কোলেস্টেরল কমায় ছাতুর শরবত

কোলেস্টেরল কমায় ছাতুর শরবত

ছাতু আমাদের খাদ্য তালিকায় খুব পরিচিত না হলেও গবেষণায় দেখা গেছে ছাতু কোষ্ঠকাঠিন্যসহ পেটের সকল সমস্যার সমাধান করে। ছাতুতে থাকা প্রচুর ফাইবার বিপাক ক্রিয়া সহজ করে দিয়ে কোলন ক্যান্সার রোধ করে।

ছাতুর ফাইবার হার্টের কোলেস্টেরল কমায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই চিকিৎসকরা অবস্থা বুঝে অনেককেই নিয়মিত ছাতুর শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে।

ছাতুতে প্রচুর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকায় রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে এটি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে বেশ তলার দিকে। ফলে এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকরা তাই ডায়াবিটিসের রোগীদের এই শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন।

চুল ভাল রাখতে ছাতু ভীষণ উপকারী। এতে থাকা নানা ভিটামিন ও খনিজের কারণে এটি ত্বক উজ্জ্বল করে। নিয়মিত ছাতুর শরবত ত্বক ও চুলের পুষ্টি যোগায়।

করোনা প্রতিরোধ করতে পারে যেসব ফল

করোনা প্রতিরোধ করতে পারে যেসব ফল

করোনাভাইরাস নিরাময়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। যার ফলে শ্বাসযন্ত্র এবং ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে করোনাকালে সবচেয়ে কার্যকারি ভিটামিন-সি যুক্ত খাদ্য গ্রহণ। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারার চেয়েও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ভিটামিন সি থাকে।

এছাড়াও আমলকিতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার। এ পরিমাণ ভিটামিন সি দিনে মাত্র ২টি আমলকি খেলেই পূরণ করা সম্ভব।

করোনা থেকে বাঁচতে লেবু ও গরম পানি পানের বিকল্প নেই। ভিটামিন সি এর অভাব পূরণে লেবু হলো প্রথম ও প্রধান উৎস। এটি বাজারে সহজলভ্য। করোনায় আক্রান্ত হলে এমনকি সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এসময় লেবু খাওয়ার বিকল্প নেই। সকালে খালি পেটে লেবু রস ও হালকা গরম পানি পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

ভিটামিন সি’ জাতীয় অন্যান্য ফল যেমন- আঙুর, পেয়ারা, আপেল, পেঁপে, শসা, কলা, তরমুজ এসবও নিয়ম করে খেতে হবে। সকালের নাস্তায় একটি কলা ও আপেল বা পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে।

দুপুরে ভাত খাওয়ার আগে কয়েক টুকরো পেঁপে বা তরমুজ খেতে পারেন। আঙুর, পেঁপে, তরমুজ, কলা টুকরো করে সামান্য মধু মিশিয়ে ফ্রুট সালাদ করে খেলে শরীর অনেক পুষ্টি পাবে একসঙ্গে। সকাল বা বিকেলের নাস্তার সময় ফ্রুট সালাদ খেতে পারেন।

প্রতিদিন যদি ফল খেতে ভালো না লাগে; তাহলে টক দই মিশিয়ে স্মুদি বানিয়ে খেলে ভালো লাগবে। সব ধরনের ফলেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি, ফোলেট, ডায়েটারি ফাইবার, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এসব পুষ্টি উপাদানসমূহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা আছে।

মোবাইল চার্জে থাকলে যেসব সাবধনতা জরুরি

প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের জীবনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে স্মার্টফোন। মুহূর্তেই আমরা কেবল হাতের মুঠোয় পেতে পারি নানা তথ্য। অন্যদিকে যেকোন উৎসবে ছবি তোলার পাশাপাশি তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে জানতে পারি নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। তবে স্মার্টফোনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক অবলম্বনও আবশ্যক। অনেক সময় ফোনটি চার্জে দেওয়ার সময় ব্যাটারি থেকে হতে পারে বিস্ফোরণ।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণ কোন নতুন ঘটনা নয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় চার্জ দেওয়া অবস্থায় বিস্ফোরণ হয় ব্যাটারির। আহত হন অনেকেই। কিছু ক্ষেত্রে পরিণতি হয় মর্মান্তিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে কিছু বিষয় নজর রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজন সাবধানতার।

১. স্মার্টফোনের সঙ্গে দেওয়া চার্জার দিয়েই চার্জ দিন। অন্য কোন চার্জার দিয়ে চার্জ দেবেন না। চার্জার খারাপ হলে বা হারিয়ে গেলে সেই ব্র্যান্ডের চার্জার কেনার চেষ্টা করুন।

২. স্মার্টফোন চার্জে বসিয়ে কখন ব্যবহার করবেন না। ফোন কল তো নয়ই, ব্রাউজিং বা মেসেজ করাও নয়।

৩. ফোন ব্যবহার করার সময়ে যদি অস্বাভাবিক গরম মনে হয়, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। ফোন অফ করুন। কভার পরানো থাকলে খুলে দিন। ফ্যান বা এসির নিচে রাখুন।

৪. ফোন চার্জের সময়ে কোন শব্দ হলে সঙ্গে সঙ্গে সুইচ অফ করুন। দোকানে ফোন ও চার্জার দেখান।

৫. ফোন চার্জ দিতে দিতে গরম হয়ে গেলে হালকাভাবে নেবেন না। প্রথমে চার্জ দেওয়া বন্ধ করে ফোন ঠান্ডা হতে দিন। এরপর ফোন সারানোর ব্যবস্থা করুন।

৬. ফোন খারাপ হলে সংস্থার সার্ভিস সেন্টারেই সারাবেন। বিশেষত ব্যাটারি অন্য কোন থার্ড পার্টির ব্যবহার করবেন না।

গরমে করোনার উচ্চ সংক্রমণ

করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে। একদিনের সংক্রমণ গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায় থেকে। গত সোমবার সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সোমবারের চেয়ে সামান্য কিছু কম ৫ হাজার ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল করোনার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে ৪৫ জন এবং আগের দিন সোমবারও ৪৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে। গত বছর করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ছিল ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন। সোমবারের চেয়ে গতকাল শনাক্ত কম হলেও নমুনা পরীক্ষা সাপেক্ষে সোমবারের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার ছিল বেশি।

গতকাল ২৬ হাজার ৬২০টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ১৮.৯৪ শতাংশ এবং মঙ্গলবার সারা দেশে ২৮ হাজার ১৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে ১৮.৩৮ শতাংশ। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, দেশব্যাপী আরো বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে পারলে এমনিতেই আরো বেশি করোনা শনাক্ত হবে। কারণ করোনা পরীক্ষার মেশিন বাড়লেও সারা দেশে নুমনা সংগ্রহ এখনো সহজ হয়নি। সবাই চাইলেও নমুনা দিতে পারছে না এখনো। এ ছাড়া গরম বাড়ার সাথে সাথে সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এখন এটা বলা যায়, বাংলাদেশে গরমে করোনা বৃদ্ধি পায়। সামনের দিনগুলোতে গরম আরো বাড়বে এবং ধরে নেয়া যায় এখনই নিয়ন্ত্রণে কঠোর না হলে সংক্রমণ আরো অনেক বাড়বে।

ইতোমধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার গত সোমবার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো না মানলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা: মোজাহেরুল হক জানান, ‘বিপজ্জনক এ ভাইরাসটি থেকে বাঁচা এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। ভাইরাসটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে ফুসফুসের। এ ছাড়া ব্রেইন, হার্ট, কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি করে থাকে।’

তিনি বলছেন, ‘এমন কেউ কি আছেন যে তারা চান তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হোক? আবার ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে সবাইকে নয় কাউকে কাউকে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে সিটও পাওয়া যাচ্ছে না এখন। এই অবস্থায় কারো উচিত হবে না এই ভাইরাসটিকে নিজের শরীরে ডেকে নিয়ে আসা এবং হাসপাতালে অবস্থান করে হাজার হাজার টাকা খরচ করা। তা না চাইলে সবারই উচিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা।’

এ দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের টিকার অবশিষ্ট চালান কবে আসবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। গত সোমবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ‘টিকার পরবর্তী চালান কবে আসবে সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন’ বলে জানান সাংবাদিকদের। যথাসময়ে টিকার পরবর্তী চালান না এলে অন্য পরিকল্পনা করার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। টিকার ব্যাপারে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশকে টিকা দিতে পারলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং এতে দেশ থেকে করোনা বিদায় করা সম্ভব হবে।

কিন্তু বাংলাদেশে এ পর্যন্ত টিকা এসেছে মাত্র এক কোটি দুই লাখ ডোজ। এর মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ টিকা টাকা দিয়ে কেনা আর অবশিষ্ট ৩২ লাখ ডোজ ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারা দেশে গত সোমবার পর্যন্ত ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৯ জনকে টিকা দিয়েছে। সে হিসাবে গতকাল পর্যন্ত সরকারের কাছে ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৩২১ ডোজ টিকা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি সৃষ্টির জন্য অবশ্যই দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিলেই টিকা গ্রহণকারী ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবেন। এই টিকা শতভাগ সুরক্ষা দেবে না। অবশ্য এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত কোনো টিকাই গ্রহণকারীকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারছে না বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

হঠাৎ করোনা আগের রেকর্ড অতিক্রম করায় গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ভিডিও কনফারেন্স করেন দেশবাসীকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য। এ সময় সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, প্রথম ডোজ দেয়ার পর আগামী ৮ এপ্রিল যাদের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার সময় হবে তাদের জন্য টিকা সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে যত মানুষ প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের সবার জন্য এখন দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার মতো টিকা সরকারের হাতে নেই। সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, দ্বিতীয় ডোজ টিকা শুরু করার পর আরো চালান যেন আসে আমরা সে জন্য কাজ করছি। আমরা আশাবাদী দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু করার পর আরো টিকা এসে যাবে।



গরমে ক্লান্তিহরা ডাবের পানি

ডাবের পানিতে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা থাকায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে

গ্রীষ্মের দুপুরে, প্রচণ্ড গরমে শরীর যখন ক্লান্ত, তখন খুব দ্রুত প্রশান্তি এনে দিতে পারে ডাবের পানি। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি প্রাকৃতিক পানীয়। এতে কোনো কৃত্রিম রং, প্রিজারভেটিভ, ফ্লেভার—এর কিছুই থাকে না। তাই বাজারে যত কৃত্রিম পানীয় আছে, তার তুলনায় ডাবের পানি সেরা। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ডাবের পানির স্বাদ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। ভারতের ডাবের পানি যেমন বেশ মিষ্টি হয়, তেমনি বাংলাদেশের ডাবের পানি বেশ মিষ্টি ও হালকা নোনতা স্বাদের হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো দেশের ডাবের পানি পানসে হয়।

ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী ও জনপ্রিয় একটি পানীয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক এনজাইম ও খনিজ উপাদানে ভরপুর এ পানীয়। ১০০ মিলি ডাবের পানিতে থাকে ১৮ ক্যালরি, ৪ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১০৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ২০৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ২.৬ মিলিগ্রাম সুগার, ২.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৩ মিলিগ্রাম আয়রন ও ২৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম।

ডাবের পানির উপকারিতা :

  • ডাবের পানি তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে প্রশান্তি দেয়। শরীরে পানির অভাব পূরণ করতে ও খনিজ পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • আমাদের দেহে কিছু ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল থাকে, যা বিভিন্ন কোষকে ধ্বংস করে। ডাবের পানিতে যে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, তা এই কোষ ধ্বংসকে প্রতিরোধ করে।
  • গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়, যা ইনসুলিনেরর কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা ডাবের পানি খেতে পারবেন।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানি কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • ডাবের পানি কোলেস্টরেলের মাত্রা কমাতে বিশেষ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
  • ডাবের পানিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ কমাতে ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ডাবের পানি খেতে পারবেন।
  • ডাবের পানিতে অ্যান্টি-থ্রমবোটিক কার্যকারিতা থাকায় এটি রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।
  • ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে, যা পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা, যেমন ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে।
  • অন্যান্য ফলের রসের তুলনায় ডাবের পানিতে কম ক্যালরি ও কম সুগার থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য যাঁরা ডায়েট করছেন, তাঁরা ডাবের পানি খেতে পারবেন।
    • ডাবের পানি হজমশক্তি বাড়ায়। ফলে এটি মেদ কমাতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমানোর জন্য ডাবের পানি একটি উপকারী পানীয়।
    • ডাবের পানিতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    • ডাবের পানিতে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা থাকায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
    • ডাবের পানিতে অ্যান্টি-এজিং প্রপার্টিস থাকে। ফলে ত্বকের দাগ ও বলিরেখা দূর করে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

    সতর্কতা:

    কিডনি রোগী এবং যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি, তাঁরা সপ্তাহে তিন দিন এক গ্লাস করে ডাবের পানি খেতে পারেন। তবে যেদিন ডাবের পানি খাওয়া হবে, সেদিন পটাশিয়াম আছে, এমন অন্য ফল কম পরিমাণে খাওয়া ভালো।

    এই গরমে একজন সুস্থ ব্যক্তি নিয়মিত এক গ্লাস ডাবের পানি পান করতে পারেন, যা তাঁকে সুস্থ ও সতেজ থাকতে সাহায্য করবে।

এই সময়ে ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ?

এই সময়ে ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ?

বিশ্বব্যাপী লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতার বালাই নেই। সংক্রমণ কমানোর জন্য সরকার ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে।

এরমধ্যে ভ্রমণ করা কতটুকু নিরাপদ, সে বিষয় আজ আপনাদের জানাবো-

পর্যটকদের কি করতে হবে?

হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে দর্শনার্থীদের ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। এর আগে মনে করা হচ্ছিল, করোনা ভ্যাক্সিনেই কাটবে এই মহামারি। চলতি বছরের ৫ মার্চ সিনেট ডট কমের খবরে উল্লেখ করা হয়, পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই এই মুহূর্তে ভ্রমণ করা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু সংক্রমণের গতি বেড়ে গেলে ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। এতে দর্শনীয় স্থানগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আবার খুলে দেওয়া হতে থাকে সেসব দর্শনীয় স্থান। কিন্তু গত মার্চের পর থেকে দেশে করোনা সংক্রামণ হু হু করে বাড়ছে। তাই মহামারি শেষ না হওয়া অবধি পর্যটকদের অপেক্ষা করাই উচিত।

মহামারির সময়ে ভ্রমণের ঝুঁকি

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় এ মুহূর্তে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ এমন পরিস্থিতিতে কোথাও ঘুরতে বের হলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ঘুরার পরিকল্পনা মহামারি শেষ হওয়ার পর করলে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ঘরবন্দী জীবনযাপনই শ্রেয়

এ মুহূর্তে ঘরবন্দী জীবনের বিকল্প কিছু নেই। এসময় ঘরে বসে পরিবারকে সময় দেওয়া যেতে পারে। ফোনে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারেন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলুন। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে ঘরের কাজ করুন। সময় কাটাতে পারেন বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। প্রয়োজনীয় কাজে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক পরুন ও নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

ভারতের প্রথম ইগলু ক্যাফে

ভারতে এই প্রথম এবং এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ ইগলু ক্যাফে তৈরি হলো কাশ্মীরে। এমনিতেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু ভূস্বর্গ কাশ্মীর। শীত থেকে গ্রীষ্ম সব সময়তেই পর্যটকদের হাতছানি দেয় জায়গাটি। সেই গুলমার্গকে পর্যটকদের কাছে দিগুণ আসক্তি করতে ভারতে এই প্রথম তৈরি হয়েছে একটি ইগলু ক্যাফে। যেখানে বরফের বাড়ির ভিতরে বসে আপনি ধোঁয়া ওঠা গরম চা বা কফিতে চুমুক দিতে পারবেন।

ইগলু বাড়ি, ক্যাফে সাধারণত শীতপ্রধান দেশে যেমন ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, কানাডাতে দেখা যায়। ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এসব যেন কল্পনাতীত। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ওখানকার এক বিখ্যাত হোটেলের মালিক ওয়াসিম শাহ।

কাশ্মীরের বারমুলা জেলার গুলমার্গে বহু সিনেমার শ্যুটিং হয়‌। শীতের সময় পর্যটকরা এখানে বেড়াতে গিয়ে স্কি খেলাতে মজেন। এই ক্যাফের মালিকের ধারণা, এবারে তার পাশাপাশি এই ইগলু ক্যাফেতে বসে চা, কফি খেয়ে, আরও মজা পাবেন পর্যটকরা। ক্যাফের মধ্যে থাকবে বরফের তৈরি চেয়ার, টেবিল। ভাবছেন বরফের তৈরি চেয়ারে কীভাবে বসবেন! তার জন্যেও আলাদা ব্যবস্থা থাকছে এখানে। ভেড়ার চামড়া, কিংবা মোটা কম্বল পেতে এমন চেয়ারে বসলে, কোনও অসুবিধাই হবে না বলে জানিয়েছেন ওয়াসিম শাহ।

ক্যাফের মালিক জানিয়েছেন, এমন ক্যাফে তৈরি করার শখ তাঁর বহুদিনের। হঠাৎই বহুদিনের পরিকল্পনা মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এই শীতেই বাস্তবায়িত করেছেন তিনি। তবে গরমে এই ক্যাফে কিন্তু থাকবে না। শুধু শীতকালে বেড়াতে এলেই এই ক্যাফের দেখা পাবেন পর্যটকরা। ভিতরে ১৬ জনের বসার ব্যবস্থাও রেখেছেন। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে এই ইগলু ক্যাফের ছবি। বলাই বাহুল্য, পরের শীতে এখানে বসে চা, কফি খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন লক্ষ লক্ষ ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

করোনায় পর্যটন খাতে বেহাল দশা

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিপর্যস্ত দেশের পর্যটন খাত। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে এ খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। আর টানা কয়েক মাসে এ খাতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকার হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। খাতটি কবে নাগাদ চাঙ্গা বা স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত।

পর্যটন খাত নিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘আমরা টোয়াবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মচারীকে ছাঁটাই করিনি। তবে কোনো কাজও আমরা করতে পারছি না। কোনো ভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।’

পর্যটন খাতের সঙ্গে ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-মোটেল ছাড়াও পর্যটন স্থানকেন্দ্রিক নানা ব্যবসা জড়িত। আর এ মানুষদের সামনে এখন ঘোর অমানিশা। স্থানীয় ১ কোটি পর্যটক ছাড়াও বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক ঘুরতে আসেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বর্তমানে দেশের পর্যটন স্পটগুলোয় নেই পর্যটকের আনাগোনা। মার্চে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে পর্যটন কেন্দ্রগুলো একরকম বন্ধ রয়েছে।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে সার্বিক পর্যটন শিল্পে ৯ হাজার ৭০৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ৫০০ জন চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ হিসাব করোনা সংক্রমণের আগে থেকে হওয়ায় টোয়াবের পরিমাণের থেকে কিছুটা বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পর্যটননগর সিলেটে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০ হাজার মানুষ করোনার জন্য বর্তমানে বেকার জীবন যাপন করছেন।

সেখানে অবস্থিত ১০০-এরও বেশি হোটেল, মোটেল এখন পর্যটনশূন্য। সিলেট ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ‘করোনা সংক্রমণে পর্যটক না থাকায় গত কয়েক মাসে আমাদের প্রায় ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলকে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত প্রান্তিক মানুষগুলোকে তৎক্ষণাৎ সহযোগিতা প্রদানের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা তাদের দেওয়া হয়নি।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সভাপতি ইলিশ পার্কের উদ্যোক্তা রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, মার্চের পর থেকে সেখানকার ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের লোকসান হচ্ছে অর্ধ কোটি টাকা আর তিন মাসে অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলগুলোয় অন্তত ২ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক আরও খরচ আছে কয়েক লাখ টাকা।

ভালো নেই দেশের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট কক্সবাজারের হোটেল মালিক ও কর্মচারীরাও। করোনা সংক্রমণের পর কক্সবাজারে পর্যটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানান কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার বলেন, পর্যটনের সঙ্গে জড়িত এ মানুষগুলোর পক্ষে অন্য কোনো পেশায় যাওয়া সম্ভব নয়।

পর্যটক না আসায় অনেক হোটেলের অব্যবহৃত দামি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হতে শুরু করেছে। আবার একটি টু স্টার মানের হোটেলে গড়ে প্রতিদিন কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩ লাখ আর পাঁচ তারকা মানের হোটেলের খরচ ১০ লাখ টাকা। কিন্তু পর্যটক না থাকলে এ খরচ হোটেলগুলোর পক্ষে দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের উদ্যোগে শিগগির যদি হোটেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এ বিপদে তাদের বাঁচানো যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা হোটেল-মোটেলের সব মালিকের কাছে সংকটের এই সময়ে কর্মী ছাঁটাই না করার জন্য অনুরোধ করেছি। সরকার সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে। এই বিপদের সময় পর্যটন খাত কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে তার জন্য চিন্তভাবনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আমরা করণীয় বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছি।


এর বাইরে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারী ট্যুর অপারেটরসহ আরও ২০০ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছেন, তাদের প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। লকডাউনের সময় বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। আর পর্যটন খাতের এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় প্রয়োজন দাবি করে এ খাতে

করোনাভাইরাস: লকডাউনের সময়ে মানসিক চাপ কিভাবে কমাবেন?

করোনাকালে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাবেন যেভাবে - Bangla Preneur

করোনাভাইরাসের কারণে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ।

সংক্রমণ কমাতে সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে।

তবে চার দেয়ালের ভেতর লম্বা সময় কাটিয়ে অনেকের মধ্যেই দুঃশ্চিন্তা বা হতাশা কাজ করছে।

এই মানসিক চাপ কাটিয়ে ভালো থাকতে কী কী করা যেতে পারে?

সাইকোথেরাপিস্ট মেহতাব খানমের সাথে কথা বলে জানাচ্ছেন অর্চি অতন্দ্রিলা।

করোনার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন সবাই। সেটাই স্বাভাবিক। এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মনের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ। আতঙ্ক, অহেতুক রাগ বা অবসাদের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। কিন্তু যেকোনো বিপদ মোকাবিলার সময় চাই ধৈর্য, দায়িত্বশীল আচরণ আর সাহস। কীভাবে এই সময় আপনার প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত, কেমন করে আপনি নিজের পরিবার-স্বজনদের নির্ভরতা দেবেন, সে সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন?

আস্থাভাজন ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন: এই আতঙ্কময় সময়ে কেবল আস্থাভাজন ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন। তাঁরা আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সহায়তা করবেন বিভিন্নভাবে।

গুজবে কান না দিয়ে পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন: বিভিন্ন মাধ্যমে এখন উড়ছে অতিপ্রচার, অপপ্রচার এবং বিভিন্ন গুজব। গুজবে কান দেবেন না। পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটান। সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করুন, রুটিন বিষয়গুলো, যেমন ঘুম, ঠিক সময়ে খাবার, বাড়িতে হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি বন্ধ করবেন না। সুষম আর নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সময়মতো ঘুমান, হালকা ব্যায়াম করুন এবং অবশ্যই নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ধূমপান, মদ্য পান বা নেশা এড়িয়ে চলুন।

শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও সবার খোঁজ রাখুন: প্রায় আবদ্ধ শহরে বিচ্ছিন্নতার জন্য অসহায় লাগতে পারে। তাই বন্ধু আর স্বজনদের সঙ্গে ই-মেইল, টেলিফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে যোগাযোগ রাখুন। পরস্পরের খোঁজ রাখুন। করোনায় সংক্রান্ত কোনো সাহায্য প্রয়োজন হলে কীভাবে, কার কাছ থেকে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য সাহায্য গ্রহণ করবেন, তার একটি আগাম পরিকল্পনা তৈরি করে রাখুন।

বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন: কেবল বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া সঠিক তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন। করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্যকারী এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত তথ্যসমূহ নিজে জানুন আর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখুন। তথ্যের জন্য কেবল নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞানসম্মত উৎস, যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় বা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সরকার থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞের ওপর আস্থা রাখুন।

সব সময় করোনা ভাইরাস নিয়েই পড়ে থাকবেন না: দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আপনি নিজে বা পরিবারের সদস্যরা প্রচারমাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনা সংক্রমণ আর এর পরিণতি নিয়ে তথ্য, সংবাদ ও ভিডিও দেখবেন না। এতে নিজের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হবে। করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য জানার পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠানও উপভোগ করুন।

আস্থা রাখুন নিজের ওপর: নিজের ওপর আস্থা রাখুন। অতীতে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার দক্ষতা আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। আত্মপ্রত্যয়ী থাকুন; এতে আপনার মানসিক চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে।

শিশুদের প্রস্তুত করুন, অভিজ্ঞ করুন, সঠিক তথ্য দিন: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ইস্যুতে বড়দের মতো শিশুরাও মানসিক চাপে ভুগতে পারে। এ সময় তারা মা-বাবাকে একটু বেশি আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, উৎকণ্ঠিত হয়, নিজেকে গুটিয়ে রাখে, অস্থির হয়, রাগ করে কেউবা হঠাৎ করে বিছানায় প্রস্রাব করা শুরু করে। মানসিক চাপজনিত এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন, একটু বেশি সময় দিন। শিশুটিকে নিজের মতো করে ঘরোয়া খেলা খেলতে দিন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সকল পর্যায়ে শিশুকে তার মা-বাবা ও পরিবারের সঙ্গেই রাখুন এবং তাদের আলাদা করা থেকে বিরত রাখুন। হাসপাতালে ভর্তি, কোয়ারেন্টিন বা যেকোনো কারণে যদি আলাদা করতেই হয়, তবে টেলিফোন বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে যোগাযোগ রক্ষা করুন এবং শিশুদের নিয়মিত অভয় দিন।

চারপাশে যা হচ্ছে সে বিষয়ে শিশুকে তার বয়স উপযোগী করে প্রকৃত সত্য তথ্য প্রদান করুন এবং কীভাবে সে নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পারবে, সেটা বুঝিয়ে বলুন। সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার স্বাস্থ্যবিধিগুলো শিশুকেও শেখান। শিশু বা তার পরিবারের কেউ অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা শিশুর সঙ্গে আলোচনা করে রাখুন, সেই সঙ্গে জানান যে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সবার সুস্থতা আর নিরাপত্তার জন্য চিকিৎসকই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

লক ডাউন এর কবলে পুরো বাংলাদেশে

Lock down 2.0 : Central Home ministry issues guidelines – Barak Bulletin

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে লকডাউনে কী করতে পারবেন, কী পারবেন না: 

পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আপাতত সাত দিন লকডাউন দিচ্ছি। আশা করছি, এই সাত দিন মানুষকে ঘরের মধ্যে রাখতে পারলে সংক্রমণ রোধ করতে পারব। না হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে যাবে। মানুষের নানা বিষয় আছে, সেগুলো সাত দিন লকডাউনের শেষের দিকে বিবেচনা করব, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব। আপাতত সাত দিন থাকবে।’

সরকার বলছে, শনিবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে লকডাউনের বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে।

যা খোলা থাকবে

বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, লকডাউনে জরুরি সেবা দেয়- এমন প্রতিষ্ঠানগুলোই শুধু খোলা থাকবে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল ও ক্লিনিক, দমকল বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মতো সেবা প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার ইত্যাদি।

এর বাইরে শিল্পকারখানা খোলা থাকবে। তবে শিফট অনুযায়ী সেখানে শ্রমিকরা কাজ করবে।

২০২০ সালে যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন সীমিত আকারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল। এবারও সীমিতভাবে ব্যাংক খোলা রাখার আভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে সেই সময় টানা ৬৬ দিন বাংলাদেশের শেয়ারবাজার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কিন্তু এইবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, লকডাউনে ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন চলবে।

এর আগে গত ২৯শে মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব অফিস ও কারখানায় অর্ধেক জনবল, উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন, জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮টি নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

কী করা যাবে আর কী করা যাবে না?

সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউনের সময় জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না।

বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে কোনরকম জনসমাগম করা নিষেধ।

মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত, গণপরিবহনে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

সবসময় মাস্ক পরা ছাড়াও যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া রাত ১০টার পরে বাইরে চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত করতে হবে।

সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে।