জলবায়ু বাঁচাতে সমুদ্রতলে বিজ্ঞানীদের লড়াই

 

গবেষণার কাজে জেদ্দার ‘রেড সি’ পর্যবেক্ষণ করছেন একজন বিজ্ঞানী।
গবেষণার কাজে জেদ্দার ‘রেড সি’ পর্যবেক্ষণ করছেন একজন বিজ্ঞানী।

 

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডের লিজার্ড আইল্যান্ডের একটি গবেষণাকেন্দ্রে সাগরের নিচে প্রবালপ্রাচীর পর্যবেক্ষণ করছেন দুইজন গবেষক।
অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডের লিজার্ড আইল্যান্ডের একটি গবেষণাকেন্দ্রে সাগরের নিচে প্রবালপ্রাচীর পর্যবেক্ষণ করছেন দুইজন গবেষক। 

 

সৌদি আরবের জেদ্দায় অস্ট্রেলীয় এক গবেষক ডুবসাঁতারের সময় খুঁজে পেয়েছেন সাগরে পরিত্যাক্ত একটি যন্ত্র।
সৌদি আরবের জেদ্দায় অস্ট্রেলীয় এক গবেষক ডুবসাঁতারের সময় খুঁজে পেয়েছেন সাগরে পরিত্যাক্ত একটি যন্ত্র।

 

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড উপকূলে লিজার্ড দ্বীপের একটি গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করার সময় হিনরেইনস সাগরের তলদেশ থেকে একটি পরিত্যাক্ত নোঙ্গর সরাচ্ছেন এক গবেষক ও তার ছাত্র।
অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড উপকূলে লিজার্ড দ্বীপের একটি গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করার সময় হিনরেইনস সাগরের তলদেশ থেকে একটি পরিত্যাক্ত নোঙ্গর সরাচ্ছেন এক গবেষক ও তার ছাত্র।

 

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডের লিজার্ড আইল্যান্ডের একটি গবেষণাকেন্দ্রে সাগরের উপরে বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করছেন দুইজন গবেষক।
স্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডের লিজার্ড আইল্যান্ডের একটি গবেষণাকেন্দ্রে সাগরের উপরে বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করছেন দুইজন গবেষক।

 

জেদ্দার ‘রেড সি’র নিচে প্রবালপ্রাচীরের উপর দিয়ে সাঁতরে যাচ্ছে একটি মাছ।
জেদ্দার ‘রেড সি’র নিচে প্রবালপ্রাচীরের উপর দিয়ে সাঁতরে যাচ্ছে একটি মাছ।

দীর্ঘ বন্ধের প্রভাব, কী বলছে শিক্ষার্থীরা?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে শিশুরাই।

স্কুল বন্ধের এই দীর্ঘ সময়টা শিশুরা কীভাবে কাটাচ্ছে, তারা কেমন আছে, এই সময়ে তাদের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয় হ্যালোর।

কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে তুলনামূলক বেশি অস্বস্তিতে রয়েছে শহরে বসবাসরত শিশুরা। সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হয় না, খেলাধুলার সুযোগ নেই বললেই চলে, বেশিরভাগ সময়ই ঘরে বসে কাটাতে হয়। তাই প্রায় সময়ই মোবাইল ফোন নিয়ে সময় কাটাচ্ছে তারা। এতে অনেকে আবার আসক্ত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম এবং মোবাইল ফোনের প্রতি।

সুনামগঞ্জের একটি বেসরকারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া নয় বছর বয়সী শিশু রাইয়ান বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় বন্ধুদের অনেক মিস করি, খেলাধুলা করার সুযোগ পাই না। আমাদের স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”

জেলার সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নেহা হ্যালোকে বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় আমাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পড়াশোনায় মন বসে না। অনেক দিন ধরে ফ্রেন্ডেদের সাথে কথা বলতে পারি না। টিচাররা যে অনেক কিছু শেখাতেন ঐগুলো শিখতে পারছি না।”

এদিকে শহরের শিশুরা অনলাইনে পড়ালেখার সুযোগ পেলেও গ্রামের সব পরিবারের শিশুরা এ সুযোগ পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুকেই কাজে নামানো হয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরাও। সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোর পাশাপাশি পথশিশুদের পাঠদানে এগিয়ে আসতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠন। পাঠদানের পাশাপাশি তারা পথশিশুদের খাদ্য ও বস্ত্র দিয়েও সাহায্য করত। ফলে পথশিশুরাও আগ্রহ নিয়ে স্কুলে আসত।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পাঠদান কর্মসূচিও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই সাথে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিও নিয়মিত পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়ালেখার স্বপ্ন মন থেকে ঝেড়ে ফেলে পেটের দায়ে আবারও যুক্ত হতে হচ্ছে কাজে।

এমনই এক শিশু শাহিদুল ইসলাম। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পথশিশুদের জন্য পরিচালিত একটি স্কুলে পড়ত ও।

ও বলে, “আমার ইচ্ছা আমি বড় অইয়া ডাক্তার অইতাম, মানুষের সেবা করতাম। কিন্তু অখন স্কুল বন্ধ থাকায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। আমরার ভবিষ্যতে কিতা অইবো জানি না। আমরা চাই, স্কুল তাড়াতাড়ি খুলতো, স্যারেরা আমরারে পড়াইতা। আমরা আমরার ভবিষ্যৎ চাই।”

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাব এবং শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষক এবং অভিভাবকেরাও।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সরকারি এস সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম হ্যালোকে বলেন, “এই ঘরবন্দি সময়ে শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে তারা অনলাইন গেমের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশু শিশুশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ঝরে পড়া এই শিশুদের পুনরায় স্কুলে ফেরা নিয়েও আমি শঙ্কিত।”

শিউলি আক্তার নামে এক অভিভাবক বলেন, “বাসায় থাকতে থাকতে ওরা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। পড়ার চাপ না থাকায় পড়াশোনা করতে চায় না। আমরাও চাপ দিই না কারণ মানসিক অবস্থা খুব একটা ভালো না।”

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী করবেন

কিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়? - Shajgoj

যে কোনো ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া শরীরকে তখনই কাবু করতে পারে যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। জেনে নেওয়া যাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে কী করা যেতে পারে। রঙিন ফলমূল ও শাক-সবজি : শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন নানা উপাদান। শাক-সবজি, রঙিন ফলমূলে তার অনেকটাই পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাবারে তাই এসব রাখার চেষ্টা করুন।

প্রয়োজনীয় টিকা দিন : আপনার সব প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া থাকতে হবে। প্রাপ্তবয়স্করা ভ্যাকসিন রিফ্রেশ করতে ভুলবেন না! বিশেষ করে ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, পোলিও, হেপাটাইটিস, মেনিনজাইটিস, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং এমন অন্যান্য রোগের টিকা নিন। ভাইরাস পালিয়ে যাবে : বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের পেশিগুলো নিয়মিত, অর্থাৎ সপ্তাহে তিন দিন জগিং, নর্ডিক ওয়াকিং বা হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করে ঠিক রাখলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

প্রয়োজন যথেষ্ট ঘুম : ঘুম শরীরকে শুধু বিশ্রামই দেয় না, গভীর ঘুমের মধ্যে শরীরে নিউরোট্রান্সমিটার ছড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও সচল রাখে। চাই জীবনে ‘আনন্দ’ : সমীক্ষায় জানা যায়, শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য ভালো মন-মেজাজ এবং জীবনে আনন্দের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা নিজেরাও দেখে থাকি যে, তুলনামূলকভাবে হাসি-খুশি মানুষের অসুখ-বিসুখ কম হয়ে থাকে।

মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন : বর্তমান বিশ্বে ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ বহুল উচ্চারিত একটি শব্দ। তবে নেতিবাচক চাপ শরীরে কর্টিসোলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই এ চাপ কমাতে শরীরের ব্যাটারিকে রিচার্জ করুন, অর্থাৎ নিয়মিত যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা এমন কিছু করুন। হাঁটুন : তাজা বাতাস এবং হাঁটা দুটোই শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। মুক্ত বাতাসে হাঁটার সময় শরীরে রক্ত সঞ্চালনও ঠিকভাবে হয়।

তীব্র দাবদাহে যেভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন

গরমে তরমুজ খাওয়া ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
গরমে তরমুজ খাওয়া ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
সপ্তাহ খানেক ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে তীব্র দাবদাহে এর মধ্যে আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল ঢাকায় গত ২৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।ওইদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ১৯৯৫ সালে সর্বশেষ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল তাপমাত্রা।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এই তীব্র তাপমাত্রা চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত চলবে। কিন্তু এই প্রচণ্ড গরমে দেখা যায় শিশু ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সতর্ক না হলে সাধারণ পানিশূন্যতা, বদহজম থেকে হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায়ও পড়তে পারেন যে কেউ।
কিন্তু তীব্র গরমে সুস্থ থাকার কী উপায়?
গরমে সুস্থ থাকতে করণীয় সম্পর্কে জানতে বিবিসি বাংলা ঢাকার আহসানিয়া মিশন জেনারেল হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডা. মাসুমা নাওয়ার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক খালেদা এদিবের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন
তাপ ব্যবস্থাপনা
মানবশরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে, কিন্তু তার জন্য সুদিং বা শীতল তাপমাত্রা হচ্ছে ২০ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।
আর বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মানবশরীরের সহ্যসীমার মধ্যে থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ এর চেয়ে বেশি হলে মানবশরীর সহ্য করতে পারে না। তখন নানারকম অস্বস্তি ও সমস্যা দেখা যায়।
এমনকি তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে মানুষের হিটস্ট্রোক হবার আশংকা বেড়ে যায়।
পানি এবং পানিজাতীয় খাবার খেতে হবে
শরীরের পানিশূণ্যতা ঠেকাতে এ সময় প্রচুর পানি এবং পানিজাতীয় খাবার খেতে হবে। পানি, স্যালাইন, ফলের রস, সরবত, ডাব এ ধরণের পানীয় শরীরে আর্দ্রতা যোগায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পানিশূন্যতার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ পানিশূন্যতার ফলে স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।
পানি ও পানি-জাতীয় খাবারের পাশাপাশি পানি রয়েছে এমন প্রচুর সবজি ও ফল খাওয়া উচিত। তরমুজ, আনারস, জাম্বুরা, আপেল এমন ফল শরীরের গরমের ভাব কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়া প্রচুর সবজি খেলে পরিপাকক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তাতে শরীরের অস্বস্তি কমে।
সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকতে হবে
দিনের যে সময়ে তাপমাত্রা বেশি থাকে সে সময় সরাসরি রোদে না যাওয়া বা অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা। বাংলাদেশে সাধারণত সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের আলো সবচেয়ে প্রখর থাকে।
সূর্যের আলোতে যেতে হলে ছাতা, টুপি, পায়ে জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। চোখ নিরাপদ রাখতে সানগ্লাস ব্যবহার করুন। কোথাও যাওয়ার আগে সঙ্গে পানি অবশ্যই নেবেন।
ভাজাপোড়া এবং জাঙ্ক ফুড বাদ
তীব্র গরমে ভাজাপোড়া মুখরোচক খাবার, কিংবা জাঙ্ক ফুড শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
বার্গার, পটেটো চিপস বা পিৎজার মতো খাবারে প্রচুর ক্যালরি, সোডিয়াম ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। ফলে একদিকে যেমন গরম বেশি লাগে, তেমনি মুখে অরুচি এবং বদহজমের আশংকা তৈরি হয়।
ফলে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। সেই সঙ্গে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড়
বিশেষজ্ঞরা গরমে হালকা, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতি কাপড় পরার পরামর্শ দেন। এ ধরণের কাপড়ে তাপ শোষণ হয় দ্রুত এবং বাতাস আসাযাওয়া করতে পারে, ফলে গরম কম লাগে।
ঘর ঠাণ্ডা রাখা
ঘর যাতে ঠাণ্ডা থাকে এবং ঘরে যাতে বাতাস প্রবেশ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘরের মধ্যে গাছ থাকলে তা তাপ শুষে নেয়। পাকা মেঝে হলে বারবার ঘর মুছে দিলে ঘর ঠাণ্ডা থাকে।
যেসব অসুস্থতা হতে পারে
প্রচণ্ড গরমে সাধারণত অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানিশূন্য হয়ে পড়ে মানুষের শরীর।
পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত দুর্বল হয়ে যায় মানুষের শরীর। এছাড়া বদহজম ও পেট খারাপ এবং পানি-বাহিত নানা ধরণের রোগ বালাই হতে পারে এ সময়।
রোটাভাইরাসসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত পাতলা পায়খানা হতে পারে। মাথা ঘোরা এবং বমিভাব, কারো ক্ষেত্রে বমিও হতে পারে।
এধরণের অসুস্থতা সাধারণত একটু সতর্ক হলে এড়িয়ে চলা সম্ভব।
কিন্তু অতিরিক্ত গরমে যদি কারো শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঝিমঝিম-ভাব হয় কিংবা মাথা ঘুরে পড়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্বাস্থ্যবান্ধব জীবাণুনাশক

করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবারও বেড়েছে। এ কারণে মানুষ নতুন করে নির্ভরশীল হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ডিজইনফেকট্যান্টের ওপর। তাই বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা এখন ব্যাপক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও জীবাণুমুক্ত রাখতে সবাইকে ঘন ঘন এসব রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।

যেহেতু হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ডিজইনফেকট্যান্ট রাসায়নিক দ্রবণ, ফলে এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকও আছে। এ জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ডিজইনফেকট্যান্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।

মাইক্রোবায়োমের ক্ষতি

স্বাস্থ্যবান্ধব জীবাণুনাশক

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে স্যানিটাইজার অত্যন্ত কার্যকর। তবে শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে ফেলে এই রাসায়নিক দ্রবণ। ফলে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়ার মাত্রায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এর সমাধান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে মানসম্মত ও সঠিকভাবে কার্যকর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ডিজইনফেকট্যান্ট। এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি সম্পূর্ণ অ্যালকোহলমুক্ত মাল্টিপারপাস ডিজইনফেকট্যান্ট মিযুও।

মিযুও যেভাবে কাজ করে

বাজারে হাজার হাজার অ্যালকোহলযুক্ত ডিজইনফেকট্যান্টের ভিড়ে মিযুও অ্যালকোহলমুক্ত হয়ে কাজ করে। কিন্তু সেটা কীভাবে হয়ে থাকে, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যবান্ধব জীবাণুনাশক

মিযুও সম্পূর্ণ জাপানি ফর্মুলায় তৈরি জীবাণু ও দুর্গন্ধনাশক; এতে আছে উইক অ্যাসিড হাইপোক্লোরাস সলিউশন, যার আছে জীবাণুনাশকশক্তি। এটি ত্বক বা অন্য যেকোনো স্থানকে সযত্নে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস মুক্ত রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যবান্ধব জীবাণুনাশক

এই অ্যালকোহলমুক্ত জীবাণুনাশক একটি সুপার-অক্সিডাইজড, পিএইচ ব্যালান্সড, পানিনির্ভর দ্রবণ, যাতে পানির সঙ্গে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট ও ফুডগ্রেড হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে পিএইচের পরিমাণ ৬ থেকে ৭-এ রাখা হয়। রক্তের শ্বেতকণিকা আমাদের শরীরের ভেতরে এই হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড উৎপাদন করে শরীরের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ রোধ করে। এই হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড বিভিন্ন রোগ–জীবাণুর কোষের ভেতরের প্রোটিন ধ্বংস করে দিয়ে জীবাণু ধ্বংস করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ব্যবহার

পানির মতো নিরাপদ মিযুও ত্বক, কাপড়, চামড়া, কাঠ, স্টেনলেস স্টিল, ক্রোম, গ্লাস, ভিনাইল, চিনামাটির বস্তু, ছেদবিহীন প্লাস্টিক, এনামেল, টাইলসসহ সব ধরনের স্থানে ব্যবহার করা যায়। এতে কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ না থাকায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রিজারভেটিভবিহীন, কৃত্রিম গন্ধ ও রংবিহীন, অ্যালকোহলমুক্ত, অদাহ্য, মরিচা ও ব্লিচবিহীন একটি জীবাণুনাশক দ্রবণ।

স্বাস্থ্যবান্ধব জীবাণুনাশক

এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে জীবাণু ও দুর্গন্ধমুক্ত থাকতে মিযুও ব্যবহার করা যেতে পারে হাত, চুল, মুখ, ত্বক, আসবাবপত্র, বালিশ-কুশন-কম্বল, ঘরদোর ও মেঝে, বাথরুম ও টয়লেট, শেভিং সরঞ্জাম, রান্নাঘরের সিঙ্ক, থালাবাসন, ফ্রিজ, ওভেন, ফলমূল, শাকসবজি, কাঁচা মাছ–মাংস, মোবাইল ফোন, খেলনা, মোজা, জুতা ও জুতার বাক্স, রেস্তোরাঁ, জিমনেশিয়াম, সেলুন ও পারলার, ডাক্তার ও ডেন্টিস্ট চেম্বার, হাসপাতাল, মেডিক্যাল সরঞ্জাম, হোটেল ও রিজোর্ট, বাচ্চাদের পার্ক, সুপারশপ, বিক্রয়কেন্দ্র, শপিং মল, খাবার প্রস্তুত করার জায়গা, শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, পাবলিক টয়লেট, করপোরেট অফিস, কাজের ডেস্ক, শিক্ষাকেন্দ্র, হোস্টেল, এলিভেটর, ব্যাংক, এটিএম মেশিন, অনুষ্ঠান ও মেলা, যানবাহন, উড়োজাহাজ, পোষা পশুপাখি, পোষা প্রাণী বিক্রয়কেন্দ্রে, ডেইরি ফার্ম, কসাইখানা, চিড়িয়াখানাসহ অন্যান্য জায়গায়।

সংরক্ষণ ও কার্যকারিতা

স্বাস্থ্যবান্ধব জীবাণুনাশক

ধ্যানে মানসিক চাপ মুক্তি

রাজযোগ। মডেল: বাপ্পা শান্তনু

রাজযোগ

রাজযোগ সূক্ষ্ম অনুভূতির ব্যাপার। এখানে যে পদ্ধতি সম্পর্কে বলছি, তা রাজযোগের ছোট একটি অংশ কিন্তু খুব কার্যকরী।

যেভাবে করবেন

সুখাসন, পদ্মাসন, সিদ্ধাসন বা চেয়ারেও বসতে পারেন। সুবিধাজনক যেকোনো আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। হাত কোলের ওপর মুদ্রাতে বা স্বাভাবিকভাবেই রাখুন। শ্বাস–প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না, নিজস্ব গতিতে চলতে দিন। চোখ বন্ধ করুন। এবার দেখবেন, মস্তিষ্কে এলোমেলোভাবে একটার পর একটা চিন্তা আসবে। সেই চিন্তা ভালো বা খারাপ হোক, চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না। চোখ বন্ধ করে এলোমেলো চিন্তাগুলোকে শুধুই পর্যবেক্ষণ করে যবেন।

নিয়মিত এই আসনটি করার ফলে ১৫-৩০ দিনের মধ্যে দেখবেন, প্রথম প্রথম যে পরিমাণ চিন্তা আসে, প্রতিনিয়ত তার সংখ্যা কমতে থাকবে। আপনি যদি ৩-৬ মাস পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়ম মেনে অনুশীলন করতে পারেন, দেখবেন মনের চিন্তার ওপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। আর এভাবে এই ধ্যানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে চিন্তা শূন্য হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়। এ অবস্থায় মনকে দিয়ে আপনি যেটা করতে চাইবেন, মন শুধু সে কাজটাই করবে। এভাবে সহজে মানসিক প্রশান্তি আসে, যা ওষুধের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

বৃক্ষাসন

এটি সরাসরি ধ্যানের পদ্ধতি না হলেও ধ্যানে সহায়ক কার্যকরী এক আসন। সম্প্রতি খেলার মাঠে গোল করার পর মিসরের ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহকে এই আসনের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। খেলা শেষে জানিয়েছেন, আমি নিয়মিত যোগব্যায়াম করি। আর এর মাধ্যমে আমি আমার মনকে নিয়ন্ত্রণ করি।’

বৃক্ষাসন

যেভাবে করবেন

দুই পায়ের পাতা কাছাকাছি রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ান। যেকোনো এক পা তুলে অন্য পায়ের হাঁটুর ওপর বা দুই ঊরুর সংযোগ স্থলে লাগান। দুই হাত জোড় করে বুকের মাঝখানে রাখুন। চোখে পলক না পড়লে ভালো। চূড়ান্ত অবস্থায় চোখ বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন অনুশীলনে আসন নিয়ন্ত্রণে এলে তখন উচ্চতর অবস্থায় যাওয়ার জন্য চোখ বন্ধ করুন। শ্বাস-প্রশ্বাস খুব ধীরে ধীরে এবং স্বস্তির সঙ্গে নেবেন। চোখ খোলা বা বন্ধ উভয় অবস্থাতেই সব চিন্তা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ ও শ্বাসের গতির দিকে দেবেন।

এভাবে এক এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড দিয়ে শুরু করুন। তবে ভালো ফলের জন্য প্রতি পায়ে ৩-৫ মিনিট করুন।