বৃক্ষ রোপণের হিসাব আছে নিধনের নেই!

প্রতি বছর সরকারিভাবে বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বছরে কী পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে তার কোনও হিসাব কারও কাছেই নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাছ লাগাতে বা কাটতে কারও কোন অনুমতি প্রয়োজন হয় না। সঙ্গত কারণে এই হিসাব রাখারও কেউ নেই। পরিবেশ রক্ষায় সরকার মাটির উপরিভাগ কেটে যত্রতত্র পুকুর খনন বন্ধ করেছে। পুকুর খনন করতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। আবার জলাশয় ভরাট করতে হলেও একইভাবে প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। গাছ কাটার ক্ষেত্রেও এমন কোন বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা গেলে অকারণে নিধনের হাত থেকে জীবন বেঁচে যেত অনেক বৃক্ষের। যাতে পরিবেশের টেকসই উন্নতি হতো।
সরকার প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে চলছে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি। এই গাছ রোপণের পাশাপাশি যাতে গাছ নিধনও বন্ধ হয় সেই বিষয়ে জোর দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। গাছ নিধনে তারা চান কঠোর আইনের প্রয়োগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে একটি করে ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। সরকার চাইলে খুব সহজে এদের কাজে লাগিয়ে প্রতিটি গ্রামের গাছের একটি হিসাব বের করতে পারে। একইসঙ্গে এসব গাছের বয়সও বের করা যায়। এরপর এগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে এই কাজ করানো যেতে পারে। তারা বলছেন, সারাদেশের বৃক্ষের একটি চিত্রের সঙ্গে কোন এলাকায় কতটুকু সরকারি জমি রয়েছে, সেখানে কী পরিমাণ গাছ লাগানো যেতে পারে তাহলেই পরিবেশের টেকসই উন্নতি সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, গাছ রোপণ খুব ভাল উদ্যোগ। তবে গাছ রোপণের পাশাপাশি অনেক পুরানো গাছগুলো বাঁচানোও জরুরি। পরিবেশ ও প্রতিবেশ বাঁচাতে নতুন গাছের জন্ম যেমন জরুরি তেমনি পুরানো গাছও ইকো সিস্টেমের একটি অংশ। তাই সেগুলো বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না সেগুলো যেন পরিবেশ উপযোগী গাছ হয়। ফল ফুল দেয়, পাখিরা বসে। তাহলে ইকোসিস্টমের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে পালন করছে সারাবিশ্বের মানুষ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও দিবসটি পালন করছে। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন বা ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ সকল জাগতিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত গাছপালা, পশুপাখি অতি আহরণের ফলে জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানের উৎপাদন পদ্ধতি এবং ভোগবাদী জীবনযাপন অব্যাহত থাকলে ধরিত্রীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা অচিরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। আমাদের সকলকেই তাই প্রতিবেশ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই ধারাবাহিকতায় সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পূর্বক বাসযোগ্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসাবে দেশব্যাপী বিনামূল্যে এক কোটি বৃক্ষের চারা রোপণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে যা পরিবেশ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষে আজ জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২১ এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১টায় গণভবনে ‘সোনালু’ ,‘জাম’, ‘আমড়া’ ও ‘ডুমুর’ গাছের ৪টি চারা রোপণের মাধ্যমে এই অভিযানের উদ্বোধন করেন।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, ‘মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি’ প্রতিপাদ্যে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২১ উদযাপন করা হবে। এ শ্লোগান মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার বাংলাদেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে দিতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে উজ্জীবিত করবে।
জানতে চাইলে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, গাছ শুধু রোপণ করলেই হবে না সেগুলো সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় রোপণ করা হচ্ছে কিনা তাও দেখা দরকার। রোপণের পরের পরিচর্যার কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তাও মনিটরিং জরুরি।

বর্ষাকালে করোনা সতর্কতা

বর্ষাকালে করোনা সতর্কতা
tourism-bd.com

করোনা পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। তারপর আবার দরজায় কড়া নাড়ছে বর্ষা। এই সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর মতো রোগ দ্রুত সংক্রমিত হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সমস্ত রোগ আমাদের হজমশক্তিকে দুর্বল করে তোলে। সেই কারণেই আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে৷ এই সময় কী খাবেন, কীভাবে শরীরের যত্ন নেবেন-সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ।

কী খাবেন, কী খাবেন না

প্রতি বছর বর্ষার সময়ে অপ্রত্যাশিত রোগগুলো বিশেষ করে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে করোনার সংক্রমণের পাশাপাশি এই রোগগুলোও বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। একাধিক সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, মহামারী সৃষ্টিকারী বিভিন্ন রোগ বর্ষায় তার প্রভাব ও সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই এই সময়  ডিম, দুধ, মাংস এবং ডালের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবারগুলো অবশ্যই খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।

শরীরকে হাইড্রেট রাখতে বেশি করে পানি খেতে হবে। যাতে শরীরে পানির অভাব না হয়। দিনে কম করে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া দরকার। পানির বিষয়ে অবশ্যই খুব সচেতন হতে হবে।

দই ও অন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। বর্ষাকালে আপেল, পেয়ারা, কলা, নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি গ্রহণের চেষ্টা করুন। এছাড়া, দুগ্ধজাত দ্রব্য নিয়মিত খাওয়া দরকার। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

কী করবেন, কী করবেন না

বৃষ্টিতে যেনো না ভিজে যান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বাড়ি ফিরেই গোসল করে নিন। তারপর শরীর ভালোভাবে মুছে নিন। চোখে আঙুল দেওয়ার অভ্যাস বা চোখ চুলকানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

কারও কনজাংটিভাইটিসের সমস্যা হলে আলাদা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সেই চোখ মুছতে হবে। সমস্যা সেরে গেলেও কিছুদিন এটা মেনে চলতে হবে। কারও চোখে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই  বারবার বিছানার চাদর বদলানো, বালিশের কভার বদলান৷ চোখে ঠান্ডা সেঁক নিয়মিত দিতে হবে। নিয়মিত ব্যয়াম করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান, তাতে শরীর সুস্থ থাকবে।

ভিজে বা স্যাঁতস্যাঁতে মাস্ক পরবেন না

ভিজে বা স্যাঁতস্যাঁতে মাস্ক মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাসের সহজ প্রবেশপথ হয়ে উঠতে পারে। মাস্ক যত দামি হোক না কেন, ভিজলেই তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।  ভিজে মাস্কে শরীরে জীবাণু ঢোকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। মাস্কের ভেজা অংশে ভাইরাস জন্মাতে পারে। তাই অতিরিক্ত মাস্ক সঙ্গে রাখতেই হবে। সেক্ষেত্রে ডিসপোজেবেল মাস্ক থাকলে ভাল।

টিকা নেওয়ার পর কী খাবেন আর কী খাবেন না

টিকা নেওয়ার পর কী খাবেন আর কী খাবেন না

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়েছে গোটা বিশ্ব। করোনার সংক্রমণ কীভাবে হ্রাস করা যায় তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা্। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে টিকা দেওয়ার পর্ব। তবে করোনা টিকা দেওয়ার আগে ও পরে খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। সেই সাথে পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম করা জরুরি।

শাকসবজি: আপনার খাবারে সবুজ শাকসবজির পরিমাণ বাড়ান, কারণ এগুলি পুষ্টি, খনিজ এবং ফেনলিক যৌগগুলি দ্বারা পূর্ণ। সবুজ শাকসবজি রান্না করে খেতে পারে আবার সালাদ বানিয়েও খেতে পারেন।

হলুদ: স্বাস্থ্যের জন্য কার্কুমিনের উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। হলুদ কেবল আপনার অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে তোলে না, সেই সঙ্গে এটি দুঃশ্চিন্তা কমায়। হলুদ তরকারিতে দেওয়া যেতে পারে আবার দুধের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।

আদা: এটি আপনার দেহের উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং করোনার মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও আদা স্ট্রেস কমাতেও সহায়তা করে, তাই টিকাদানের স্ট্রেস দূর করার জন্য অবশ্যই এটি গ্রহণ করা উচিত। আদা কেবল তরকারিতে নয়, চা, আচারেও দেওয়া যায়। এছাড়া এমনিতেও আদা খাওয়া যায়।

ফল: ফলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে, তাই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাদ্য তালিকায় এটি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। আনারস, আম, কলা, এবং তরমুজ চলতি মৌসুমে পাওয়া যাবে। তাই এখন এই ফলগুলো আপনি আপনার খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত রাখুন, কারণ এগুলো আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করবে।

রসুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, কোলেস্টেরল এবং নাড়ির স্পন্দন হ্রাস করতে এবং ক্যানসার প্রতিরোধের জীবাণুকে ধারণ করার সময় ক্ষেত্রে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে রসুন।

পানি:  টিকাগ্রহণের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধ করতে সকলকেই অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। ভ্যাকসিন নেওয়ার একদিন আগে এবং ভ্যাকসিন নেওয়ার কিছুদিন পর স্বাভাবিক তাপামাত্রায় রাখা পানি পান করতে হবে। এছাড়া, ঘরে বানানো স্যুপ, অর্গানিক চা এবং জুস আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন: প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের উপর কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞার রয়েছে। এর পরিবর্তে  ওট, কর্ন, মিললেট, ব্রাউন রাইস, কুইনো এবং গোটা রুটির খাবারের মতো খাবার তালিকায় রাখুন যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট অসুস্থতার ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়া ডার্ক চকলেট ভ্যাকসিন নেওয়ার পর খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকেন/ভেজিটেবিল স্যুপ: এটি আপনার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই টিকা গ্রহণের পর চিকেন বা ভেজিটেবিল যে কোন ও একটি স্যুপ আপনি অবশ্যই আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

ব্রকোলি: ক্রোকিফেরাস শাকসবজি যেমন ব্রকোলির মতো সবজি গ্রহণ করলে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অসুস্থতা নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করা সম্ভব হয়। ব্রকোলি রান্না করে, স্টিম করে এমনকি সেদ্ধ করেও খাওয়া যেতে পারে।

টাঙ্গুয়া হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অতিথি পাখি

একটা সময়ে ঝাঁক বেঁধে আসা অতিথি পাখির শব্দে আমরার ঘুম ভাঙতো। বোঝা যেতো হাওরে অতিথি পাখি আসছে। পাখিরা দল বেঁধে এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে উড়াল দিলে ঝড়ের মতো শব্দ বাড়ী থেকে শোনা যেত। কিন্তু এ শব্দ গত কয়েক বছর ধরেই তা আর পাই না ।  অতিথি পাখি কম আসছে দেখে পর্যটকরাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কথাগুলো বলছিলেন, তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের গোলাবাড়ী গ্রামের মো. সবুজ মিয়া।

টাঙ্গুয়া হাওরটি আন্তর্জাতিক জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক কনভেনশন স্বীকৃত দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে ঘোষিত। অন্যান্য বছরের মতো হাওরে এখনও বিপুল পরিমাণ অতিথি পাখি না আসায় পর্যটকরা হতাশ।

হাওর পাড়ের মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন, এ বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখির আগমন খুবই কম। আগে হাওরের বিল-জলাশয়-কান্দায় ডিসেম্বর মাস এলে পাখির মধুর কলকাকলিতে মুখরিত হতো।

দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এসে এবার পাখি দেখতে না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন।
তরং গ্রামের দেলুয়ার তালুদার জানায়, শীত মৌসুমে টাঙ্গুয়ার প্রধান সৌন্দর্য অতিথি পাখি। কিন্তু এবার এখনও অতিথি পাখি না আসায় টাঙ্গুয়ার সৌন্দর্য অনেকটা ম্লান। সে আরো জানায়, নির্মিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পাখি না দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে হাওরে আসা পর্যটকদের।
পাখি না আসার কারন হিসেবে স্হানীয়রা জানান, টাঙ্গুয়ার দায়িত্বে থাকা আনসার, কমিনিউটিগার্ড ও নৌকার মাঝিদের ম্যানেজ করে রাতের আধারে টর্চ লাইট, জাল ও বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার করার ফলে এ হাওর থেকে পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বার্ডস ক্লাবের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি মাসে অতিথি পাখির আগমন কম দেখা গেলেও ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে তা বাড়বে।
হাওর পাড়ের গ্রামবাসী জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে নানা প্রজাতির জলাবন, হিজল কড়চ, নলখাগড়ার বন কমে যাওয়া, শ্যালো মেশিনের শব্দে এবং চোরাই শিকারিসহ নানা কারণে অতিথি এখন পাখি কম আসছে। ভবিষ্যতে সাবধান না হলে এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাখির আগমন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে বলে  তারা জানান ।
আইইউসিএনের পাখি বিজ্ঞানীদের মতে, টাঙ্গুয়া হাওরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় প্যালাসিস ঈগল রয়েছে। কালেম, পানকৌড়ি, ভূতিহাঁস, পিয়ংহাঁস, খয়রাবগা, লেঞ্জাহাঁস, নেউপিপি, সরালি, রাজসরালি, চখাচখি, পাতি মাছরাঙা, পাকড়া মাছরাঙা, মরিচা ভূতিহাঁস, সাধারণ ভূতিহাঁস, শোভেলার, লালশির, নীলশির, পাতিহাঁস, ডাহুক, বেগুনি কালেম, গাঙচিল, শঙ্কচিল, বালিহাঁস, ডুবুরি, বক, সারসসহ প্রায় ২১৯ প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি রয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ প্রজাতির পরিযায়ী, ১২১ প্রজাতির দেশি ও ২২ প্রজাতির হাঁসজাত পাখি।
এ ছাড়া ২০১১ সালের জরিপে টাঙ্গুয়ার হাওরে ৬৪ হাজার পাখির অস্তিত্ব ছিল। এতে ৮৬ জাতের দেশি এবং ৮৩ জাতের বিদেশি পাখি ছিল।
ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়া হাওরে পাখি দেখতে আসা বদরুল আলম জানান, অতিথি পাখি প্রতি বছর ডিসেম্বরের শুরুতে দল বেঁধে হাওরের জলে কেলি করে। দল বেঁধে কান্দা জাঙ্গালের গাছের ডালে ডালে সঙ্গিনী নিয়ে ওড়াউড়ি করে। কখনো বা নলখাগড়ার বনসহ অন্যান্য জলাবনের ভেতরে ঢুকে খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখার কথা থাকলেও এ বছর এ দৃশ্য এখনও দেখা যাচ্ছে না।

বুধবার টাঙ্গুয়া হাওরের পাখির অভয়াশ্রমখ্যাত লেচুয়ামারা ও বেরবেরিয়া জলাশয়সহ ইকইরধাইড়, বিয়াসখালি, রৌয়া, রুপাভুই, হাতিরগাতা, চটাইন্ন্যা জলাশয়ে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পাখির সংখ্যা খুবই কম। গোলাবাড়ী কান্দায় পাখি দেখার নির্মিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পাশের লেচুয়ামারা-রৌয়া বিলে আশানুরূপ পাখি দেখা যায়নি। তবে, ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখা গেছে একশ্রেণির পাখি শিকারি নলখাগড়া বনের ঝোপে ও পানিতে ফাঁদ পেতে রাখতে ।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ বছর অন্য বছরের তুলনায় হাওরে অতিথি পাখি একটু কম । গতকাল (মঙ্গলবার) এক পাখি শিকারীর কাছ থেকে একজন একটি পাখি ক্রয় করে নিয়ে আসার পথে তাকে আটক করে জরিমানা নিয়ে মুছলেখা রেখে পাখিটি অবমুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যাতে পাখি শিকারীরা পাখি ধরতে না পারে সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কঠোর রয়েছে।

পেটের মেদ কমাতে সকালের নাস্তায় এই ৫টি খাবার এড়িয়ে চলুন

পেটের চর্বি কমাতে নাস্তায় কয়েকটি খাবার এড়িয়ে চলা ‍উচিত।

১. প্রসেসড ফুড- সকালে ব্রেকফাস্টে প্রসেসড ফুড খাওয়া একেবারে বাদ দিতে হবে। সাধারণত প্রসেসড ফুডে প্রিজারভেটিভ থাকে। এজন্য প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এছাড়া চিপস, পপকর্ন, ফ্রোজেন ফুড এই সব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

২. কেক ও কুকিজ- কেক বা কুকিজ বানানোর জন্য ময়দা, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট ব্যবহার করা হয়ে থাকে ৷ এই সমস্ত উপকরণ শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক ৷ সকালের নাস্তায় সবসময় চেষ্টা রুটি, ডিম,সবজি,ফল খেতে।

৩. নুডলস- নুডলস ময়দার তৈরি ৷   খেতেও বেশ সুস্বাদু  হলেও সকালের নাস্তায় নুডলস এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

৪. ফ্রুট জুস- অনেকেই মনে করেন বাজারে যে ফ্রুট জুস পাওয়া যায় সেটি নাস্তার জন্য ভালো৷ কিন্তু তা একদন ভুল ধারনা ৷ এই জুসে অতিমাত্রায় চিনি দেওয়া থাকে যা আপনার ওজন বাড়িয়ে দেয় ৷ এর জায়গায় বাড়িতে তৈরি ফ্রেস জুস বা গোটা ফল খান ৷ এতে ফাইবার থাকবে অনেক বেশি মাত্রায় এবং চিনিও থাকবে না ৷

৫. পুরি পরোটা- সকাল সকাল তেলে ভাজা খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো ৷ পুরি, পরোটা, পকোড়ার বদলে রুটি,ওটস, ফল খেতে পারেন ৷

লাউয়াছড়া বনে মিললো ‘লাল চোখের ব্যাঙ’

বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘লাল চোখের ব্যাঙ’ পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। সন্ধান পাওয়া নতুন এই ব্যাঙের শরীরের রং ধূসর থেকে কালচে, শরীরে রয়েছে কালো ছোপ। লাউয়াছড়া বনে গবেষণাকালে নতুন এই ব্যাঙের দেখা পান বন্যপ্রাণী গবেষক হাসান আল-রাজী ও মার্জান মারিয়া। তাদের গবেষণার কাজটি রাশিয়া থেকে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিক পয়ারকভ। পরে ওই দুজন বন্যপ্রাণী গবেষক আবিষ্কার করলেন এই ব্যাঙের আসল পরিচয়। তারা ব্যাঙটির বাংলা, ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেছেন। গবেষকরা এই ব্যাঙের নাম দিয়েছেন ‘সিলেটের লাল চোখ ব্যাঙ’। ইংরেজি নাম ‘সিলেটি লিটার ফ্রগ’।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষণাপত্রেও স্থান পেয়েছে ব্যাঙটি আবিষ্কারের কাহিনী, তথ্য-উপাত্ত। নতুন প্রজাতির এই ব্যাঙ আবিষ্কারের আগে বাংলাদেশে মোট ৫৩ প্রজাতির ব্যাঙ ছিল। এটি আবিষ্কারের ফলে এখন ৫৪টি প্রজাতি হয়েছে। গত ২৮শে মে এই ব্যাঙ নিয়ে তাদের গবেষণাপত্রটি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত ‘জার্নাল অব নেচার হিস্ট্রি’তে ছাপা হয়েছে। ফলে বিশ্বের ব্যাঙ-তালিকায় নতুন প্রজাতির আরেকটি ব্যাঙ যুক্ত হলো। গবেষক দলের সদস্য হাসান আল-রাজী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, এতদিন ব্যাঙটিকে লেপটোব্রাচিয়াম স্মিথি (খবঢ়ঃড়নৎধপযরঁস ংসরঃযর) প্রজাতির মনে করা হতো। কিন্তু তারা মনে করেন, এই প্রজাতির ব্যাঙের বিস্তৃতি বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে, ইন্দোনেশিয়া ও আশপাশে। পাখি হলে আসতে পারে। কিন্তু ব্যাঙ তো এত দূর আসতে পারে না। এসব কিছু চিন্তা করে তাদের মনে হয়েছে, বাংলাদেশে যে লেপটোব্রাচিয়াম প্রজাতিটি আছে, সেটা লেপটোব্রাচিয়াম স্মিথি হতে পারে না।

এসব চিন্তাভাবনার মাঝে তাদের সঙ্গে রুশ অধ্যাপক নিক পয়ারকভের যোগাযোগ হয়। এরপর তারা তিনজন মিলে একটা গবেষণা পরিকল্পনা করেন। এরপরই গত বছরের জুন মাসে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে এই দুই গবেষক প্রবেশ করেন লাউয়াছড়া বনে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এক সপ্তাহ কাজ করেন। মাঠ থেকে ফিরে ব্যাঙ নিয়ে গবেষণার অন্য ধাপ শুরু করেন। প্রথমেই ব্যাঙটির শারীরিক মাপ নেন। তারপর বাকি কাজটুকু করেন গবেষণাগারে। পুরো কাজ রাশিয়া থেকে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতা করেছেন নিক পয়ারকভ। নতুন প্রজাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা এই ব্যাঙের শারীরিক পরিমাপ, এদের মলিকুলার বিশ্লেষণের পাশাপাশি এদের ডাকের বিশ্লেষণও করেন।

তখনই তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই প্রজাতির ব্যাঙ অন্য ব্যাঙের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ গবেষক জানান, বিশ্বের জন্য এই ব্যাঙ প্রথম আবিষ্কার। যদিও আগেও এটি ছিল। কিন্তু ভিন্ন প্রজাতির পরিচয়ে। সব ব্যাঙের ডাক কাছাকাছি মনে হলেও এটির ডাক অন্য প্রজাতির ব্যাঙ থেকে আলাদা। ডাক অনেকটা হাঁসের মতো। নতুন প্রজাতি পেলে তার একটি বায়োলজিক্যাল নাম দিতে হয়। সিলেট অঞ্চলের হওয়ায় তার বৈজ্ঞানিকসহ সব নামকরণ সেভাবে করা হয়েছে। গবেষক দলের অপর সদস্য মার্জান মারিয়া জানিয়েছেন, এই ব্যাঙগুলো মূলত বনের ভেতর ঝরাপাতার মাঝে মিশে থাকে।

তবে প্রজননের সময় এরা ঝরাপাতা ছেড়ে ছড়ায় নেমে আসে। ছড়ার প্রবহমান স্বচ্ছ পানিতে ডিম দেয়। ডিম ফুটে ব্যাঙাচিগুলো ছড়ার পানিতে বড় হয়। ঝরাপাতায় থাকে বলে এই ব্যাঙকে ইংরেজিতে ‘লিটার ফ্রগ’ বলে।

ফ্রি ফায়ার আর পাবজির মাধ্যমে টাকা যাচ্ছে বিদেশে

অনলাইন গেম ফ্রি ফায়ার আর পাবজির মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এসব টাকার বেশির ভাগ খরচ করছে কিশোর ও তরুণরা। শুধু খেলার নেশায় অভিভাবকদের পকেট থেকে এসব টাকা খরচ করছে তারা। অনলাইন দুনিয়ায় বিভিন্ন পেজ খুলে ওই দুটি গেমের জন্য নানা অফারের ছড়াছড়ি। ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো খেলায় যারা আসক্ত তাদের বেশির ভাগ সময় কাটে অনলাইন দুনিয়ায়। নিজেরা গেমের সরঞ্জামাদি কেনার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক কিশোর ও তরুণ ওই দুটি গেম খেলতে গিয়ে নিজেরাও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। পড়ার টেবিল ছেড়ে তারা মত্ত অনলাইন দুনিয়ায়।

সম্প্রতি ফেসবুক পেজে একজন লিখেছেন, কমার্স পরিচালনা করছেন এবং ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করেন এরকম কেউ থাকলে দয়া করে পরামর্শ দিবেন। আমার ডিজিটাল গিফট কার্ডের অনলাইন শপ আছে। শপের নাম মেনশন করছি না। গত মাসে এক কাস্টমার তার বাবাকে না জানিয়ে বাবার কার্ড দিয়ে আমার সাইটে পরপর আটদিন ১২টা অর্ডার করেন। পাবজি ইউসির অর্ডার ছিল। পুরো এমাউন্ট প্রায় ২ লাখ টাকা। আটদিন পর বাবার টনক নড়ায় তিনি ব্যাংকে চার্জব্যাক ক্লেইম করেন। ব্যাংকে অভিযোগ করেন যে, তার মোবাইল হ্যাক হয়েছিল। এরপর পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে নোটিফিকেশন আসায় আমি সব অর্ডারের ইনভয়েস ইমেইল করি। আমার কাছে সার্ভিস ডেলিভারির সব প্রুফ আছে। কাস্টমারকে ফোন করেও রিকুয়েস্ট করেছি যেন বাবাকে বলে ব্যাংক থেকে চার্জব্যাক ক্লেইম তুলে নেন। তিনি লিখেন, এরকম পরিস্থিতিতে আমার টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? ব্যাংক যদি আমার টাকা আটকেও রাখে আমার কি করা উচিত? আমার ওয়েবসাইটে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন এবং রিফান্ড পলিসি সব উল্লেখ আছে। ই-কমার্সের ট্রেড লাইসেন্সও করা আছে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ চাইছি। এটা একটা উদাহরণ। এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। অনেক কিশোর ও তরুণ অভিভাবকের বিকাশ, নগদ, রকেট, ইউপে ও বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের পিন নাম্বার নিয়ে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলার জন্য খরচ করছে। অনলাইনে একেকটি পেজ খেলোয়াড়দের জন্য একেক রকম প্যাকেজ অফার দিয়ে থাকে।
কেকেআর নামের গেমিং পেজে পাবজি খেলার জন্য ৫৫ টাকা থেকে শুরু করে ৪০ হাজার ৫শ’ টাকার ইউসি (খেলার সরঞ্জামাদি কেনার মুদ্রা) কেনার প্যাকেজ রয়েছে। অফারে বলা হয়েছে- ৩২ ইউসির দাম ৫৫ টাকা, ৬০ ইউসির দাম ৯৫ টাকা, ৬৩ ইউসির দাম ১০০ টাকা, ৭৪ ইউসির দাম ১২০ টাকা, ১২০ ইউসির দাম ১৯০ টাকা, ১২৬ ইউসির দাম ২০০ টাকা, ১৪৮ ইউসির দাম ২৪০ টাকা, ১৯৮ ইউসির দাম ৩০০ টাকা, ৩২৫ ইউসির দাম ৪৩৫ টাকা, ৩৯৬ ইউসির দাম ৬০০ টাকা, ৬৬০ ইউসি (রয়েল পাস) দাম ৮৭০ টাকা, ৬৯০ ইউসির দাম ৯২০ টাকা, ৭৫৫ ইউসির দাম ১০২০ টাকা, ৭৮৬ ইউসির দাম ১০৬০ টাকা। এভাবে ৪০ হাজার ৫শ’ ইউসির দাম ৪০ হাজার ৫শ’ টাকা। অন্যদিকে একইভাবে ফ্রি ফায়ার গেমের জন্য বিক্রি হয় ডায়মন্ড (সরঞ্জামাদি কেনার মুদ্রা)। দরবার গেমিং নামের একটি পেজে ফ্রি ফায়ার ডায়মন্ডের বিশেষ অফার দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ১০০ ডায়মন্ডের দাম ৮০ টাকা, ২০০ ডায়মন্ডের দাম ১৬০ টাকা, ৩১০ ডায়মন্ডের দাম ২৪০ টাকা, ৫২০ ডায়মন্ডের দাম ৪০০ টাকা, ১০৬০ ডায়মন্ডের দাম ৮০০ টাকা, ২১৮০ ডায়মন্ডের দাম ১৬০০ টাকা, ৫৬০০ ডায়মন্ডের দাম ৪০০০ টাকা, ১১,২০০ ডায়মন্ডের দাম ৮ হাজার টাকা। বিশেষ অফারে আরো আছে লেভেল আপ পাস ১৬০ টাকা, সাপ্তাহিক মেম্বারশিপ ১৬০ টাকা, মাসিক মেম্বারশিপ ৬৪০ টাকা। এসব প্যাকেজের জন্য টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ ও ইউপের মাধ্যমে। অনলাইন গেমের মুদ্রা ব্যবসায়ীরা জানান, দুটি গেমের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজে মুদ্রা বিক্রি করলেও আমাদের লাভ থাকে কম। মূলত নিজেদের গেমের টাকা তুলতে বেশিরভাগই ওই মুদ্রার ব্যবসায় নামেন। একটি পেজের এডমিন ও মালিক মানবজমিনকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সার্ভার থেকে গেম দুটির মুদ্রা কিনতে হয়। এজন্য আমাদের ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ডের ব্যবহার করতে হয়। ডলার পেমেন্টের মাধ্যমে আমাদের ওই মুদ্রা কিনতে হয়। হাজারে ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ থাকে।
বাকি টাকা পাঠিয়ে দিতে হয় বিদেশে। বর্তমানে বাংলাদেশে যারা ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলছেন তারা বেশিরভাগ মালয়েশিয়ার সার্ভার থেকে নেয়া মুদ্রা ব্যবহার করছেন। কারণ অন্যান্য দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ার সার্ভারের দাম অনেক কম। একেকটি পেজ থেকে দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার অনলাইন গেম মুদ্রা বিক্রি হয়। দেশে বর্তমানে এরকম কয়েক হাজার পেজ রয়েছে। এদিকে গেম দুটি বন্ধের জন্য এরই মধ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দাবি জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। একটি মানববন্ধনে বাংলাদেশে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম বন্ধের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে। যা মাদকের চাইতে ভয়াবহ। আমাদের প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক পথের আলো ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্রি ফায়ার আর পাবজি গেম বন্ধে সরকারের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের বক্তব্য হতাশাজনক। তার সাম্প্রতিক বক্তব্য সমগ্র জাতিকে হতাশ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধি নন, এই সকল গেম ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি। মন্ত্রী জনগণের স্বার্থ নয়, লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের গেম খেলার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। অনলাইনে গেম খেলার পাশাপাশি ভার্চ্যুয়ালি অর্থ লেনদেন হচ্ছে এমএমএস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আর এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি ও পরিবার। তিনি বলেন, সমপ্রতি নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করেন দেশটির আদালত। একই কারণে ভারতের গুজরাটেও এ গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এমনকি গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।
বাংলাদেশেও পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, পরে আবার চালু করা হয়। কাদের স্বার্থে চালু করা হলো? একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে অনলাইনভিত্তিক ক্লাসের জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে ল্যাপটপ, মোবাইল ডিভাইস তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সুযোগে তরুণ প্রজন্ম এ গেম দুটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, আমরা যখন আগামীর তরুণ প্রজন্মকে সহজলভ্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি, ঠিক তখন তারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিপথগামী হয়েছে, যা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রক কমিশনকে দ্রুত এবং দ্রুততার সহিত এ গেমগুলোর অপব্যবহার বন্ধ এবং প্রযুক্তির ভালো দিক তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একইদিন অভিভাবক-ছাত্র-শিক্ষক জাতীয় মঞ্চ নামের আরো একটি সংগঠন রাজধানীতে ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো গেম বন্ধের দাবি জানায়। পাশাপাশি অবিলম্বে স্কুল ও কলেজ খুলে দেয়ার দাবি তুলে ধরেছে।

পরিবেশবাদী পাঁচ হলিউড তারকা

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে ‘বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার’। পরিবেশ নিয়ে পরিবেশকর্মীরা ছাড়া বিশ্বজুড়ে তারকারাও সরব। লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও থেকে শুরু করে মার্ক রাফালোসহ হলিউডের অনেক তারকাই সোচ্চার সবুজ পৃথিবী গড়তে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশপ্রেমী পাঁচ তারকাকে নিয়ে থাকল ছোট্ট আয়োজন।

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্দোলনে সাড়া জাগানো সুইডেনের কিশোরী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলনে হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও থাকবেন তালিকার প্রথম দিকে। ২০১৬ সালে ‘রেভেন্যান্ট’ ছবি তাঁকে অস্কার এনে দেয়। এই ছবি তাঁকে উপলব্ধি করায় সবুজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে। ২০১৬ সালে তাঁর অস্কার বক্তৃতায় জলবায়ু প্রসঙ্গ তাই উঠে আসে বেশ গুরুত্বসহকারে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সঙ্গে তিনি প্রযোজনা করেন ‘বিফর দ্য ফ্লাড’ নামের প্রামাণ্যচিত্র। এ ছাড়া ১৯৯৮ সালে তিনি লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন পরিবেশ নিয়ে কাজ করার জন্য।

ব্র্যাড পিট

ব্র্যাড পিট
‘ট্রয়’ ছবিখ্যাত অভিনেতা ব্র্যাড পিটও পরিবেশ সচেতন। ‘মেক ইট রাইট’ নামে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান করেছেন পিট। তা ছাড়া তিনি রাজনীতিবীদদের সঙ্গে গ্রিনহাউস পলিসি নিয়ে প্রায়ই আলাপ করেন। জাতীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুলেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে গড়ে তুলেছেন ম্যাডক্স জোলি–পিট ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন থেকে কম্বোডিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা করেন।

নাটালি পোর্টম্যান

নাটালি পোর্টম্যান
সৌন্দর্য ও অভিনয়, দুই দিক থেকেই জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী নাটালি পোর্টম্যান। তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি পরিবেশবাদী। শুধু তা–ই নয়, পরিবেশ আন্দোলনের জন্য ইএমএ অনগোয়িং কমিটমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য।

মার্ক রাফালো, ইনসেটে ‘দ্য হাল্ক চরিত্রে রাফালো।

মার্ক রাফালো
অ্যাভেঞ্জার্স সুপারহিরো ‘হাল্ক’–এর গায়ের রং যেমন সবুজ, সেই চরিত্রের অভিনেতা মার্ক রাফালোও সবুজপ্রেমী, মানে পরিবেশবাদী। তিনি ওয়াটার ডিফেন্স নামের একটি সংস্থা গড়ে তোলেন ২০১০ সালে এবং পরিবেশ রক্ষায় রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করতেও পিছপা হন না। একটি নিবন্ধে পরিবেশ রক্ষা নিয়ে মজা করে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমাদের গ্রহকে বাঁচাতে কোনো সুপারহিরোর মতো শক্তির দরকার নেই।’

শাইলেন উডলি

শাইলেন উডলি
‘বিগ লিটল লাইস’ তারকা পরিবেশবাদী তারকাদের মধ্যে সামনের সারিতে। ‘দ্য ডাইভারজেন্ট’ তারকা শাইলেন উডলি নিজের টুথপেস্ট পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে নিজেরাই তৈরি করেন। সমুদ্রের পানিদূষণ নিয়েও তিনি সরব ভূমিকা পালন করেছেন।