কেন হাঁটবেন শিশির ভেজা ঘাসে?

সিনেমায় বৃষ্টিতে ভেজা গানের যেমন একটা আমেজ আছে, ভোরবেলা শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটার আমেজ জীবনে তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ছোট বেলা কিংবা বড় বেলা, প্রেম করে হোক আর না করেই হোক, কবিতা পড়েই হোক আর না পড়েই হোক শিশির ভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটা এক অপার্থিব আনন্দের ব্যাপার।

এই আনন্দ আরও বেড়ে যায় যখন আমাদের এই স্বাভাবিক বিষয়টি সারা পৃথিবীতে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে। ভোরবেলা খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটাকে এখন বলা হচ্ছে এক অন্যরকম ন্যাচারাল থেরাপি। করোনাকালের দুঃসময়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা মাথায় রেখে এ ন্যাচারাল থেরাপির ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণে। এখন খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটাকে ‘ডিউ ওয়াকিং’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে এটি এক ধরনের হাইড্রোথেরাপি।

ভোরবেলায় শিশিরে খালি পায়ে হাঁটার শারীরিক সুফল

পায়ের পাতায় সরাসরি ভেজা ঘাসের স্পর্শে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়
পায়ের পাতায় সরাসরি ভেজা ঘাসের স্পর্শে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়

খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে ভোরবেলা একটু সময় নিয়ে হেঁটে বেড়ালে বহু ধরনের সুফল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। সবার আগে চলে আসে ভোরের নির্মল দূষণমুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার ব্যাপারটি। এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে দেহে রক্ত চলাচলও ভালো হয়। খালি পায়ে ভেজা ঘাসে হাঁটাহাঁটি করলে সারা শরীরে রক্তের পরিসঞ্চালন বাড়ে। চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, এই পরিসঞ্চালনের মাধ্যমেই শিশির হাঁটা বা ডিউ ওয়াকিং এর সুফলের সূচনা।

পায়ের পাতার কাছের রক্তনালিগুলো ঠান্ডা শিশিরের সংস্পর্শে উদ্দীপিত ও সংকুচিত হয়। এতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শরীরের রক্তনালিগুলোতে সার্বিক ভাবে রক্তপ্রবাহে জাগে এক চনমনে ভাব, নতুন প্রাণ পায় একঘেয়ে ভাবে ধুকপুক করে চলা হৃদ্‌যন্ত্র। এভাবেই এই ডিউ ওয়াকিং আমাদের হৃদ্‌রোগ, রক্ত ঘন হয়ে আসার প্রবণতা, রক্তনালিতে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পায়ের পাতায় সরাসরি ভেজা ঘাসের স্পর্শে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়।
তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোথেরাপির মাধ্যমে আমাদের স্নায়ুগুলো তরতাজা হয়ে ওঠে যখন আমরা ভেজা ঘাসের হিম হিম শিশিরে পা ফেলে চলি। এ ছাড়া আমাদের সেন্সরি স্নায়ুতন্ত্র জেগে ওঠে খালি পায়ে হাঁটলে। কারণ এতে প্রোপ্রিয়োসেপ্টিন জাগ্রত হয় বা যে স্থানে আমরা অবস্থান করছি তা সম্পর্কে দেহে সঠিক অনুভূতি ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়। আমাদের এই নাগরিক জীবনে বিশাল এক জনগোষ্ঠীর পায়ের পেশি, হাড় ও রক্তনালির বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এই ডিউ ওয়াকিং বা খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটা খুবই উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।

পায়ের রক্তনালির ক্ষীণ পরিসঞ্চালনের জন্য শেষ বয়সে অনেকেই ভেরিকোস ভেইন্স বা ফ্ল্যাট ফুট রোগে ভুগে থাকেন। এর ফলে খুঁড়িয়ে হাঁটেন অনেকেই, পঙ্গু হয়ে যান কেউ কেউ। অথচ সকালে বাইরে গিয়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটার অভ্যাস থাকলে এই ভয়ংকর রোগগুলো থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। ডায়বেটিস জনিত স্নায়ুতন্ত্রের জড়তাতেও এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়।

আবার, অত্যন্ত কষ্টদায়ক মাথা ব্যথা মাইগ্রেনের জন্য ডিউ ওয়াকিং নামের এই হাইড্রোথেরাপি খুবই সুফল বয়ে আনতে পারে। এ ছাড়া এখনো, খুব শক্ত প্রমাণ না পেলেও, বেশির ভাগ গবেষকেরই মতামত হচ্ছে, সবুজ গাছগাছালি, মাঠ, ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকলে দৃষ্টি শক্তি বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ডিউ ওয়াকিং এর জুড়ি মেলা ভার। একই সঙ্গে মেডিটেশনের মতো প্রশান্তি, মুক্ত বাতাসে ব্যায়াম, পায়ের আরামদায়ক ম্যাসেজ আর কিসেই বা পাওয়া যায় বলুন!

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ডিউ ওয়াকিং

ভোরের ডিউ ওয়াকিং হয়তো আমাদের অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ওপরে নির্ভরতা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে
ভোরের ডিউ ওয়াকিং হয়তো আমাদের অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ওপরে নির্ভরতা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে

আমাদের মতো দেশে সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারগুলো। অথচ দিনের পর দিন ভয়াবহ ভাবে বেড়ে চলা উদ্বিগ্নতা (অ্যাংজাইটি), বিষাদ বা মানসিক অবসাদ (ডিপ্রেশন) আমাদের গ্রাস করে চলেছে। নগরজীবনে এর প্রভাব ভয়ংকর রকমের বেশি। মানসিক কষ্ট এবং অসুখগুলো আমাদের শরীরকেও অসুস্থ করে তোলে। মানসিক সমস্যা কখনো কখনো আমাদের নিয়ে যায় আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপের দিকে যা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অথচ সকালের সূর্যালোক ভালোভাবে শরীরে পড়লে খুবই কার্যকর ভাবে নিঃসৃত হয় আমাদের শরীরের সেরাটোনিন হরমোন, যাকে মানসিক স্বাস্থ্যের ভাষায় ‘ফিল গুড হরমোন’ বলা হয়।

ভোরের ডিউ ওয়াকিং হয়তো আমাদের অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ওপরে নির্ভরতা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে। অন্তত মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথা ভেবে যেন আমরা প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়ে ঘাসে পা রেখে কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটি প্রতিদিন। সবুজের সমারোহ, শিশিরের ভেজা সুশীতল অনুভূতি, কোমল ঘাসের স্পর্শ এ সবকিছু আমাদের ক্লান্তি, হতাশা, অবসাদ, বিষাদ আর উদ্বেগকে ঠেলে দিতে পারে বহুদূর। ডিউ ওয়াকিং নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, তাদেরও এই একই অভিমত।

কোথায় কীভাবে হাঁটবেন

কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। ছেলেবেলায় ফেলে আসা অথবা খুব কালেভদ্রে বেড়াতে যাওয়া নানাবাড়ি দাদাবাড়ির সেই গ্রামের অবারিত প্রান্তর মাঠ ঘাট, খেত না থাকলেও তো আমাদের আছে কিছু পার্ক, মাঠ, উদ্যান। ভোরবেলা হাঁটতে বেরিয়ে সেখানে ঘাসের স্পর্শ নেওয়া যেতেই পারে খালি পায়ে।

সুযোগ থাকলে এক চিলতে উঠোনে বা অ্যাপার্টমেন্ট এর সামনের সামান্য দুই ফুট জায়গাতেও সম্মিলিত উদ্যোগে ঘাস লাগিয়ে নেওয়া যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো এলাকার প্রশাসনের সহায়তায় ফুটপাত বরাবর এক চিলতে জায়গায় ঘাসের লম্বা বেড বা রোড ভার্জ স্থাপন করা যায়। আর শিশির সারা বছর কোথায় পাওয়া যাবে এই অজুহাতে যারা মাথা নাড়তে চাইছেন, তাদের জন্য খবর হলো, গবেষকেরা বলছেন, বৃষ্টি ভেজা ঘাসেও সমান সুফল পাওয়া যায়। তাই জড়তা ঝেড়ে ফেলে সময় এসেছে ডিউ ওয়াকিং এর ব্যাপারে যথাযথ প্রচার ও এর সুফলগুলো সকল মানুষের গোচরে আনার।

সুযোগ থাকলে এক চিলতে উঠোনে বা অ্যাপার্টমেন্ট এর সামনের সামান্য দুই ফুট জায়গাতেও সম্মিলিত উদ্যোগে ঘাস লাগিয়ে নেওয়া যায়
সুযোগ থাকলে এক চিলতে উঠোনে বা অ্যাপার্টমেন্ট এর সামনের সামান্য দুই ফুট জায়গাতেও সম্মিলিত উদ্যোগে ঘাস লাগিয়ে নেওয়া যায়                                                                                                                                       সাহিত্যে গল্প, উপন্যাস, কবিতায় অথবা টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হেঁটে চলার কতই না অপরূপ আর রোমান্টিক বর্ণনা আমরা দেখেছি, শুনেছি। কিন্তু চোখ বুজে ভেবে  দেখলে মনেই পড়বে না শেষ কবে আমরা নিজেরা ভোরে বেড়িয়ে সময় নিয়ে ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হেঁটেছি! সময়ের অভাব হোক অথবা লোকে কী বলবে সেই চিন্তা, যে কারণেই হোক আমাদের এই ইচ্ছে বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না।

সমুদ্রদূষণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

সমুদ্রদূষণ | মতামত

শক্তি ও সম্পদের অন্যতম আধার সমুদ্র। একদিকে পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে। অন্যদিকে সমুদ্রের উপর মানুষের নির্ভরশীলতাও বাড়ছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রকার দূষণের কবলে পড়ে দিন দিন সমুদ্র তার স্বরূপ হারাচ্ছে সমুদ্রকে দূষিত করে এমন প্রধান জিনিসগুলো হলো, বায়ুবাহিত ধুলাবালি, ট্যাংকার এবং অন্যান্য জাহাজ থেকে নির্গত বর্জ্য, বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন ইত্যাদি। বায়ুমন্ডলে প্রকাশিত দূষকগুলো বৃষ্টিপাতের কারণে সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। ফলে সমুদ্র অনেকগুলো বর্জ্যের ভাগাড় হয়ে যায়।
শিল্প উন্নয়নের সাথে সাথে বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। এ ধরনের দূষণের কারণে সমুদ্রের পানির অম্লতা বাড়ে এবং সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদকূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন রোগের বিস্তারও ঘটছে।

জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে মহাসাগরের পরিবেশ বদলে দিচ্ছে এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সর্বশেষ কয়েকটি গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা সায়েন্স সাময়িকীর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এটির সহ-লেখক কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উইলিয়াম চেউং বলেন, সমুদ্রের সব প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি এবং সম্পদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমিত রাখার লক্ষ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ব্যাপক হারে কমাতে হবে। মহাসাগরের ভবিষ্যৎ অবস্থা কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দশকগুলোতে কী পরিমাণ কার্বন নির্গমন হবে, তার ওপর। মহাসাগরের সামগ্রিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি রোধ করতে চাইলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ অবিলম্বে কমিয়ে আনতে হবে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ফ্রান্সের জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রের (সিএনআরএস) অধ্যাপক জ্যঁ-পিয়ের গাত্তুসো। তিনি বলেন, কার্বন নির্গমণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে মাছ তাদের বর্তমান আবাস ছেড়ে ৬৫ শতাংশ দ্রুত অন্যত্র চলে যাবে। পরিণামে জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের কার্যক্রমে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সমুদ্রদূষণ ঘটে আলাস্কায় একটি জাহাজ দুর্ঘটায়। ঘটনার এক মাসের মধ্যে জাহাজের চালক জোসেফ হ্যাজেলউডকে মদ খেয়ে জাহাজ চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ১৬০টি সামুদ্রিক ওটার এবং ১৩০০টি পাখির মৃত্যু ঘটে। জাহাজ এবং সমুদ্র থেকে মাত্র ৯ শতাংশ তেল রক্ষা করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কোটি গ্যালন তেল সমুদ্রের পানিতে মিশে ১৬০০ বর্গমাইল পানি এবং ৪০০ মাইল উপকূলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তেল এতটা পুরু হয়ে বয়ে চলে যে, বাষ্পীভূত হতে পারে এমন পদার্থগুলো ডুবে না গিয়ে পানির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে টলুইন এবং বেঞ্জিন জাতীয় ক্ষতিকারক হাইড্রোকার্বনগুলো খুব সহজেই খাদ্যশৃঙ্খলায় ঢুকে পড়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জুপ্লাঙ্কটন থেকে শুরু করে বড় বড় স্তন্যপায়ী জীবকে বিষাক্ত করে তোলে এবং এ দূষণের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তেলকে পরিষ্কার করার জন্য যে সব পরিশোধক ব্যবহার করা হয়, তাতেই ৯০ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হয়। ষাটের দশকে জাপানে পারদবহনকারী মাছ খেয়ে বহু লোকের প্যারালাইসিস হবার ঘটনা থেকে শুরু করে সমুদ্রে ভাসমান তেলে আগুন লেগে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও রয়েছে। সমুদ্রের এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য দায়ী শিল্পজাত বিষাক্ত দ্রব্য, গৃহস্থালির জঞ্জাল, কৃত্রিম পরিশোধক, সার ও কীটনাশক। তাছাড়া তেলজাত দূষণ তো রয়েছেই।

এছাড়া সমুদ্রদূষণের জন্য অন্যতম দায়ী হচ্ছে প্লাস্টিক। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে ৮০০ প্রজাতি ধ্বংসাবশেষ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই ধ্বংসাবশেষের ৮০ শতাংশই প্লাস্টিকের। এটি অনুমান করা হয় যে, প্রতি বছর ১৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক সমুদ্রের মধ্যে জমা হয় যা প্রতি মিনিটে একটি আবর্জনাপূর্ণ ট্রাক বোঝাইয়ের সমতূল্য। সামুদ্রিক মাছ, পাখি, কচ্ছপ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীরা প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষে জড়িয়ে পড়ে বা আক্রান্ত হতে পারে যার ফলে তাদের দমবন্ধ হয়ে যায় এবং অনাহারে থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, সামুদ্রিক পাখিদের প্রায় ৯০ শতাংশ সরাসরি প্লাস্টিক দূষণের শিকার।

পৃথিবীর প্রাণিকুলের বসবাসযোগ্য ৯০ শতাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে মহাসাগর। এই সুবিশাল স্থানে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবগুলো ঠেকানোর জন্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি সর্বোচ্চ দুই ডিগ্রিতে সীমিত রাখার ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের সরকার কে এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ না করলে মহাসাগরগুলোয় বসবাসকারী প্রাণী ও উদ্ভিদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। সামুদ্রিক মাছ তুলনামূলক ঠান্ডা পানির খোঁজ করতে বাধ্য হবে। ধ্বংস হবে মূল্যবান প্রবালদ্বীপগুলো। সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় এসব সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীজুড়ে পেট্রলিয়াম উৎপাদন বেড়ে চলেছে। তাই সমুদ্রপথে তার আমদানি-রফতানির জন্য বড় বড় পাইপলাইন ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও অনেক শোনা যায়। কোনো কোনো সময় ভূতাত্তি¡ক কারণে উপকূলবর্তী তেলের খনি থেকে তেল বের হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল শুধুমাত্র পরিবহনের সময় সমুদ্রে পড়ে। এছাড়া উপকূলবর্তী তেলের খনি অথবা এই ধরনের উৎপাদন থেকে পড়ে আরো ১৫ লাখ টন।

স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক দু’ভাবে হাইড্রোকার্বন আসে। ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে আসা হাইড্রোকার্বন স্বাভাবিক। আর পরিশোধন, শিল্প, আমদানি-রফতানি, ট্যাঙ্কার ডুবে উপকূলবর্তী তেল খনি ইত্যাদি অস্বাভাবিক। তেল ছাড়া সমুদ্রে অন্য খনিজ সম্পদের মধ্যে অন্যতম হলো বালি, গ্র্যাভেল, ভারী খনিজ এবং গভীর সমুদ্রের ম্যাঙ্গানিজ নুড়ি। উপকূলের কাছে বালি, গ্র্যাভেল ইত্যাদি ড্রেজিং এবং পাম্পিংয়ের ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামুদ্রিক প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী ডা. জ্যাকুয়েস পিকার্ড-এর মতে, বর্তমান দূষণের হার বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর সমুদ্রে কোনো প্রাণীর অস্তিত্বই থাকবে না। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ এর মতে, বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিন হাউজ গ্যাসের দ্বিগুণ বৃদ্ধির ফলে বর্তমান শতকে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ১.৫ ডিগ্রি থেকে ৪.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পাবে। হিসেব করে বলা হয়েছে, গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রভাব না থাকলে আজ পৃথিবীর তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কম হতো। হিমবাহ গবেষকরা মনে করেন, তাপ বৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েক শতকে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাদর গলে গিয়ে সমুদ্রের উচ্চতা ৫ থেকে ৭ মিটার বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই হাজার হাজার বর্গমাইল এলাকায় জমি নষ্ট হবে, ঝড় ও ঘূর্ণিবাতাসের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাবে, উপকূলের জলা অঞ্চলগুলোর লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সামুদ্রিক প্রাণীরা বিপদে পড়বে। পানীয় জলের অসুবিধা দেখা দেবে মারাত্মকভাবে।

ভূতাত্তি¡ক এবং আবহাওয়াজনিত কারণগুলোই সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামাকে প্রভাবান্বিত করে। সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত পর্বতমালার ভাঙাগড়ার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেকটাই নেমে গিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর বুকে ‘ফসিল জ্বালানি’ হিসেবে পরিচিত কার্বনকে আজকের মানুষ আবার বায়ুমন্ডলে ফিরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক ক্রমবিকাশের গতিকে উল্টোদিকে প্রবাহিত করছে।

ইউনেস্কোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নাহলেও এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় এই দুই স্তরেই এর মোকাবিলা করার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৮৭ সালে পৃথিবীর মানুষ মোট ৫.৭ গিগা টন এক গিগা টন হল ১০০ কোটি টনের সমান কার্বন বাতাসে ছেড়েছে। জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কারণ তারাই এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। মানুষের তৈরি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিক্ষেপের তিন-চতুর্থাংশই তাদের।

নিক্ষিপ্ত বিষাক্ত পদার্থের মধ্যে তামা, নিকেল, কোবাল্ট এবং ম্যাঙ্গানিজ খনন সাধারণত পরিবেশের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। পোকা-মাকড় মারার ওষুধ, ডিডিটি এবং বিভিন্ন ধরনের ইনস্যুলেশনে ব্যবহৃত ক্লোরিন জাতীয় উপাদান সমুদ্রের পক্ষে ক্ষতিকারক। ডিডিটি ইত্যাদি সমস্ত পৃথিবীতে ফসলের ক্ষতি রোধ করার জন্য, পোকা-মাকড়, মাছি মারার জন্য প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির পানি ধুয়ে শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা হয় সমুদ্রে। কারণ বাতাসে পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে যে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায় তার অনেকটা সমুদ্রে মিশে যায়।

আমাদের পার্শ্ববর্তী জনবহুল দেশ ভারতও বিপুল পরিমাণে আবর্জনা সমুদ্রে নিক্ষেপ করছে। আরব সাগরে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তৈলবাহী ট্যাঙ্কারদের যাত্রাপথ। ভারতের চারপাশের সাগরে প্রচুর পরিমাণে আবর্জনা নিক্ষিপ্ত হয়ে সমুদ্রকে দূষিত করছে। অনেকের মতে, যা করা দরকার তা হলো, সমুদ্রদূষণ রোধে সক্ষম এক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটি যার নিষেধাজ্ঞা সব দেশ শুনবে এবং কার্যকর করবে।

আমাদের একমাত্র সমুদ্র হলো বঙ্গোপসাগর। আমাদের সকল নদীর যাত্রাপথ গিয়ে শেষ হয়েছে সমুদ্রে। এই নদীগুলোর মাধ্যমে প্রবাহমান বর্জ্য সব সাগরে জমা হয়। অথচ এই সাগর আমাদের মৎস্য চাহিদার অনেকাংশই পূরণ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সমগ্র বহিঃবাণিজ্য বঙ্গোপসাগরের উপর নির্ভরশীল। তাই এ মহামূল্যবান সম্পদকে আমাদের রক্ষা না করার বিকল্প নেই। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন, সামুদ্রিক পরিবহন ও পর্যটন এবং সমুদ্রসম্পদ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন করতে হবে।

মহাকাশে মাকড়সা!

স্পেস স্টেশন বা মহাকাশ স্টেশনে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না মাকড়সা। কিন্তু ইঁদুর নিজেকে মানিয়ে নেয়। গবেষণায় এমন তথ্য মিলেছে। অনলাইন দ্য কসমিক কমপ্যানিয়নে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিজ্ঞানের দিক থেকে মাকড়সাকে মহাশূন্যে পাঠানোটা দৃশ্যত একটি ভাল ধারণা হতে পারে। কিন্তু মহাশূন্যে বসবাস করার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব একটি রীতি আছে। ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা প্রথমবারের মতো মহাশূন্যে পাঠায় মাকড়সা। উদ্দেশ্যটা ছিল, হাইস্কুল ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।

২০০৮ সালে এসে দেখা গেল, ওই পরীক্ষা যৌক্তিক। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কিছু মাকড়সাকে মহাশূন্যে পাঠানোর মধ্যে একটি ভুল বা ত্রুটি দেখা দেয়, যা বিজ্ঞানের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। এ পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কয়েক জোড়া মাকড়সা পাঠিয়ে দেয়া হয় বসবাস করার জন্য। প্রায় শূন্য অভিকর্ষের অধীনে কিভাবে তারা নিজেদের জীবন মানিয়ে নেয় তা নিয়ে গবেষণা করতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।
আলাদা একটি পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল ইদুর। দেখা গেল, কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে ইদুররা তাদেরকে মানিয়ে নিয়েছে এবং দ্রুতই তাদের মতো করে খেলা আবিষ্কার করে তাদের মতো করে খেলা শুরু করেছে। কিন্তু ইঁদুরের থেকে অনেক দিক দিয়ে মাকড়সা ভিন্ন। ইঁদুররা খেলা শুরু করলেও মাকড়সার মধ্যে সে রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি।
পৃথিবীতে মাকড়সারা একই রকম জাল বা ওয়েব সৃষ্টি করে। মাকড়সার এসব জালের মধ্যভাগের পরিবর্তে এর কেন্দ্র থাকে উপরের প্রান্তের দিকে। এরপর আট পায়ের এই প্রাণি তার জালের উপরের অর্ধাংশের ওপরের দিকে অবস্থান করে। তবে এ সময় তার মাথা থাকে নিচের দিকে। অভিকর্ষ এভাবে মাকড়সাকে তার শিকার ধরতে সহায়তা করে। যে শিকার তার জালে আটকে পড়ে। কিন্তু মহাশূন্যে মাকড়সারা এই অভিকর্ষজ সুবিধা পায় না। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনধারা বিঘ্নিত হয়।
বিজ্ঞানীরা যেসব মাকড়সা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল একটি মেটেপিয়েরা ল্যাবিরিন্থিয়া এবং ল্যারিনয়েডস প্যাটাগিয়াটাস প্রজাতির। প্রথম প্রজাতির মাকড়সাকে মূল সাবজেক্ট হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয়টিকে ব্যাকআপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ব্যাকআপ মাকড়সা সম্ভবত ওই অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পছন্দ করেনি। বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে যায় সে। প্রবেশ করে পরীক্ষার মূল চেম্বারে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় মূল চেম্বার খুলতে পারছিলেন না জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা ওই দুটি মাকড়সাকে মহাশূন্যে আলাদা করতে পারছিলেন না। বেশ কিছুদিন পরে মাকড়সারা যে জাল তৈরি করলো তা ক্রমশ এলোমেলো দেখাতে লাগে। দুটি মাকড়সা একে অন্যের পথে চলতে থাকে। ফলের মাছিগুলো বাড়তে লাগলো। কারণ, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মাকড়সার জন্য দেয়া খাদ্য। এর ফলে অপ্রত্যাশিত হারে প্রজনন বেড়ে গেল তাদের। লার্ভায় ভরে গেল। তারা তাদের ব্রিডিং কন্টেইনার থেকে বেরিয়ে এলো। মেঝে ভরে গেল। সহসাই লার্ভায় ঢাকা পড়ে গেল পরীক্ষামূলক চেম্বারের জানালা। এর ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ওই মাকড়সা বা তাদের জাল দেখতে পারছিলেন না আর।
২০১১ সালের পরীক্ষায় দেখা গেল চার রকম জাল সম্পর্কিত তথ্য।
১. মহাশূন্যে একই রকম জাল তৈরি করে তারা। ২. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একই রকম জাল তৈরি করে মাকড়সা। ৩. আন্তর্জাতিক মহাকাশ সেন্টারে পৌঁছার পর ২৩ দিনে তারা এমন জাল তৈরি করে। এবং ৪. পৃথিবীতে মাকড়সা জাল তৈরি করে নিয়ন্ত্রিত। এবারও ২০০৮ সালের পরীক্ষাগুলোর ধরন যাচাই করতে করা হয়েছিল। এ সময়ে তারা একই প্রজাতির চারটি মাকড়সা ব্যবহার করেছিলেন। এগুলো সাধারণত ব্যানানা মাকড়সা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে দুটিকে উড়িয়ে নিয়ে রাখা হয় আলাদা চেম্বারে। অন্য জোড়াটি ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর বায়োসার্ভ স্পেস টেকনোলজির ল্যাবে আরো মাকড়সার সঙ্গে রাখা হয় মহাশূণ্যের পরিবেশে। কিন্তু সমস্যাটি হলো, নারী মাকড়সা দুটি যখন তার পুরুষ সঙ্গীর দিকে অগ্রসর হয়, তখনই। যখন টিনেজ বয়সে তখন এসব প্রাণিতে সংগ্রহ বা বাছাই করা হয়েছিল, যখন মাকড়সাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন কঠিন থাকে। এই প্রজাতির মাকড়সার নারী ও পুরুষের আকার আকৃতি এবং শারীরিক গঠনে উল্লেখযোগ্য ভিন্নতা রয়েছে। দৈবক্রমে একই স্থানে সাধারণ পরিবেশে একটি নারী ও একটি পুরুষ মাকড়সাকে রাখা হলো পরীক্ষা চালাতে। তিনটি ক্যামেরা বসানো হলো। তাদের কাজ হলো প্রতি ৫ মিনিট পর পর মাকড়সাদের ছবি তোলা। এ সময়ে তোলা মাকড়সার জালের শতাধিক জাল নিয়ে পরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৪৫০০ ছবি নিয়ে গবেষণা করে দেখা হয়েছে পৃথিবীতে তৈরি করা মাকড়সার জালের সঙ্গে অভিকর্ষবিহীন পরিবেশে এসব জাল সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। তাতে দেখা গেছে, আলোর ধরনের ওপর ভিত্তি করে উল্লেখযোগ্যভাবে জালের ডিজাইন পরিবর্তন করে মাকড়সারা। ল্যাম্পলাইটের নিচে যেসব মাকড়সা জাল সৃষ্টি করে তা দেখতে সাধারণ জালের মতোই। এসব ক্ষেত্রে মাকড়সারা তাদের মাথা, মুখ নিচের দিকে রাখে। অপেক্ষা করে তাদের জালে উড়ন্ত কোনো প্রাণি ধরা পড়লে তাকে শিকার করার জন্য। ইউনিভার্সিটি অব ব্যাসেলের ড. স্যামুয়েল জকোকে বলেন, আমরা এটা বলতে পারি না যে, মহাশূন্যে মাকড়সার জীবনধারার ওপর আলো বড় কোন প্রভাব ফেলে। এতে এমনটাই ধরা পড়ে যে, মাকড়সার জীবনে আলোর একটি ব্যবহার আছে। তা হলো, আলো ব্যবহার করে সে বুঝতে পারে জালের কোন দিক নিচে আর কোন দিন উপরে।

ডিএসইর লা মেরিডিয়ান কাণ্ড

মেরিডিয়ান হোটেলকে সরকারি কোম্পানির তকমা দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পাশ কাঠিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লা মেরিডিয়ান কাণ্ডে জালিয়াতির আরেক ঘটনা

বেসরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিকে ‘সরকারি মালিকানার তকমা’ দিয়ে শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটের অভিনব এক আয়োজন সম্পন্ন করেছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। কাজটি করা হয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোনো অনুমোদন ছাড়া।

পর্যটন খাতের যে কোম্পানিকে ডিএসইতে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে পর্ষদের অনুমোদনের জন্য আলোচ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছিল সেটি হলো বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড। এ নামে সাধারণ মানুষের কাছে কোম্পানিটি অপরিচিত। কিন্তু রাজধানীর নিকুঞ্জে পাঁচ তারকা হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’ হয়তো সবাই চেনেন। সেই হোটেল এই বেস্ট হোল্ডিংসেরই মালিকানাধীন।

আইন করে শেয়ারবাজারে বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু সেই আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে বেসরকারি লা মেরিডিয়ান হোটেলকে সরকারি মালিকানার কোম্পানি বানিয়ে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিএসইর প্রভাবশালী এক সদস্য। যিনি ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে দুবারের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য অভিযুক্ত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বেসরকারি একটি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এ চেষ্টার কথা জানতে পেরে ছুটির দিনে ত্বরিত হস্তক্ষেপ করে বিএসইসি। বিজয় দিবসের ছুটির মধ্যেই জরুরি নির্দেশনা দিয়ে ডিএসইর পর্ষদ সভায় কোম্পানিটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসইর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়।

জানতে চাইলে ডিএসইর সভাপতি ইউনুসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোম্পানিটির সরাসরি তালিকাভুক্তির আবেদন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে এসেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্ষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তা পর্ষদ সভার আলোচ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

কেন সরকারি কোম্পানির তকমা

শেয়ারবাজারে আসার আগেই কোম্পানিটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। ব্যাংকগুলো প্রাইভেট প্লেসমেন্টে প্রতিটি শেয়ার ৬৫ টাকায় কেনে। একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর চাপেই মূলত রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে প্লেসমেন্টে চড়া দামে শেয়ার কিনতে বাধ্য করা হয়। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের কেনা শেয়ারের ‘মালিকানার’ অংশের কারণেই কোম্পানিটিকে সরকারি কোম্পানির তকমা দিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অর্থমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠিকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিএসইসির চেয়ারম্যানকে লেখা ওই চিঠিতে যদিও কোনো নির্দেশনা ছিল না।

বিএসইসির আইনে বেসরকারি খাতের কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ রাখা হলেও সরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ নেই। এ কারণে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের শেয়ারের মালিকানার অংশকে ‘সরকারি মালিকানা’ দাবি করা হয়, যাতে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করা যায়।

জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসার পর কমিশনের পক্ষ থেকে আইনানুগ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, সেটিই করা হয়েছে। এর বেশি তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লা মেরিডিয়ান হোটেল শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে চায়। প্রতিটি শেয়ার ৬৫ টাকা দামে বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে। এ দামেই চার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে যেসব শেয়ার বিক্রি করা হয় সেই শেয়ার বিক্রির টাকা কোম্পানির হিসাবে জমা হয় না। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা সরাসরি জমা হয় উদ্যোক্তাদের পকেটে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, বর্তমানে লা মেরিডিয়ান হোটেলের শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন একটি ব্যাংক তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিল। ওই শেয়ার বিক্রি থেকে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা জমা হবে ব্যাংকটির হিসাবে। কোম্পানি হিসেবে লা মেরিডিয়ান হোটেলের এতে লাভবান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে বেসরকারি কোম্পানিকে সরকারি কোম্পানির তকমা দিয়ে ডিএসইর পর্ষদ সভার অনুমোদনের জন্য আলোচ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছে গতকাল বুধবার, সরকারি ছুটির দিনে। ডিএসইর প্রভাবশালী ওই সদস্যের পরিকল্পনায় এদিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে ত্বরিত কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে। আবার আগেভাগে বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয়, সে জন্য নিয়মিত আলোচ্যসূচির বাইরে ‘অতিরিক্ত আলোচ্য’ বিষয় হিসেবে এটিকে নথিভুক্ত করে ডিএসইর পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পর্ষদ সভার আলোচ্যসূচি দুই দিন আগে চূড়ান্ত করে প্রত্যেক পরিচালকের কাছে পাঠাতে হয়। যাতে পরিচালকেরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন। ডিএসইর আজ বৃহস্পতিবারের পর্ষদ সভার জন্য দুই দিন আগে পরিচালকদের কাছে যে আলোচ্যসূচি পাঠানো হয়েছিল, সেখানে বেস্ট হোল্ডিংসের তালিকাভুক্তির বিষয়টি ছিল না। গতকাল অতিরিক্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালকদের কাছে মেইল পাঠান ডিএসইর কোম্পানি সচিব আসাদুর রহমান। ডিএসইর এ কোম্পানি সচিব আবার সংস্থাটির প্রভাবশালী ওই পরিচালকের ক্রীড়নক হিসেবেই কাজ করেছেন।

জানা গেছে, কোম্পানিটিতে ব্যাংকের লগ্নি করা অর্থ ও প্রাইভেট প্লেসমেন্টে শেয়ার কেনা কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরিয়ে দিতেই এটিকে যেকোনো উপায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। এ যাত্রায় বিএসইসির হস্তক্ষেপে আপাতত উদ্যোগটি ভেস্তে গেলেও এটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। আর কোম্পানিটিতে বিপুল মূলধন বিনিয়োগে বাধ্য হওয়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তাদের এ অর্থ কীভাবে ফেরত পাবে, আদৌ ফেরত পাবে কি না, সেটি নিয়েও আছে সংশয়।

সারা বিশ্বের জন্য থাইল্যান্ডের স্পেশাল ট্যুরিস্ট ভিসা উন্মুক্ত

বিশ্বের সব দেশের জন্য স্পেশাল ট্যুরিস্ট ভিসা (এসটিভি) উন্মুক্ত করে দিয়েছে থাইল্যান্ড। এর ফলে নিজের দেশের করোনা পরিস্থিতি যা-ই থাকুক না কেন, সেই দেশের নাগরিক এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রায় দুই মাস সময়ে সেখানে ২৯টি দেশ থেকে মাত্র ৮২৯ জন ব্যক্তি এই ভিসার সুযোগ নিয়েছেন। মাত্র ৬টি প্রমোদতরী ভাড়া নিয়েছেন তারা। এর পর এ সুবিধাকে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে  দেশটি। ব্যাংকক পোস্টকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অনলাইন মাদারশিপ। তবে একই খবরে বলা হয়েছে থাইল্যান্ডের অন্য পত্রিকা নেশন থাইল্যান্ড আরও খবর দিয়েছে যে, সংশোধিত এসটিভি কর্মসূচির আওতায় যেসব পর্যটক থাইল্যান্ডে যাবেন, তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। থাইল্যান্ডে কোথায় অবস্থান করবেন এ বিষয়ে অবশ্যই প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

উল্লেখ্য, এসটিভি স্কিম প্রথম চালু করা হয় এ বছর ৩০ শে সেপ্টেম্বরে। প্রথম দিকে যেসব দেশ করোনা ভাইরাসের কম ঝুঁকিতে, তাদেরকে এ সুবিধা দেয়া হয়। এ কারণে দেশটিতে কম সংখ্যক মানুষ ভিসা নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স রিপোর্ট করেছে যে, বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার ফলে অক্টোবরে থাইল্যান্ড সফর করেছেন মোট ১২০১ জন বিদেশি নাগরিক। অথচ গত বছর একই মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৭০ হাজার। ফলে ভয়াবহভাবে পর্যটকের সংখ্যায় পতন দেখা দিয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের জন্যও নিয়ম পরিবর্তন
একইভাবে সিঙ্গাপুরের জনগণের জন্য একই ধরনের ভিসার (এসটিভি) ক্ষেত্রে নীতি পরিবর্তন করেছে থাইল্যান্ড। এর আগে অন্য সব চাহিদার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের কোনো ব্যক্তির ভিসা আবেদনের তারিখ থেকে পূর্ববর্তী ৬ মাস ধরে ব্যাংক একাউন্টে কমপক্ষে ২২,২০০ সিঙ্গাপুরি ডলার বা কমপক্ষে ৫ লাখ বাথ জমা থাকতে হতো। এই শর্ত এখন পরিবর্তন করা হয়েছে। রাজকীয় থাই দূতাবাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই শর্ত এখন শুধু স্বামী-স্ত্রীর আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের কমপক্ষে ৯০ দিন থাইল্যান্ডে থাকতে হবে এমন শর্তও দেয়া হতো আগে। এখন এই নীতিও পরিবর্তন করে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত থাকলেই চলবে। তা সত্ত্বেও প্রতি ১৫ দিন পর পর থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিসা রিভিউ করবে। তবে আবেদনকারীকে যেকোনো রকম চাকরির ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অবশ্যই তার সব রকম চিকিৎসার খরচ বিষয়ক স্বাস্থ্যবীমার দু’টি কপি জমা দিতে হবে। এই স্বাস্থ্যবীমার অধীনে থাকবে কোভিড-১৯ও। এ জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানকালীন খরচের পরিমাণ থাকতে হবে কমপক্ষে এক লাখ ডলার। অন্যদিকে ভিসার চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ সিঙ্গাপুরি ডলার।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সহযোগিতার আশ্বাস – পর্যটন শিল্পে

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কর্মী নিয়োগ শুরু করবে মালয়েশিয়া
বর্তমান পরিস্থিতিতে ও আগামীতে পর্যটকদের সুরক্ষায় যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগ, মূল্যছাড় ও ভিসা ফি রেয়াতের প্রস্তাব উঠে এসেছে দুই দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের আলোচনায়।
বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্পে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এর অংশ হিসেবে বুধবার (১২ আগস্ট) অনলাইনে এক সভায় এসব নিয়ে কথা বলেন তারা।
সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস ফোরামের (বোটফ) আহ্বায়ক চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি।  তিনি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডকে যৌথ প্রচারণার পরামর্শ দেন।
করোনা-পরবর্তী মালয়েশিয়ার পর্যটন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার জ্যেষ্ঠ পরিচালক (আন্তর্জাতিক প্রচারণা, এশিয়া ও আফ্রিকা) মনোহরণ পেরিয়াসামি।
এ সময় ছিল ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে করপোরেট গ্রুপ ট্যুর পরিচালনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের নামের তালিকাসহ ট্যুরিজম মালয়েশিয়াকে অবহিত করলে ইমিগ্রেশনের বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার জ্যেষ্ঠ পরিচালক জানান, পুনরায় ই-ভিসা প্রদানের বিষয়টি বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের কাছে প্রক্রিয়াধীন আছে এবং মালয়েশিয়ান দূতাবাস থেকে পরবর্তী সময়ে তা প্রকাশ করা হবে।
বোটফের পরামর্শক ও পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক রহমান মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘এক্সটেন্ডেড ডেস্টিনেশন ট্যুর প্রোগ্রাম’ চালুর প্রস্তাব দেন।
সভায় আরও ছিলেন সভায় ছিলেন বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ, বোটফের সহ-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাফি, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ইফতেখার আলম ভূঁইঞা, বোটফের পরামর্শক জহিরুল আলাম ভূঁইঞা রোমান, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার কমিটির কো-কনভেনার আখতারুজ্জামান, বোটফের পাবলিক রিলেশন কমিটির সদস্য আরিফুল হক। এছাড়া মালয়েশিয়ান এয়ারওয়েজ, এয়ার এশিয়া, মালিন্দ এয়ার ও বোটফের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বোটফের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার কমিটির কনভেনর তাসলিম আমিন শোভন। সবশেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বোটফের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বোরহান উদ্দিন।

ভারতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে গোয়া সমুদ্র সৈকত

Best Beaches in Goa - Goa's Best Sea Beaches You Can't Avoid
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় চারমাস বন্ধ থাকার পর ভারতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে গোয়া সমুদ্র সৈকত।
শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে এ সমুদ্র সৈকতটি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) এ ঘোষণাটি দেন রাজ্যটির পর্যটনমন্ত্রী মনোহর অজগাঁওকর। এ উপলক্ষে ২৫০টির বেশি হোটেল খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “২৫০টি হোটেলকে কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ সৈকত শহরে এসে পর্যটকদের থাকতে কোনো সমস্যা হবে না।”
তবে কোনোভাবেই যেন সংক্রমণ না ছড়ায়, সে দিকেও কঠিন নজরদারি করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন বলেও জানান তিনি।
তবে এক্ষেত্রে আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখতে হবে। সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও হোটেল খোলা যাবে না ।  এছাড়া পর্যটকদের অবশ্যই করোনাভাইরাস নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। তবে গোয়ায় পৌঁছনোর পরেএ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে  নিজরাজ্যে ফিরে যেতে বলা হবে বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রায় ১,৪৮২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

হজমে সহায়ক পেঁপে

পেঁপের গুণের শেষ নেই। কাঁচা-পাকা দুইভাবেই এটি খাওয়া যায়। শরীরের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ৩৯ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এ,বি,সি,ডি পাওয়া যায়।

শত শত বছর ধরে বিভিন্ন রোগ সারাতে পেঁপে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত পেঁপে খেলে আরও যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. হজমের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। এই ফল খেলে শরীর সতেজ হয় ও জীবনী শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্তি অ্যাসিড দূর করে। এ কারণে যারা গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালা সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পেঁপে খুব উপকারী।

২. পেঁপে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, পেঁপে গাছের মূল ও ফুল কিডনি রোগ, ব্রংকাইটিস ও জন্ডিস সারাতে ভূমিকা রাখে।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পেঁপের জুড়ি নেই। এতে প্রচুর ভিটামিন ই, সি ও ফলিক অ্যাসিড থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কাঁচা পেঁপে ও এর জুস হজমে সহায়তা করে।

৪. ব্রণ সারাতেও পেঁপে বেশ কার্যকর। বয়ঃসন্ধিকালে বা মুখে ময়লা জমার কারণে যে ব্রণ সৃষ্টি হয়, তা দূর করতে নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। এতে ত্বক জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে। এছাড়া পাকা পেঁপে মাস্ক হিসাবে মুখে ব্যবহার করলেও ব্রণ দূর হয়।

প্রতিদিনের শরীরচর্চা কতটা ফলপ্রসূ

শরীরচর্চা কি আমাদের শরীরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে? নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রবদ্ধ থেকে দেখা গিয়েছে দৈনন্দিন কাজ সঠিকভাবে করা যায় তাহলে প্রতিদিনের বাড়তি ক্যালরি ঝরে যায়। দেহের হরমোনগুলি নিজেদের কাজ করতে পারে। তবে সমীক্ষা থেকে এটাও দেখা গিয়েছে অতিরিক্ত ক্যালরি যদি দেহ থেকে ক্ষয় হয়, তবে তা হবে বিশেষ ক্ষতির নিদর্শন। সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে, দেহে যে পরিমান ক্ষয় হয় তা পূরণ করে দেয় আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য। দেহে খাদ্যের এই ভারসাম্যের ফলেই শরীর তার দৈনন্দিন কাজ করে। তবে সকল সময়েই যে এই পরিস্থিতি চলবে তা কিন্তু নয়। দেহে ক্ষয় এবং পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায় দেহে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

অনেক সময় দেখা গিয়েছে দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে অনেকেই নানা ধরনের শরীরচর্চা করে থাকেন।

দেহের পক্ষে এটা মারাত্বক হতে পারে। দেখা গেছে সারাদিনে যে পরিমান ক্যালরি খরচ হয় তা থেকে বেশি হয়ে গেলে দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে একটি সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন পুরুষ এবং মহিলা যারা অতিরিক্ত মেদধারী ছিলেন তারা প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ৩০০০ ক্যালরি ঝরানোর শরীরচর্চা করতেন। এরপর সমীক্ষার শেষ পর্যায়ে গিয়ে দেখা গেল তাদের মধ্যে কয়েকজন সুস্থ রয়েছন, এবং তাদের শরীরে মেদও অনেকটা কমেছে। তবে অন্য কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, এই কয়েকজনের শরীরে মেদ ঝরার পরিমান বেশি হয়েছিল।

ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আসলে একজন মানুষ রোজ যতটা ক্যালরি খরচ করতে পারেন তার থেকে যদি বেশি খরচ করেন তাহলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন একঘন্টা করে শরীরচর্চা ব্যক্তিকে সুস্থ রাখতে পারে। আবার অনেক মানুষ এমনও রয়েছেন যারা সারাদিনে কোনো শরীরচর্চা করেন না, অথচ তাদের দেহে ক্ষয় এবং পুষ্টির পরিমান স্বাভাবিক থাকে। তবে এটাও ফেলে দেওয়া যায় না যে, সপ্তাহে যদি ৩০০ মিনিট অন্তত শরীরচর্চা করা যায় তাহলে দেহ তার স্বাভাবিকতা বজায় রেখে চলতে পারে। সেদিক থেকে দেখতে হলে বহু মানুষ রোজ সকালে উঠে যোগসাধনা করেন বা সামান্য শরীরচর্চাও করেন। তাদের দেহ সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক থাকাটাই বাহুল্যে।