করোনাকালীন বর্ষায় স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনাকালে দেখতে দেখতে চলে এল আরেকটি বর্ষা। একটি সুন্দর এবং মন ভাল করে দেয়া ঋতু হিসেবে বৃষ্টিমুখর বর্ষার কদর রয়েছে। তবে কেবল মানুষই নয়, গাছপালা, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসও বর্ষাকাল উপভোগ করে। ফলে অনেকে বৃষ্টিতে ভিজতে বা বৃষ্টিস্নাত রাস্তায় সতেজ কাটা ফল বা খাবার খেতে পছন্দ করলেও তা স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে, এই করোনাকালেও সতর্কতার সাথে বর্ষাকে উপভোগ করা যেতে পারে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ : বেশিরভাগ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করেন। এটি দেহ-মনকে সতেজ করে এবং মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিবার বৃষ্টিস্নাত হওয়ার পর ডেটল, স্যাভলন বা বেটাডাইনের মতো জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করুন। এটি আপনাকে কয়েক লাখ ক্ষতিকর অণুজীব থেকে বাঁচাবে এবং আপনাকে সুস্থ ও ফিট রাখতে সহায়তা করবে।
সর্বদা হাত পরিষ্কার রাখুন : বাড়ির বাইরে, বাড়িতে ফিরে এবং কিছু খাওয়ার আগে সাবধানতার সাথে আপনার হাত ধুতে বা স্যানিটাইজ করতে ভুলবেন না। হাত জীবাণুমুক্ত রাখার স্বাস্থ্যকর অনুশীলনে হাতের ত্বকে থাকা প্রায় সমস্ত জীবাণু মারা যায়। বাড়ি ফেরার সাথে সাথে পা ধুয়ে ফেলাও আবশ্যক।

ভেজা জুতোকে না বলুন : বর্ষাকালে সময় আপনার জুতা পরিষ্কার এবং শুকনো রেখে কাজ করা এবং বাড়ি ফেরা প্রায় অসম্ভব। যদি জুতায় কাদা লেগে থাকে বা ভিজে যায়, তবে সেগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন এবং আবার পায়ে দেয়ার আগে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। অন্যথায়, জুতার মধ্যে থাকা জীবণুগুলোর বংশ বিস্তার ঘটবে। বারবার পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ রাবারের জুতা বেছে নিতে পারেন।

পরিধানের কাপড় ইস্ত্রি করুন : ওয়ার্ড্রোব এবং আলমিরাসহ কাপড় রাখার স্থানগুলো সাধারণত শীতল থাকে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ার সাথে সাথে স্যাঁতস্যাঁতে হতে শুরু করে। আর সেই আর্দ্রতার মধ্যে সেখানে রাখা কাপড়গুলোতে ছত্রাক বাসা বাধে। যেহেতু, জামাকাপড় সবসময় সবার পক্ষে রোদে দেয়া সম্ভব হয় না, তাই সেগুলিকে পরিষ্কার করার পর ইস্ত্রি করে পরিধান করাই সব থেকে বড় সমাধান।

মশার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন : বর্ষার সবচেয়ে ভয়ঙ্কার সমস্যাগুলোর একটি হ’ল মশার প্রজনন। মশারা আবদ্ধ পানিতে বংশ বিস্তার করে। তাই আপনার বাড়িতে কোনও খালি জলাধার নেই এবং ড্রেনগুলো আটকে নেই, তা নিশ্চিত করুন। পাশাপশি, মশার তাড়ানোর তেল, কয়েল বা স্প্রে পর্যাপ্ত মাত্রায় ব্যবহার করুন।

জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন : বর্ষাকালে রাস্তাগুলো সাধারণত কাদা-পানিতে ভরা থাকে। এগুলো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক অণুজীবের জন্য নিখুঁত প্রজনন পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে রাস্তার খাবারগুলো যত বেশি উন্মুক্ত বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তত বেশি সেগুলোতে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, পছন্দসই জাঙ্ক ফুড যত বেশি খাবেন, তত বেশি রোগক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার, ফলমূল এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কঠোরভাবে এড়ানো উচিত।

ভিটামিন সি’র মাত্রা বাড়ান : বছরের এ সময়টিতে ভাইরাস জ¦র, অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য ভাইরাস সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়। এসময়ে সুস্থ থাকার জন্য আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। এটি করার অন্যতম সহজ উপায় হ’ল আপনার ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ স্প্রাউট, তাজা সবুজ শাকসবজি, লেবু এবং কমলা খান।
ফল এবং সবজির যত্ন : বর্ষার সময় পরিষ্কার পানিতে ফল এবং শাকসব্জী ভালভাবে ধোয়া জরুরি যেহেতু জীবাণুগুলো ফল এবং সবজির ত্বকে লেগে থাকে। কেবলমাত্র রান্না করা বা সিদ্ধ শাকসবজি খাবেন। না হলে পানিবাহিত রোগের শিকার হতে পারেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান : দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, শরীর সতেজ রাখে এবং ফ্লু ও বর্ষায় সাধারণ ঠান্ডা-জ¦র প্রতিরোধ করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন : ব্যায়াম বা শরীর চর্চ্চা দেহের ওজন হ্রাস করতে বা সঠিক ওজন ধরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, তা রোগ প্রতিরোধের পক্ষেও দুর্দান্ত। ব্যায়ামে হৃতপিন্ডে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, শরীরের রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটে এবং সেরোটোনিন (সুখ হরমোন) উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয়। এসবই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আপনার দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

শুধুমাত্র শুকনো অবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে প্রবেশ করুন : যদি আপনার অফিস বা বাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং আপনি ভেজা অবস্থায় থাকেন, তাহলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে প্রবেশের আগে অপেক্ষা করুন। নিজেকে যতটা সম্ভব শুকানোর জন্য একটি তোয়ালে বহন করুন। আপনার ভেজা ত্বক এবং কাপড়ে এয়ার কন্ডিশনারের শীতল বাতাস গেলে ভয়ানক সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অসুস্থ ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন : যেহেতু বর্ষার সময় প্রচুর লোকের মধ্যে ফ্লু বা সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঘটে, তাই আপনাকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন, যাতে সংক্রমণগুলো আপনার শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ না করে।

অ্যালার্জেন থেকে নিজেকে রক্ষা করুন : বর্ষার সময় অ্যালার্জি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। কোভিডের সাথে সাথে ধুলো, বাষ্প বা দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপনার বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। আপনার ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত অ্যালার্জি জনিত ওষুধগুলো সর্বদা আপনার সাথে রাখুন এবং বাসস্থান পরিষ্কার রাখুন।

লকডাউনে কক্সবাজারের পর্যটনে ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি টাকা

লকডাউনে কক্সবাজারের পর্যটনে ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি টাকা

পর্যটন শিল্পে চরম সংকট এনে দিয়েছে করোনা। করোনার সংক্রমণ রোধ ও সর্বাত্মক লকডাউনে জনশূণ্য জনপদে পরিণত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের নগরী কক্সবাজার। লকডাউনের প্রভাবে গত প্রায় দু’মাসে কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পর্যটন জোন ও শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল–মোটেল–রেস্তোরাঁ, কয়েকশ’ শুঁটকি ও শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরি পণ্য বেচাবিক্রির দোকানপাটসহ পর্যটনের সকল অনুষঙ্গ মিলিয়ে এই ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বা স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতের কঠোরতায় পর্যটন ব্যবসা খুলে দেয়া না হলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, করোনা পর্যটন নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস এন্ড রিসোর্টের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, পর্যটক নেই, ২৫০ রুমের হোটেলটি পুরোই খালি পড়ে আছে। কিন্তু হোটেল খোলা রাখতে হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ খরচ, ব্যাংক ঋণ কিস্তিসহ নানা খাতে দৈনিক লোকসান যাচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা করে।

আরেক তারকা হোটেল দি কক্স টু ডে’র ব্যবস্থাপক আবু তালেব বলেন, চলতি লকডাউন শুরুর হতেই খালি পড়ে আছে হোটেল। কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ খরচসহ নানা খাতে দৈনিক লোকসান যাচ্ছে তিন লাখ টাকা করে।

শুধু এদুটি নয়, অন্য তারকা হোটেল এবং অন্যান্য গেস্ট হাউজ, মোটেল, কটেজ ও ফ্ল্যাটসহ পর্যটন সেবী প্রায় সাড়ে ৪শ’ আবাসন প্রতিষ্ঠানই পর্যটকহীন খাঁ খাঁ করছে।

হোটেল-মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, শহরের হলিডে মোড় হতে কলাতলীর দরিয়ানগর সৈকত এলাকা পর্যন্ত তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ রয়েছে চার শতাধিক। পহেলা এপ্রিল হতে কোনো হোটেলে অতিথি নেই। লকডাউনের ঘোষণা জানতে পেরে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষ ১ এপ্রিলের আগেই ৯৩ শতাংশ কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে পাঁচ থেকে ৭ শতাংশ কর্মচারী হোটেল–মোটেলে অবস্থান করে সম্পদ পাহারা দিচ্ছেন।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, গত ৫২ দিনে সৈকত নগরীর প্রায় সাড়ে ৪০০ আবাসন প্রতিষ্ঠানে দিনে ক্ষতি প্রায় ১০ কোটি টাকা। আর আড়াই শতাধিক খাবার হোটেলে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি টাকা করে। হোটেল রিলেটেড আনুষঙ্গিক অন্যান্য সেক্টরে ক্ষতি প্রায় ৭ কোটি টাকা। কক্সবাজারে তারকা মানের হোটেল ৪৫টি, মাঝারি মানের হোটেল ২৩০টি। পৃথক সাতটি হোটেল মোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মোর্চা এই ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের আওতাধীন হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৭০৯। ১ এপ্রিল থেকে সব কটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এখানে হোটেল–মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে ৫২টি। কোনো হোটেল খোলা নেই দাবি করে সমিতির সাধারণ বলেন, ‘আমরা করোনার সংক্রমণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তারপরও কর্মচারীদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিতে হবে, হোটেল–মোটেল বন্ধ থাকায় ৫২টি হোটেল ও রিসোর্টের অন্তত পাঁচ হাজার কর্মচারী বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। অধিকাংশ কর্মচারীর বেতন–ভাতাও পরিশোধ হয়নি। তাই সীমিত আকারে হলেও সৈকত খুলে দেয়া উচিত।

ট্যুরস ওনার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজারে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে অর্ধকোটি পর্যটক আসেন। তাদের যাতায়াতে প্রতিদিন দূরপাল্লার অনেক বাস ও ১০-১২টি ফ্লাইট যাতায়াত করে। পর্যটক সেবায় থাকা হোটেল-মোটেল, কটেজ ও রেস্টুরেন্ট ও বিমান চলাচল সবই বন্ধ রয়েছে গত প্রায় দু’মাস। এতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যবসা ভেস্তে গেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, গত বছরের মতো এ বছরেও গত দুটি মাস কক্সবাজারে সব ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পর্যটনের অর্থনীতি নিম্নমুখী। আমাদের হিসাবে প্রতিদিন ৪৫ হতে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে আরো কিছুদিন চলতে থাকলে আরও ধস নামবে। ইতোমধ্যে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়া গেলে ক্ষতি কিছুটা এড়ানো সম্ভব।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প। এর প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত জানিয়ে রেখেছি। সরকারি সিদ্ধান্তে পর্যটনসেবীদের জন্য কোন বরাদ্দ এলে তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হবে। তবে, এখনো পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গুয়ার হাওর-নীলাদ্রিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

টাঙ্গুয়ার হাওর-নীলাদ্রিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি, টেকেরঘাট, বারেকাটিলাসহ পর্যটন এলাকায় জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুন) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির এ আদেশ জারি করেন।

উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার সব ধরনের পর্যটন এলাকায় জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় তাহিরপুর পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসে পর্যটকদের তাহিরপুর থানা পুলিশের সহায়তায় রাস্তা থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি কোনো পর্যটক বহন না করার জন্য নৌঘাট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, শুক্রবার থেকে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যদি কেউ আইন অমান্য করে পর্যটন এলাকায় ঘুরতে যান তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে তাহিরপুরে পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের রাস্তা থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

দ্রুত ওজন কমায় ৭ খাবারের সংমিশ্রণ

ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত মুটিয়ে যাওয়া বর্তমান সময়ের একটি কমন সমস্যা। খাবারের গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা না দিয়ে যারা জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন পন্থা রয়েছে। খাবার খেয়েও ওজন কমানো যায়। তাই যখন শরীরের মেদ ঝেড়ে ফেলতে চাইবেন, তখন বিশেষ কিছু খাদ্য উপাদান বেছে নিতে হবে।

কোনো নির্দিষ্ট খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে এটি অনেকটাই ভুল ধারণা। মজার তথ্য হচ্ছে— প্রায় সব খাবারেই ওজন কমানোর জন্য উপকারী উপাদান থাকে। একাধিক খাবারের মিশ্রণে দ্রুত ওজন কমতে পারে। কিছু খাবারের মিশ্রণ বাড়াতে পারে খাবারের তৃপ্তি ও দ্রুত বার্ন করতে পারে ক্যালোরি।

১. ভাত ও মসুর ডাল
আমরা সবাই বাড়িতে ডাল-ভাত খেয়ে থাকি। কিন্তু এটি আমাদের অনেকেরই জানা নেই যে অতিপরিচিত এ খাদ্য মিশ্রণটি ওজন কমাতেও সহায়তা করে।  যদিও মসুর ডাল প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং এটি তৃপ্তি অর্জনে সহায়তা করে। কিন্তু এর সঙ্গে চাল যোগ করা হলে তা একটি ভালো শক্তি-সরবরাহকারী কার্ব উত্স তৈরি করতে পারে। প্রতিদিন এটি খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

২. ওটসের সঙ্গে বাদাম ও বীজের মিশ্রণ
ওটস মিল হচ্ছে— ওজন হ্রাসকারী খাবারগুলোর মাঝে সর্বোত্তম। তবে ওটস মিলটি সঠিক উপায়ে ও মানসম্পন্ন উপাদানের খাওয়া ও চিনি ছাড়া গ্রহণ করলে তা আরও বেশি কার্যকরী। এর সঙ্গে আপনি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বাদাম ও বীজ যেমন, বাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।

৩. গ্রিন টি ও লেবু
গ্রিন টি হচ্ছে ক্যাটচিন এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এক পানীয়। এটি আপনাকে উত্সাহিত করার জন্য একটি ভালো ডিটক্সাইফায়ার এবং কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয় হতে পারে। দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি আপনার রক্তচাপকে স্থিতিশীল করতে ও ওজন কমাতে আশ্চর্যভাবে কাজ করতে পারে। সঙ্গে লেবুর রস যোগ করে নিলে এর পুষ্টিগুলো আরও বাড়াতে এবং আরও স্বাদ তৈরি করতে সহায়তা করে।

৪. পনির ও মুরগি মাংসের সঙ্গে শাকসবজি
প্রতিদিনের খাবারে স্বাস্থ্যকর শাকসবজি রাখা কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি ওজন কমানোর জন্যও দুর্দান্ত। তবে শাকসবজির সঙ্গে কোনো পুষ্টি সমৃদ্ধ প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন, পনির, মুরগি রাখতে হবে। এটি হবে একটি পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি একটি ওজন হ্রাসকারী দুর্দান্ত খাবারের মিশ্রণ।

৫. কফির সঙ্গে দারুচিনি
কফি হচ্ছে লো-ক্যালোরি যুক্ত অন্যতম জনপ্রিয় একটি পানীয়। তবে এ পানীয়টি চিনি ছাড়া খেলে উপকার পাওয়া যায় বেশি। চিনির বিকল্প হিসেবে এর সঙ্গে দারুচিনির টুকরো মিশিয়ে খেলে তা অনেক ভালো কাজে দেয়। এটির মিশ্রণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হয় এবং এতে প্রদাহ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য থাকে, যা ওজন কমাতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৬. আলুর সঙ্গে গোলমরিচ
আলু একটি শর্করাযুক্ত খাবার হওয়ায় তা মোটা হতে সাহায্য করে এ কথাটি সম্পূর্ণ ঠিক নয়। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ওটস মিল বা বাদামি চালের চেয়েও আলু বেশি ফাইবার সমৃদ্ধ। গোলমরিচের সিজনিংয়ের সঙ্গে আলু আপনার ওজন হ্রাস মিশনেও গতি বাড়াতে পারে।  গোলমরিচে একটি অপরিহার্য এক্সট্রাক্ট, পাইপেরিন থাকায় তা কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৭. নারিকেল তেলের সঙ্গে ডিম
ডিম হচ্ছে অন্যতম ওজন হ্রাসকারী খাবার এবং একই সঙ্গে এতে থাকে প্রোটিন, ওমেগা এবং বিভিন্ন মাল্টিভিটামিন। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি নিয়ে চিন্তিত থাকলে আপনি নারিকেল তেলে ডিম প্রস্তুত করে খেতে পারেন। নারিকেল তেলে এমসিটি থাকে (মাঝারি চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস), যা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি রোধ করে এবং আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য কমাতে সাহায্য করে।

 

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করে যেসব গাছ

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করে যেসব গাছ

নাসার ‘ক্লিন এয়ার স্টাডি’ অনুসারে কিছু সাধারণ ইনডোর প্ল্যান্ট আমাদের বাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস যেমন- ফর্মালডিহাইড, বেনজিন বা অ্যামোনিয়া থেকে শোষণ করে ঘরের বাতাসকে প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ করে।

স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী দুষিত বায়ু আমাদের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ, এর ফলে ২০১৬-১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নাসার পরীক্ষিত কিছু ইনডোর প্ল্যান্টসগুলো হলো:

স্নেক প্লান্ট

নাসার গবেষণায় এই ‘গার্ডেন মাম’ বাতাস পরিষ্কার করার জন্য অন্যতম সেরা একটি গাছ। এই গাছ ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে প্রচুর পরিমাণ অ্যামোনিয়া, বেন্জেনে, ফর্মালডিহাইড, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, জাইলিন দূর করে থাকে। জনপ্রিয় এই গাছটি অল্প খরচেই ঘরের টবে লাগানো যায়।

পিস লিলি

চমৎকার একটি বায়ু পরিশোধক গাছ। অল্প আলোতেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। এর হলুদ পাতা বুঝিয়ে দেবে সে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রোদ পাচ্ছে। স্বাভাবিক পরিমাণে পানি দিলেই যথেষ্ট। ঘরের বাতাস থেকে বেনজিন, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, ফর্মালডিহাইড, জাইলিন শোষণ করে। এতে গ্রীষ্মে ফুটবে খুব চমৎকার সাদা ফুল। তবে বিড়াল, কুকুর আর বাচ্চাদের কাছে থেকে দুরে রাখুন এ গাছ। কারণ গলায় বা পেটে গেলে চুলকাবে।

স্পাইডার প্লান্ট

এটি কার্বন মনোক্সইড, বেনজিন, ফর্মালডিহাইড, চামড়ায় ও রাবার থেকে নির্গত দূষণ শোষণ করে। গোড়ার মাটি শুকিয়ে গেলে এরপর পানি দিন। সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দুরে রাখুন।

বাঁশ পাম গাছ

বাতাস থেকে ফর্মালডিহাইড পরিশোধন করার সবচেয়ে কার্যকরী গাছ হচ্ছে বাঁশ পাম গাছ। পর্যাপ্ত সূর্যের আলোতে বেড়ে ওঠা এই গাছ ১০ থেকে ১২ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। প্রচুর পরিমাণ বাতাস পরিশোধন করতে পারে। বাঁশ পাম গাছ বাতাস থেকে বেন্জেনে, ফর্মালডিহাইড, ট্রাইক্লোরোইথিলিন নামক বিষাক্ত দূষণ মুক্ত করে। এটি দেখতে ছোট নারিকেল গাছের মত। আসবাপত্রের পাশে ছায়া যুক্ত জায়গায় রেখে দিন। আসবাপত্র থেকে নির্গত দূষণ শুষে নিবে। খুব বেশি পানি দিলে শিকড় পঁচে যেতে পারে। এছাড়াও পানি যেন জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

গোল্ডেন পথোস বা মানিপ্লান্ট

যে কোনো পরিবেশে বেঁচে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে। আলো ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে, তেমন কোনো যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। আপনার ঘরের যেকোনো কোনায় এই লতানো গাছটি দূষণ শোষণ করে বাতাসকে বাসযোগ্য করে রাখবে। এটি বেনজিন, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, ফর্মালডিহাইড, জাইলিন শোষণ করে।

অ্যালোভেরা

একটি দুর্দান্ত বাতাস বিশুদ্ধকারী প্ল্যান্টস। রান্না ঘরের পাশে ছোট বারান্দায় যেখানে রোদ আসে সেখানের জন্য একটি বাড়তি সংযোজন হতে পারে। কিচেনে রান্না করার জন্য উচ্চতাপমাত্রা থাকে। এই তাপমাত্রা কমানোর জন্য অ্যালোভেরা প্ল্যান্টস ৯০% ফর্মালডিহাইড ও বেনজিন দূর করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে। এছাড়াও বাতাসের বিষাক্ত ধূলিকণাগুলো নির্মূল করে বাতাসের গুনগত মান নিশ্চিত করে।

উইপিং ফিগ

এটি ওয়েপিং ফিগার বা ফিকাস ট্রি নামেও পরিচিত। নাসার স্টাডি অনুসারে, এই বাড়ির প্ল্যান্ট ইনডোর-এয়ার টক্সিন ফর্মালডিহাইড এবং জাইলিন অপসারণে দক্ষতার সাথে সক্ষম।

রাবার প্ল্যান্ট

ফিকাস ইলাস্টিক (সবচেয়ে বেশি রাবার প্ল্যান্ট, রাবার ট্রি বা রাবার ট্রি গাছ হিসাবে পরিচিত) এটি একটি জনপ্রিয় হাউজপ্ল্যান্ট কারণ এর মোমের প্রলেপযুক্ত পাতার জন্যে। গৃহপালিত হাউজপ্ল্যান্ট হিসাবে রাবার গাছ ছয় থেকে দশ ফুট লম্বা পর্যন্ত যে কোনও জায়গায় বৃদ্ধি পায়। রাবার প্ল্যান্ট তাদের অপ্রতিরোধ্য উচ্চতা এবং সুন্দর পাতার জন্য পরিচিত। সূত্র: মাশরিটা নেচার ক্লাউড।

হোটেল রেস্ট্রুরেন্টে শ্রেণীভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি

হোটেল রেস্ট্রুরেন্টে শ্রেণীভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি

দেশের সব হোটেল-রেস্টুরেন্টে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শ্রেণিভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে চার ও পাঁচ তারকা হোটেল-রেস্টুরেন্টের ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ রেখে বিদেশি খাবার বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ এবং নিম্ন ও মাঝারিমানের রেস্টুরেন্ট এবং স্ট্রিট ফুডের জন্য ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১২ জুন) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাকক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিন, মহাসচিব ইমরান হাসান, যুগ্ম-মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া, শিল্পকারখানার ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া ও হোস্টেলের খাবারের ওপর ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে বিভিন্ন শ্রেণির হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। তাদের ব্যবসায়িক পরিধিও একেক রকম। কিন্তু সাবিকভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্তিযুক্ত নয়। ভ্যাটের হার বেশি হওয়ায় অনেকে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আর যারা নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছেন, তারা পড়ছেন বিপদে। তাদের খাবারের দাম বেশি হওয়ায়, যারা ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, এ কারণে সরকার রাজ¯^ হারাচ্ছে। সঠিক হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে এ খাত থেকে ২৩শ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা সম্ভব।

ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টগুলোকে একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আওতায় নেয়া এবং শিল্পের মর্যাদার দাবি জানিয়ে বলা হয়, সরকারের ১৩টি সংস্থা রেস্টুরেন্টগুলোকে পরিচালনা করছে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য এতো সংস্থার সঙ্গে সমš^য় করতে হয়। লাইসেন্স নিতে হয়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করতে প্রচুর খরচ হয়।

সভাপতি ওসমান গনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসগুলো স্বেচ্ছাচারী ব্যবসা পরিচালনা করছে। যা এই হোটেল-রেস্তোঁরা খাতকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের কারণে এ খাতের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বড়দের প্রমোশন করছে ফলে ছোটরা পিছিয়ে পড়ছে।

ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, তৃতীয়পক্ষের ভাড়া করা লোকের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। ভ্যাট কর্মকর্তাদের অসৌজন্য ও হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধে সরকার প্রধানের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন থাকছে।

পর্যটন’ নামে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি

পর্যটনকে 'শিল্পখাত' হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

দেশের পর্যটন খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা, এর সঙ্গে যুক্তদের শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা, মজুরি কাঠামো প্রণয়নসহ ‘পর্যটন’ নামে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন।
গতকাল  জাতীয় প্রেস ক্লাবের ‘বাজেট ভাবনা: করোনাকালে বিপর্যস্ত পর্যটন খাত এবং পর্যটন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, করোনা সংক্রমণের পূর্বে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ছিল ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই খাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে ২০৫০ সাল নাগাদ ৫১টি দেশের পর্যটকরা বাংলাদেশ ভ্রমণ করবে, যা দেশের মোট জিডিপিতে ১০ শতাংশের বেশি ভূমিকা রাখবে। পর্যটন খাতের ৪০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল প্রায় ২ কোটি জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই খাতকে দেশের অর্থনীতির একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সভায় করোনায় বিপর্যস্ত পর্যটন খাত পুনর্গঠন, শ্রমিক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং  অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুরক্ষা সামগ্রী ও টিকা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, পর্যটনকে অনেকেই শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে চান না। অথচ গুরুত্ব বিবেচনায় এই পর্যটন খাতকে শিল্প হিসেবে যুক্ত করার সময় এসেছে। শ্রম আইনে শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাগে যুক্ত করা আছে। পর্যটন শ্রমিকদেরও একই আইনে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করার প্রয়োজন।

তাদের গ্রেডভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রয়োজন। আর এসব দাবি আদায় করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস, বায়ার, এনজিও এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কনসালটেন্টরা দেশে আসছে, কাজের বাইরে তারা ঘুরতে চাইছে এবং বিদেশি ডলার খরচ করছে। এক্ষেত্রে পর্যটনের লোকেরা দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। অথচ এ খাত থেকে দেশ হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করলেও পর্যটনের সঙ্গে যুক্তদের চেহারায় অপ্রাপ্তির ছায়া দেখতে পাই।
সংগঠনের আহ্বায়ক মো. রাশেদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর প্রমুখ।

সকালে লেবুপানি কেন খাবেন, কীভাবে খাবেন

ছবি: পেকজেলসডটকম

* চা, কফি পানিশূন্যতা বাড়ায়। আর গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খেলে তা সারা রাতের পানিশূন্যতা দূর করে।
* একটু মধু মিশিয়ে খেলে কম ক্ষুধা লাগবে। ফলে খাওয়া কম হবে।
* লেবু, গরম পানি খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করুন।
* লেবুতে অ্যাসিডিটি হলে বাদ দিন।

অনেকেই সকালটা শুরু করেন এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি বা চায়ের সঙ্গে। এতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই দিনটা শুরু হোক এক গ্লাস গরম পানিতে দুই চামচ লেবুর রস দিয়ে। চাইলে আপনি এক চামচ মধুও যোগ করতে পারেন। জেনে নেওয়া যাক, কেন এই পানীয় দিয়ে শুরু করবেন আপনার দিন।

সকালে খালি পেটে ৪০০ মিলিলিটার পানি খেলে তা বিপাকক্রিয়ার হার বাড়ায়। ফলে সারা দিনে আপনি যা খান, তা সহজে হজম হয়। লেবুপানির বদলে লেবুর খোসা চিবিয়ে খেলেও তা হজবে সুবিধা করবে। সকালে খালি পেটে লেবু–মধু–পানি খেলে কম ক্ষুধা লাগে। খাওয়ার পরিমাণও কমে যায়। ফলে কম ক্যালরি খাওয়া হয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

লেবুর রস গরম পানি দিয়ে পান করতে খারাপ লাগলে এর সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন মধু ও সামান্য লবণ। কোষ্ঠকাঠিন্যকে বিদায়ের জন্য এটি খুবই কাজে দেয়। সারা দিন সতেজ রাখে সকালের গরম লেবুপানি।

তবে শুধু লেবু–মধু–পানি পান করলে ফ্যাট ক্ষয় হয় বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চর্বি ক্ষয় করার জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। আর ক্যালরি ক্ষয় বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম। তবে লেবুপানি খেয়ে ব্যায়াম করলে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ বাড়ে। তাই লেবুপানি, খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়াম—সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

ছবি: পেকজেলসডটকম

রাতে দুই প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ঘুমিয়ে উঠে লেবুপানি খেয়ে ভাবেন যে সব ক্যালরি উড়ে যাবে, সেটা ভুল। লেবুপানির সঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়াম দুটিই জরুরি।
লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। তাই লেবুপানি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেয়। আবার গবেষকদের মতে, ভিটামিন সি বলিরেখার পড়তে দেয় না। ভিটামিন সির কোলাজেন ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে।

তবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি থাকায় লেবু দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর। তাই লেবুপানি পান করলে অবশ্যই কুলি করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। আর যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তারা এড়িয়ে চলবেন বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লেবুপানি পান করবেন।