পিরামিডের রহস্য জানতে নিউটনের অভিনব চেষ্টা!

রহস্যের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে পিরামিড! | The Business Standard

মিসরের পিরামিডের গোপন কোড খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন খ্যাতনামা ব্রিটিশ গণিতবিদ স্যার আইজ্যাক নিউটন।

সম্প্রতি পাওয়া তার হাতে লেখা কিছু নথিপত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তার বিশ্বাস ছিল, মিসরের সুপ্রাচীন অবকাঠামোগুলোর মধ্যেই কোথাও পিরামিডের মতো রহস্যজনক বিশাল স্থাপনার চাবি লুকানো আছে।

ক্লাসিক্যাল পদার্থবিদ্যার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিজ্ঞানী নিউটন। গতিতত্ত্ব, মাধ্যাকর্ষণ নিয়েও তিনি কাজ করেছেন।

আলকেমি তথা রসায়ন ও ধর্মতত্ত্বের অস্পষ্ট বিষয় নিয়েও তার গোপন আগ্রহ ছিল, যা নিউটনের মৃত্যুর ২০০ বছর পর সবাই জানতে পারে।

তবে নিউটনের এতদিন অপ্রকাশিত কিছু নোটের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, তিনি বাইবেলের লুকানো অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।

এমনকি মিসরের পিরামিড নিয়েও আগ্রহ ছিল তার। তার লেখা তিন পৃষ্ঠার একটি এলোমেলো নোটে তার প্রমাণ মিলেছে।

নিউটনের বিশ্বাস ছিল পিরামিডের মধ্যে গভীর রহস্য লুকানো আছে। তবে নিউটনের হাতের লেখা সেই নোটের কিছু অংশ পুড়ে যায় তার পোষা কুকুর ডায়মন্ডের কারণে।

আংশিক পুড়ে যাওয়া ওই নথি বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৬৮০ দশক থেকেই পিরামিড নিয়ে নিউটন গবেষণা করতে শুরু করেন। তবে তার সেই গবেষণাকে সেসময় স্বীকৃতি দেয়নি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। তার চিন্তাভাবনা শুধু মিসর নয়, গোটা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছিল।

বিশ্বের বাজারে কিভাবে পিরামিড নিজেকে বহু বছর ধরে অক্ষত রাখবে তা-ও ছিল তার গবেষণায়। স্থাপত্য শিল্পে তার সেই চিন্তা আজও সমৃদ্ধ করেছে বিশ্বকে।

১৭ দশকে পিরামিড নিয়ে তার গবেষণা অন্যদের থেকে তাকে আলাদা করেছিল।

মিসরে মিলল ৩ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো কফিন

মিসরে মিলল ৩ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো কফিন

মিসরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি সমাধিক্ষেত্রসহ প্রাচীন অনেক সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন। কায়রোর দক্ষিণে সাকারা নেক্রোপলিসে মূল্যবান প্রাচীন নিদর্শনগুলোর আবিষ্কার করা হয়েছে।

এসব নিদর্শনের মধ্যে তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো অর্ধশতাধিক কফিন রয়েছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিসরের খ্যাতনামা প্রত্নতাত্ত্বিক জাহি হাওয়াসের নেতৃত্বে প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল ওই প্রাচীন সম্পদ আবিষ্কার করেছে।

মিসরের সরকার এ কাজকে ‘বিশাল আবিষ্কার’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।  রোববার দেশটির প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াস এ আবিষ্কারকে মিসরের ইতিহাসের ‘নতুন অধ্যায়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

কাঠের কফিনগুলো খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে ১৭০০ সালের হতে পারে। কফিনগুলো ৫২টি সমাধির ১০ থেকে ১২ মিটার (৪০ ফুট) গভীরে পাওয়া গেছে।

জাহি হাওয়াস বলেন, রাজা তেতির স্ত্রী নেয়ার্তের সমাধিসহ একটি মন্দিরের পাশাপাশি ইটের তৈরি তিনটি গুদামও পাওয়া গেছে এলাকাটিতে। এ ছাড়া প্রচুর যুদ্ধাস্ত্র, প্রায় পাঁচ মিটার লম্বা একটি প্যাপিরাস, মাস্ক, কাঠের নৌকা, প্রাচীন মিসরীয়দের খেলার যন্ত্রের সন্ধানও পাওয়া গেছে।

রোববার সাংবাদিকদের জন্য ওই প্রাচীন নিদর্শনগুলো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে দেয় মিসর সরকার। যদিও ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির খননকাজ এখনও চলছে।

কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার উদ্যোগ

কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার উদ্যোগ

কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহী করে তোলার জন্য দেশটির ফেডারেল সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

মাল্টিকালচারালিজমের দেশ কানাডা বরাবরই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে নমনীয়। কানাডার ইমিগ্রেশন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ অভিবাসীপ্রত্যাশী কানাডায় পাড়ি দেন।

এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

বর্তমানে কানাডায় যে ওয়ার্ক পারমিট কর্মসূচি চালু আছে তার আওতায় আন্তর্জাতিক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা শিক্ষা শেষে তিন বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান।

স্থায়ী নাগরিকত্বের পথ হিসেবে কর্মসূচিটিকে দেখা হয়। কানাডার অভিবাসন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর যে ৬১ হাজার শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের অর্ধেক এই পথ বেছে নিয়েছেন।

ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে এমন ৫২ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী নতুন নীতিমালার কারণে উপকৃত হবেন।

অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মার্কো মেন্ডিসিনো বলেন, যেসব সাবেক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে অথবা শেষ হওয়ার পথে রয়েছে, তারা নতুন করে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে পারবেন। ফলে চাকরি খুঁজে পেতে আরও ১৮ মাস তারা কানাডায় থাকার অনুমতি পাবেন।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে কানাডায় রেখে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কারণ শ্রমিক স্বল্পতা অভিবাসীদের দিয়েই পূরণ করে থাকে কানাডা।

কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে কানাডায় শিক্ষার্থীর আগমন অস্বাভাবিক কমে গেছে। এ স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নীতির কথা ঘোষণা করেছেন মেন্ডিসিনো।

তিনি বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের বার্তাটা পরিষ্কার। আপনারা শুধু এ দেশে পড়াশোনা করুন তা নয়, আমরা চাই আপনারা এ দেশে থেকেও যান।

নতুন ওয়ার্ক পারমিট কর্মসূচির আওতায় ২৭ জানুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

বে ওয়ান ক্রুজে প্রমোদ ভ্রমণ শুরু

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড বিলাসবহুল এই প্রমোদতরীটি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করছে।

সভায় জানানো হয়, জাপানের কোবে শহরের মিতশুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি করা প্রমোদতরীটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। আনুসঙ্গিক মেরামতের মাধ্যমে জাহাজটিকে নতুন করে বিলাসবহুল রূপ দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে সেটি সাগরে ভাসানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে পতেঙ্গা থেকে সেন্টমার্টিন রুটে পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজটি চালানো হয়েছে। ৪৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৫৫ ফুট প্রস্থের জাহাজটি উত্তাল সমুদ্র মোকাবেলার সক্ষমতা রয়েছে। ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম জাহাজটিতে আছে প্রেসিডেন্ট স্যুট, বাঙ্কার বেড কেবিন, টু ইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ নানা ধরনের আসন।

মতবিনিময়ে জানানো হয়, প্রমোদতরীতে একটি রেস্তোঁরা, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন এবং কয়েন পরিচালিত ঝর্ণাও আছে। যাত্রীদের সেবায় ১৬৭ জন ক্রু থাকবেন, এর মধ্যে ১৭ জন জাহাজ পরিচালনা করবেন।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রশিদ জানান, সপ্তাহে তিন দিন বে ওয়ান ক্রুজ পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। সর্বনিম্ন তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় এই প্রমোদতরীতে ভ্রমণ করা যাবে। এ প্যাকেজের আওতায় জাহাজে রাতযাপন, সমুদ্র বিনোদনের সুযোগ আছে।

সেন্টমার্টিন রুটে বিলাসবহুল বে ওয়ান জাহাজ - MV Bay One Cruise Ship - Cruise  Ship in Bangladesh . - YouTube

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালানো যাবে, এটা কেউ কোনো দিন ভাবেনি। আমরা খুব ভালো একটি জাহাজ জাপান থেকে এনেছি। এটা দুই হাজার যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব যেতে সক্ষম। ঝড়-তুফানেও জাহাজে কোনো সমস্যা হবে না। এর দুই পাশে দুটি পাখা আছে। তিন-চার পর্যন্ত বা এর বেশি সিগন্যাল থাকলেও এর কোনো সমস্যা হবে না।”

জাহাজটি মূল সেন্টমার্টিন দ্বীপে নোঙর করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বীপের অদূরে নোঙর করার পর সেখানে অপেক্ষমাণ ছোট জাহাজে করে যাত্রীদের মূল দ্বীপে নেওয়া হবে।

আপাতত ভাড়ায় আনা প্রমোদতরীটি আমদানির প্রক্রিয়ায় আছে উল্লেখ করে এম এ রশিদ বলেন, “জাহাজটির প্রতিদিনের খরচ ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। প্রত্যাশা অনুযায়ী যাত্রী পেলে আমরা এটা নিয়মিত করতে পারব।”

পর্যটন মৌসুম শেষে জাহাজটি অলস বসে থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব কলকাতা, আন্দামান রুটে চালানোর জন্য। এজন্য সরকারের কাছে অনুমতি চাইব। হজের যাত্রী পরিবহনের যদি অনুমতি সরকার দেয়, তাহলে আমরা এর সঙ্গে আরও ৩-৪টা জাহাজ নিয়ে আসব।”

জাপান থেকে আনা জাহাজটি ২৮ বছরের পুরনো। বিদ্যমান আইনে ২৫ বছরের পুরনো জাহাজ সাগরে ভাসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ রশিদ বলেন, “এই আইন শুধু আমাদের দেশে আছে। বিদেশে প্যাসেঞ্জার জাহাজ ৫৫-৬০ বছরের পুরনো হলেও চলে। কার্গো জাহাজ ২৫ বছরের পুরনো হলে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু প্যাসেঞ্জার জাহাজে সমস্যা হয় না।

“আমাদের দেশে কার্গো এবং প্যাসেঞ্জার দুটোকে এক করে আইন তৈরি করেছে। আমরা এই আইন পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছি।”

মূলত জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স।

এম এ রশিদ বলেন, “কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। দুর্ঘটনা কবলিত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সৌরভ’ মেরামত করার জন্য ২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। সেটা মেরামত করে সরকারকে ফেরত দিয়েছি। অথচ কেউ বলেনি, সেটা আবার সাগরে ভাসবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে পাঁচটি টাগবোট নির্মাণ করে দিয়েছি।

“এ পর্যন্ত আমরা ১২০০ জাহাজ নির্মাণ করেছি। প্রায় ৮০০ জাহাজ মেরামত করেছি। বে ওয়ান ক্রুজও আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ।”

কক্সবাজার যাওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিমানে আসা যাত্রীরা চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ না করে সরাসরি জাহাজের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন এবং একইভাবে চট্টগ্রামে এসে আবারও বিমানে ফিরে যেতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

বিলাসবহুল প্রমোদতরীটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখলেই আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জাপান

করোনাভাইরাস হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জাপানের রাজধানী টোকিও ও এর আশাপাশের তিনটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) থেকে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টোকিও, চিবা, সাইতামা ও কানাগাওয়া অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি থাকবে।

দেশটিতে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত ও সংক্রমণের উচ্চ হার বিরাজ করায় প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে সিএনএন জানিয়েছে। গত বসন্তে জাপানে প্রথম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়, যা এক মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়।

তবে জরুরি অবস্থার মধ্যেও স্কুল খোলা থাকবে বলে জানান তিনি। সুগা বলেন, ‘স্কুল থেকে সীমিত পরিসরে করোনা ছড়িয়েছে। শিশুরা ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্বে দেবে, আমরা তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই।’

জরুরি অবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সুগা ৭০ শতাংশ উপস্থিতি কমিয়ে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজে উৎসাহী করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সংক্রমিত এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের বিনা প্রয়োজনে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন তিনি।

রেস্তোরাঁগুলো রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া খেলাধুলায় দর্শক উপস্থিতি সীমিত করতে বলেছেন সুগা।

এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘যেসব রেস্তোরাঁ তাদের খোলা রাখার সময় সীমিত করবে তাদের প্রতি মাসে এক দশমিক ৮ মিলিয়ন ইয়েন বা এক হাজার ৪০০ ডলার করে দেবে সরকার।’

বাতিল হতে পারে সৌদিগামীদের ৪০ হাজার ভিসা

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরবে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির জেনারেল অথরিটি ফর সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ)।
আপাতত এক সপ্তাহের জন্য দেশটিতে বিমান চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও এই সময়সীমা আরো বাড়ানো হতে পারে।
ফলে সোমবার থেকে জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আবার ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
আর এতে আটকে গেছেন লাখো প্রবাসী কর্মী।
দেশটির কারাগারে আটকে থাকা বাংলাদেশি কর্মীসহ দেশে ফিরতে চাওয়া কর্মীরা আটকে গেছেন। চরম সংকটে পড়েছেন দেশে এসে আটকে পড়ারা।
এ ছাড়া নতুন করে যাঁরা দেশটিতে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, এখন তাঁদের বিদেশযাত্রা চরম অনিশ্চয়তায় পড়ল।
সৌদির নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার নতুন ভিসা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন হাঁটবেন শিশির ভেজা ঘাসে?

সিনেমায় বৃষ্টিতে ভেজা গানের যেমন একটা আমেজ আছে, ভোরবেলা শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটার আমেজ জীবনে তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ছোট বেলা কিংবা বড় বেলা, প্রেম করে হোক আর না করেই হোক, কবিতা পড়েই হোক আর না পড়েই হোক শিশির ভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটা এক অপার্থিব আনন্দের ব্যাপার।

এই আনন্দ আরও বেড়ে যায় যখন আমাদের এই স্বাভাবিক বিষয়টি সারা পৃথিবীতে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে। ভোরবেলা খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটাকে এখন বলা হচ্ছে এক অন্যরকম ন্যাচারাল থেরাপি। করোনাকালের দুঃসময়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা মাথায় রেখে এ ন্যাচারাল থেরাপির ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণে। এখন খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটাকে ‘ডিউ ওয়াকিং’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে এটি এক ধরনের হাইড্রোথেরাপি।

ভোরবেলায় শিশিরে খালি পায়ে হাঁটার শারীরিক সুফল

পায়ের পাতায় সরাসরি ভেজা ঘাসের স্পর্শে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়
পায়ের পাতায় সরাসরি ভেজা ঘাসের স্পর্শে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়

খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে ভোরবেলা একটু সময় নিয়ে হেঁটে বেড়ালে বহু ধরনের সুফল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। সবার আগে চলে আসে ভোরের নির্মল দূষণমুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার ব্যাপারটি। এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে দেহে রক্ত চলাচলও ভালো হয়। খালি পায়ে ভেজা ঘাসে হাঁটাহাঁটি করলে সারা শরীরে রক্তের পরিসঞ্চালন বাড়ে। চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, এই পরিসঞ্চালনের মাধ্যমেই শিশির হাঁটা বা ডিউ ওয়াকিং এর সুফলের সূচনা।

পায়ের পাতার কাছের রক্তনালিগুলো ঠান্ডা শিশিরের সংস্পর্শে উদ্দীপিত ও সংকুচিত হয়। এতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শরীরের রক্তনালিগুলোতে সার্বিক ভাবে রক্তপ্রবাহে জাগে এক চনমনে ভাব, নতুন প্রাণ পায় একঘেয়ে ভাবে ধুকপুক করে চলা হৃদ্‌যন্ত্র। এভাবেই এই ডিউ ওয়াকিং আমাদের হৃদ্‌রোগ, রক্ত ঘন হয়ে আসার প্রবণতা, রক্তনালিতে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পায়ের পাতায় সরাসরি ভেজা ঘাসের স্পর্শে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়।
তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোথেরাপির মাধ্যমে আমাদের স্নায়ুগুলো তরতাজা হয়ে ওঠে যখন আমরা ভেজা ঘাসের হিম হিম শিশিরে পা ফেলে চলি। এ ছাড়া আমাদের সেন্সরি স্নায়ুতন্ত্র জেগে ওঠে খালি পায়ে হাঁটলে। কারণ এতে প্রোপ্রিয়োসেপ্টিন জাগ্রত হয় বা যে স্থানে আমরা অবস্থান করছি তা সম্পর্কে দেহে সঠিক অনুভূতি ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়। আমাদের এই নাগরিক জীবনে বিশাল এক জনগোষ্ঠীর পায়ের পেশি, হাড় ও রক্তনালির বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এই ডিউ ওয়াকিং বা খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটা খুবই উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।

পায়ের রক্তনালির ক্ষীণ পরিসঞ্চালনের জন্য শেষ বয়সে অনেকেই ভেরিকোস ভেইন্স বা ফ্ল্যাট ফুট রোগে ভুগে থাকেন। এর ফলে খুঁড়িয়ে হাঁটেন অনেকেই, পঙ্গু হয়ে যান কেউ কেউ। অথচ সকালে বাইরে গিয়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটার অভ্যাস থাকলে এই ভয়ংকর রোগগুলো থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। ডায়বেটিস জনিত স্নায়ুতন্ত্রের জড়তাতেও এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়।

আবার, অত্যন্ত কষ্টদায়ক মাথা ব্যথা মাইগ্রেনের জন্য ডিউ ওয়াকিং নামের এই হাইড্রোথেরাপি খুবই সুফল বয়ে আনতে পারে। এ ছাড়া এখনো, খুব শক্ত প্রমাণ না পেলেও, বেশির ভাগ গবেষকেরই মতামত হচ্ছে, সবুজ গাছগাছালি, মাঠ, ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকলে দৃষ্টি শক্তি বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ডিউ ওয়াকিং এর জুড়ি মেলা ভার। একই সঙ্গে মেডিটেশনের মতো প্রশান্তি, মুক্ত বাতাসে ব্যায়াম, পায়ের আরামদায়ক ম্যাসেজ আর কিসেই বা পাওয়া যায় বলুন!

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ডিউ ওয়াকিং

ভোরের ডিউ ওয়াকিং হয়তো আমাদের অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ওপরে নির্ভরতা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে
ভোরের ডিউ ওয়াকিং হয়তো আমাদের অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ওপরে নির্ভরতা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে

আমাদের মতো দেশে সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারগুলো। অথচ দিনের পর দিন ভয়াবহ ভাবে বেড়ে চলা উদ্বিগ্নতা (অ্যাংজাইটি), বিষাদ বা মানসিক অবসাদ (ডিপ্রেশন) আমাদের গ্রাস করে চলেছে। নগরজীবনে এর প্রভাব ভয়ংকর রকমের বেশি। মানসিক কষ্ট এবং অসুখগুলো আমাদের শরীরকেও অসুস্থ করে তোলে। মানসিক সমস্যা কখনো কখনো আমাদের নিয়ে যায় আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপের দিকে যা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অথচ সকালের সূর্যালোক ভালোভাবে শরীরে পড়লে খুবই কার্যকর ভাবে নিঃসৃত হয় আমাদের শরীরের সেরাটোনিন হরমোন, যাকে মানসিক স্বাস্থ্যের ভাষায় ‘ফিল গুড হরমোন’ বলা হয়।

ভোরের ডিউ ওয়াকিং হয়তো আমাদের অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ওপরে নির্ভরতা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে। অন্তত মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথা ভেবে যেন আমরা প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়ে ঘাসে পা রেখে কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটি প্রতিদিন। সবুজের সমারোহ, শিশিরের ভেজা সুশীতল অনুভূতি, কোমল ঘাসের স্পর্শ এ সবকিছু আমাদের ক্লান্তি, হতাশা, অবসাদ, বিষাদ আর উদ্বেগকে ঠেলে দিতে পারে বহুদূর। ডিউ ওয়াকিং নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, তাদেরও এই একই অভিমত।

কোথায় কীভাবে হাঁটবেন

কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। ছেলেবেলায় ফেলে আসা অথবা খুব কালেভদ্রে বেড়াতে যাওয়া নানাবাড়ি দাদাবাড়ির সেই গ্রামের অবারিত প্রান্তর মাঠ ঘাট, খেত না থাকলেও তো আমাদের আছে কিছু পার্ক, মাঠ, উদ্যান। ভোরবেলা হাঁটতে বেরিয়ে সেখানে ঘাসের স্পর্শ নেওয়া যেতেই পারে খালি পায়ে।

সুযোগ থাকলে এক চিলতে উঠোনে বা অ্যাপার্টমেন্ট এর সামনের সামান্য দুই ফুট জায়গাতেও সম্মিলিত উদ্যোগে ঘাস লাগিয়ে নেওয়া যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো এলাকার প্রশাসনের সহায়তায় ফুটপাত বরাবর এক চিলতে জায়গায় ঘাসের লম্বা বেড বা রোড ভার্জ স্থাপন করা যায়। আর শিশির সারা বছর কোথায় পাওয়া যাবে এই অজুহাতে যারা মাথা নাড়তে চাইছেন, তাদের জন্য খবর হলো, গবেষকেরা বলছেন, বৃষ্টি ভেজা ঘাসেও সমান সুফল পাওয়া যায়। তাই জড়তা ঝেড়ে ফেলে সময় এসেছে ডিউ ওয়াকিং এর ব্যাপারে যথাযথ প্রচার ও এর সুফলগুলো সকল মানুষের গোচরে আনার।

সুযোগ থাকলে এক চিলতে উঠোনে বা অ্যাপার্টমেন্ট এর সামনের সামান্য দুই ফুট জায়গাতেও সম্মিলিত উদ্যোগে ঘাস লাগিয়ে নেওয়া যায়
সুযোগ থাকলে এক চিলতে উঠোনে বা অ্যাপার্টমেন্ট এর সামনের সামান্য দুই ফুট জায়গাতেও সম্মিলিত উদ্যোগে ঘাস লাগিয়ে নেওয়া যায়                                                                                                                                       সাহিত্যে গল্প, উপন্যাস, কবিতায় অথবা টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হেঁটে চলার কতই না অপরূপ আর রোমান্টিক বর্ণনা আমরা দেখেছি, শুনেছি। কিন্তু চোখ বুজে ভেবে  দেখলে মনেই পড়বে না শেষ কবে আমরা নিজেরা ভোরে বেড়িয়ে সময় নিয়ে ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হেঁটেছি! সময়ের অভাব হোক অথবা লোকে কী বলবে সেই চিন্তা, যে কারণেই হোক আমাদের এই ইচ্ছে বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না।

সমুদ্রদূষণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

সমুদ্রদূষণ | মতামত

শক্তি ও সম্পদের অন্যতম আধার সমুদ্র। একদিকে পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে। অন্যদিকে সমুদ্রের উপর মানুষের নির্ভরশীলতাও বাড়ছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রকার দূষণের কবলে পড়ে দিন দিন সমুদ্র তার স্বরূপ হারাচ্ছে সমুদ্রকে দূষিত করে এমন প্রধান জিনিসগুলো হলো, বায়ুবাহিত ধুলাবালি, ট্যাংকার এবং অন্যান্য জাহাজ থেকে নির্গত বর্জ্য, বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন ইত্যাদি। বায়ুমন্ডলে প্রকাশিত দূষকগুলো বৃষ্টিপাতের কারণে সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। ফলে সমুদ্র অনেকগুলো বর্জ্যের ভাগাড় হয়ে যায়।
শিল্প উন্নয়নের সাথে সাথে বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। এ ধরনের দূষণের কারণে সমুদ্রের পানির অম্লতা বাড়ে এবং সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদকূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন রোগের বিস্তারও ঘটছে।

জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে মহাসাগরের পরিবেশ বদলে দিচ্ছে এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সর্বশেষ কয়েকটি গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা সায়েন্স সাময়িকীর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এটির সহ-লেখক কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উইলিয়াম চেউং বলেন, সমুদ্রের সব প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি এবং সম্পদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমিত রাখার লক্ষ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ব্যাপক হারে কমাতে হবে। মহাসাগরের ভবিষ্যৎ অবস্থা কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দশকগুলোতে কী পরিমাণ কার্বন নির্গমন হবে, তার ওপর। মহাসাগরের সামগ্রিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি রোধ করতে চাইলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ অবিলম্বে কমিয়ে আনতে হবে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ফ্রান্সের জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রের (সিএনআরএস) অধ্যাপক জ্যঁ-পিয়ের গাত্তুসো। তিনি বলেন, কার্বন নির্গমণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে মাছ তাদের বর্তমান আবাস ছেড়ে ৬৫ শতাংশ দ্রুত অন্যত্র চলে যাবে। পরিণামে জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের কার্যক্রমে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সমুদ্রদূষণ ঘটে আলাস্কায় একটি জাহাজ দুর্ঘটায়। ঘটনার এক মাসের মধ্যে জাহাজের চালক জোসেফ হ্যাজেলউডকে মদ খেয়ে জাহাজ চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ১৬০টি সামুদ্রিক ওটার এবং ১৩০০টি পাখির মৃত্যু ঘটে। জাহাজ এবং সমুদ্র থেকে মাত্র ৯ শতাংশ তেল রক্ষা করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কোটি গ্যালন তেল সমুদ্রের পানিতে মিশে ১৬০০ বর্গমাইল পানি এবং ৪০০ মাইল উপকূলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তেল এতটা পুরু হয়ে বয়ে চলে যে, বাষ্পীভূত হতে পারে এমন পদার্থগুলো ডুবে না গিয়ে পানির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে টলুইন এবং বেঞ্জিন জাতীয় ক্ষতিকারক হাইড্রোকার্বনগুলো খুব সহজেই খাদ্যশৃঙ্খলায় ঢুকে পড়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জুপ্লাঙ্কটন থেকে শুরু করে বড় বড় স্তন্যপায়ী জীবকে বিষাক্ত করে তোলে এবং এ দূষণের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তেলকে পরিষ্কার করার জন্য যে সব পরিশোধক ব্যবহার করা হয়, তাতেই ৯০ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হয়। ষাটের দশকে জাপানে পারদবহনকারী মাছ খেয়ে বহু লোকের প্যারালাইসিস হবার ঘটনা থেকে শুরু করে সমুদ্রে ভাসমান তেলে আগুন লেগে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও রয়েছে। সমুদ্রের এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য দায়ী শিল্পজাত বিষাক্ত দ্রব্য, গৃহস্থালির জঞ্জাল, কৃত্রিম পরিশোধক, সার ও কীটনাশক। তাছাড়া তেলজাত দূষণ তো রয়েছেই।

এছাড়া সমুদ্রদূষণের জন্য অন্যতম দায়ী হচ্ছে প্লাস্টিক। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে ৮০০ প্রজাতি ধ্বংসাবশেষ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই ধ্বংসাবশেষের ৮০ শতাংশই প্লাস্টিকের। এটি অনুমান করা হয় যে, প্রতি বছর ১৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক সমুদ্রের মধ্যে জমা হয় যা প্রতি মিনিটে একটি আবর্জনাপূর্ণ ট্রাক বোঝাইয়ের সমতূল্য। সামুদ্রিক মাছ, পাখি, কচ্ছপ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীরা প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষে জড়িয়ে পড়ে বা আক্রান্ত হতে পারে যার ফলে তাদের দমবন্ধ হয়ে যায় এবং অনাহারে থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, সামুদ্রিক পাখিদের প্রায় ৯০ শতাংশ সরাসরি প্লাস্টিক দূষণের শিকার।

পৃথিবীর প্রাণিকুলের বসবাসযোগ্য ৯০ শতাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে মহাসাগর। এই সুবিশাল স্থানে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবগুলো ঠেকানোর জন্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি সর্বোচ্চ দুই ডিগ্রিতে সীমিত রাখার ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের সরকার কে এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ না করলে মহাসাগরগুলোয় বসবাসকারী প্রাণী ও উদ্ভিদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। সামুদ্রিক মাছ তুলনামূলক ঠান্ডা পানির খোঁজ করতে বাধ্য হবে। ধ্বংস হবে মূল্যবান প্রবালদ্বীপগুলো। সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় এসব সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীজুড়ে পেট্রলিয়াম উৎপাদন বেড়ে চলেছে। তাই সমুদ্রপথে তার আমদানি-রফতানির জন্য বড় বড় পাইপলাইন ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও অনেক শোনা যায়। কোনো কোনো সময় ভূতাত্তি¡ক কারণে উপকূলবর্তী তেলের খনি থেকে তেল বের হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল শুধুমাত্র পরিবহনের সময় সমুদ্রে পড়ে। এছাড়া উপকূলবর্তী তেলের খনি অথবা এই ধরনের উৎপাদন থেকে পড়ে আরো ১৫ লাখ টন।

স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক দু’ভাবে হাইড্রোকার্বন আসে। ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে আসা হাইড্রোকার্বন স্বাভাবিক। আর পরিশোধন, শিল্প, আমদানি-রফতানি, ট্যাঙ্কার ডুবে উপকূলবর্তী তেল খনি ইত্যাদি অস্বাভাবিক। তেল ছাড়া সমুদ্রে অন্য খনিজ সম্পদের মধ্যে অন্যতম হলো বালি, গ্র্যাভেল, ভারী খনিজ এবং গভীর সমুদ্রের ম্যাঙ্গানিজ নুড়ি। উপকূলের কাছে বালি, গ্র্যাভেল ইত্যাদি ড্রেজিং এবং পাম্পিংয়ের ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামুদ্রিক প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী ডা. জ্যাকুয়েস পিকার্ড-এর মতে, বর্তমান দূষণের হার বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর সমুদ্রে কোনো প্রাণীর অস্তিত্বই থাকবে না। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ এর মতে, বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিন হাউজ গ্যাসের দ্বিগুণ বৃদ্ধির ফলে বর্তমান শতকে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ১.৫ ডিগ্রি থেকে ৪.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পাবে। হিসেব করে বলা হয়েছে, গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রভাব না থাকলে আজ পৃথিবীর তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কম হতো। হিমবাহ গবেষকরা মনে করেন, তাপ বৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েক শতকে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাদর গলে গিয়ে সমুদ্রের উচ্চতা ৫ থেকে ৭ মিটার বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই হাজার হাজার বর্গমাইল এলাকায় জমি নষ্ট হবে, ঝড় ও ঘূর্ণিবাতাসের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাবে, উপকূলের জলা অঞ্চলগুলোর লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সামুদ্রিক প্রাণীরা বিপদে পড়বে। পানীয় জলের অসুবিধা দেখা দেবে মারাত্মকভাবে।

ভূতাত্তি¡ক এবং আবহাওয়াজনিত কারণগুলোই সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামাকে প্রভাবান্বিত করে। সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত পর্বতমালার ভাঙাগড়ার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেকটাই নেমে গিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর বুকে ‘ফসিল জ্বালানি’ হিসেবে পরিচিত কার্বনকে আজকের মানুষ আবার বায়ুমন্ডলে ফিরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক ক্রমবিকাশের গতিকে উল্টোদিকে প্রবাহিত করছে।

ইউনেস্কোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নাহলেও এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় এই দুই স্তরেই এর মোকাবিলা করার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৮৭ সালে পৃথিবীর মানুষ মোট ৫.৭ গিগা টন এক গিগা টন হল ১০০ কোটি টনের সমান কার্বন বাতাসে ছেড়েছে। জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কারণ তারাই এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। মানুষের তৈরি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিক্ষেপের তিন-চতুর্থাংশই তাদের।

নিক্ষিপ্ত বিষাক্ত পদার্থের মধ্যে তামা, নিকেল, কোবাল্ট এবং ম্যাঙ্গানিজ খনন সাধারণত পরিবেশের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। পোকা-মাকড় মারার ওষুধ, ডিডিটি এবং বিভিন্ন ধরনের ইনস্যুলেশনে ব্যবহৃত ক্লোরিন জাতীয় উপাদান সমুদ্রের পক্ষে ক্ষতিকারক। ডিডিটি ইত্যাদি সমস্ত পৃথিবীতে ফসলের ক্ষতি রোধ করার জন্য, পোকা-মাকড়, মাছি মারার জন্য প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির পানি ধুয়ে শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা হয় সমুদ্রে। কারণ বাতাসে পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে যে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায় তার অনেকটা সমুদ্রে মিশে যায়।

আমাদের পার্শ্ববর্তী জনবহুল দেশ ভারতও বিপুল পরিমাণে আবর্জনা সমুদ্রে নিক্ষেপ করছে। আরব সাগরে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তৈলবাহী ট্যাঙ্কারদের যাত্রাপথ। ভারতের চারপাশের সাগরে প্রচুর পরিমাণে আবর্জনা নিক্ষিপ্ত হয়ে সমুদ্রকে দূষিত করছে। অনেকের মতে, যা করা দরকার তা হলো, সমুদ্রদূষণ রোধে সক্ষম এক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটি যার নিষেধাজ্ঞা সব দেশ শুনবে এবং কার্যকর করবে।

আমাদের একমাত্র সমুদ্র হলো বঙ্গোপসাগর। আমাদের সকল নদীর যাত্রাপথ গিয়ে শেষ হয়েছে সমুদ্রে। এই নদীগুলোর মাধ্যমে প্রবাহমান বর্জ্য সব সাগরে জমা হয়। অথচ এই সাগর আমাদের মৎস্য চাহিদার অনেকাংশই পূরণ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সমগ্র বহিঃবাণিজ্য বঙ্গোপসাগরের উপর নির্ভরশীল। তাই এ মহামূল্যবান সম্পদকে আমাদের রক্ষা না করার বিকল্প নেই। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন, সামুদ্রিক পরিবহন ও পর্যটন এবং সমুদ্রসম্পদ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন করতে হবে।

মহাকাশে মাকড়সা!

স্পেস স্টেশন বা মহাকাশ স্টেশনে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না মাকড়সা। কিন্তু ইঁদুর নিজেকে মানিয়ে নেয়। গবেষণায় এমন তথ্য মিলেছে। অনলাইন দ্য কসমিক কমপ্যানিয়নে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিজ্ঞানের দিক থেকে মাকড়সাকে মহাশূন্যে পাঠানোটা দৃশ্যত একটি ভাল ধারণা হতে পারে। কিন্তু মহাশূন্যে বসবাস করার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব একটি রীতি আছে। ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা প্রথমবারের মতো মহাশূন্যে পাঠায় মাকড়সা। উদ্দেশ্যটা ছিল, হাইস্কুল ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।

২০০৮ সালে এসে দেখা গেল, ওই পরীক্ষা যৌক্তিক। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কিছু মাকড়সাকে মহাশূন্যে পাঠানোর মধ্যে একটি ভুল বা ত্রুটি দেখা দেয়, যা বিজ্ঞানের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। এ পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কয়েক জোড়া মাকড়সা পাঠিয়ে দেয়া হয় বসবাস করার জন্য। প্রায় শূন্য অভিকর্ষের অধীনে কিভাবে তারা নিজেদের জীবন মানিয়ে নেয় তা নিয়ে গবেষণা করতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।
আলাদা একটি পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল ইদুর। দেখা গেল, কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে ইদুররা তাদেরকে মানিয়ে নিয়েছে এবং দ্রুতই তাদের মতো করে খেলা আবিষ্কার করে তাদের মতো করে খেলা শুরু করেছে। কিন্তু ইঁদুরের থেকে অনেক দিক দিয়ে মাকড়সা ভিন্ন। ইঁদুররা খেলা শুরু করলেও মাকড়সার মধ্যে সে রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি।
পৃথিবীতে মাকড়সারা একই রকম জাল বা ওয়েব সৃষ্টি করে। মাকড়সার এসব জালের মধ্যভাগের পরিবর্তে এর কেন্দ্র থাকে উপরের প্রান্তের দিকে। এরপর আট পায়ের এই প্রাণি তার জালের উপরের অর্ধাংশের ওপরের দিকে অবস্থান করে। তবে এ সময় তার মাথা থাকে নিচের দিকে। অভিকর্ষ এভাবে মাকড়সাকে তার শিকার ধরতে সহায়তা করে। যে শিকার তার জালে আটকে পড়ে। কিন্তু মহাশূন্যে মাকড়সারা এই অভিকর্ষজ সুবিধা পায় না। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনধারা বিঘ্নিত হয়।
বিজ্ঞানীরা যেসব মাকড়সা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল একটি মেটেপিয়েরা ল্যাবিরিন্থিয়া এবং ল্যারিনয়েডস প্যাটাগিয়াটাস প্রজাতির। প্রথম প্রজাতির মাকড়সাকে মূল সাবজেক্ট হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয়টিকে ব্যাকআপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ব্যাকআপ মাকড়সা সম্ভবত ওই অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পছন্দ করেনি। বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে যায় সে। প্রবেশ করে পরীক্ষার মূল চেম্বারে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় মূল চেম্বার খুলতে পারছিলেন না জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা ওই দুটি মাকড়সাকে মহাশূন্যে আলাদা করতে পারছিলেন না। বেশ কিছুদিন পরে মাকড়সারা যে জাল তৈরি করলো তা ক্রমশ এলোমেলো দেখাতে লাগে। দুটি মাকড়সা একে অন্যের পথে চলতে থাকে। ফলের মাছিগুলো বাড়তে লাগলো। কারণ, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মাকড়সার জন্য দেয়া খাদ্য। এর ফলে অপ্রত্যাশিত হারে প্রজনন বেড়ে গেল তাদের। লার্ভায় ভরে গেল। তারা তাদের ব্রিডিং কন্টেইনার থেকে বেরিয়ে এলো। মেঝে ভরে গেল। সহসাই লার্ভায় ঢাকা পড়ে গেল পরীক্ষামূলক চেম্বারের জানালা। এর ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ওই মাকড়সা বা তাদের জাল দেখতে পারছিলেন না আর।
২০১১ সালের পরীক্ষায় দেখা গেল চার রকম জাল সম্পর্কিত তথ্য।
১. মহাশূন্যে একই রকম জাল তৈরি করে তারা। ২. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একই রকম জাল তৈরি করে মাকড়সা। ৩. আন্তর্জাতিক মহাকাশ সেন্টারে পৌঁছার পর ২৩ দিনে তারা এমন জাল তৈরি করে। এবং ৪. পৃথিবীতে মাকড়সা জাল তৈরি করে নিয়ন্ত্রিত। এবারও ২০০৮ সালের পরীক্ষাগুলোর ধরন যাচাই করতে করা হয়েছিল। এ সময়ে তারা একই প্রজাতির চারটি মাকড়সা ব্যবহার করেছিলেন। এগুলো সাধারণত ব্যানানা মাকড়সা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে দুটিকে উড়িয়ে নিয়ে রাখা হয় আলাদা চেম্বারে। অন্য জোড়াটি ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর বায়োসার্ভ স্পেস টেকনোলজির ল্যাবে আরো মাকড়সার সঙ্গে রাখা হয় মহাশূণ্যের পরিবেশে। কিন্তু সমস্যাটি হলো, নারী মাকড়সা দুটি যখন তার পুরুষ সঙ্গীর দিকে অগ্রসর হয়, তখনই। যখন টিনেজ বয়সে তখন এসব প্রাণিতে সংগ্রহ বা বাছাই করা হয়েছিল, যখন মাকড়সাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন কঠিন থাকে। এই প্রজাতির মাকড়সার নারী ও পুরুষের আকার আকৃতি এবং শারীরিক গঠনে উল্লেখযোগ্য ভিন্নতা রয়েছে। দৈবক্রমে একই স্থানে সাধারণ পরিবেশে একটি নারী ও একটি পুরুষ মাকড়সাকে রাখা হলো পরীক্ষা চালাতে। তিনটি ক্যামেরা বসানো হলো। তাদের কাজ হলো প্রতি ৫ মিনিট পর পর মাকড়সাদের ছবি তোলা। এ সময়ে তোলা মাকড়সার জালের শতাধিক জাল নিয়ে পরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৪৫০০ ছবি নিয়ে গবেষণা করে দেখা হয়েছে পৃথিবীতে তৈরি করা মাকড়সার জালের সঙ্গে অভিকর্ষবিহীন পরিবেশে এসব জাল সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। তাতে দেখা গেছে, আলোর ধরনের ওপর ভিত্তি করে উল্লেখযোগ্যভাবে জালের ডিজাইন পরিবর্তন করে মাকড়সারা। ল্যাম্পলাইটের নিচে যেসব মাকড়সা জাল সৃষ্টি করে তা দেখতে সাধারণ জালের মতোই। এসব ক্ষেত্রে মাকড়সারা তাদের মাথা, মুখ নিচের দিকে রাখে। অপেক্ষা করে তাদের জালে উড়ন্ত কোনো প্রাণি ধরা পড়লে তাকে শিকার করার জন্য। ইউনিভার্সিটি অব ব্যাসেলের ড. স্যামুয়েল জকোকে বলেন, আমরা এটা বলতে পারি না যে, মহাশূন্যে মাকড়সার জীবনধারার ওপর আলো বড় কোন প্রভাব ফেলে। এতে এমনটাই ধরা পড়ে যে, মাকড়সার জীবনে আলোর একটি ব্যবহার আছে। তা হলো, আলো ব্যবহার করে সে বুঝতে পারে জালের কোন দিক নিচে আর কোন দিন উপরে।