুহার মধ্যে দেখতে পারবেন মাধবকুন্ডের জলপ্রপাত।  

সিলেট থেকে সড়ক পথে আপনি যেভাবে যাবেন, সময় লাগবে মাএ ২/৩ ঘন্টা । অথবা ঢাকা থেকে সড়ক পথে গেলে আপনি শ্রীমঙ্গল , মৌলভীবাজার হয়ে যেথে পারেন। সময় লাগবে মাএ ৭/৮ ঘন্টা। যদি যান , ভ্রমন টি অবশ্যই আপনার স্মৃতি পাতায় আনন্দের স্মৃতিকথা হয়ে রইবে চিরকাল।

ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল”

ছোট্ট শান্ত পাখি নয়। এখন ভয়-আতঙ্কের নাম ‘বুলবুল’। গতকাল শুক্রবার বঙ্গোপসাগরের বুকে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘বুলবুল’। সুন্দরবনের পশু-পাখিগুলো এখন অনেক আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে আছে।   অনেক বনের অজানা পশু-পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের এর জন্য হন্য হয়ে ঘুরাফেরা করছে। মানুষ যেখানে বুঝতে পারে বুলবুল এর ভয়াবহতা কত ? তাহলে সুন্দরবনের পশু-পাখিগুলোর ভয়াবহতা কিরকম হবে তা আপনারা বুঝে নেন। গভীর রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘বুলবুল’র গতিবেগ বেড়ে ওঠে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটারে। 


ঘূর্ণিঝড়টি ঝাপটা দিতে পারে আজ শনিবার সন্ধ্যায়। ফুঁলে-ফুঁসে গর্জে উঠেছে সাগর। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখানো হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত বহাল আছে। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে পূর্ণিমা সন্নিকট সময়ের প্রভাবে দেশের চর উপক‚ল দ্বীপাঞ্চলে স্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া নেটওয়ার্কগুলোর পূর্বাভাস, ‘বুলবুল’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা সুন্দরবনের নিকট দিয়ে উপক‚লে আছড়ে পড়তে পারে আজ সন্ধ্যায়।

 সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ‘বুলবুল’ উপক‚লভাগে আঘাত হানার সময় যদি অতি বৃষ্টিপাত হয়, দিক-পরিবর্তন করে কিংবা প্রকৃতির আপন নিয়মে শক্তি হারায় সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হতে পারে দুর্বল। যদিও রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘বুলবুল’ ছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এটি বাংলাদেশ উপক‚লের দিকে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কি.মি. দূরত্বে এগিয়ে আসে। আর পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপক‚লের প্রায় দুশ’ কি.মি. অদূরে। অতীতে এই কার্তিক মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বেশক’টি সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এদেশে আঘাতের রেকর্ড রয়েছে। যা ‘কার্তিকের তুফান’ হিসেবে পরিচিত।

ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল থেকে

দেশের বিখ্যাত চায়ের নগরী হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শহরের চারদিকে রয়েছে সবুজের সমারোহ, পাহাড় আর উঁচু, নিচু টিলার শেষ নেই। চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। উপজেলার বেশির ভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান। দেশে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টর্মাটিন, সুন্দরবন, বান্দরবনে ঘুরেছেন  কিন্তু ভ্রমণ করেননি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক লীলাভূমি মৌলভীবাজারের  শ্রীমঙ্গল। এখানে আপনি যে দিকেই তাকাবেন দুচোখ জুড়ে দেখবেন দিগন্ত জোড়া চায়ের বাগান। যা দেখলে চোখ জুড়ে খেলে যাবে এক অপরূপ সুন্দর ও সবুজের সমারোহ। তাই হয়তোবা ভাবছেন কিভাবে  যাবেন শ্রীমঙ্গলে!
বাংলাদেশে  চা-বাগান মানেই শ্রীমঙ্গলের নাম চলে আসে সবার আগে।

শ্রীমঙ্গল চা বাগান

চায়ের জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার অবস্থান সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়। পাতা আর কুঁড়ির এই দেশ পাহাড় আর চা বাগানে ঘেরা আর সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ স্থান। সবুজে মোড়ানো শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চা বাগান। রয়েছে আনারস ও রাবার বাগান। চায়ের রাজধানী এই শ্রীমঙ্গলের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পশুপাখির বিচরণ নিমিষেই মুগ্ধ করে দেয় চোখ আর মনকে। শ্রীমঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম পাশে কিছু অংশ হাইল হাওর ছাড়া পুরোটা উপজেলাই চা বাগান দ্বারা আবৃত। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভেতর দিয়ে যাবেন, তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্যরাশি যেন আপনার সম্মুখে।

চা গবেষণা কেন্দ্র

চায়ের রাজধানীতে গড়ে উঠেছে গবেষণা কেন্দ্র। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রটি শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই স্থানটি বিটিআরআই হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। শহর থেকে ১০ থেকে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সহজেই বিটিআরআই পৌঁছে যেতে পারেন। বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস। অফিস গেটে রিকশা থেকে নামা মাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহার। বিটিআরআইয়ের অপরটি চা বোর্ডের অফিস। দুটোই পাশাপাশি। ভেতরে দেখতে পাবেন ৫০-৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ। চা ম্যানুফ্যাকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব, গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ বাংলাদেশের একমাত্র ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। বিটিআরআইয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।

গত বছর দেশে প্রথমবারের মতো বিটিআরআইয়ে চা জাদুঘর স্থাপন করা হয়। চা জাদুঘর স্থাপিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে সংযোজিত হয়েছে নতুন মাত্রা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে যাওয়া যায় শ্রীমঙ্গল। তবে বাসে যদি যান, রাস্তা ফাঁকা থাকলে ট্রেনের আগেই পৌঁছাবেন। হানিফ, ইউনিক, রূপসী বাংলাসহ বিভিন্ন বাস রয়েছে আরামবাগ, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। সিলেট মেইল অথবা উপবনে করেও যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। ট্রেনে ভাড়া ৩০০-৩৫০ (স্নিগ্ধা), ২৭০ (শোভন চেয়ার), ২০০ (সুলভ)। বাসের ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা।

কী খাবেন

শ্রীমঙ্গলে খাবারের খরচ অনেক কম। প্রায় সব ধরনের রেস্তোরাঁই রয়েছে শহরে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে রয়েছে সাত রঙের চা। মাধবকুণ্ড, হাকালুকি এবং লাউয়াছড়ায় ভাত, ডাল, মুরগির মাংস, হাঁসের মাংসের সঙ্গে মজাদার খাবার হিসেবে পাওয়া যায় বকের মাংস।

অনেকটা সময় এই শ্রীমঙ্গলের গল্প শুনে এখন কি আপনার দুই চোখে সারি সারি চা বাগানের দৃশ্য ভেসে উঠছে? তাহলে এখনই ব্যাগ গোছানো শুরু করে দিন। এই ছুটির বাকি কটা দিন না হয় কাটিয়ে দিন শ্রীমঙ্গলেই!

ভ্রমন করুন

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

ভ্রমন করলে মন অনেক ভাল থাকে ।   এসব কথা আমার না ।   মেডিকেল সাইন্স এ কথা বলে।   মেডিকেল ভাষায় আপনি যদি ভ্রমনে বের হন তাহলে আপনার মধ্যে এক অন্য অনূভুতি কাজ করবে।   আপনি নিজেকে খুজে পাবেন আপনার হারিয়ে যাওয়ার মাঝে।   এই কর্মব্যস্ত শহরের জীবনের মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে আপনাকে সাহায্য করবে ভ্রমন।   ভ্রমন শুধুমাত্র ক্লান্তি দূর করা নয়, যা আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার স্বপ্নের রাজ্যে।  

আপনি যখন আপনার চারপাশের পরিবেশে অতিষ্ট এবং আপনি নিজেকে বারে বারে ফিরে পেতে চান আপনার মধ্যে থেকে এবং খুঁজে ফেরেন আপনার সুন্দর অতিত সময়গুলো তখন ভ্রমন আপনার জন্য এক অনন্য দিগন্ত বয়ে আনবে ।     

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

হতাশাকে দূরে রাখুন

যে কোন কাজে সফল না হলে হতাশ হয়ে পড়বেন না, এতে আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে । বার বার অসাফল্যের কথা চিন্তা করলে আপনি শারীরীক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন। হতাশা জীবনে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা ।

সবসময় হাসি খুশি থাকুন

হাসি দিয়ে জয় করুন মনের সব কষ্ট আর বাধা । যে কোন বিষয়ে পজিটিভ মনোভাব ব্যক্ত করার চেষ্টা করুন । মন খারাপের বিষয় ভুলে নিজে হাসি খুশি থাকুন, সাথে অন্যদের ও হাসি আর আনন্দে থাকার পরামর্শ দিন । প্রাণ খুলে হাসুন আর কষ্টকে দিন বিদায় ।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

নিজের যত্ন নিন

নিজেকে একটু সময় দিন । প্রতিদিন অন্তত এমন একটি কাজ করুন যা আপনার ভালো লাগে । পরিবার, বন্ধু ও আত্নীয়দের থেকে একটু সময় বের করে নেয়ার চেষ্টা করুন নিজের জন্য । নিজের পরিচর্যা করুন, এতে আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে ।  

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে, হাঁটা সবচেয়ে ভালো ব্যয়াম । সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় নিয়ম করে হাঁটুন । এতে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি আপনাকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে সাহায্য করবে । এছাড়া মন ভালো রাখতে ইয়োগা ও করতে পারেন ।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

অবসরে ঘুরে বেড়ান

নগর জীবন থেকে একটু অবসর নিতে ঘুরে আসতে পারেন পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের সাথে আপনার পছন্দের যে কোন জায়গায়। তবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য যে কোন খোলামেলা জায়গা নির্বাচন করুন, এতে মনে আসবে প্রশান্তি আর আনন্দ।

এই ব্যস্ত জীবনকে সহজ করে তোলা মোটেই সহজ ব্যাপার না তবে একটু চেষ্টা করলে ক্ষতি কী! আপনার গতিময় জীবনকে সহজ ও সফল করে তুলতে আছে আপনার পাশেই । আপনার যে কোন পরামর্শ বা সেবার প্রয়োজন হলে শেয়ার করুন আমাদের সাথে । সহজ হোক আপনার জীবন, সুন্দর হোক আপনার পথচলা ।

ঘুরে আসুন ভোলা জেলায়

চরফ্যাশন উপজেলা 

প্রত্যেকটি বস্ত্ত বা এলাকার একটি নাম থাকাটাইস্বাভাবিক। আর এই নাম থাকার পিছনেও থাকেবিভিন্ন যুক্তি বা সার্থকতা। এ এলাকাটির নামচরফ্যাশন হওয়ার পিছনেও যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।যেমন-এ চরফ্যাশন পূর্বে কখনো নোয়াখালী,কখনো বরিশাল আবার কখনো বা পটুয়াখালীরগলাচিপার সাথে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানেচরফ্যাশন থানাটি ভৌগলিক অবস্থান কিন্তু পূর্বেএমন ছিল না। এ চরফ্যাশন ছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রঅসংখ্য চর। ঠিক তখনই বরিশালের জেলাম্যাজিষ্ট্রেট এইচ,জে,এইচ ফ্যাশন সাহেব১৮৮৫-৮৭ সালের দিকে প্রশাসনিক ভাবে এঅঞ্চলের চরগুলির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং এলাকারপ্রান কেন্দ্র বর্তমান চরফ্যাশন বাজারটি গঠনকরেন। মিঃ ডোনাবানের পরিকল্পনা অনুসারেপ্রস্তাবিত এ বাজারের নাম রাখা হয় চরফ্যাশনবাজার। পরবর্তীতে এলাকার একমাত্র প্রানকেন্দ্রচরফ্যাশন বাজারের নাম অনুসারে গোটাএলাকার নাম করন করা হয় চরফ্যাশন। তিনিচরফ্যাশনের উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টাকরেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা 

ভোলা দ্বীপটি পদ্মা, মেঘনা ও বহ্মপুত্র নদীর শাখাপ্রশাখায় বাহিত পলি দ্বারা গঠিত। পলি, লতা-

পাতাও কচুরিপানা ভাসমান অন্যান্য আবর্জনা ধীরেধীরে জমা হয়ে প্রবাল দ্বীপের ন্যয় চর পড়া শুরুহয়, এর সাথে পলি জমে-এ মূল ভূখন্ডের উৎপত্তি হয়। এই দ্বীপের বয়স প্রায় ৫০০ বছর ভোলা নামকরণের পিছনে স্থানীয়ভাবে একটিকাহিনী প্রচলিত আছে । ভোলা শহরের মধ্যে দিয়েবয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মতঅপ্রশস্ত ছিলনা । এক সময় এটা পরিচিত ছিলবেতুয়া নদী নামে । 

খেয়া নৌকার সাহায্যেলোকজনের পারাপারের কাজ চলত ।  খুব বুড়োএক মাঝি এখানে খেয়া নৌকার সাহায্যেলোকজনকে পারাপার কাজ করত । তার নামছিল ভোলা গাজী পাটনী । আজকের যুগিরঘোলেরকাছেই তার আস্তানা ছিল । এই ভোলা গাজীর নামঅনুসারেই এক সময় স্থানটির নামকরণ হয় ভোলা।

দৌলতখান উপজেলা

বাংলাদেশের উপকুলীয় ভোলার দ্বীপন্জল ভোলারপূর্বপ্রান্তে সর্বনাশী মেঘনার তীরে অবস্থিতদৌলতখান উপজেলা  প্রচলিত কথায়, ইতিহাসেরভাষায় দৌলতখান ভদ্রলোকের বাসস্থান । এক সময় দৌলতখান ছিল ভোলার

 প্রান কেন্দ্র । শতবর্ষ পূ্র্বেএখানে ছিল মহাকুমা সদর ।সাগর পারের চর জঙ্গলআবেদত্ত কাহিনীর প্রথম সূত্রপাত মেঘনা  তীরের এইদৌলতখানেই । মোঘল আমলের প্রথম দিকেও এইএলাকা ছিল আরাকান রাজ্যের মগ , জলদস্যু ওপর্তুগীজ ফিরিংঙ্গিদের আশ্রয়স্থল ।

 বাংলার মোঘলসুবেদার মীর জুমলার মৃত্যুর পর আমলগীরের মামাএবং  সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের ভাই আসক খানের পুত্রশায়েস্তা খানকে বাংলার সু্বেদার নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ১৯৬৬ খিঃ চট্রগ্রাম পর্তুগীজদেও দুর্গ জয়করেন । এসময় মোগল বাহিনীর দুর্ধর্ষ সেনাপতিশাহাবাজ খা তাহার একজন দুঃসাহসিক সামান্তসেনা দৌলতখার সহায়তায় বঙ্গোপসাগর ওমেঘনার সঙ্গমস্থল সন্দীপ ও উত্তর দিকে মেঘনারউপকুল বাহিয়া পর্তুগীজ জলদস্যৃ ও আরাকানেরমগদিগকে স্থল ও নৌ যুদ্বে পরাজিত করেতাহাদেরকে বিতারিত করে এই এলাকায় স্থানীস্থাপন করেন । অতপর মোঘলদের রীতি অনুসারেমেঘনা তীরের তাদের বিজিত এলাকা দুইভাগেবিভক্ত করে ইলিশা নদির উত্তর দিকের নাম রাখেনউত্তর শাহাবাজপুর এবং দক্ষিন অংশের নাম রাখেন দৌলতখান ।

মনপুরা উপজেলা

প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরাহচ্ছে ভোলা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বেসাগরের বুকে নয়নাভিরাম আরেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।মনগাজী নামে এখানকার এক লোক একদা বাঘেরআক্রমনে নিহত হন। তার নামানুসারে মনপুরানাম করন করা হয়। ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে অত্রউপজেলাপট গঠিত হলেও বর্তমানে নবগঠিত ৪নংদক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন গঠিত হওয়ায় বর্তমানেইউনিয়ন সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪টি। প্রাকৃতিকসৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত এ্ উপজেলায়রয়েছে প্রাকৃতির অপরুপ রুপ। জাতির জনকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ উপজেলায়চিন্তানিবাস করার ইচ্ছা পোষন করেছিলেন। প্রতিবছর শীতে শত শত পর্যটক ভীর করে এউপজেলার নয়নাবিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে।এ উপজেলা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে ট্রলার যোগেনিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।উপজেলা সদরে আবাসিক হোটেল ছাড়াও এখানেরয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত জেলা পরিষদডাক বাংলো, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাকবাংলো, কারিতাস ডাক বাংলো প্রভৃতি।

তজুমদ্দিন উপজেলা

জনৈক তমিজউদ্দিন এর নামানুসারে এ উপজেলারনামকরণ করা হয়। উপজেলার পূর্বে মেঘনা নদী,উত্তর ও পশ্চিমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা এবংদক্ষিণে লালমোহন উপজেলা। ১৮৭২ সালের ১৫ইজানুয়ারীর জরীপে ইহাকে দৌলতখাঁ থানার একটিআউটপোষ্ট হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।২৮/০৮/১৯২৮ ইং তারিখ থেকে এই থানাটি একটিআলাদা থানার মর্যাদা পেয়ে আসছিল। মনপুরা এইথানার একটি ইউনিয়ন ছিল। নদীভাঙ্গনে এই থানাঅতি সংকুচিত হয়ে আসছে। অপর দিকে যাতায়াতও অন্যান্য কারণে মনপুরা আলাদা থানার স্বীকৃতিপাওয়ায় ইহার আয়তন আরো কমে যায়।১৪/০৩/১৯৮৩ তারিখে ভোলা জেলার দ্বিতীয় উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

লালমোহন উপজেলা

লালমোহন নামকরনে ইতিহাস একটিব্যতিক্রম ঘটনা। আনুমানিক ১৯০৪ সালের দিকেবিভিন্ন পারিপার্শিক অবসা্থান ও সুযোগ সুবিদাবিবেচিত করে সাথানীয় মরহুম মেহের আলী  তারনিজস্ব ভূমির ইপর একটি সাধারন হাট বা বা্জারপ্রতিস্টা করেন নিজের নাম অনু সারে এর নামরাখেন "মেহের গঞ্জ"।১৯১৯ সালের ৭ই জানুযারীআনুষ্ঠানিক ভাবে লালমোহন থানার কার্যক্রম শুরুহয়।

কিভাবে যাবেন ভোলাতে ???

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে।   কর্নফুলি ও তাসরিফ লঞ্চ চলাচল করে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়।   ছাড়ার সময় রাত ৮ - ৯ ঘটিকার মধ্যে লঞ্চ সদরঘাট থেকে ত্যাগ করে চলে যায়।  ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় পৈাছায় ভোর ৫ ঘটিকায়।   এর মধ্যে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা, দৌলতখান উপজেলা, তজুমদ্দিন উপজেলা এবং সর্বশেষ চরফ্যাশন উপজেলা লঞ্চ থামায়।   লঞ্চ ভ্রমনে আপনি উপভোগ করবেন ভোলা জেলার অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য।  আপনাকে মনোরোম প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে যাবে সে এক কল্পনা জগতে।  লঞ্চ ভ্রমনের সময় দেখবেন অনেক সারি সারি নৈাকা মাছ ধরছেন অনেক রাত জেগে জেলেরা।   সে এক মিলন মেলার মধ্যে পরে যায় জেলেদের মধ্যে। 

কত লঞ্চ ভাড়া ??

আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক দিগন্তের পথে।   যদি হয় পূর্নিমার রাত তাহলে আর কোনো কথা নাই।   চাঁদের জোছনা আলো আপনাকে বারে বারে মূর্ছনার প্রতিক হয়ে দাড়াবে । ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় যেতে হলে আপনাকে   লঞ্চ এর ভাড়া গুনতে হবে মোটামুটির সাধ্যের মধ্যে।   ডেকের ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা ।   সিঙ্গেল কেবিন এর ভাড়া ১০০০ টাকা ও ডাবল কেবিনের এর ভাড়া ১৮০০ টাকা ।   যেহেতু ভোলা জেলার ভ্রমনে অনেক সময় আপনাকে লঞ্চে থাকতে হবে তাই  লঞ্চ মালিকরা লঞ্চে কোনো সৈাখিন বা বিলাশ সিটের ব্যবস্থা রাখে নাই। 

পর্যটন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে চরফ্যাশন জ্যাকব টাওয়ার

উদ্বোধনের অপেক্ষায় দ্বীপজেলা খ্যাত ভোলার চরফ্যাশনে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ‘জ্যাকব টাওয়ার’, যা এরই মধ্যে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এ টাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে ভ্রমণপিপাসুদের আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত জ্যাকব টাওয়ারে পর্যটক আকর্ষণের সব ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। টাওয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলারে চোখ রাখতেই দেখা মিলবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরির নয়নাভিরাম সবুজের সারি। মনে হবে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ঘন বনজঙ্গল। ডানে-বামে চোখ ফেরাতে ভেসে উঠে তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। চোখ বন্ধ করে কান পাতলেই শোনা যাবে ঢেউয়ের গর্জন। এভাবে চোখের সামনে উঠে আসবে চারপাশের প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

প্রায় ২২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থান করে মনে হবে মেঘের ভেলায় ভাসছি, হাত বাড়ালেই পেঁজা তুলোর মতো মেঘ যেন ছোঁয়া যায়। জেলা শহর ভোলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সাগরকোল ঘেঁষে উপজেলা শহর চরফ্যাশনে নির্মিত এ টাওয়ার উদ্বোধনের মাধ্যমে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে বলে আশা করছেন সবাই। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা ৫ বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞের ফসল এটি।

সাবেক বন পরিবেশ উপমন্ত্রী ভোলা- আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের একান্ত চেষ্টা শ্রমে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেবাংলার আইফেল টাওয়ারপরিচিতি পাওয়া এই স্থাপনা। উপমন্ত্রী জ্যাকব ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলেছেন তার নির্বাচনী এলাকা চরফ্যাশন এবং মনপুরা উপজেলাকে। চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এরই মধ্যে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের কাছে।

প্রায় ১ একর জমিতে এ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চরফ্যাশন পৌরসভা। ২২৫ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত নির্মিত এ টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্পন সহনীয়। ভূমির উপরিতল থেকে টাওয়ারের ওপর থাকা গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ১৩ জনের ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার, যার সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যাবে। এছাড়া বিশ্রামাগার এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ রয়েছে খাবারের সুব্যবস্থা। টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় আরও ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম সুইমিংপুল, বিশ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার ফ্যাশন স্কয়ার ও অত্যাধুনিক শিশুপার্ক।

চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) 

এর অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে। ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়। চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। বর্তমানে কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।

কিভাবে যাবেন চর কুকরি মুকরিতে ???

চরফ্যাশন থেকে কচ্ছপিয়া ঘাটে আসতে ৩০-৪০ মিনিট লাগবে।  লেগুনার ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা ।  আর রির্আব নিলে ভাড়া লাগবে ৫০০-৬০০ টাকা।   চরকচ্ছপিয়া ঘাট থেকে লোকাল ট্রলার ভাড়া ৫০ টাকা ।   তেতুলিয়া বাজার থেকে ট্রলার যোগে চরকচ্ছপিয়া যায়।   প্রতিদিন সকাল ৯টায় এবং দুপুর ১২ টায় লোকাল ট্রলার ছাড়ে।  তাই ট্রলার উঠতে সময় যোগে আগে থেকে ঘাটে উপস্হিত থাকতে হয়।  

খামাড়বাড়ি

চর ফ্যাশন থেকে খামাড় বাড়ি যেতে মেটামুটি অনেক সময় লাগে। আপনি চাইলে অটোবাইক রিকসা যোগে যেতে পারেন খামার বাড়িতে । ভাড়া পরবে আসা-যাওয়া ৩০০-৪০০ টাকা । খামার বাড়িতে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা জনপ্রতি । খামার বাড়িতে দেখতে অনেক সুন্দর । মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ পরিবেশে আপনি হারিয়ে যাবেন ।

সুন্দরবন

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

            সুন্দরবন কিভাবে যাবেন ? কি দেখবেন ? বিস্তারিত পড়ুন !!!

সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম একটি ম্যানগ্রোব ফরেষ্ট।   বিশ্বের অন্যান্য পর্যটনের মধ্যে মাথা তুলে দারিয়ে আছে।   আমরা যখন পশু-পাখির আবাসের কথা চিন্তা করি  তখনই বনের কথা মনে পরে যায়।   সুন্দরবন আমাদের জন্যে গর্বের বিষয়।  

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। সারি সারি সুন্দরী, পশুর, কেওড়া, গেওয়া এবং গোলপাতা গাছ। দৃষ্টি যতদূর যায় যেন কোনো শিল্পী সবুজ অরণ্য তৈরি করে রেখেছেন। 

ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন 
ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে চাইলে সরাসরি বাসে খুলনা যেতে হবে। এছাড়া ট্রেন ও প্লেনেও খুলনা যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে খুলনার ট্রেনে উঠে খুলনা শহরে যেতে পারবেন। প্লেনে যেতে হলে যশোর নামতে হবে। যশোর থেকে বাস অথবা গাড়ী ভাড়া করে খুলনা যাওয়া যায়। খুলনা শহরে অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানে রাতে অবস্থান করে পরের দিন সকালে সুন্দরবন যেতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রথম যেতে হবে মংলা। খুলনা থেকে প্রাইভেট গাড়ি অথবা বাসে মংলা যাওয়া যায়। দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। মংলা ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা লঞ্চে যেতে হবে সুন্দরবন। মংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল যেতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। সকালে খুলনা থেকে মংলা হয়ে সুন্দরবন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে আবার খুলনা ফিরে আসা যায়। এছাড়া খুলনা স্টিমার ঘাট থেকে সকালে সরাসরি সুন্দরবন লঞ্চ ছেড়ে যায়। এগুলো বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির। তাদের কাছ থেকে আগে টিকিট কেটে রাখতে হবে।   

ভ্রমণকালে যা সঙ্গে রাখতে হবে 
ভ্রমণকালে সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স ও অভিজ্ঞ টুর অপারেটর। বন কর্মকর্তার অনুমতি প্রাপ্তির পর ভ্রমণকালে সুদক্ষ ও সশস্ত্র বন প্রহরী। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবহারের কাপড়। এক জোড়া কেডস, শীতকালে গেলে শীতবস্ত্র, একটি করে কম্বল, রেডিও, ক্যামেরা।  নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততায় আপনি যখন ক্লান্ত। তখনই ঘুরে দেখে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সুন্দরবন। 

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

সুন্দরবনে কী কী দেখবেন
পশুর নদী থেকেই মূলত শুরু হবে সুন্দরবন যাত্রা, নৌকায় ওঠার পরপরই চোখের সামনে ফুটে উঠবে সুন্দরবনের গাছের সারি। তরতর করে নৌকা এগোবে পশ্চিম দিকে, নৌকার ছাদে বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। সেখান থেকেই খুব ভালোমতো নদীতে খেয়াল রাখলে দেখা যাবে, কিছু ডলফিন একটু পর পর ভেসে উঠছে আবার ডুব দিচ্ছে। এগুলোকে বলা হয় বটলনোজ ডলফিন বা ইরাবতী ডলফিন। নৌকা ৪০ মিনিট চলার পর সোজা এসে থামবে করমজলের ঘাটে। করমজলে যাওয়ার সময় জোয়ার-ভাটার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। ভাটার সময় করমজলে গেলে তাড়াতাড়ি যাওয়া যাবে।

করমজল মূলত হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র। করমজলে নেমেই বনে ঢোকার টিকিট কাটতে হবে, জনপ্রতি ২০ টাকা করে টিকিট কেটে বনে পা ফেললেই গা ছমছম করে উঠবে শিহরণে। নিমেষেই চোখ চলে যাবে গাছের আড়ালে, গোলপাতার ফাঁকে, হেতাল বনের ঝোপে। কিছু একটা নড়তে দেখলেই মনে হবে, এই বুঝি বিরাট গর্জন করে ছুটে আসছে বনের রাজা, বেঙ্গল টাইগার। করমজলে ঢুকতেই চোখে পড়বে সুন্দরবনের বিশাল একটা থ্রিডি ম্যাপ। এখানে খুব সহজেই নিজেদের অবস্থান দেখা যাবে। এরপর সোজা হয়ে দাঁড়ালেই দুটো রাস্তা আসবে সামনে-একটা এঁকেবেঁকে বাঁ দিকে হারিয়ে গেছে, আরেকটা ডানে হাত বাড়িয়ে ডাকছে। ডানের রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলেই একটা বিশাল খাঁচা দেখা যাবে, এখানে হরিণের বসবাস। মূলত এটা হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, ছোট, বড়, মাঝারি-সব আকৃতির হরিণ ছুটে আসবে আপনাদের দেখে। মানুষে তাদের কোনো ভয় নেই, ঘাস আর কচি পাতা ছিঁড়ে দিলে খুব আয়েশ করে হাত থেকে নিয়ে খেতে শুরু করবে। এরপর রয়েছে কুমিরের আস্তানা। এখানে এক মাস বয়সী কুমির থেকে শুরু করে এক বছর বয়সী কুমির রয়েছে। দেখলে অবাক হয়ে যেতে হবে যে এই বিশালদেহী কুমিরের সাইজ একসময় থাকে টিকটিকির মতো!

কুমির দেখা শেষ করে ঢুকতে হবে বাঁ পাশের ট্রেইলে। একে বলা হয় ‘মাংকি ট্রেইল’। সুন্দরবনের মাঝখান দিয়ে বানানো কাঠের এক রাস্তা ধরে কিছুদূর হাঁটলেই চোখে পড়বে ৩০ থেকে ৪০টি বানরের এক বিশাল দল। বছরের যেকোনো সময়ে গেলেই এদের একই জায়গায় পাওয়া যাবে। এই দলে বাচ্চা থেকে শুরু করে বিশালদেহী সব বয়সের বানর রয়েছে। মানুষ দেখলেই কোথায় ভয় পেয়ে চলে যাবে তা না, বুক চিতিয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে। তাদের মধ্যে বয়সে বড় নেতাটি, বন বিভাগ তার নাম দিয়েছে ‘ভোলা’-এবার সে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে, কোনোভাবেই যেতে দেবে না। আশপাশের সব বানর একসঙ্গে চেঁচামেচি করছে, সে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি! এই সময় যদি কেউ ভয় পেয়ে দৌড় দেয়, তাহলেই শেষ। বানরের দল খামচে একাকার করে দেবে! হাতে কোমল পানীয়র একটা আধখাওয়া বোতল থাকলে সেদিকেই থাকবে নেতার নজর। কালবিলম্ব না করে বোতল বাড়িয়ে দিলেই সে খপ করে ধরে ফেলবে, এরপর চোখের নিমেষে ঢকঢক করে পুরো বোতল সাবাড় করে দেবে! তাজ্জব হয়ে দেখবেন, এবার সে পথ ছেড়ে দিয়েছে। ভাবখানা এমন যে তোমাদের এই বনে ট্যাক্স দেওয়া হয়ে গেছে, এবার তোমরা ঘুরে আসতে পারো। গোটা তিরিশেক বানরের মাঝখান দিয়ে আর কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাকি রাস্তা পার হয়ে যাওয়া যাবে।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

আকর্ষণীয় ট্যুর স্পট:
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের টাইগার পয়েন্ট খ্যাত কটকা ও কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্র, মংলা বন্দরের অদূরে কর্মজল বন্যপ্রাণী ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হারবাড়িয়া ইকোট্যরিজম কেন্দ্র, এবং পশ্চিম বিভাগের হিরণপয়েন্ট খ্যাত নীলকমল অভয়ারণ্য, শেখেরটেক প্রাচীন মন্দির, সাতক্ষীরা-বুড়িগোয়ালিনীর কলাগাছিয়া ইকোট্যরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য- পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত এসব স্পটে কুমির প্রজনন, অসুস্থ হরিণের পরিচর্যা, হাজার বছরের পুরোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষসহ প্রকৃতির অপরূপ সব দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। এসব স্পটে এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত কাঠের তৈরি ওয়াকওয়ে ধরে বনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গোসাপ, কাঁকড়া অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যও দেখতে পারেন। টাইগার পয়েন্ট, হিরনপয়েন্ট বা বুড়িগোয়ালিনী, হারবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলে যেতে পারে। এসব স্থানে রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।

দুবলার চর:
বন বিভাগের নির্ধারিত ট্যুর স্পটের বাইরে জেলেদের মৌসুমী বসতি দুবলার চরেও যান অনেক পর্যটক। শীতকালে বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত মাছ শুঁটকী করার দৃশ্য আর বর্ষাকালে ইলিশ মাছ ধরার মহোত্সব দেখতে পাবেন সেখানে। দেখা যাবে হাজার হাজার জেলের কঠোর জীবন সংগ্রামের চিত্রও। প্রতিবছর এখানে রাস পূর্ণিমায় বসে রাসমেলা, যা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক পর্যটকও ভিড় করেন সেখানে। রাসমেলা পরিণত হয় লাখো মানুষের মিলনমেলায়।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

খরচ:
সুন্দরবনের প্যাকেজগুলোতে জাহাজে ওঠার পর থেকে তিনদিনের টুর শেষে আবার ঘাটে ফেরা পর্যন্ত লঞ্চভাড়া, ফুয়েল, খাবার, নাস্তা, প্রত্যেকের সরকারী পাশ, রেভিনিউ, গাইড, গানম্যান, বনে ঘুরার ছোট নৌকা সহ অন্যান্য সব খরচ ইনক্লুড থাকে। অবশ্য পকেটে হিউজ পাত্তি নিয়া গেলেও সেখানে খরচ করার কোন যায়গা নাই! অনেকে ঢাকা থেকেও প্যাকেজ করে। এখানে খুলনা বা মংলা থেকে সম্ভাব্য খরচ উল্লেখ করা হল। 

#খাবারের মান ও জাহাজ ভেদে মাঝারি ধরনের একটি টুরে সাধারনত খরচ পরে ৬০০০-৮০০০ টাকা।

#বেশি ভালো যেতে চাইলে এর উপরে পারহেড ১৯,০০০ টাকা পর্যন্তও প্যাকেজ আছে।

#আর সুন্দরবন টুরের খরচ কমানোর যে চেস্টা করছিলাম। সেই মোতাবেক স্টুডেন্টদের জন্য সুখবর হল এই যে ৩৫ থেকে ৪০ জন হলে একটি লঞ্চে ফ্লোরিং করে ৪০০০-৫০০০ টাকার মধ্যেও তিন দিনের সুন্দরবন ভ্রমন সম্ভব।

তবে ন্যাশনাল হলিডে গুলোতে খরচের কোন লিমিট নেই। আর পরাপর দুইদিন যদি ছুটি পরে তাহলেতো কোন কথাই নেই। খরচ আকাশও ছুতে পারে। আর এডভান্স দিয়ে এক দেড় মাস আগে বুকিং না দিলে খালি পাওয়াই কঠিন। 

অনেকে জাহাজ ভাড়া নিয়ে নিজেরাই আয়োজন করতে চায়, হ্যা সুন্দরবনে নিজেরাও আয়োজন করা সম্ভব, কিন্তু প্যারা মহদয় আপনাকে এতটাই অতিষ্ঠ করিতে পারে যে, আপনার টুরের আনন্দ মাটি না হয়ে কাঁদায় পরিনত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি!

কিভাবে যাবেন সাজেক ভ্যালি ???

Discover of Tourism

সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley), বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসাবে খ্যাত। সমুদ্রপৃষ্ঠ  থেকে যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪০ কিলোমিটার। সাজেক যেতে হলে অবশ্যই বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হবে।

কি দেখবেন

চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন চমৎকৃত। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।

Discover of Tourism

কংলাক পাহাড় হচ্ছে সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। আর সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। কংলাক পাড়া থেকেই কর্ণফুলী নদী উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। চাইলে রুইলুই পাড়া থেকে দুই ঘন্টা ট্রেকিং করে কমলক ঝর্ণা দেখে আসতে পারবেন। সুন্দর এই ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামেও পরিচিত।

দিন কিংবা রাত সাজেক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত, সময় গড়ায় তবু সাজেক পুরাতন হয় না। সাজেকে গেলে অবশ্যই সকালে ভোরের সময়টা মিস করবেন না। মেঘের খেলা আর সূর্যোদয়ের আলোর মেলা এই সময়েই বসে। এই জন্যে আপনাকে খুব ভোরে উঠে চলে যেতে হবে হ্যালিপ্যাডে, সেখান থেকেই সবচেয়ে সুন্দর সূর্যোদয় দেখা যায়। বিকেলের কোন উঁচু জায়গা থেকে সূর্যাস্তের রঙ্গিন রূপ আপনাকে বিমোহিত করবেই। আর সন্ধ্যার পর আকাশের কোটি কোটি তারার মেলা, আপনার প্রাণ জুড়িয়ে দিবে নিমিষেই। আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখা পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের। ঘুরে দেখতে পারেন চারপাশ ও আদিবাসীদের জীবন যাপন। সহজ সরল এই সব মানুষের সান্নিধ্য আপনার ভাল লাগবে।

আর হাতে সময় থাকলে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে ঢু মেরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার থেকে।

কখন যাবেন

সাজেকের রূপের আসলে তুলনা হয় না। সারা বছরই বর্ণিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। বছরের যে কোন সময় আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন। তবে বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। তাই এই সময়টাই সাজেক ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।

সাজেক যাবার উপায়

সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। তাই প্রথমেই আপনাকে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে চাইলে সৌদিয়া, শ্যামলি, শান্তি পরিবহন, এস আলম, ঈগল ইত্যাদি বাসে করে যেতে পারবেন। নন এসি এইসব বাস ভাড়া ৫২০ টাকা। এসি বাসে যেতে চাইলে বিআরটিসি ও সেন্টমার্টিন পরিবহনে ৭০০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। আর বাসগুলো সাধারণত রাত ১০ টার মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া শান্তি পরিবহন বাস সরাসরি দীঘিনালা যায়, ভাড়া ৫৮০ টাকা। ঢাকায় গাবতলী, কলাবাগানসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে এইসব পরিবহণের কাউন্টার। ছুটির দিন গুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকেট কেটে রাখা ভালো নয়তো পড়ে টিকেট পেতে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরের কাছ থেকে জীপগাড়ি/চাঁন্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পারবেন। যাওয়া আসা সহ দুইদিনের জন্যে ভাড়া নিবে ৮,০০০-১০,০০০ টাকা। এক গাড়িতে করে ১২-১৫ জন যেতে পারবেন। তবে লোক কম থাকলে অন্য কোন ছোট গ্রুপের সাথে কথা বলে শেয়ার করে গাড়ি নিলে খরচ কম হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সিএনজি দিয়ে সাজেক যেতে পারবেন। রিজার্ভ ভাড়া লাগবে ৪০০০-৫০০০ টাকা। তবে পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা বলে সিএনজি দিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।

Discover of Tourism

জীপ সমিতি পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যান সমিতি কতৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা

স্থান যাত্রার ধরণ
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক আসা-যাওয়া
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রি যাপন, আলুটিলা রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ সহ
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ২ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ২ রাত্রি যাপন, আলুটিলা রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ সহ

এছাড়া আপনি যদি একা বা ২-৩ জন হন তাহলে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্ত্বর থেকে অনেক গ্রুপ পাওয়া যায়, সেখানে অন্য গ্রুপের সাথে কথা বলে তাদের সাথে শেয়ার করে যেতে পারবেন অথবা জিপ সমিতির অফিসে গেলে ওরা ম্যানেজ করে দিবে অন্য কোন গ্রুপের সাথে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে দিঘীনালায় গিয়ে সেখান থেকে সাজেক যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার। খগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা বাস ভাড়া ৪৫ টাকা, মোটর সাইকেল জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা। আবার চাইলে মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে সাজেক ঘুরে আসা যায়। যে কোন গাড়ি ঠিক করার আগে কি দেখবেন, কি করবেন এইসব ভালো মত কথা বলে নিবেন।

তবে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, যেভাবেই যান আপনাকে দিঘীনালায় ১০টার আগেই পৌছাতে হবে। দিঘীনালা থেকে বাকি রাস্তা নিরাপত্তার জন্যে আপনাকে সেনাবাহীনির এসকোর্টে যেতে হবে। সেনাবাহিনীর এসকোর্ট দিনে দুইবার পাওয়া যায়। সকাল ১০ টায় একবার, আবার বিকেল বেলায়। সকালের এসকোর্ট মিস করলে আপনাকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, বিকেলের টা মিস করলে আপনাকে পরেরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এসকোর্ট ছাড়া যাবার অনুমতি পাবেন না। দিঘীনালা পৌঁছে হাতে সময় থাকলে হাজাছড়া ঝর্ণা ঘুরে দেখে আসতে পারবেন।

দিঘীনালা থেকে যাবার পথে বাগাইহাট, মাচালং বাজার, তারপর রুইলুই পাড়া হয়ে পৌঁছে যাবেন সাজেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যেতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন ঘন্টা। এই সময় আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা ধরে চলার সময়টুকু আপনার জন্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চারদিকে সারি সারি পাহাড় আর সবুজের সমারোহ আপনাকে ভুলিয়ে দেবে পথের সব ক্লান্তি।

Discover of Tourism

চট্রগ্রাম থেকে সাজেক ভ্রমণ : চট্রগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি বা দিঘীনালা হয়ে সাজেক যেতে পারবেন। চট্রগ্রামের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস সারাদিনে ৪টি বাস চলাচল করে, ভাড়া ২০০টাকা । এছাড়া অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের (ভাড়া ১৯০টাকা) বাস চলাচল করে। চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা।

রাঙ্গামাটি থেকে সাজেক ভ্রমণ : রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথ এবং সড়কপথ উভয়ভাবেই বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭ টা ৩০ থেকে ১০টা ৩০ এর মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে যেতে আর সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা। জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। রাঙ্গামাটি বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭ টা ৩০ থেকে ৮ টা ৩০ ঘটিকার মধ্যে বাস ছাড়ে, জনপ্রতি ভাড়া নেয় ২০০ টাকা। সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। এছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব। বাঘাইছড়ি থেকে জীপ (চাদেঁর গাড়ি) অথবা মোটর সাইকেলে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায় এতে জনপ্রতি ভাড়া লাগে ৩০০/-টাকা।

Discover of Tourism

কোথায় থাকবেন

সাজেকে থাকার জন্যে অনেক ৪০ এর অধিক রিসোর্ট ও আদিবাসী কটেজ আছে। এক রাতের জন্যে জনপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া পরবে। ছুটির দিনে যেতে চাইলে আগে মাসখানেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো, নয়তো ভালো রুম পাবার নিশ্চিয়তা কম। আর কম দামে থাকতে চাইলে আদিবাসী কটেজ গুলোতে থাকতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন অনেক কটেজ হয়েছে। সাজেকের সব কটেজ থেকেই মোটামুটি সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়।

সাজেকের রিসোর্ট কটেজ

সাজেক রিসোর্ট (Sajek Resort) : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট সাজেক রিসোর্ট। এই আর নন এসি রুম গুলোর ভাড়া ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা। আছে খাবারে ব্যবস্থা। সেনাবাহিনিতে কর্মরত বা প্রথম শ্রেনীর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে ডিসকাউন্ট রয়েছে।

রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Resort) : মোট ৫ টি রুম আছে। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। নিচ তলার রুম ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন।

মেঘ মাচাং (Megh Machang) : সুন্দর ভিউ ও তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্যে মেঘ মাচাং রিসোর্ট অনেকের পছন্দ। আছে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। মেঘ মাচাং-এ পাঁচটি কটেজ আছে । ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা।

 জুমঘর ইকো রিসোর্ট (Jumghor Eco Resort) : থাকার জন্যে কাপল রুম এবং শেয়ার রুম দুটাই আছে। কটেজ প্রতি ভাড়া ২০০০-৩০০০ টাকা।

 লুসাই কটেজ (TGB Lushai Cottage) : কাপল রুম, ডাবল বেড সহ আছে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। সুন্দর ডেকোরেশন ও ভালো ল্যান্ডস্কেপিক ভিউয়ের এই কটেজের রুমের ভাড়া ২০০০-৩০০০ টাকা।

মেঘ পুঞ্জি রিসোর্ট (Meghpunji Resort) : সুন্দর ইকো ডেকোরেশনের ও আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপিক ভিউ সহ মেঘপুঞ্জিতে আছে ৪টি কটেজ, প্রতিটিতে ৩-৪ জন থাকা যাবে। ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা।

রিসোর্ট রুংরাং (Resort Rungrang) : রুংরাং রিসোর্টে আছে ৬টি ডাবল এবং ৪টি কাপল রুম। ভাড়া ডাবল বেড – ২৫০০ টাকা, কাপল- .২০০০ টাকা। উইক ডে তে রুম ট্যারিফের উপর ২০% ডিসকাউন্ট।

 আলো রিসোর্ট (Alo Resort) : সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়ায়। ৬ টি রুমের মধ্যে ডাবল রুম ৪ টি (২টি বেড)। ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা।

 আদিবাসী ঘর: এ ছাড়া আরও কম খরচে থাকতে চাইলে আদিবাসিদের ঘরেও থাকতে পারবেন। জনপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকায় থাকা যাবে। ফ্যামিলি বা কাপল থাকার জন্যে আদর্শ না হলেও বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে থাকা যাবে।

কিভাবে যাবেন কলকাতায় ???

কিভাবে যাবেন কলকাতায় ???

কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা।

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন?

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ভ্রমনের বিস্তারিত তথ্য

ভুটান ভ্রমন করবেন কেন? পৃথিবীর এত এত দেশ থাকতে আপনাকে ভুটান ভ্রমন করতে হবে কেন? এই জিজ্ঞাসা সবার আগেই করা উচিৎ। তার কারন, যে দেশে ভ্রমন করবেন সে দেশ সম্পর্কে আপনার জানা থাকা জরুরী। তাই ভুটান সম্পর্কে কিছু ধারনা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। ভ্রমন প্রিয় মানুষের প্রথম এবং প্রধান উদ্যেশ্য থাকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য উপভোগ করা। যতটুকু সম্ভব কাছে থেকে উপভোগ করা। এছাড়াও থাকে সেই ভৌগলিক এলাকার কালচার, আচার আচরন চলাফেরা ইত্যাদি। এসব দিক বিবেচনা করলে ভুটান ভ্রমন একজন পর্যটকের ভ্রমন তালিকায় উপরের দিকে থাকে। ইউরোপ আমেরিকার অনেক মানুষই এই দেশটিকে ভ্রমন করে তৃপ্ত হয়েছেন। তাহলে আপনি কেন নন? আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন?

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন? কিভাবে ভুটান যাবেন?

ভৌগলিক দিক থেকে ভুটান এবং বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব অনেক কম। এ কারনে সড়ক পথে ভ্রমন করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়। ভারতের ট্রানজিট ভিসা নেওয়াটা একেবারে সহজ ব্যাপার নয়। অনেক ঝামেলার। তাছাড়াও সড়ক পথে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ভুটান যেতে প্রায় ২৪ঘন্টার মত সময় লাগে। কারন বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থল বন্দর খোলে সকাল নয়টার দিকে। আপনি ঢাকা থেকে যে বাসে চড়েই যান না কেন, তা যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। ট্রাফিক জ্যাম না থাকলে গিয়ে পৌঁছায় ভোর ছয়টার দিকে। এবার বসে থাকতে হয় স্থল বন্দর খোলার জন্যে। খোলার পরেও আরাম নেই, সেখানে অনেক লম্বা লাইন। এখান থেকে পার পেতে পেতে প্রায় দুপুর একটা। দুই দেশের স্থল বন্দরে ডিপারচার/এন্ট্রি নিতে নিতে দিনের অর্ধেক যাবে খতম হয়ে।

এ কারনে আপনি এসব ঝামেলা এড়াতে বিমানে যেতে পারেন। ভুটান বিমানে যেতে চাইলে আগে থেকে ভিসা প্রসেসিং এর দরকার নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বিমান বন্দরেই এন্ট্রি পারমিশন দেয়া হয়। তবে ভুটানের বিমান বন্দর খুবই ছোট এবং সেটা পারো নগরীতে অবস্থিত। এখানে খুবই কম ফ্লাইট থাকে। Drukair(Royal Bhutan Airlines) ঢাকা থেকে পারো পর্যন্ত কিংবা কোলকাতা থেকে পারো ফ্লাইট আছে।

তারপরেও কথা থেকে যায়। যাদের ভ্রমন বরাদ্ধ খুবই কম তাদের বেলায় বিমান নির্বাচন করা যায় না। বাস বা রেল পথ হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা উপায়।

বাসে যাবেন?

যেকোন বাস মানিক, হানিফ অথবা শ্যামলী পরিবহন ছাড়াও এস আর পরিবহন ব্যবহার করে বুড়িমারি চলে যান। বাসের লোকেরাই মাত্র ৯০০টাকার বিনিময়ে আপনাকে ঐ পাড়ে যেতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ সরকারের ভ্যাট যা এখান থেকেই বাসের লোকেরা জমা দিয়ে দেয়। সকাল ৯টা থেকে আপনার পালা আসতে যত সময় লাগে ততটুকুই হচ্ছে দেরি।

ঐ পাড়ে মানে ভারতে ঢুকার পর আপনার এন্ট্রি করানো হবে। সেখানেও একই বাসের কাউন্টার পার্ট বা টীম আপনাকে গ্রহন করে কাজটা বাংলাদেশী টাকা ১০০এ করে দিবে। এবার আপনার ভুটান যাবার পালা।

সরাসরি ভুটান কোন বাস যায় না। তবে আপনি চ্যাংরাবান্ধা বাস স্টপে গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে চলে যেতে পারেন ময়নাগুঁড়ি বাইপাস এ। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়ালেই কিছুক্ষন পরে পাবেন শিলিগুঁড়ি জয়গাঁ বাস। এই বাস অনেক স্টেশনে থামলেও আপনাকে ঠিকই নিয়ে যাবে জয়গাঁ পর্যন্ত। ভাড়া সাধারনত ৮০/৭০ রুপি।

জয়গাঁ এলে আপনাকে ইন্ডিয়া স্থল বন্দর খুঁজে নিতে হবে। ভ্যান বা রিক্সা নিয়ে খুঁজতে পারেন। সেখানে আবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ভুটান গেইট খোলা থাকে একই সময় পর্যন্ত। জয়গাঁ এ কাজ হয়ে গেলে চলে যান ভুটান গেইট। খুবই পরিচিত। অনেকেই দেখিয়ে দেয়। ভুটান গেইট এলে এখানে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়ে একটি ফর্ম পূরন করে পাসপোর্টের এক কপি ফটোকপি জমা দিলে এন্ট্রি পারমিশন পাওয়া যাবে। এন্ট্রি সাধারনত আপনার অন্যান্য দেশের ভিসার মেয়াদের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়। এখানে কোন বাড়তি খরচ নেই।

এতক্ষন ধরে যদি আপনি উল্যেখিত পথ আর যানবাহন ধরে এগিয়ে আসেন তবে ধরে নিচ্ছি তখন ভুটান সময় অনুসারে সন্ধ্যা ৬টা বা সাড়ে ৬টা বাজে। বাংলাদেশের সময়ও এখন তাই। এই সময়ে আপনি থিম্পু কিংবা পারো এর কোন দিকেই যেতে পারেন না। কারন সেখানে যেতে প্রায় ৫ঘন্টা লাগে। রাত ১০টার ভুটানে হোটেল খুঁজে পাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ন। আমার পরামর্শ হচ্ছে এখানে মানে পুয়েন্টসলিং এ থেকে যান। এখানে ৭৫০ রুপি থেকে শুরু করে অনেক বেশি দামের হোটেল আছে। যার যার ইচ্ছামতো হোটেল বুকিং নিয়ে নিন। রাত ৮টার আগে হোটেল না পেলে আপনার কপালে দুঃখ আছে হয়ত।

কিছু তথ্য মনে রাখুনঃ

সময়ঃ আগেও বলেছি, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় আর ভুটানের স্থানীয় সময় একই। তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। এখানে রাত ৮টায় সব দোকান পাট অবাক করা বিস্ময়ে বন্ধ করে দেয়।

খাবারঃ খাবার সব সময় সাথে রাখার দরকার নেই বলে মনে হয়। কারন এখানের খাবার তেমন দামী নয়। অন্তঃত আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের রেস্তোঁরার চেয়ে সস্তা। কিন্তু এই খাবার সন্ধ্যা হবার সাথে সাথে আপনাকে সাথে রাখতে হবে। কারন অনেক রাতে বা ১১টার দিকে যদি ক্ষিদে পায় আপনি খাবার পাবেন না।

অর্থনীতিঃ টাকা পয়সা বা ডলার যদি সাথে নিয়ে যান তবে তা চ্যাংড়াবান্ধাতেই ইন্ডিয়ান রুপি করে নিয়ে যান।  ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি চলে কোন বাধা ছাড়াই। তাই নিয়ে নিন যা লাগে। ভুটানে কোথাও আপনি ডলার কনভার্ট করার সুযোগ পাবেন না। যদিও পান তারা অনেক কম দামে কিনে নিবে।

যোগাযোগঃ ভুটানে একটি নিজস্ব টেলিকম(বি মোবাইল) আছে যার সিম কিনতে হলে অনেক দূরে অফিসে যেতে হয়। কিন্তু এটি না নিয়ে আপনি অন্য যে কোন টেলিকম লাইন নিতে পারেন। বি মোবাইল এর নেটওয়ার্ক ভাল নয়। তবে খরচ অনেক কম কিন্তু বি মোবাইলে। ইন্টারনেট ১জিবি ৯৯রুপি।

ইন্টারনাল যানবাহনঃ ভুটানের বাসে চড়ে ভ্রমন খুব ঝামেলার। ট্যাক্সি নিয়ে নিন যেখানে খুশি যেতে পারবেন। খরচ ইন্ডিয়া থেকে কিছু কম।

কোথায় কোথায় যাবেনঃ ইমিগ্রেশন এ যখন অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন তখন আপনার কাছে ভুটান ভ্রমনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার নাম চাওয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষেই থিম্পু, পারো এর নাম উল্যেখ করেন। এখান থেকে মূলত এই দুই জায়গায় ভ্রমনের অনুমতি দেয়া হয়। কেউ যদি পুনাখা যেতে চান থিম্পু থেকে অনুমতি নিতে পারেন। একই রকম ফর্ম পূরন করে পুনাখা যেতে হয়। ছুটির দিনে থিম্পু ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ থাকে।

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন এর প্রথম এবং প্রাইমারি তথ্য সমূহ দেয়ার চেষ্টা করেছি। এর পরে আবার অন্য সময়ে আরো বিস্তারিত কিছু তথ্য দেয়া হবে যাতে শুধু মাত্র বিভিন্ন স্থানের বর্ননা পাওয়া যাবে। এছাড়াও আপনাদের মধ্যে কেউ যদি কিছু জানতে চান তবে কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন।