বাংলাদেশ-ভারতসহ ৬ দেশের ওপর তুরস্কের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ-ভারতসহ ৬ দেশের ওপর তুরস্কের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ-ভারতসহ ছয় দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তুরস্ক।

সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় বলে জানায় তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদোলু।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকার সঙ্গে প্লেন যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী তুরস্ক এ ছয় দেশের নাগরিকদের জন্য স্থল, আকাশ, সাগর ও রেলপথ ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

হারানো অমূল্য সম্পদের খোঁজ

পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন সময় হারানো গেছে কিংবা চুরি গেছে বিভিন্ন দেশ বা সংস্কৃতির অমূল্য বা অদ্ভুত কোনো সম্পদ। ঐতিহাসিক মূল্য বিচারে মহামূল্যবান এসব ধনসম্পদ কোনোটির হয়তো খোঁজ পাওয়া গেছে, কোনোটি হারিয়ে গেছে কালের গহ্বরে। চুরি যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া এমন পাঁচটি বিচিত্র সম্পদ নিয়ে আজকের আয়োজন।

হারানো অমূল্য সম্পদের খোঁজ

প্রাচীন মিসরের রাজরাজড়াদের মমি রাখার জন্য পাথরের তৈরি বিশেষ ধরনের কফিনকে বলা হয় সারকোফ্যাগাস। ১৮৩০ সালে ইংরেজ সামরিক কর্মকর্তা হাওয়ার্ড ভাইস মিসরের গিজায় যে পিরামিডগুলো আবিষ্কার করেন, তার মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি হলো ফারাও মেনকাউরের পিরামিড। এর ভেতরে প্রাপ্ত সারকোফ্যাগাসটি ছিল সুসজ্জিত ও দৃষ্টিনন্দন। ১৮৩৮ সালে হাওয়ার্ড ভাইস জাহাজে করে এটি ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথিমধ্যে সারকোফ্যাগাস বহনকারী জাহাজ বিয়াট্রিস সাগরে ডুবে যায়। জাহাজটির খোঁজ আর পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায়নি সারকোফ্যাগাসটিও।

সিন্দুক-রহস্য

সহস্র বছর ধরে মানুষের কাছে এক অপার বিস্ময় হয়ে আছে ‘আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট’। একে ঈশ্বরের সিন্দুকও বলা হয়। হিব্রু বাইবেল অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তার বিখ্যাত ১০ আদেশ (দ্য টেন কমান্ডমেন্টস) এতে সযত্নে রাখা আছে। মনে করা হয়, এই সিন্দুক যাঁর বা যাঁদের কাছে থাকবে, তাঁরাই হবেন পৃথিবীর সমস্ত শক্তির মালিক। কিন্তু কোথায় সেই সিন্দুক? তথ্য বলছে, রাজা সলোমন কর্তৃক নির্মিত মন্দিরে রাখা হয়েছিল এটি। কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৭ সালে সম্রাট দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের সেনাবাহিনী মন্দিরটি ধ্বংস করে ফেলে এবং জেরুজালেমের দখল নেয়। এরপর সেই বিখ্যাত সিন্দুকের কী হয়েছে কিংবা কোথায় আছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই ইতিহাসবিদদের কাছে।

শেক্‌সপিয়ারের হারানো বই

হারানো অমূল্য সম্পদের খোঁজ

শেক্‌সপিয়ারের একটি বিখ্যাত কমেডি নাটক লাভস লেবারস লস্ট, যা লেখা হয়েছিল ১৫৯০ সালে। মনে করা হয়, এর সিকুয়েল হিসেবে লাভস লেবারস ওন লিখেছিলেন তিনি। এটি প্রকাশিত হয় ১৫৯৮ সালে এবং ১৬০৩ সাল পর্যন্ত বইটির বিক্রির কথা জানা যায়। কিন্তু এরপর আর এর একটি কপিও পাওয়া যায়নি। বোস্টন ইউনিভার্সিটির ইংরেজির অধ্যাপক উইলিয়াম ক্যারোল লাভস লেবারস লস্ট বইয়ের ভূমিকায় এমন কথাই লিখেছেন।

সিংহাসনের সন্ধান

হারানো অমূল্য সম্পদের খোঁজ

বহুমূল্য মণিমুক্তা ও স্বর্ণনির্মিত ময়ূর সিংহাসন ভারতের ইতিহাসে তো বটেই, পৃথিবীর ইতিহাসেও এক বিস্ময়কর নিদর্শন। মোগল সম্রাট শাহজাহান নির্মাণ করেন এটি। জগদ্বিখ্যাত কোহিনুর হীরার ব্যবহার এই সিংহাসনের শোভা বৃদ্ধি করেছিল বহুগুণ। ১৭৩৯ সালে পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করেন এবং অন্যান্য মূল্যবান ধনরত্নের সঙ্গে কোহিনুর হীরা ও ময়ূর সিংহাসনটি লুট করে নিয়ে যান। ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হলে হারিয়ে যায় এই সিংহাসন। চুরি হয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে নাকি টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, আসলে কী ঘটেছে ময়ূর সিংহাসনের ভাগ্যে, আজও তা অমীমাংসিত।

রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদক

হারানো অমূল্য সম্পদের খোঁজ

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পদকটি সংরক্ষিত ছিল শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনের সংগ্রহশালায়। এখান থেকে ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য সামগ্রীর সঙ্গে মহামূল্যবান পদকটিও চুরি হয়ে যায়। এরপর পৃথিবীর বয়স বেড়েছে, গঙ্গায় জল গড়িয়েছে অনেক, পদক খুঁজে পেতে চেষ্টা-তদবির হচ্ছে বিস্তর, কিন্তু এখনো এই নোবেল চুরির কোনো কিনারা করে উঠতে পারা যায়নি।

ইলিশের রাজ্য চাঁদপুর

চাঁদপুরের ইলিশের রাজ্য

আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ হবার অন্যতম কারণ এই মাছকে বরাবরই স্বাদ এবং গন্ধ্যে অন্যান্য মাছ থেকে খুব সহজেই আলাদা করা যায়।আর বাঙ্গালীরা তো ইলিশ বলতে কাতর। রুপে,গুনে,গন্ধে,স্বাদে শ্রেষ্ঠত্বর কারণে সাহিত্যেও ইলিশের ব্যাপক জয়গান শোনা যায়।পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু করে  বাঙ্গালীর যেকোনো  উৎসব আয়োজনে সকলের প্রথম পছন্দ  হিসেবে প্রাধান্য পায় ইলিশ।

বাংলাদেশের চাঁদপুরকে বলা হয় ইলিশের বাড়ি। চাঁদপুরে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পরে এবং দেশের প্রায় ৩০% ইলিশ চাঁদপুর থেকেই সংগ্রহ করা হয়। আর এই ইলিশের লোভে পুরো দেশ থেকে  চাঁদপুরে ভীড় জমায় হাজারো ইলিশ প্রেমী। সুস্বাদু ইলিশ ভাজা খেতে আর টাটকা ইলিশ কিনতে   চাঁদপুরেই প্রথম পছন্দ  ইলিশ প্রেমীদের।

ঢাকা থেকে ইলিশ রাজ্য চাঁদপুরে যেতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে যেতে হবে ঢাকার সদরঘাট। ঢাকার সদরঘাট  থেকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বেশ কিছু লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সুবিধামতো যে কোনো একটিতে চড়ে বসতে পারেন।ঢাকা-চাঁদপুর রুটে প্রতিদিন চলাচল করে এমভি তাকওয়া, এমভি সোনারতরী, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি ঈগল, এমভি আল বোরাক, এমভি তুতুল, এমভি রফরফ প্রভৃতি। এসব লঞ্চে ঢাকা-চাঁদপুর অথবা চাঁদপুর-ঢাকার ভাড়া প্রথম শ্রেণির একক কেবিন ৩০০-৫৫০ টাকা। প্রথম শ্রেণির দ্বৈত কেবিন ৬শ’-১ হাজার টাকা। তৃতীয় শ্রেণির ভাড়া জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা।    
বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে একসময়ে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরীকে পাশ কাটিয়ে লঞ্চ এসে পড়বে মেঘনায়। এখান থেকে নদীর দৃশ্যটাও বদলাতে শুরু করে। বিস্তীর্ণ মেঘনার বুকে ছোট ছোট জেলে নৌকা। ঢেউয়ের তালে দুলে দুলে কেউ জাল টানছে, কেউ আবার টানার জন্য অপেক্ষায়। কেউ আবার শক্ত হাতে ধরে আছেন হাল। রুপালি ইলিশ জালে আটকাতে পেরে কারও কারও মুখে আনন্দের হাসি। কোনো একটি নৌকার দিকে একটু সময় নিয়ে তাকিয়ে থাকলে সদ্য পানি থেকে তোলা জীবন্ত ইলিশের ছটফটানিও চোখে পড়বে।

ঢাকা থেকে লঞ্চে চাঁদপুর পৌঁছাতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। সদরঘাট থেকে ছেড়ে মেঘনা নদী পৌঁছুতে সময় লাগে ঘণ্টা দুইয়ের মতো। এখান থেকে চাঁদপুর পৌঁছানো পর্যন্ত বাকি ২ ঘণ্টা সময়ের পুরোটাই দেখা যাবে ইলিশ ধরার দৃশ্য। রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যে চলতে থাকে জেলেদের ইলিশ ধরা। পদ্মা, মেঘনা আর ডাকাতিয়ার মোহনায় এখন প্রবল স্রোত। চাঁদপুর-লঞ্চঘাট তাই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শহরের মাদ্রাসা ঘাটে। এই জায়গায় নেমে প্রথমেই বড় স্টেশনে যেতে পারেন। চাঁদপুরে সবচেয়ে বড় ইলিশের মোকাম এটি। এছাড়াও বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জেলেরা ইলিশ নিয়ে আসেন এখানে। বাজার ঘুরে ইচ্ছে হলে পছন্দের ইলিশ কিনেও নিতে পারেন। সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য বরফ দিয়ে ইলিশ প্যাকেট করারও ব্যবস্থা আছে এ বাজারে।

           

গরম তেলে ভাজা চাঁদপুরের সুস্বাদু ইলিশ 

আশপাশে ছোট ছোট কিছু রেস্তোরাঁ আছে। এখানে খেয়ে নিতে পারেন তাজা ইলিশ ভাজা। রেস্তোরা কিংবা হোটেল গুলোর মূল আকর্ষণই  ইলিশ ভাজা।ইলিশের টুকরার সাইজ অনুযায়ী মূল্য ৬০-১২০ টাকার মধ্যেই খেতে পারবেন গরম গরম তেলে ভাজা  সু্স্বাদু ইলিশ।উল্লেখ যোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে-হোটেল তাজ,ক্যাফে কর্ণার প্রভৃতি।বিক্রেতারা আপনাদের  সামনেই তৎক্ষণাত হলুদ লবনে মাখানো আপনাদের পছন্দের টুকরাটি ভেজে দিবে তেলে।রেস্তোরাগুলোতে ইলিশের লেজের ভর্তাও খুব জনপ্রিয়।

খাওয়া শেষ করে যেতে পারেন হরিণা ফেরিঘাটে। শহর থেকে জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। হরিণায় পদ্মার ওপারে শরীয়তপুর। এখানে আছে ইলিশের আরেকটি মোকাম। আকারে একটু ছোট। এখানে সব ইলিশই আসে পদ্মা থেকে। এখানেও খুব কাছ থেকে পদ্মায় জেলেদের ইলিশ ধরা দেখতে পাবেন।

হরিণা থেকে ফিরে পড়ন্ত বিকেলে আসতে পারেন শহরের পশ্চিমপাশে। বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় পদ্মা, মেঘনা আর ডাকাতিয়ার সৌন্দর্য। এখানকার শহর রক্ষা বাঁধে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় সন্ধ্যা নামার মনোরম দৃশ্য। সম্প্রতি এখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য ‘রক্তধারা’। চাঁদপুরের সবজায়গায় বেড়াতে হলে ফিরতে হবে রাতের লঞ্চে। যেগুলো ছাড়তে শুরু করে রাত ৯টা থেকে। আর শুধু বাজার বেড়িয়ে ফিরতে চাইলে বিকেলের লঞ্চেই উঠতে পারেন।
কোথায় থাকবেন:
চাঁদপুরে গিয়ে থাকতে চাইলে শহরেই পেয়ে যাবেন আপনার সামর্থ্য  অনুযায়ী থাকার মতো আবাসিক হোটেল। উল্লেখযোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে রশীদ আবাসিক বোডিং,গাজী আবাসিক বোডিং,হোটেল রজনীগন্ধা প্রভৃতি।

 

প্রয়োজনীয় তথ্য:
* চাঁদপুর বড় স্টেশন মোকামের বেশিরভাগ ইলিশই চাঁদপুরের নয়। এখানে বরিশাল, ভোলা কিংবা সামুদ্রিক ইলিশই বেশি।

 

*চাঁদপুরের ইলিশ চেনার সবচেয়ে সহজ একটি উপায় আছে। এখানকার ইলিশ একেবারে রুপালি রং। আর অন্যান্য জায়গার ইলিশে রুপালি রংয়ের সঙ্গে লালচে আভা আছে। চিনতে না পারলে এখানকার ব্যবসায়ীরা সব ইলিশই চাঁদপুরের বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে। নোনাপানির ইলিশে রুপালি রংয়ের সঙ্গে লালচে আভা থাকে। মিষ্টিপানি বা নদীর ইলিশের রং চকচকে রুপালি হয়।
*চাঁদপুরের আড়ত গুলো খোলা থাকে রাত ১০টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত
*আড়ত থেকে মাছ কিনতে চাইলে মাছের দাম নির্ভর করবে মাছের ওজন এবং কয়টি মাছ কিনবেন তার ওপর। তবে অবশ্যই দামাদামি করে কেনার চেষ্টা করবেন।

১০ বছরে হোটেল–রেস্তোরাঁর ব্যবসা বেড়েছে ৮ গুণ (বিবিএসের জরিপের তথ্য)

১০ বছরে হোটেল–রেস্তোরাঁর ব্যবসা বেড়েছে ৮ গুণ

এক দশকে হোটেল-রেস্টুরেন্টের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে এই খাতে কর্মসংস্থানও বেড়েছে।

  • এবারের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন হোটেল-রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪।
  • হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩২ জনের।

অপেক্ষাকৃত কম পুঁজিতে বাংলাদেশে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসা বেশ লাভজনক এবং জনপ্রিয়ও। শুধু ঢাকা নয়, জেলা ও উপজেলাতেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হোটেল-রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ বলছে, গত এক দশকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মূল্য সংযোজন বেড়ে হয়েছে আট গুণ। এক দশক আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে মূল্য সংযোজন হয়েছিল মাত্র ১১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাত থেকে মূল্য সংযোজন হয়েছে ৮৭ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, যা ২০০৯-১০ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দৈবচয়নের ভিত্তিতে দেশের ৬ হাজার ৭৩৪টি হোটেল-রেস্টুরেন্টের ওপর জরিপটি পরিচালনা করে বিবিএস। বিবিএসের ১৫১ জন গণনাকারী ও ৮০ জন সুপারভাইজার মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারি ও ২০১৯ সালের বিজনেস ডিরেক্টরি থেকে তথ্য নিয়ে জরিপটি করা হয়েছে। জরিপের প্রাথমিক ফলাফল সম্প্রতি সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিবিএসের যুগ্ম পরিচালক ও ফোকাল পয়েন্ট আক্তার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট জরিপটি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল, এক দশকে সারা দেশে হোটেল-রেস্টুরেন্টের সংখ্যা কত বেড়েছে ও জিডিপিতে এই খাত থেকে কী পরিমাণ মূল্য সংযোজন হচ্ছে, তা জানা। এই খাতে কত মানুষ কর্মরত আছেন, সেই তথ্যও বের করা হয়েছে এ জরিপ থেকে। প্রতি ১০ বছর পরপর জরিপটি করা হয়। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে শেষ জরিপ করা হয়েছিল।

এবারের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন হোটেল-রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪। এক দশক আগে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৪। এই খাতে এক দশকে কর্মসংস্থানও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য। এই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩২ জনের। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩৭ হাজার। বাকিরা নারী। এক দশক আগে হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতে কর্মসংস্থান ছিল ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪ জনের।

জরিপের তথ্যে আরও বেরিয়ে এসেছে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে যাঁরা নিয়োজিত আছেন, তাঁদের মজুরি বা বেতনের পেছনে সংশ্লিষ্ট এক অর্থবছরে খরচ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। তাতে প্রতিবছর একজন শ্রমিকের মজুরির পেছনে খরচ হয়েছে গড়ে ৬৯ হাজার ৪৮ টাকা।

বিবিএস বলছে, করোনার প্রভাবে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটা ঠিক। তবে এক দশকে এই খাত বেশ বিকশিত হয়েছে।

মদ ও ক্লাব নিয়ে হঠাৎ উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদ ভবন

ক্লাব ও মদ নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও তরিকত ফেডারেশনের পাঁচ সাংসদ অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে একজন চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা বোট ক্লাব। কে করল এই ক্লাব? এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়? শুনেছি, ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে এ ক্লাবের সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা ক্লাবের সদস্য হন? আমরা তো ভাবতেই পারি না।’

রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবের নাম উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়। জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন–গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে খেতে হলে এত মদ তো বিক্রি হওয়ার কথা নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে এসব ক্লাবের সদস্য হন? এত টাকা কোথা থেকে আসে?

মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়। সেখানে ড্যান্স হয়। নেশা করা হয়। মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন, কেন এসব হচ্ছে? কেন এগুলো বন্ধ করা হবে না? ওই সব ক্লাবের সদস্য কারা হয়?’

মুজিবুল হকের বক্তব্যের পর সংসদে ফ্লোর নেন সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, এ তো বোট ক্লাব। জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার দিয়েছিলেন। হিজবুল বাহার করেছিলেন। যাঁরা অপরাধের শুরু করেছেন, তাঁদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে।

শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের বিরোধীদলের এক সংসদ সদস্য (মুজিবুল হক) একটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র এক সদস্য (শেখ সেলিম) কোথায় চলে গেলেন?’

হারুন আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিক, ডোম ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য জিয়াউর রহমান মদের বৈধতা দিয়েছিলেন। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে জিয়াউর রহমান মুসলমানদের জন্য মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।

হারুন বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা নন, সব থানার পুলিশ এসব ক্লাব থেকে টাকা নেয়। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হারুনের বক্তব্যের জবাবে আবার সংসদে ফ্লোর নেন শেখ সেলিম। তিনি বলেন, ‘লাকী খানের নাচের কথা কি ভুলে গেলেন? হিজবুল বাহার? জিয়াউর রহমান এগুলো করেছিলেন। এসবের জন্য বিএনপি দায়ী। সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে।’

এরপর তরিকত ফেডারেশনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘হারুন সাহেবের সদস্যপদ আজই ছেড়ে দেওয়া উচিত। উনি বললেন, জিয়াউর রহমান মুসলমানদের মদ খাওয়ার পারমিশন দেননি। উনি দেখাক, আইনে কোথায় বলা আছে, মুসলমানরা মদ খেতে পারবেন না। আইন এখানে এনে দেখাক। পদ ছেড়ে দিক।’

এরপর জাতীয় পার্টির সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু লাইসেন্স দেননি। তারপর আইনটার অপব্যবহার হচ্ছে। একজন চিকিৎসক দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়, জীবন বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন মদ খেতে হবে। তারপর লাইসেন্স নেওয়া হয়। বিএনপি এই লাইসেন্স দিয়েছিল।

ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানান মশিউর রহমান। এ ছাড়া পরীমনির মামলার পর গ্রেপ্তার জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিষয়ে তিনি বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার হবে। দোষী হলে শাস্তি হবে।

নতুন আদেশে প্রবাসীদের সহায় সম্পদ রক্ষায় জটিলতা আরও বাড়বে

পৃথিবীর ১৬৮ দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। তারা প্রতিবছর রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গত বছর প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন রেকর্ড সৃষ্টিকারী ২২ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধনে। এই প্রবাসীরা নানা জটিলতার শিকার হন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা, আবার কখনো প্রতারিত হন নিজের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে।
শেষ ভরসা হিসেবে প্রবাসীরা কখনো কখনো আদালতের দ্বারস্থ হন। এই শেষ ভরসাস্থলে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। গতকাল মহামান্য হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছেন, এখন থেকে মামলা করতে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে

দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য এটি কষ্টসাধ্য নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কিন্তু প্রবাসীদের জন্য এই আদেশ সৃষ্টি করবে বিরাট জটিলতা। কারণ ১,৬০,০০,০০০ প্রবাসীর বেশির ভাগের কাছে নেই এনআইডি। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের জন্য এনআইডি প্রদানের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে- তবে কাজটি অনেক কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। সুতরাং প্রবাসীরা যদি এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারে তাহলে তাদের সহায় সম্পত্তি রক্ষার শেষ আশ্রয়স্থলটিতে পৌঁছাতে সৃষ্টি হবে জটিলতা। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা প্রবাসীদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় আরও বেশি সফল হবে।
সামগ্রিক বিবেচনায় প্রবাসীদের আপাতত এই আদেশটি থেকে বাইরে রাখা যায় কিনা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

এক বছরে এমিরেটসের লোকসান ৫৫০ কোটি ডলার

করোনা মহামারির কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ বিমান সংস্থা এমিরেটসের গত এক বছরে নেট লোকসান হয়েছে ৫৫০ কোটি ডলার। এ সময়ে রাজস্ব আয় কমে গেছে শতকরা ৬৬ ভাগেরও বেশি। অনলাইন আইরিশ এক্সামিনার এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এক বছরে তাদের রাজস্ব আয় হয়েছে ৮৪০ কোটি ডলার কম। ২০২০ সালের মার্চে এবং চলমান ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে এই যাত্রীবাহী ফ্লাইটের এই ঘটনা ঘটেছে। এমিরেটস বলেছে, গত এক বছরে তাদের মোট যাত্রী এবং কার্গো ক্যাপাসিটি কমেছে শতকরা ৫৮ ভাগ। গত বছর এমিরেটসের লাভ কমে গিয়েছিল। তবু তারা ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার লাভ পেয়েছিল।

এমিরেটস গ্রুপ বলেছে, তাদের মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথমবার এই বিমান সংস্থা লোকসান গুনলো।

টিকটক, লাইকি যুবসমাজের জন্য ক্ষতি, বন্ধ করা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত

টিকটক, লাইকি অ্যাপ যুবসমাজের জন্য ক্ষতির কারণ। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে স্কুল-কলেজের ছাত্রী, এমনকি যুবতী গৃহবধূকে টার্গেট করা হয়। তাদেরকে ফুসলিয়ে পাচার করা হয় অন্য দেশে। সেখানে নিয়ে তাদেরকে বিক্রি করা হয় অথবা জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ র‌্যাব এসব অ্যাপ বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপ বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, ভিপিএন ব্যবহার করে এসব সাইটে প্রবেশ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ফলে এই অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ না করে দিয়ে উন্নত মনিটরিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ খবর দিয়েছে তুরস্কের অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

এতে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে যৌনতার উদ্দেশ্যে পাচার নতুন কিছু নয়। এক দশকে ১২ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি বালিকা ও নারীকে যৌনতা বিষয়ক চক্র পাচার করেছে ভারতে। কিন্তু টিকটকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পাচারের ঘটনা প্রথম জানা গেছে। এই চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবতীর ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। তাকে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু শহরে নির্যাতন ও যৌন হয়রানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের রিফাদুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় ও তার অন্য ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। তারা সবাই ওই যুবতীর ভিডিও ধারণের সঙ্গে জড়িত।

এর কয়েকদিন পরেই আরেক বাংলাদেশি নারীকে ভারতে পাচার করার পর তিনি পালান। ৭৭দিন পরে তিনি দেশে ফিরে এসে দেশের পাচার প্রতিরোধ ও নির্যাতন বিরোধী আইনের অধীনে মামলা করেন।

এই দুটি ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশকে বৃহত্তর অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। সেই তদন্ত থেকে দেশের ভিতরে মানবপাচারকারী চক্রের কুখ্যাত নেটওয়ার্কের তথ্য বেরিয়ে আসে। তাতে দেখা যায়, যুব শ্রেণি- বিশেষ করে সহজ সরল টিনেজ মেয়েদের ফুসলিয়ে পাচার করতে ব্যবহার করা হয় টিকটক। এরপর তাদেরকে ভারতে নিয়ে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ড আরো লিখেছে, বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুকে আরো একটি গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে, টিকটকে থাকা যুবক বা যুবতীদের এই গ্রুপে যুক্ত করা হয়। এসব টিনেজার মেয়েকে ভারতে ভাল বেতনে চাকরি পাইয়ে দেয়ার টোপ ফেলা হয়। তারপর সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হয়। এমন গ্রুপের সন্ধান পাওয়ার পর বাংলাদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো টিকটক ও লাইকি’র মতো অন্যসব প্লাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এমনকি তারা এসব প্লাটফরম নিষিদ্ধ করার কথাও বিবেচনা করছে। র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, তারা টিকটক এবং লাইকি বন্ধের একটি প্রস্তাব জমা দেয়ার পর্যায়ে আছেন। তিনি বলেন, এগুলোর মতো অন্য অ্যাপ থেকে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি আমরা মানব পাচারের চক্রের সন্ধান পেয়েছি, যারা টিকটক ব্যবহার করে যুবতীদেরকে প্রলুব্ধ করতো। তাদেরকে ভাল বেতনের কাজ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো। তারপর ভারতে নিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হতো।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তঃদেশীয় এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ৫০ জন সদস্য। তারা গত ৫ বছরে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী প্রায় ৫০০ মেয়েকে ভারতে পাচার করেছে। এ বিষয়টি সম্প্রতি উদঘাটন হয়েছে। আমরা টিকটক ও লাইকি’তে নজরদারি বৃদ্ধি করেছি। আমরা মনে করি এসব প্লাটফরম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। আমরা শুধু তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে পারি।

টিকটকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এটাই প্রথম কোনো পদক্ষেপ নয়। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টিকটকে প্রবেশ ব্লক করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। ২০২০ সালের আগস্টে এই মাধ্যম থেকে কর্তৃপক্ষ ১০টি ভিডিও মুছে দেয়। এসব ভিডিও দেশের ভিতর থেকে আপলোড করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে টিকটক। ২০২১ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে চীনের ভিডিও শেয়ারিং এই প্লাটফরম ব্যবহার করেন প্রায় ৭০ কোটি মানুষ। এর ব্যবসায়িক ধারণা অন্য অ্যাপগুলোতে ফিচার যোগ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। লাইকি অ্যাপও বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছ। এই অ্যাপটি বিশ্বে ব্যবহার করেন কমপক্ষে ১৫ কোটি মানুষ।

টিকটক, লাইকি, বিগো লাইভের মতো প্লাটফরম যুবসমাজের ক্ষতি করছে মর্মে এসব অ্যাপ বন্ধ করে দিকে গত ডিসেম্বরে হাইকোর্টের আছে একটি রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে বন্ধ রয়েছে টিকটক। কর্তৃপক্ষ পর্নোগ্রাফি, অসামঞ্জস্য কন্টেন্ট এবং ধর্ম অবমাননাকর কন্টেন্টের জন্য ২০১৮ সালের জুলাইয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়ায় নিষিদ্ধ করে টিকটক। কিন্তু এই অ্যাপের পক্ষ থেকে সেখানে কন্টেন্ট সেন্সর করতে ২০ জন স্টাফকে মোতায়েন করা হবে- এমন ঘোষণা দেয়ার পর নিষেধাজ্ঞার ৮ দিন পরে তুলে নেয়া হয়।

পাকিস্তানেও টিকটক অস্থায়ী সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। টিকটক তাদের অ্যাপ থেকে আপত্তিকর কন্টেন্ট মুছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। অন্যদিকে ২০২০ সালের ২৯ শে জুন থেকে ভারতে টিকটক বন্ধ আছে।

বাংলাদেশেও কি নিষিদ্ধ হবে?
সামাজিক যোগাযোম মাধ্যম বিষয়ক বিশ্লেষক আশ্রফ উল জুবায়ের টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, এই ছোট্ট মনোযোগ আকর্ষণের যুগে টিকটক এবং লাইকি হয়ে উঠেছে অপরিহার্য এক উপাদান। তিনি বলেন, টিকটকের কন্টেন্টে খুব বেশি সেট-আপ প্রয়োজন হয়না। এতে শুধু একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হলো। অন্যদিকে যারা ইউটিউবার তাদের অনেক সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়। ফলে টিকটক ব্যবহার করে প্রান্তিক মানুষগুলো বিশ্বের সাইবার-বিনোদনে অংশ নেন এবং কন্টেন্ট তৈরি করেন। এর ফলে বহু যুবতী এই অ্যাপ ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড দেন। কিন্তু পরে তারা যৌনতার উদ্দেশে পাচারের শিকারে পরিণত হন। এই অ্যাপে কোনো নোংরামি বিষয়ক কন্টেন্টের বিষয়ে কোনো রাখঢাক নেই। এতে যৌনতা বিষয়ক কন্টেন্ট এখনও আপলোড হয় এবং তা শেয়ার হয়।

তিনি মনে করেন টিকটক বা লাইকি’র মতো অ্যাপের বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে তা এখন আর কাজে আসবে না। কারণ, জনগণ ভিপিএনের সাহায্য নিয়ে এসব অ্যাপের নাগাল পেয়ে যায় সহজেই। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ওমেন লয়ার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং হিউম্যান ট্রাফিকিং মনিটরিং সেলের উপদেষ্টা সালমা আলি বলেছেন, ঢাকা ভিত্তিক মেয়েদের ভারত পাচারের বিষয়টিকে একটি ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বড় ব্যর্থতাও ঘেঁটে দেখা উচিত। এই পাচারকারী চক্র সহজেই এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী  এমনকি কখনো কখনো তারা যুবতী গৃহবধূকেও টার্গেট করে। এতে বাংলাদেশে ডিজিটাল শিক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মধ্যে একটি বড় ব্যবধান ফুটে উঠেছে। টিকটক এবং লাইকি’র মতো অ্যাপ বন্ধ করার পরিবর্তে সরকার এসব প্লাটফরমে নজরদারি বাড়াতে অন্য উন্নত উপায় অবলম্বন করতে পারে।

করোনাকালীন বর্ষায় স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনাকালে দেখতে দেখতে চলে এল আরেকটি বর্ষা। একটি সুন্দর এবং মন ভাল করে দেয়া ঋতু হিসেবে বৃষ্টিমুখর বর্ষার কদর রয়েছে। তবে কেবল মানুষই নয়, গাছপালা, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসও বর্ষাকাল উপভোগ করে। ফলে অনেকে বৃষ্টিতে ভিজতে বা বৃষ্টিস্নাত রাস্তায় সতেজ কাটা ফল বা খাবার খেতে পছন্দ করলেও তা স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে, এই করোনাকালেও সতর্কতার সাথে বর্ষাকে উপভোগ করা যেতে পারে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ : বেশিরভাগ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করেন। এটি দেহ-মনকে সতেজ করে এবং মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিবার বৃষ্টিস্নাত হওয়ার পর ডেটল, স্যাভলন বা বেটাডাইনের মতো জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করুন। এটি আপনাকে কয়েক লাখ ক্ষতিকর অণুজীব থেকে বাঁচাবে এবং আপনাকে সুস্থ ও ফিট রাখতে সহায়তা করবে।
সর্বদা হাত পরিষ্কার রাখুন : বাড়ির বাইরে, বাড়িতে ফিরে এবং কিছু খাওয়ার আগে সাবধানতার সাথে আপনার হাত ধুতে বা স্যানিটাইজ করতে ভুলবেন না। হাত জীবাণুমুক্ত রাখার স্বাস্থ্যকর অনুশীলনে হাতের ত্বকে থাকা প্রায় সমস্ত জীবাণু মারা যায়। বাড়ি ফেরার সাথে সাথে পা ধুয়ে ফেলাও আবশ্যক।

ভেজা জুতোকে না বলুন : বর্ষাকালে সময় আপনার জুতা পরিষ্কার এবং শুকনো রেখে কাজ করা এবং বাড়ি ফেরা প্রায় অসম্ভব। যদি জুতায় কাদা লেগে থাকে বা ভিজে যায়, তবে সেগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন এবং আবার পায়ে দেয়ার আগে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। অন্যথায়, জুতার মধ্যে থাকা জীবণুগুলোর বংশ বিস্তার ঘটবে। বারবার পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ রাবারের জুতা বেছে নিতে পারেন।

পরিধানের কাপড় ইস্ত্রি করুন : ওয়ার্ড্রোব এবং আলমিরাসহ কাপড় রাখার স্থানগুলো সাধারণত শীতল থাকে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ার সাথে সাথে স্যাঁতস্যাঁতে হতে শুরু করে। আর সেই আর্দ্রতার মধ্যে সেখানে রাখা কাপড়গুলোতে ছত্রাক বাসা বাধে। যেহেতু, জামাকাপড় সবসময় সবার পক্ষে রোদে দেয়া সম্ভব হয় না, তাই সেগুলিকে পরিষ্কার করার পর ইস্ত্রি করে পরিধান করাই সব থেকে বড় সমাধান।

মশার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন : বর্ষার সবচেয়ে ভয়ঙ্কার সমস্যাগুলোর একটি হ’ল মশার প্রজনন। মশারা আবদ্ধ পানিতে বংশ বিস্তার করে। তাই আপনার বাড়িতে কোনও খালি জলাধার নেই এবং ড্রেনগুলো আটকে নেই, তা নিশ্চিত করুন। পাশাপশি, মশার তাড়ানোর তেল, কয়েল বা স্প্রে পর্যাপ্ত মাত্রায় ব্যবহার করুন।

জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন : বর্ষাকালে রাস্তাগুলো সাধারণত কাদা-পানিতে ভরা থাকে। এগুলো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক অণুজীবের জন্য নিখুঁত প্রজনন পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে রাস্তার খাবারগুলো যত বেশি উন্মুক্ত বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তত বেশি সেগুলোতে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, পছন্দসই জাঙ্ক ফুড যত বেশি খাবেন, তত বেশি রোগক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার, ফলমূল এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কঠোরভাবে এড়ানো উচিত।

ভিটামিন সি’র মাত্রা বাড়ান : বছরের এ সময়টিতে ভাইরাস জ¦র, অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য ভাইরাস সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়। এসময়ে সুস্থ থাকার জন্য আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। এটি করার অন্যতম সহজ উপায় হ’ল আপনার ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ স্প্রাউট, তাজা সবুজ শাকসবজি, লেবু এবং কমলা খান।
ফল এবং সবজির যত্ন : বর্ষার সময় পরিষ্কার পানিতে ফল এবং শাকসব্জী ভালভাবে ধোয়া জরুরি যেহেতু জীবাণুগুলো ফল এবং সবজির ত্বকে লেগে থাকে। কেবলমাত্র রান্না করা বা সিদ্ধ শাকসবজি খাবেন। না হলে পানিবাহিত রোগের শিকার হতে পারেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান : দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, শরীর সতেজ রাখে এবং ফ্লু ও বর্ষায় সাধারণ ঠান্ডা-জ¦র প্রতিরোধ করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন : ব্যায়াম বা শরীর চর্চ্চা দেহের ওজন হ্রাস করতে বা সঠিক ওজন ধরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, তা রোগ প্রতিরোধের পক্ষেও দুর্দান্ত। ব্যায়ামে হৃতপিন্ডে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, শরীরের রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটে এবং সেরোটোনিন (সুখ হরমোন) উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয়। এসবই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আপনার দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

শুধুমাত্র শুকনো অবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে প্রবেশ করুন : যদি আপনার অফিস বা বাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং আপনি ভেজা অবস্থায় থাকেন, তাহলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে প্রবেশের আগে অপেক্ষা করুন। নিজেকে যতটা সম্ভব শুকানোর জন্য একটি তোয়ালে বহন করুন। আপনার ভেজা ত্বক এবং কাপড়ে এয়ার কন্ডিশনারের শীতল বাতাস গেলে ভয়ানক সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অসুস্থ ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন : যেহেতু বর্ষার সময় প্রচুর লোকের মধ্যে ফ্লু বা সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঘটে, তাই আপনাকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন, যাতে সংক্রমণগুলো আপনার শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ না করে।

অ্যালার্জেন থেকে নিজেকে রক্ষা করুন : বর্ষার সময় অ্যালার্জি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। কোভিডের সাথে সাথে ধুলো, বাষ্প বা দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপনার বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। আপনার ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত অ্যালার্জি জনিত ওষুধগুলো সর্বদা আপনার সাথে রাখুন এবং বাসস্থান পরিষ্কার রাখুন।