বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত খাত হিসেবে অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ বছর ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ পালিত হচ্ছে।

১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ দিবস পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন’। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য পর্যটন নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি,  সামাজিক, সাংস্কৃতিক,  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া।

অন্যান্য বছর নানা আয়োজনে এ দিবস পালিত হলেও এবার করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনলাইন আলোচনা ছাড়া কোনও আয়োজন নেই।

করোনার প্রথম আঘাতই আসে পর্যটন খাতে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব ধরনের পর্যটন বন্ধ হয়ে পড়ে শুরু থেকেই। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের  (টোয়াব) দাবি, করোনার কারণে কমপক্ষে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে।

ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্পকে চাঙা করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ইতোমধ্যে একটি রিকভারি প্ল্যান তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন, তার মধ্যে পর্যটনশিল্পও অন্তর্ভুক্ত।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাবো, এ জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। আমরা সর্বস্তরের মানুষকে পর্যটনে সম্পৃক্ত করে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন শিল্পকে পরিচালনা করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়ন করা হয়েছে।’

গ্রামীণ উন্নয়ন প্রসঙ্গে মাহবুব আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে প্রতিটি গ্রামে। বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে জড়িয়ে আছে নানা ঐতিহ্য। গ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে জনসাধারণকে পর্যটন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য আমরা কাজ করছি। সচেতনতা তৈরির জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্মশালা করছে।’

 

বাসের স্কুলে স্বপ্নের হাতেখড়ি

বাসের স্কুলে স্বপ্নের হাতেখড়ি

রঙিন বাসটা একটি বিদ্যালয়। নাম—চাকার স্কুল। ছয় চাকার বাসের ভেতরটা সাজানো হয়েছে শ্রেণিকক্ষের আদলে। সেখানে দেওয়া হয় প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা। এই বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা।

বাসের গাজুড়ে রঙিন আঁকিবুঁকি—পেনসিল, কম্পাস, স্কেলসহ আর কত কী। চেনা এসব শিক্ষা উপকরণের মধ্যেই স্কুলপড়ুয়া শিশুর মুখ। পিঠে যার স্কুলব্যাগ, মুখে নির্মল হাসি। বাসের অপর পাশেও হাস্যোজ্জ্বল এক শিশুর ছবি। তার হাতে বইয়ের সঙ্গে যে ট্যাবলেট, আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে। তাই প্রথম দর্শনে রঙিন স্টিকারে মোড়ানো বাস দেখে আর দশটা স্কুলবাস বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ভুল ভাঙল ভেতরের গুঞ্জন, শ্রেণির কক্ষের খুনসুটি, খুদে পড়ুয়াদের গলা মিলিয়ে পড়ার আওয়াজে—‘স্বরে অ…’, ‘স্বরে আ…’।

রঙিন বাসটা আদতে একটি স্কুল, স্কুলের বাস নয়। নাম—চাকার স্কুল। ছয় চাকার বাসের ভেতরটা শ্রেণিকক্ষ। স্কুলটি রাজধানীর চারটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে পড়াচ্ছে বলেই নামকরণ করা হয়েছে ‘চাকার স্কুল’। সহজ করে বললে, চাকার ওপর স্কুল।

দরজা পেরিয়ে চালকের অংশের পর যাত্রীদের আসন থাকার কথা। সেসব আসনের বদলে তৈরি করা হয়েছে বসার জায়গা। তাতেই তৈরি হয়েছে বিশেষায়িত শ্রেণিকক্ষ। পরিপাটি সে শ্রেণিকক্ষে হোয়াইট বোর্ড, টেবিলে শিক্ষকের ডাস্টার, হাজিরা খাতার মতো চিরচেনা উপকরণ তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে গ্রন্থাগারও। বাসের পেছনের অংশে তৈরি করা হয়েছে যে তাক, সে তাকেই আছে বই, খেলনা, আর মাঝ বরাবর বড়সড় টেলিভিশন। করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই পাশে মুখোমুখি বসেছে খুদে শিক্ষার্থীরা। তাদের মুখে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতে মাখিয়ে শুরু হয়েছে পাঠপর্ব। কেউ কেউ পরেছে ফেস শিল্ড। মাস্ক পরায় অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও ফেস শিল্ড কপালে বেঁধে রাখতে যে ওরা অনভ্যস্ত, তা বোঝা যাচ্ছিল বারবার তা খুলে ফেলায়! তবু মাস্কে ঢাকা মুখেও স্কুলে আসার যে উচ্ছলতা, তা ফুটে উঠছিল চোখের ভাষায়।

একসময় ক্লাস শুরু হলো জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। তারপর শরীরচর্চা। ক্ষণিকের ব্যায়ামের পর অক্ষরজ্ঞানের ক্লাস শুরু করলেন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষের দুই পাশে দেয়ালে ছবি মিলিয়ে সাঁটানো আছে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, ইংরেজি বর্ণ আর গণিত। সেসবই পড়ানো হচ্ছিল তাঁদের। হাতে তুলে দেওয়া হলো ট্যাবলেট কম্পিউটার। বিশেষ অ্যাপে খুলে দেওয়া হয়েছে স্বরবর্ণ। প্রতিটি বর্ণে চাপ দিলে কথা বলে ওঠে যন্ত্রের শিশু—অ-তে অজগর। শিক্ষার্থীরাও কণ্ঠ মেলায় যন্ত্রের সঙ্গে।

রাজধানীর চারটি স্থানে দিনের নির্দিষ্ট সময় হাজির হবে এই চাকার স্কুল। নিম্ন আয়ের পরিবারের ৩০ জন করে মোট ১২০ জন শিশু পাবে পড়াশোনার সুযোগ। যাদের প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে বছরজুড়ে। তারপর এই শিশুদের ভর্তি করানো হবে কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাসের বিদ্যালয়টি পরিচালনাকারী সংগঠন ইটস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের তথ্য এটি।

সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের এই শিশুদের পড়াশোনায় হাতেখড়ি হচ্ছে চাকার স্কুলে। ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুরের শিন্নিরটেক এলাকায়।

ঢাকার মিরপুরের শিন্নিরটেক এলাকায় গিয়ে বাসে যাদের দেখা গেল, সেই শিশুরা এসেছে পাশের বস্তি থেকে। কারও বাবা রিকশাচালক, কারও মা গৃহপরিচারিকা। এই মা-বাবারা হয়তো স্বপ্ন দেখেন নিজের সন্তানকে পড়াশোনা করানোর। অনেকের চেষ্টাও হয়তো আছে। চাকার স্কুল সেই চেষ্টাকে সহজ করে দিয়েছে।

ইটস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আদনান হোসাইন। এই তরুণ জানালেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ার সুযোগ তৈরি করতেই তাঁর গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এখন তাঁদের তিনটি স্কুলে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। ২০১০ সালে স্কুলের মাধ্যমে শুরু হলেও এখন শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সামাজিক নানাবিধ কাজের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে ইটস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আদনান বলছিলেন, ‘চাকার স্কুলে আমরা ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা দান করব। তাদের নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিসহ মানসিক বিকাশে চাকার স্কুল ভূমিকা রাখবে।’

চাকার স্কুলের বাস

এ বছরের মার্চ থেকে স্কুলটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে আগস্ট থেকে মিরপুরে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু করে চাকার স্কুল। বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুটি শাখায় পাঠদান করানো হয়। দুটিই মিরপুর এলাকায়। পরে তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর ও টঙ্গীতেও শুরু হবে চাকার স্কুলের কার্যক্রম।

স্কুলের শুরু এ বছর হলেও পরিকল্পনা বছর পাঁচেক আগের। ‘চাকার স্কুল’ নামের স্বত্বও নেওয়া হয়েছে বছর দুই আগে। আদনান বলছিলেন, ‘২০১৮ সালে আমরা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি। এরপর সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব পাঠাই। কয়েকটি সংস্থা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের কেউ বাস কিনে দিয়েছে, কেউ জোগান দিচ্ছে শিক্ষকদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচের।’

আদনানের কাছে ইটস ফর হিউম্যানিটির গল্প শুনতে শুনতেই স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বাজে। সার ধরে নেমে আসে পড়ুয়ারা। হাতে তুলে দেওয়া হয় কেক আর জুস। খাবার পেয়ে ইয়াসমিনের মুখে যেন আনন্দ আর ধরে না। তাকে জিজ্ঞেস করি, কী পড়লে আজ? চটপটে ইয়াসমিন বলে, ‘আমি এ, বি, সি, ডি পড়ছি। ক, খ পড়ছি।’ তুমি স্কুলে কেন আসো? নির্মল হাসিতে সে বলে, ‘বিস্কুট পাই, চকলেট পাই…’। কথা হারিয়ে ফেলে মেয়েটা।

ইয়াসমিনের মতো এই শিশুদের অনেকের হাতেখড়ি চাকার স্কুলে। শুধু তো আর বিদ্যার শুরু নয়, তাদের মনের মূল ধারায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখার শুরুটাও এ স্কুলে। তাই চাকার স্কুলেই হয়েছে পিছিয়ে পড়া এই শিশুদের স্বপ্নের হাতেখড়িও।

১৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট থেকে পাস করে বেরিয়ে ২০১০ সালে মেঘদূত ট্যুরিজম শুরু করেছিলেন খন্দকার জহিরুল আলম। ধীরে ধীরে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পর্যটক নিয়ে যেতে থাকেন। করোনার ধাক্কা সামলাতে না পেরে গত জুনে গুলশানের কার্যালয়টি বন্ধ করে দেন তিনি। এখন মালিবাগের ছোট একটি কামরা নিয়ে আবার শুরু করেছেন।

মেঘদূত ট্যুরিজমের মতো ৬৭৮টি প্রতিষ্ঠানের সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। নানাভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন টোয়াবের সদস্যরা। টোয়াব বলছে, এ বছর শুধু তাদের সদস্যদের ক্ষতি ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তবে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপটার বলছে, পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব খাত মিলে এক বছরে ক্ষতি হচ্ছে ১৮ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা।

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা বলছে, গত বছর ১৫০ কোটি পর্যটক বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এ বছরের প্রথম ৬ মাসে এটি ৬৫ শতাংশ কমেছে। এ সময় সারা িবশ্বে ৪৪ কোটি পর্যটক কমেছে। আর ৪ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার হারিয়েছে বিশ্ব পর্যটন খাত। অর্থনৈতিক মন্দায় ২০০৯ সালে ক্ষতির চেয়ে এবার পর্যটন খাতে ৫ গুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দেব দেশের পর্যটনে করোনার প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, আগের বছরের চেয়ে আয় কমতে পারে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। দেশের পর্যটন খাতে ১৮ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

আগের বছরের চেয়ে আয় কমতে পারে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। দেশের পর্যটন খাতে ১৮ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

সন্তোষ কুমার দেব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক

পর্যটন খাতে করোনার প্রভাব মূল্যায়ন করে পাটা বাংলাদেশ বলছে, জুন পর্যন্ত পর্যটন খাতে ক্ষতি ৯ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে বছর শেষে এটি ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় পর্যটন চালু হওয়ায় ক্ষতি কিছুটা কমলেও তা তেমন বেশি নয়।

পাটা বাংলাদেশের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটন থেকে টোয়াব সদস্যদের অতটা আয় নেই। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যটক ট্যুর অপারেটর ছাড়াই ভ্রমণ করে। বিদেশিরা আপাতত আসবেন না, দেশি পর্যটকও বিদেশে যাবেন না। তাই শীতের ভ্রমণ মৌসুমেও এবার কোনো আয়ের সম্ভাবনা নেই।

টোয়াব বলছে, দেশে মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরু হলেও গত জানুয়ারি থেকে পর্যটন বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের ভেতরে যাঁরা এখন বেড়াচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই ট্যুর অপারেটরদের গ্রাহক নন। আগামী জুনের আগে কোনো আশা নেই পর্যটন খাতে। আর ২০২২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না পাটা বাংলাদেশ চ্যাপটারের মহাসচিব। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ পর্যটনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও সীমান্তবর্তী দেশের সঙ্গে পর্যটনে গুরুত্ব দিতে হবে।

টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, মালিকেরা নিজেদের সম্পদ বিক্রি করে পরিচালন ব্যয় চালিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষ কর্মী হারানোর ভয়ে বেতন দিয়ে কর্মীদের ধরে রাখছেন। বারবার দাবি জানালেও সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা বা প্রণোদনা পাচ্ছেন না তাঁরা।

টিকিট কাটায় জড়িত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন আটাবের মহাসচিব মো. মাযহারুল এইচ ভূইয়া বলেন, খুবই সীমিত পরিসরে কিছু উড়োজাহাজ সেবা চালু হয়েছে। শিগগির ব্যবসা স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

গতকাল শনিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। পর্যটন খাতও তার আওতায় আছে। ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ নিতে হবে। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনসাধারণকে পর্যটনে সম্পৃক্ত করতে ও তাঁদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে।

 

নোবেল পুরস্কারে অর্থের পরিমাণ বাড়লো

নোবেল পুরস্কারে অর্থের পরিমাণ বাড়লো

নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরা এ বছর অতিরিক্ত ১০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি পাবেন। নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধানের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া এ কথা জানিয়েছে।

পুরস্কারের মোট মূল্যমান এ বছর বেড়ে এক কোটি সুইডিশ ক্রাউন হয়েছে বলে স্টকহোমভিত্তিক দৈনিক ডেজেনস ইন্ডাস্ট্রির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান লার্স হাইকেনস্টেন বলেন, ‘আমাদের ব্যয় আর সম্পদের মধ্যে সাম্যাবস্থা আগের তুলনায় ভিন্নভাবে দেখা দিচ্ছে বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিনামাইট উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল ১৯০১ সাল থেকে চালু হওয়া এ পুরস্কারের জন্য তিন কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন রেখে গিয়েছিলেন। আজকের দিনে এর মূল্যমান প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন।

পুরস্কারের মূল্যমান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। দেড় লাখ ক্রাউন থেকে শুরু হয়ে ১৯৮১ সালে এর মূল্যমান দাঁড়ায় ১০ লাখ ক্রাউন। ১৯৮০ থেকে ’৯০ এর দশকে এ মূল্যমান বেশ খানিকটা বেড়ে ২০০০ সালে ৯০ লাখ ক্রাউন এবং তার পরের বছর এক কোটি ক্রাউনে পৌঁছায়।

তবে, ২০০৮-০৯ সালে বিশ্বমন্দার প্রভাব ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগের ওপর পড়লে, প্রাক্তণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হাইকেনস্টেনকে এর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১২ সালে নোবেল পুরস্কারের মূল্যমান ৮০ লাখ ক্রাউনে নামিয়ে আনা হয়। আর, ২০১৭ সালে আবার ৯০ লাখ ক্রাউন করা হয়।

হাইকেনস্টেন বলেন, ফাউন্ডেশন সময়ে সময়ে পুরস্কারের মূল্যমান বাড়াবে। এ বছরের শেষ দিকে নরওয়ের প্রাক্তণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিদার হেলজেসেন তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

১৭ অক্টোবর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নেপাল

Why visit Nepal? | FAQ | Magnificent Temples | andBeyond

অক্টোবর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নেপাল।দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে বিদেশী পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিচ্ছে নেপাল সরকার। কোভিড-১৯ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে দেশটির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চাইলেই যে কেউ নেপালে যেতে পারছেন না। বিদেশি পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের জন্য অবশ্যই করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে নিতে হবে। পরীক্ষা করাতে হবে নেপালের উদ্দেশে যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। -সাউথ এশিয়া মনিটর, পার্সটুডে
করোনার কারণে বন্ধ করে দেয়ার প্রায় ছয় মাস পর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

অনুমতি দেয়া হয়েছে এক শহর থেকে অন্য শহরে বাস চলাচল, হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোও খুলে দেয়ার। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ট্রাকিং ও পর্বতারোহী গ্রুপ বিদেশী ক্লায়েন্টদের পর্বতারোহনে নিয়ে যেতে পারবে। কোভিড-১৯ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে সরকারের মুখপাত্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিওয়ালী জানিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে খুলে দেয়ার অংশ হিসেবে সরকার ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট, আন্ত:নগরী বাস সার্ভিস, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছে।

বিদেশী পর্যটকদের আগমনের অনুমতিদান দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির কারণ হবে। বিশেষ করে স্থানীয় অধিবাসীদের বড় অংশ পর্যটন খাতের উপর নির্ভরশীল। তারা ট্রাভেল এজেন্ট, গাইড, শেরপা ও পার্বত্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করে এ পর্যটন সেক্টরে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস রোববার

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা ঘোষিত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা চলতি বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’কে অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের বিকাশে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।

একই সাথে বিশ্বদরবারে দেশের পর্যটন শিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের স্বতস্ফুর্তভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশের অন্যতম এজেন্ডা ‘গ্রাম হবে শহর’ যা এ বছর জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত প্রতিপাদ্যের সাথে অত্যন্ত সংগতিপূর্ণ। পর্যটন বিশ্বে শ্রমঘন এবং সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে স্বীকৃত।

সৌদির টিকেট পেয়েও অনিশ্চয়তায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী শ্রমিক

সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট হাতে পেয়েও প্রবাসে যেতে পারবে কি না-এ নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী শ্রমিক।

আজ শনিবার দুপুর দুইটায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী শ্রমিককে সৌদি এয়ারলাইন্স টিকেট দিয়েছে।
তাদের বলা হয় হয়েছে আগামীকাল সকাল সাতটার মধ্যে করোনাভাইরাস টেস্টের ফল হাতে নিয়ে এয়ারপোর্ট এ থাকতে হবে।

মাত্র এই কয়েক ঘণ্টায় করোনা টেস্টের ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দায়িত্বরত সিভিল সার্জেন্ট।
এনিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে অপেক্ষারত প্রায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী শ্রমিক।

সৌদির টিকিট বিক্রিতে বিশৃঙ্খলার জেরে সড়ক অবরোধ

সৌদি আরব প্রবাসীদের টিকিট বিক্রিতে বিশৃঙ্খলার জেরে রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলের সামনে প্রধান সড়ক অবরোধ করেছে টিকিট প্রত্যাশীরা।

শনিবার সকাল পৌঁনে দশটার দিকে রাস্তা বন্ধ করে কারওয়ান বাজার এলাকায় সোনারগাঁ মোড়ে অবস্থান নেয় তারা।

এর আগে সকাল আটটা নাগাদ কারওয়ান বাজারের হোটেল সোনারগাঁয়ে সৌদি এয়ারলাইন্স কার্যালয়ে তৃতীয় দিনের মত টিকিট বিক্রি শুরু করেছে।

পূর্ব নির্ধারিত ৩৫০টির বাইরে আরো ২শ টিকিট বেশি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সৌদি এয়ারলাইন্স।
তবে এর বাইরে কয়েক হাজার সৌদি প্রবাসী টিকেটের জন্য ভীড় করছেন অফিসের সামনে।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ টিকিট প্রত্যাশীরা আটকে দেয় সড়ক।
বন্ধ রয়েছে এই এলাকায় যান চলাচল। বিপাকে পড়েন অফিসগামী যএীরা।

১ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করছে ওমান এয়ার

১ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে ওমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট | 958796 | কালের কণ্ঠ |  kalerkantho

ওমান এয়ার ১ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

সংস্থাটি মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে বলেছে যে, করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ১ অক্টোবরের থেকে তারা আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ডানা মেলছে।

ওমান এয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা মাসক্যাট থেকে লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং ইস্তাম্বুলের সাপ্তাহিক দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং আরো ১২ টি দেশের ১৭ টি শহরে যাত্রা শুরু করছে।

নভেম্বরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ

প্রায় নয় মাস ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর আকাশে ফের ডানা মেলতে চলেছে দেশের বেসরকারি বিমানসংস্থা রিজেট এয়ারওয়েজ।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অপারেশন শুরু করে নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা করছে বিমান সংস্থাটি।
বহরে চারটি এয়ারক্রাফট নিয়ে নতুন করে ফিরে আসছে রিজেন্ট।

চলতি বছরের ২২ মার্চ হঠাৎ করেই তিন মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় রিজেন্টের ফ্লাইট চলাচল।তবে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তারা আর ফিরতে পারেনি।
বর্তমানে ফিরে আসার সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে রিজেন্ট।