২৬ বছর পর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

২৬ বছর পর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

গত ২৬ বছরের মধ্যে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখল ঢাকা। এদিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে ঢাকার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রিতে উঠেছিল। আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া সোমবার রাজশাহীতে ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

১৯৯৫ সালে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল যশোরে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত সবেচেয়ে বেশি তাপমাত্রার রেকর্ড। আর ঢাকায় তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল ১৯৬০ সালে।

এদিকে, দেশে চলমান তাপদাহের মাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসছে না। আরও কয়েকদিন এ অবস্থা থাকার পর আগামী ৩০ এপ্রিলের পর দেশে কালবৈশাখি ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সোমবার সময় সংবাদকে এ তথ্য জানিয়েছেন তারা।

মূলত রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া এবং খুলনা অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের শুরুতে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এভারেস্টেও করোনা, সংক্রমিত পর্বতারোহী

                                                                       শৃঙ্গ জয় করল করোনা

শৃঙ্গ জয় করল করোনা। পৌঁছে গেল বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে। ছুঁয়ে ফেলল এভারেস্ট। পাহাড়ের উচ্চতায় অসুস্থ হয়ে পড়া এক পর্বতারোহীকে সমতলে এনে পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ল তিনিও করোনায় সংক্রমিত।

মূলত পর্যটনের উপরেই নির্ভরশীল নেপাল। সে কারণে করোনা সংক্রমণের মধ্যেও বিদেশী পর্বতারোহীদের এভারেস্টে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল নেপাল সরকার। কিন্তু পর্বতারোহণের সময় এক পর্বতারোহী অসুস্থ হয়ে পড়ায়, দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। নিয়ম মাফিক করোনা পরীক্ষা করাতেই, ওই পর্বতারোহীর রিপোর্ট পজেটিভ আসে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

বুধবারই এই ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আসে একটি ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে, পাহাড়ে চড়াইয়ের সময় ওই পর্বতারোহী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল, অতিরিক্ত উচ্চতায় তার শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসার পরিভাষায় ‘‌হাই-অল্টিটিউড পালমোনারি ইডিমা’নামে পরিচিত। তবে কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালে নিয়ে এসে নিয়ম অনুয়ায়ী তার করোনা পরীক্ষা করা হয়। এতেই তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এছাড়াও ‘‌নিউ ইয়র্ক টাইমস’পত্রিকার তরফেও জানানো হয় যে, ওই দলটিকে বেস ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর একাধিক পর্বতারোহীর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

নরওয়ের বাসিন্দা ওই পর্বতারোহী আরলেন্ড নেস সংবাদ সংস্থা এপিএফকে বলেছেন, ‘‌আমি এখন ভালো আছি। এই হাসপাতাল আমার যত্ন নিচ্ছে।’ তিনি নরওয়ের আরেকটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশা করছি আর কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। কারণ, ৮০০০ মিটার উচ্চতায় ওইভাবে কাওকে নীচে নামানো সম্ভব নয়।’‌

সূত্র বলছে, বুধবার পর্যন্ত বিদেশী পর্বতারোহীদের মোট ৩৭৭টি ‘‌ক্লাইমিং পারমিট’দিয়েছে নেপালের পর্যটন দপ্তর। তবে মোট কতজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নেপালের পর্যটন মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

এভারেস্টের করোনা নিয়ে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, ‘‌হাই-অল্টিটিউড পুলমোনারি ইডিমা’-র অধিকাংশ উপসর্গ করোনার মতোই। চিকিৎসকদের মতে, অল্টিটিউড সিকনেস বেশি উচ্চতায় গেলে হয়। তার উপসর্গও সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্বলতা।

এক্ষেত্রে দু’‌টি ভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে গুলিয়ে না যায়, তা নিয়েও যথেষ্ট সতর্ক রয়েছেন চিকিৎসকরা।

তবে এক শেরপা জানান, বেস ক্যাম্পে সবকিছুই এখন স্বাভাবিক রয়েছে। করোনা সংক্রমণের কোনও আশঙ্কাও নেই। অন্য দিকে, বিদেশ থেকে আসা পর্বতারোহীরাও করোনার ভয়ে বাড়ি ফিরতে নারাজ। এক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের সঙ্গে আসা পর্বতারোহীদের নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তাছাড়া বাইরের কারোর সংস্পর্শে যেতেও বারণ করা হয়েছে। সে কারণে সংক্রমিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

হঠাৎ করে বেশি ঘাম বিশেষ রোগের উপসর্গ!

গরম পড়লে কিংবা পরিশ্রম করলে ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ধরুন একই পরিবেশে আপনার পাশের ব্যক্তির চেয়ে আপনি অনেক বেশি ঘামছেন। তাহলে চিন্তার কারণ আছে বইকি! কারণ অতিরিক্ত ঘামের পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো বিশেষ রোগের উপসর্গ। তাই অবহেলা না করে আপনার অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কখন কারণ খুঁজবেন?

এমন হতেই পারে, কেউ ছোট বয়স থেকেই ভীষণ ঘামে। এতে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে যদি হঠাৎ করে শরীরে ঘাম বেশি হতে শুরু করে, বেশি ঘেমে যাচ্ছেন বলে মনে করেন তাহলে অবশ্যই ঘাম হওয়ার পিছনে কারণ থাকবে। এই লক্ষণ অবশ্যই কোনো শারীরিক অসুস্থতার বার্তাবহ।

বেশি ঘাম হওয়ার কিছু কারণ হলো –

১. সাধারণত শরীরের মেটাবলিজম রেটের উপর ঘাম হওয়া নির্ভর করে। শরীরে মেটাবলিজম বেশি থাকলে বেশি ঘাম হয়। এছাড়া বেশি পরিশ্রম করলেও ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক।
২. হঠাৎ বেশি ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি লক্ষণ। অনেক সময় হার্টের কোনো সমস্যা থাকলে রোগীর বেশি ঘাম হতে পারে।
৩. ডায়াবেটিসে রোগীর রক্তে শর্করা কমে গেলে ঘাম হতে পারে।
৪. ব্লাড প্রেশার হঠাৎ বেড়ে গেলেও রোগী বেশি ঘামতে শুরু করেন।
৫. অনেক সময় অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে ঘাম হয়। উদ্বেগে হরমোনের ভারসাম্য ব্যাহত হয়। তাই যাঁরা মানসিক চাপে থাকেন তাঁদের বেশি ঘাম হতে পারে।
৬. মেনোপজের সময় অনেক মহিলার বেশি ঘাম হতে দেখা যায়।
৭. রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লেও এমন হতে পারে।

ঘামের সঙ্গে যেহেতু সোডিয়াম, পটাশিয়াম বাই-কার্বোনেট বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর দুর্বল ও অস্থির হয়ে যায় তাই জলের সঙ্গে নুন, চিনি, পাতিলেবু মিশিয়ে সরবত খেলে ভালো হয়। গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাব খেতে পারেন। কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে ফ্রেশ ফ্রুট জুস ও টাটকা ফল খান।

ভিটামিন বি-১২’এর অভাবে যেহেতু হাইপারহাইড্রোসিস হয় তাই বি-কমপ্লেক্স যুক্ত খাবার খান। পাশাপাশি থাইরয়েড হয়েছে কি না তা রক্ত পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- এসপারাগাস, ব্রকোলি, রেড মিট, সাদা পিঁয়াজ, খাবার লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। চা-কফি কম খেতে হবে।

দেশজুড়ে গরমে নাভিশ্বাস, সপ্তাহ শেষে বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশজুড়ে গরমে নাভিশ্বাস, সপ্তাহ শেষে বৃষ্টির পূর্বাভাস

রমজানে প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন শেষে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে এবং দিনের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। সারা দেশের দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন শ্রীমঙ্গলে ২১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এ কারণে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘প্রায় সারা দেশেই তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও ঢাকায় অনুভূতিটা একটু বেশি। এর কারণ ছয়টি। তা হচ্ছে- দিনের ব্যাপ্তিকাল রাতের তুলনায় বড় হওয়ায় রাতে তাপ বিকিরণ করে ধরণি ঠাণ্ডা করতে পারে না, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কম, অতিমাত্রায় এসির ব্যবহার, গাড়ির কার্বন বা কালো ধোঁয়া, ঢাকার আশপাশের ইটভাটার কার্বন, ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিঃসরিত দূষিত পদার্থ এবং সূর্য মানবসৃষ্ট কারণগুলোকে আরও প্রভাবিত করায় গরম তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় অনেকটা রক্ষা। নইলে মানুষের অনেক ঘাম হতো। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।’

শর্তপূরণ করে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীরা

মহামারি করোনার কারণে বেনাপোল সীমান্ত সিলগালা করায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীরা। গতকাল বেনাপোল সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় তিনশ যাত্রী।

দিনভর অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত তারা কলকাতা এবং ৮ কিলোমিটার দূরে বনগাঁর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ কলকাতাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেশে ফেরার ছাড়পত্র গতকালই সংগ্রহ করে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে ২৮ জন বাংলাদেশি যাত্রী বাংলাদেশে এসেছে। আগত যাত্রীদের বেনাপোলের বিভিন্ন হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।
এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে গেছেন ৯ জন ভারতীয় নাগরিক।

বাংলাদেশে আটকে পড়া ৫৮ জন ভারতীয় নাগরিকের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে। তালিকাভুক্ত ভারতীয়রাই কেবল বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশে ফেরত আসা যাত্রী মোখলেছুর রহমান জানান, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে
থাকার ভয়ে অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চাইছে না।

করোনায় চিড়িয়াখানা

করোনায় চিড়িয়াখানা

       করোনায় চিড়িয়াখানা

করোনার কারণে লকডাউনের সময় মিরপুর চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় প্রাণীদের বেশ                 ভালো সময় কাটছে। ২০১৯ সালে বছরজুড়ে পাঁচ প্রজাতির মোট ৪১টি প্রাণী জন্ম                     নিয়েছিল। সেখানে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি নতুন প্রাণী যোগ হয়েছে                 ঢাকা চিড়িয়াখানায়। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকা              এই চিড়িয়াখানায় কীভাবে দিন কাটছে প্রাণীদের, তারই চিত্র তুলে ধরা হলো এখানে।

মহামারিতেও বেড়েছে সামরিক ব্যয়

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে অর্থনীতি সংকুচিত হলেও বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বেড়েছে। গতকাল সোমবার সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এসআইপিআরআইয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বে সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখকদের একজন ডিয়োগে লোপেজ ডি সিলভা। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনীতির করুণদশার মধ্যেও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তিনি বলেন, মহামারির কারণে এবার সামরিক ব্যয় কমার কথা ছিল। মানুষ সেটাই মনে করত। কিন্তু ২০২০ সালে সামরিক খাতের ব্যয় কমানোর বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অর্থনৈতিক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার অর্থ হচ্ছে জিডিপিতে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য খাতের ব্যয় কমানো। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যের বেশির ভাগ দেশ নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে তাদের সামরিক ব্যয়ের অন্তত ২ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে ৯টি দেশ সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছিল, সেখানে ২০২০ সালে বাড়িয়েছে ১২টি দেশ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি, এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া মহামারি মোকাবিলার কথা বলে সরাসরি সামরিক ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

লোপেজ বলেন, ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো অন্যান্য দেশ করোনার কারণে অর্থ বরাদ্দ পুনর্বণ্টন করলেও তা তারা স্পষ্ট করে জানায়নি। কিন্তু দেশগুলো ২০২০ সালের প্রকৃত বাজেটের চেয়ে তুলনামূলক কম অর্থ ব্যবহার করেছে।

ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। দেশটি করোনা মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।

লোপেজ বলেছেন, ২০০৮–০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি নিয়েছিল। কিন্তু এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালের শেষের দিকে প্রথম করোনা ছড়িয়ে পড়ে চীনের একটি শহরে। পরে করোনার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের এই দুই শীর্ষ অর্থনীতির দেশ সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় করেছে মহামারির মধ্যেও। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৯ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আর ১৩ শতাংশ হয়েছে চীনে। অর্থনীতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক হারে সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে চীন। দেশটিতে টানা ২৬ বছর ধরে সামরিক ব্যয় বেড়েছে। ২০২০ সালে দেশটির সামরিক ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৭ সাল থেকে টানা তিন বছরের মতো সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে। যদিও এর আগের ৭ বছর এই ব্যয় কমিয়েছিল দেশটি।

গবেষণা প্রতিবেদনের আরেক লেখক আলেক্সজান্দ্রা মার্কস্টেইনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ শক্তিশালী দেশগুলো থেকে সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে উদ্বেগ এবং সেনাবাহিনীকে শক্তিশালীকরণে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে গত বছরের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে।

লোপেজ বলেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন দেশটির সামরিক ব্যয় বাড়াবে কি না, সেই ব্যাপারে এখনো কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে সাত বছর সামরিক ব্যয় কমে, সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। তাঁরই ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। এখন দেখার বিষয়, তিনি বিষয়টিতে কোন পথে হাঁটেন।

বাংলাদেশসহ ৬ দেশের ভ্রমণকারীদের কাতারে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন

কাতার

কাতার ভ্রমণকারী বাংলাদেশসহ ছয় এশীয় দেশের নাগরিকদের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ দিয়েছে। কাতারের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য পেনিনসুলার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

কাতারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে। কাতারের রাজধানী দোহার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে। ভারতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ আর যেসব দেশের নাগরিকদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হলো, সেসব দেশের মধ্যে আছে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন।

নির্দেশে বলা হয়েছে, ভ্রমণকারীদের টিকা নেওয়া থাকলেও তাঁদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। আর এটি ঘরে করা যাবে না, হোটেলে থাকতে হবে। কাতার সরকারের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন–সুবিধায় ১০ দিনের জন্য থাকতে হবে। আর প্রত্যেক ভ্রমণকারীর ভ্রমণের সময় থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগের নিজ দেশে পিসিআর টেস্টে করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে।

ভ্রমণকারীরা যখন কাতারে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন, তখন সেখানে আসার এক দিনের মধ্যেই আবার পিসিআর টেস্ট করা হবে। কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনও এ টেস্ট হবে।

যাঁরা কাতারকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্যও পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক। আর এ জন্য নতুন গন্তব্যে যাওয়ার আগে তাঁদের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট করা হবে। এ জন্য নির্ধারিত ৩০০ কাতারি রিয়াল দিতে হবে

ভারতের পরিস্থিতি মর্মান্তিক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান

চরম বিপর্যয় এখনো বাকি: ডব্লিউএইচও, লকডাউনের পক্ষে তাকেশি || Somoynews.tv

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। এই সংকট মোকাবিলায় ভারতকে সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, ভারতের পরিস্থিতি মর্মান্তিক। জরুরি সরঞ্জাম ও সহায়তা দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশটিতে সোমবার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮১২ জনের। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অক্সিজেনের অভাব সংকটকে তীব্রতর করেছে।

অনেক রোগীর পরিবার হাসপাতালের শয্যার সন্ধান এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান বলেন, হাজার হাজার অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ভ্রাম্যমাণ ফিল্ড হাসপাতাল এবং গবেষণাগারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করছেন তাঁরা।

মহামারি মোকাবিলায় ভারতকে সহায়তা করার জন্য দুই হাজার ৬০০ এর বেশি বিশেষজ্ঞকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে ৩১ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাস মহামারির সর্বশেষ ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে প্রায় ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত। তাদের

সহায়তায় ভেন্টিলেটর এবং টিকা তৈরির কাঁচামাল পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। আরও অনেক দেশ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপরে এক বছরের বেশি সময়ে বিশ্বে ১৪ কোটি ৭২ লাখের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ লাখের বেশি।

তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সোমবার বলেন, গত নয় সপ্তাহ ধরে বিশ্বে নতুন করোনা সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত সপ্তাহে যে সংখ্যক মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে তা মহামারি শুরুর প্রথম পাঁচ মাসের সমান।

করোনার সংক্রমণের পরিসংখ্যান নিয়মিত হালনাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য বলছে, আজ রাত পৌনে দুইটা পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে সোয়া তিন কোটির বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরপরে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় পর পর রয়েছে ভারত (১,৭৬,২৫,৭৩৫) ও ব্রাজিল (১,৪৩,৪০,৭৮৭)। আর মৃতের সংখ্যার হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পর রয়েছে ব্রাজিল (৩,৯০,৯২৫) ও মেক্সিকো (২,১৪,৯৪৭)। আর ভারতে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৮০ জন। অন্যদিকে মেক্সিকোয় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ২৮ হাজার ৩৯১ জন। তবে ভারতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যে সংখ্যক মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ছে, তা বিশ্বে একক কোনো দেশে একদিনে আক্রান্তের রেকর্ড করছে।

ঢাকা-চট্টগ্রামে হোটেল ব্যবসা মন্দা, কক্সবাজারে বেশ চাঙা

Pan Pacific Sonargaon Dhaka, Dhaka – Updated 2021 Prices

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাস ঢাকা ও চট্টগ্রামের শহরের হোটেল ব্যবসায় ছিল চরম মন্দাভাব। একই সময়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেলগুলোয় ছিল ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই অবস্থা। আর সে কারণে ঢাকা–চট্টগ্রামে হোটেলে যখন চরম লোকসান, তখন কক্সবাজারের হোটেলে এ সময়ে বিপুল মুনাফা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক তিন হোটেলের তিন মাসের আয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলো শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করতে অনেক সময় আর্থিক বিবরণীতে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে। শেয়ারবাজারে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অনেক কোম্পানি ইপিএস বা মুনাফা বাড়িয়ে দেখায়। আর যখন শেয়ারের দাম কমানোর প্রয়োজন মনে করে, তখন অনেক কোম্পানি মুনাফা কমিয়ে দেখায়। এ কারণে শেয়ারবাজারের অনেক কোম্পানির ইপিএস নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সব সময়ই সন্দেহ বা প্রশ্ন থেকে যায়। এ প্রতিবেদনে কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ইপিএসকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইপিএসের সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হয়নি।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ওয়েস্টিন, চট্টগ্রামের পেনিনসুলা ও কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ। এর মধ্যে ওয়েস্টিনের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল, রয়েল টিউলিপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান সি পার্ল নামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। আর পেনিনসুলা হোটেল পেনিনসুলা নামেই তালিকাভুক্ত।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের ব্যবসায় ধস নেমেছে। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ১১ পয়সা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাসে ওয়েস্টিন হোটেল শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা করে লোকসান করেছে।

লোকসানে ঢাকার ওয়েস্টিন

এ তিন হোটেলের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের ব্যবসায় ধস নেমেছে। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ১১ পয়সা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাসে ওয়েস্টিন হোটেল শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা করে লোকসান করেছে। অথচ আগের বছর একই সময়ে হোটেলটি শেয়ারপ্রতি ১৭ পয়সা করে মুনাফা করেছিল। গতকাল সোমবার কোম্পানিটি আর্থিক বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে কোম্পানিটি বলেছে, করোনার কারণে আগের বছরের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৬৭ শতাংশ আয় কমে গেছে। পাশাপাশি পৌনে পাঁচ কোটি টাকা নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিং করতে হয়েছে। যার কারণে মুনাফা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে ইপিএসে।
ইপিএস বা মুনাফা কমার খবরে গতকাল সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম পৌনে ২ শতাংশ বা ৬০ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৪০ পয়সায়।

রয়েল টিউলিপের মুনাফায় ৫৬৭% প্রবৃদ্ধি

ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের মুনাফায় যখন ধস নেমেছে, তখন কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ হোটেলের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৫৬৭ শতাংশ। অবাকই হচ্ছেন হয়তো। কিন্তু একবার পেছনে ফিরে তাকান তো। নিশ্চয় মনে আছে, গত ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে করোনার সংক্রমণ নতুন করে আবার বাড়তে শুরু করার আগপর্যন্ত কক্সবাজারে হোটেলগুলোয় রুম পাওয়া ছিল রীতিমতো কষ্টের কাজ। ছোট, বড়, মাঝারি—সব ধরনের হোটেলে ছিল ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই অবস্থা। পর্যটকদের বিপুল চাহিদার কারণে ওই সময়ে কক্সবাজারে নামীদামি হোটেলগুলোর ভাড়াও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

রয়েল টিউলিপের মুনাফার তথ্যেও সেই বাড়তি ভাড়ার সুফল দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রয়েল টিউলিপের কর–পরবর্তী মুনাফা হয়েছে প্রায় সোয়া সাত কোটি টাকা। তাতে উল্লেখিত সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে হয়েছে ৬০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির কর–পরবর্তী মুনাফা ছিল মাত্র এক কোটি টাকা, যাতে গত বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল মাত্র ৯ পয়সা। অর্থাৎ করোনাকালেও তিন মাস খুবই ভালো ব্যবসা করেছে রয়েল টিউলিপ।

তবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিল থেকে আবারও পর্যটন ব্যবসা বলতে গেলে প্রায় বন্ধ রয়েছে। এ ধাক্কা লাগবে কোম্পানির আয়েও। আর সেটির প্রতিফলন ঘটবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে। তা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও বেশ কিছুদিন।
এদিকে মুনাফা বাড়লেও প্রায় এক বছর ধরে কোম্পানিটির শেয়ার একই দামে আটকে আছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তরে গত মার্চ থেকে আটকে আছে এটির শেয়ারের বাজারমূল্য। গতকাল সোমবার এটির শেয়ারের দাম ছিল ৭৯ টাকা ১০ পয়সা। এখন দেখার বিষয় বিপুল মুনাফার খবরে আজ মঙ্গলবার এটির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইস থেকে ওপরে উঠতে পারে কি না?

পেনিনসুলার ইপিএস কমেছে ৭ পয়সা

চট্টগ্রামভিত্তিক এ হোটেলের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাস ও কোম্পানিটির আর্থিক বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১ পয়সা।