শর্তপূরণ করে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীরা

মহামারি করোনার কারণে বেনাপোল সীমান্ত সিলগালা করায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীরা। গতকাল বেনাপোল সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় তিনশ যাত্রী।

দিনভর অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত তারা কলকাতা এবং ৮ কিলোমিটার দূরে বনগাঁর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ কলকাতাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেশে ফেরার ছাড়পত্র গতকালই সংগ্রহ করে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে ২৮ জন বাংলাদেশি যাত্রী বাংলাদেশে এসেছে। আগত যাত্রীদের বেনাপোলের বিভিন্ন হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।
এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে গেছেন ৯ জন ভারতীয় নাগরিক।

বাংলাদেশে আটকে পড়া ৫৮ জন ভারতীয় নাগরিকের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে। তালিকাভুক্ত ভারতীয়রাই কেবল বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশে ফেরত আসা যাত্রী মোখলেছুর রহমান জানান, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে
থাকার ভয়ে অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চাইছে না।

করোনায় চিড়িয়াখানা

করোনায় চিড়িয়াখানা

       করোনায় চিড়িয়াখানা

করোনার কারণে লকডাউনের সময় মিরপুর চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় প্রাণীদের বেশ                 ভালো সময় কাটছে। ২০১৯ সালে বছরজুড়ে পাঁচ প্রজাতির মোট ৪১টি প্রাণী জন্ম                     নিয়েছিল। সেখানে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি নতুন প্রাণী যোগ হয়েছে                 ঢাকা চিড়িয়াখানায়। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকা              এই চিড়িয়াখানায় কীভাবে দিন কাটছে প্রাণীদের, তারই চিত্র তুলে ধরা হলো এখানে।

মহামারিতেও বেড়েছে সামরিক ব্যয়

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে অর্থনীতি সংকুচিত হলেও বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বেড়েছে। গতকাল সোমবার সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এসআইপিআরআইয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বে সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখকদের একজন ডিয়োগে লোপেজ ডি সিলভা। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনীতির করুণদশার মধ্যেও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তিনি বলেন, মহামারির কারণে এবার সামরিক ব্যয় কমার কথা ছিল। মানুষ সেটাই মনে করত। কিন্তু ২০২০ সালে সামরিক খাতের ব্যয় কমানোর বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অর্থনৈতিক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার অর্থ হচ্ছে জিডিপিতে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য খাতের ব্যয় কমানো। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যের বেশির ভাগ দেশ নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে তাদের সামরিক ব্যয়ের অন্তত ২ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে ৯টি দেশ সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছিল, সেখানে ২০২০ সালে বাড়িয়েছে ১২টি দেশ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি, এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া মহামারি মোকাবিলার কথা বলে সরাসরি সামরিক ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

লোপেজ বলেন, ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো অন্যান্য দেশ করোনার কারণে অর্থ বরাদ্দ পুনর্বণ্টন করলেও তা তারা স্পষ্ট করে জানায়নি। কিন্তু দেশগুলো ২০২০ সালের প্রকৃত বাজেটের চেয়ে তুলনামূলক কম অর্থ ব্যবহার করেছে।

ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। দেশটি করোনা মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।

লোপেজ বলেছেন, ২০০৮–০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি নিয়েছিল। কিন্তু এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালের শেষের দিকে প্রথম করোনা ছড়িয়ে পড়ে চীনের একটি শহরে। পরে করোনার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের এই দুই শীর্ষ অর্থনীতির দেশ সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় করেছে মহামারির মধ্যেও। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৯ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আর ১৩ শতাংশ হয়েছে চীনে। অর্থনীতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক হারে সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে চীন। দেশটিতে টানা ২৬ বছর ধরে সামরিক ব্যয় বেড়েছে। ২০২০ সালে দেশটির সামরিক ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৭ সাল থেকে টানা তিন বছরের মতো সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে। যদিও এর আগের ৭ বছর এই ব্যয় কমিয়েছিল দেশটি।

গবেষণা প্রতিবেদনের আরেক লেখক আলেক্সজান্দ্রা মার্কস্টেইনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ শক্তিশালী দেশগুলো থেকে সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে উদ্বেগ এবং সেনাবাহিনীকে শক্তিশালীকরণে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে গত বছরের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে।

লোপেজ বলেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন দেশটির সামরিক ব্যয় বাড়াবে কি না, সেই ব্যাপারে এখনো কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে সাত বছর সামরিক ব্যয় কমে, সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। তাঁরই ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। এখন দেখার বিষয়, তিনি বিষয়টিতে কোন পথে হাঁটেন।

বাংলাদেশসহ ৬ দেশের ভ্রমণকারীদের কাতারে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন

কাতার

কাতার ভ্রমণকারী বাংলাদেশসহ ছয় এশীয় দেশের নাগরিকদের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ দিয়েছে। কাতারের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য পেনিনসুলার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

কাতারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে। কাতারের রাজধানী দোহার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে। ভারতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ আর যেসব দেশের নাগরিকদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হলো, সেসব দেশের মধ্যে আছে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন।

নির্দেশে বলা হয়েছে, ভ্রমণকারীদের টিকা নেওয়া থাকলেও তাঁদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। আর এটি ঘরে করা যাবে না, হোটেলে থাকতে হবে। কাতার সরকারের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন–সুবিধায় ১০ দিনের জন্য থাকতে হবে। আর প্রত্যেক ভ্রমণকারীর ভ্রমণের সময় থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগের নিজ দেশে পিসিআর টেস্টে করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে।

ভ্রমণকারীরা যখন কাতারে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন, তখন সেখানে আসার এক দিনের মধ্যেই আবার পিসিআর টেস্ট করা হবে। কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনও এ টেস্ট হবে।

যাঁরা কাতারকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্যও পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক। আর এ জন্য নতুন গন্তব্যে যাওয়ার আগে তাঁদের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট করা হবে। এ জন্য নির্ধারিত ৩০০ কাতারি রিয়াল দিতে হবে

ভারতের পরিস্থিতি মর্মান্তিক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান

চরম বিপর্যয় এখনো বাকি: ডব্লিউএইচও, লকডাউনের পক্ষে তাকেশি || Somoynews.tv

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। এই সংকট মোকাবিলায় ভারতকে সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, ভারতের পরিস্থিতি মর্মান্তিক। জরুরি সরঞ্জাম ও সহায়তা দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশটিতে সোমবার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮১২ জনের। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অক্সিজেনের অভাব সংকটকে তীব্রতর করেছে।

অনেক রোগীর পরিবার হাসপাতালের শয্যার সন্ধান এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান বলেন, হাজার হাজার অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ভ্রাম্যমাণ ফিল্ড হাসপাতাল এবং গবেষণাগারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করছেন তাঁরা।

মহামারি মোকাবিলায় ভারতকে সহায়তা করার জন্য দুই হাজার ৬০০ এর বেশি বিশেষজ্ঞকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে ৩১ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাস মহামারির সর্বশেষ ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে প্রায় ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত। তাদের

সহায়তায় ভেন্টিলেটর এবং টিকা তৈরির কাঁচামাল পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। আরও অনেক দেশ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপরে এক বছরের বেশি সময়ে বিশ্বে ১৪ কোটি ৭২ লাখের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ লাখের বেশি।

তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সোমবার বলেন, গত নয় সপ্তাহ ধরে বিশ্বে নতুন করোনা সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত সপ্তাহে যে সংখ্যক মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে তা মহামারি শুরুর প্রথম পাঁচ মাসের সমান।

করোনার সংক্রমণের পরিসংখ্যান নিয়মিত হালনাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য বলছে, আজ রাত পৌনে দুইটা পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে সোয়া তিন কোটির বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরপরে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় পর পর রয়েছে ভারত (১,৭৬,২৫,৭৩৫) ও ব্রাজিল (১,৪৩,৪০,৭৮৭)। আর মৃতের সংখ্যার হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পর রয়েছে ব্রাজিল (৩,৯০,৯২৫) ও মেক্সিকো (২,১৪,৯৪৭)। আর ভারতে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৮০ জন। অন্যদিকে মেক্সিকোয় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ২৮ হাজার ৩৯১ জন। তবে ভারতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যে সংখ্যক মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ছে, তা বিশ্বে একক কোনো দেশে একদিনে আক্রান্তের রেকর্ড করছে।

ঢাকা-চট্টগ্রামে হোটেল ব্যবসা মন্দা, কক্সবাজারে বেশ চাঙা

Pan Pacific Sonargaon Dhaka, Dhaka – Updated 2021 Prices

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাস ঢাকা ও চট্টগ্রামের শহরের হোটেল ব্যবসায় ছিল চরম মন্দাভাব। একই সময়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেলগুলোয় ছিল ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই অবস্থা। আর সে কারণে ঢাকা–চট্টগ্রামে হোটেলে যখন চরম লোকসান, তখন কক্সবাজারের হোটেলে এ সময়ে বিপুল মুনাফা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক তিন হোটেলের তিন মাসের আয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলো শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করতে অনেক সময় আর্থিক বিবরণীতে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে। শেয়ারবাজারে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অনেক কোম্পানি ইপিএস বা মুনাফা বাড়িয়ে দেখায়। আর যখন শেয়ারের দাম কমানোর প্রয়োজন মনে করে, তখন অনেক কোম্পানি মুনাফা কমিয়ে দেখায়। এ কারণে শেয়ারবাজারের অনেক কোম্পানির ইপিএস নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সব সময়ই সন্দেহ বা প্রশ্ন থেকে যায়। এ প্রতিবেদনে কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ইপিএসকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইপিএসের সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হয়নি।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ওয়েস্টিন, চট্টগ্রামের পেনিনসুলা ও কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ। এর মধ্যে ওয়েস্টিনের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল, রয়েল টিউলিপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান সি পার্ল নামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। আর পেনিনসুলা হোটেল পেনিনসুলা নামেই তালিকাভুক্ত।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের ব্যবসায় ধস নেমেছে। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ১১ পয়সা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাসে ওয়েস্টিন হোটেল শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা করে লোকসান করেছে।

লোকসানে ঢাকার ওয়েস্টিন

এ তিন হোটেলের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের ব্যবসায় ধস নেমেছে। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ১১ পয়সা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাসে ওয়েস্টিন হোটেল শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা করে লোকসান করেছে। অথচ আগের বছর একই সময়ে হোটেলটি শেয়ারপ্রতি ১৭ পয়সা করে মুনাফা করেছিল। গতকাল সোমবার কোম্পানিটি আর্থিক বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে কোম্পানিটি বলেছে, করোনার কারণে আগের বছরের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৬৭ শতাংশ আয় কমে গেছে। পাশাপাশি পৌনে পাঁচ কোটি টাকা নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিং করতে হয়েছে। যার কারণে মুনাফা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে ইপিএসে।
ইপিএস বা মুনাফা কমার খবরে গতকাল সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম পৌনে ২ শতাংশ বা ৬০ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৪০ পয়সায়।

রয়েল টিউলিপের মুনাফায় ৫৬৭% প্রবৃদ্ধি

ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের মুনাফায় যখন ধস নেমেছে, তখন কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ হোটেলের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৫৬৭ শতাংশ। অবাকই হচ্ছেন হয়তো। কিন্তু একবার পেছনে ফিরে তাকান তো। নিশ্চয় মনে আছে, গত ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে করোনার সংক্রমণ নতুন করে আবার বাড়তে শুরু করার আগপর্যন্ত কক্সবাজারে হোটেলগুলোয় রুম পাওয়া ছিল রীতিমতো কষ্টের কাজ। ছোট, বড়, মাঝারি—সব ধরনের হোটেলে ছিল ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই অবস্থা। পর্যটকদের বিপুল চাহিদার কারণে ওই সময়ে কক্সবাজারে নামীদামি হোটেলগুলোর ভাড়াও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

রয়েল টিউলিপের মুনাফার তথ্যেও সেই বাড়তি ভাড়ার সুফল দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রয়েল টিউলিপের কর–পরবর্তী মুনাফা হয়েছে প্রায় সোয়া সাত কোটি টাকা। তাতে উল্লেখিত সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে হয়েছে ৬০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির কর–পরবর্তী মুনাফা ছিল মাত্র এক কোটি টাকা, যাতে গত বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল মাত্র ৯ পয়সা। অর্থাৎ করোনাকালেও তিন মাস খুবই ভালো ব্যবসা করেছে রয়েল টিউলিপ।

তবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিল থেকে আবারও পর্যটন ব্যবসা বলতে গেলে প্রায় বন্ধ রয়েছে। এ ধাক্কা লাগবে কোম্পানির আয়েও। আর সেটির প্রতিফলন ঘটবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে। তা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও বেশ কিছুদিন।
এদিকে মুনাফা বাড়লেও প্রায় এক বছর ধরে কোম্পানিটির শেয়ার একই দামে আটকে আছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তরে গত মার্চ থেকে আটকে আছে এটির শেয়ারের বাজারমূল্য। গতকাল সোমবার এটির শেয়ারের দাম ছিল ৭৯ টাকা ১০ পয়সা। এখন দেখার বিষয় বিপুল মুনাফার খবরে আজ মঙ্গলবার এটির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইস থেকে ওপরে উঠতে পারে কি না?

পেনিনসুলার ইপিএস কমেছে ৭ পয়সা

চট্টগ্রামভিত্তিক এ হোটেলের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাস ও কোম্পানিটির আর্থিক বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১ পয়সা।

এই সময়ে ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ?

এই সময়ে ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ?

বিশ্বব্যাপী লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতার বালাই নেই। সংক্রমণ কমানোর জন্য সরকার ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে।

এরমধ্যে ভ্রমণ করা কতটুকু নিরাপদ, সে বিষয় আজ আপনাদের জানাবো-

পর্যটকদের কি করতে হবে?

হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে দর্শনার্থীদের ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। এর আগে মনে করা হচ্ছিল, করোনা ভ্যাক্সিনেই কাটবে এই মহামারি। চলতি বছরের ৫ মার্চ সিনেট ডট কমের খবরে উল্লেখ করা হয়, পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই এই মুহূর্তে ভ্রমণ করা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু সংক্রমণের গতি বেড়ে গেলে ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। এতে দর্শনীয় স্থানগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আবার খুলে দেওয়া হতে থাকে সেসব দর্শনীয় স্থান। কিন্তু গত মার্চের পর থেকে দেশে করোনা সংক্রামণ হু হু করে বাড়ছে। তাই মহামারি শেষ না হওয়া অবধি পর্যটকদের অপেক্ষা করাই উচিত।

মহামারির সময়ে ভ্রমণের ঝুঁকি

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় এ মুহূর্তে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ এমন পরিস্থিতিতে কোথাও ঘুরতে বের হলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ঘুরার পরিকল্পনা মহামারি শেষ হওয়ার পর করলে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ঘরবন্দী জীবনযাপনই শ্রেয়

এ মুহূর্তে ঘরবন্দী জীবনের বিকল্প কিছু নেই। এসময় ঘরে বসে পরিবারকে সময় দেওয়া যেতে পারে। ফোনে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারেন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলুন। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে ঘরের কাজ করুন। সময় কাটাতে পারেন বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। প্রয়োজনীয় কাজে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক পরুন ও নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ করুন

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ করুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধীরে ধীরে ভ্রমণ করা শুরু করছেন অনেকে। রেস্তোরাঁ ও কিছু দর্শনীয় স্থান খুলে দেওয়া হচ্ছে। গ্রিস, ইতালিসহ কয়েকটি দেশ পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

এ বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে, করোনার এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো ব্যক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যান তাহলে তাকে ১৪ দিন সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে। গত বছরের ১৪ মে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্রমণের পরিকল্পনা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কোথাও ভ্রমণ করা কতটুকু নিরাপদ সেটিও ভেবে দেখতে হবে। এসব নিয়েই আজকের আয়োজন-

বিমান ভ্রমণ

হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের হেলদি বিল্ডিং প্রোগ্রামের সহকারী অধ্যাপক জো অ্যালেন বলেন, অনেকেই মনে করেন বিমানে ভ্রমণ করলে তারা অসুস্থ হয়ে যাবেন। প্রকৃতপক্ষে বিমানে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে।

পার্কে ভ্রমণ

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জয়সি স্যাঞ্চেজ বলেন, গরমের সময় করোনা সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। তাই ভ্রমণের সময় স্যানিটাইজার নিতে হবে এবং মাস্ক পরে থাকতে হবে।

সমুদ্র ভ্রমণ

সমুদ্রে ভ্রমণের সময় অনেকেই নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলেন না। মনে রাখতে হবে, করোনা থেকে বাঁচার জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। ভ্রমণের সময় স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে এবং মাস্ক পরে থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা মহামারি দূর করা সম্ভব হবে। ডা. লিন চেন বলেন, হাত পরিষ্কারের মাধ্যমে করোনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

আবাসিক হোটেলের নিরাপত্তা

স্যাঞ্চেজ বলেন, হোটেলের লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ির মাধ্যমে যাতায়াত করতে হবে। হোটেলের রেস্তোরাঁর চেয়ে রুমগুলো অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ রেস্তোরাঁয় বাইরে থেকে অনেক মানুষ আসেন।

কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারে যেসব সতর্কতা জরুরি

মাস্ক এখন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। যে হারে সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়ে চলেছে গোটা বিশ্বে, তাতে আগামী কয়েক বছর মাস্ক ব্যবহার অপরিহার্য মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কাপড়ের মাস্ক না সার্জিক্যাল মাস্ক, সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কোনটা বেশি ভালো, তা নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় বহু মানুষ আবার কাপড়ের মাস্কই বেছে নিচ্ছেন। কাপড়ের মাস্ক পরার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, যে কোনও সময় মাস্ক ধরার আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। মাস্কের কোথাও কোনও ছিদ্র বা ছেঁড়া রয়েছে কি না তা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মাস্ক পরার পর মুখের দু’পাশে ফাঁক রয়েছে। তা কোনও ভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। মাস্ক পরার পর মুখ, নাক এবং থুতনি সম্পূর্ণভাবে ঢাকা থাকতে হবে।

গ্রীষ্মের দাবদাহে অনেকেই মাস্ক পরে হাঁফিয়ে উঠছেন। এ কারণে নিজের অজান্তেই অনেকের মাস্কে হাত চলে যাচ্ছে। কেউ কেউ টানাটানি করে মাস্ক আলগা করছেন, অস্বস্তি হলে উপরের অংশ ধরে মাস্ক ঠিক করতেও দেখা যায় অনেককে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন মাস্ক না ছোঁয়াই ভাল। আর যদিও বা মাস্ক খুলতে হয় বা ঠিক করতে হয়, তা কানের পাশে অথবা মাথার পিছন দিক থে‌কে মাস্কের ফিতা ধরেই খুলতে বা পরতে হবে। খোলার পরই মুখের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে মাস্ক।

সার্জিক্যাল মাস্কের ক্ষেত্রে এক বার পরার পরই তা ফেলে দিতে হয়। তবে কাপড়ের মাস্ক আবারও ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাস্ক ভিজে না গেলে, নোংরা না হলে খোলার পর পরিষ্কার থলিতে রেখে দেওয়া যাবে। ফের ব্যবহার করতে চাইলে সাবান বা ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। দিনে এক বার গরম পানিতে সাবান মিশিয়ে মাস্ক ধুয়ে নিলে ভালো হয়।

কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এর আগে ত্রিস্তরীয় মাস্কের উপর গুরত্ব দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, দোকান থেকে কিনে বা বাড়িতে তৈরি করা মাস্ক পরা যাবে। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা মাস্কের কাপড়ের উপর যেহেতু নির্ভর করে, তাই তিনটি স্তরে আলাদা রকমের কাপড় দিতে হবে। মাস্কের যে অংশটি ভিতরের দিকে থাকবে, তাতে সুতির কাপড় ব্যবহার করলে ভালো। কারণ তা মুখ থেকে নির্গত ড্রপলেটস দ্রুত শুষে নিতে পারে। মাঝের স্তরে থাকবে পলিপ্রোলাইনের মতো এমন উপকরণ, যা ফিল্টারের কাজ করবে। বাইরের স্তরটি তৈরি হবে পলিয়েস্টারের মতো উপকরণ দিয়ে, যা মুখের ভিতর থেকে সংক্রমণ বাইরে ছড়াতে দেবে না, আবার বাইরে থেকেও সংক্রমণ মুখে প্রবেশ করা আটকাবে।

দোকান–শপিং মল খুলেছে, রাস্তায় বেড়েছে ভিড়

রাস্তায় আজ মানুষের ভিড় বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলা লকডাউনের মধ্যেই সারা দেশে আজ রোববার দোকানপাট ও শপিং মল খুলেছে। টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর আজ খুলল দোকান ও শপিং মল। রাজধানীর রাস্তাগুলোয় আজ সকাল থেকেই ভিড় বেশি। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে উদাসীনতা দেখা গেছে।

সকাল ১০টার দিকে নিউমার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলো খোলা শুরু হয়েছে। যাঁরা খুলেছেন, তাঁরা ঝাড়ামোছার কাজ করছেন। এরই মধ্যে কোনো ক্রেতা এলে তাও সামলাচ্ছেন কেউ কেউ।

ফেয়ার সুজ নামের দোকানের মালিক বিল্লাল হোসেন ঠিক ১০টাতেই দোকান খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘রোজার মধ্যে এসে দোকান খুলল। কতটা ব্যবসা করতে পারব জানি না। কারণ, এখন অনেক গরম। বিকেল পাঁচটায় বন্ধ করতে হবে। ইফতারের পরেই আসলে মানুষ বেশি আসে। তারপরও কিছু বেচাবিক্রি হয়তো হবে।’

চাঁদনী চকের মৌমি ফ্যাশনের বিক্রেতা মো. রবিন বলেন, গণপরিবহন বন্ধ। কাছের মানুষ যারা, তারাই আসবে। দূরের ক্রেতারা আসতে পারবে না। বাস চলাচল শুরু হলে হয়তো বেচাবিক্রি বাড়বে।

নিউমার্কেটের দোকানগুলো সকালের দিকে ফাঁকা ছিল।

নিউমার্কেটের দোকানগুলো সকালের দিকে ফাঁকা ছিল। 
ছবি: সুহাদা আফরিন

পুলিশ জানিয়েছে, শপিং মল ও দোকানে যেতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুভমেন্ট পাস নিতে হবে। এ বিষয়ে নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গাউছিয়া মার্কেটের দোকানিরা জানান, কাউকে কোনো কিছু দেখাতে হয়নি। পুলিশও কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। এ ছাড়া তারা সবাই আশপাশেই থাকেন।

আমিনা আহমেদ একটি বড় ব্যাগ নিয়ে গাউছিয়ায় ঘুরছেন। প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কাপড় কিনে এবার কিছু পোশাক বানাবেন। তাই সকাল সকাল চলে এসেছেন ভিড় এড়াতে।

বসুন্ধরার শপিং মলে দেখা যায়, ক্রেতার সমাগম এখনো শুরু হয়নি। রাইসা ফ্যাশন নামের দোকানের বিক্রয়কর্মী মো. সাব্বির বলেন, রোজার মাঝামাঝি সময়ে দোকান খুললেও কিছুটা ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন।

চাঁদনীচকে খুলেছে দোকানপাট।

চাঁদনীচকে খুলেছে দোকানপাট। 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে সকাল ১০টার সময় শত শত মানুষকে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। গাদাগাদি করে ভ্যানে করে অনেকেই গন্তব্যস্থলে রওনা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর সুপারমার্কেটের সামনে। সেখানে রীতিমতো যানজট দেখা দিয়েছে। গুলিস্তান ফিরে গেছে পুরোনো রূপে। ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন হকাররা।

গুলিস্তান মোড়ে যান চলাচল বেড়েছে। পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডে মানুষের ভিড় বেড়েছে অনেক। দোকানপাটও খোলা রয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর তাজ সুপারমার্কেটে শতাধিক দোকান খোলা দেখা গেছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম। সেখানকার বিক্রয়কর্মী ইব্রাহিম বলেন, টানা ১১ দিন বন্ধের পর আজ তাঁরা দোকান খুলেছেন। এখনো ঈদের বাকি আছে অনেক দিন। আশা করছেন বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা পাবেন।

যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কোনো পরিবহন না পেয়ে একটি ভ্যানে উঠেছেন আব্দুল হাকিম। ওই একই ভ্যানে আরও ছয়জন উঠে পড়েন। পরে ভ্যানটি পুরান ঢাকার দিকে রওনা হয়।

দোকানপাট খুলেছে আজ।

দোকানপাট খুলেছে আজ। 

আব্দুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর দোকান খুলেছে। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু রাস্তায় বাসসহ যানবাহনের সংখ্যা কম। বাধ্য হয়েই তিনি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে তিনি নিজেও করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা তিনি দেখছেন না।

রাজধানী বঙ্গবাজারে এনেক্স সুপারমার্কেটে দেখা গেল, দোকানপাট সব খোলা, কিন্তু ক্রেতা নেই। সেখানকার হাওলাদার গার্মেন্টসের বিক্রয়কর্মী সাগর প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দিন বন্ধ থাকার পর আজ আবার তাঁরা দোকান খুলেছেন।

 

সকালের দিকে দোকানে তেমন ভিড় ছিল না।

সকালের দিকে দোকানে তেমন ভিড় ছিল না। 

তবে কোনো ক্রেতা নেই। এটি পাইকারি বাজার। তাই তিনি আশা করছেন, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা গেছে। তাঁরা মাস্ক পরেছেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন। ক্রেতারাও যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করেন, সে ব্যাপারে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন।

পরিবহন না পেয়ে ভ্যানে গাদাগাদি করে যাচ্ছেন অনেকে।
পরিবহন না পেয়ে ভ্যানে গাদাগাদি করে যাচ্ছেন অনেকে।