ঘুরে আসুন মহেরা জমিদার বাড়ি থেকে

মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল । Mohera Jamidar Bari, Tangail. - YouTube

প্রথমে ঢুকলাম কালীচরণ লজে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির শেষের দিকে এটি নির্মিত। অন্য ভবন থেকে অনেকটা আলাদা। বর্তমানে এই লজ পুলিশের জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এখানে আছে পুলিশের ব্যবহহৃত পুরনো দিনের হাতিয়ার। বিভিন্ন ছবিতে লেখা জমিদার বাড়ির ইতিহাস। জমিদারদের ব্যবহার করা নানান সামগ্রী রয়েছে এখানে। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের একটা আলাদা শিহরণ থাকে। কারণ এগুলোর একেকটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস।

পাশের চৌধুরী লজ গোলাপি রঙা। সুন্দর নকশাখচিত ভবনটির পিলারগুলো রোমান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। ভেতরে ঢেউ খেলানো ছাদ। দোতলা ভবনটির সামনে সুন্দর বাগান ও সবুজ মাঠ।

দৃষ্টিনন্দন মহেড়া জমিদার বাড়ি

এরপর আমরা গেলাম আনন্দ লজে। মহেড়া জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এটি। তিন তলা বিশিষ্ট ভবনের সামনে আটটি সুদৃশ্য কলাম। এখানকার ঝুলন্ত বারান্দা দৃষ্টিনন্দন। আনন্দ লজের সামনে হরিণ, বাঘ ও পশু-পাখির ভাস্কর্যসহ একটি চমৎকার বাগান আছে।

সবশেষে থাকা মহারাজ লজ বাইজেনটাইন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এর সামনে ছয়টি কলাম। এছাড়া ভবনের শোভা বাড়িয়েছে সিঁড়ির বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা। এতে মোট কক্ষ আছে বারোটি। সামনে বাগান ও পেছনে একটি টেনিস কোর্ট। এসব ভবন শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

মহেরা জমিদার বাড়ি - টাঙ্গাইল জেলার দর্শনীয় স্থান - ভ্রমণ গাইড

জমিদার বাড়ির পেছনের দিকে মিনি চিড়িয়াখানা। এতে দেখা যায় হরিণ, খরগোশ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রাণী। একেবারে শেষ প্রান্তে শিশু পার্ক। ‘পাসরা পুকুর’ ও ‘রানী পুকুর’ নামে দুটি পুকুর মনোরম। এছাড়া জমিদারদের আরও স্থাপনা ছড়িয়ে আছে আশেপাশে।

ইতিহাস বলছে, ১৮৯০ সালের আগে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে প্রতিষ্ঠিত হয় মহেড়া জমিদার বাড়ি। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকবাহিনী এতে হামলার পাশাপাশি বাড়ির কূলবধূসহ গ্রামের পাঁচজনকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। পরবর্তী সময়ে তারা লৌহজং নদীর নৌপথে দেশত্যাগ করেন।

মহেড়া জমিদারবাড়ি, টাঙ্গাইল » আদার ব্যাপারী

জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি সুরম্য ফটক। প্রবেশপথের আগে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল একটি দীঘি। এর দক্ষিণ পাশে বিস্তৃত আম্রকানন। এছাড়া বড় আকারের তিনটি ভবনের সঙ্গে রয়েছে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর ও গোমস্তাদের ঘর।

কিভাবে যাবেন :  ঢাকা থেকে আপনি ট্রেন যোগে যাতায়াত করতে পারেন । মির্জাপুরগামী ট্রেন যোগে যাতায়াত করতে পারেন । মির্জাপুর থেকে আপনাকে আবার পাকুল্লা বাস স্ট্যান্ড নামতে হবে। পাকুল্লা থেকে সিএনজি করে মহেরা জমিদার বাড়িতে যেতে হবে। ঢাকা থেকে মির্জাপুরগামী ট্রেনে চেয়ার কোচে ৬৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে। সেখান থেকে পাকুল্লা বাসস্ট্যান্ডে ২০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। পাকুল্লা থেকে মহেরা জমিদার বাড়িতে সিএনজি করে ২০ টাকা দিতে হবে।

প্রবেশ মূল্য:

মহেরা জমিদার বাড়িতে প্রবেশ মূল্য ৮০ টাকা ।

দর্শনার্থীদের জন্য কিছু দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। তা হল :

১. কোন ভবনের ছাদে উঠা যাবে না।
২. পুকুরে নামা এবং গোসল করা যাবে না ।
৩. বাগানের ডালপালা ভাঙ্গা এবং ফুল ছেঁড়া যাবে না ।
৪. শালীনতা এবং সৈাজন্যমূলক আচরণ বজায় রাখুন।
৫. ধূপমান/মাদকদব্য পরিহার করূন।
৬. যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না।
৭. নির্ধারিত টয়লেট ব্যবহার করূন।
৮. চিড়িয়াখানা পশু-পাখিকে বিরত্ত করবেন না।
৯. মাগরিবের আযানের ১৫ মিনিট পূর্বে অত্র এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

অনেক দেশ অন-এরাইভাল ভিসা দিয়ে থাকে

ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন কিন্তু অ্যাম্বাসি/ট্রাভেল এজেন্সির ঝক্কিতে গিয়ে ভিসা তৈরি করাটা অনেক বাংলাদেশির কাছেই সময়সাপেক্ষ। আর এসব কারণে ঘুরতে যাওয়ার আগ্রহটাও কমে যায়। আশার কথা হচ্ছে আপনার কাছে যদি একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকে তবে আপনি বেশ কয়েকটি দেশে প্রবেশ করতে পারবেন কোনোরকম দ্বিধা ছাড়াই।

কিন্তু যে দেশে যাচ্ছেন সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপনাকে ভিসা/ই-ভিসা করিয়ে নিতে হবে। কোন দেশে কখন ভিসা করতে পারবেন তার একটি তালিকা নিচে দেয়া হলো:

পৌঁছেই ভিসা করতে হবে যেসব দেশে :

এশিয়া+ওশেনিয়া

১। নেপাল https://bd.nepalembassy.gov.np/visa/

২। ভূটান https://www.mfa.gov.bt/rbedelhi/?page_id=34

৩। মালদ্বীপ https://immigration.gov.mv/tourist-visa/

৪। শ্রীলংকা http://www.slhcdhaka.org/consular_service.php

৫। ইন্দোনেশিয়া https://www.bali.com/visa-indonesia-entry-requirements-bali.html

৬। তৈমুর https://migracao.gov.tl/html/sub0301.php

৭। ফিজি http://www.immigration.gov.fj/travel-requirements/fiji-visas

৮। মাইক্রোনেশিয়া http://www.visit-micronesia.fm/guide/regulation.html

৯। সামোয়া https://samoaembassybelgium.com/samoa/visiting-samoa/

১০। তুভালু https://www.un.int/tuvalu/tuvalu/consular-services

১১। ভানুয়াতু https://www.visathing.com/country/vanuatu/

https://vanuatu.travel/en/planning/planning-travel-information/planning-permits-immigration

https://images.impartmedia.com/vanuatu.travel/documents/COUNTRIES-REQUIRING-A-VISITOR-VISA-TO-ENTER-VANUATU.pdf

সরাসরি সরকারি কোনো ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি। এই লিংকগুলোর সোর্স থেকে জানা যায় বাংলাদেশিরা সেখানে গিয়ে ভিসা করতে পারবেন।

ক্যারাবিয়ান

১। জ্যামাইকা https://www.congenjamaica-ny.org/visas/requirements-2/

২। বাহামা http://www.bahamas.gov.bs/wps/wcm/connect

৩। হাইতি http://www.haiti.org/visa-entry-requirements-for-haiti/

৪। গ্রানাডা https://www.grenadaembassyusa.org/wp-content

৫। সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস https://www.ciu.gov.kn/visa-free-countries/

৬। সেন্ট ভিনসেন্ট এন্ড দ্য গ্রানাডিয়ানস http://www.gov.vc/index.php/visitors/visa

৭। বারবাডোস https://www.immigration.gov.bb/pages/Visa_Requirements.aspx

৮। ডমিনিকা http://www.dominica.gov.dm/services/passports

৯। ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো https://www.visahq.com/trinidad-tobago/

সরাসরি কোনো সরকারি ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি। তবে লিংকে দেয়া থার্ড পার্টি থেকে জানা যায় বাংলাদেশিরা প্রবেশের পর ভিসা করাতে পারবেন।

আফ্রিকা

১। রুয়ান্ডা https://rwandaembassy.org/rwanda-new-visa-regime.html

২। উগান্ডা http://www.immigration.go.ug/content/visas-and-passes

৩। মৌরিতানিয়া https://www.aeroport-nouakchott.com/en/visa_on_arrival_mauritania.php

৪। গাম্বিয়া http://www.visitthegambia.gm/visas-and-passports

৫। কমোরস http://www.comores-online.com/mwezinet/pratique/arrivee.htm

৬। মাদাগাস্কার http://www.madagascar-consulate.org/visainfo.html

৭। সিসিলি http://www.mfa.gov.sc/static.php?content_id=1

৮। কেপ ভার্দে https://www.capeverdeislands.org/visa/

৯। মোজাম্বিক https://www.travelweekly.com/Middle-East-Africa-Travel/Judean-Desert-blooms-Sababike-cycling-tour

সরাসরি সরকারি কোনো ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কয়েকটি সোর্স থেকে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল এর ব্যাপারে জানা গেছে।

১০ গিনি https://www.rgb-visa.com/Home.aspx

ই-ভিসা অ্যাপ্লিকিশনের লিংক আপাতত বন্ধ আছে।

১১। টোগো http://togoembassylondon.com/faq-togo-visa-passport-consulate/

ইলেকট্রনিক/অনলাইন ভিসার মাধ্যমে যাওয়া যাবে যে সব দেশে :

১। কেনিয়া http://evisa.go.ke/eligibility.html

২। লেসোথো http://evisalesotho.com/visa-application-process/

৩। জিবুতি https://www.djiboutivisas.org/

৪। আইভরি কোস্ট https://www.aeroport-abidjan.com/visa_on_arrival_ivory_coast.php

সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি।

৫। ইথিওপিয়া https://www.evisa.gov.et/#/tourist-visa

৬। গ্যাবন https://evisa.dgdi.ga/#/

৭। জাম্বিয়া http://www.zambiaembassy.org/sites/default/files/documents/Zambia_Visa_Application_revised_May-2019.pdf

https://evisa.zambiaimmigration.gov.zm/#/home

৮। জিম্বাবুয়ে http://www.zimimmigration.gov.zw/index.php/visa/visa-regime

https://www.evisa.gov.zw/home

৯। সাঁ তোমে এন্ড প্রিন্স http://evisa.st/faq.html

১০। বেনিন https://ambabenin.dk/consular-formalities/entry-visas/

বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে তারা প্রবেশ করতে পেরেছেন। এর মানে ই-ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সম্ভব।

১১। অ্যান্টিগুয়া এন্ড বারবুডা http://www.immigration.gov.ag/visa-services/visa-on-arrival/

১২। কাতার https://www.visitqatar.qa/en/plan-your-trip/visas

১৩। কিরগিজিস্তান http://evisa.e-gov.kg/get_information.php?lng=en

১৪। উজবেকিস্তান https://mfa.uz/en/consular/visa/?VOICE=Y

১৫। মিয়ানমার https://evisa.moip.gov.mm/Home/MaintainanceSchedule

১৬। মালয়েশিয়া https://www.imi.gov.my/index.php/en/visa/evisa.html

বাংলাদেশি হয়ে যদি আপনার কাছে আমেরিকা/কানাডা/শেনজেন/ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা থাকে তবে যেসব দেশ আপনি ভ্রমণ করতে পারবেন :

দেশের নাম :

১। মেক্সিকো : যদি কানাডা, জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেন বা শেনজেনের ভিসা থাকে

https://consulmex.sre.gob.mx/toronto/index.php/en/servicesforeigners/visas?id=225

২। কোস্টারিকা : পার্মানেন্ট রেসিডেন্স, স্টুডেন্ট ভিসা, আমেরিকার ওয়ার্ক ভিসা, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলে

http://www.costarica-embassy.org/index.php?q=node/24

৩। পানামা : কানাডার ভ্যালিড ভিসা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রিপাবলিক অব কোরিয়া, জাপান, ব্রিটেন, রিপাবলিক অব সিঙ্গাপুর, যে কোনো ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাজ্য

https://www.embassyofpanama.org/visas-1

৪। বেলিজ : http://belizehighcommission.co.uk/wp-content/uploads/2016/11/Bze-Visa-Requirements-Web-Version.pdf

এখানে বেশ কিছু হিডেন কস্ট আছে। যাওয়ার আগে অবশ্যই চেক করে নিতে হবে সেগুলো।

৫। ডমিনিকান রিপাবলিক : আমেরিকা, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্রমণ করে থাকলে

http://www.domrep.org/visa.html

৬। আরুবা : শেনজেন ভিসা

https://www.visitaruba.com/traveling-to-aruba/entry-requirements-and-visas/

৭। সেন্ট মার্টিন : শেনজেন ভিসা http://www.sintmaartengov.org/Government%20Forms/travelguide.pdf

৮। আমেরিকা : https://www.gov.uk/check-uk-visa/y/bangladesh/transit/somewhere_else/yes

৯। আলবেনিয়া : http://punetejashtme.gov.al/en/regjimi-i-vizave-per-te-huajt/

১০। বসনিয়া ও হার্জেগভিনা : https://www.bhembassy.no/index.php/consular-affairs/consular-services?view=article&id=22&catid=20

১১। মন্টিনিগ্রো

http://www.mvp.gov.me/en/sections/consular-affairs/visa-regimes-for-foreign-citizens/

১২। সার্বিয়া

http://www.mfa.gov.rs/en/consular-affairs/entry-serbia/visa-regime

১৩। কসোভো

http://www.ambasada-ks.net/us/?page=2,128

১৪। মেসিডোনিয়া

http://www.mfa.gov.mk/index.php?option=com_content&view=article&id=134&Itemid=662&lang=en

১৫। ক্রোয়েশিয়া

http://www.mvep.hr/en/consular-information/visas/visa-requirements-overview/

১৬। রোমানিয়া

https://www.visitaruba.com/traveling-to-aruba/entry-requirements-and-visas/

১৭। বুলগেরিয়া

http://www.bulgaria-embassy.org/en/consular-services/visa-for-bulgaria/

১৮। সাইপ্রাস

http://www.mfa.gov.cy/mfa/mfa2016.nsf/All/3F7BBB003BF48930C2258022003F96AB?OpenDocument

১৯। জর্জিয়া

https://www.geoconsul.gov.ge/HtmlPage/Html/View?id=206&lang=Eng

২০। কাতার

https://www.visitqatar.qa/en/plan-your-trip/visas

২১। মাদাগাস্কার

https://www.us-madagascar-embassy.org/consular-services

২২। সাঁ তোমে এন্ড প্রিন্স

http://evisa.st/do-i-need-a-visa-for-the-sao-tome-and-principe.html

২৩। মালয়েশিয়া

http://www.klia2.info/trips/malaysia/malaysia-visa-information/#visa-requirement-by-country

২৪। তুর্কি

http://www.mfa.gov.tr/visa-information-for-foreigners.en.mfa

অঞ্চলের নাম:

১। বারমুডা (ব্রিটিশ অঞ্চল): কানাডা/ আমেরিকান ভিসা

https://www.gov.bm/bermuda-entry-visas

২। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড (ব্রিটিশ অঞ্চল): ব্রিটেন, কানাডা/ আমেরিকান ভিসা

৩। তুর্ক এন্ড কাইসস (ব্রিটিশ অঞ্চল): ব্রিটেন, কানাডা/ আমেরিকান ভিসা

ভ্রমণে পোষা প্রাণীর যত্ন ও কিছু নিয়ম কানুন জেনে নিন

first aid for pets - পোষাপ্রাণী নিয়ে ভ্রমণ

আপনার পোষা প্রাণীকে আপনি যেভাবে ভালোবাসেন এবং যত্ন নেন অন্য কেউ সেভাবে নিতে পারবে না। ভ্রমণের সময় এলেই আমরা এই পেট বা পোষা প্রাণী নিয়ে কম-বেশি উদ্বিগ্ন হই। অনেক সময় দেখা যায় পেটদের নিরাপত্তার জন্যই আমরা ভ্রমণ ক্যান্সেল করে থাকি।

এছাড়াও পোষা প্রাণী নিয়ে ভ্রমণে আমাদের মাঝে মাঝে বেশ কিছু জটিলতারও সম্মুখীন হতে হয়। তাই বলে কী ভ্রমণ ত্যাগ করা উচিত আমাদের? একদমই না। কিছু বিষয় মেনে চললে আমরা আমাদের পোষা প্রাণীদের সাথে নিয়ে বেশ সুন্দর এবং উপভোগ্য এক ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পাড়ি। চলুন সে বিষয়সমূহ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

পোষা প্রাণী নেয়ার অনুমতি

বিভিন্ন জায়গায় পোষা-প্রাণী সাথে নেয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এছাড়াও সাথে নিয়ে গেলে বেশ কিছু ক্রাইটেরিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সুতরাং সেসব ব্যাপার সম্পর্কে আগে থেকেই জানুন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।

যোগাযোগের পরিপূর্ণ তথ্য দেয়া

বিভিন্ন ভাবে আপনার পোষা প্রানীটি হারিয়ে যেতে পারে। এরূপ ক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনার মোবাইল নাম্বার, ঠিকানা, ভ্যাকসিনের তথ্য ইত্যাদি প্রাণীটির গলার চেইনে ভালোভাবে যুক্ত করুন। হারিয়ে গেলে ফিরে পেতে এটিই সবচেয়ে ভালো উপায়।

first aid for pets - পোষাপ্রাণী নিয়ে ভ্রমণ

ঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া

যথাযথ প্রশিক্ষণ দিন আপনার পোষা প্রানীটিকে। রাস্তায় যেকোনো ধরনের অবস্থায় যেন সে আপনার কথা মেনে চলে। বাস-প্লেন-ট্রেন বা হোটেলে যে কোন জায়গায়ই অনুগত প্রাণী ভ্রমণে বেশ শান্তি দিয়ে থাকে।

পোষাপ্রাণীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা

আপনার পোষা প্রাণীটির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খুঁটিনাটি জেনে নিন। প্রয়োজনে ভেটের নিকট হতে চেকলিস্ট তৈরি করে নিন। ভ্রমনে নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকে টেম্পারেচার, পালস ইত্যাদি পরিমাপ করুন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।

পোষাপ্রানীটির জন্য বাক্স কিনুন

আপনার পোষা প্রানীর সাইজ অনুযায়ী বাক্স কিনুন। ভ্রমণের সময় এগুলো বেশ সাহায্য করবে আপনাকে। এছাড়াও বাস-ট্রেন-বিমান ইত্যাদি যে মাধ্যমেই ভ্রমণ করেন না কেন পোষা প্রানীকে বাক্সে রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। পোষা প্রানীর জন্য বেশ সুন্দর বাক্স পাবেন বাজারে।

পেট থার্মোমিটার, টুইজার, গজ, এন্টিবায়োটিক ওয়েন্টমেন্ট সহ অন্যান্য যাবতীয় ফার্স্ট এইড সামগ্রী আপনার পাশাপাশি পোষা প্রানীর জন্যও আলাদাভাবে নিন। প্রয়োজনের ভেটের পরামর্শ নিয়ে যাবতীয় সামগ্রী সংগ্রহ করুন। এগুলো যেকোনো সময়েই কাজে লাগতে পারে।

first aid for pets - পোষাপ্রাণী নিয়ে ভ্রমণ

বাস-ট্রেন-বিমান ভ্রমনে করনীয়

যে মাধ্যমেই ভ্রমণ করেন না কেন অবশ্যই সাথের প্রাণীটিকে বাক্সে রাখুন। গাড়িতে ভ্রমণের সময় ক্যারিয়ারটিকে বেল্ট সহকারে বেধে সীটে বসিয়ে রাখুন। প্যাসেঞ্জার সিটে ক্যারিয়ারটিকে স্থাপন করুন। এছাড়াও তারা যেন জানালা দিয়ে মাথা বের না করতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।

ট্রেনে কিংবা বিমানে ভ্রমণের সময় কর্তৃপক্ষের যথাযথ নির্দেশাবলী মেনে চলুন। এসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখুন। এছাড়াও এসব যাতায়াত মাধ্যমে কেবিন বুক করার চেষ্টা করুন।

পোষা প্রাণীবান্ধব হোটেলে অবস্থান

যেসব হোটেল পেট ফ্রেন্ডলি সেসব হোটেলে অবস্থানের চেষ্টা করুন। অনেক হোটেলই পোষা-প্রাণীসহ ভ্রমণকে স্বাগত জানায়। হোটেলে অবস্থানে চেষ্টা করুন নীচের ফ্লোরে রুম নেয়ার। এতে সহজেই বাইরে থেকে ঘুরে রুমে প্রবেশ করতে পারবেন। যদি পেট ফ্রেন্ডলি হোটেল খুঁজে না পান, তবে এয়ারবিএনবি বা অন্য মাধ্যমে ফ্লাট খুঁজে পেতে পারেন। টুরিস্ট স্পটে অনেকেই পোষা-প্রাণীসহ ফ্লাট ভাড়া দিয়ে থাকে।

সাধারণত পোষা-প্রাণীসহ ভ্রমনে একটু বেশী খরচ হলেও এটি বেশ উপভোগ্য। ভ্রমনে আপনি তাদের সঙ্গ বেশ সুন্দরভাবে উপভোগ করবেন। তাই উপরের টিপসগুলো মেনে পোষা-প্রাণী আপনার পরবর্তী ভ্রমনে ভ্রমণসঙ্গী যেন হতেই পারে।

অনলাইনে চেকইন কেন করবেন? কিভাবে করবেন?

বিমান ভ্রমণে নতুন হলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে চেকইন কি? চেকইন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন যাত্রী নির্দিষ্ট কোন ফ্লাইটে ভ্রমণের জন্য তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে থাকেন। অনেক বিমান সংস্থা এই চেকইন প্রক্রিয়ার সময় যাত্রীদের আরও কিছু ব্যাপার নিশ্চিত করিয়ে থাকেন। যেমন- যাত্রী কি খাবেন, যাত্রীর সাথে ব্যাগেজের পরিমাণ কি, যাত্রী কোন সিটে বসতে ইচ্ছুক ইত্যাদি।

আপনি ব্যবসার জন্য ভ্রমণ করুন কিংবা বিনোদনের জন্য- বিমানবন্দরে লাইনে অপেক্ষা করার থেকে অনলাইনে চেকইন আপনার অনেকটা সময় বাঁচিয়ে দেবে। এই ব্যাপারটা চিরন্তন সত্য যে, বিমানবন্দরে ফ্লাইট চেকইন করতে বেশ বেগ পেতে হয়। চেকইন-এ সবসময় বিশাল লাইন থাকে। আপনি যদি ফ্লাইট ধরতে বাসা থেকে ৩ ঘণ্টা আগে বের হতে না চান তাহলে চেকইনটা অনলাইনে সেরে ফেলুন। অনলাইনে চেকইন করতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

অনলাইনে চেকইন কোথায় করবেন?
বেশির ভাগ বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটের মেনুতেই আপনি ‘Web Check In’ অথবা ‘Check In’ নামের ট্যাব পাবেন। ট্যাব খুঁজে না পেলে বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে আপনার একাউন্টে লগইন করুন এবং আপনার বুকিং ডিটেইলসে প্রবেশ করুন। এখানে অবশ্যই আপনি অনলাইন চেকইন অপশন পাবেন।

ফ্লাইটের কতক্ষণ আগে চেকইন করতে পারবেন?
সাধারণত আপনার ভ্রমণ শুরুর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে ওয়েবসাইটে চেকইন অপশন চলে আসে। ভিন্ন ভিন্ন বিমান সংস্থার চেকইন সময় ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তাই নিশ্চিত ভাবে জানতে আপনার বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে থাকা চেকইন নির্দেশিকা পড়ে দেখুন।

Passport

কি কি লাগবে?
অনলাইনে চেকইন করতে আপনি কোন শহর থেকে কোন শহরে যাচ্ছেন সেটা উল্লেখ করতে হবে। আপনার ইমেইল আইডি ও বুকিং আইডি উল্লেখ করতে হবে। সাধারণত বুকিং কনফার্মেশন মেইলের মধ্যে বুকিং আইডি উল্লেখ করা থাকে। আপনি যদি বুকিং কনফার্মেশন মেইল না পেয়ে থাকেন বা হারিয়ে গিয়ে থাকে তবে এয়ারলাইন্সের গ্রাহকসেবা নাম্বারে ফোন করুন।

অনলাইন চেকইন কেন করবেন?
অনলাইনে চেকইন করার সাথে সাথে আপনি ডমেস্টিক যাত্রী হলে এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট আপনাকে একটি ই-বোর্ডিং পাস দিয়ে দেবে। আন্তর্জাতিক যাত্রী হলে আপনাকে একটি কনফার্মেশন স্লিপ দেয়া হবে। যেটির বিনিময়ে বিমানবন্দর থেকে আপনি বোর্ডিং পাস পেয়ে যাবেন। প্রিন্ট করা ই-বোর্ডিং পাসের মাধ্যমে আপনি বিমানবন্দরের লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। আধুনিক এয়ারলাইন্স গুলো অনলাইনে চেকইন করলে অনলাইনেই আপনাকে সিট পছন্দ করার ও খাবার পছন্দ করার অপশনও দিয়ে দেবে।

বোর্ডিং পাস প্রিন্ট করতে ভুলে গেলে কি হবে?
আপনি যদি আপনার বোর্ডিং পাস প্রিন্ট করতে ভুলে গিয়ে থাকেন তবে ঘাবড়াবার কিছু নেই। আধুনিক বিমানবন্দর গুলোতে কিয়স্ক নামের একটি মেশিন থাকে যেটি থেকে আপনি বোর্ডিং পাস প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। যদি সেটিও সম্ভব না হয় তবে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে শুধু আপনার আইডি ও বুকিং কনফার্মেশনটি প্রদর্শন করুন, আপনাকে বোর্ডিং পাস দিয়ে দেয়া হবে। বেশির ভাগ এয়ারলাইন্সে অনলাইন চেকইন করা যাত্রীদের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকে যেখানে সাধারণত ছোট লাইন থাকে।

ফ্যামিলি বা গ্রুপ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কি অনলাইন চেকইন সম্ভব?
হ্যা, ফ্যামিলি বা গ্রুপ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও অনলাইন চেকইন সম্ভব। সাধারণত এয়ারলাইন্স গুলো প্রতি বুকিং-এ ০৯ জন যাত্রী পর্যন্ত অনলাইন চেকইন করার সুযোগ রাখে।

অনলাইনে চেকইন করলে লাগেজের কি হবে?
আপনার সাথে যদি শুধু আপনার ক্যারি-অন (হাতে রাখার ব্যাগ) ব্যাগ থাকে তবে আপনি সরাসরি সিকিউরিটি চেকে চলে যেতে পারেন। তবে যদি আপনার সাথে বাড়তি লাগেজ থাকে তবে আপনাকে এয়ারলাইন্স কাউন্টারে যেতে হবে। বেশির ভাগ এয়ারলাইন্সে অনলাইন চেকইন করা যাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যাগেজ ড্রপ কাউন্টার থাকে।

অনলাইনে চেকইন করলে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিৎ?
যদিও অনালাইনে চেকইন করলে আপনার বোর্ডিং টাইম অনেকটাই কমে আসে তবুও বিমানবন্দরে আগে আগে পৌঁছানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ। দেশের ভেতর ভ্রমণের ক্ষেত্রে অন্তত ৪৫ মিনিট ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ৯০ মিনিট আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকুন।

ভাওয়াল রাজবাড়ি, গাজীপুর

ভাওয়াল রাজবাড়ী গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত। ভাওয়াল এস্টেট আধুনিক বাংলাদেশের বাংলায় একটি বৃহত জমিদারী সম্পত্তি ছিল। এস্টেটের অন্তর্গত অঞ্চলটি বর্তমানে গাজীপুর জেলার অন্তর্গত। ভাওয়াল এস্টেটের সর্বাধিক বিখ্যাত রাজধানী ছিল চৌইরা মিহ বাড়ি, যেখানে জমিদার ফজল গাজী থাকতেন। তিনি ছিলেন বারো-ভূঁইয়দের অন্যতম (বাংলার দ্বাদশ জমিদার)।

মোগল বিজয়ের আগে ভাওয়াল এস্টেট ভাওয়ালের গাজীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রথম পরিচিত গাজী ছিলেন ফজল গাজী, যিনি শের শাহ সুরিকে একটি কামান দিয়েছিলেন ‘আজ ফজল গাজী’ এর উপরে। ভাওয়ালের রাজারা মুন্সীগঞ্জের অন্তর্গত বজ্রયોગিনী গ্রাম থেকে এসেছিলেন। ১৯৫১ সালে ভাওয়ালের রাজধানী ছোইরা মেহে বারিতে জমিদারী ব্যবস্থা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পরিবার ভাওয়ালকে শাসন করে।

জমিদার জলাশয়টি বিশাল আকারের একটি, তবে এখনই এটি সরকার দখল করেছে। এটি একটি বিশাল ম্যানশন যা 350 টিরও বেশি কক্ষ রয়েছে। যদিও এটি একটি জমিদার প্রাসাদ তবে এটি একটি আধুনিক বাড়ির মতো দেখাচ্ছে। কিভাবে যাব: Dhakaাকা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বাস পরিষেবা রয়েছে। বাসটি ব্যবহার করে আপনাকে প্রথমে শিববাড়িতে আসতে হবে। সেখান থেকে রিকশা ব্যবহার করে আপনি সহজেই ভাওয়াল রাজবাড়িতে পৌঁছতে পারবেন।

যেভাবে যাবেন :

Dhakaাকা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বাস পরিষেবা রয়েছে। বাসটি ব্যবহার করে আপনাকে প্রথমে শিববাড়িতে আসতে হবে। সেখান থেকে রিকশা ব্যবহার করে আপনি সহজেই ভাওয়াল রাজবাড়িতে পৌঁছতে পারবেন।

ট্রেনে করে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে জয়দেবপুরগামী ট্রেনে করে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে জয়দেবপুরগামী ট্রেনে চেয়ার কোচে ৬৫ টাকা ভাড়া।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (গাজীপুর)

গাছগাছালিতে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই নজরকাড়া। সারি সারি বৃক্ষের মাঝে পায়ে চলা পথ। হাঁটতে হাঁটতেক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য আছে বেঞ্চ কিংবা ছাউনি। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে পড়বে ধানক্ষেত।কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোট আকারের লেক।

গাছের সারির মাঝে পায়ে চলার পথ। বনের নির্জনতা উপভোগ করার মতো। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেবেঞ্চিতে বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। ছবি তোলার জন্য নিঃসন্দেহে চমৎকার একটি জায়গা। ছোট ছোট ছাউনি করাহয়েছে ভ্রমণকারীদের জন্য। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে পড়বে ধানক্ষেত। কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোটআকারের লেক।

ঢাকার খুব কাছে সবুজ ছায়া ঘেরা বনে নিশ্বাস নিতে চাইলে জয়দেবপুরের ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কের চেয়ে চমৎকারজায়গা আর হয় না! ঢাকা থেকে দূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার  আর গাজীপুর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার। একদিনেবন ঘুরে আবার ফিরেও আসতে পারবেন। গাছগাছালিতে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই নজরকাড়া।

বনভোজন ছাড়াও দিনে গিয়ে দিনে বেড়িয়ে আসা যায়।

বাংলাদেশের মোট ১৭টি জাতীয় উদ্যানের অন্যতম ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হলেওএকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয় ১৯৮২ সালের ১১ মে। অনিন্দ্য সুন্দর এই উদ্যানটি মূলতগ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল বন। শাল বা গজারি এই উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। শাল বনের বৈচিত্রময় রুপমাধুরী আরজঙ্গলের স্বাদ অনুভবের জন্য প্রত্যেক বছর এখানে আসেন কয়েক লাখ পর্যটক। সৌন্দর্য, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্য আরবৈচিত্রময়তার জন্য অনন্য এ উদ্যানের জুড়ি নেই।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের অবস্থান :–

ঢাকার পাশের জেলা গাজীপুরের সদর ও শ্রীপুর উপজেলা জুড়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। ঢাকা থেকে এরদূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার। পুরো পরিকল্পনায় যদিও গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলার ৩৫টি মৌজা ও ১৩৬টিগ্রামের ৫০২২ হেক্টর জায়গাজুড়ে জাতীয় উদ্যানের অবস্থান, তবে মূল উদ্যানটি মূলত ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কেরপাশে ৯৪০ হেক্টর জমির উপর অবস্থিত।

    ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে।

দর্শনীয় স্থান :–

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে আছে ১৯টি বিশ্রামাগার ও কটেজ।এগুলোর নামও বেশ মজার।

  1. চম্পা,
  2. জেসমিন,
  3. অর্কিড,
  4. রজনীগন্ধা,
  5. শাপলা,
  6. মালঞ্চ,
  7. গোলাপ,
  8. মাধবী,
  9. বকুল,
  10. জুঁই,
  11. চামেলী,
  12. বেলি,
  13. আনন্দ-১,
  14. আনন্দ-২,
  15. আনন্দ -৩,
  16. শ্রান্তি ও
  17. কেয়া।

এছাড়া বনের ভেতরে আছে ৩১টি বনভোজন কেন্দ্র।এগুলো হল:

  1.  সোনালু,
  2.  পলাশ,
  3.  কাঞ্চন,
  4.  মহুয়া,
  5.  শিমুল-১,
  6.  শিমুল-২,
  7.  শিউলি-১,
  8.   শিউলী-২,
  9.  নিরিবিলি-১,
  10.   নিরিবিলি-২,
  11.   নিরিবিলি-৩,
  12.  নিরিবিলি-৪,
  13.  বনশ্রী-১,
  14.  বনশ্রী-২,
  15.  বনশ্রী-৩,
  16.   বনশ্রী-৪,
  17.   বনরূপা-১,
  18.   বনরূপা-২,
  19.  বনরূপা-৩,
  20.  কদম,
  21.  অবকাশ-১,
  22.  অবকাশ-২,
  23.   অবকাশ-৩,
  24.  অবকাশ-৪,
  25.  অবকাশ-৫,
  26.  অবকাশ-৬,
  27.  অবকাশ-৭,
  28.  অবকাশ-৮,
  29.  অবকাশ-৯,
  30.  অবকাশ-১০
  31.   আনন্দ।

নামের ভিন্নতার সঙ্গে এগুলোর পরিবেশও  ভিন্ন আমেজের। পিকনিক স্পট কিংবা কটেজ ব্যবহার করতে হলে বনবিভাগের মহাখালী কার্যালয় (০২-৯৮৯৯৪৯৭) থেকে আগাম বুকিং দিতে হবে।

একসময় ভাওয়াল উদ্যানে পাওয়া যেত ব্ল্যাক প্যান্থার, চিতা বাঘ, ময়ূর, হাতি। এসব এখন ইতিহাস।

 ক্রমাগত বন উজাড়ের ফলে দিনে দিনে এর পরিধি কমে আসায় বন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে নানান বন্যপ্রাণী। তবেবাংলাদেশ সরকার এই বন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্ভিদ হল শাল।

প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছপালা আছে এই বনে।

এর মধ্যে ৪৩ প্রজাতির বিভিন্ন রকম  গাছ,

 ১৯ প্রজাতির গুল্ম, তিন প্রজাতির পাম,

 ২৭ প্রজাতির ঘাস,

 ২৪ প্রজাতির লতা,

 ১০৪ প্রজাতির ঔষধি গাছ। জীব বৈচিত্র্যেও কমতি নেই এই বনে।

 প্রায় ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী,

 নয় প্রজাতির সরীসৃপ,

 পাঁচ প্রজাতির পাখি

 পাঁচ প্রজাতির উভচর প্রাণীও রয়েছে এই বনে।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান একটি প্রাকৃতিক বনভূমি। রুপ, বৈচিত্র ও বহুমাত্রিক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্য এই উদ্যানটিঅনন্য। পাতা ঝরা বৃক্ষের এই বন সময়ে সময়ে পাল্টায়  তার রুপের বাহার। শালবৃক্ষের মায়ায় ঢাকা এই উদ্যানেগেলেই চোখে পড়বে ঘন বন, ঝোপ-জঙ্গল।

শীতকালে যদিও পাতা পড়ে গিয়ে বনের রুপে শূন্যতার আবহ নিয়ে আসে, কিন্তু অন্যান্য মৌসুমগুলোতে চোখেপড়বে গাঢ় সবুজের মনলোভা সৌন্দর্য।

উদ্যানের ভেতরে হাঁটার জন্য রয়েছে পরিকল্পিত রাস্তা ও হাইকিং ট্রেইল। উদ্যানের বুক চিরে সর্পিল ফসলি জমিরঅবস্থান। গহীন অরণ্যের মাঝ দিয়ে হেঁটে হেঁটে উপভোগ করা যায় নির্জনতার স্বাদ।

উদ্যানের মোহনীয়তাকে পূর্ণ করেছে কয়েক মাইল বিস্তৃত বিশালাকার কয়েকটি লেক, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেপদ্মপুকুর। এই লেকটিতে পদ্মফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য হৃদয়কাড়া।

সেই সাথে অরণ্যের গাঢ় সবুজে জলের সমাহার এই উদ্যানের সৌন্দর্যকে করেছে অনন্য। লেকগুলোতে নৌকাভ্রমণের স্বাদ নিতে পারবেন, আবার ইচ্ছে করলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থাও আছে, যদিও সেজন্য একটি নির্দিষ্টঅংকের অর্থ গুনতে হবে আপনাকে।

এখানকার মাটির রং ধূসর, যাকে বলা হয় লালমাটি। শুকনো অবস্থায় এই মাটি ইটের মতো শক্ত হলেও পানিরসংস্পর্শে গা এলিয়ে দেয়। মাটির রং ধূসর হওয়ার কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। এই এলাকার মাটিতে অম্লত্বেরপরিমাণ অনেক বেশি, প্রায় ৫.৫ পিএইচ। এই বনটি পত্র পতনশীল বন হওয়ার কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেব্যাপারটি ঘটে তা হলো ঝরা পাতাগুলো মাটিতে পড়ে হিউমাস তৈরি করে ও মাটির ‍উর্বরতা বৃদ্ধি করে, ফলে খুবসহজেই এখানে জন্মায় নানাবিধ বৃক্ষ, লতাপাতা।

উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র

উদ্যানে শনাক্ত করা পাখিগুলোর মধ্যে  হিরগল, লালচিল, বক, দোয়েল, হটটিটি, মাছরাঙা, কুরা ঈগল, হাড়ি চাচা, বেনেবৌ, বুলবুল, নীলকন্ঠ, কাক, শালিক, চড়ুই, পেঁচা, টিয়া, মৌটুসী, পানকৌড়ি, মোহনচূড়া অন্যতম। নির্জন বনের মধ্যেহাঁটার সময় নানারকম পাখির কিচির-মিচির ডাকে পাওয়া যায় অপার্থিব অনুভূতির স্বাদ।

এই উদ্যানের মূল বৃক্ষ শাল হলেও এখানে শনাক্ত করা হয়েছে ৫২টি পরিবার ও ১৪৭টি গোত্রের ৩৫৬ প্রজাতিরউদ্ভিদ।

এর মধ্যে জিগা, অর্জুন, আলই, মেহগনি, আকাশমনি, কড়ই, কাঠাল, আমলকি, হরিতকি, বহেরা ইত্যাদি বেশিপরিমাণে লক্ষ্য করা যায়।

বর্তমানের শালগাছগুলো রোপন করা হয়নি। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে পূর্বের গাছগুলোর কপিচ থেকে উৎপন্ন।বর্তমানে নতুন করে শালগাছ রোপন না হওয়ার পেছনে রয়েছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি।

 শাল বা গজারিকে তারা কম উৎপাদনশীল বিবেচনা করে এখানে ইউক্যালিপটাস ও এই ধরনের দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষরোপনে অর্থায়ন করে আসছে।

কালের বিবর্তনে নানারকম প্রতিকূলতা আর অযত্ন-অবহেলায় জাতীয় উদ্যানের  বৈচিত্র, রং-রুপ ধীরে ধীরে ফিকেহয়ে আসছে।

তবে সাম্প্রতিককালে বনবিভাগ হারানো ঐতিহ্য ফিরে আনতে নানাবিধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিততথ্য অনুযায়ী, উদ্যানের বেদখল হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানারকম বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করাহচ্ছে ও উদ্যানের বিভিন্ন জায়গায় বট, তমাল, আগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ রোপন করে বনেরপরিবেশ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তা যে প্রয়োজনীতার তুলনায় নিতান্তই সামান্য তা এই উদ্যান ভ্রমণেগেলেই টের পাওয়া যায়।

পর্যটন সুবিধা :–

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা ধরনের উদ্যেগ নানা সময়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্যানেরভেতর রয়েছে বেশ কয়েকটি কটেজ ও বিশ্রামাগার। কটেজগুলোর নামও কিন্তু বাহারী। যেমন- শ্রান্তি, শাপলা,জেসমিন, চম্পা, মাধবী, জুই, চামেলী ইত্যাদি। রয়েছে ত্রিশটিরও বেশি পিকনিক স্পট। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,প্রত্যেক বছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ পর্যটক আসেন উদ্যানটিতে।

বনভোজনের জন্য পিকনিক স্পটগুলো ভাড়া নিতে রয়েছে নানারকম ট্যারিফ। কটেজগুলো ভাড়া নিতেও বিভিন্নধরনের ট্যারিফ রয়েছে।

তবে মনে রাখার বিষয় হচ্ছে, এখানে রাত্রি যাপনের অনুমতি প্রদান করা হয় না। তবে থাকার জন্য উদ্যানের সামান্যদূরত্বের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন চমৎকার মানের হোটেল কিংবা রিসোর্ট অাছে। আছে সাধারণমানের অসংখ্য হোটেলও।

আর যেকোনো কটেজ কিংবা পিকনিক স্পট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বনবিভাগের মহাখালী কার্যালয় থেকে আগাম বুকিংকরতে হয়। তবে উদ্যানের সামান্য দূরেই অবস্থিত জাতীয় উদ্যান, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কার্যালয় থেকেও নির্ধারিত ফিজমা দিয়ে বুকিং নেওয়া যায়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্যানের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে

  • মিনি চিড়িয়াখানা,
  • সুউচ্চ পরিদর্শন টাওয়ার,
  • প্রজাপতি বাগান, কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র ও
  • শিশুপার্ক

সহ নানা কৃত্রিম স্থাপনা। তবে সৌন্দর্যের সাথে কদর্য দিকগুলোও ভুলে যাওয়ার নয়। বিভিন্ন রকম অপরাধমূলককর্মকান্ডের জন্য গহীন জঙ্গলে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করে থাকে স্বয়ং উদ্যান কর্তৃপক্ষ নিজেই। কাজেইঘুরতে গেলে সতর্ক থাকার প্রয়োজন আছে বৈকি।

প্রতিবছর প্রায় ১৫,০০,০০০ দেশী-বিদেশী পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।

বিঃ দ্রঃ অবশ্যই মনে রাখবেন 

  1.  ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে।
  2.  ভ্রমণের সময়ে উদ্যানের ভেতরে মাইক, কিংবা উচ্চ শব্দ তৈরি করা কোনো যন্ত্র বাজানো                       নিষেধ।
  3.  এছাড়া বন্যপ্রাণীরা বিরক্ত হয় এমন কোনো আচরণ করাও নিষেধ।
  1.  বনের ভেতরে পাখি শিকার কিংবা লেকে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ।
  1.  বনের ভেতরে কিছু এলাকা বেশ নির্জন। এসব যায়গায় যাওয়া বিপজ্জনক।

ছুটি কিংবা শহুরে কর্মব্যস্ততার যান্ত্রিক জীবনের মধ্যে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে কাটাতে পারেন দু’দন্ড প্রশান্তিময়সময়। হারিয়ে যেতে পারেন পাখিদের মনোলোভা সুরে, কিংবা হৃদয়-কাড়া শালবনের মোহনীয় রুপের মূর্ছনায়।

সময় নিয়ে ঘুরে আসুন  এই সুন্দর ও উপভোগ্য জায়গাটি থেকে। শিশুদের সঙ্গে বড়দেরও ভালো লাগবে এইআয়োজন।

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল জঙ্গলে অ্যাডভেঞ্চারাস ভ্রমণ ও কিছু পরামর্শ

বন-জঙ্গল বেশ রহস্যময় জায়গা। সেই প্রাচীনকাল থেকে জঙ্গল মানুষকে অপার এক রহস্যের হাতছানি দিয়ে আহবান জানিয়ে আসছে। অনেক পর্যটকই জঙ্গলে ভ্রমণ করতেও বেশ পছন্দ করে থাকেন। আর অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা পুরোপুরি জঙ্গলের অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য বেশ কিছু রাত সেখানেই কাটান।

প্রকৃতির সাথে নিরবচ্ছিন্ন কিছুটা সময় কাটানোর জন্য জঙ্গল ভ্রমণ এর কোন বিকল্প নেই। তবে জঙ্গল তুলনামূলক একটু বিপদজনক বিভিন্ন হিংস্র প্রাণী-পতঙ্গের জন্য। এজন্য কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত। চলুন জেনে নেয়া যাক জঙ্গল ভ্রমণের কিছু টিপস সম্পর্কে।

আদ্রতাময় আবহাওয়া

জঙ্গলে আদ্রতা বেশি হওয়ার এখানে আপনি প্রচুর ঘাম অনুভব করবেন। তাই সবসময় শুকনা কাপড় বহন এবং পরিধান করবেন। যেসব কাপড় তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় অবশ্যই সেগুলিকে প্রাধান্য দিবেন। এছাড়াও জঙ্গলে যখন তখন বৃষ্টি হয়। ফিটিংস জামা এবং লম্বা ক্লোজড ট্রাউজার পরিধান করবেন। মশার কামড় থেকে যতটা সম্ভব নিস্তার পাবেন এতে।

জঙ্গল ভ্রমণ টিপস

লোকাল গাইড ভাড়া করুন

আপনি যতই সাহসী হোন না কেন, লোকাল কোন গাইড ভাড়া করতে কখনোই ভুলবেন না। যে কোন ধরনের বিপদ আসতেই পারে কিংবা পথ হারাতে পারেন। সেসব ক্ষেত্রে একজন গাইড সাথে থাকলে আপনি বেশ নিশ্চিন্ত থাকবেন।

নীরব থাকুন

জঙ্গলে যতটা সম্ভব নীরবতা বজায় রাখুন। এতে আপনার নিজের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে। অহেতুক আওয়াজ করে বন্য প্রাণীদের বিরক্ত করবেন না এবং বিপদ ডেকে নিয়ে আসবেন না।

ফার্স্ট এইড, ভ্যাকসিন এবং পতঙ্গ নাশক ক্রিম-লোশন সঙ্গে রাখা

ফার্স্ট এইডের পাশাপাশি বিভিন্ন পতঙ্গ নাশক ক্রিম-লোশন বা স্প্রে সঙ্গে রাখুন। জঙ্গল ভ্রমণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ এবং ভ্যাকসিন সঙ্গে রাখুন। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

জঙ্গল ভ্রমণ টিপস

সতর্কতা যন্ত্র সঙ্গেই রাখুন

গ্রুপ কিংবা গাইড থেকে আপনি বিচ্ছিন্ন হতেই পারেন। এত বড় জঙ্গলে খুঁজে বেড়ানো কিন্তু সহজ কোনো কাজ না। তাই সতর্কতা হিসেবে বাঁশি বা কোন যন্ত্র সাথে রাখতে পারেন। ফলে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন সহজেই সিগনাল দিতে পারবেন।

প্যাকিং

জঙ্গল ভ্রমণে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করবে আপনি সাথে কি নিচ্ছেন। অনাবশ্যকীয় জিনিস নিয়ে ব্যাগ ভারী করার কোন মানেই হয় না। অবশ্যই অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র নিয়ে প্যাক করুন আর জঙ্গল ভ্রমণ উপভোগ করুন।

কালার

আপনার পরিধেয় বস্ত্র, ব্যাগ এবং সবকিছুই লাইট কালার নেয়ার চেষ্টা করুন। বেশী রঙ্গিন কিছু দূর থেকে হিংস্র প্রাণী কিংবা ক্ষতিকর পতঙ্গকে আকৃষ্ট করতে পারে। তাই মার্জিত এবং জঙ্গলের উপযোগী রঙের সমন্বয়ে সব কিছু ব্যবহার করুন।

খাবার

যতটা সম্ভব পানি বেশি করে পান করবেন। সুপেয় পানি সাথেই রাখুন সবসময়। শুকনা খাবার সাথে রাখুন। এছাড়াও সুযোগ পেলে বন থেকে আহরিত নিরাপদ খাবার গ্রহণ করুন।

জঙ্গল ভ্রমণ টিপস

টর্চ এবং চাকু

টর্চ সঙ্গে রাখুন। যদি সম্ভব হয় হেড টর্চ ব্যবহার করুন। এটি আপনার জঙ্গলে ভ্রমণকে আরও সহজ করে তুলবে। এছাড়াও চাকু রাখবেন সবসময়েই। ঝোপ-ঝাড় এড়িয়ে পথ চলতে এটি আপনাকে সাহায্য করবে। এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন দরকারে আপনার চাকুর প্রয়োজন হবেই।

যথা সম্ভব নিরাপত্তা এবং সতর্কতা বজায় রেখে জঙ্গলে আপনার সময়টি ভালোভাবেই উপভোগ করতে পারবেন। জঙ্গল ভ্রমণ কখনোই মিস করা উচিত নয়। প্রকৃতিকে সবচেয়ে কাছে থেকে দেখার অন্যতম মাধ্যম এই জঙ্গলে ভ্রমণ। তাই সুযোগ পেলে জঙ্গলে ভ্রমণ করে আসতেই পারেন।

গিজার খুফুর পিরামিড : মানুষের তৈরি নাকি এলিয়েনদের?

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল

ঐতিহাসিক এই নিদর্শন হাজার বছরের ঐতিহ্য ও রহস্যেঘেরা

মিশরীয় সভ্যতা পৃথিবীর আদি সভ্যতাগুলোর একটি। নীলনদের তীরে গড়ে ওঠে এই সভ্যতা। পৃথিবীর সপ্তাশ্চার্যের একটি হচ্ছে মিশরীয় পিরামিড। মিশরের গিজা শহরে সবচেয়ে বেশি পিরামিড আছে। আদিকাল থেকেই এই পিরামিডকে ঘিরে রয়েছে হাজারো রহস্য।

পিরামিডের উৎপত্তি হয় ফারাও রাজাদের শাসনামলে। নির্মাণের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল, সেকালের রাজা এবং রাজপত্নীদের মরদেহ পিরামিডে সংরক্ষণ করা। মৃতদেহকে সংরক্ষণ করা হত মমি বানিয়ে। পিরামিডকে সমাধিসৌধ হিসেবে ব্যবহার করা হত। পিরামিডগুলো কয়েক কক্ষবিশিষ্ট করা হত।

মৃত্যুর পর পরকালে বিশ্বাসী ছিলেন ফারাওরা। তাদের ধারণা ছিল, দেহ মরে কিন্তু আত্মা জীবিত থাকে। তাই পরবর্তীকালে আত্মাকে ভাল রাখার জন্য মরদেহের সাথে প্রচুর পরিমাণে ধন- দৌলত, খাবার দাবার দিয়ে দেয়া হত পিরামিডের ভেতরে। অবাক করা কাহিনী হচ্ছে, মৃত্যুর পর সেবার অভাব যেন না হয়, তাই অসংখ্য দাসদাসীদের হত্যা করে রাজার মরদেহের সাথে দিয়ে দেয়া হত।

great-pyramid-giza-02

গিজা নগরীতে অবস্থিত খুফুর পিরামিড মিশরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় পিরামিড। এর অপর নাম গিজার গ্রেট পিরামিড। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্মাণ করা হয় খুফুর পিরামিড। এর নির্মাণ কাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬০ থেকে ২৫৪০। এর উচ্চতা ৪৫৫ ফুট। তিন কক্ষবিশিষ্ট পিরামিড ছিল বলে ধারণা করা হয়। তিন কক্ষের সবচেয়ে নিচে ছিল বেসমেন্ট। এর উপরে রাজা এবং রানীর সমাধি কক্ষ ছিল।

দূর-দূরান্ত থেকে ২৩ লাখ লাইমস্টোন পাথর এনে তৈরি করা হয়েছে এই পিরামিড। জলপথে তুরা অঞ্চল থেকে এই পাথর আনা হত।

Flickr_-_Gaspa_-_Giza,_piramide_di_Cheope

পিরামিডের ভেতরে ঢোকার জন্য দর্শনার্থীদের জন্য পথ রয়েছে। বর্তমানে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় করে মিশরীয় পিরামিড দেখতে।

আপনি যদি ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন তাহলে একবার মিশর চলে যেতে পারেন। সেখানে এই পিরামিড অবশ্যই ঘুরে দেখবেন । কেননা এর বিস্ময়কর নির্মানশৈলিতে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল যুগে যুগে লেখনীর মাধ্যমে পাঠকদের ভ্রমণ করানো বই গুলো

বাস, ট্রেন অথবা বিমান, যে কোনো জায়গার ভ্রমণে বই দারুণ সঙ্গী। অজানার কথা জানাতে, নতুনের সাথে পরিচয় করাতে বইয়ের তুলনা হয় না। তবে, যারা ভ্রমণপ্রিয়, তাদের ভ্রমণের বইয়ের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। যে জায়গায় যাচ্ছে সেটি সম্পর্কে জানতে, অথবা যে কোনো অজানা জায়গার নতুন গল্প পড়তে তারা বেশ পছন্দ করেন।

যত নতুন জায়গা সম্পর্কে আপনি পড়বেন, তত তার সম্পর্কে আগ্রহ জন্মাবে। ভ্রমণ নিয়ে অবশ্যই অনেক বই আছে, তবে ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য কিছু ভ্রমণের বইয়ের পরামর্শ দিচ্ছি। হয়তো কাজে লাগতেও পারে।

দ্য অ্যালকেমিস্ট: পাওলো কোয়েলহো

দা আলকেমিস্ট

স্বপ্নে দেখা গুপ্তধন খোঁজার উদ্দেশ্যে একদম শূন্য হাতে বের হয়ে সে পথেই জীবনসঙ্গীর সন্ধান মিলে যায় এমন গল্প আদতে আমরা কেউ চাইলেই বিশ্বাস করতে চাইব না হয়তো।

ঠিক গল্পের মত শোনালেও, বইটি আসলে লেখা হয়েছে  আধ্যাত্মিক ও বাস্তব জীবনের উপলব্ধি নিয়ে। এই উপলব্ধিতে কোনো ভাবনা ভুল নয়, মিথ্যে নয়। বলছিলাম, ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহোর লেখা বিশ্বের অন্যতম বেস্ট সেলিং বই ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’।

১৯৮৮ সালে প্রথম ব্রাজিলে পর্তুগিজ ভাষায় প্রকাশিত হয়ে বেস্ট সেলিং এর তালিকায় না থাকলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকার মধ্যে স্থান করে নেয়। এখন পর্যন্ত ৬৭ ভাষায় অনূদিত হয়েছে বইটি। গল্পের মূল চরিত্র মেষপালক সান্তিয়াগো। তার প্রতিদিনের জীবনের গল্পের সাথে বাস্তব জীবন মিলে যায় অনেকখানি।

এই বইয়ে জীবনদর্শন উঠে এসেছে খুব সুন্দরভাবে। ‘যে কোনো স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বড় বাধা ভয়। স্বপ্ন পূরণের পথে বাধাগুলোও হয়তো ততটা বড় নয়, যতটা বড় সমস্যা ভয়।’ ‘সত্য যত কঠিন আর খারাপ হোক না কেন, তাকে গ্রহণ করা শিখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, যদি কোনো কিছু সত্যি হয়, তবে তা কখনোই অমলিন হবে না, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে না।’ গতানুগতিকতা থেকে বিরতি নিতে হবে। জীবনের গতানুতিক ধারা থেকে বের হতে হবে।’ এই বই নিজের ভেতর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের অনুধাবন তৈরি করে।

অন দ্য রোড : জ্যাক কেওয়াক

পাওলো কোয়েলহো

‘অন দ্য রোড’ পরিচিত বিট জেনারেশনের অন্যতম প্রামাণ্য উপন্যাস হিসেবে। ১৯৫১ সালের এপ্রিল মাসে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে এই এক লাখ পঁচিশ হাজার শব্দের উপন্যাসটি শেষ করেন ২৯-বছর-বয়সী জ্যাক কেওয়াক। ১২০ ফুট লম্বা একটি ট্রেসিং পেপারের রোলকে সাইজ করে কেটে তার ওপর টাইপ করতে শুরু করেন কেওয়াক, পরে পাতাগুলো আবার জোড়া দিয়ে দেন।  ভাবগ্রস্তের মতো টাইপ করে গেছেন, মার্জিন, অনুচ্ছেদ, অধ্যায়, কিছুই রাখেননি। সঙ্গে ছিল শুধু কাপের পর কাঁপ কফি।

বলা হয়, একজন বন্ধু এবং যাত্রাসঙ্গী নিল কাসাডি’র একটি চিঠি থেকেই নাকি কেওয়াকের বিশ্ববিখ্যাত এই উপন্যাসের সূত্রপাত। দুজনের ভবঘুরে বাউন্ডুলেপনার দিনগুলো তিনি ধরে রেখেছেন উপন্যাসের পাতায়।

ই বইতে ডিন মোরিয়ার্তি ও স্যাল প্যারাডাইস চরিত্র দুটির মধ্যে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন ভ্রমণ ও রোমাঞ্চপ্রিয়তার বৈশিষ্ট্য। বইতে এই দুই চরিত্র স্যান ফ্রান্সিসকোয় অন্ধকারের উন্মোচন এবং বিস্মৃত স্থান আবিষ্কার, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অভিবাসীদের একটি শিবিরের সন্ধান পায়। এই বইতে যুদ্ধপরবর্তী ভিন্ন এক প্রজন্মের জীবনধারার স্পন্দন প্রতিফলিত হয়েছে বলে। ১৯৫৭ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। টাইম ম্যাগাজিনের ১৯২৩-২০০৫ সাল পর্যন্ত সেরা ১০০ ইংরেজি ভাষার বইয়ের তালিকায় স্থান ছিল এই বইয়ের।

অন দ্য রোড, জ্যাক কেওয়াক

দ্য সান অলসো রাইজেস : আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

দ্য সান অলসো রাইজেস, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

প্যারিস থেকে পাম্পলোনার সান ফার্মিন উৎসবে ষাঁড়ের দৌড় ও ষাঁড়ের যুদ্ধ দেখতে যাওয়া একদল মার্কিন ও ব্রিটিশ প্রবাসীদের গল্প নিয়ে রচিত বইয়ের নাম ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’। মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের লেখা বইটি প্রকাশিত হবার পর এটি নিয়ে মিশ্র পর্যালোচনা আসে। উপন্যাসটি প্রসিদ্ধ এর রচনাশৈলীর জন্য।

১৯২৫ সালে হেমিংওয়ের স্পেন ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করানো হয় এই উপন্যাসের প্লট। ১৯২৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। হেমিংওয়ের জীবনকারক জেফ্রি মায়েরসের মতে, ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ বইটি হেমিংওয়ের সেরা লেখাগুলোর একটি। আর হেমিংওয়ের সাহিত্য নিয়ে গবেষণাকারী লিন্ডা ওয়াগনার-মার্টিন এই বইটিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস’ বলে মনে করেন।

ইনটু দ্য ওয়াইল্ড : জন ক্রাকর

ইনটু দ্য ওয়াইল্ড, জন ক্রাকর, বই (ডানে), চলচ্চিত্র (বামে)

১৯৯২ সালের এপ্রিল মাস। আমেরিকার ইস্ট কোস্টের সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে ক্রিস্টোফার জনসন ম্যাক্যান্ডেলস গ্রাজুয়েশনের পর হাতে যে টাকা-পয়সা ছিল সব দাতব্য সংস্থায় দান করে দেয়। নিজের গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে, আইডেন্টিটি কার্ড, ক্রেডিট-ডেবিট সব ধরনের কার্ড পুড়িয়ে ফেলে, এমনকি নিজের সব জামাকাপড়ও ফেলে সম্পূর্ণ নতুন একজন মানুষ হিসেবে হাঁটা শুরু করে উত্তর আমেরিকার পথে পথে।

পরিবার জানতেন না এ গল্প। ছেলের মৃত্যুর পর আলাস্কার এক জনমানবহীন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাসে ক্রিস্টোফারের মৃতদেহ পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে অসংখ্য মানুষের সাহচর্যে এসেছে সে, মুগ্ধ করেছে সবাইকে। কারো ভালবাসার বন্ধনে আটকে না থেকে নিজের জীবনকে উপভোগ করেছে নিজের মত করে।

ট্রাভেলস উইথ চার্লি, জন স্টেইনবেক

ক্রিস্টোফারের রহস্যময় সে ভ্রমণ জীবনের গল্প নিয়ে লিখেছেন জন ক্রাকর। তার সহকর্মী ছিলেন ক্রিস্টোফার। লেখক বইটি লিখতে ছুটে বেড়িয়েছেন গোটা উত্তর আমেরিকাজুড়ে। নিখুঁতভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন ক্রিস কীভাবে চারমাস কাটিয়েছে। চমৎকার ভাষাসহ অনেকগুলো ম্যাপ দিয়ে পাঠকের চোখের সামনে ক্রিসের ভ্রমণ করা জায়গাগুলো চিহ্নিত করেছেন লেখক।

এই বইটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। ২০০৭ সালে এই বইকে উপজীব্য করে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ সেরা বিক্রিত বইগুলোর একটি। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ১৪টি ভাষায়, সংস্করণ রয়েছে ১৭৩টি।

ট্রাভেলস উইথ চার্লি : জন স্টেইনবেক

১৯৬০ সালে পোষা কুকুর চার্লিকে নিয়ে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখিত গল্প ‘ট্রাভেলস উইথ চার্লি’। চার্লিকে সঙ্গে নিয়ে পিকআপ ট্রাক আর ঘোড়ার পিঠে চেপে আমেরিকার সড়কে লেখকের ১০ হাজারেরও বেশি মাইল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে বইটিতে। স্টেইনবেক বলেছিলেন, ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে নিজের দেশকে দেখার মানসে তিনি চার্লিকে নিয়ে ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। বইটিতে তত্কালীন ‘নতুন আমেরিকা’ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশও করেছিলেন লেখক। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় বইটি।

ওয়েবসাইটেই হোক বিমানের টিকিট বুকিং

প্রযুক্তির এই সময়ে ভোগান্তির অবসান করতে ঘরে বসেই হচ্ছে নানা ধরনের কাজ। সেই সুবাদে গড়ে উঠেছে একাধিক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি। যার মাঝে অনেকগুলোতেই মিলছে বিমানের টিকিট বুকিং সুবিধা। সাথে যুক্ত আছে অনলাইনেই পেমেন্ট করার যাবতীয় ব্যবস্থা। ঘরে বসে বিমানের টিকিট বুকিং-এর বিশ্বস্ত কিছু ওয়েবসাইট দেখে নিতে পারেন এক নজরে।

ফ্লাইট এক্সপার্ট

কোভিড-১৯ সংক্রমণের এই সময়ে জনসেবায় মানুষের পাশে থাকার স্বীকৃতি হিসেবে eCMA সম্মাননা প্রাপ্ত অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট। বিমানের টিকিট বুকিং করতে দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত এই ওয়েবসাইট থেকে ৩ ভাবে টিকিট বুকিং করা সম্ভব। আপনার নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়া, ফিরতি টিকিট ছাড়াও কয়েক রুটে একসাথে টিকিট বুক করতে চাইলে সেই সুবিধাও রয়েছে। আছে হোটেল বুকিং সুবিধা। আর যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য রয়েছে ওয়েবসাইটের নিজস্ব শপ।

অনন্য গ্রাহক সেবার নিদর্শন হিসেবে দেশসেরা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির তকমাও পেয়েছে ফ্লাইট এক্সপার্ট। মিলেছে এপিএসি বিজনেস অ্যাওয়ার্ড – ২০২০। ওয়েবসাইটের মূল পেইজেই বেশ কিছু জনপ্রিয় এবং প্রচলিত গন্তব্য নিয়ে ধারণা দেয়া রয়েছে। যা আপনাকে ভ্রমণের খুঁটিনাটি বুঝে নিতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।

ওয়েবসাইট : https://www.flightexpert.com/
ফোন : +8809617111888
সময়সূচী : শনি থেকে বৃহস্পতি সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা। শুক্রবার এবং অন্যান্য ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা।

অ্যামি বিডি

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যামি বাংলাদেশের প্রথম দিকের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি। নিজস্ব সাপোর্ট টিমের মাধ্যমে সপ্তাহের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা নিজেদের গ্রাহক সেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অ্যামি বিডি। নিজস্ব ওয়েব পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপ নিশ্চিত করে গ্রাহকের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। টিকিট বুকিং এর পর থেকেই ইমেইল এবং এসএমএস এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আপডেট দেয়ার ক্ষেত্রেও আপোষহীন অ্যামি বিডি। দেশি বিদেশী ক্রেডিট কার্ড ছাড়াও যুক্ত আছে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা।

বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট মূল্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার সুবিধা, ফ্লাইট শিডিউল চেকিং, এয়ারলাইন্স নিউজ এবং রিয়েল টাইম ফ্লাইট চেকের মত অসাধারণ সব সুবিধাও গ্রাহকদের জন্য নিশ্চিত করে অ্যামি বিডি।

ওয়েবসাইট : https://www.amybd.com/nsite/index?v=987654327
ফোন : 096 7878 5656
ঠিকানা : সিএন্ডএফ টাওয়ার (দশম তলা) ১২২২ শেখ মুজিব রোড৷ আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।

ফ্লাই টিকিট

আইএটিএ স্বীকৃত টিকেট বুকিং ওয়েবসাইট এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইটিকেট ডট কম বিমানের টিকিট বুকিং-এর অনন্য এক প্লাটফর্ম। নিজস্ব ট্যুর প্ল্যানের আওতায় গ্রাহকের বাজেটের মাঝেই সর্বোচ্চ সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়েই যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটিকিট ডট কম। বিমানের টিকিটের বাইরে দেশ ও দেশের বাইরে হোটেল বুকিং করার সুবিধাও রয়েছে এই ওয়েবসাইটে। সেই সাথে দেশের মাঝে বাসের টিকিটও বুকিং করা সম্ভব ফ্লাইটিকিটের মাধ্যমে। চাইলেই বিজনেস এবং হলিডে ভেদে আলাদাভাবে টিকিট বুকিং করা যাবে। সেই সাথে ২৪ ঘণ্টাই পাশে রয়েছে নিজস্ব সাপোর্ট টিম।

পেমেন্টের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করেছে ফ্লাইটিকিট ডট কম। দেশের যেকোনো ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং, বেসরকারি ব্যাংক এবং ডেবিট কার্ডে মূল্য পরিশোধ করা যেতে পারে। ওয়েবসাইটেই মিলবে বিভিন্ন গন্তব্য সম্পর্কিত তথ্য।

ওয়েবসাইট : https://flyticket.com.bd/
ফোন : +8801777096862

শেয়ারট্রিপ

২০১৯ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি শেয়ারট্রিপ। সেই সাথে মনোনয়ন পেয়েছে চলতি বছরের জন্যেও। এ থেকে সহজেই আঁচ করা যায় ওয়েবসাইটের গুণাগুণ সম্পর্কে। এছাড়াও সম্মাননা জুটেছে দেশের মাটিতেও। দারুণ সব প্যাকেজের পাশাপাশি গ্রাহকদের বিমানের টিকেটের বুকিং-এর ক্ষেত্রেও দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেয়ারট্রিপ। ওয়েবসাইটের মূল পাতাতেই আকর্ষণীয় সব ট্যুর প্যাকেজ এবং জনপ্রিয় কিছু গন্তব্য নিয়ে আলাদা ফিচার সাজানো। রয়েছে ভ্রমণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের নিজস্ব সাজেশন। সেইসাথে ওয়েবসাইটের ট্রিপকয়েন ব্যবস্থা আপনার বাজেট সাশ্রয়েও ভূমিকা রাখবে।

শেয়ারট্রিপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে আসা যাওয়ার তো টিকিট বটেই, বুক করা যাবে একাধারে বেশ কিছু ফ্লাইট। মাল্টি বুকিং-এর মাধ্যমে চাইলেই ঘুরে আসা যাবে বেশ কয়েকটি গন্তব্যে। সেই সাথে পাওয়া যাবে হোটেল বুকিং করার সুবিধাও। হলিডে সেকশনে নির্দিষ্ট শহর বাছাই করলে মিলবে ওয়েবসাইটের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা অসাধারণ সব ট্যুর প্যাকেজ।

ওয়েবসাইট : https://sharetrip.net/
ফোন : +8809617617617
ঠিকানা : বাড়ি ৪৫, রোড ১৩/সি, ব্লক – ই, বনানী, ঢাকা।

গো জায়ান

শুধু টিকিট বুকিং নয়, ভিসা এবং লোন নেয়ার সুবিধাসহ নিজেদের সাজিয়েছে গো জায়ান ডট কম। আর সব ওয়েবসাইটের মতই রয়েছে একাধিক ফ্লাইট বুকিং-এর সুবিধা। বুকিং করতে পারবেন বিভিন্ন হোটেলও। দেশ কিংবা দেশের বাইরে, গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন, গো জায়ানের মাধ্যমে খুঁজে পাবেন কাঙ্ক্ষিত এয়ারলাইন্সের টিকিট। এছাড়াও ট্রাভেল এজেন্সি সুবিধা নিয়েও নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে এই ওয়েবসাইট। চাইলেই দেশের যেকোনো প্রান্তেই বিমান সুবিধা নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন গো জায়ানের সাথে।

ওয়েবসাইট : https://www.gozayaan.com/
ফোন : +8809678332211

ইউএস বাংলা

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন সেবায় অন্যতম পরিচিত মুখ ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। তবে বিমান পরিবহনের বাইরেও টিকিট বুকিং সুবিধাও রয়েছে ইউএস বাংলার ওয়েবসাইটে। দেশ ও দেশের বাইরে ইউএস বাংলায় ভ্রমণ করতে চাইলে এখান থেকেই নিজের টিকিট বুকিং দিতে পারবেন।

রয়েছে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধাও। ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে নিজের সুবিধামত পেমেন্ট করতে পারবে গ্রাহক।

ওয়েবসাইট : https://usbair.com/
ফোন : +880 01777777800 থেকে 806

দেশের অনলাইন টিকিট বুকিং-এর ক্ষেত্রে অন্যতম বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট ট্রাভেলজুবিডি। ওয়ান ওয়ে, টু ওয়ে এবং মাল্টি রুটে বিমানের টিকিট বুকিং দেয়া সম্ভব এখান থেকে। বিমানের টিকেট ছাড়াও টুরিস্ট ভিসা, হোটেল বুকিং এবং হলিডে প্যাকেজ নিজেও গ্রাহক সেবা প্রদান করে ট্রাভেলজু বিডি। ২০০-এর অধিক সাব ট্রাভেল এজেন্ট নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ মানের সেবা। উন্নত সেবার মান নিশ্চিতে রয়েছে ২টি আইএটিএ মেম্বারশিপ। ভ্রমণের সাথে প্রযুক্তির উৎকর্ষ একীভূত করার উদ্দেশ্যেও প্রশংসনীয় কাজ করেছে ট্রাভেলজু বিডি।

ওয়েবসাইট : https://zooholiday.com/
ঠিকানা : হ্যাপি আর্কেড শপিং মল, ৩য় তলা, রোড – ৩, হোল্ডিং নং ৩, ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৫।
ফোন : +8801618181313

টিকিটশালা

এক ওয়েবসাইটে ভ্রমণের আদ্যোপান্ত সেরে নিতে চাইলে টিকেটশালা ডট কম অন্যতম সেরা বিকল্প। একমুখী, দ্বিমুখী কিংবা বহুমুখী টিকিট বুকিং তো রয়েছেই। সেই সাথে আছে হলিডে প্যাকেজ, হোটেল বুকিং সিস্টেম, নির্ধারিত জায়গায় ক্যাব বা গাড়ি বুকিং সুবিধা।

আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে টিকিটশালা নিজেই হাজির করবে উপযুক্ত তথ্যাদি। এছাড়াও টিকিটশালা ডট কম ওয়েবসাইটের মূল পাতায় পাবেন দারুণ সব ভ্রমণ গন্তব্যের খুঁটিনাটি।

ওয়েবসাইট : https://www.ticketshala.com/
ফোন : +8809666770066
ঠিকানা : লেভেল ৬, বাড়ি ২৩, রোড ৭ডি, উত্তরা, ঢাকা।