লাগবে না এজেন্সি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিলবে ওমরাহ ভিসা

লাগবে না এজেন্সি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিলবে ওমরাহ ভিসা

পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা দেবে সৌদিসরকার। সেইসাথে ওমরাহ পালন করার জন্য কোনো এজেন্সির প্রয়োজন হবেনা। যেকোনো মুসল্লি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ ঘোষণা করেন, সৌদির বাইরেরওমরাযাত্রীদের জন্য এজেন্সি ছাড়াই ভিসা আবেদনের জন্য শিগগিরঅনলাইনভিত্তিক অ্যাপ পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। যাতে আবেদনের ২৪ ঘণ্টারমধ্যে ওমরাহর জন্য ভিজিট ভিসা ইস্যু করা হবে।

তিনি বলেন, ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদনপত্র সৌদি আরবের বাইরে থেকেব্যক্তিগতভাবে সাবমিট করা যাবে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যহচ্ছে, বৃহত্তর সংখ্যায় ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক মুসল্লিদের জন্য সৌদিতে অভ্যর্থনা সহজতর করা।

হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, চলতি বছর ১০ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালন করবেন। বিপুল সংখ্যক এই হাজীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ বা৮ লাখ ৫০ হাজার মুসল্লি বিদেশি এবং ১৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৫০ হাজার মুসল্লি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজী।

তিনি আরো বলেন, হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে। চলতি বছর হজ স্মার্ট কার্ডবাস্তবায়িত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল এই প্রযুক্তি চলতি বছরের হজকে আরও নিখুঁতভাবে আয়োজন করতে সহায়তা করবে।সূত্র : সৌদি গেজেট

পদ্মার বুকে স্বপ্ন জয়ের বাতি

আলোয় আলোকিত পদ্মা সেতু, বাতি জ্বলল সব ল্যাম্পপোস্টে

প্রমত্তা পদ্মার বুকে থৈ থৈ জল। স্রোতের গর্জন আর ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়তেই মৃদু অন্ধকার নেমে আসতে শুরু করে পদ্মার বুকে। অন্ধকার একটু গাঢ় হতেই জ্বলে ওঠে আলো! স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে সংযোজন করা বাতি জ্বলে উঠতেই বর্ণিল রেখার মতো পদ্মার বুকে যেন সৃষ্টি হয় আকাশের ‘ছায়াপথ’! যে ‘পথ’ পথ দেখাবে, যে পথ স্বপ্ন জয়ের; দক্ষিণাঞ্চলবাসীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির!গত ৪ঠা জুন প্রথম বাতি জ্বালানো হয় পদ্মা সেতুতে। তখন সেতুর ২৪টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়। তবে গত সোমবার সন্ধ্যায় মাওয়া প্রান্ত থেকে মূল সেতু পর্যন্ত একযোগে ২০৭টি লাইট জ্বালানো হয়। পদ্মা সেতুতে জ্বলে ওঠা আলোর মুগ্ধতা সাধারণ মানুষের মনে এমন ভাবনাই জাগিয়ে তোলে। পদ্মা সেতু দেখতে প্রতিদিনের মতোই পদ্মার নদী শাসন বাঁধে দর্শনার্থীদের ভিড়। সেতুতে জ্বলে ওঠা আলোতে যেন মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে। এ যেন পদ্মার বুকে স্বপ্ন জয়ের প্রদীপ! সরজমিন পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের পদ্মার নদী শাসন বাঁধ, টোলপ্লাজাসহ আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সেতু নিয়ে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস।

আগামী ২৫ তারিখ সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে সেতুর দ্বার।

পদ্মা সেতুকে ঘিরে বিশেষ করে পদ্মার চরাঞ্চল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা, শিবচরের পদ্মা বেষ্টিত চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর চেহারা পাল্টে গেছে। নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে জীবনযাত্রার মান বেড়েছে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এই অঞ্চলে পর্যায়ক্রম গড়ে উঠবে নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাড়বে কর্মসংস্থান। কৃষি পণ্য নিয়ে যখন-তখন বিভিন্ন স্থানে সহজেই যেতে পারবেন কৃষকরা।  পদ্মা সেতুতে বাতি জ্বালানোয় এক অন্যরকম সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এই আলো দেখে মুগ্ধ পদ্মাপাড়ের গ্রামবাসী, চরের মানুষেরা। তাদের অভিমত,‘এই আলো অবহেলিত জনপদের উন্নয়নের প্রতীক!’ পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা মো. ইসমাইল জানান,‘পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের বিষয়। সন্ধ্যার পর সেতুতে আলো জ্বললে ভিন্ন রকম সৌন্দর্য ফুটে ওঠে পদ্মাপাড়ে। আমরা এখন দিন গুনছি সেতু চালু হওয়ার।

 

আমাদের কাছে ২৫শে জুন হবে  স্মরণীয় দিন!’ জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে। মূল সেতুতে রয়েছে ৩২৮টি ল্যাম্পপোস্ট। জাজিরা প্রান্তের উড়ালপথে (ভায়াডাক্ট) ৪৬টি এবং মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টে বসানো হয়েছে ৪১টি ল্যাম্পপোস্ট। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর প্রথম পিলার থেকে ৩ দশমিক সাড়ে ৭ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন সংযুক্ত করে দিয়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং জোনাল অফিস (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি)। আর শরীয়তপুরে জাজিরা নাওডোবা প্রান্ত থেকে ৩ দশমিক সাড়ে ৭ কিলোমিটার সেতুতে অর্ধেক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাতি জ্বালানো হয়। এ নিয়ে গত ৭ দিনে পর্যায়ক্রমে ৪১৫টি বাতি জ্বালানোর মাধ্যমে স্ট্রিট লাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, ‘গত সোমবার সন্ধ্যায় মাওয়া প্রান্তের পশ্চিম পাশের ভায়াডাক্ট থেকে মূল সেতু পর্যন্ত ২০৭টি লাইট পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানো হয়েছে।’

পর্যটনশিল্প : এগিয়ে আসতে হবে তরুণ ফটোগ্রাফারদের

পর্যটনশিল্প : এগিয়ে আসতে হবে তরুণ ফটোগ্রাফারদের

রূপ ও বৈচিত্র্যে ঘেরা আমাদের বাংলাদেশ। চারদিকে সবুজ সোনার ফসল পাশে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর; কোথাও আবার উঁচু নিচু পাহাড়-টিলা এ দেশকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। এ দেশের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ মুগ্ধ করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। বারবার টেনে নিয়ে আসে তার রূপের জগতে হারিয়ে যেতে। নৈসর্গিক এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যারা ক্যামেরাবন্দী করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন, তাঁরা হলেন ফটোগ্রাফার কিংবা ফটোসাংবাদিকেরা। বর্তমান সময়ে যখন দিন দিন বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে, তখন ফটোগ্রাফি আমাদের তরুণদের আশাবাদী করে। দেখা যায়, অনেক তরুণ কোথাও ঘুরতে গেলে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেন কিংবা পত্রিকা অফিসে পাঠান। আমি নিজেও প্রথম আলোর নাগরিক সংবাদে প্রায়ই ছবি পাঠাই।

অনেকে ছবি তুলে টাকা আয় করেন। সেদিন বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে হাঁটতে বের হই। তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ও বলে উঠল, বন্ধু, ফটোগ্রাফি করেও তো টাকা ইনকাম করা যায়। আসলেই তা–ই, তরুণেরা চাইলে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে নিজেদের নাম বেকারের খাতা থেকে কেটে ফেলতে পারেন। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থানগুলো ফটোগ্রাফির মাধ্যমে যদি তুলে ধরা যায়, তাহলে বিদেশি পর্যটকেরা আমাদের দেশে ভ্রমণ করতে আগ্রহী হবে। এ ছাড়া আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা ছবি তুলে দিয়ে কিংবা ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করে মানুষের হৃদয় জয় করে থাকেন।

পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকেরা তাঁদের আনন্দময় মুহূর্তগুলো, স্মৃতিটুকু ক্যামেরাবন্দী করতে চান। তাঁরা আনন্দের পাশাপাশি চান স্মৃতিগুলোকে ফ্রেমবন্দী করে রাখতে। তাই তো পর্যটন এলাকায় অনেক ফটোগ্রাফার দেখা যায়। পর্যটকদের ছবি তুলে দিতে তাঁদের যেমনি আনন্দ হয়, তেমনি পর্যটকেরাও পারেন মনমতো ছবি তুলতে। দুঃখের বিষয় হলো, অনেক ফটোগ্রাফারকে দেখা যায় পর্যটকদের ছবি তুলে দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে, যা কখনো কাম্য নয়। পর্যটন এলাকায় ফটোগ্রাফারদের হতে হবে সৎ ও দক্ষ। কাউকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া ভালো ফটোগ্রাফারের কাজ নয়। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। হতে হবে নিষ্ঠাবান ও মিষ্টভাষী।

ফটোগ্রাফির মাধ্যমে উদ্ভিদ, জীব, প্রকৃতি ইত্যাদির ছবি তুলে তা বিভিন্ন গবেষণার কাজে লাগানো যায়। অনেক প্রকৃতিবিষয়ক লেখক বিভিন্ন পাখি, বৃক্ষ, ফুল ইত্যাদির ছবি তুলে পত্রিকায় দেন। পত্রিকার পাতায় হাত বুলালে তাঁদের লেখা ও ছবি দেখা যায়, যা আমাদের অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করে।

তরুণদের ফটোগ্রাফিতে অধিক আগ্রহ আমাদের আশান্বিত করে। কথায় আছে, ছবি মনের কথা বলে। একটি ছবি শুধু মুগ্ধই করে না, ভাবনার জগতে হারিয়ে যেতে সাহায্য করে। সম্প্রতি আমাদের ক্যাম্পাসে ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে গিয়ে নানা রকমের বিচিত্র ছবি দেখতে পাই। ছবিগুলো যেন ফ্রেমবন্দী নয়। মনে হয়ছিল, প্রতিটি যেন প্রাণবন্ত!

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এ দেশের আঁকাবাঁকা নদ-নদী, ফসলের খেত ইত্যাদি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্পকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। মোদ্দা কথা, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণ ফটোগ্রাফারদের এগিয়ে আসতে হবে।

পর্যটনে সম্ভাবনাময় শরীয়তপুর

শরীয়তপুর জেলার নামকরণ ও উপজেলা সমূহ (shariatpur upazila list )

পদ্মা সেতুর বদৌলতে পাল্টে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের জনপদ। নতুন সম্ভাবনার দার উন্মোচিত হচ্ছে এ অঞ্চলকে ঘিরে। পদ্মা সেতুসংলগ্ন এবং ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় শরীয়তপুর হতে পারে নিকট ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরী।

পদ্মাপারের এ জেলার আত্মপ্রকাশ ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ। জেলাটির মোট আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৮১ বর্গকিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে মুন্সিগঞ্জ, দক্ষিণে বরিশাল, পূর্বে চাঁদপুর ও পশ্চিমে মাদারীপুর জেলা অবস্থিত। জেলার ব্যান্ডিং হলো সোনালি সেতুর শ্যামল ভূমি।

বাংলাদেশের যে কয়টি জেলা অনগ্রসর এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল, তার মধ্যে প্রথম সারির একটি হলো শরীয়তপুর। এ জেলায় নেই কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিকেল কলেজ, চার লেনের রাস্তা, ট্রেন যোগাযোগ, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামাতেই পরিবহন পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। ভালো হাসপাতাল না থাকায় চিকিৎসা পেতে কাঠগড় পোড়াতে হয়। এ কারণে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে পাড়ি জমাতে হয় ঢাকায় কিংবা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয়। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় এসব মানুষকে। পথে রোগীর মৃত্যু ঘটে—এমন নজির নেহাত কম নয়।

কিন্তু আনন্দের বিষয় হলো, পদ্মা সেতু কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাটির দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে শুরু করছে খুব দ্রুততার সঙ্গে। একসময়ের সবচেয়ে অবহেলিত এ জেলাতেই এখন নতুন দিগন্তের দার উন্মোচিত হচ্ছে। পদ্মা সেতুর সুফলভোগী দক্ষিণাঞ্চলের যে কয়টি জেলা আছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরীয়তপুর। ইতিমধ্যে সরকারের সুনজর পড়তে শুরু করছে অবহেলিত এ জেলায়। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্মাসংলগ্ন এ জেলায় বিনিয়োগ শুরু করে দিয়েছে। পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে, অর্থাৎ শরীয়তপুরের জাজিরাতে গড়ে উঠেছে রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ বিলাসবহুল বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর আশপাশে অনেক এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জমি কিনে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রেখেছে।

এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জাজিরা থেকে সদর পর্যন্ত রেললাইন, পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর পর্যন্ত চার লেন সড়ক এবং মনোহরবাজার থেকে আলুরবাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত চার লেন সড়ক। শরীয়তপুরে শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর সঙ্গে শরীয়তপুরবাসীর সড়কপথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ, কাজিরহাট সেতু ও কোটাপাড়া নদীর ওপর সেতুর কাজ চলমান। এ ছাড়া জেলাটিতে একটি আধুনিক বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিমানবন্দর হলে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে পর্যটকেরা সহজেই ভ্রমণ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন ঘটবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শরীয়তপুর জেলা শহরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলমান। এ জেলায় প্রথম শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গীর মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল নির্মিত হয়েছে।

পদ্মার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপাড়া এলাকায় পদ্মার মাঝেরচরে সহস্রাধিক পরিবারকে সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য উপজেলার চরাঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের এলাকা নিরাপদ রাখতে জাজিরায় সম্প্রতি শেখ রাসেল সেনানিবাস গড়ে তোলা হয়েছে। সেনানিবাসটিতে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ। ফলে, পর্যটন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে ‘পদ্মা দক্ষিণ’ নামে একটি থানা গড়ে তোলা হয়েছে পদ্মা সেতুর কাছে।

অর্থাৎ একটা পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
গত ঈদে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে লাখ লাখ পর্যটনকের ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয় সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে। ফলে, একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, সেই সঙ্গে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার পাচ্ছে রাজস্ব।

পর্যটনে সম্ভাবনার বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, ‘পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে পদ্মার দুই পাশেই হংকং-সাংহাইয়ের মতো শহর গড়ে উঠবে। সেখানে বড় বড় শহর হবে, বড় বড় রিসোর্ট হবে। এখানে যদি আমরা প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করি, তাহলে ঢাকার যে ডিমান্ড, সেটা ওখানেই পূরণ করা যাবে। সে জন্য আমাদের একটা মেগা পরিকল্পনা থাকা উচিত যে আমরা কীভাবে ওই এলাকা সাজাব।’

তাই দেশের অর্থনীতির গুরুত্ব বিচার করে এবং পর্যটন খাতকে আরও ত্বরান্বিত করতে সরকারি চলমান প্রকল্পগুলো যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করতে হবে। তাহলে জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন, যেমন শরীয়তপুরের নড়িয়ায় রামঠাকুরের আশ্রম, কোলকাঠির ফ্যান্টাসি কিংডম, বুড়িরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ, সুরেশ্বর দরবার শরিফ, চিশতিনগর দরবার শরিফ, ভেদরগঞ্জের ৬০০ বছরের পুরোনো মহিসার দিগম্বরের দিঘি, ছয়গাঁও, কার্তিকপুর, হাটুরিয়া জমিদারবাড়ি, দেড় শ বছরের পুরোনো সদরের রুদ্রকর মঠ, ধানুকা মনসাবাড়ি, নড়িয়ায় গীতিকার অতুল প্রসাদ সেনের বাড়ি, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মানসিংহের দুর্গসহ নানা দর্শনীয় স্থাপনা রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এসব স্থানে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে।
*লেখক: মোহাম্মদ ইসমাইল জাবিউল্লাহ, সখীপুর, শরীয়তপুর