ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল ঢাকার দেড় শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল ঢাকার দেড় শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ

জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা বা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে প্রাচীন এ মসজিদ অবস্থিত।

গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) ইউনেস্কোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে অনলাইনে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখাস্তান পর্যন্ত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতিবছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এ পুরস্কারের নাম দেয় হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন’।

২০২১ সালে ছয়টি দেশের নয়টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা এ বছর ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে এই মসজিদ অবস্থিত। ১৮৬৮ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখনকার জনসংখ্যার বিবেচনায় এটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরনো রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালে এর সংস্কার কাজ শেষ হয়। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাবার জন্য তিনি আবেদন করেন।

ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে জানায়, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে। পুরনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি। সংস্কারের মাধ্যমে পুরনো রূপ দেয়া হয়েছে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদকে।

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেড়শ বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণের সঙ্গে আমার পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। ১৮৬৮-তে এর গোড়াপত্তন। ১৯৬৮-তে আমার আব্বা (প্রয়াত অধ্যাপক  হামিদুর রহমান) তৈরি করেন মসজিদের মিনার। বংশ পরম্পরায় আমি এর দায়িত্ব নিই। স্থানীয় জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মসজিদ সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরনোকে সাথে নিয়ে নতুনের কথা বলা। এরপর আমাদের পথ চলায় যুক্ত হলেন স্থপতি আবু সাঈদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ জানান, পুরনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেস্কো। সেজন্য ২০০০ সাল থেকে এ পুরষ্কার চালু করেছে ইউনেস্কো। দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ ইউনেস্কোর মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে। সাধারণত বাংলাদেশে পুরনো মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে। এবং পুরনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী সমরকন্দ শহর

২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী সমরকন্দ শহর
২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী সমরকন্দ শহর

২০২৩ সালের বিশ্ব পর্যটন রাজধানী হবে উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক সমরকন্দ শহর। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএনডাব্লিওটিও)-এর ২৪তম সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে উজবেকিস্তানের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানা যায়, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএনডাব্লিওটিও)-এর ২৫তম সাধারণ অধিবেশন আয়োজন করবে সমরকন্দ। উজবেকিস্তানে প্রথম বারের মতো এ ধরনের আয়োজন হতে যাওয়ায় দেশটির জন্য তা একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’।

মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে উজবেকিস্তানের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আজিজ আবদুখাকিমভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উজবেক সরকারের নীতি এবং দেশে পর্যটন বিকাশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সংস্থার বৈঠক আয়োজনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

১০০ বছর বাঁচতে যে চারটি খাবার খেতে হবে

চারটি খাবার নিয়ম করে খেলে ১০০ পর্যন্ত সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব

দীর্ঘায়ু পাওয়ার ইচ্ছা বেশির ভাগ মানুষেরই থাকে। কিন্তু শুধু দীর্ঘায়ু পেলেই হল না, তার সঙ্গে চাই সুস্থ ভাবে বাঁচাও। সুস্থ ভাবে বাঁচার জন্য কী করবেন? প্রথমেই বাদ দিতে হবে ধূমপানের অভ্যাস। কমাতে হবে মদ্যপান। আর ভাল রাখতে হবে মন। মানসিক চাপও কমিয়ে দেয় আয়ু। মোটামুটি এই কয়টি বিষয় তো সকলের জানা। দীর্ঘায়ু পেতে এগুলোর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে বদল। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারও বাদ দিতে হবে। আর নিয়ম করে খেতে হবে কয়েকটি খাবার। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কোন কোন খাবার বাড়িয়ে দিতে পারে আয়ু। এমন চারটি খাবার নিয়ম করে খেলে ১০০ পর্যন্ত সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব।

মধু: হৃদরোগ এবং ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে মধু। রোজ নিয়ম করে এক চামচ খাঁটি মধু খেলে এই অসুখগুলোর আশঙ্কা অনেক কমে যায়। স্তন, যকৃত এবং অন্ত্রের ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক কমে মধু খেলে। দীর্ঘ দিন সুস্থ ভাবে বাঁচা সম্ভব এর প্রভাবে।

ছাগলের দুধ: ছাগলের দুধেও এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো ক্যানসার প্রতিহত করতে সাহায্য করে। যে মহিলারা নিয়মিত ছাগলের দুধ খান, তাদের স্তনের ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক কমে যায়। তবে কতটা পরিমাণে এই দুধ খাবেন, তা চিকিৎসকের থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

বেদানা: দীর্ঘায়ু পাওয়ার বিষয়ে অনেক সাহায্য করতে পারে এই ফল। এর নানা ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু তার পাশাপাশি রয়েছে আরও অনেক গুণ। বেদানা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। বেদানার কয়েকটি উপাদান পেশির ক্ষয়ের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা অসুখ, স্নায়ুর নানা সমস্যাও কমিয়ে দিতে পারে বেদানার বেশ কয়েকটি উপাদান। ফলে নিয়মিত একটি করে বেদানা খেলে বার্ধক্যের ছাপ কম পড়ে শরীরে।

কাঁচকলা: দীর্ঘায়ু পেতে নিয়মিত কাঁচকলা খান। এটিও দারুণ কাজের। রক্তচাপের কারণে অনেকেই হৃদরোগের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হন। কাঁচকলা নিয়মিত খেলে এই সমস্যা কমে। কারণ এটির নানা উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ছাড়াও কিডনির ক্যানসার প্রতিহত করতে পারে কাঁচকলার কয়েকটি উপাদান।

শীতে ঠাণ্ডা পোশাক ব্যবহারে এই বিষয়গুলো মেনে চলুন

বাড়ছে শীত, উত্তুরে হাওয়া বইছে। আবার শীতের পোশাক বের করতে হবে। আলমারি কিংবা ড্রয়ারে বন্দী থাকা পোশাক নিয়ে অনেকেরই ব্যস্ত সময় কাটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ দিন বদ্ধ থাকার পর হুট করে শীতের পোশাক পরা উচিত নয়। কেননা তাতে অদৃশ্য জীবাণু ও ময়লা থাকতে পারে। তাই ভালোভাবে পরিষ্কার না করে সেগুলো পরা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

শীতের কাপড় কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা ‍কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলো হলো-

১) উলের তৈরি পোশাক সোয়েটার বা মাফলার বাসায় ধোয়াই ভাল। এর জন্য টাকা খরচ করে লন্ড্রিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাসায় এ কাপড়গুলো ধোয়ার সময় বিশেষ লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে উলের পোশাক ভালো থাকে। তবে ধোয়ার পর এমন জিনিস কড়া রোদে শুকাতে দেবেন না। তাতে রং নষ্ট হয়ে যায়।

২) অনেকেই লেদারের জ্যাকেট পরতে ভালবাসেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর বাড়তি যত্ন নেয়া জরুরি। বছরের সবসময়ই এর খেয়াল রাখতে হয়। এমনিতে ঠান্ডা জায়গায় রাখবেন। মাঝে মধ্যে হালকা রোদে দিয়ে ব্রাশ করে নিতে পারেন।

৩) লেদারের বা অন্য জ্যাকেটের আরেকটি সমস্যা থাকে। জিপের সমস্যা। অনেকদিন আলমারি বা দেরাজে থাকার ফলে জিপের চেন জ্যাম হয়ে যায়। মোম বা তেল দিয়ে একটু ঘষে নিলে ঠিক হয়ে যায়।

৪) শীতের এই সময় লেপ, কম্বল ও কাঁথার কদর বেশি। এগুলোর বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। মোটা কম্বল, লেপ রোদে সপ্তাহে একবার রোদে দিয়ে নেবেন। চাইলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নিতে পারেন। কাঁথার ক্ষেত্রেও তা করবেন। লেপ, কম্বল ও কাঁথার কাভারগুলো সার্ফের পানিতে ধুয়ে নিবেন। তা কিছুক্ষণ রেখে দেবেন। তারপর কেঁচে নেবেন। এতে ময়লা তাড়াতাড়ি পরিষ্কার হয়। তবে হ্যাঁ, শীতের পোশাক ঘন ঘন ধোবেন না। এতে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

আবারও চালু হলো অন-অ্যারাইভাল ভিসা

আবারও চালু হলো অন-অ্যারাইভাল ভিসা

করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বিদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও বাংলাদেশে আগমনী ভিসা (ভিসা অন-অ্যারাইভাল) চালু হয়েছে।

চলতি মাসের ১ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ থেকে চারটি ক্যাটাগরিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব তরফদার মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিন্মোক্ত ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের আগমনী ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে-

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক এবং তাদের স্বামী/স্ত্রী/সন্তান।

কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারী বিদেশি নাগরিক।

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে কোনো সরকারি সভা/সেমিনার/কনফারেন্স/অন্য কোনো ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য আগত বিদেশি নাগরিক।

প্রয়োজনবোধে বিশেষ বিবেচনায় সুরক্ষাসেবা বিভাগের পূর্বানুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ভ্রমণকারীকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া যেতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আগমনী যাত্রীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত কোভিড-১৯ প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।

৯ বাধা, পর্যটনবান্ধব হতে পারছে না বাংলাদেশ

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬০ কোটি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশ যদি এ বিশাল বাজার ধরতে পারে তাহলে পর্যটনের   হাত ধরেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কিন্তু ৯ বাধার কারণে পর্যটনবান্ধব হতে পারছে না বাংলাদেশ। এ জন্য নানা উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।

পর্যটন শিল্পের জিডিপিতে প্রত্যক্ষ অবদানের ভিত্তিতে ১৭৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অবস্থান ১৪২তম। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দেয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি দিয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। যে ৯টি বাধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাইরে পর্যটন উপযোগী উল্লেখযোগ্য ও উপযোগী উপাদানের অভাব। এই খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দের অপ্রতুলতা, সড়ক, নদীপথ, রেল ও বিমান যোগাযোগের নিরাপদ ও উপযুক্ত মানের পর্যটন উপযোগী পরিকল্পিত ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার অনুপযোগিতা ও অপর্যাপ্ততা, পর্যটন দৃষ্টিকোণে সঠিক বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণে উপযুক্ত প্রচারণার অভাব, পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধকরণে দেশের গণমাধ্যমের (প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম) আন্তরিক সংশ্লিষ্টতা ও যথাযথ উদ্যোগের অভাব, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা, পর্যটন শিল্প খাতটির সঠিক উপলব্ধি, মানসিকতা ও ধারণার অভাব, পর্যটন খাতে নিযুক্ত জনবলের মানসিকতা, পর্যাপ্ত জ্ঞান ও পেশাদারিত্বের অভাব। সেই সঙ্গে পর্যটন বিষয়ক সঠিক, উপযুক্ত শিক্ষিত ও মননের মানুষের অপর্যাপ্ততা, প্রান্তিক পর্যায়ে ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, ব্যক্তি পর্যায়ে প্রদত্ত সেবা, পণ্যের বিপরীতে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যমান আদায়ের প্রবণতা, হয়রানিমূলক আচরণ সেই সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা, আন্তর্জাতিক ভাষাজ্ঞানসহ এ খাতের উপযোগী অন্যান্য ভাষাজ্ঞান সমৃদ্ধ জনবলের অপর্যাপ্ততা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে এই খাত থেকে প্রায় ৭৬.১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক আয় করে। অথচ সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারতে পর্যটন খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ১০,৭২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, মালদ্বীপে ৬০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, শ্রীলঙ্কায় ৩৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, পাকিস্তানে ২৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং নেপালে ১৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুতরাং সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পর্যটন শিল্পের সবটুকু সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আদর্শ হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন-সম্ভাবনা অপরিসীম। আমাদের রয়েছে সুবিশাল সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্যঘেরা জলপ্রপাত, হাওর, প্রত্নতত্ত্বের প্রাচুর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ নানাধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান, যা পৃথিবীর যে কোনো স্থানের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

এক কথায় বলা যায়, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে তথা প্রতিটি জেলাকেন্দ্রিক পর্যটনের যেমন প্রাকৃতিক উপাদান বিদ্যমান সেই সঙ্গে রয়েছে এদেশের অতিপ্রাকৃত, অকৃত্রিম সুখী ও অতিথিবৎসল জনগণ যা পর্যটন দৃষ্টিকোণে একটি বড় ইতিবাচক উপাদান। বাংলাদেশের পর্যটনে প্রচলিত চিন্তাচেতনার বাইরে একটু দেশীয় ছোঁয়া দিতে পারলে অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশই এমন, একটু চেষ্টা করলে সারা দেশটাকেই পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে আরও বলা হয়েছে, পর্যটন শিল্প বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছি। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ যেখানে এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমরা স্থবির হয়ে আছি। সিঙ্গাপুরের জাতীয় আয়ের ৭৫ শতাংশ, তাইওয়ানের ৬৫ শতাংশ, হংকং এর ৫৫ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৫০ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ৩০ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। মালদ্বীপের অর্থনীতির বেশির ভাগই আসে পর্যটন খাত থেকে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ২০২৪ সালে মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে পর্যটন খাতের অবদান দাঁড়াবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সেক্টর, যেমন পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রেস্তরাঁ, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম থেকে পৃথিবীর অনেক দেশ প্রতি বছর প্রচুর রাজস্ব আয় করে, যা অন্য যেকোনো বড় শিল্প থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে বেশি। পর্যটনবান্ধবের জন্য ৯ বাধার পাশাপাশি বেশকিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে সংসদীয় কমিটিকে। এর মধ্যে রয়েছে- শুধু পর্যটন বিষয়ক একটি পৃথক সংসদীয় কমিটি বা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীন একটি পৃথক সাব কমিটি গঠন করা যায়। যে কমিটি শুধুমাত্র দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া পর্যটন শিল্প খাতটি একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় খাত বিবেচনায় শুধুমাত্র পর্যটন বিষয়ক পৃথক একটি মন্ত্রণালয় গঠনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত-মনোযোগী-উদ্দীপ্তকরণে ট্যুরিজম শিল্পে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ বা ‘একুশে পদক’ প্রদানে বর্তমান নির্বাচিত বিষয়গুলোর সঙ্গে পর্যটন খাতকে যোগ করে জাতীয় সম্মাননা বা পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।

এছাড়া পর্যটন বিকাশ সংশ্লিষ্ট একটি সংক্ষিপ্ত ও উপযুক্ত উক্তি/স্লোগান নির্বাচন করা যায়, যে উক্তি/স্লোগানটি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী (সকল পর্যায়), সংসদ সদস্যারা তাদের দাপ্তরিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থাপন করবেন। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাদের বক্তব্যে উক্তি/স্লোগানটি যোগ করবেন। সে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা থেকে অন্যান্য পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত দাপ্তরিক সভায় উক্তি/স্লোগানটি উপস্থাপন করবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে পর্যটন খাত থেকে আয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে বিদেশি পর্যটক। এই অঞ্চলে ভারত এবং শ্রীলঙ্কার পর্যটন আয় বেশি, কারণ তাদের পরিকল্পিত চিন্তাভাবনা। ছোট রাষ্ট্র যেমন- হংকং, সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, মালদ্বীপ, ফিজি পর্যটন খাত থেকে প্রচুর আয় করে শুধু বিদেশিদের আনাগোনার জন্য। এতে বলা হয়েছে, পর্র্যটন এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার খাত। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপকতা লাভ করেছে। পর্যটনের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়ে থাকে। ২০১৭ সালে বিশ্বের জিডিপিতে ট্যুরিজমের অবদান ছিল ১০.৪ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে ১১.৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে পর্যটকদের ভ্রমণখাতে ব্যয় হয়েছে ১৮৯৪.২ বিলিয়ন ডলার। আর একই বছর পর্যটনে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৮২.৪ বিলিয়ন ডলার।

পর্যটনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি খণ্ডচিত্র আমরা এর থেকে পেতে পারি। এতে আরও বলা হয়, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সেক্টর যেমন, পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রেস্তরাঁ, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম, চিত্তবিনোদন পার্ক, ক্যাসিনো, শপিং মল, সংগীত মঞ্চ ও থিয়েটার থেকে পৃথিবীর অনেক দেশ প্রতি বছর প্রচুর রাজস্ব আয় করে, যা অন্য যেকোনো বড় শিল্প থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে বেশি। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ তাদের জীবন-জীবিকার জন্য এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যে দেশ ঐতিহ্যগত, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং আত্মিক সকল সম্পদ দিয়েই সমৃদ্ধ। এ কারণে সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশে পর্যটকদের আগমন ঘটছে। ইতিহাসখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে বতুতার পর্যটক হয়ে আসার কাহিনী সবার জানা। বাংলাদেশে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বৈচিত্র্যময় হওয়ার কারণে পর্যটকদের মধ্যেও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা বিরাজমান। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।

এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সরাসরি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন যাতায়াত শুরু

এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সরাসরি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনস যাতায়াত শুরু

দেশের প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের সরাসরি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনসের মধ্যকার যাতায়াত শুরু হয়েছে। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় যাত্রা শুরু করে দুপুর ১ টায় সেন্টমার্টিনস পৌঁছায় জাহাজটি। সেখানে আড়াই ঘন্টা যাত্রা বিরতীর পর বিকেল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিলাসবহুল এই জাহাজ।

গত বছর ৩০ জানুয়ারি এক জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য যাত্রা শুরু হয় এই নৌরুটের।

কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিনস পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.) এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় অবশেষে এই দাবি পূরণ হল বলা চলে। অন্যদিকে আগামী ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্রগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাসটার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এই কোম্পানির আরেক বিলাসবহুল ক্রুজশীপ ‘এমভি বেওয়ান’। এটাও চলতি পর্যটন মৌসমে চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনসের মধ্যে নিয়মিত চলাচল করবে। চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটেও সমুদ্রগামী বিলাসবহুল কোন জাহাজের যাতায়াত এটাই প্রথম।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লিলাভূমী বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিঁছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারণে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো ক্রমশঃ এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এই উদ্যোক্তা তথা শিল্পপতি।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১১ মিটার প্রশস্ত এই নৌযানে মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন- দুটি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের এই ইঞ্জিনের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি করে। জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এটি। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনিসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, পাহাড় সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সকলকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজার এর গুরুত্ব অন্যতম। এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ- সেন্টমার্টিন। যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনস এর গুরুত্ব বরাবরই অসিম। কিন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনস যাতায়াত করতে পর্যটকদের পাড়ি দিতে হত টেকনাফের এবরোথেবরো বিরক্তিকর দীর্ঘ স্থল পথ। সম্প্রতি এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সেই বোরিং জার্নিকে নীল সমুদ্রের নান্দনিক ভ্রমণে রুপ দিয়েছে। নিংসন্দেহে যা এক বিরল সুযোগ ও সম্ভাবনার পদধ্বনী।

 

ভ্রমণের ব্যয়সহ বিস্তারিত জানতে : ০১৮৭০-৭৩২ ৫৯৯, ০১৮৭০-৭৩২ ৫৯৪ ।

মাঝেমধ্যেই নিখোঁজ হচ্ছে সুন্দরবনের ‘বাহাদুর’

২০২০ সালের ২১ মে দুপুরে বাতাস ছুটলে আতঙ্কিত গ্রামবাসীর মুখে মুখে ছড়াচ্ছিল, শিবসা-সুতারখালীর কোলে দোল খাওয়া ফকিরকোনা এবার কালাবগী থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। বাস্তবে নদী আর ঝড়ের দাপট ছিল আরও ভয়াবহ। স্থলপথের সঙ্গে এ গ্রামের শেষ সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে সে ঝড়ে। পাশের ঘরের রিনা বেগম আতঙ্ক নিয়ে ছুটতে ছুটতে এসে তরিকুলের মাকে বলছিলেন, নদী আরও বড় হয়েছে। এবার হয়তো বাঁচার সুযোগও পাবে না ফকিরকোনার মানুষ। এর মধ্যে জোয়ার এলে টেনে নিয়ে গেল শিবসার দিকের কয়েকটি ঘর। ভাঙন নয়, যেন চোখের সামনে নদীতে আত্মাহুতি দিল ওদের প্রতিবেশীদের বসতবাড়ি। মৃত্যুর আতঙ্ক সামলাতে না পেরে অপুষ্ট শরীরের তিন সন্তানের মা মমতাজ মৃত্যুর কাছেই পরাস্ত হলেন। ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করলেন। শিশু তরিকুল চোখের সামনে দেখল, ঝড় থেকে ঘর নিস্তার পেলেও মুহূর্তে নাই হয়ে গেল ঘরে থাকার সবচেয়ে আপনজন।

তরিকুলের পিঠাপিঠি বোন মঞ্জিলার বয়স তখন মোটে ১১ বছর। সবার বড় ভাই আর বাবা আছে এ রক্ষা। কিন্তু আদতে রক্ষা হলো না কিছুই। এক মাসের মধ্যে তরিকুলের বাবা বিয়ে করে খুলনা শহরে চলে গেলেন নতুন স্ত্রীকে নিয়ে। বছরে ছয় মাস ইটভাটায় কাজ করতে যাওয়া বড় ভাই বিয়ে করে পৃথক হলেন। গোলপাতার সেই পারিবারিক বন্ধন এবার ছিন্ন হলো সত্যি সত্যি। ঝড়ের পর ফকিরকোনা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেখানে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ কিছুই পৌঁছাল না এখন পর্যন্ত। চিকিৎসাসেবা নেই, বিদ্যালয় নেই সুন্দরবনঘেঁষা এই দ্বীপ গ্রামে। স্থানীয় সংগঠন ‘শিশুদের জন্য আমরা’র উদ্যোগে শুরু হলো ‘আমাদের স্কুল’। আম্বিয়া বেগম নামের একজন মাত্র শিক্ষক সব শিশুকে পড়ান। আয়োজকেরাই বিনা বেতনে তরিকুলকে ভর্তি করে দিলেন স্কুলে। কিন্তু তরিকুলই হলো স্বঘোষিত ক্যাপ্টেন। স্কুল থেকে শুরু করে ফকিরকোনার যেকোনো খবর মুখস্থ রাখে। কেউ এলে সবার হাঁড়ির খবর বলে দিতে পারে গড়গড় করে। অন্য শিক্ষার্থীরা যখন সংকোচে নিজেকে গুটিয়ে রাখে, তরিকুল তখন সবার আগে আগে হাঁটে। অন্যের সমস্যা নিয়েও ওর বিস্তর মাথাব্যথা।

আজ সুন্দরবন দিবস | VarsityVoice

এই দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটক হয়ে থাকা তো বিনা পয়সায় অসম্ভব। ছোট মুখে একটা চওড়া হাসি দিয়ে জানায়, ছোট মানুষ বলে অন্যদের মতো এত টাকা ওর লাগে না। বাসে, ট্রেনে তো সে আর টিকিট কেটে ঘুরে বেড়ায় না। হয় ইঞ্জিনের সিটটায় বসে অথবা দরজা ধরে চারপাশ দেখতে দেখতে বাতাস লাগায় গায়ে। এভাবে কয়েক দফা নিখোঁজ হয়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার পর্যন্ত ঘুরে এসেছে এই বাহাদুর। কখনো কোনো হোটেলে কয়েক দিন সহযোগী হিসেবে কাজ করে। আবার মন ছুটলে ঘুরতে ঘুরতে এসে পৌঁছায় খুলনা রেলস্টেশনে। মায়ের জন্য হাহাকারটা মুখের হাসি দিয়ে ঢেকে রাখতে সে দক্ষ হয়ে উঠেছে দেড় বছরে। বেশি কষ্ট হলে কালাবগীর ফকিরকোনার জলমগ্ন গোলপাতার ঘরে ফেরার আগে একবার দেখে যায়, নতুন পরিবারসমেত খুলনানিবাসী বাবাকে। তারপর আবার লঞ্চ বা নৌকায় উঠে একটু একটু করে এগিয়ে আসে ভদ্রা হয়ে সুতারখালীর কাছে।
এই নদী ওর মাকে নিয়েছে, উল্টেপাল্টে দিয়েছে পারিবারিক বন্ধন। আম্পানের মতো সব ঝড়কে সে ঘৃণা করে ভীষণভাবে। প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতির যে হিসাব হয়, তাতে কখনো স্থান পায় না মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। ২০২০ সালের মে মাসে ‘আম্পান’ ঝড়ের পর থেকে আদতে বাস্তবতার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানো এক শিশুর নাম বাহাদুর। ঝড় আর জলোচ্ছ্বাস, বন আর নদীতাড়িত জীবনের সে শুধু একটা চিহ্ন।

ভ্রমণ করুন চায়না বাঁধ থেকে

চায়না বাঁধ, সিরাজগঞ্জ - ভ্রমণ গাইড

ছবিটি দেখে নিশ্চয়ই চক্ষু ছানাবড়া অবস্থা আপনার? ভাবছেন এমন জায়গা নিশ্চয়ই দেশের বাইরে কোথাও! ছবিটি আমাদের দেশেরই, সিরাজগঞ্জে। জায়গাটার নাম চায়না বাঁধ।
ভাবুন তো, সবুজ ঘাসের উপর বসে আছেন আপনি, আর দুইপাশে নদী। এমন অসাধারণ জায়গায় একটা বিকেল পার করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ থেকে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর কূল ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই বাঁধ। বাঁধের মূল ফটক থেকে নদীর ২ কিলোমিটার গভীরে চলে গেছে বাঁধের শেষ প্রান্ত। মূল গেট থেকে পিচ ঢালা রাস্তা সহজেই যেতে পারবেন বাঁধের শেষ প্রান্তে।

চায়না বাঁধে গিয়ে যা দেখবেন

যমুনা নদীর এই বাঁধে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসে। ধীরে ধীরে এটি পরিণত হচ্ছে পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যে। বাঁধে বসে থাকতে ভালো লাগবে, ভালো লাগবে আশেপাশের পরিবেশ উপভোগ করতে। আর নদীতে নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তো এক কথায় অসাধারণ! এরপর আপনি চাইলে শহরটা ঘুরে দেখতে পারেন। ছোট শহর। ব্যাটারি চালিত রিকশায় ১ ঘন্টাতেই শেষ করতে পারবেন।

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন । তবুও বলি,

 

May be an image of sky

  • চায়না বাঁধ একটি দর্শনীয় স্থান ।
  • চায়না বাঁধ অত্যন্ত মনোরম, যা আপনার মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে ।

চায়না বাঁধে ভ্রমন করলে আপনি হতাশ হবেন না । এটি আমরা হরফ করে আপনাদের জানান দিয়ে দিতে পারি ।

চায়না বাঁধ ভ্রমণ গাইড | একটি বাংলাদেশ

যে কোন স্থান হতে বাস যোগে, ট্রেন যোগে ও বিমানের মাধ্যমে রাজশাহী যেতে পারেন। তারপর সিরাজগঞ্জ হতে গাজনার বিলে যাওয়ার উপায় নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

সিরাজগঞ্জ জেলা বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ইজিবাইক/ অটোরিক্সা  যোগে চায়না বাঁধে যাওয়া যায়। গাড়ি থেকে নেমেই রাস্তার পাশে চাটমোহর শাহী মসজিদ দেখা যায়।