বিমান ও পর্যটন খাতে বরাদ্দ ৭ হাজার ৪ কোটি

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সাত হাজার চার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিমান ও পর্যটন খাতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বৃহস্পতিবার (৯ জুন) পর্যটন খাতের বিকাশে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসন ও বিনোদন সুবিধা নিয়ে কক্সবাজার জেলার সাবরাং টুরিজম পার্ক এবং সোনাদিয়ায় ইকো টুরিজম পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনার সময় দেশের পর্যটন শিল্প মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে এ শিল্পকে সহায়তা করার জন্য ১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোর উন্নয়নে সরকারি অর্থায়নে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের নির্মাণকাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নীত করার জন্য প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে।

৩৪০ বছরের পুরোনো রাজকীয় যুদ্ধজাহাজের সন্ধান

‘দ্য গ্লুসেস্টার’-জাহাজের এই চিত্রকর্ম এঁকেছেন শিল্পী জোহান ডাংকার্টস।

ভবিষ্যৎ রাজাকে বহনকারী একটি রাজকীয় যুদ্ধজাহাজ ৩৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে ডুবে গিয়েছিল। গত শুক্রবার গবেষকেরা সেই জাহাজের তথ্য উন্মোচন করেছেন। ধ্বংসের হাত থেকে জাহাজটিকে বাঁচাতে এর তথ্য ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে গোপন রাখা হয়েছিল। ওই জাহাজের নাম ‘দ্য গ্লুসেস্টার’।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ১৬৮২ সালে ডিউক অব ইয়র্ক জেমসকে নিয়ে যাত্রা করেছিল দ্য গ্লুসেস্টার জাহাজটি। ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে বালুর ঢিবিতে সেটি ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। এতে দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যান ডিউক অব ইয়র্ক। পরে তিনি ইংল্যান্ডের রাজা হন। তাঁর পরিচয় হয় কিং জেমস টু নামে। তিন বছর পর তিনি কিং জেমস সেভেন নামে স্কটল্যান্ডেরও রাজা হন।

ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার আর্লি মডার্ন কালচারাল হিস্টোরির অধ্যাপক ক্লেয়ার জোভিট বলেন, আবিষ্কারটি ১৭ শতকের সামাজিক, সামুদ্রিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারণাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বিবেচনায় পানির নিচের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অসামান্য উদাহরণ।

ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের গ্রেট ইয়ারমাউথ থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে এই জাহাজ পাওয়া গেছে। চার বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জুলিয়ান ও লিংকন বার্নওয়েল নামের দুই ভাই ২০০৭ সালে এই জাহাজ আবিষ্কার করেন। এর পর থেকে এ জাহাজের তথ্য আড়ালেই রেখেছিলেন তাঁরা।

ডাইভিং বিষয়ে কাজ করা লিংকন বার্নওয়েল বলেন, ‘সমুদ্রতটে নামার সময় আমি প্রথম যে জিনিসটি দেখেছিলাম, তা হলো সাদা বালুর ওপর বড় কামান পড়ে রয়েছে। এ আবিষ্কার ছিল দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ক ও সত্যিই সুন্দর।’

জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে লেগে পরিবারের ক্রেস্টসহ সিলযুক্ত একটি কাচের বোতল। লেগে হচ্ছে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের পূর্বপুরুষ।

অধ্যাপক ক্লেয়ার জোভিট বলেন, দ্য গ্লুসেস্টার জাহাজটি দ্রুত ডুবে গিয়েছিল বলে কেউ কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। এটা দুর্দান্ত এক টাইম ক্যাপসুল। জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া অন্যান্য প্রত্নবস্তুর মধ্যে রয়েছে নেভিগেশন সরঞ্জাম, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, জামাকাপড় ও মদের বোতল। কিছু কিছু জিনিস এখনো অক্ষত রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার গবেষকদের ধারণা, ওই জাহাজ দুর্ঘটনায় ১৩০ থেকে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই জাহাজ দুর্ঘটনায় ইতিহাস বদলে যাওয়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছিল।

কানাডায় ৩০ হাজার বছরের পুরোনো ম্যামথ শাবকের মমির সন্ধান

গত মঙ্গলবার কানাডার ইয়ুকোন অঞ্চলের ক্লোনদিকে এলাকার একটি স্বর্ণখনির শ্রমিকেরা ম্যামথ শাবকের মমিটির সন্ধান পান

কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বরফযুগের একটি লোমশ ম্যামথ শাবকের (হাতিজাতীয় বিলুপ্ত জন্তু) সম্পূর্ণ দেহ হিমায়িত ও মমিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে এ ধরনের আবিষ্কারের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে ওই অঞ্চলে মমি অবস্থায় ম্যামথ শাবকের দেহের অংশবিশেষ পাওয়া গিয়েছিল শুধু। খবর বিবিসির।

ম্যামথ হলো হাতির মতো দেখতে অতিকায় লোমশ এক বিলুপ্ত প্রাণীবিশেষ। বরফযুগে এর অস্তিত্ব ছিল।

নতুন সন্ধান পাওয়া ম্যামথ শাবকের মমিটি ৩০ হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার কানাডার ইয়ুকোন অঞ্চলের ক্লোনদিকে এলাকার একটি স্বর্ণখনির শ্রমিকেরা এর সন্ধান পান। যে এলাকায় মমিটির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটি ত্রোনদেক ওয়েচিন আদিবাসী গোষ্ঠীর মালিকানাধীন।

ইয়ুকোনের স্থানীয় সরকার ম্যামথ শাবকের এ মমিকে ২০০৭ সালে সাইবেরিয়ায় ভূগর্ভস্থ চিরহিমায়িত অঞ্চলে পাওয়া ম্যামথ শাবকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি উত্তর আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া একমাত্র পূর্ণাঙ্গ মমি। আর বিশ্বে এ ধরনের মমির সন্ধান পাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি।

ধারণা করা হচ্ছে, ম্যামথ শাবকটি মেয়ে। আদিবাসী হান ভাষায় এর নাম দেওয়া হয়েছে নুন চো গা। এর অর্থ ‘বড় পশু শাবক’। ইয়ুকোনের জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ গ্রান্ট জাজুলা বলেন, ‘নুন চো গা দেখতে সুন্দর। বিশ্বে এখন পর্যন্ত বরফযুগের আশ্চর্যজনক যত মমিকৃত প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে, তার একটি এটি।’

ইয়ুকোনের স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ২০০৭ সালে পাওয়া সাইবেরীয় শাবক লিউবার আকারের সমান। লিউবা ছিল প্রায় ৪২ হাজার বছরের পুরোনো।

ভ্রমন বিষয়ক তথ্য জানতে আমাদের সাথে থাকুন www.tourism-bd.com

ভ্রমন বিষয়ক তথ্য জানতে আমাদের সাথে থাকুন

কোথায় যাবেন !!, কোথায় হোটেল বুকিং দিবেন !!,

কোথায় খাবার খাবেন !!, কোথায় থাকবেন !!,

সব খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন

www.tourism-bd.com

উচাইল শাহী মসজিদ (সুলতানি আমলের নিদর্শন)

উচাইল শাহী মসজিদ

১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন শ্রীহট্ট অঞ্চলে মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে পুরো সিলেট অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ইসলাম ধর্ম প্রচার হতে শুরু করে।

ইসলাম ধর্ম ব্যাপকভাবে বিস্তারের পাশাপাশি শ্রীহট্ট অঞ্চলে সুলতানি আমলে অসংখ্য অপূর্ব কারুকার্যময় মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। সেই আমলে নির্মিত বহু মসজিদের শিলালিপি পাওয়া গেলেও পুরো শ্রীহট্ট অঞ্চলে এখন অস্তিত্ব রয়েছে মাত্র একটি মসজিদের। বাকিগুলোর এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

সুলতানি আমলের যে মসজিদটি এখনো টিকে আছে, সেটি হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল শাহী মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদটি গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত।

এ ধরনের মসজিদের নমুনা দেখা যায় দিনাজপুরের সুরা মসজিদ, পটুয়াখালীর মসজিদবাড়ি মসজিদ ও গৌড়ের খনিয়া দিঘি মসজিদে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শাহজীবাজার রেলস্টেশন থেকে মাত্র আট কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সিলেট বিভাগে সুলতানি আমলের সর্বশেষ নিদর্শন এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক সমাগম হচ্ছে।

উচাইল শাহী মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ৩২ ফুট। মসজিদের চারকোণে চারটি ও বারান্দার দুই কোণে দুটি অষ্টকোণ আকৃতির মিনার আছে। কেন্দ্রীয় মেহরাবের দুধারে পেছনের দেওয়ালেও দুটি মিনার ছিল বলে জানা গেছে। গত কয়েক বছর আগে মসজিদটি সংস্কারের সময় এ দুটি মিনার ভেঙে ফেলা হয়। বর্গাকারে নির্মিত মসজিদটির কেন্দ্রীয় কক্ষের ভেতরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। দুটিই ২১ ফুট ৫ ইঞ্চি। কেন্দ্রীয় মসজিদ কক্ষের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দেওয়ালে আছে তিনটি করে প্রবেশপথ।

ভেতরের পশ্চিম দেওয়ালে তিনটি মেহরাব আছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ কক্ষের বাইরে বারান্দার পূর্ব দেওয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে একটি করে প্রবেশপথ আছে। মসজিদের কেন্দ্রীয় কক্ষের ওপরে বিরাট আকারের গম্বুজ ছিল বলে জানা যায়। ওপরের এ গম্বুজটি কালের বিবর্তনে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে লোহার বর্গার ওপরে সমগ্র মসজিদে সমতল ছাদ নির্মিত হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদটির অনেক অবকাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। সুলতানি আমলে বাঁকাভাবে নির্মিত কার্নিশ ও প্যারাপেট সরল রেখায় নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। কোণের মিনারগুলোকেও তোলে দেওয়া হয়েছে ছাদের অনেক ওপরে।

এতে সুলতানি আমলে নির্মিত মসজিদটির আদি ও আসল রূপ অনেকটা ম্লান হয়ে গেলেও মসজিদের আদি অলংকরণের বেশ কিছু নিদর্শন এখনো মসজিদটির গায়ে অক্ষত আছে। মসজিদের দেওয়ালগুলোর বাইরের দিকে পোড়ামাটির চিত্র ফলকের সাহায্যে অতি মনোরম অলংকরণের কিছুটা এখনো অক্ষত রয়েছে। এক সময় পুরো মসজিদের বাইরের দেওয়াল এভাবে পোড়ামাটির অলংকরণ ছিল। বর্তমানে যার অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

শাহী মসজিদটির মেহরাবগুলোর অলংকরণও ছিল অত্যন্ত উঁচু মানের। পত্রকারে নির্মিত মেহরাবগুলোর উপরিভাগে খাঁজকাটা ছিল। মেহরাবের ফ্রেমের স্তম্ভগুলোতে লতার সাহায্যে অসংখ্য ছোট ছোট বর্গ ও আয়তনক্ষেত্রের সৃষ্টি করে সেগুলোর ভেতরে চার বা আট দল বিশিষ্ট পুষ্পের প্রতিকৃতি অঙ্কিত করা হয়েছিল। মেহরাবের ভেতরের স্তম্ভগুলোতে ছিল ঝুলন্ত শিকল ও ঘণ্টার প্রতিকৃতি।

মেহরাবের উপরিভাগ ও ভেতরে ছিল লতাপাতা ও পুষ্পর প্রতিকৃতি। এমন সুন্দর মনোমুগ্ধকর অলংকৃত মসজিদ বাংলাদেশে রয়েছে হাতেগোনা। উচাইল (শঙ্করপাশা) শাহী মসজিদটির অনেক আদি অলংকরণ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেলেও এখনো যেটুকু অলংকরণ টিকে আছে তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। উচাইল (শঙ্করপাশা) শাহী মসজিদের কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি।

তবে মসজিদের গঠন পদ্ধতি ও শিল্প কৌশল দেখে বিশেষজ্ঞদের অভিমত এ মসজিদটি সুলতানি আমলেই নির্মিত হয়েছিল এবং তা খুব সম্ভবত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র রাজত্বকালে নির্মিত বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। মসজিদের দক্ষিণপ্রান্তে রয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী শাহ মজলিশ আমিন (রহ.) এর মাজার শরিফ। তিনি ইসলাম প্রচারে বাংলাদেশে এসে তরফ অঞ্চলে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। আদিকালে উচাইল গ্রামের নাম ছিল শঙ্করপাশা। কিন্তু এলাকায় ইসলামের বাণী প্রচারে এসে শাহ মজলিশ আমিন (রহ.) এ গ্রামের নামকরণ করেন উচাইল। এখন এ নামেই পরিচিত গ্রামটি।

এমিরেটস যাত্রীদের জন্য দুবাইয়ে ফ্রি হোটেল

এমিরেটস যাত্রীদের জন্য দুবাইয়ে ফ্রি হোটেল

চলতি গ্রীষ্মে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ভ্রমণকারী যাত্রীদের ফ্রি হোটেল রুম অফার করছে এমিরেটস। তবে, দুবাই রিটার্ণ ট্রিপের ক্ষেত্রে এই অফার প্রযোজ্য। ২০মে থেকে ৩০সেপ্টেম্বরের সময়কালে ভ্রমণের জন্য আগ্রহীদের ১৭-৩০মে, ২০২২ এর মধ্যে টিকিট ক্রয় করতে হবে।

ইকোনমি শ্রেণীর যাত্রীরা দুবাইয়ের হিলটন গার্ডেন ইন হোটেলে এক রাত্রীর জন্য এবং বিজনেস ও প্রথম শ্রেণীর যাত্রীরা জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট মার্কুইজ হোটেলে দুই রাত্রীর জন্য বিনামূল্যে আবাসন সুবিধা পাবেন।

৩০সেপ্টেম্বর ২০২২ এর মধ্যে ভ্রমণকালে যাত্রীরা দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমীরাতে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা ভোগ করবেন। যাত্রীরা তাদের এমিরেটস বোর্ডিং পাস দেখিয়েই দুবাইয়ের শত শত রিটেইল স্টোর, অবকাশ এবং ডাইনিং আউটলেটে অভূতপূর্ব ডিসকাউন্ট পাবেন। মে মাসে দুবাই ভ্রমণকারী যাত্রীরা বিনামূল্যে দুবাইনা ম্যারিনা ক্রুজও উপভোগ করতে পারবেন।

এমিরেটস এবং ফ্লাই দুবাইয়ের লয়ালটি প্রোগ্রাম-এমিরেটস স্কাইওয়ার্ডসের প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার সদস্যরা দুবাইয়ের বিখ্যাত দুবাই মল-এ ১০০দিরহাম বা তারও অধিক মূল্যের পন্য, খাবার বা বিনোদন সুবিধা ক্রয় করলে প্রতি ১মার্কিন ডলার (৩.৬৭দিরহাম) এর বিপরীতে ১মাইল (পয়েন্ট) অর্জন করবেন। তবে, ব্লু সদস্যরা ২মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১মাইল পাবেন।

এমিরেটস স্কাইওয়ার্ডস সদস্যরা ফ্লাইট টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ক্যাশ+ মাইল সুবিধা নিতে পারবেন। এর ফলে টিকিট ক্রয়ে তাদের ক্যাশ খরচ অনেকটা কমে আসবে।

emirates.com/bd ভিজিট করে বিস্তারিত তথ্য লাভ করা ছাড়াও টিকিট বুক করা যাবে। এমিরেটসের প্রিমিয়াম যাত্রীরা বরাবরের মতোই দুবাইয়ে ট্রান্সফার এবং লাউঞ্জ সুবিধা নিতে পারবেন।

এমিরেটস বর্তমানে ঢাকা থেকে সুপরিসর উড়োজাহাজের সাহায্যে দৈনিক ৩টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ভায়া দুবাই বিশ্বের ১৪০টির অধিক গন্তব্যে সুবিধাজনক সংযোগ পাচ্ছেন।

সেরা ওয়াই-ফাই এবং ফুড এন্ড বেভারেজ এর জন্য পুরষ্কৃত হয়েছে এমিরেটস

সেরা ওয়াই-ফাই এবং ফুড এন্ড বেভারেজ এর জন্য পুরষ্কৃত হয়েছে এমিরেটস

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে আয়োজিত ২০২২ APEX Regional Passenger Choice Award এ সেরা ওয়াই-ফাই এবং সেরা ফুড এন্ড বেভারেজের জন্য পুরস্কার লাভ করেছে এমিরেটস। সারা বিশ্বে আকাশ ভ্রমণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

এ বছর সারা বিশ্বের ছয় শতাধীক এয়ারলাইনের দশ লক্ষাধিক ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীরা পাঁচটি সাব-ক্যাটাগরীতে তাদের মতামত প্রদান করেন। এর মধ্যে রয়েছে- আসনের আরামদায়কতা, কেবিন সেবা, খাবার ও পানীয়, বিনোদন এবং ওয়াই-ফাই।

২০১০ সালে এই পুরস্কারটি চালু হবার পর এমিরেটস এ বছরের এই দু’টি পুরস্কারসহ মোট ৩০টি পুরস্কার লাভ করলো।

যাত্রীদের রুচি বৈচিত্র বিবেচনায় নিয়ে এমিরেটস ৪,৬০০টির বেশি রেসিপির ওপর ভিত্তি করে ১১০টির অধিক মিল অফার করে থাকে। এমিরেটসের পানীয় এর তালিকায় রয়েছে ফ্রেশ মকটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন উজ্জীবক পানীয় এবং নানান ধরণের বিশেষ চা ও কফি।

প্রথম এয়ারলাইন হিসেবে ২০০৭ সালে এমিরেটস প্রথম তাদের সকল উড়োজাহাজে মোবাইল সংযোগ প্রবর্তন করে। বর্তমানে প্রতিটি উড়োজাহাজেই ওয়াই-ফাই সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রিমিয়াম যাত্রীদের বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা প্রদান ছাড়াও অন্যান্য যাত্রীদের জন্য রয়েছে মূল্যসাশ্রয়ী বিভিন্ন ইন্টার্নেট এবং চ্যাট প্ল্যান।

বিশ্বের সেরা রেটিংপ্রাপ্ত ভ্রমণ আয়োজনকারী অ্যাপ কংকার এবং ট্রিপএলটির সহযোগিতায় APEX Regional Passenger Choice Award অধিৎফ প্রদান করা হয়। যাত্রীদের পরিচয় গোপন রেখেই তাদের মতামত সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

‘হ্যালো টুরিস্ট’ অ্যাপে যে সেবা পাবেন আপনি

‘হ্যালো টুরিস্ট’ অ্যাপে যে সেবা পাবেন আপনি

সারা দেশের ছোট বড়-সব মিলিয়ে সাড়ে ৬০০ ওপরে পর্যটন স্থানে রয়েছে।যার মধ্যে প্রায় ৫০টির ওপরে পর্যটন স্থানে পর্যটকদের যাতায়াতে সব থেকেবেশি।

এসব টুরিস্ট স্পটে পর্যটকদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়েসহায়তা করে থাকে বাংলাদেশ পুলিশের ‘টুরিস্ট পুলিশ’।

ভ্রমণপিয়াসুদের হাতের নাগালে সেবা পৌঁছাতে দিতে দীর্ঘদিন ধরেনিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে টুরিস্ট পুলিশ  মাত্র ১ হাজার ৩০০ জন সদস্যনিয়ে পর্যটক স্পটগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পেট্রোলিংয়ের কাজ করছে পুলিশের এইইউনিটটি।

নিজেদের সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেটুরিস্ট পুলিশ

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে টুরিস্টপুলিশের ‘হ্যালো টুরিস্ট’ অ্যাপ।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেবার মান বাড়াতে অ্যাপটিকে প্রতিনিয়ত আপডেট করে যাচ্ছে।

টুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মূলত পর্যটকদের হাতে হাতে পুলিশের এই ইউনিটটির ফোন নম্বর পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে অ্যাপটির মূল্য লক্ষ্য।এছাড়া ‘হ্যালো টুরিস্ট’ ব্যবহার করে একজন পর্যটক কীভাবে পর্যটন স্থানে যাবে, কোথায় থাকবেন, নির্দিষ্ট স্থানে কোনো পরিবহনে কতভাড়া, সমস্যা হলে কীভাবে অভিযোগ দেবেন ইত্যাদি নানা সেবা নিতে পারবেন। এই সেবা নিতে হলে পর্যটকে প্রথমে তার স্মার্ট অ্যাপটিডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে হবে। এর পর অ্যাপের ভেতরে প্রবেশ করে অপশন মোতাবেক এসব সেবা নিতে পারবেন একজনপর্যটক। অ্যাপটিতে ১৫টি অপশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা নেওয়া যাবে।অ্যাপটির বাংলা ও ইংরেজি দুটি মাধ্যম রয়েছে ব্যবহারকারীদেরজিন্য।

‘হ্যালো টুরিস্ট’ যে সেবা নেওয়া যায়

আমাদের খুঁজুন ও যোগাযোগ- হ্যালো টুরিস্ট অ্যাপে আমাদের খুঁজুন ও যোগাযোগ নামে দুটি অপশন পাবেন ব্যবহারকারী

এই দুটি অপশনেগিয়ে টুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ তাদের সব স্তরের কর্মকর্তা ও অফিসের ফোন নম্বর সহজেই পেয়ে যাবেন পর্যটক। এসব নম্বরে ফোনে করেপর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নেওয়া যাবে।

আমাদের সম্পর্কে- অ্যাপের তৃতীয় অপশনটির নাম হচ্ছে ‘আমাদের সম্পর্কে’।

এই অপশনে গিয়ে ব্যবহারকারী টুরিস্ট পুলিশের ইতিহাস ওকার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ভ্রমণের স্থান- অ্যাপের ভ্রমণের স্থান অপশনটি গিয়ে একজন পর্যটক দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার কোথায় কোথায় দর্শনীয় ও ঐতিহাসিকপর্যটন স্থানের নাম জানতে পারবেন।অপশনটিতে এক সঙ্গে ৬৪ জেলার সব দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনস্থানে নাম সহজে ব্যবহারকারীজেনে নিতে পারবেন।

হোটেল/মোটেল- অ্যাপের হোটেল/মোটেল অপশনে গিয়ে ভ্রমণপিয়াসুরা চট্টগ্রাম, কক্সবাজর ও কুয়াকাটাসহ ২০ জেলার দর্শনীয় ও ঐতিহাসিকপর্যটন স্থানের আশপাশে কি কি হোটেল বা মোটেল রয়েছে সেই সম্পর্কে জানতে পারবেন

এ অ্যাপে ২০টি জেলার পর্যটন স্থান সংলগ্ন বিভিন্নহোটেলের নাম, ঠিকানা ও ম্যানেজার নম্বর দেওয়া রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এখান থেকে নম্বর নিয়ে খুব সহজেই হোটেল বুকিং করতেপারবেন পর্যটকরা।

 

ভ্রমণ গাইড- অ্যাপের ভ্রমণ গাইড অপশনটিতে চমৎকার সব তথ্য পাবেন পর্যটক

এসব তথ্য ব্যবহার করে ভ্রমণের পরিকল্পনা ও বাজেটঘরে বসে খুব সহজেই করে ফেলতে পারবেন একজন পর্যটক। অপশনটি বিভিন্ন পর্যটনস্থানে কিভাবে যাওয়া যাবে, কত টাকা যাতায়াতে ওহোটেল/মোটেল ভাড়া, কি খাবেন সেখানে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কিভাবে হোটেল বুকিং করাসহ বিস্তৃত তথ্য জানতে পারা যাবে।এই অপশন ব্যবহার করে পর্যটক সম্পূর্ণ গাইড লাইন পেয়ে যাবেন নির্দিষ্ট পর্যটনস্থানের।

নিখোঁজ ও প্রাপ্তি- অ্যাপের নিখোঁজ ও প্রাপ্তি অপশনটি একজন পর্যটকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী। বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ঘুরতে গিয়েঅনেক পর্যটক নানা মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলন। বিশেষ করে হাতের মোবাইল ফোনটি

অ্যাপের এই অপশনে গিয়ে হারানোজিনিসপত্র টুরিস্ট পুলিশের পেলে তা সম্পর্কে তথ্য জানা যাবে। পরে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে হারানো জিনিসপত্র পেতে পারবেন পর্যটক।

নোটিস/সংবাদ- অ্যাপের এই অপশনটি একজন ভ্রমণপিয়াসুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ অপশনে গিয়ে ব্যবহারকারী পর্যটনস্থান সংক্রান্ত বিভিন্নতথ্য ও জরুরি সংবাদ জানতে পারবেন।

বুলেটিন- অ্যাপের বুলেটিন অপশনে গিয়ে পর্যটক নানা জরুরি সংবাদ ও বুলেটিন সম্পর্কে জানতে পারবেন

পর্যটন স্থানে যেতে কোনোনির্দেশনা বা জরুরি কোনো সংবাদ থাকলে এ অপশনে পেয়ে যাবেন ব্যবহারকারী।

সতর্কতা- অ্যাপের এ অপশনে পাহাড়ের কিংবা সমুদ্র সৈকতের থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যটন স্থানে বেড়াতে কি কি সতর্কতা মেনে চলতেহবে সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাইড লাইন দেওয়া রয়েছে।

আইন কানুন- অ্যাপের আইন কানুন নামে অপশনটিতে গিয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব আইন জানতে পারবেন পর্যটক। একটি পর্যটন স্থানে বেড়াতেগিয়ে পর্যটক কে কি কি আইন মেনা চলা উচিৎ সেই সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়া হয়েছে অপশনটিতে।

এছাড়া অ্যাপসটিতে ‘জিজ্ঞাসা’, ‘ছবি গ্যালারি’, ‘আপনার মতামত’ ও ‘অভিযোগ’ নামে আরও চারটি অপশন রয়েছে। এসব অপশন ব্যবহারকরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেবা নিতে পারবেন পর্যটক। এছাড়া ‘অভিযোগ’ অপশনটি ব্যবহার করে একজন পর্যটক টুরিস্ট পুলিশকে অভিযোগজানাতে পারবেন।

হ্যালো টুরিস্ট অ্যাপটির বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশের (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) পুলিশ সুপার ইব্রাহিম খলিল ঢাকা পোস্টকে বলেন, কোনোব্যবহারকারী যদি টুরিস্ট পুলিশের ‘হ্যালো টুরিস্ট’ অ্যাপটি তার স্মার্টফোনে ইনস্টল করেন তাহলে এর মাধ্যমে আমাদের সব পর্যায়েরকর্মকর্তাদের নম্বর এখানে পেয়ে যাবেন।

এসব নম্বর ব্যবহার করে পর্যটকরা যেকোনো অভিযোগ বা সহায়তা পাওয়ার জন্য টুরিস্ট পুলিশেরসঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। অ্যাপটি ইনস্টলের পর ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও ব্যবহার করতে পারবেন। অধিকাংশ পর্যটকের কাছেটুরিস্ট পুলিশের নাম্বার নেই। তবে এই অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করা থাকলে সারা দেশের টুরিস্ট পুলিশের নম্বর এক সঙ্গে পেয়ে যাবেনপর্যটকরা।

তিনি বলেন, যেমন কোনো পর্যটক যদি কোনো পর্যটন স্থানে গিয়ে সমস্যা পড়েন বা তার কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন পড়ে তাহলে অ্যাপটব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পর্যটন স্থানের টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন ফোনে।

ফোন পাওয়ার পর ওই পর্যটককেঅবশ্যই সাহায্য করার জন্য টুরিস্ট পুলিশ এগিয়ে আসবে। এছাড়া কোনো পর্যটক এমন স্থানে গিয়েছেন যেখানে টুরিস্ট পুলিশের কোনোঅফিস নেই, তার পরেও যদি অ্যাপটি থেকে নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করা হয় তাহলে টুরিস্ট পুলিশ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে ওই পর্যটকেরসঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবে। এতে করে ওই পর্যটক স্থানীয় থানা পুলিশকে তার সমস্যার কথা জানাতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাপে পর্যটন স্পটের ছবি ও লোকেশন দেওয়া হয়েছে।

একজন পর্যটক নির্দিষ্ট পর্যটন স্থানে কিভাবে যাবেন, সেখানেযেতে কত টাকা খরচ হতে পারে তারও তথ্য এ অ্যাপে দেওয়া রয়েছে। হ্যালো টুরিস্ট অ্যাপে টুরিস্ট পুলিশের সব কার্যক্রমের তথ্য দেওয়াথাকে। এছাড়া কোনো পর্যটক যদি পর্যটন স্থানে মোবাইল, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলেন সেগুলো যদি পাওয়া যায় সেসবতথ্যও অ্যাপে দেওয়া থাকে। পরে পর্যটক হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে টুরিস্ট পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে নিতেপারবেন।

সকালের আলোয় শুরু পদ্মা সেতু পারাপার

পদ্মা সেতুতে সকাল থেকে শুরু হয়েছে পারাপার

সকালের আলোয় শুরু হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু পারাপার। আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে পদ্মা সেতু সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন যানবাহনে সেতু পার হচ্ছেন শত শত মানুষ। সবার মধ্যেই দেখা গেছে উচ্ছ্বাস।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন কাল, নিরাপত্তা বলয়ে উৎসবের প্রস্তুতি

পদ্মা সেতু' নামকরণ করে গেজেট প্রকাশ

স্বপ্নের সেতুতে চড়ে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। আজ বাদে কাল উদ্বোধন হচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম মেগা প্রজেক্ট পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এ সেতুর উদ্বোধন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগ দেবেন ১০ লাখ মানুষ। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে থাকছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে থাকছে ফলক উন্মোচোন, সুধী সমাবেশসহ বিভিন্ন আয়োজন। আর মাদারীপুরের বাংলাবাজারে উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে। থাকছে জনসমাবেশও। এ জন্য ঘাটের ৮ কিলোমিটার জুড়ে সাত শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

বিশাল আয়োজনের জনসমাগমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসহ দূরদূরান্তের অতিথিরাও অংশ নেবেন। এজন্য নিরাপত্তার কঠোর বলয়ে রাখা হয়েছে গোটা অনুষ্ঠান।

মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশ ও উদ্বোধনের ফলক উন্মোচনের পর নিজের গাড়ির টোল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম পদ্মা সেতু পেরিয়ে যাবেন ওপারে শরীয়তপুরের জাজিরায়। সেখানে আরেকটি উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী৷ তারপর কাঠাঁলবাড়ি ঘাট এলাকায় দুপুরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন দলেরও প্রধান শেখ হাসিনা। উদ্বোধনকে ঘিরে পদ্মা সেতু ও দুই প্রান্তের আশেপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বানচালের ষড়যন্ত্রের তথ্য বেশ কিছুদিন আগে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অবহিত করে দেশজুড়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে র‍্যাবসহ সাড়ে পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য। এজন্য সাজানো হয়েছে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও অপপ্রচার রোধে গ্রহণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ নজরদারি ব্যবস্থা।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, একটি মহল নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কিছু ঘটিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় শুধু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরেই নয়, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীসহ সারা দেশেই। এছাড়া সেতুর দুই প্রান্ত সমাবেশস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে র‍্যাবের বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং করা হবে। র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।