ভ্রমণ টিপস : বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের পূর্বে জেনে নিন কিছু আদব কায়দা

 বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3

ভ্রমণ সব সময়ই অসাধারণ অভিজ্ঞতার আধার। দারুণ ও মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, ব্যক্তিগত পরিবর্তন সবকিছুই পরিলক্ষিত হয় ভ্রমণের মাধ্যমে। ভ্রমণকারীর ভ্রমণে শুধু নিজের উপকার হয় তাই নয়, স্থানীয়রাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, সংস্কৃতির দেয়া-নেয়া হয়। ভ্রমণের এই তো আনন্দ!

তবে এই মুহূর্তে ট্যুরিজম খাতে বিভিন্ন পরিবর্তন আসছে। সব সময় এই পরিবর্তন আশাজনক হবে এমন নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যুরিজমগুলোতে জায়গা নির্বাচন, পরিবেশ নিয়ে নানা সময় অভিযোগ আসছে, চাপ বাড়ছে ভ্রমণ করতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে।

যতই সমস্যা তৈরি হোক, তাই বলে কি ভ্রমণকারীরা চুপচাপ বসে থাকবেন? মোটেও নয়! নিয়মিত ভ্রমণ করতে হলে, বিশ্বকে জানতে হলে, খরচ সীমার মধ্যে রাখতে হলে অবশ্যই তাকে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হবে। একজন বৈশ্বিক ভ্রমণকারীর জন্য এই ভ্রমণ পরামর্শ গুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মনে রাখুন নতুন জায়গায় আপনি মেহমান

যে দেশে ঘুরতে এসেছেন সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে, সেখানে আপনি অল্প কয়দিনের মেহমান মাত্র। সেই দেশের প্রতি, সেখানকার মানুষের প্রতি সব সময় সম্মান রাখতে হবে। আপনার কাজ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সাথে মিশে যেতে হবে। বদলে, আপনিও তাদের কাছ থেকে একই রকম ব্যবহার, শ্রদ্ধা পাবেন।

যথাযথ পোশাক

আপনি যেখানেই যান না কেন, সেখানে আপনার গায়ের রঙ এর চেয়ে পোশাক কথা বলবে দ্রুত। নতুন এলাকায় নতুন মানুষদের মত পোশাক পরলে তারা দ্রুত আপন ভাবতে পারে। পোশাকে যদি কিছুটা আরাম কমও লাগে তবু সেটা প্রকাশ না করাই উত্তম।

মনে রাখবেন, এটা তাদের দেশ, তাদের বাড়ি, আপনার নয়। স্থানীয় একটি পোশাক (হতে পারে সেটি শাড়ি, স্কার্ফ যে কোনও কিছু) আপনাকে সাহায্য করবে দ্রুত সবার সাথে মিশে যেতে। অপরিচিতদের সাথে কথা শুরু করার একটি মাধ্যমও হতে পারে পোশাক।

ট্রাভেল টিপস ভ্রমণ পরামর্শ - বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3

আগ্রহকে বাঁচিয়ে রাখুন

যখন ভ্রমণে যাবেন কখনোই কোনও কিছু নিয়ে আগ্রহ দেখাতে ভয় পাবেন না। প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যে শুধু আপনার জানার কৌতূহলকে তৃপ্ত করে তাই নয়, বরং আপনি যে জায়গাটি ঘুরে দেখছেন সেটি সম্পর্কে আরও নতুন নতুন জিনিস সামনে আনে, স্থানীয় মানুষের সাথে যোগাযোগের রাস্তা খুলে দেয়।

খুব সাধারণ কিছু কথা যেমন, খাবার, এলাকার বাজার, শিশুদের নাম-বয়স ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে এক সময় পরিবার, জীবন, দেশের রাজনীতিসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে জানা যায়।

সাবলীল আচরণ

হাসুন, নম্র থাকুন, আনন্দ প্রকাশ করুন-এই তিনটি সহজ উপায় আপনার ভ্রমণকে করে দেবে অনেক সহজ। একজন মানুষের হাসিতে তার মন কেমন, তিনি গম্ভীর নাকি রাগী বিষয়গুলো প্রকাশ পায়। প্রথম পরিচয়ে একজন অচেনা মানুষের কাছে এই বিষয়গুলোই আপনাকে সহজ করে তুলবে বিশেষ করে যখন আপনি সেখানকার ভাষা সম্পর্কে জানেন না।

আপনি যত জায়গাতেই যাচ্ছেন, অন্তত ৫০ শতাংশ এলাকার ভাষাই আপনার জানা নেই। তাই ভ্রমণের সাথে সাথে আচরণের এই বিষয়গুলোও আয়ত্ত করতে হবে।

কিছু শব্দ জেনে নেয়া

বিদেশি অনেক কঠিন শব্দ নিয়ে যখন আপনি ভাবনায় পড়েছেন, তখন সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেলে চেষ্টা করুন স্থানীয় অল্প কিছু শব্দ শিখে নিতে। হ্যালো, প্লিজ, থ্যাংক ইউ এগুলো কিছু নতুন শব্দ শিখে নিলেও হবে। এতে মানুষকে অভিবাদন জানানো, কথার ভাব প্রকাশ করা, খাবার অর্ডার দেয়ার মত ছোট ছোট কাজগুলো করা সহজ হবে।

স্থানীয় খাবার খান

স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে তাদের কাজে উৎসাহিত করুন। যখনই আপনি ভ্রমণ করতে যাবেন, সেখানের মানুষের যেন অর্থনৈতিক লাভ হয় সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে। এর মানে এই নয় যে বিদেশি ব্যবসাকে আপনি অনুৎসাহিত করছেন।

বিদেশি ব্যবসা যারা করছে তারা অন্য দেশের খাবার বা ঐতিহ্য হয়ত নিজ দেশে এনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু স্থানীয়রা সর্বদাই নিজেদের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তাদের এই চেষ্টাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানানো উচিত।

ট্রাভেল টিপস - ভ্রমণ পরামর্শ- বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3

স্থানীয়দের ছবি তোলার আগে অনুমতি নেয়া

কথাটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। হুটহাট ছবি তুললে হয়তো শুধু ছবিটাই তোলা হবে, পরিচিত হওয়া হবে না। যখন একজন স্থানীয় ব্যক্তির ছবি অনুমতি নিয়ে তুলবেন তখন তার সাথে কথা বলার একটি রাস্তা তৈরি হবে।

ছবি তুলতে চান সেটি যদি ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে না পারেন, চেষ্টা করুন ইশারায় বোঝাতে। হয়ত এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এই ছবি আর সময়টুকু একটা দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে আপনার জীবনে।

এক জায়গাতেই সব অর্থ খরচ নয়

এক দোকানে বসেই আপনি সব খাবার খেলেন, জিনিস কিনলেন এতে কিন্তু সেই সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হলো না। ঘুরে দেখুন পুরো এলাকা, প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় খাবার খান, জিনিস কেনার সময় ভিন্ন ভিন্ন দোকানে যান। এতে পরিচয়টাও বাড়বে, অর্থটাও এক জায়গায় খরচ হবে না।

ভাল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন

শুধু নিজ দেশে নয়, পৃথিবীর কোনও দেশে গিয়েই আবর্জনা ছুঁড়ে ফেলা উচিত নয়। বরং যদি সম্ভব হয়, আশেপাশে নোংরা বা আবর্জনা চোখে পড়লে সেটি পরিষ্কার করে ফেলুন। ভাবতে পারেন, এটা আপনার দেশ নয়, আপনার এলাকা নয়। আপনি কেন পরিষ্কার করবেন?

মজার বিষয় হচ্ছে, স্থানীয়রা ট্যুরিস্টদের অনেক বেশি লক্ষ্য করে। হয়তো নিজেদের ভেতর সচেতনতা তৈরি হয় না, কিন্তু ট্যুরিস্টদের দেখলে তারাও এগিয়ে আসে পরিচ্ছন্নতার কাজে। আর নতুন পরিচয় তৈরির এটাও একটা সুযোগ।

যতটা সম্ভব হাঁটুন, অথবা সাইকেল ভাড়া করুন

যত হাঁটবেন তত দেখবেন, জানবেন। তবে হাঁটার বদলে সাইকেলটাও মন্দ না। ঘুরতে ঘুরতে কোথাও থেমে যাওয়া, হুটহাট কোনও দোকানে থেমে খাবার খাওয়া, মানুষের সাথে গল্প করতে করতে হয়তো নতুন কোনও এলাকাতেই রাত কাটিয়ে দেওয়া- দারুণ এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতা অবশ্যই। গাড়ি অথবা বাসে সব সময় এই অভিজ্ঞতাগুলো পাওয়া যায় না। মানুষ এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্যতা পেতে এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী আছে?

 বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3 ভ্রমণ পরামর্শ

স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করা

স্থানীয় যে যানবাহনগুলো আছে সেগুলোতে ভ্রমণের হয়ত অভ্যাস আপনার নেই। কিন্তু যদি চড়তে পারেন তবে নতুন অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে সহজেই। নতুন জায়গা, ভাষা নিয়ে ভাব প্রকাশ করা অবশ্যই কিছুটা সমস্যার হতে পারে, কিন্তু চেষ্টাটা করতে হবে আপনার নিজের জন্যই।

একটি বাসে উঠলে অনেক ধরনের মানুষ দেখা যায়, স্থানীয়দের সাথে কথা হয়, তাদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানা হয়, এলাকার দোকান, খাবার নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।

 

ট্যুরের জন্য পকেট মানি যেভাবে সঞ্চয় করবেন

matir bank

নিয়মিত অল্প অল্প সঞ্চয় ট্যুরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী

ঘুরতে যেতে আমরা কে না ভালোবাসি? কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু প্রশান্তির খোঁজে আমরা কখনো ছুটে চলি সমুদ্রের পাড়ে, আবার কখনো পাহাড়ের বুকে। প্রকৃতির সাথে মিশে ভুলে যেতে চাই সকল ক্লান্তি। কিন্তু কোথায় যাওয়ার আগে প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়ায় অপর্যাপ্ত অর্থ। অর্থের অভাবেই যাওয়া হয়ে ওঠে না মনের মত জায়গায়। জমাট বেঁধে থাকে ক্লান্তি।

যারা ঘুরতে ভালবাসেন, কিন্তু টাকা জমাতে পারছেন না, তাদের জন্য পকেট মানি সঞ্চয় করার কিছু নিনজা টেকনিক নিয়েই এই আর্টিকেলটি।

 মনস্থির

টাকা সঞ্চয়ের প্রধান পদক্ষেপ হচ্ছে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। প্রতিদিনের খরচ থেকে অল্প পরিমাণে টাকা সঞ্চয় করতে পারেন। তাই এসব ত্যাগ স্বীকার করার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে।

 মাসিক খরচের তালিকা তৈরি করা

মাসের শুরুতে কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে তার তালিকা তৈরি করে রাখতে হবে। তাহলে মাসে কত টাকা খরচ হচ্ছে এর হিসেব থাকবে। খরচের হিসাব জানা থাকলে সঞ্চয়ে সুবিধা হয়।

 মাটির ব্যাংক ব্যবহার

একটি মাটির ব্যাংক কিনুন। ছোট-খাটো যেই জিনিস গুলো আপনার প্রয়োজন কম  কিংবা না কিনলেও চলে প্রতিদিনের এমন খরচের টাকা  আপনি সেই মাটির ব্যাংকে ফেলতে পারেন।

ধরুন আপনি প্রতিদিন ২০ টাকার রিকশা ভাড়া, ১০ টাকার চা, ২০ টাকার চিপস খাওয়ার পরিবর্তে যদি প্রতিদিন সেই টাকাটা ব্যাংকে ফেলেন তবে ৫০ টাকা করেই হলে বছর শেষে আপনার ব্যাংকে অনেক টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে।

 কফিশপ বা রেস্টুরেন্টে আড্ডা পরিহার

বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য অনেকেই চলে যাই কোন কফিশপে বা রেস্টুরেন্টে। ইদানীং আমাদের আয়ের বা পকেট মানির একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে সেখানে।

বর্তমানে বড় কফিশপগুলোতে এক কাপ কফি খেলেই ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। আপনি চাইলে কফি না খেয়ে সে টাকাটি সঞ্চয় করতে পারেন। তবে এটি আপনার চাহিদার ওপর নির্ভর করবে। টাকা ব্যয় করার আগে চিন্তা করুন, আপনি কফি খেতে চান, নাকি সেই টাকা দিয়ে কোনো নতুন জায়গায় ঘুরতে যেতে চান। যদি আপনার ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়ে থাকে তবে টাকাটি সঞ্চয় করুন।

বাইরের খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি খাবার খেতে পারেন। যদি অনেক খেতেই ইচ্ছা করে বাইরে তবে মাসে একদিন খান।

 দামি, শৌখিন জিনিস পরিহার 

দামি মোবাইল, দামি জামার পেছনে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় না করে, তুলনামূলক মানসম্মত স্বল্প মূল্যের জিনিস ব্যবহার করুন।

 সাইকেল ব্যবহার

প্রতিদিন গাড়ি ভাড়ায় আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহার করলে, অর্থ ও সময় সঞ্চয়ের পাশাপাশি দেহও সুস্থ থাকবে।

 হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন 

প্রতিদিনের চলাচলে হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে আপনার অনেক রিক্সা ভাড়া সঞ্চয় হবে। তবে আপনার শারীরিক অসুস্থতা থাকলে ভিন্ন কথা।

 ইম্পালস বাই পরিহার

কোনো কিছু দেখে ভাল লাগল। এর প্রয়োজনীয়তা, দাম বিচার না করেই হুট করে কিনে ফেলাকে বলে ইম্পালস বাই। এরকম দেখে কিউট লাগছে কিন্তু আপনার কোন কাজের না এমন জিনিস কেনার আগে কয়েকবার ভাবুন।

অর্থনীতির ভাষায়, আপনার প্রতিটি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় করে দেখুন। সুযোগ ব্যয় হচ্ছে, একটি জিনিস পাওয়ার জন্য আপনাকে অন্য যে জিনিসটি ছেঁড়ে দিতে হয়, সেই ছেড়ে দেয়ার পরিমাণটি।

তাই যেকোনো কাজে অর্থ ব্যয়ের আগে যাচাই করুন। দেখবেন আপনার খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।

 অপচয় রোধ 

অনেক সময় শখের বশে আমরা একই জিনিস বার বার কিনে থাকি। যেমন : ধরুণ আপনার পারফিউম সংগ্রহ করতে খুব ভাল লাগে। আপনার কাছে বর্তমানে একটি পারফিউম আছে, তবুও আপনি শখের বশে আরেকটি কিনে ফেললেন। এধরণের শখকে একটু বিবেচনা করতে হবে।

১০ স্বল্পমূল্যে কেনাকাটা করা

কোনো জিনিস স্বল্পমূল্যে কোথায় পাওয়া যায় খুঁজে বের করে সেখান থেকে কিনতে পারেন। এতে ২০ টাকা কমে কিনতে পারলেও আপনি জয়ী।

কথা আছে, বিন্দু বিন্দু জলকনা মিলে সাগর-মহাসাগর তৈরি হয়। হয়তো ঘুরার জন্য টাকা জমানোর সময় প্রথমে মনে হবে অল্প টাকা। কিন্তু বছর ঘুরতেই দেখা যাবে জমানো অল্প অল্প টাকাই একটা সময় বড় অংকে পরিণত হয়েছে এবং তা দিয়ে অনায়াসে ঘুরতে যেতে পারবেন।

ঘুরে আসুন বাংলার তাজমহল

banglar taj mahal এর ছবির ফলাফল

সম্রাট শাহজাহানের অনুপম ভালোবাসার নিদর্শন আগ্রার তাজমহল। ভালোবাসার অমর নায়ক হিসেবে মধ্যযুগে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি আশ্চর্য স্থাপনা রচিত হয়েছিল তার হাত দিয়ে। স্ত্রী মমতাজের ভালোবাসায় সিক্ত সম্রাট ভালোবাসার পিয়াসুদের কাছে আজও অমর। যাদের সাধ্য নেই ভারতে গিয়ে আগ্রার তাজমহল দেখার অথচ মনের কোণে সাধ লুকিয়ে আছে, তাদের মনের সাধ কিছুটা হলেও লাঘব হবে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের অন্তর্গত জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামে নির্মিত বাংলার তাজমহল দেখে।

banglar taj mahal এর ছবির ফলাফল

২০০৩ সালে এর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বেশ ঘটা করে এর উদ্বোধন করা হয়। সুলতানি আমলের প্রসিদ্ধ সুলতান গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ আর বার ভূঁইয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর ঈশা খাঁর রাজধানীখ্যাত সোনারগাঁয়ের এ আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বাংলার তাজমহল এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। তাজমহল সংশ্লিষ্ট জায়গার পরিমাণ প্রায় ১৮ বিঘা। তবে আশপাশে পর্যটনের জন্য প্রায় ৫২ বিঘা জায়গা সংরক্ষিত রয়েছে।

banglar taj mahal এর ছবির ফলাফল

বাংলার তাজমহল আগ্রার তাজমহলের মডেলেই গড়া হয়েছে। তাজমহলের মূল ভবনে স্বচ্ছ ও দামি পাথরে মোড়ানো। এর অভ্যন্তরে আহসানউল্লাহ্ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দ্’ুজনের সমাধির স্থান রক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীর বসার স্থান। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি, রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের পাশাপাশি, যারা গ্রুপে বা পিকনিকে আসতে চান তাদের জন্য ও ব্যবস্থা রয়েছে।

banglar taj mahal এর ছবির ফলাফল

রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। ইচ্ছা করলে যে কোনো দর্শনার্থী এখানে ছবি উঠাতে পারবেন। তাজমহলকে ঘিরে বাইরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্পসামগ্রী জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও অন্য পণ্যসামগ্রী।

পিরামিড

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধন করা হয় পৃথিবীর সপ্তার্শ্চযের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তোলা পিরামিড । আটটি পিরামিড ধারাবাহিকভাবে সাজানো রয়েছে। এর ভেতরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয়। ভেতরে সংরক্ষিত মমিগুলোর তথ্য ও কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়েছে মিসর ও চীনের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে। রয়েছে প্রাচীনকালের রাজা রানীদের পরিধেয় পোশাক-আশাক ও মণিমুক্তা, তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র, অলঙ্কারাদি ও যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের নমুনা।

banglar pyramid এর ছবির ফলাফল

পাশেই রয়েছে আফ্রিকান ভয়ঙ্কর জীবন্ত প্রাণী আইরল। করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্করও। এ ছাড়া পাশেই রয়েছে, শুটিং স্পট সেখানে যে কোনো নাটক-সিনেমার সব ধরনের শুটিং করা যায়। আরও রয়েছে, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল ও সেমিনার কক্ষ।

বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় করছেন তাজমহল ও পিরামিড দর্শনের জন্য। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে । জনপ্রতি প্রবেশ ফি ১৫০ টাকা। এখানে রয়েছে নিরাপত্তার সুব্যবস্থা, সম্পূর্ণ অংশ সিসিক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত। তাজমহল ও পিরামিড দেখভাল করার জন্য এর সূচনালগ্ন থেকেই রয়েছেন ইনচার্জ দেওয়ান এলাহী, এসব তথ্য জানালেন তিনিই।

যেভাবে তাজমহলে যাওয়া যাবে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মদনপুর দিয়ে, এশিয়ান হাইওয়ে থেকে প্রায় ২-৩ কিমি. ভেতরে অথবা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর হয়ে রূপগঞ্জের বরপা দিয়েও যাওয়া যেতে পারে। অথবা কুড়িল বিশ্বরোড দিয়ে গাউছিয়া হয়েও যাওয়া যায়।

 

ঘুরে আসুন লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি

শত বছরেরও বেশি পুরনো নরসিংদীর লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি। ক্রমবর্ধমান আধুনিকতার ছোঁয়া এড়িয়েও আপন জৌলুসে এখনও দাঁড়িয়ে আছে এই প্রাচীন রাজ বাড়িটি। চমৎকার কারুকার্যময় বাড়িটি ঘুরে আসতে পারেন আপনিও, সাক্ষী হতে পারেন অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য দর্শনের। রাজধানী শহর ঢাকা থেকে রওয়ানা করে জমিদার বাড়িটি দেখে দিনেদিনেই ফিরে আসতে পারেন। স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ঘুরে আসুন চমৎকার এই স্থাপনা।

নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা বাজারে আজও দাঁড়িয়ে আছে জমিদার লক্ষণ সাহার রাজবাড়িটি। শতবর্ষী এই রাজ বাড়িটির কারুকার্যখচিত শৈল্পিক ছোঁয়া সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ২৪টি কক্ষ রয়েছে বাড়িটিতে, আছে নান্দনিক সৌন্দর্য খচিত মন্দিরও। এছাড়া আছে একটি অর্ধ-নির্মিত প্রাচীন বাড়ি। পুরো বাড়িটি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করা আছে।

প্রাচীরের ভেতরে আছে নানা রকম গাছগাছালি যুক্ত বাগান। আছে জমিদার আমলে তৈরি একটি পুকুর ও সান বাধানো ঘাঁট। পুকুরের চারপাশে নির্মিত চারটি পূজা মন্ডপের মধ্যে এখন মাত্র মঠ টিক আছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, অবহেলার কারণে বাড়িটির বেহাল এক দশা হয়ে আছে। তবুও সবকিছু ছাপিয়ে বাড়িটির অতীত গাম্ভীর্য এখনো চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয়ভাবে বাড়িটি উকিলের বাড়ি হিসেবেও পরিচিত। আহম্মদ আলী নামে এক উকিল বাড়িটি লক্ষণ সাহার উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে কিনে নেন। এছাড়া, লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি দেখতে এসে দেখা হয়ে যাবে আরও কয়েকটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি।

যেভাবে যাবেন :

দু-দিক দিয়ে যেতে পারেন। গুলিস্তান থেকে মেঘালয় বাসে চরে নামবেন পাঁচ দোনা মোড়। এখান থেকে সিনএনজি বা অটোতে ডাঙ্গা বাজার। এছাড়া, মহাখালী বা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিআরটিসি বাসে করে সরাসরি নরসিংদীর পাঁচদোনা নামবেন। বাস ভাড়া ১০০ টাকা।  সেখান থেকে সিএনজি-তে করে ডাঙ্গা গ্রাম বাজার। ভাড়া ৪০ টাকা।তাছাড়া, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়েই মায়ার বাড়ি মোড় নামবেন। সেখান থেকে অটোতে করে যাওয়া যায়।

ঘুরে আসুন বালিয়াটি জমিদার বাড়ী

baliati palace এর ছবির ফলাফল

মানিকগঞ্জ জেলার পুরাকীর্তির ইতিহাসে বালিয়াটির জমিদারদের অবদান উল্লেখ যোগ্য। বালিয়াটির জমিদারেরা ঊনিশ শতকেরপ্রথমার্ধ থেকে আরম্ভ করে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বছর বহুকীর্তি রেখে গেছেন যা জেলার পুরাকীর্তিকেবিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

বালিয়াটির পাঠান বাড়ীর জমিদার নিত্যানন্দ রায় চৌধুরীর দু’ছেলে বৃন্দাবন চন্দ্র রায় চৌধুরী এবংজগন্নাথ রায় চৌধুরীর মাধ্যমে বালিয়াটির নাম দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। বালিয়াটিতে আজও দু’বেলা রাধা বল্লব পূজো হচ্ছে।

বালিয়াটিতে ১৯২৩ সালের দিকে জমিদার কিশোরী রায় চৌধুরী নিজ ব্যয়ে একটি এলোপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।বর্তমানে এটি সরকারী নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

জমিদার হীরালাল রায় চৌধুরী সাটুরিয়া থেকে বালিয়াটির প্রবেশ পথের পাশেকাউন্নারা গ্রামে একটি বাগানবাড়ী নির্মাণ করেন এবং সেখানে দিঘির মাঝখানে একটি প্রমোদ ভবন গড়ে তোলেন যেখানে সুন্দরীনর্তকী বা প্রমোদ বালাদের নাচগান ও পালা চলতো। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দৃষ্টিনন্দন ও প্রাসাদের রক্ষনাবেক্ষণ করছে।

 

ঘুরে আসুন পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

অপূর্ব কারুকার্যখচিত বিশাল ভবন। দেয়ালের পরতে পরতে রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া; সাজানো ছবির মতো। ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য জমিদার বাড়ির চেয়ে একটু হলেও বাড়তি সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া জমিদার বাড়িতে। এখানে পাশাপাশি রয়েছে চমৎকার কারুকার্যখচিত বেশ কয়েকটি ভবন। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে যা পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে।

টাঙ্গাইল সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার লৌহজং নদীর তীরে ১৫ একর জায়গাজুড়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ে পুরনো মন্দির। লোকমুখে শোনা যায়, শরৎ দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন ভারতবর্ষের নামকরা প্রতিমা কারিগরেরা। কালের বিবর্তনে জায়গাটা এখন নির্জন, নেই আগের সেই গৌরব আভিজাত্যের ছাপ, নেই প্রতিমা তৈরির কোনো ব্যস্ততা। মন্দির ঘুরে দেখা গেল, এর কোথাও কোথাও ইট খসে পড়েছে, সেই পুরনো দিনের নকশা হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য।

মন্দিরের পেছনে বিশাল তিনটি মহল যা সেকালে তিন তরফ নামে পরিচিত ছিল। মহলগুলোর আলাদা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বড় মহলে বর্তমান পাকুটিয়া বিসিআরজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। দ্বিতল বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণশৈলী মুগ্ধ করবে সবাইকে। তবে সংস্কারের অভাবে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

তারপাশেই অপূর্ব লতাপাতার কারুকার্যখচিত বিশাল আরেকটি ভবন, যার মাথায় ময়ূরের মূর্তি রয়েছে, এ ছাড়া কিছু নারী মূর্তির দেখা মিলে। লতাপতায় আছন্ন ভবনটির একাংশ বর্তমানে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আরেক অংশে একটি বেসরকারি দাতব্য সেবা সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে। এই ভবনের পিলারের মাথায় এবং দেয়ালেও অসাধারণ নকশা দেখা যায়। সবশেষে দ্বিতল বিশিষ্ট আরেকটি মহল যার সামনে বিশাল শান বাঁধানো সিঁড়ি। অন্যসব ভবনের সাথে এই ভবনের নকশার যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

জমিদার বাড়ির পেছনে একটি দীঘি রয়েছে, আর আছে দু’টি পরিত্যক্ত কূপ। একটি প্রাচীর ঘেরা ভাঙা বড় কূপের দেখা মিলে যেখানে সেকালের জমিদার গিন্নিরা স্নান করতেন। এ ছাড়া জমিদার বাড়ির বিশাল মাঠের এক কোণে নাট মন্দির রয়েছে। এক সময় নাচে-গানে মুখর থাকত এই নাট মন্দির।

জানা যায়, ইংরেজ আমলের শেষ দিকে এবং পাকিস্তান আমলের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তৎকালীন ব্রিটিশ রাজাধানী কলকাতার সাথে মেইল স্টিমারসহ মালামাল এবং যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। একপর্যায়ে নাগরপুরের সাথে কলকাতার একটি বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণপুর থেকে প্রথমে রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল নামে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি পাকুটিয়াতে বসত স্থাপন করেন। এটি ঊনবিংশ শতাব্দীর ঠিক শুরুতে ইংরেজদের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে তাদের জমিদারি শুরু হয়। রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডলের দুই ছেলে বৃন্দাবন ও রাধা গোবিন্দ। রাধা গোবিন্দ নিঃসন্তান কিন্তু বৃন্দাবন চন্দ্রের তিন ছেলে ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন এবং যোগেন্দ্র মোহন।

এভাবে পাকুটিয়া জমিদারি তিনটি তরফে বিভক্ত ছিল। বৃন্দাবনের মেঝ ছেলে উপেন্দ্রকে তার কাকা নিঃসন্তান রাধা গোবিন্দ দত্তক নেন। ফলে উপেন্দ্র মোহন দত্তক সন্তান হিসেবে কাকার জমিদারির পুরো সম্পদের অংশটুকু লাভ করেন। ১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল প্রায় ১৫ একর এলাকাজুড়ে তিন ভাইয়ের নামে উদ্বোধন করা হয় একই নকশার পরপর তিনটি প্যালেস বা অট্টালিকা। জমিদাররা সবাই ছিলেন প্রজানন্দিত।

দৃষ্টিনন্দন এ জমিদারবাড়িতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। জমিদারিত্ব নেই আছে শুধু জমিদারের ইতিহাসের সাক্ষী। পাকুটিয়া জমিদার বাড়ির পরতে পরতে রয়েছে কালের নিদর্শন। জমিদার বাড়িটি সংস্কার বা জমিদারদের ইতিহাস সংরক্ষণ না হওয়াতে একদিকে যেমন সৌন্দর্য হারাচ্ছে বাড়িটি, অন্য দিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে এর ইতিহাস।

প্রবাসীদের দুবাই ফিরতে অনুমোদন লাগবে না

অনুমোদন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বাসিন্দাদের জিডিআরএফএ  অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। ১৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে দুবাইয়ের সমস্ত বাসিন্দাকে আমিরাতে ফিরতে জিডিআরএফএ অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। এখন থেকে শুধুমাত্র ৭২ ঘন্টা পূর্বের করোনা নেগেটিভ সনদ হলেই দুবাই প্রবাসীরা ফিরতে পারছেন।

বসন্ত বাতাসে ভালোবাসার উড়াল

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিদায় নিচ্ছে শীত। ঋতুরাজ বসন্ত প্রাণ সঞ্চার করছে প্রকৃতিতে। পয়লা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। পোশাকে ফাগুনের ছোঁয়া। নানা সাজে মনের আনন্দে মেতেছে সবাই। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

রাজধানীর নীলক্ষেতের ছোট সড়ক বিভাজকে ছোট একটি ঝাঁকড়া শিমুলগাছ। তাতে ফুল ফুটেছে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে যাওয়ার সড়কের মুখেই আরেকটি শিমুলগাছে ফুলের জন্য পাতা প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। রিকশা বা গাড়িতে চলাচলের ফাঁকে শহুরে মানুষ শিমুল দেখে বুঝে নেয় বসন্ত এসে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বড় বড় গাছে কোকিলের কু-উ-হু ডাকে আবার মন উদাস হয়।

ঋতুরাজ বলে বসন্তের খ্যাতি আছে। যৌবন ও প্রেমের ঋতু হিসেবেও সমাদৃত। এবার রঙিন পয়লা ফাল্গুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে, অর্থাৎ আজ রোববার নগরবাসী দুটো দিনকে একসঙ্গে বরণ করছেন। বাসন্তী বা টুক

সাংস্কৃতিক সংগঠন পুনশ্চ যশোরের আয়োজনে বসন্ত উৎসবে সংগীত পরিবেশন করেন সংগঠনের শিল্পীরা। শনিবার বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পৃথিবীকে প্রায় উল্টেপাল্টে দিয়েছে। দেশে করোনা এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। গত বছরের মার্চ থেকে দীর্ঘ সময় মানুষ প্রায় ঘরবন্দী ছিল। সেখান থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে দুটি উৎসব উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছেন নগরবাসী।

টুকে লাল পোশাকে ভালোবাসার মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভালোবাসি’ বলার ফুরসত পাচ্ছেন নগরবাসী।

শনিবার অনেকের পোশাক-সাজে দেখা গেছে ফাল্গুন আর ভালোবাসার রঙের ছোঁয়া। তাজা ফুল বিক্রেতারা রোববারের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে শনিবারও ফুলের দোকানগুলোতে বেশ ভালোই কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে তরুণ ছেলেরা কাঠের টেবিল পেতে বসেছিলেন বাহারি ফুল নিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শনিবার থেকেই বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের ইতিউতি টের পাওয়া গেছে। অনেকেই পলাশ ফুলের ছবি বা নিজের বাসন্তী বা লাল রঙের পোশাকের ছবি শেয়ার করেছেন। দিবস দুটিকে নিয়ে নগরবাসীর উচ্ছ্বাসে এবার কিছুটা ভাটা পড়েছে। করোনার কবলে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সেই চিরাচরিত চিত্র এবার উধাও হয়ে গেছে। ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপনের আরেক প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এবার এ ক্যাম্পাসও বন্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিউমার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটেও তার ছাপ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুলের দোকানে ক্রেতারা। শনিবার রংপুর নগরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকায়

শনিবার দুপুর থেকেই নিউমার্কেটে ভিড় বাড়তে থাকে। চারটার দিকে মার্কেটের সামনের গাড়ি পার্কিংয়ে জায়গা পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে বিক্রেতারা বললেন, করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয়ডর একটু কমেছে। শনিবার ছুটির দিন, পরিবারের কেনাকাটার জন্য অনেকেই নিউমার্কেট আসতে শুরু করেছেন। আলাদা করে বসন্ত বা ভালোবাসা দিবসের জন্য কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতার সংখ্যা কম।

ইংরেজিতে ‘আই লাভ ইউ’ লেখা লাল টুকটুকে, তুলতুলে ছোট ছোট কুশন নিয়ে বসেছিলেন জুয়েল রানা। একমুখ হাসি দিয়ে বললেন, কুশন বেচাকিনি ভালো হচ্ছে। ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের কুশন একজন ক্রেতাই কিনেছেন ৩৫টি।

পছন্দের ফুল কিনে নিজেদের সাজাচ্ছেন তরুণীরা। শনিবার সকালে বগুড়া শহরের শহীদ শিশু উদ্যানসংলগ্ন ফুল মার্কেটে

পয়লা ফাল্গুন, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের জনপ্রিয় ‘ভালোবাসা দিবস’ উদ্‌যাপন নিয়ে অনেকে দ্বিমতও পোষণ করেন। তাঁদের মতে, প্রিয়জনকে ভালোবাসা জানানোর জন্য বিশেষ দিনের কোনো প্রয়োজন নেই। ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস বলছে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যে ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন শুরু করা হয়। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের কোনো একসময় রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াস সাম্রাজ্যের তরুণদের বিয়ে না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সম্রাটের আদেশ অমান্য করে ভালোবাসার বাণী প্রচার শুরু করেন ভ্যালেন্টাইন নামের এক সাধু। শাস্তিস্বরূপ ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি, পোপ গেলাসিয়াস ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করার উদ্দেশ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখকে ভালোবাসা দিবস ঘোষণা করেন।

পদ্মা সেতু পরিদর্শনে চালু হলো ভ্রমণতরী পদ্মা ক্রুজ

পদ্মা সেতু ও পদ্মা নদীতে নৌ ভ্রমণের লক্ষ্যে চালু হলো পদ্মা ক্রুজ নামের ভ্রমণতরী।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বৃহস্পতিবার দুপুরের ভ্রমণতরীর উদ্বোধন করেন। ভ্রমণতরীটির উদ্যোক্তা ঢাকা ক্রুজ এন্ড লজিস্টিক।

পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর দুইপাড়ে পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এ ব্যাপারে অবশ্যই প্রকল্প নেওয়া হবে। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করবে। বিনিয়োগের রিটার্ন আসলে তারা অগ্রসর হবে। ইতিমধ্যেই সে কাজ শুরু হয়েছে। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যটন খাত এগিয়ে যাবে।

প্রতিদিন সকাল ও দুপুরে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ৮০ জন করে যাত্রী ভ্রমণতরীটি দিয়ে ভ্রমণ করতে পারবে। ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ হবে আড়াইহাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

অন্যদের উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক হাজেরা খাতুন, লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো হুমায়ন কবির, ঢাকা ক্রুজ এন্ড লজিস্টিকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোরহানউদ্দিন।

ইউরোপে লকডাউন, দুবাই যাচ্ছে পর্যটকরা

দুবাইয়ের ব্যস্ততার দিকে তাকালে মনে হবে করোনাভাইরাস মহামারি কোনো প্রভাব ফেলেনি সেখানে। কারণ, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহরটিতে পর্যটকদের রীতিমতো ঢল নেমেছে।

সিএনএন জানায়, ইউরোপে দেশে দেশে তীব্র ঠান্ডা এবং কঠোর লকডাউন থেকে রেহাই পেতে মানুষ ছুটি কাটাতে চলে আসছে দুবাইতে।

গত বছরের শেষ থেকে লাখো পর্যটকের চাপ পড়ে শহরটিতে।
ভাইরাস সংক্রমণ রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেটি ব্যর্থ হয়।
ফলে নভেম্বর থেকে শনাক্ত বেড়েছে চারগুণ।

আমিরাতের শহরটিতে করোনার সংক্রমণ আগ্রাসী রূপ নিলেও ইনস্টাগ্রামে সেলিব্রিটিদের ছবিতে সেটি দেখাচ্ছিল শীতকালীন সূর্যের আলোর এক স্বর্গভূমি।