মদ ও ক্লাব নিয়ে হঠাৎ উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদ ভবন

ক্লাব ও মদ নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও তরিকত ফেডারেশনের পাঁচ সাংসদ অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে একজন চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা বোট ক্লাব। কে করল এই ক্লাব? এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়? শুনেছি, ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে এ ক্লাবের সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা ক্লাবের সদস্য হন? আমরা তো ভাবতেই পারি না।’

রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবের নাম উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়। জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন–গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে খেতে হলে এত মদ তো বিক্রি হওয়ার কথা নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে এসব ক্লাবের সদস্য হন? এত টাকা কোথা থেকে আসে?

মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়। সেখানে ড্যান্স হয়। নেশা করা হয়। মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন, কেন এসব হচ্ছে? কেন এগুলো বন্ধ করা হবে না? ওই সব ক্লাবের সদস্য কারা হয়?’

মুজিবুল হকের বক্তব্যের পর সংসদে ফ্লোর নেন সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, এ তো বোট ক্লাব। জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার দিয়েছিলেন। হিজবুল বাহার করেছিলেন। যাঁরা অপরাধের শুরু করেছেন, তাঁদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে।

শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের বিরোধীদলের এক সংসদ সদস্য (মুজিবুল হক) একটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র এক সদস্য (শেখ সেলিম) কোথায় চলে গেলেন?’

হারুন আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিক, ডোম ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য জিয়াউর রহমান মদের বৈধতা দিয়েছিলেন। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে জিয়াউর রহমান মুসলমানদের জন্য মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।

হারুন বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা নন, সব থানার পুলিশ এসব ক্লাব থেকে টাকা নেয়। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হারুনের বক্তব্যের জবাবে আবার সংসদে ফ্লোর নেন শেখ সেলিম। তিনি বলেন, ‘লাকী খানের নাচের কথা কি ভুলে গেলেন? হিজবুল বাহার? জিয়াউর রহমান এগুলো করেছিলেন। এসবের জন্য বিএনপি দায়ী। সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে।’

এরপর তরিকত ফেডারেশনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘হারুন সাহেবের সদস্যপদ আজই ছেড়ে দেওয়া উচিত। উনি বললেন, জিয়াউর রহমান মুসলমানদের মদ খাওয়ার পারমিশন দেননি। উনি দেখাক, আইনে কোথায় বলা আছে, মুসলমানরা মদ খেতে পারবেন না। আইন এখানে এনে দেখাক। পদ ছেড়ে দিক।’

এরপর জাতীয় পার্টির সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু লাইসেন্স দেননি। তারপর আইনটার অপব্যবহার হচ্ছে। একজন চিকিৎসক দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়, জীবন বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন মদ খেতে হবে। তারপর লাইসেন্স নেওয়া হয়। বিএনপি এই লাইসেন্স দিয়েছিল।

ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানান মশিউর রহমান। এ ছাড়া পরীমনির মামলার পর গ্রেপ্তার জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিষয়ে তিনি বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার হবে। দোষী হলে শাস্তি হবে।

নতুন আদেশে প্রবাসীদের সহায় সম্পদ রক্ষায় জটিলতা আরও বাড়বে

পৃথিবীর ১৬৮ দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। তারা প্রতিবছর রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গত বছর প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন রেকর্ড সৃষ্টিকারী ২২ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধনে। এই প্রবাসীরা নানা জটিলতার শিকার হন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা, আবার কখনো প্রতারিত হন নিজের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে।
শেষ ভরসা হিসেবে প্রবাসীরা কখনো কখনো আদালতের দ্বারস্থ হন। এই শেষ ভরসাস্থলে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। গতকাল মহামান্য হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছেন, এখন থেকে মামলা করতে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে

দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য এটি কষ্টসাধ্য নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কিন্তু প্রবাসীদের জন্য এই আদেশ সৃষ্টি করবে বিরাট জটিলতা। কারণ ১,৬০,০০,০০০ প্রবাসীর বেশির ভাগের কাছে নেই এনআইডি। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের জন্য এনআইডি প্রদানের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে- তবে কাজটি অনেক কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। সুতরাং প্রবাসীরা যদি এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারে তাহলে তাদের সহায় সম্পত্তি রক্ষার শেষ আশ্রয়স্থলটিতে পৌঁছাতে সৃষ্টি হবে জটিলতা। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা প্রবাসীদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় আরও বেশি সফল হবে।
সামগ্রিক বিবেচনায় প্রবাসীদের আপাতত এই আদেশটি থেকে বাইরে রাখা যায় কিনা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

এক বছরে এমিরেটসের লোকসান ৫৫০ কোটি ডলার

করোনা মহামারির কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ বিমান সংস্থা এমিরেটসের গত এক বছরে নেট লোকসান হয়েছে ৫৫০ কোটি ডলার। এ সময়ে রাজস্ব আয় কমে গেছে শতকরা ৬৬ ভাগেরও বেশি। অনলাইন আইরিশ এক্সামিনার এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এক বছরে তাদের রাজস্ব আয় হয়েছে ৮৪০ কোটি ডলার কম। ২০২০ সালের মার্চে এবং চলমান ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে এই যাত্রীবাহী ফ্লাইটের এই ঘটনা ঘটেছে। এমিরেটস বলেছে, গত এক বছরে তাদের মোট যাত্রী এবং কার্গো ক্যাপাসিটি কমেছে শতকরা ৫৮ ভাগ। গত বছর এমিরেটসের লাভ কমে গিয়েছিল। তবু তারা ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার লাভ পেয়েছিল।

এমিরেটস গ্রুপ বলেছে, তাদের মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথমবার এই বিমান সংস্থা লোকসান গুনলো।

টিকটক, লাইকি যুবসমাজের জন্য ক্ষতি, বন্ধ করা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত

টিকটক, লাইকি অ্যাপ যুবসমাজের জন্য ক্ষতির কারণ। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে স্কুল-কলেজের ছাত্রী, এমনকি যুবতী গৃহবধূকে টার্গেট করা হয়। তাদেরকে ফুসলিয়ে পাচার করা হয় অন্য দেশে। সেখানে নিয়ে তাদেরকে বিক্রি করা হয় অথবা জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ র‌্যাব এসব অ্যাপ বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপ বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, ভিপিএন ব্যবহার করে এসব সাইটে প্রবেশ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ফলে এই অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ না করে দিয়ে উন্নত মনিটরিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ খবর দিয়েছে তুরস্কের অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

এতে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে যৌনতার উদ্দেশ্যে পাচার নতুন কিছু নয়। এক দশকে ১২ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি বালিকা ও নারীকে যৌনতা বিষয়ক চক্র পাচার করেছে ভারতে। কিন্তু টিকটকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পাচারের ঘটনা প্রথম জানা গেছে। এই চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবতীর ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। তাকে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু শহরে নির্যাতন ও যৌন হয়রানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের রিফাদুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় ও তার অন্য ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। তারা সবাই ওই যুবতীর ভিডিও ধারণের সঙ্গে জড়িত।

এর কয়েকদিন পরেই আরেক বাংলাদেশি নারীকে ভারতে পাচার করার পর তিনি পালান। ৭৭দিন পরে তিনি দেশে ফিরে এসে দেশের পাচার প্রতিরোধ ও নির্যাতন বিরোধী আইনের অধীনে মামলা করেন।

এই দুটি ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশকে বৃহত্তর অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। সেই তদন্ত থেকে দেশের ভিতরে মানবপাচারকারী চক্রের কুখ্যাত নেটওয়ার্কের তথ্য বেরিয়ে আসে। তাতে দেখা যায়, যুব শ্রেণি- বিশেষ করে সহজ সরল টিনেজ মেয়েদের ফুসলিয়ে পাচার করতে ব্যবহার করা হয় টিকটক। এরপর তাদেরকে ভারতে নিয়ে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ড আরো লিখেছে, বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুকে আরো একটি গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে, টিকটকে থাকা যুবক বা যুবতীদের এই গ্রুপে যুক্ত করা হয়। এসব টিনেজার মেয়েকে ভারতে ভাল বেতনে চাকরি পাইয়ে দেয়ার টোপ ফেলা হয়। তারপর সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হয়। এমন গ্রুপের সন্ধান পাওয়ার পর বাংলাদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো টিকটক ও লাইকি’র মতো অন্যসব প্লাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এমনকি তারা এসব প্লাটফরম নিষিদ্ধ করার কথাও বিবেচনা করছে। র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, তারা টিকটক এবং লাইকি বন্ধের একটি প্রস্তাব জমা দেয়ার পর্যায়ে আছেন। তিনি বলেন, এগুলোর মতো অন্য অ্যাপ থেকে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি আমরা মানব পাচারের চক্রের সন্ধান পেয়েছি, যারা টিকটক ব্যবহার করে যুবতীদেরকে প্রলুব্ধ করতো। তাদেরকে ভাল বেতনের কাজ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো। তারপর ভারতে নিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হতো।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তঃদেশীয় এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ৫০ জন সদস্য। তারা গত ৫ বছরে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী প্রায় ৫০০ মেয়েকে ভারতে পাচার করেছে। এ বিষয়টি সম্প্রতি উদঘাটন হয়েছে। আমরা টিকটক ও লাইকি’তে নজরদারি বৃদ্ধি করেছি। আমরা মনে করি এসব প্লাটফরম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। আমরা শুধু তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে পারি।

টিকটকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এটাই প্রথম কোনো পদক্ষেপ নয়। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টিকটকে প্রবেশ ব্লক করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। ২০২০ সালের আগস্টে এই মাধ্যম থেকে কর্তৃপক্ষ ১০টি ভিডিও মুছে দেয়। এসব ভিডিও দেশের ভিতর থেকে আপলোড করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে টিকটক। ২০২১ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে চীনের ভিডিও শেয়ারিং এই প্লাটফরম ব্যবহার করেন প্রায় ৭০ কোটি মানুষ। এর ব্যবসায়িক ধারণা অন্য অ্যাপগুলোতে ফিচার যোগ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। লাইকি অ্যাপও বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছ। এই অ্যাপটি বিশ্বে ব্যবহার করেন কমপক্ষে ১৫ কোটি মানুষ।

টিকটক, লাইকি, বিগো লাইভের মতো প্লাটফরম যুবসমাজের ক্ষতি করছে মর্মে এসব অ্যাপ বন্ধ করে দিকে গত ডিসেম্বরে হাইকোর্টের আছে একটি রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে বন্ধ রয়েছে টিকটক। কর্তৃপক্ষ পর্নোগ্রাফি, অসামঞ্জস্য কন্টেন্ট এবং ধর্ম অবমাননাকর কন্টেন্টের জন্য ২০১৮ সালের জুলাইয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়ায় নিষিদ্ধ করে টিকটক। কিন্তু এই অ্যাপের পক্ষ থেকে সেখানে কন্টেন্ট সেন্সর করতে ২০ জন স্টাফকে মোতায়েন করা হবে- এমন ঘোষণা দেয়ার পর নিষেধাজ্ঞার ৮ দিন পরে তুলে নেয়া হয়।

পাকিস্তানেও টিকটক অস্থায়ী সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। টিকটক তাদের অ্যাপ থেকে আপত্তিকর কন্টেন্ট মুছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। অন্যদিকে ২০২০ সালের ২৯ শে জুন থেকে ভারতে টিকটক বন্ধ আছে।

বাংলাদেশেও কি নিষিদ্ধ হবে?
সামাজিক যোগাযোম মাধ্যম বিষয়ক বিশ্লেষক আশ্রফ উল জুবায়ের টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, এই ছোট্ট মনোযোগ আকর্ষণের যুগে টিকটক এবং লাইকি হয়ে উঠেছে অপরিহার্য এক উপাদান। তিনি বলেন, টিকটকের কন্টেন্টে খুব বেশি সেট-আপ প্রয়োজন হয়না। এতে শুধু একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হলো। অন্যদিকে যারা ইউটিউবার তাদের অনেক সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়। ফলে টিকটক ব্যবহার করে প্রান্তিক মানুষগুলো বিশ্বের সাইবার-বিনোদনে অংশ নেন এবং কন্টেন্ট তৈরি করেন। এর ফলে বহু যুবতী এই অ্যাপ ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড দেন। কিন্তু পরে তারা যৌনতার উদ্দেশে পাচারের শিকারে পরিণত হন। এই অ্যাপে কোনো নোংরামি বিষয়ক কন্টেন্টের বিষয়ে কোনো রাখঢাক নেই। এতে যৌনতা বিষয়ক কন্টেন্ট এখনও আপলোড হয় এবং তা শেয়ার হয়।

তিনি মনে করেন টিকটক বা লাইকি’র মতো অ্যাপের বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে তা এখন আর কাজে আসবে না। কারণ, জনগণ ভিপিএনের সাহায্য নিয়ে এসব অ্যাপের নাগাল পেয়ে যায় সহজেই। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ওমেন লয়ার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং হিউম্যান ট্রাফিকিং মনিটরিং সেলের উপদেষ্টা সালমা আলি বলেছেন, ঢাকা ভিত্তিক মেয়েদের ভারত পাচারের বিষয়টিকে একটি ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বড় ব্যর্থতাও ঘেঁটে দেখা উচিত। এই পাচারকারী চক্র সহজেই এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী  এমনকি কখনো কখনো তারা যুবতী গৃহবধূকেও টার্গেট করে। এতে বাংলাদেশে ডিজিটাল শিক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মধ্যে একটি বড় ব্যবধান ফুটে উঠেছে। টিকটক এবং লাইকি’র মতো অ্যাপ বন্ধ করার পরিবর্তে সরকার এসব প্লাটফরমে নজরদারি বাড়াতে অন্য উন্নত উপায় অবলম্বন করতে পারে।

করোনাকালীন বর্ষায় স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনাকালে দেখতে দেখতে চলে এল আরেকটি বর্ষা। একটি সুন্দর এবং মন ভাল করে দেয়া ঋতু হিসেবে বৃষ্টিমুখর বর্ষার কদর রয়েছে। তবে কেবল মানুষই নয়, গাছপালা, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসও বর্ষাকাল উপভোগ করে। ফলে অনেকে বৃষ্টিতে ভিজতে বা বৃষ্টিস্নাত রাস্তায় সতেজ কাটা ফল বা খাবার খেতে পছন্দ করলেও তা স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে, এই করোনাকালেও সতর্কতার সাথে বর্ষাকে উপভোগ করা যেতে পারে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ : বেশিরভাগ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করেন। এটি দেহ-মনকে সতেজ করে এবং মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিবার বৃষ্টিস্নাত হওয়ার পর ডেটল, স্যাভলন বা বেটাডাইনের মতো জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করুন। এটি আপনাকে কয়েক লাখ ক্ষতিকর অণুজীব থেকে বাঁচাবে এবং আপনাকে সুস্থ ও ফিট রাখতে সহায়তা করবে।
সর্বদা হাত পরিষ্কার রাখুন : বাড়ির বাইরে, বাড়িতে ফিরে এবং কিছু খাওয়ার আগে সাবধানতার সাথে আপনার হাত ধুতে বা স্যানিটাইজ করতে ভুলবেন না। হাত জীবাণুমুক্ত রাখার স্বাস্থ্যকর অনুশীলনে হাতের ত্বকে থাকা প্রায় সমস্ত জীবাণু মারা যায়। বাড়ি ফেরার সাথে সাথে পা ধুয়ে ফেলাও আবশ্যক।

ভেজা জুতোকে না বলুন : বর্ষাকালে সময় আপনার জুতা পরিষ্কার এবং শুকনো রেখে কাজ করা এবং বাড়ি ফেরা প্রায় অসম্ভব। যদি জুতায় কাদা লেগে থাকে বা ভিজে যায়, তবে সেগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন এবং আবার পায়ে দেয়ার আগে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। অন্যথায়, জুতার মধ্যে থাকা জীবণুগুলোর বংশ বিস্তার ঘটবে। বারবার পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ রাবারের জুতা বেছে নিতে পারেন।

পরিধানের কাপড় ইস্ত্রি করুন : ওয়ার্ড্রোব এবং আলমিরাসহ কাপড় রাখার স্থানগুলো সাধারণত শীতল থাকে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ার সাথে সাথে স্যাঁতস্যাঁতে হতে শুরু করে। আর সেই আর্দ্রতার মধ্যে সেখানে রাখা কাপড়গুলোতে ছত্রাক বাসা বাধে। যেহেতু, জামাকাপড় সবসময় সবার পক্ষে রোদে দেয়া সম্ভব হয় না, তাই সেগুলিকে পরিষ্কার করার পর ইস্ত্রি করে পরিধান করাই সব থেকে বড় সমাধান।

মশার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন : বর্ষার সবচেয়ে ভয়ঙ্কার সমস্যাগুলোর একটি হ’ল মশার প্রজনন। মশারা আবদ্ধ পানিতে বংশ বিস্তার করে। তাই আপনার বাড়িতে কোনও খালি জলাধার নেই এবং ড্রেনগুলো আটকে নেই, তা নিশ্চিত করুন। পাশাপশি, মশার তাড়ানোর তেল, কয়েল বা স্প্রে পর্যাপ্ত মাত্রায় ব্যবহার করুন।

জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন : বর্ষাকালে রাস্তাগুলো সাধারণত কাদা-পানিতে ভরা থাকে। এগুলো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক অণুজীবের জন্য নিখুঁত প্রজনন পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে রাস্তার খাবারগুলো যত বেশি উন্মুক্ত বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তত বেশি সেগুলোতে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, পছন্দসই জাঙ্ক ফুড যত বেশি খাবেন, তত বেশি রোগক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার, ফলমূল এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কঠোরভাবে এড়ানো উচিত।

ভিটামিন সি’র মাত্রা বাড়ান : বছরের এ সময়টিতে ভাইরাস জ¦র, অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য ভাইরাস সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়। এসময়ে সুস্থ থাকার জন্য আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। এটি করার অন্যতম সহজ উপায় হ’ল আপনার ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ স্প্রাউট, তাজা সবুজ শাকসবজি, লেবু এবং কমলা খান।
ফল এবং সবজির যত্ন : বর্ষার সময় পরিষ্কার পানিতে ফল এবং শাকসব্জী ভালভাবে ধোয়া জরুরি যেহেতু জীবাণুগুলো ফল এবং সবজির ত্বকে লেগে থাকে। কেবলমাত্র রান্না করা বা সিদ্ধ শাকসবজি খাবেন। না হলে পানিবাহিত রোগের শিকার হতে পারেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান : দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, শরীর সতেজ রাখে এবং ফ্লু ও বর্ষায় সাধারণ ঠান্ডা-জ¦র প্রতিরোধ করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন : ব্যায়াম বা শরীর চর্চ্চা দেহের ওজন হ্রাস করতে বা সঠিক ওজন ধরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, তা রোগ প্রতিরোধের পক্ষেও দুর্দান্ত। ব্যায়ামে হৃতপিন্ডে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, শরীরের রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটে এবং সেরোটোনিন (সুখ হরমোন) উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয়। এসবই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আপনার দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

শুধুমাত্র শুকনো অবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে প্রবেশ করুন : যদি আপনার অফিস বা বাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং আপনি ভেজা অবস্থায় থাকেন, তাহলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে প্রবেশের আগে অপেক্ষা করুন। নিজেকে যতটা সম্ভব শুকানোর জন্য একটি তোয়ালে বহন করুন। আপনার ভেজা ত্বক এবং কাপড়ে এয়ার কন্ডিশনারের শীতল বাতাস গেলে ভয়ানক সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অসুস্থ ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন : যেহেতু বর্ষার সময় প্রচুর লোকের মধ্যে ফ্লু বা সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঘটে, তাই আপনাকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন, যাতে সংক্রমণগুলো আপনার শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ না করে।

অ্যালার্জেন থেকে নিজেকে রক্ষা করুন : বর্ষার সময় অ্যালার্জি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। কোভিডের সাথে সাথে ধুলো, বাষ্প বা দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপনার বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। আপনার ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত অ্যালার্জি জনিত ওষুধগুলো সর্বদা আপনার সাথে রাখুন এবং বাসস্থান পরিষ্কার রাখুন।

লকডাউনে কক্সবাজারের পর্যটনে ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি টাকা

লকডাউনে কক্সবাজারের পর্যটনে ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি টাকা

পর্যটন শিল্পে চরম সংকট এনে দিয়েছে করোনা। করোনার সংক্রমণ রোধ ও সর্বাত্মক লকডাউনে জনশূণ্য জনপদে পরিণত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের নগরী কক্সবাজার। লকডাউনের প্রভাবে গত প্রায় দু’মাসে কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পর্যটন জোন ও শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল–মোটেল–রেস্তোরাঁ, কয়েকশ’ শুঁটকি ও শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরি পণ্য বেচাবিক্রির দোকানপাটসহ পর্যটনের সকল অনুষঙ্গ মিলিয়ে এই ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বা স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতের কঠোরতায় পর্যটন ব্যবসা খুলে দেয়া না হলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, করোনা পর্যটন নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস এন্ড রিসোর্টের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, পর্যটক নেই, ২৫০ রুমের হোটেলটি পুরোই খালি পড়ে আছে। কিন্তু হোটেল খোলা রাখতে হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ খরচ, ব্যাংক ঋণ কিস্তিসহ নানা খাতে দৈনিক লোকসান যাচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা করে।

আরেক তারকা হোটেল দি কক্স টু ডে’র ব্যবস্থাপক আবু তালেব বলেন, চলতি লকডাউন শুরুর হতেই খালি পড়ে আছে হোটেল। কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ খরচসহ নানা খাতে দৈনিক লোকসান যাচ্ছে তিন লাখ টাকা করে।

শুধু এদুটি নয়, অন্য তারকা হোটেল এবং অন্যান্য গেস্ট হাউজ, মোটেল, কটেজ ও ফ্ল্যাটসহ পর্যটন সেবী প্রায় সাড়ে ৪শ’ আবাসন প্রতিষ্ঠানই পর্যটকহীন খাঁ খাঁ করছে।

হোটেল-মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, শহরের হলিডে মোড় হতে কলাতলীর দরিয়ানগর সৈকত এলাকা পর্যন্ত তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ রয়েছে চার শতাধিক। পহেলা এপ্রিল হতে কোনো হোটেলে অতিথি নেই। লকডাউনের ঘোষণা জানতে পেরে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষ ১ এপ্রিলের আগেই ৯৩ শতাংশ কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে পাঁচ থেকে ৭ শতাংশ কর্মচারী হোটেল–মোটেলে অবস্থান করে সম্পদ পাহারা দিচ্ছেন।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, গত ৫২ দিনে সৈকত নগরীর প্রায় সাড়ে ৪০০ আবাসন প্রতিষ্ঠানে দিনে ক্ষতি প্রায় ১০ কোটি টাকা। আর আড়াই শতাধিক খাবার হোটেলে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি টাকা করে। হোটেল রিলেটেড আনুষঙ্গিক অন্যান্য সেক্টরে ক্ষতি প্রায় ৭ কোটি টাকা। কক্সবাজারে তারকা মানের হোটেল ৪৫টি, মাঝারি মানের হোটেল ২৩০টি। পৃথক সাতটি হোটেল মোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মোর্চা এই ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের আওতাধীন হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৭০৯। ১ এপ্রিল থেকে সব কটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এখানে হোটেল–মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে ৫২টি। কোনো হোটেল খোলা নেই দাবি করে সমিতির সাধারণ বলেন, ‘আমরা করোনার সংক্রমণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তারপরও কর্মচারীদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিতে হবে, হোটেল–মোটেল বন্ধ থাকায় ৫২টি হোটেল ও রিসোর্টের অন্তত পাঁচ হাজার কর্মচারী বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। অধিকাংশ কর্মচারীর বেতন–ভাতাও পরিশোধ হয়নি। তাই সীমিত আকারে হলেও সৈকত খুলে দেয়া উচিত।

ট্যুরস ওনার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজারে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে অর্ধকোটি পর্যটক আসেন। তাদের যাতায়াতে প্রতিদিন দূরপাল্লার অনেক বাস ও ১০-১২টি ফ্লাইট যাতায়াত করে। পর্যটক সেবায় থাকা হোটেল-মোটেল, কটেজ ও রেস্টুরেন্ট ও বিমান চলাচল সবই বন্ধ রয়েছে গত প্রায় দু’মাস। এতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যবসা ভেস্তে গেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, গত বছরের মতো এ বছরেও গত দুটি মাস কক্সবাজারে সব ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পর্যটনের অর্থনীতি নিম্নমুখী। আমাদের হিসাবে প্রতিদিন ৪৫ হতে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে আরো কিছুদিন চলতে থাকলে আরও ধস নামবে। ইতোমধ্যে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়া গেলে ক্ষতি কিছুটা এড়ানো সম্ভব।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প। এর প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত জানিয়ে রেখেছি। সরকারি সিদ্ধান্তে পর্যটনসেবীদের জন্য কোন বরাদ্দ এলে তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হবে। তবে, এখনো পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গুয়ার হাওর-নীলাদ্রিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

টাঙ্গুয়ার হাওর-নীলাদ্রিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি, টেকেরঘাট, বারেকাটিলাসহ পর্যটন এলাকায় জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুন) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির এ আদেশ জারি করেন।

উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার সব ধরনের পর্যটন এলাকায় জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় তাহিরপুর পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসে পর্যটকদের তাহিরপুর থানা পুলিশের সহায়তায় রাস্তা থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি কোনো পর্যটক বহন না করার জন্য নৌঘাট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, শুক্রবার থেকে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যদি কেউ আইন অমান্য করে পর্যটন এলাকায় ঘুরতে যান তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে তাহিরপুরে পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের রাস্তা থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

দ্রুত ওজন কমায় ৭ খাবারের সংমিশ্রণ

ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত মুটিয়ে যাওয়া বর্তমান সময়ের একটি কমন সমস্যা। খাবারের গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা না দিয়ে যারা জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন পন্থা রয়েছে। খাবার খেয়েও ওজন কমানো যায়। তাই যখন শরীরের মেদ ঝেড়ে ফেলতে চাইবেন, তখন বিশেষ কিছু খাদ্য উপাদান বেছে নিতে হবে।

কোনো নির্দিষ্ট খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে এটি অনেকটাই ভুল ধারণা। মজার তথ্য হচ্ছে— প্রায় সব খাবারেই ওজন কমানোর জন্য উপকারী উপাদান থাকে। একাধিক খাবারের মিশ্রণে দ্রুত ওজন কমতে পারে। কিছু খাবারের মিশ্রণ বাড়াতে পারে খাবারের তৃপ্তি ও দ্রুত বার্ন করতে পারে ক্যালোরি।

১. ভাত ও মসুর ডাল
আমরা সবাই বাড়িতে ডাল-ভাত খেয়ে থাকি। কিন্তু এটি আমাদের অনেকেরই জানা নেই যে অতিপরিচিত এ খাদ্য মিশ্রণটি ওজন কমাতেও সহায়তা করে।  যদিও মসুর ডাল প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং এটি তৃপ্তি অর্জনে সহায়তা করে। কিন্তু এর সঙ্গে চাল যোগ করা হলে তা একটি ভালো শক্তি-সরবরাহকারী কার্ব উত্স তৈরি করতে পারে। প্রতিদিন এটি খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

২. ওটসের সঙ্গে বাদাম ও বীজের মিশ্রণ
ওটস মিল হচ্ছে— ওজন হ্রাসকারী খাবারগুলোর মাঝে সর্বোত্তম। তবে ওটস মিলটি সঠিক উপায়ে ও মানসম্পন্ন উপাদানের খাওয়া ও চিনি ছাড়া গ্রহণ করলে তা আরও বেশি কার্যকরী। এর সঙ্গে আপনি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বাদাম ও বীজ যেমন, বাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।

৩. গ্রিন টি ও লেবু
গ্রিন টি হচ্ছে ক্যাটচিন এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এক পানীয়। এটি আপনাকে উত্সাহিত করার জন্য একটি ভালো ডিটক্সাইফায়ার এবং কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয় হতে পারে। দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি আপনার রক্তচাপকে স্থিতিশীল করতে ও ওজন কমাতে আশ্চর্যভাবে কাজ করতে পারে। সঙ্গে লেবুর রস যোগ করে নিলে এর পুষ্টিগুলো আরও বাড়াতে এবং আরও স্বাদ তৈরি করতে সহায়তা করে।

৪. পনির ও মুরগি মাংসের সঙ্গে শাকসবজি
প্রতিদিনের খাবারে স্বাস্থ্যকর শাকসবজি রাখা কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি ওজন কমানোর জন্যও দুর্দান্ত। তবে শাকসবজির সঙ্গে কোনো পুষ্টি সমৃদ্ধ প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন, পনির, মুরগি রাখতে হবে। এটি হবে একটি পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি একটি ওজন হ্রাসকারী দুর্দান্ত খাবারের মিশ্রণ।

৫. কফির সঙ্গে দারুচিনি
কফি হচ্ছে লো-ক্যালোরি যুক্ত অন্যতম জনপ্রিয় একটি পানীয়। তবে এ পানীয়টি চিনি ছাড়া খেলে উপকার পাওয়া যায় বেশি। চিনির বিকল্প হিসেবে এর সঙ্গে দারুচিনির টুকরো মিশিয়ে খেলে তা অনেক ভালো কাজে দেয়। এটির মিশ্রণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হয় এবং এতে প্রদাহ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য থাকে, যা ওজন কমাতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৬. আলুর সঙ্গে গোলমরিচ
আলু একটি শর্করাযুক্ত খাবার হওয়ায় তা মোটা হতে সাহায্য করে এ কথাটি সম্পূর্ণ ঠিক নয়। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ওটস মিল বা বাদামি চালের চেয়েও আলু বেশি ফাইবার সমৃদ্ধ। গোলমরিচের সিজনিংয়ের সঙ্গে আলু আপনার ওজন হ্রাস মিশনেও গতি বাড়াতে পারে।  গোলমরিচে একটি অপরিহার্য এক্সট্রাক্ট, পাইপেরিন থাকায় তা কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৭. নারিকেল তেলের সঙ্গে ডিম
ডিম হচ্ছে অন্যতম ওজন হ্রাসকারী খাবার এবং একই সঙ্গে এতে থাকে প্রোটিন, ওমেগা এবং বিভিন্ন মাল্টিভিটামিন। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি নিয়ে চিন্তিত থাকলে আপনি নারিকেল তেলে ডিম প্রস্তুত করে খেতে পারেন। নারিকেল তেলে এমসিটি থাকে (মাঝারি চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস), যা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি রোধ করে এবং আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য কমাতে সাহায্য করে।

 

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করে যেসব গাছ

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করে যেসব গাছ

নাসার ‘ক্লিন এয়ার স্টাডি’ অনুসারে কিছু সাধারণ ইনডোর প্ল্যান্ট আমাদের বাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস যেমন- ফর্মালডিহাইড, বেনজিন বা অ্যামোনিয়া থেকে শোষণ করে ঘরের বাতাসকে প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ করে।

স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী দুষিত বায়ু আমাদের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ, এর ফলে ২০১৬-১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নাসার পরীক্ষিত কিছু ইনডোর প্ল্যান্টসগুলো হলো:

স্নেক প্লান্ট

নাসার গবেষণায় এই ‘গার্ডেন মাম’ বাতাস পরিষ্কার করার জন্য অন্যতম সেরা একটি গাছ। এই গাছ ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে প্রচুর পরিমাণ অ্যামোনিয়া, বেন্জেনে, ফর্মালডিহাইড, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, জাইলিন দূর করে থাকে। জনপ্রিয় এই গাছটি অল্প খরচেই ঘরের টবে লাগানো যায়।

পিস লিলি

চমৎকার একটি বায়ু পরিশোধক গাছ। অল্প আলোতেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। এর হলুদ পাতা বুঝিয়ে দেবে সে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রোদ পাচ্ছে। স্বাভাবিক পরিমাণে পানি দিলেই যথেষ্ট। ঘরের বাতাস থেকে বেনজিন, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, ফর্মালডিহাইড, জাইলিন শোষণ করে। এতে গ্রীষ্মে ফুটবে খুব চমৎকার সাদা ফুল। তবে বিড়াল, কুকুর আর বাচ্চাদের কাছে থেকে দুরে রাখুন এ গাছ। কারণ গলায় বা পেটে গেলে চুলকাবে।

স্পাইডার প্লান্ট

এটি কার্বন মনোক্সইড, বেনজিন, ফর্মালডিহাইড, চামড়ায় ও রাবার থেকে নির্গত দূষণ শোষণ করে। গোড়ার মাটি শুকিয়ে গেলে এরপর পানি দিন। সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দুরে রাখুন।

বাঁশ পাম গাছ

বাতাস থেকে ফর্মালডিহাইড পরিশোধন করার সবচেয়ে কার্যকরী গাছ হচ্ছে বাঁশ পাম গাছ। পর্যাপ্ত সূর্যের আলোতে বেড়ে ওঠা এই গাছ ১০ থেকে ১২ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। প্রচুর পরিমাণ বাতাস পরিশোধন করতে পারে। বাঁশ পাম গাছ বাতাস থেকে বেন্জেনে, ফর্মালডিহাইড, ট্রাইক্লোরোইথিলিন নামক বিষাক্ত দূষণ মুক্ত করে। এটি দেখতে ছোট নারিকেল গাছের মত। আসবাপত্রের পাশে ছায়া যুক্ত জায়গায় রেখে দিন। আসবাপত্র থেকে নির্গত দূষণ শুষে নিবে। খুব বেশি পানি দিলে শিকড় পঁচে যেতে পারে। এছাড়াও পানি যেন জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

গোল্ডেন পথোস বা মানিপ্লান্ট

যে কোনো পরিবেশে বেঁচে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে। আলো ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে, তেমন কোনো যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। আপনার ঘরের যেকোনো কোনায় এই লতানো গাছটি দূষণ শোষণ করে বাতাসকে বাসযোগ্য করে রাখবে। এটি বেনজিন, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, ফর্মালডিহাইড, জাইলিন শোষণ করে।

অ্যালোভেরা

একটি দুর্দান্ত বাতাস বিশুদ্ধকারী প্ল্যান্টস। রান্না ঘরের পাশে ছোট বারান্দায় যেখানে রোদ আসে সেখানের জন্য একটি বাড়তি সংযোজন হতে পারে। কিচেনে রান্না করার জন্য উচ্চতাপমাত্রা থাকে। এই তাপমাত্রা কমানোর জন্য অ্যালোভেরা প্ল্যান্টস ৯০% ফর্মালডিহাইড ও বেনজিন দূর করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে। এছাড়াও বাতাসের বিষাক্ত ধূলিকণাগুলো নির্মূল করে বাতাসের গুনগত মান নিশ্চিত করে।

উইপিং ফিগ

এটি ওয়েপিং ফিগার বা ফিকাস ট্রি নামেও পরিচিত। নাসার স্টাডি অনুসারে, এই বাড়ির প্ল্যান্ট ইনডোর-এয়ার টক্সিন ফর্মালডিহাইড এবং জাইলিন অপসারণে দক্ষতার সাথে সক্ষম।

রাবার প্ল্যান্ট

ফিকাস ইলাস্টিক (সবচেয়ে বেশি রাবার প্ল্যান্ট, রাবার ট্রি বা রাবার ট্রি গাছ হিসাবে পরিচিত) এটি একটি জনপ্রিয় হাউজপ্ল্যান্ট কারণ এর মোমের প্রলেপযুক্ত পাতার জন্যে। গৃহপালিত হাউজপ্ল্যান্ট হিসাবে রাবার গাছ ছয় থেকে দশ ফুট লম্বা পর্যন্ত যে কোনও জায়গায় বৃদ্ধি পায়। রাবার প্ল্যান্ট তাদের অপ্রতিরোধ্য উচ্চতা এবং সুন্দর পাতার জন্য পরিচিত। সূত্র: মাশরিটা নেচার ক্লাউড।

হোটেল রেস্ট্রুরেন্টে শ্রেণীভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি

হোটেল রেস্ট্রুরেন্টে শ্রেণীভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি

দেশের সব হোটেল-রেস্টুরেন্টে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শ্রেণিভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে চার ও পাঁচ তারকা হোটেল-রেস্টুরেন্টের ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ রেখে বিদেশি খাবার বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ এবং নিম্ন ও মাঝারিমানের রেস্টুরেন্ট এবং স্ট্রিট ফুডের জন্য ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১২ জুন) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাকক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিন, মহাসচিব ইমরান হাসান, যুগ্ম-মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া, শিল্পকারখানার ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া ও হোস্টেলের খাবারের ওপর ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে বিভিন্ন শ্রেণির হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। তাদের ব্যবসায়িক পরিধিও একেক রকম। কিন্তু সাবিকভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্তিযুক্ত নয়। ভ্যাটের হার বেশি হওয়ায় অনেকে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আর যারা নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছেন, তারা পড়ছেন বিপদে। তাদের খাবারের দাম বেশি হওয়ায়, যারা ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, এ কারণে সরকার রাজ¯^ হারাচ্ছে। সঠিক হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে এ খাত থেকে ২৩শ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা সম্ভব।

ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টগুলোকে একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আওতায় নেয়া এবং শিল্পের মর্যাদার দাবি জানিয়ে বলা হয়, সরকারের ১৩টি সংস্থা রেস্টুরেন্টগুলোকে পরিচালনা করছে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য এতো সংস্থার সঙ্গে সমš^য় করতে হয়। লাইসেন্স নিতে হয়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করতে প্রচুর খরচ হয়।

সভাপতি ওসমান গনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসগুলো স্বেচ্ছাচারী ব্যবসা পরিচালনা করছে। যা এই হোটেল-রেস্তোঁরা খাতকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের কারণে এ খাতের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বড়দের প্রমোশন করছে ফলে ছোটরা পিছিয়ে পড়ছে।

ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, তৃতীয়পক্ষের ভাড়া করা লোকের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। ভ্যাট কর্মকর্তাদের অসৌজন্য ও হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধে সরকার প্রধানের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন থাকছে।