ডিএসইর লা মেরিডিয়ান কাণ্ড

মেরিডিয়ান হোটেলকে সরকারি কোম্পানির তকমা দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পাশ কাঠিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লা মেরিডিয়ান কাণ্ডে জালিয়াতির আরেক ঘটনা

বেসরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিকে ‘সরকারি মালিকানার তকমা’ দিয়ে শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটের অভিনব এক আয়োজন সম্পন্ন করেছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। কাজটি করা হয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোনো অনুমোদন ছাড়া।

পর্যটন খাতের যে কোম্পানিকে ডিএসইতে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে পর্ষদের অনুমোদনের জন্য আলোচ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছিল সেটি হলো বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড। এ নামে সাধারণ মানুষের কাছে কোম্পানিটি অপরিচিত। কিন্তু রাজধানীর নিকুঞ্জে পাঁচ তারকা হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’ হয়তো সবাই চেনেন। সেই হোটেল এই বেস্ট হোল্ডিংসেরই মালিকানাধীন।

আইন করে শেয়ারবাজারে বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু সেই আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে বেসরকারি লা মেরিডিয়ান হোটেলকে সরকারি মালিকানার কোম্পানি বানিয়ে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিএসইর প্রভাবশালী এক সদস্য। যিনি ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে দুবারের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য অভিযুক্ত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বেসরকারি একটি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এ চেষ্টার কথা জানতে পেরে ছুটির দিনে ত্বরিত হস্তক্ষেপ করে বিএসইসি। বিজয় দিবসের ছুটির মধ্যেই জরুরি নির্দেশনা দিয়ে ডিএসইর পর্ষদ সভায় কোম্পানিটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসইর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়।

জানতে চাইলে ডিএসইর সভাপতি ইউনুসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোম্পানিটির সরাসরি তালিকাভুক্তির আবেদন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে এসেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্ষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তা পর্ষদ সভার আলোচ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

কেন সরকারি কোম্পানির তকমা

শেয়ারবাজারে আসার আগেই কোম্পানিটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। ব্যাংকগুলো প্রাইভেট প্লেসমেন্টে প্রতিটি শেয়ার ৬৫ টাকায় কেনে। একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর চাপেই মূলত রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে প্লেসমেন্টে চড়া দামে শেয়ার কিনতে বাধ্য করা হয়। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের কেনা শেয়ারের ‘মালিকানার’ অংশের কারণেই কোম্পানিটিকে সরকারি কোম্পানির তকমা দিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অর্থমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠিকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিএসইসির চেয়ারম্যানকে লেখা ওই চিঠিতে যদিও কোনো নির্দেশনা ছিল না।

বিএসইসির আইনে বেসরকারি খাতের কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ রাখা হলেও সরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ নেই। এ কারণে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের শেয়ারের মালিকানার অংশকে ‘সরকারি মালিকানা’ দাবি করা হয়, যাতে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করা যায়।

জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসার পর কমিশনের পক্ষ থেকে আইনানুগ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, সেটিই করা হয়েছে। এর বেশি তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লা মেরিডিয়ান হোটেল শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে চায়। প্রতিটি শেয়ার ৬৫ টাকা দামে বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে। এ দামেই চার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে যেসব শেয়ার বিক্রি করা হয় সেই শেয়ার বিক্রির টাকা কোম্পানির হিসাবে জমা হয় না। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা সরাসরি জমা হয় উদ্যোক্তাদের পকেটে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, বর্তমানে লা মেরিডিয়ান হোটেলের শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন একটি ব্যাংক তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিল। ওই শেয়ার বিক্রি থেকে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা জমা হবে ব্যাংকটির হিসাবে। কোম্পানি হিসেবে লা মেরিডিয়ান হোটেলের এতে লাভবান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে বেসরকারি কোম্পানিকে সরকারি কোম্পানির তকমা দিয়ে ডিএসইর পর্ষদ সভার অনুমোদনের জন্য আলোচ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছে গতকাল বুধবার, সরকারি ছুটির দিনে। ডিএসইর প্রভাবশালী ওই সদস্যের পরিকল্পনায় এদিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে ত্বরিত কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে। আবার আগেভাগে বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয়, সে জন্য নিয়মিত আলোচ্যসূচির বাইরে ‘অতিরিক্ত আলোচ্য’ বিষয় হিসেবে এটিকে নথিভুক্ত করে ডিএসইর পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পর্ষদ সভার আলোচ্যসূচি দুই দিন আগে চূড়ান্ত করে প্রত্যেক পরিচালকের কাছে পাঠাতে হয়। যাতে পরিচালকেরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন। ডিএসইর আজ বৃহস্পতিবারের পর্ষদ সভার জন্য দুই দিন আগে পরিচালকদের কাছে যে আলোচ্যসূচি পাঠানো হয়েছিল, সেখানে বেস্ট হোল্ডিংসের তালিকাভুক্তির বিষয়টি ছিল না। গতকাল অতিরিক্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালকদের কাছে মেইল পাঠান ডিএসইর কোম্পানি সচিব আসাদুর রহমান। ডিএসইর এ কোম্পানি সচিব আবার সংস্থাটির প্রভাবশালী ওই পরিচালকের ক্রীড়নক হিসেবেই কাজ করেছেন।

জানা গেছে, কোম্পানিটিতে ব্যাংকের লগ্নি করা অর্থ ও প্রাইভেট প্লেসমেন্টে শেয়ার কেনা কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরিয়ে দিতেই এটিকে যেকোনো উপায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। এ যাত্রায় বিএসইসির হস্তক্ষেপে আপাতত উদ্যোগটি ভেস্তে গেলেও এটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। আর কোম্পানিটিতে বিপুল মূলধন বিনিয়োগে বাধ্য হওয়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তাদের এ অর্থ কীভাবে ফেরত পাবে, আদৌ ফেরত পাবে কি না, সেটি নিয়েও আছে সংশয়।

সারা বিশ্বের জন্য থাইল্যান্ডের স্পেশাল ট্যুরিস্ট ভিসা উন্মুক্ত

বিশ্বের সব দেশের জন্য স্পেশাল ট্যুরিস্ট ভিসা (এসটিভি) উন্মুক্ত করে দিয়েছে থাইল্যান্ড। এর ফলে নিজের দেশের করোনা পরিস্থিতি যা-ই থাকুক না কেন, সেই দেশের নাগরিক এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রায় দুই মাস সময়ে সেখানে ২৯টি দেশ থেকে মাত্র ৮২৯ জন ব্যক্তি এই ভিসার সুযোগ নিয়েছেন। মাত্র ৬টি প্রমোদতরী ভাড়া নিয়েছেন তারা। এর পর এ সুবিধাকে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে  দেশটি। ব্যাংকক পোস্টকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অনলাইন মাদারশিপ। তবে একই খবরে বলা হয়েছে থাইল্যান্ডের অন্য পত্রিকা নেশন থাইল্যান্ড আরও খবর দিয়েছে যে, সংশোধিত এসটিভি কর্মসূচির আওতায় যেসব পর্যটক থাইল্যান্ডে যাবেন, তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। থাইল্যান্ডে কোথায় অবস্থান করবেন এ বিষয়ে অবশ্যই প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

উল্লেখ্য, এসটিভি স্কিম প্রথম চালু করা হয় এ বছর ৩০ শে সেপ্টেম্বরে। প্রথম দিকে যেসব দেশ করোনা ভাইরাসের কম ঝুঁকিতে, তাদেরকে এ সুবিধা দেয়া হয়। এ কারণে দেশটিতে কম সংখ্যক মানুষ ভিসা নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স রিপোর্ট করেছে যে, বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার ফলে অক্টোবরে থাইল্যান্ড সফর করেছেন মোট ১২০১ জন বিদেশি নাগরিক। অথচ গত বছর একই মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৭০ হাজার। ফলে ভয়াবহভাবে পর্যটকের সংখ্যায় পতন দেখা দিয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের জন্যও নিয়ম পরিবর্তন
একইভাবে সিঙ্গাপুরের জনগণের জন্য একই ধরনের ভিসার (এসটিভি) ক্ষেত্রে নীতি পরিবর্তন করেছে থাইল্যান্ড। এর আগে অন্য সব চাহিদার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের কোনো ব্যক্তির ভিসা আবেদনের তারিখ থেকে পূর্ববর্তী ৬ মাস ধরে ব্যাংক একাউন্টে কমপক্ষে ২২,২০০ সিঙ্গাপুরি ডলার বা কমপক্ষে ৫ লাখ বাথ জমা থাকতে হতো। এই শর্ত এখন পরিবর্তন করা হয়েছে। রাজকীয় থাই দূতাবাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই শর্ত এখন শুধু স্বামী-স্ত্রীর আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের কমপক্ষে ৯০ দিন থাইল্যান্ডে থাকতে হবে এমন শর্তও দেয়া হতো আগে। এখন এই নীতিও পরিবর্তন করে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত থাকলেই চলবে। তা সত্ত্বেও প্রতি ১৫ দিন পর পর থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিসা রিভিউ করবে। তবে আবেদনকারীকে যেকোনো রকম চাকরির ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অবশ্যই তার সব রকম চিকিৎসার খরচ বিষয়ক স্বাস্থ্যবীমার দু’টি কপি জমা দিতে হবে। এই স্বাস্থ্যবীমার অধীনে থাকবে কোভিড-১৯ও। এ জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানকালীন খরচের পরিমাণ থাকতে হবে কমপক্ষে এক লাখ ডলার। অন্যদিকে ভিসার চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ সিঙ্গাপুরি ডলার।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সহযোগিতার আশ্বাস – পর্যটন শিল্পে

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কর্মী নিয়োগ শুরু করবে মালয়েশিয়া
বর্তমান পরিস্থিতিতে ও আগামীতে পর্যটকদের সুরক্ষায় যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগ, মূল্যছাড় ও ভিসা ফি রেয়াতের প্রস্তাব উঠে এসেছে দুই দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের আলোচনায়।
বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্পে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এর অংশ হিসেবে বুধবার (১২ আগস্ট) অনলাইনে এক সভায় এসব নিয়ে কথা বলেন তারা।
সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস ফোরামের (বোটফ) আহ্বায়ক চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি।  তিনি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডকে যৌথ প্রচারণার পরামর্শ দেন।
করোনা-পরবর্তী মালয়েশিয়ার পর্যটন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার জ্যেষ্ঠ পরিচালক (আন্তর্জাতিক প্রচারণা, এশিয়া ও আফ্রিকা) মনোহরণ পেরিয়াসামি।
এ সময় ছিল ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে করপোরেট গ্রুপ ট্যুর পরিচালনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের নামের তালিকাসহ ট্যুরিজম মালয়েশিয়াকে অবহিত করলে ইমিগ্রেশনের বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার জ্যেষ্ঠ পরিচালক জানান, পুনরায় ই-ভিসা প্রদানের বিষয়টি বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের কাছে প্রক্রিয়াধীন আছে এবং মালয়েশিয়ান দূতাবাস থেকে পরবর্তী সময়ে তা প্রকাশ করা হবে।
বোটফের পরামর্শক ও পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক রহমান মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘এক্সটেন্ডেড ডেস্টিনেশন ট্যুর প্রোগ্রাম’ চালুর প্রস্তাব দেন।
সভায় আরও ছিলেন সভায় ছিলেন বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ, বোটফের সহ-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাফি, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ইফতেখার আলম ভূঁইঞা, বোটফের পরামর্শক জহিরুল আলাম ভূঁইঞা রোমান, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার কমিটির কো-কনভেনার আখতারুজ্জামান, বোটফের পাবলিক রিলেশন কমিটির সদস্য আরিফুল হক। এছাড়া মালয়েশিয়ান এয়ারওয়েজ, এয়ার এশিয়া, মালিন্দ এয়ার ও বোটফের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বোটফের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার কমিটির কনভেনর তাসলিম আমিন শোভন। সবশেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বোটফের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বোরহান উদ্দিন।

ভারতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে গোয়া সমুদ্র সৈকত

Best Beaches in Goa - Goa's Best Sea Beaches You Can't Avoid
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় চারমাস বন্ধ থাকার পর ভারতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে গোয়া সমুদ্র সৈকত।
শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে এ সমুদ্র সৈকতটি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) এ ঘোষণাটি দেন রাজ্যটির পর্যটনমন্ত্রী মনোহর অজগাঁওকর। এ উপলক্ষে ২৫০টির বেশি হোটেল খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “২৫০টি হোটেলকে কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ সৈকত শহরে এসে পর্যটকদের থাকতে কোনো সমস্যা হবে না।”
তবে কোনোভাবেই যেন সংক্রমণ না ছড়ায়, সে দিকেও কঠিন নজরদারি করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন বলেও জানান তিনি।
তবে এক্ষেত্রে আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখতে হবে। সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও হোটেল খোলা যাবে না ।  এছাড়া পর্যটকদের অবশ্যই করোনাভাইরাস নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। তবে গোয়ায় পৌঁছনোর পরেএ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে  নিজরাজ্যে ফিরে যেতে বলা হবে বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রায় ১,৪৮২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

হজমে সহায়ক পেঁপে

পেঁপের গুণের শেষ নেই। কাঁচা-পাকা দুইভাবেই এটি খাওয়া যায়। শরীরের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ৩৯ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এ,বি,সি,ডি পাওয়া যায়।

শত শত বছর ধরে বিভিন্ন রোগ সারাতে পেঁপে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত পেঁপে খেলে আরও যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. হজমের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। এই ফল খেলে শরীর সতেজ হয় ও জীবনী শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্তি অ্যাসিড দূর করে। এ কারণে যারা গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালা সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পেঁপে খুব উপকারী।

২. পেঁপে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, পেঁপে গাছের মূল ও ফুল কিডনি রোগ, ব্রংকাইটিস ও জন্ডিস সারাতে ভূমিকা রাখে।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পেঁপের জুড়ি নেই। এতে প্রচুর ভিটামিন ই, সি ও ফলিক অ্যাসিড থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কাঁচা পেঁপে ও এর জুস হজমে সহায়তা করে।

৪. ব্রণ সারাতেও পেঁপে বেশ কার্যকর। বয়ঃসন্ধিকালে বা মুখে ময়লা জমার কারণে যে ব্রণ সৃষ্টি হয়, তা দূর করতে নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। এতে ত্বক জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে। এছাড়া পাকা পেঁপে মাস্ক হিসাবে মুখে ব্যবহার করলেও ব্রণ দূর হয়।

প্রতিদিনের শরীরচর্চা কতটা ফলপ্রসূ

শরীরচর্চা কি আমাদের শরীরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে? নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রবদ্ধ থেকে দেখা গিয়েছে দৈনন্দিন কাজ সঠিকভাবে করা যায় তাহলে প্রতিদিনের বাড়তি ক্যালরি ঝরে যায়। দেহের হরমোনগুলি নিজেদের কাজ করতে পারে। তবে সমীক্ষা থেকে এটাও দেখা গিয়েছে অতিরিক্ত ক্যালরি যদি দেহ থেকে ক্ষয় হয়, তবে তা হবে বিশেষ ক্ষতির নিদর্শন। সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে, দেহে যে পরিমান ক্ষয় হয় তা পূরণ করে দেয় আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য। দেহে খাদ্যের এই ভারসাম্যের ফলেই শরীর তার দৈনন্দিন কাজ করে। তবে সকল সময়েই যে এই পরিস্থিতি চলবে তা কিন্তু নয়। দেহে ক্ষয় এবং পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায় দেহে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

অনেক সময় দেখা গিয়েছে দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে অনেকেই নানা ধরনের শরীরচর্চা করে থাকেন।

দেহের পক্ষে এটা মারাত্বক হতে পারে। দেখা গেছে সারাদিনে যে পরিমান ক্যালরি খরচ হয় তা থেকে বেশি হয়ে গেলে দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে একটি সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন পুরুষ এবং মহিলা যারা অতিরিক্ত মেদধারী ছিলেন তারা প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ৩০০০ ক্যালরি ঝরানোর শরীরচর্চা করতেন। এরপর সমীক্ষার শেষ পর্যায়ে গিয়ে দেখা গেল তাদের মধ্যে কয়েকজন সুস্থ রয়েছন, এবং তাদের শরীরে মেদও অনেকটা কমেছে। তবে অন্য কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, এই কয়েকজনের শরীরে মেদ ঝরার পরিমান বেশি হয়েছিল।

ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আসলে একজন মানুষ রোজ যতটা ক্যালরি খরচ করতে পারেন তার থেকে যদি বেশি খরচ করেন তাহলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন একঘন্টা করে শরীরচর্চা ব্যক্তিকে সুস্থ রাখতে পারে। আবার অনেক মানুষ এমনও রয়েছেন যারা সারাদিনে কোনো শরীরচর্চা করেন না, অথচ তাদের দেহে ক্ষয় এবং পুষ্টির পরিমান স্বাভাবিক থাকে। তবে এটাও ফেলে দেওয়া যায় না যে, সপ্তাহে যদি ৩০০ মিনিট অন্তত শরীরচর্চা করা যায় তাহলে দেহ তার স্বাভাবিকতা বজায় রেখে চলতে পারে। সেদিক থেকে দেখতে হলে বহু মানুষ রোজ সকালে উঠে যোগসাধনা করেন বা সামান্য শরীরচর্চাও করেন। তাদের দেহ সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক থাকাটাই বাহুল্যে।

নতুন ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য দরজা খুললো ইতালির

ইতালিতে ফিরতে পারবেন নতুন ভিসা পাওয়া ভিন দেশের নাগরিকেরা। তবে এ তালিকায় শুধু পারিবারিক ভিসা প্রাপ্তরাই রয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশেগুলোর নাগরিকদের ইতালিতে ফিরতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির প্রশাসন। তবে দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে অক্টোবরে শুধু ইতালির বৈধ কাগজধারীদের প্রবেশের অনুমতি মিললেও পারিবারিক ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসাসহ সবধরনের ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

তবে চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকে নতুন নিয়মানুযায়ী ফ্যামিলি ভিসাধারীরাও ফিরতে পারবেন তার পরিবারের কাছে। তবে এ জন্য বাংলাদেশে অবস্থানরত ফ্যামিলি ভিসাধারীর পারিবারের সদসস্যের ইতালিতে ৯ জুলাইয়ের আগে থেকে রেসিডেন্স চলমান থাকতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণের পূর্বে ভিসাধারীর ভিসার কপি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইতালি ইমিগ্রেশনে পাঠাতে হবে।

তবে ইতোমধ্যে যাদের ফ্যামিলি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে তারা বর্তমানে দেশটিতে ফিরতে পারবেন না। তাদের বিষয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত ইতালি দূতাবাস থেকে শিগগিরই বার্তা দেওয়া হবে। এছাড়া অন্যান্য সব ক্যাটাগরির ভিসাধারীদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যাদের ফ্যামিলি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের বিনা শর্তে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইতালি দূতাবাস বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্র সৈকতে হদিশ মিলল নীল ড্রাগনের!

সত্যি হল পৌরাণিক কাহিনী! এতদিন বিভিন্ন রূপকথা বা সায়েন্স ফিকশনে নীল ড্রাগনের কথা শোনা গেলেও কেউ কোনওদিন চাক্ষুষ দেখেনি তাকে। ফলে বই বা সেলুলয়েডের মধ্যেই বন্দি ছিল সে। কিন্তু, ২০২০ সালে ঘটনা যাওয়া অনেক অদ্ভুত ঘটনার মাঝে এবার দেখা গেল বহু আলোচিত সেই নীল ড্রাগন (Blue Dragon) কে। যার ছবি পোস্ট হওয়ার পরেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। যা দেখে নেটিজেনরা বলছেন, সমুদ্রের সবচেয়ে সুন্দর দেখতে খুনি।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও একাই দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের কাছে অবস্থিত ফিশ হোক বিচে ঘুরতে বেড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া ওয়েজেন। সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে আচমকা বালির উপর নীল রঙের কিছু অদ্ভুতদর্শন ছোট ছোট প্রাণীকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। অন্যদিন স্টারফিশ-সহ বিভিন্ন ছোট ছোট প্রাণীকে সৈকতে পড়ে থাকতে দেখলে ফের সমুদ্রের জলে ছেড়ে দিতেন। কিন্তু, অচেনা এই প্রাণীকে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে যান।

তবে একাধিক ছবি তুলতে ছাড়েননি ওই বৃদ্ধা। পরে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার পাশাপাশি ওই অদ্ভুতদর্শন সামুদ্রিক প্রাণীটিকে নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন তিনি। আর তখনই জানতে পারে ওই গ্ল্যাকাস আটলান্টিকাস বৈজ্ঞানিক নামের ওই অদ্ভুতদর্শন প্রাণীটিকে নীল ড্রাগন বলেই ডাকেন সমু্দ্র বিজ্ঞানীরা।

এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মারিয়া ওয়েজন জানান, আগে কোনওদিন এই ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী দেখেননি তিনি। তাই প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। পরে প্রায় ২০টি ওই ধরনের প্রাণীকে পড়ে থাকতে দেখে একাধিক ছবি ও একটি ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দেন। এবিষয়ে পড়াশোনাও শুরু করেন। আর তাতেই জানতে পারেন, সাইজে ছোট হলেও ওই সামুদ্রিক প্রাণীটি প্রচণ্ড বিষাক্ত। কোনওভাবে যদি তার শরীরে থাকা হুলগুলি মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণীর শরীরে ফুটে যায় তাহলে সারা শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়বে। মানুষের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটলে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হবে, ত্বকে অ্যালার্জি ও বমি হবে।

ভ্রমণ করুন নিয়ম মেনে

ছবি সংগৃহীত

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবনসহ দেশের প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্র। তবে ভ্রমণে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

কেবল সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে বলেই যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, তা নয়। নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এটি মানতে হবে। এ ছাড়া আপনি আক্রান্ত হলে শুধু আপনি নয়, আপনার পরিবার বা কাছের মানুষেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভ্রমণে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি তার অন্যতম হলো– শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আর পুরো ভ্রমণেই মাস্ক পরতে হবে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। না পরলে জরিমানাও গুনতে হবে।

এ ছাড়া হাত সবসময় জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য হাতের কাছে বা পকেটে সবসময় জীবাণুনাশক স্প্রে রাখুন।

বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমানে যে মাধ্যমেই ভ্রমণ করুন, নিজের আসনটি অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। হোটেলের বিছানাও জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। অথবা রুমটি জীবাণুমুক্ত কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেও সেটি কতটা জীবাণুমুক্ত তা জেনে নিন। সব চেয়ে ভালো হয় চলাফেরায় সবসময় সঙ্গে রাখুন জীবাণুনাশক স্প্রে।
যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলনু।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে– হোটেল, রেস্তোরাঁ ও জিমনেসিয়ামে কোভিড সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে স্টানফোর্ড ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

সেন্টমার্টিন

সম্প্রতি সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় ছয় ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। কারণ সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ অংশে এখনও কিছু সামুদ্রিক প্রবাল জীবিত আছে। এসব প্রবাল সংরক্ষণের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সেন্টমার্টিনের সৈকতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চালানো যাবে না। রাতে আলো বা আগুন জ্বালানো যাবে না।

সুন্দরবন

অন্যদিকে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলেছে সুন্দরবন। তবে এখন থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে মানতে হবে ৫টি শর্ত। শর্তগুলো হলো– কোনো ট্রলারে ২০ জনের বেশি পর্যটক বহন করা যাবে না। পর্যটকরা খাদ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য বহন করতে পারবেন না। প্রতিটি ট্রলারে স্যানিটাইজ ও বর্জ্য ফেলার ঝুড়ি রাখতে হবে। কোনো ট্রলারে মাইক বা সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আরও আছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৈকতপাড় কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদসহ নানা প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যের দর্শনীয় স্থান। এ ছাড়া এ দেশের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা।

যারা সমুদ্র দেখতে পছন্দ করেন, তাদের সবার আগে যাওয়া উচিত কক্সবাজার। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত। এর পাশেই আছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। অথবা যেতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেশ কুয়াকাটা। অন্যদিকে পাহাড় যাদের কাছে টানে, তারা যেতে পারেন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি। পাহাড়, অরণ্য আর আদিবাসীদের বর্ণিল সাজে সজ্জিত এ জনপদ।

এ ছাড়া হরিণের রাজ্য দেখতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, পাখির রাজ্য দেখতে সিলেটের হাওর ও ভোলা-নোয়াখালীর উপকূলের বিভিন্ন কাদাচর যেতে পারেন। আর চাইলে আপনি আপনার জেলাটাই ঘুরে দেখতে পারেন শীতের এ মৌসুমে। কারণ আমাদের প্রতিটি জেলারই রয়েছে নানারকম ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চারপাশে যেদিকেই চোখ বুলাবেন সেদিকেই দেখা মিলবে রূপসী বাংলার মায়াবী রূপ।

ঢাকার প্রথম মসজিদ

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে/এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে প্রাণের কিনারে।

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে/এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে প্রাণের কিনারে।

মসজিদের নগরী ঢাকা। মুসল্লিদের শহর এটি। এখানে আল্লাহু আকবারের মধুর ধ্বনি জাগরণের ঢেউ তোলে অযুত-কোটি প্রাণে। কবে, কোন জনমে, কোন সে মহাপুরুষ- যিনি এ শহরকে সর্বপ্রথম আজানের সুরে জাগিয়েছিলেন?

ইতিহাস এর সঠিক জবাব দিতে না পারলেও যে মসজিদের আজান ধ্বনি সর্বপ্রথম এ শহরের প্রাণ জুড়িয়ে ছিল অর্থাৎ ঢাকার প্রথম মসজিদের বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায় এভাবে- পুরান ঢাকার ৬ নম্বর নারিন্দা রোডের হায়াৎ বেপারির পুলের উত্তর দিকে অবস্থিত ‘বিনত বিবির মসজিদ’ ঢাকার প্রাচীন মসজিদ (মুনতাসীর মামুন রচিত ‘ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’)।

মসজিদটির গায়ে উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে বলা যায়, ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে তার কন্যা মুসম্মত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করেন।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বিনত বিবির মসজিদই ঢাকার সবচেয়ে পুরনো মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শন ও শহরের প্রথম মসজিদ। সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হলেও তিনি বা তার কন্যা এটি নির্মাণ করেননি।

বরং ওই সময় আরকান আলী নামক এক পারস্য সওদাগর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকার নারিন্দায় বসবাস শুরু করেন এবং তিনিই বিনত বিবির মসজিদটি নির্মাণ করেন।

ছয়-সাত কাঠা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা চার কোণবিশিষ্ট মসজিদটির আদি গঠনশৈলীতে একটি কেন্দ্রীয় গম্বুজ থাকলেও ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার সংস্কারকালে আরও একটি গম্বুজ যুক্ত করা হয়।

কালের আবর্তে মসজিদটি তার অসাধারণ রূপলাবণ্য হারালেও ঢাকার প্রথম মসজিদ হিসেবে বিনত বিবির মসজিদের আবেদন মোটেও কমেনি। তাই এখনও ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছাড়াও দেশ-বিদেশের সব রকমের পর্যটকরা একনজর মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন এখানে।

তবে সম্প্রতি হিজরি প্রথম শতাব্দীতে বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণ হয়েছে বলে যে গবেষণা-তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তার আলোকে চিন্তা করলে এ কথা দৃঢ়ভাবে বলা খুব কঠিন যে- এ মসজিদ নির্মাণের আগে ঢাকায় কোনো মসজিদ নির্মাণ হয়নি।