করোনাভাইরাস: লকডাউনের সময়ে মানসিক চাপ কিভাবে কমাবেন?

করোনাকালে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাবেন যেভাবে - Bangla Preneur

করোনাভাইরাসের কারণে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ।

সংক্রমণ কমাতে সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে।

তবে চার দেয়ালের ভেতর লম্বা সময় কাটিয়ে অনেকের মধ্যেই দুঃশ্চিন্তা বা হতাশা কাজ করছে।

এই মানসিক চাপ কাটিয়ে ভালো থাকতে কী কী করা যেতে পারে?

সাইকোথেরাপিস্ট মেহতাব খানমের সাথে কথা বলে জানাচ্ছেন অর্চি অতন্দ্রিলা।

করোনার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন সবাই। সেটাই স্বাভাবিক। এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মনের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ। আতঙ্ক, অহেতুক রাগ বা অবসাদের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। কিন্তু যেকোনো বিপদ মোকাবিলার সময় চাই ধৈর্য, দায়িত্বশীল আচরণ আর সাহস। কীভাবে এই সময় আপনার প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত, কেমন করে আপনি নিজের পরিবার-স্বজনদের নির্ভরতা দেবেন, সে সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন?

আস্থাভাজন ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন: এই আতঙ্কময় সময়ে কেবল আস্থাভাজন ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন। তাঁরা আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সহায়তা করবেন বিভিন্নভাবে।

গুজবে কান না দিয়ে পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন: বিভিন্ন মাধ্যমে এখন উড়ছে অতিপ্রচার, অপপ্রচার এবং বিভিন্ন গুজব। গুজবে কান দেবেন না। পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটান। সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করুন, রুটিন বিষয়গুলো, যেমন ঘুম, ঠিক সময়ে খাবার, বাড়িতে হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি বন্ধ করবেন না। সুষম আর নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সময়মতো ঘুমান, হালকা ব্যায়াম করুন এবং অবশ্যই নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ধূমপান, মদ্য পান বা নেশা এড়িয়ে চলুন।

শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও সবার খোঁজ রাখুন: প্রায় আবদ্ধ শহরে বিচ্ছিন্নতার জন্য অসহায় লাগতে পারে। তাই বন্ধু আর স্বজনদের সঙ্গে ই-মেইল, টেলিফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে যোগাযোগ রাখুন। পরস্পরের খোঁজ রাখুন। করোনায় সংক্রান্ত কোনো সাহায্য প্রয়োজন হলে কীভাবে, কার কাছ থেকে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য সাহায্য গ্রহণ করবেন, তার একটি আগাম পরিকল্পনা তৈরি করে রাখুন।

বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন: কেবল বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া সঠিক তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন। করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্যকারী এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত তথ্যসমূহ নিজে জানুন আর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখুন। তথ্যের জন্য কেবল নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞানসম্মত উৎস, যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় বা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সরকার থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞের ওপর আস্থা রাখুন।

সব সময় করোনা ভাইরাস নিয়েই পড়ে থাকবেন না: দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আপনি নিজে বা পরিবারের সদস্যরা প্রচারমাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনা সংক্রমণ আর এর পরিণতি নিয়ে তথ্য, সংবাদ ও ভিডিও দেখবেন না। এতে নিজের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হবে। করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য জানার পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠানও উপভোগ করুন।

আস্থা রাখুন নিজের ওপর: নিজের ওপর আস্থা রাখুন। অতীতে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার দক্ষতা আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। আত্মপ্রত্যয়ী থাকুন; এতে আপনার মানসিক চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে।

শিশুদের প্রস্তুত করুন, অভিজ্ঞ করুন, সঠিক তথ্য দিন: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ইস্যুতে বড়দের মতো শিশুরাও মানসিক চাপে ভুগতে পারে। এ সময় তারা মা-বাবাকে একটু বেশি আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, উৎকণ্ঠিত হয়, নিজেকে গুটিয়ে রাখে, অস্থির হয়, রাগ করে কেউবা হঠাৎ করে বিছানায় প্রস্রাব করা শুরু করে। মানসিক চাপজনিত এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন, একটু বেশি সময় দিন। শিশুটিকে নিজের মতো করে ঘরোয়া খেলা খেলতে দিন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সকল পর্যায়ে শিশুকে তার মা-বাবা ও পরিবারের সঙ্গেই রাখুন এবং তাদের আলাদা করা থেকে বিরত রাখুন। হাসপাতালে ভর্তি, কোয়ারেন্টিন বা যেকোনো কারণে যদি আলাদা করতেই হয়, তবে টেলিফোন বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে যোগাযোগ রক্ষা করুন এবং শিশুদের নিয়মিত অভয় দিন।

চারপাশে যা হচ্ছে সে বিষয়ে শিশুকে তার বয়স উপযোগী করে প্রকৃত সত্য তথ্য প্রদান করুন এবং কীভাবে সে নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পারবে, সেটা বুঝিয়ে বলুন। সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার স্বাস্থ্যবিধিগুলো শিশুকেও শেখান। শিশু বা তার পরিবারের কেউ অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা শিশুর সঙ্গে আলোচনা করে রাখুন, সেই সঙ্গে জানান যে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সবার সুস্থতা আর নিরাপত্তার জন্য চিকিৎসকই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

লক ডাউন এর কবলে পুরো বাংলাদেশে

Lock down 2.0 : Central Home ministry issues guidelines – Barak Bulletin

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে লকডাউনে কী করতে পারবেন, কী পারবেন না: 

পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আপাতত সাত দিন লকডাউন দিচ্ছি। আশা করছি, এই সাত দিন মানুষকে ঘরের মধ্যে রাখতে পারলে সংক্রমণ রোধ করতে পারব। না হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে যাবে। মানুষের নানা বিষয় আছে, সেগুলো সাত দিন লকডাউনের শেষের দিকে বিবেচনা করব, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব। আপাতত সাত দিন থাকবে।’

সরকার বলছে, শনিবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে লকডাউনের বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে।

যা খোলা থাকবে

বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, লকডাউনে জরুরি সেবা দেয়- এমন প্রতিষ্ঠানগুলোই শুধু খোলা থাকবে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল ও ক্লিনিক, দমকল বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মতো সেবা প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার ইত্যাদি।

এর বাইরে শিল্পকারখানা খোলা থাকবে। তবে শিফট অনুযায়ী সেখানে শ্রমিকরা কাজ করবে।

২০২০ সালে যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন সীমিত আকারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল। এবারও সীমিতভাবে ব্যাংক খোলা রাখার আভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে সেই সময় টানা ৬৬ দিন বাংলাদেশের শেয়ারবাজার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কিন্তু এইবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, লকডাউনে ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন চলবে।

এর আগে গত ২৯শে মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব অফিস ও কারখানায় অর্ধেক জনবল, উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন, জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮টি নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

কী করা যাবে আর কী করা যাবে না?

সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউনের সময় জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না।

বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে কোনরকম জনসমাগম করা নিষেধ।

মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত, গণপরিবহনে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

সবসময় মাস্ক পরা ছাড়াও যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া রাত ১০টার পরে বাইরে চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত করতে হবে।

সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভার্চ্যুয়াল ইন্টার্নশিপ’

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভার্চ্যুয়াল ইন্টার্নশিপ’

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই স্নাতক সনদ পেতে হলে শেষ বর্ষে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্নি) হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতে যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ, প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগের মতো নিয়োগ হচ্ছে না, তাই শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের সুযোগ কিছুটা কমে গেছে। তবে একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে অনলাইনে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ। শুধু শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরাই নন, ঘরে বসে যাঁরা সময়টা কাজে লাগাতে চান, আবেদনের যোগ্যতা অনুযায়ী চাইলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

অনলাইনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার কয়েকটি সুযোগের কথা জেনে নেওয়া যাক।

বাংলালিংক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক শুরু করেছে ‘ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ওয়াইএসএসই

শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের আবেদন গ্রহণ করছে ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্টারপ্রেনার্স (ওয়াইএসএসই)। চার মাসজুড়ে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। অ্যাডমিন-এইচআর, মার্কেটিং-পিআর, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যে কোনো পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও মাইক্রোসফট অফিস সুটে দখল থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।

জিইএম অ্যাপারেলস

পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান জিইএম অ্যাপারেলসে ‘কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ ও ‘গ্রাফিক ডিজাইন’ টিমে কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই ‘ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ’ এর জন্য আবেদন করতে পারেন। গ্রাফিক ডিজাইনে শিক্ষানবিশির জন্য আবেদন করতে হলে অ্যাডোব ফটোশপ ও অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটর এর কাজ জানা জরুরি। কাজ করতে হবে ৩ মাস।