উয়ারী বটেশ্বর নরসিংদীর বেলাবো

উয়ারী-বটেশ্বর: মাটির নিচের প্রাচীন নগর

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় উয়ারী এবং বটেশ্বর পাশাপাশি দুটো গ্রাম। এই গ্রাম দুটোতে প্রায়ই বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান পাওয়া যেতো। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে উয়ারী গ্রামে শ্রমিকরা মাটি খননকালে একটি পাত্রে সঞ্চিত মুদ্রা ভাণ্ডার পায়। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জনাব মোহাম্মদ হানিফ পাঠান সেখান থেকে ২০-৩০টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এগুলো ছিলো বঙ্গভারতের প্রাচীনতম রৌপ্যমুদ্রা। এই ছিলো উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের প্রথম চেষ্টা। তিনি তৎকালীন সাপ্তাহিক মোহাম্মদীতে প্রাচীন মুদ্রা প্রাপ্তি শীর্ষক সংবাদ ছাপেন। তিনি তাঁর ছেলে জনাব হাবিবুল্লা পাঠানকে সচেতন করে তুলছিলেন এই এলাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সম্পর্কে। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বটেশ্বর গ্রামে স্থানীয় শ্রমিকরা দুটি লৌহপিণ্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যায়।

ত্রিকোণাকার ও এক মুখ চোখা, ভারী লৌহপিণ্ডগুলো ছেলে হাবিবুল্লাহ তাঁর বাবাকে নিয়ে দেখালে তিনি অভিভূত হোন। ঐ বছরের ৩০ জানুয়ারি দৈনিক আজাদ  পত্রিকার রবি বাসরীয়সংখ্যায় পূর্ব পাকিস্তানে প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা শিরোনামে একটি প্রবন্ধ ছাপেন জনাব হানিফ পাঠান। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাপ্তির ঘটনার আমরা উল্লেখ পাই। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে উয়ারী গ্রামের কৃষক জাড়ু মাটি খননকালে ছাপাংকিত রৌপ্য মুদ্রার একটি ভাণ্ডার পান। ওই ভাণ্ডারে কমপক্ষে চার হাজারের মতো মুদ্রা ছিল। ওজন ছিলো নয় সের। জাড়ু মুদ্রাগুলো আশি টাকা সের দরে রৌপ্যকারের কাছে বিক্রি করে দেন। হাবিবুল্লাহ পাঠান তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র, তাই মাত্র ৳৭২০ টাকার জন্য ইতিহাসের অমূল্য সামগ্রীগুলো রৌপ্যকারের চুল্লিতে গলে চিরকালের জন্য হারিয়ে গেলো। ১৯৭৪১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে জনাব হাবিবুল্লাহ পাঠান ঢাকা জাদুঘরেরঅবৈতনিক সংগ্রাহক ছিলেন। তখন গবেষণার জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাপাঙ্কিত মুদ্রা, পাথরের গুটিকা, লৌহ কুঠার ও বল্লম জাদুঘরে অর্পণ করেন তিনি। ঐ সময় রাইঙ্গারটেক গ্রাম থেকে প্রাপ্ত ত্রিশটি লৌহ কুঠার জাদুঘরে প্রদান করেন তিনি। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে উয়ারী গ্রামের শাহবুদ্দিন মাটির নিচ থেকে ব্রোঞ্জের ৩৩টি পাত্রের একটি সঞ্চয় উদ্ধার করেন। বারবার ধরনা দিয়েও সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি, অথচ পরবর্তীকালে সেগুলো মাত্র ২০০ টাকায় এক ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করে দেন শাহাবুদ্দিন।

উয়ারী-বটেশ্বর হবে পর্যটন অঞ্চল | 230193 | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

জনাব হাবিবুল্লাহ পাঠান একসময় স্থানীয় শিশু-কিশোরদেরকে প্রাচীন প্রত্নসামগ্রী কুড়িয়ে দেয়ার বিনিময়ে সামান্য কিছু পয়সা দিতে লাগলেন আর সংগ্রহ করতে লাগলেন উয়ারী-বটেশ্বর এলাকার অনাবিষ্কৃত অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তাঁর একাগ্র শ্রমেই খননের আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিলো বঙ্গভারতের দুর্লভ একক নিদর্শন বিষ্ণুপট্টব্রোঞ্জের তৈরি ধাবমান অশ্ব, উচ্চমাত্রায় টিনমিশ্রিত নবযুক্ত পাত্র, শিব নৈবেদ্য পাত্র, রেলিক কাসকিট() –এর ভগ্নাংশ, পাথরের বাটখারা, নব্যপ্রস্তর যুগের বাটালি, লৌহকুঠার, বল্লম, পাথরের তৈরি সিলত্রিরত্নকচ্ছপ, হস্তী, সিংহ, হাঁস, পোকা, ফুল, অর্ধচন্দ্র , তারকা, রক্ষাকবচ(), পোড়ামাটির কিন্নর, সূর্য ও বিভিন্ন জীব-জন্তুর প্রতিকৃতি, রিংস্টোন, ব্রোঞ্জের গরুড়, কয়েক সহস্র স্বল্প মূল্যবান পাথর ও কাচের গুটিকা।

অনাবিষ্কৃত এই উয়ারী-বটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সম্ভাবনা বহুদিন থেকেই তাই গুঞ্জরিত হচ্ছিলো। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের দিকে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জনাব মোহাম্মদ হানিফ পাঠান (১৯০১-১৯৮৯) প্রথম উয়ারী-বটেশ্বরকে সুধী সমাজের নজরে আনেন। পরে তাঁর ছেলে জনাব হাবিবুল্লা পাঠান স্থানটির গুরুত্ব তুলে ধরে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বারবারই এব্যাপারে সোচ্চার থাকলেও হচ্ছিলো না উৎখনন। অবশেষে ২০০০ খ্রিস্টাব্দেজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে শুরু হয় উৎখনন। খননকাজে নেতৃত্ব দেন উক্ত বিভাগের প্রধান জনাব সুফি মোস্তাফিজুর রহমানউপনেতা হিসেবে ছিলেন জনাব মিজানুর রহমান, আর পুরো খননকাজেই সক্রীয় ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ। আর স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও ছিলো উল্লেখ করার মতো। তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে এগিয়ে আসে মোবাইল ফোন সেবাদাতা কোম্পানী গ্রামীণ ফোন। ৯ জানুয়ারি২০১০ খ্রিস্টাব্দে নবম ধাপের উৎখনন যখন শুরু হয় তখন প্রথমবারের মতো আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিতে এগিয়ে আসে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

উয়ারী-বটেশ্বরে প্রত্নবস্তু খননে প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগর, বন্দর, রাস্তা, পার্শ্ব-রাস্তা, পোড়ামাটির ফলক, স্বল্প-মূল্যবান পাথর ও কাচের পুঁতি, মুদ্রা-ভান্ডারসহ উপমহাদেশের প্রাচীনতম ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। উল্টো-পিরামিড আকৃতির স্থাপত্যটি নিয়েও বিশেষজ্ঞ স্থপতিরা ইতোমধ্যে গবেষণা শুরু করেছেন।[] এখানে পাওয়া চারটি পাথুরে নিদর্শন প্রত্নপ্রস্তরযুগের বলেই মনে হয়। নব্যপ্রস্তর যুগের হাতিয়ার প্রাপ্তির আলোকে বলা যায়, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মাঝামাঝি সময়ে এগুলো এখানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। বিপুল পরিমাণ লৌহ কুঠার ও বর্শাফলকের সময়কাল এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ড. জাহানের রাসায়নিক পরীক্ষার ভিত্তিতে এগুলো ৭০০-৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রাগুলো মৌর্যকালপর্বে (খ্রিস্টপূর্ব ৩২০– খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৭প্রচলিত থাকার সম্ভাবনা। কাচের গুটিকাগুলো সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতক পর্যন্ত প্রচলিত ছিলো। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় শিল্পকলা চর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে উয়ারীতে প্রত্নতাত্তি্বক উৎখননে প্রাপ্ত উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ মৃৎপাত্র, রোলেটেড মৃৎপাত্র, নব্ড মৃৎপাত্র প্রভৃতির দুটি কার্বন-১৪ পরীক্ষা করা হয়। ঐ পরীক্ষায় উয়ারীর বসতিকে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোনারুতলা গ্রাম থেকে একটি পাথরের ও অন্যটি পোড়ামাটির নিবেদন স্তূপ(পাওয়া যায়। এগুলোর নির্মাণ পদ্ধতি এবং পোড়ানোর কারিগরি বিষয়ে ধারণা হয় এগুলো তাম্রপ্রস্তর যুগে ব্যবহৃত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেপাণ্ডুরাজার ঢিবিতে তাম্রাশ্মীয় পর্বে( খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০০বসতি স্থাপনকারী মানবগোষ্ঠী ধান্য তুষের ছাপ সংবলিত ধূসর, রক্তিম ও কৃষ্ণবর্ণের মৃৎপাত্র নির্মাণ করেছে। কাদামাটিতে ধান বা ধানের তুষ মিলেয়ে ইট ও মৃৎপাত্র নির্মাণের ঐতিহ্য এঅঞ্চলে দীর্ঘকাল থেকে চলে-আসা সংস্কৃতির স্বাক্ষর।

উয়ারী গ্রামে ৬৩৩ মিটার দীর্ঘ বাহুবিশিষ্ট বর্গাকৃতি গড় ও পরিখা রয়েছে। পূর্ব পাশের পরিখাটি ছাড়া গড় ও পরিখার চিহ্ন লুপ্তপ্রায়। ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আরেকটি বহির্দেশীয় গড় ও পরিখা সোনারুতলা গ্রাম থেকে শুরু করে বটেশ্বর হানিয়াবাইদ, রাজারবাগ ও আমলাব গ্রামের ওপর দিয়ে আঁড়িয়াল খাঁ নদের প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটিকে স্থানীয় লোকজন অসম রাজার গড় বলে থাকেন। এরূপ দুটো প্রতিরক্ষা প্রাচীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক কেন্দ্রের নির্দেশক, যা নগরায়ণেরও অন্যতম শর্ত।

ঘুরে আসুন নরসিংদীর উয়ারী বটেশ্বর থেকে » আদার ব্যাপারী

২০০৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চএপ্রিলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎখননে উয়ারী গ্রামে আবিষ্কৃত হয়েছে ১৮ মিটার দীর্ঘ, ৬ মিটার প্রশস্ত ও ৩০ সেন্টিমিটার পুরু একটি প্রাচীন পাকা রাস্তা। রাস্তাটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ইটের টুকরা, চুন, উত্তর ভারতীয় কৃষ্ণ মসৃণ মৃৎপাত্রের টুকরা, তার সঙ্গে রয়েছে ল্যাটারাইট মাটির লৌহযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এটিকে আড়াই হাজার বছর পুরনো বলে দাবি করেছেন। এসম্পর্কে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার চক্রবর্তীর অভিমত: এতো দীর্ঘ ও চওড়া রাস্তা এর আগে পুরো গাঙ্গেয় উপত্যকায় দ্বিতীয় নগরায়ণ সভ্যতায় কোথাও আবিষ্কৃত হয়নি। গাঙ্গেয় উপত্যকায় দ্বিতীয় নগরায়ণ বলতে সিন্ধু সভ্যতার পরের নগরায়ণের সময়কে বোঝায়। ফলে যেটি আবিষ্কৃত হয়েছে বলা হচ্ছে তা তধু বাংলাদেশেই নয়, সিন্ধু সভ্যতার পর ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরোন রাস্তা।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও আঁড়িয়াল খাঁ নদের মিলনস্থলের অদূরে কয়রা নামক একটি শুষ্ক নদীখাতের দক্ষিণতীরে বন্যাযুক্ত গৈরিক মাটির উঁচু ভূখণ্ডে উয়ারী-বটেশ্বরের অবস্থান। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আদি ঐতিহাসিক কালপর্বে এ প্রত্নস্থানকে বহির্বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে অধিকতর স্পষ্ট করেছে। টলেমির বিবরণ থেকে জনাব দিলীপ কুমার চক্রবর্তীর অনুমান আদি ঐতিহাসিক যুগে উয়ারী-বটেশ্বর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও রোমান সাম্রাজ্যের মালামাল সংগ্রহ ও বিতরণের সওদাগরি আড়ত  হিসেবে কাজ করতো। তাঁর এই ধারণাকে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।

কিভাবে যাওয়া যায়:

ঢাকা থেকে বাস যোগে (বিআরটিসি, অন্যন্যা সুপার, যাতায়াত, হাওর বিলাশ অথবা সিলেট কিশোরগঞ্জ ব্রাহ্মনবাড়িয়ার যে কোন বাসে) ঢাকা- সিলেট মহা সড়ক থেকে মরজাল অথবা বারৈচা সাস্ট্যন্ড নেমে সিএনজি যোগে বেলাব বাজার হয়ে রিক্সায় উয়ারী বটেশ্বর অথবা মরজাল/বারৈচা থেকে সরাসরি সিএনজি যোগে উয়ারী বটেশ্বর যাওয়া য়ায়।

ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর

bholaganj-sadapathor-sylhet

ভারত থেকে নেমে আসা সীমান্ত নদী ধলাই নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকা স্থানীয়ভাবে ‘সাদা পাথর’ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি জায়গাটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাটি দেখতে প্রতিদিনই পর্যটকরা সেখানে ভিড় করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর পানির সঙ্গে প্রতিবছর বর্ষাকালে নেমে আসে প্রচুর পাথর। ধলাই নদীর তলদেশেও রয়েছে পাথরের বিপুল মজুদ।

সাদা পাথর’ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের একটি এলাকা। সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে অবস্থান। ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলে সেখানে প্রথম পাথর জমা হয়েছিল। কোম্পানীগঞ্জের তৎকালীন ইউএনও মোহাম্মদ আবুল লাইছ পাথরগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন। এ নিয়ে ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে ‘ধলাইমুখে আবার জমল ধলাসোনা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেই থেকে এলাকাটি ‘সাদা পাথর’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।

সিলেটে পাহাড়-নদী-পাথরকেন্দ্রিক প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দির পর সাদা পাথর এলাকা পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের যাতায়াতে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ‘সাদা পাথর পরিবহন’ নামে বিশেষ বাস সার্ভিসও চালু হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে কোনো পর্যটনকেন্দ্রের পর্যটনবাহী পরিবহন চালুর উদ্যোগ সেটিই ছিল প্রথম। প্রতিদিন সেখানে ১০ হাজার পর্যটকের পদচারণ ঘটে। ধলাই নদের ঘাট থেকে সাদা পাথর এলাকায় চলাচল করে দুই শতাধিক নৌকা।

ভোলাগঞ্জ কোয়ারির জিরো পয়েন্টের ওপারে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝরনার অশান্ত শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা, গন্তব্য ধলাই নদীর বুক, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে। স্বচ্ছ নীল জল আর পাহাড়ের সবুজ মিলেমিশে একাকার। নদীর বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের বিছানা নদীটির শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে হাজারগুণ। সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঝরনার পানির তীব্র ¯্রােত নয়ন জুড়ায় আর শীতল জলের স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায় নিমিষেই। শহুরে যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে সারা দেশ থেকেই ছুটে আসেন পর্যটকরা। পথে যেতে দূর থেকেই পাহাড়ের সৌন্দর্য মন কাড়বে আপনার। মন চাইবে দুই হাতে জড়িয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে।

শিগগিরই ভারতীয় ভিসা দেওয়া হবে পর্যটকদের

ছবিঃ সংগৃহীত

শিগগিরই পর্যটকদের জন্য ভারতীয় ভিসা দেওয়া হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকাস্থ ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এয়ার বাবলের আওতায় চেন্নাই ও কলকাতা রুটে ফ্লাইট শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন শিকদার মেজবাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান।

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪টি দেশের সঙ্গে ভারত এয়ার বাবল চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ একে অন্যের বন্ধু। এ সম্পর্কের জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া দরকার। এই বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়ার এটিই সবচেয়ে বড় পন্থা।

করোনা মহামারির কারণে সাত মাস বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। সপ্তাহে ৫৬টি বাবল ফ্লাইট চলাচল করবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতের তিনটি গন্তব্য- কলকাতা, দিল্লি ও চেন্নাইয়ে ফ্লাইট চলবে। প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে যাবে ২৮টি ফ্লাইট। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কলকাতা ও দিল্লিতে, ইউএস-বাংলা চেন্নাই ও কলকাতায় এবং নভোএয়ার কলকাতায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে ভারত থেকেও সপ্তাহে ২৮টি ফ্লাইট ঢাকায় আসবে। ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া, ইনডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা ও গোএয়ার-এসব ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

করোনা মহামারি ঠেকাতে গত ১২ মার্চ থেকে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। তবে সম্প্রতি পর্যটন ভিসা ছাড়া ৯টি ক্যাটাগরিতে ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটি।

এখনই বিদেশী পর্যটক চান না ৫৭ শতাংশ থাই নাগরিক

বিদেশী পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ডের সরকার। দীর্ঘ সাত মাস পর বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে চলেছে দেশটি। তবে থাইল্যান্ডের স্থানীয় অধিবাসীদের বেশির ভাগই চান না এখনই তাদের দেশে বিদেশীরা আসুক। একটি জরিপ প্রতিবেদন সেই কথাই বলছে। খবর ব্লুমবার্গ।

ব্যাংকংভিত্তিক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৭ শতাংশ থাই নাগরিক সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এখনই বিদেশী পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

প্রায় ১ হাজার ৩০০ থাই নাগরিককে নিয়ে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিদেশীদের জন্য সবকিছু খুলে দিলে সরকার করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সমর্থ হবে কিনা, সে ব্যাপারে সন্দিহান ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা।

থাইল্যান্ডের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটননির্ভর। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কোনো বিদেশী পর্যটক না আসায় দেশটির পর্যটন খাত বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় সংকটাপন্ন খাতকে চাঙ্গা করতে প্রতি মাসে সীমিতসংখ্যক বিদেশী পর্যটককে থাইল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ দিতে চাইছে দেশটির সরকার। গত সপ্তাহেই এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়া হয়।

আসলে বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ না দিয়ে পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করার কোনো বিকল্পও ছিল না থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান-ওচার সরকারের। কারণ এ খাতের মোট রাজস্বের দুই-তৃতীয়াংশই আসে বিদেশীদের কাছ থেকে। এ কারণে সরকার করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত তাদের ভালো ট্র্যাক রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ খুঁজছে।

এজন্য সরকার বিদেশী পর্যটক আসার পর তাদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে ভ্রমণেচ্ছুক বেশির ভাগ পর্যটকই আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

মা’রাত্মক আট রোগের মহৌষধ বৃষ্টির পানি

মারাত্মক আট রোগের মহৌষধ বৃষ্টির পানি

বর্ষা মানেই যখন তখন ঝুম বৃষ্টি। তাইতো এও মৌসুমে সুস্থ থাকাটা একটু কস্তুর হয়ে পড়ে। কারণ বর্ষা মানেই পেটের রোগ, হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর। এমনটাই ভেবে থাকেন সবাই। কিন্তু জানেন কি, এই বর্ষাই হয়ে উঠতে পারে রোগমুক্তির ঋতু! নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলছেন, বৃষ্টির পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি।

  

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা রিপোর্টের দাবি, বৃষ্টির পানি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। মাটি বা পাথরে থাকা মিনারেলস আর বর্জ্য, বৃষ্টির পানিতে থাকে না। সেকারণেই বৃষ্টির পানি পানে অনেক উপকারিতা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক বৃষ্টির পানি কী কী রোগের মহৌষধ-

    

হজমশক্তি বাড়ায়- বৃষ্টির পানিতে থাকে অ্যালকালাইন পিএইচ যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। রাসায়নিক মুক্ত পানি- ট্যাপের পানি জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস, মাথাব্য’থার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে ফ্লোরাইড বা ক্লোরিন, কোনোটিই থাকে না।

    

ক্যান্সার বিরোধী- বৃষ্টির পানিতে থাকা অ্যালকালাইন পিএইচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে বৃষ্টির পানি।

    

পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে- প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির পানি খাওয়া ভালো। পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে বৃষ্টির পানি ওষুধের কাজ করে। বৃষ্টির পানি সুন্দর চুল করে- কোনো মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত কোমল। এই পানিতে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভালো কাজ দেয়।

    

ত্বকের পক্ষে উপকারী- বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুখ- এটা পুরনো ধারণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে অ্যাসিডিক পিএইচ যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রা’ণহী’ন করে দেয়। বৃষ্টির পানিতে এসব কিছু নেই।

    

জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া না’শক- বৃষ্টির পানি কোষে জমে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বা’লাও দূর হয়। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির পানি পান করুন।

    

বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন যেভাবে- বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার জন্য বড় আকারের পাত্র বা ড্রাম নিন। সেক্ষেত্রে ভালো মানের প্লাস্টিকের বিভিন্ন আকারের ড্রাম কাজে লাগানো যেতে পারে। ড্রামের মুখ নেট ও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে মশা, কীটপতঙ্গ বা পোষা প্রাণী দ্বারা পানি নষ্ট না হয়।

    

বাড়ির ছাদ যদি হয় টিনের, তাহলে তা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য আদর্শ। একটু খাটুনি করে টিনের চালের সঙ্গে ইউ শেপ করে টিন কেটে বসিয়ে দিন। বৃষ্টির সময় ড্রামটি ওই আদল বরাবর বসিয়ে দিন। এতে সহজে পানি ভরে নেয়া যাবে।

    

সংরক্ষণ ও শোধন- বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া (রেইন ওয়াটার কালেকশন সিস্টেম) স্থাপন করে প্রাকৃতিক এ পানি মজুদ করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে একটি বড় ট্যাংক স্থাপন করা হয়। বৃষ্টি হলে পানি সরাসরি ট্যাংকে জমা হবে। এর সঙ্গে একটি ফিল্টার ও পাম্প থাকবে, যাতে আপনার চাহিদা অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারে। এ ধরনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অবশ্য বেশ ব্যয়বহুল। অভিজ্ঞ লোক ডেকে এটি স্থাপন করতে হবে।

স্বল্প পানি সংরক্ষণের জন্য বালতি, বড় আকারের জার, বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করুন। খুব কম সময়ের মধ্যে এ পানি ব্যবহার করে ফেলতে হবে। বেশি সময় এ পানি রাখা যাবে না। এতে মশা বংশবৃদ্ধি করবে। সবচেয়ে ভালো হয় দুই দিনের মধ্যে পানি ব্যবহার করে ফেললে।

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের উপর দুবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের উপর দুবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা।

এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসকে সাসপেন্ড করেছে আমিরাতের দুবাই সিভিল অ্যাভিয়েশন অথারিটি ৷
১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে এই সাসপেনশন ৷
উড়োজাহাজ করোনা পজিটিভ এক যাত্রীকে নিয়ে ভ্রমণ করার অভিযোগে এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিমানসংস্থার অপারেশন সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৷

গত ৪ সেপ্টেম্বর জয়পুর থেকে এক ফ্লাইটে একজন করোনা পজিটিভ যাত্রীকে নিয়ে দুবাই যায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি ৷
জয়পুরের একটি করোনা টেস্ট সেন্টারে ওই যাত্রীর রিপোর্ট পজিটিভ আসা সত্ত্বেও কেন তাকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হলো এই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

আগামী দু’সপ্তাহ দুবাইয়ে সব এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই সিভিল অ্যাভিয়েশন অথারিটি ৷

ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি নাগরিকরা ভ্রমণ করতে পারবেন যে ৪১টি দেশে

কেবল পাসপোর্ট থাকলেই বাংলাদেশের নাগরিকরা ঘুরে আসতে পারবেন ৪১টি দেশে। যেখানে লাগবে না কোনো ভিসা। যদিও এর আগে ভিসা ছাড়া ৩৮ দেশে যেতে পারতেন।

এখন সেটি বেড়ে ৪১ দেশ হয়েছে। তবে ২০২০ সালে কোনো পরিবর্তন না আসায় ৪১ দেশেই যেতে পারবেন। ২০১৯ সালেও ৪১ দেশেই যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

বিশ্বের ১০৪টি দেশের ওপর প্রতি বছরই জরিপ চালিয়ে একটি মূল্যায়ন সূচক তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘দ্যা হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স’। এই বছরও তার ব্যতিক্রম নয়।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) ভ্রমণ তথ্যভাণ্ডারের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এ সূচক তৈরি করেছে তারা। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দ্য হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স বলছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের ৪১টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করা যাবে। তাদের তালিকা নিচে দেয়া হলো।

এশিয়ার মধ্যে রয়েছে- ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব তিমুর।

আফ্রিকার মধ্যে রয়েছে- বেনিন, কেপ ভার্দ, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি বিসাউ, কেনিয়া, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সিসিলি, সোমালিয়া, টোগো ও উগান্ডা।

আমেরিকার মধ্যে রয়েছে- বলিভিয়া

ওশেনিয়া অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে- কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামাউ, ত্রিভালু ও ভানুয়াতু।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে- বাহামা, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো, হাইতি, জামাইকা, মন্টসেরাত, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ও সেন্ট ভিনসেন্ট।

উড়োজাহাজ এখন রেস্তোরাঁ

নোভেল করোনা ভাইরাসের ক্ষতি থেকে বেরিয়ে আসতে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্বের উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলো। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস তাদের একটি উড়োজাহাজকে অস্থায়ী রেস্তোরাঁয় পরিণত করেছে। খবর বিবিসি।

সংস্থাটি আশা করছে, এর মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। মূলত চলমান মহামারির কারণে বিশ্বের অন্য সব বিমান পরিবহন সংস্থার মতোই মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। জুন পর্যন্ত প্রান্তিকে সংস্থাটির ক্ষতি হয়েছে রেকর্ড ৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ২০ শতাংশ কর্মীও ছাঁটাই করছে এয়ারলাইনসটি।

২৮ অক্টোবর ইউএস-বাংলার চেন্নাই ও কলকাতা রুটে ফ্লাইট শুরু

আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা, চট্টগ্রাম-চেন্নাই-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

সপ্তাহের সোমবার ব্যতীত অন্য ৬ দিন ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কলকাতায় অবতরণ করবে।
এছাড়া কলকাতা থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ছেড়ে আসবে এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর সাড়ে ১২টায় অবতরণ করবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রতি সোম, বুধ, শুক্র ও শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে চেন্নাইয়ে অবতরণ করবে। একইদিন দুপুর দেড়টায় চেন্নাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে এবং বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে।

এছাড়া প্রতি মঙ্গল, বৃহস্পতি ও রোববার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে চেন্নাই ও চেন্নাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
উল্লিখিত দিনে ঢাকা থেকে সকাল ৯টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং চেন্নাই থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে দুপুর দেড়টায় ছেড়ে আসবে এবং চট্টগ্রামে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ও ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পৌঁছাবে।

১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক

Can tourism in Cox's Bazar survive the Covid-19 effect? | The Daily Star
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং সমুদ্রতীরে গড়ে উঠছে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক। পরিকল্পিত এই আধুনিক পর্যটন পার্কে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে বেশ কিছু কোম্পানির বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
এগুলো পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে ১২টি কোম্পানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বেজার নির্বাহী বোর্ড। কোম্পানিগুলো পার্কের মধ্যে তারকা হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ করবে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি ডলার বা দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
বেজা জানায়, পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এক হাজার ৪৭ একর আয়তনের এ পার্কে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা রেখে অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়া ১২ কোম্পানি ১১৬ একর জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করবে।
এতে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। ১২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি বিদেশি কোম্পানি আছে। সিঙ্গাপুরের ইন্টার এশিয়া গ্রুপ ৮৩ একর জমিতে নয় কোটি ডলার বিনিয়োগে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট করবে। এতে প্রায় ছয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। আর নেদারল্যান্ডসের লিজার্ড স্পোর্টস বি.ভি. কোম্পানিও হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ করবে।
Reopening plan raises hope for Cox's Bazar tourism
এ ছাড়া দেশি কোম্পানি হোয়াইট অর্কিড গেস্ট হাউস, মুনলাইট ওভারসিস, বিসিএস মাল্টিপারপাস ওয়েলফেয়ার কো-অপারেশন সোসাইটি, ডাটা সফট সিস্টেম বিডি ও প্রজেক্ট প্রমো, নিট প্লাস, বায়োটেক প্রিন্টিং প্লাস, ইফাদ অটোস, ইফাদ মোটর, দি কক্স টুডে ও সুইট ড্রিম ম্যানেজমেন্ট বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। তিনটি কোম্পানির সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি সই করেছে বেজা। আরো চারটি কোম্পানি জমি বরাদ্দপত্র ইস্যু করেছে।
এই পার্কের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস ও কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দোহওয়া কনসালট্যান্টস যৌথভাবে মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রণয়ন করেছে। বেজা মাটি ভরাট; ভূমি, সড়ক উন্নয়নসহ অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম করছে। পার্কটি টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ৮ কিলোমিটার ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে ২ ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে। আর ঢাকা থেকে দূরত্ব ৪৫০ কিলোমিটার। এটি পাহাড় ও সমুদ্রসৈকত নিয়ে বহুমুখী ও বৈচিত্রপূর্ণ চমৎকার একটি অঞ্চল।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ উপযোগী প্রাকৃতিক বৈচিত্র মাথায় রেখেই এ পার্কের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এখানে বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। এখন কিছু এলাকায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত বালি পাওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারির পর বিকল্প উপায়ে বালি ও মাটি সংগ্রহ করে ভরাট করা হবে। আগামী মৌসুমে মাটি ভরাট কাজ শেষ করে ২০২১ সালে বিনিয়োগকারীদের জমি হস্তান্তর করা হবে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হোয়াইট অর্কিড হোটেলের মহাব্যস্থাপক রিয়াদ ইফতেখার বলেন, বেজা প্লট হস্তান্তর করলে নকশা অনুমোদনের জন্য দেওয়া হবে। নকশা অনুমোদনের পর দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করবেন তারা। তাদের নির্মাণ করা রিসোর্ট বিদেশি পর্যটকদের উপযোগী করা হবে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে জীব বৈচিত্রপূর্ণ, দেশি সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক পর্যটকবান্ধব করা হবে।
এর সঙ্গে কক্সবাজারের অন্যান্য পর্যটন স্থানের একটি সামগ্রিক যোগসূত্র স্থাপন করা হবে। পার্কের ৩০ শতাংশ বা ৩১৫ একর জায়গায় রিসোর্ট ও হোটেল, লেক তীরবর্তী রিসোর্ট ও হোটেল, সাধারণ হোটেল এবং সার্ভিস স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট করা হবে। ৮৩ একর জায়গা শপিং সেন্টার, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, অ্যামফিথিয়েটার, কনভেনশন সেন্টার, আ্যমিউজমেন্ট পার্ক হবে। ২০ একরে প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র করা হবে।
২৬ একর জায়গায় পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট, কঠিন বর্জ্য ও ই-বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট, পাওয়ার প্ল্যান্ট, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, পানি পরিশোধন ও সংরক্ষণাগার, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট হবে। ১৩ একর জায়গায় ওয়েলফেয়ার সেন্টার ও বৃদ্ধাশ্রম করার প্রস্তাব রয়েছে। আট একর জায়গায় বাস ডিপো, ট্রান্সপোর্টেশন হাব, হেলিপ্যাড ও জেটি স্টেশন করা হবে।
৫৪ একর জায়গায় রাস্তা, হাঁটা পথ ও বাইসাইকেল লেনের জন্য রাখা হবে। এই পার্কের ৫১ শতাংশ বা ৫২৮ একর জায়গা সমুদ্রসৈকত, ঝাউবন, লেক, সেন্ট্রাল গ্রিন ও পার্ক করা হবে।