রেমডেসিভির রপ্তানি নিষিদ্ধ করল ভারত

অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির

করোনা সংক্রমণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। আজ রোববার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতে করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার আগপর্যন্ত রেমডেসিভির ইনজেকশন ও এটি তৈরির উপাদান রপ্তানি করা যাবে না।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে। আজ দেশটিতে ১১ লাখের বেশি করোনা রোগী ছিলেন। ১ দিনে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি। প্রতিদিনই নতুন শনাক্ত আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে কোভিড–১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য আগামী দিনগুলোয় ভারতে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বাড়তি চাহিদার চাপ সামলাতে আপাতত ওষুধটির রপ্তানি বন্ধের পথ বেছে নিল দেশটি।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েডের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ভারতের সাতটি কোম্পানি রেমডেসিভির উৎপাদন করে। প্রতি মাসে প্রায় ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ইউনিট রেমডেসিভির উৎপাদন করা হয় ভারতে। ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল ফর কোভিড–১৯–এর আওতায় দেশটিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ব্যবহৃত হয়। মানুষের শিরায় ইনজেকশন হিসেবে এ ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। রোগের তীব্রতার ওপর এর ডোজ নির্ভর করে।

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে ভারত সরকার ওষুধটির উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ নিয়ে হালনাগাদ তথ্য নিজ নিজ ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে রেমডেসিভিরের বেআইনি মজুত নিয়ন্ত্রণ ও কালোবাজারি রুখতে নজরদারি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য সংকট এড়াতে রেমডেসিভিরের উৎপাদন বাড়ানোতেও জোর দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্বে করোনা সংক্রমণে দ্বিতীয় স্থানে ভারত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভারতে প্রতিদিন মৃত্যু আর সংক্রমণের সংখ্যা রেকর্ড হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ভারতের অবস্থান।

করোনার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তালিকা অনুসারে করোনায় সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্রাজিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরে ব্রাজিলের থেকেও সংক্রমণে এগিয়ে আছে ভারত। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় মোট সংক্রমিত হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ২০৯ জনের।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৫৯১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৯ জনের।

ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৩ জন। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৩ জনের। ভারতের চেয়ে ব্রাজিলে করোনায় মৃত্যু বেশি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিক থেকে ব্রাজিলের পরে রয়েছে ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ইতালি ও স্পেন। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তালিকা অনুসারে সংক্রমণের দিক দিয়ে ৩৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট সংক্রমিত হয়েছে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৫২ জন। করোনায় বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৯ জনের।

দক্ষিণ এশিয়ায় মোট আক্রান্ত মানুষের ৮৪ শতাংশই ভারতে। ভারতে গতকাল সোমবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ডসংখ্যক করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। মারা গেছেন ৮৩৯ জন। টানা পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে রোগী শনাক্তের সংখ্যা লাখের ওপরে।

শরীর ভালো থাকে গালি দিলে!

শরীর ভালো থাকে গালি দিলে!

গালি দেওয়া ভালো কিছু নয়, একথা আমাদের সবারই জানা। ছোটবেলায় ভুল করেও কোনো গালি দিয়ে ফেললে তার জন্য মা-বাবা কিংবা শিক্ষকের কাছে শাস্তি পেতেই হতো। বড়দের মুখেও গালি বেমানান। কারণ তাদের দেখেই ছোটরা শেখে। এদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। মন খুলে গালি দিতে পারলে শরীর ভালো থাকে, এমনটাই দাবী করছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, গালি দিতে পারলে রাগ কমে অনেকটাই। ফলে হালকা হয় মন।

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, যখন আপনি রাগের মাথায় অনেককিছু বলে ফেলেন, তারপর মনটা হালকা লাগে। এরকমটা দেখা যায় বলিউডের কোনো কোনো সিনেমার ক্ষেত্রেও। বিষণ্নতা তাড়াতে কাজ করতে পারে এই পদ্ধতি। আর এমন একটি বিষয়কেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

গবেষকরা বিভিন্ন পরীক্ষার পরে প্রমাণ করেছেন, মন খুলে গালি দিতে পারলে রাগ কমে, মন ভারমুক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপরে এক অভিনব পরীক্ষা চালানো হয়। ভীষণ ঠান্ডা পানিতে হাত চুবিয়ে রাখার জন্য বলা হয়েছিল তাদের। এরপর দেখা গেছে, যারা পানিতে হাত চুবিয়ে রাখার সময় গালি দিতে পেরেছে তারা বেশিক্ষণ হাত পানিতে রাখতে পেরেছিল। আর গালি যাদের মুখেই আসেনি, তারা আগেভাগে হাত তুলে নিয়েছে।

বর্তমানে অবশ্য অনেকরকম গালিও জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। ছোটবেলায় যেসব গালির জন্য মার খেয়েছেন, খেয়াল করে দেখুন সেসবের মধ্যে অনেকগুলো এখন নির্দ্বিধায় বলে ফেলছেন। এর প্রভাব পড়ছে কিন্তু সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও। নাটক, সিনেমা এমনকী গানের কথায়ও এ ধরনের শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়। যদিও এটি সভ্য আচরণের সংজ্ঞায় পড়ে না। তাই ভদ্র হিসেবে পরিচিত মানুষেরা গালি এড়িয়ে যান। এদিকে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এতটা এড়িয়ে না গেলেও চলবে। যেহেতু গালি দিতে পারলে শরীর ও মন ভালো থাকে!

১১ই এপ্রিলের পরের ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ

Bangladesh Railway to provide its own branded bottled water to passengers

ক্রমবর্ধমান কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ১১ই এপ্রিলের পরের আন্তঃনগর সব ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি দিয়েছে রেলওয়ে মহাপরিচালকের দপ্তর। গতকাল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের জারি করা নির্দেশনার আলোকে পূর্ব ও পশ্চিম জোনের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, রেলওয়ে সরকারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।

সরকার যদি এভাবে চালাতে বলে, তাহলে চলতে থাকবে। আবার যদি বন্ধ করতে বলে, সেজন্যই ১১ই এপ্রিলের পরের টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কারণ যদি আগেই ১১ই তারিখের পরের টিকিট বিক্রি করা হয়, তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর আগে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ৫০ শতাংশ অগ্রিম টিকিট অনলাইন, মোবাইল অ্যাপ ও কাউন্টার থেকে বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

এদিকে আন্তঃনগর ট্রেনে ক্যাটারিং সেবা এবং রাত্রীকালীন বেডিং সরবরাহের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে চিঠিতে।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ

টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ

গত পক্ষকাল ধরে কক্সবাজারে করোনার সংক্রমণ হঠাৎ আবারও বেড়েছে। ফলে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পর পহেলা এপ্রিল থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই নৌপথে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি ছিল।

এর আগে বুধবার (৩১ মার্চ) রাতে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সেন্টমার্টিনসহ টেকনাফের পর্যটন স্পটে ভ্রমণ বন্ধ করা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে ওই নৌ-রুটে সব পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের জন্য নৌযানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ নভেম্বর থেকে এ নৌ-পথে পর্যটক পরিবহনের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে ৮টি জাহাজকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। জাহাজগুলো হলো গ্রিন লাইন-১, বে ক্রুজ, এমভি পারিজাত, এমভি আটলান্টিক ক্রুজ, এমভি ফারহান-১, কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন ও এমভি শহীদ সালাম।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হোটেলের খোঁজ দেবে ‘হোটেল চেইন’

কক্সবাজার গিয়েছিলাম ব্যবসায়িক কাজে। হোটেল রুম নিয়ে যেন রীতিমত ভোগান্তিতে পড়তে হলো। পছন্দের এবং সাধ্যানুযায়ী হোটেল পাওয়া যেন খুবই কষ্টের।— কথাগুলো বলছিলেন তরুণ আসিফ। যার পুরো নাম আসিফ ইফতেখার।

 

হোটেলের খোঁজ দেবে ‘হোটেল চেইন’

পড়াশোনা অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। ঝোঁক ছিল ব্যবসার প্রতি, নিজেকে সবসময় কল্পনা করতেন—উদ্যোক্তা পরিচয়ে গড়ে তোলার। নিজের হোটেল ভোগান্তির সেই ঘটনা থেকেই হাজির হয়েছেন সহজেই ইন্টারনেটের সাহায্যে হোটেল খোঁজার মোবাইল অ্যাপ ‘হোটেল চেইন’ নিয়ে। হোটেল বুকিং সিস্টেমটিকে একজন গ্রাহকের কাছে সহজ করে তোলার জন্যই সাজানো এই অ্যাপ। হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগীতা প্রদান করে আসছে আসিফের এই উদ্যোগ খুবই অল্প টাকায়। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের দেশের মানুষ এরকম অ্যাপের সঙ্গে অভ্যস্থ নয় তাই তাদের সহযোগীতা করার জন্য আমাদের টিম সবসময় প্রস্তুত থাকে।’

সেদিনের ভোগান্তির পর থেকে আসিফ নিজের আইডিয়ার কথা জানান ভাই রাশিদুল এবং বন্ধু ফারদিনকে। তারপর যাত্রা শুরু করল দেশের হোটেল বুকিং সার্ভিস ভিত্তিক সেবা ‘হোটেল চেইন’। শুরুতে বাংলাদেশের সকল পর্যটন-ব্যবসায়িক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে নিজেদের কাজ পরিচালনা করছে এই অ্যাপ।

প্রতিষ্ঠানটির সিওও রাশিদুল ইসলাম এবং এইচ আর ফারদিন মাহমুদ বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের প্রধান লক্ষ্য দেশের সকল হোটেলকে একটি চেইনের মধ্যে নিয়ে আসা—সেই ভাবনা থেকেই নামকরণ ‘হোটেল চেইন’। মজার বিষয় হচ্ছে, যারা অনাগ্রহ দেখিয়েছিলেন এই তরুণদের উদ্যোগে, তারাই পরবর্তী সময়ে এসেছেন একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ নিয়ে। গুগল প্লে স্টোরে সার্চ দিলেই দেখা মিলবে এই অ্যাপের। ইনস্টল শেষে ওপেন করে প্রথমে খুলতে হবে নিজের একাউন্ট। এরপর নিজের পছন্দের জায়গায় এবং বাজেট অনুযায়ী হোটেল ফিল্টার করলেই পেয়ে যাবেন হোটেলের তালিকা।

সংক্রমণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) তাদের ওয়েবসাইটে এই সতর্কতা জারি করেছে।

যদি কারও বাংলাদেশ সফর আবশ্যকীয় হয় তাহলে সফরের আগে তাকে অবশ্যই করোনা ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি।

বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অবহেলা আর বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মধ্যেই গত এক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে উল্লেখ করেছে সিডিসি।

সিডিসির নির্দেশনায় লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এমনকি সম্পূর্ণরূপে টিকা নেয়া মানুষজনেরও করোনার নতুন ধরনে সংক্রমিত হওয়া ও তার বিস্তার ছড়ানোর ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত।’

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘যদি কারো বাংলাদেশ সফর আবশ্যকীয় হয় তাহলে সফরের আগে তাকে অবশ্যই করোনা টিকার দুটি অর্থাৎ সম্পূর্ণ ডোজ নিতে হবে। সব ভ্রমণকারীকে অবশ্যই হাত ধুতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে জনসমাগম।’

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় সিডিসি দেশগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। এগুলো হলো- নিম্ম, মাঝারি, উচ্চ এবং অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সিডিসির তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের কাতারে।

সর্বাত্মক লকডাউন না সাধারণ ছুটি?

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আগামীকাল ১৩ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১৪ই এপ্রিল থেকে পরবর্তী লকডাউনের পাশাপাশি সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই ৭ দিন জরুরি সেবা ব্যতীত সকল সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। গণপরিবহন বন্ধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। বন্ধ হবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও। তবে সীমিত পরিসরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু থাকতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট সীমিত আকারে চালু থাকবে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত আলোচনা শেষে বৈঠকের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে তা প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হ্রাস ঘটাতে চলমান নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৪ই এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, সকল সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক সূত্রস্থ (১) ও (২) নম্বর স্মারকের অনুবৃত্তিক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ আগামী ১৪ই এপ্রিল ২০২১ ভোর ৬টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এর আগে গত ৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত চলাচল ও কাজে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরবর্তীতে গত ৮ই এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৯ থেকে ১৩ই এপ্রিল পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ১৪ই এপ্রিল থেকে ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন পালনের ঘোষণা এসেছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে। এই লকডাউনের রুপরেখা তৈরিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে অংশীজনসহ সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া পৃথকভাবে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় উৎপাদনমুখী কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকরা গ্রামে ফিরে গেলে করোনা আরো ভয়াবহভাবে ছড়াবে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে সীমিত আকারে কারখানা খোলার বিষয়ে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সীমিত পরিসরে অথনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের কর্মস্থলে রেখে কিংবা কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে উৎপাদন চালু রাখা হতে পারে। এলাকাভিত্তিক প্রয়োজন বিবেচনায় তফসিলি ব্যাংকগুলোর কিছু কিছু শাখা খোলা রাখা হতে পারে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চালু থাকতে পারে।

সূত্র আরো জানায়, করোনার সংক্রমণ রোধে জনসমাগম কমাতে ও মানুষের চলাচল সীমিত করতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হবে। প্রয়োজনে নির্দেশ অমান্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেল-জরিমানার ঘোষণাও থাকতে পারে। তবে আপাতত প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে সেনাবাহিনী নামানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সূত্র জানিয়েছে। বিধিনিষেধের বিষয়গুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আজকের মধ্যে জারি করা হতে পারে। এই বিধিনিষেধ প্রাথমিকভাবে ৭ দিনের জন্য কার্যকর হলেও প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, চলমান ৭ দিনের লকডাউনে বড় শহরগুলোতে গণপরিবহন এবং দোকানপাট, শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্ত শিথিল করা হয়েছিল। এছাড়া সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসকে সীমিত জনবল দিয়ে কাজ করাতে বলা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তরাঁয় কেবল খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করা যাবে বলে বর্তমান নির্দেশনায় রয়েছে। তবে অনেক রেস্তরাঁই তা মানেনি। নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হলেও গত বছরের মতো তৎপরতা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না সাধারণ মানুষের মধ্যে। সরকারের মন্ত্রীরাও খোদ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মত দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এজন্য সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় দুই সপ্তাহের পূর্ণ লকডাউন দেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বন্ধ থাকছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট: প্রস্তাবিত ১৪ই এপ্রিলের ‘কঠোর লকডাউন’-এ বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এ মফিদুর রহমান। রোববার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। গত ৫ই এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী সাতদিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তবে চলমান লকডাউন ১৩ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর দ্বিতীয় দফা কঠোর লকডাউন শুরু হচ্ছে ১৪ই এপ্রিল থেকে। এয়ার ভাইস মার্শাল এ মফিদুর রহমান বলেন, ওই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকছে। তবে কার্গো বিমান চলাচল করবে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৃটেন ছাড়া ইউরোপের ২৭ দেশ, ল্যাটিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, পেরু, উরুগুয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, কাতার, তুরস্ক এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক রুটে নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও বিশেষ ফ্লাইট চলতে কোনো বাধা নেই। বেবিচক চেয়ারম্যানের ভাষ্য মতে, বিশেষ বিবেচনায় কোনো বিশেষ ফ্লাইট থাকলে সেটা পরিচালনা করা হবে।

ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়লো: মহামারির মধ্যে ১৪ই এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ শুরুর আগের দুইদিন ব্যাংকগুলোতে আধা ঘণ্টা বাড়তি সময় লেনদেন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার এক সার্কুলারে জানিয়েছে, ১২ই এপ্রিল এবং ১৩ই এপ্রিল ব্যাংকে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। আর লেনদেনের পরবর্তী আনুষঙ্গিক কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। লেনদেনে বিধিনিষেধ দেয়ার পর ব্যাংকিং লেনদেন ছিল সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। তবে এই স্বল্প সময়ের কারণে শাখা পর্যায়ে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়িয়েছে। লকডাউনের কড়াকড়ির কারণে গত ৫ই এপ্রিল থেকে ব্যাংকে লেনদেন হচ্ছিল সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

১৪ এপ্রিল থেকে আকাশপথে চলাচল বন্ধ

প্রতীকী ছবি

১৪ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব পথে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ থাকবে। এক সপ্তাহের জন্য এই বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

তবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পথে উড়োজাহাজ চলাচল করবে। অবশ্য এই দুই দিন দেশের অভ্যন্তরীণ পথে কোনো উড়োজাহাজ চলবে না।

আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে এসব কথা জানিয়েছেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। তিনি বলেন, ১২ ও ১৩ এপ্রিলে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে উড়োজাহাজ চলবে। ১৪ এপ্রিল ভোর থেকে আর কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। তিনি বলেন, আজ বিকেলে একটি আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রী চলাচলে ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ (কার্গো) ও বিশেষ ফ্লাইট চলাচল করবে।

১৪ এপ্রিল থেকে দেশে শুরু হচ্ছে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। আর আজ ১১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিনিষেধ। ১২ ও ১৩ এপ্রিল অবশ্য চলাচলে বর্তমান বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ পথে সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ আছে। তবে আন্তর্জাতিক পথে উড়োজাহাজ চলছে।