ডেঙ্গু হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

ডেঙ্গু হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

করোনাভাইরাসের মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে ডেঙ্গুর উপসর্গগুলো জানা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া সম্ভব। তাহলে চলুন জেনে নিই, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলো সম্পর্কে-

১। শরীরে তাপমাত্রা ভয়ানক ভাবে বাড়তে পারে।

২। শরীরে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

৩। অসহ্য মাথা ব্যথা থাকবে।

৪। চোখের আশপাশে ব্যথা শুরু হবে।

৫। পেশী আর গাঁটে ব্যথা থাকতে হবে।

৬। বমি বমি ভাব আসলে।

৭। খিদে না পাওয়া।

৮। অনেক ক্ষেত্রে জ্বরের তিন চারদিন পর ঘাড়ের কাছে গোলাপি রঙ হয়ে যেতে পারে।

তবে সব ধরনের ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়, তা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ১৯০ মিলিয়ন ডেঙ্গু আক্রান্তের কথা নথিভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৯৬ মিলিয়নের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

যাদের ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে?

জমা পানি রয়েছে, এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায়। যেমন-

১। যাদের পূর্বে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছিল

২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যাদের

৩। যাদের প্লেটলেট কাউন্ট কম

ডেঙ্গু হয়েছে কি না, যেভাবে জানতে পারবেন?

ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কিনা সেটা জানতে চিকিৎসকরা সাধারণত তিনটি পরীক্ষা করান। এগুলো হলো-

১। ব্লাড কাউন্ট টেস্ট

২। এলিজা টেস্ট

৩। পিসিআর টেস্ট

ডেঙ্গু হলে যা করবেন?

উপরে বর্ণিত উপসর্গ কারো শরীরে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও প্রাথমিক ভাবে বেশ কিছু চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। এগুলো হলো-

১। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

২। প্যারাসিটামল খেতে হবে।

৩। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রমণের সম্ভাবনা কমানোর জন্য কী করতে পারেন?

মশা ডিম পাড়তে পারে, এরকম পানি জমিয়ে রাখবেন না। মশারিতে জাল দিয়ে রাখুন, ফুল হাতা জামা পরুন, মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। একবার যাদের ডেঙ্গু হয়েছে, তাদের আবার সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

 

৯০০ বছরের স্থাপত্যশিল্প

৯০০ বছরের স্থাপত্যশিল্প
tourism-bd.com

নওগাঁ ধামইরহাটের জগদল মহাবিহার হতে পারে বাংলার প্রাচীন রাজধানী রামাবতী নগর। গবেষকরা বলছেন, দ্বাদশ শতকের কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম গ্রন্থে উল্লিখিত প্রাচীন বাংলার রাজধানী রামাবতী নগরের ধারণাটি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে এসেছে জগদলে। তিন বছর ধরে থেমে আছে জগদলের খনন কাজ।

কথিত আছে, রাজা রামপাল ভীমকে যুদ্ধে পরাজিত করে পৈতৃক কার্য উদ্ধার করে অত্র এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য জগদল বিহার স্থাপন করেন।  রাজা রামপাল পরবর্তী সময় জগদলকে রাজধানী করে তার নাম রেখেছিলেন রামাবতী। এ রামাবতী পাল বংশের শেষ রাজধানী। পরবর্তী সময় স্থানীয় লোকজন এ স্থান আম্বর শহর বলে উল্লেখ করেছেন। রাজা রামপাল ১৭ জন পালবংশীয় রাজাদের মধ্যে চতুর্দশ। তিনি একাদশ শতাব্দীতে এ বিহার নির্মাণ করেন। জগদলবিহার বৌদ্ধ সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। রাজা রামপাল একাদশ শতাব্দীতে এ বিহার নির্মাণ করেন এবং এখান থেকেই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারসহ অন্যান্য স্থান দেখাশোনা করতেন।

জানা গেছে, জগদল বিহারের প্রথম উৎখনন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকে। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর আবারও শুরু হয় খনন কাজ। সর্বশেষ তৃতীয় পর্যায়ে খনন চালানো হয় ২০১৩ সালে। চলে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময় খনন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে বৌদ্ধমূর্তিসহ একের পর এক প্রাচীন নিদর্শন। এখানে রয়েছে পাল সম্রাট রামপালের সেই হারিয়ে যাওয়া রামাবতী নগরী। প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কর্মকর্তারা অনেকটাই নিশ্চিত, সেই জগদল বিহারই লোটাস বিহার (পদ্ম মহাবিহার)। বিহারটির আকৃতি দেখে লোটাস বৌদ্ধবিহার বলে প্রাথমিকভাবে  আখ্যায়িত করেছেন উদ্ধারকারী প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ দল। তারা বলেছেন, বরেন্দ্রভূমি তথা দেশের ৯০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্যশিল্প জগদল লোটাস মহাবিহার নতুন সংযোজন। ইতিপূর্বে বাংলাদেশে কোনো বৌদ্ধবিহারে গ্রানাইট পাথরের পিলার দেখা যায়নি।  সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতে, এ বিহারের দুজন স্বনামধন্য পি ত হলেন দানশীল ও বিভূতিচন্দ্র। প্রায় ৬০ খানা গ্রন্থের তিব্বতি অনুবাদ করেন আচার্য দানশীল। রাজপুত্র বিভূতিচন্দ্র ছিলেন একাধারে গ্রন্থকার, টিকাকার, অনুবাদক ও সংশোধক। জগদল বিহারের আচার্য মোক্ষকর গুপ্ত তর্কভাষা নামে বৌদ্ধ ন্যায়ের ওপর একটি পুঁথি লিখেছিলেন। শুভকর গুপ্ত, ধর্মাকর প্রভৃতি মনীষী এ মহাবিহারের অধিবাসী ছিলেন। দশ শতকের বিখ্যাত কবি সান্ধ্যাকর নন্দীর সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামচরিতম গ্রন্থে এসব অলংকরণের নমুনা পাওয়া  গেছে। ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, জগদলে অনুসন্ধানে যেসব তথ্য ও নিদর্শন পাওয়া গেছে তাতে রামাবতী নগরের ধারণাটি অনেকটা নিশ্চিত। তবে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত হতে বিহারটি পূর্ণাঙ্গ খনন, সংস্কার এবং আরও গবেষণা দরকার।