করোনায় আক্রান্তে শীর্ষে স্বাস্থ্যকর্মীরা

করোনায় আক্রান্তে শীর্ষে স্বাস্থ্যকর্মীরা

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হারে পেশাজীবীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর রয়েছে পুলিশ, অন্যান্য চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা করোনা আক্রান্তে নিচের দিকে রয়েছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পুরো দেশের করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পেয়েছে। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পুলিশের হিসাব অনুসারে করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বাহিনীর সদস্যরা।

ড. ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পুরো দেশ থেকে যে তথ্য আসে সেগুলোর বিভিন্ন সূচক ধরে বিশ্লেষণ করি। আক্রান্তদের মধ্যে পেশাগত বিভাজন করে খুঁজে দেখারও চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা অন্য পেশাজীবীদের চেয়ে এককভাবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শুরুতে আক্রান্তের এই হার অনেক বেশি থাকলেও বর্তমানে কিছুটা কমে এসেছে। তার পরও এখনো স্বাস্থ্যকর্মীরাই বেশি আক্রান্ত।’

আইইডিসিআরের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি যেহেতু নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, তাই এ ধরনের গবেষণা ও বিশ্লেষণের বিষয়টি ভালো করে না জেনে বলতে পারছি না।’

অন্যদিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার কয়েকটি নন-কভিড হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সর্বাধিক আক্রান্ত হচ্ছেন নার্সরা।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুসারে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পেশাজীবীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী (চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য), ১৯.২ শতাংশ সরকারি-বেসরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, ১৬.৩ শতাংশ গৃহিণী, ১০.৯ শতাংশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১০.৭ শতাংশ ব্যবসায়ী, ৯.১ শতাংশ শিক্ষার্থী, ৩.২ শতাংশ অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, ১.৫ শতাংশ গার্মেন্টকর্মী, ১.৩ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবী, ০.৭ শতাংশ সংবাদকর্মী এবং ৫.৫ শতাংশ অন্যান্য পেশাজীবী রয়েছেন।

এসব তথ্যের বিষয়ে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, যা পরীক্ষা হচ্ছে বা আইইডিসিআরে তথ্য আসছে তার ভিত্তিতেই এ হিসাব। কমিউনিটি পর্যায়ে যেহেতু এখনো ব্যাপক পরীক্ষা হচ্ছে না, ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বাধিক আক্রান্ত কি না, তা আরো বড় পরিসরে জরিপ করে দেখলে ভালো হতো। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা যেহেতু জানা-অজানা সংক্রমিতদের সংস্পর্শে বেশি থাকছেন, তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সম্প্রতি দেশের কয়েকটি নন-কভিড হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের (চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মী) ওপর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণা জরিপ চালায়। অধ্যাপক ডা. ফজিলা তুন নেসা মালিকের নেতৃত্বে গবেষণা জরিপের ফলাফল স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল ‘কিউরিয়াস জার্নাল অব মেডিক্যাল সায়েন্স’-এ গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত হয়। ওই ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত গবেষণা জরিপটি চালানো হয়। এতে অংশ নেওয়া এক হাজার ৪০৯ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১৩৯ জন (৯.৮৬ শতাংশ) করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, যাঁদের বয়স ২০ থেকে ৬৯ বছরের মধ্যে। এঁদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ নারী, অন্যরা পুরুষ। আবার আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্সের চেয়ে অন্য সেবাকর্মীরা বেশি। এর মধ্যে চিকিৎসক ১৮ শতাংশ, নার্স ৪০.৩ শতাংশ, অন্য সেবাকর্মী ৪১.৭ শতাংশ।

আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪.২ শতাংশের জ্বর হয়। ৭.২ শতাংশ ছিল উপসর্গহীন। আক্রান্তদের প্রায় সবাই আইভারমেকটিন, ডক্সিক্যাপ ও অ্যাজিথ্রমাইসিন সেবন করেছেন। ৫৯ শতাংশ বাসায়, ২৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিলেন। এই ১৩৯ জনের মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। মারা গেছেন একজন। অন্যরা সবাই সুস্থ হয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও দেশজুড়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ-সংরক্ষণ করছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের মহামারির সময় অন্য পেশাজীবীর চেয়ে চিকিৎসাকর্মীরা বেশি আক্রান্ত হবেন, এটাই স্বাভাবিক। এ পর্যন্ত  দেশে করোনায় দুই হাজার ৬৮৮ জন চিকিৎসক, এক হাজার ৯৩১ জন নার্স, তিন হাজার ১৬৬ জন অন্য স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮২ জন চিকিৎসক, ১১ জন নার্স এবং সাতজন অন্য চিকিৎসাকর্মী মারা গেছেন। পেশাজীবীদের মধ্যে এককভাবে মৃত্যুর সংখ্যায় চিকিৎসক বেশি।’

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ বিভাগের ১৬ হাজার ৬৫২ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আর মারা গেছেন ৭২ জন।’

তাঁর দেওয়া হিসাব মতে স্বাস্থ্যকর্মীদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা হারে চতুর্থ অবস্থানে (১০.৯ শতাংশ) রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা, যেখানে স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের হার ২১.৭ শতাংশ।

প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে!

প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে!

 

প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের সংক্রমিত রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন বিকাশের শীর্ষস্থানীয় অধ্যাপক। ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক সারা গিলবার্ট ইনডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভ্রমণ এবং বনাঞ্চল বর্ধনের ফলে জীব জন্তু থেকে রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে গেছে, ।

করোনার উৎপত্তি ঠিক কোথা থেকে আসল তা এখনো প্রমাণ করতে পারেনি গবেষকরা, তবে বেশিরভাগের ধারণা এটি বাদুড় থেকে অন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে  পৌঁছেছিল। এছাড়া বিজ্ঞানীদের ধারণা ইবোলাও প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে আসছে।

চলতি বছরের জুনে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে চীনে সোয়াইন ফ্লুর একটি নতুন মাত্রা ধারণ করেছে যা  মহামারী হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে গবেষকরা লিখেছিলেন শূকর থেকে এই মহামারী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে প্রতি বছর জীব জন্তু থেকে সংক্রমিত রোগের কারণে লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বছরে সংক্রমিত রোগের শতকরা ৬০ ভাগ জীব জন্তু থেকে হচ্ছে।

অধ্যাপক গিলবার্ট বলেছিলেন, পৃথিবী আরও বিশ্বায়িত হওয়ার সাথে সাথে প্রাণী থেকে সংক্রমিত রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে থাকবে। অধ্যাপক গিলবার্ট, যার কাজ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনীন ফ্লু ভ্যাকসিনের গবেষণা করা  বলেছিলেন যে ২০১৭ -২০১৮ সালের মত অন্য একটি ফ্লু মহামারী আকারে দেখা দেবে।

গিলবার্ট বলেন,প্রতি শতাব্দীতে  মহামারী দেখা গিয়েছিল  এবং সেখানে প্রচুর আলাদা ফ্লু ভাইরাস রয়েছে আর এই কারণে  আমরা কখনও ফ্লু নির্মূল করতে পারি না। তিনি বলেন, আমরা পক্সকে নির্মুল করেছি,সেই সাথে আমরা পোলিও নির্মুলের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি, আফ্রিকাতে এখন কোন পোলিও নেই। হমের মত যে রোগ ছিলো তাও নির্মুল হচ্ছে যদিও এর সাথে প্রাণীর কোন সম্পর্ক নেই।

তবে ফ্লু প্রচুর পরিমাণে পাখির মধ্যে রয়েছে এবং এ থেকে সংক্রামক রোগের সম্ভাবনা এখনো প্রবল।

বিনা মাস্কে উড়োজাহাজে উঠলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে যাত্রীদের

মাস্ক না পরে উড়োজাহাজে উঠলে এ বার থেকে কড়া শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন সংশ্লিষ্ট যাত্রী।
তিনি ‘নো-ফ্লাই’ তালিকাভুক্ত হতে পারেন।
অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিমানে ওঠায় নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মর্মে বিভিন্ন বিমানসংস্থাকে নির্দেশিকা পাঠাচ্ছে ভারতের ডিজিসিএ (DGCA)।

করোনার মহামারীতে বিমানযাত্রার নিয়মকানুনে একাধিক বদল এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
বৃহস্পতিবার বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে আরও কিছু নতুন নিয়ম কার্যকর করল ভারতের বেসামরিক বিমান মন্ত্রকের নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীন ফ্লাইটে খাবার, আগে থেকে প্যাকেট করে রাখা স্ন্যাক্স এবং গরম পানীয় পরিবেশন করা যাবে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে প্রায় দু’ মাস বিমান বন্ধ থাকার পরেও তা যখন চালু হল, তখনও খাবার পরিবেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

নয়া নির্দেশিকা জারি করে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ডিজিসিএ। তবে খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ থাকছেই।

রিটার্ন টিকেট কেটে বিপাকে বিদেশগামীরা

করোনা মহামারীতে দেশে আটকেপড়া ও বিদেশ থেকে ফেরত আসা পৌনে তিন লাখ এবং বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেও যেতে না পারা সোয়া লাখসহ চার লাখ কর্মীর দিন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।
তারা কবে বিদেশে কাজে ফিরতে পারবেন, নিশ্চয়তা নেই তার। বিদেশ যেতে না পারলে দেশে কী করবেন, তাও অজানা।বিদেশ যেতে যে টাকা দিয়েছিলেন, তা ফেরত পাবেন কিনা জানেন না তাও।

বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের হিসাবে গত ১ এপ্রিল থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৪৩ জন কর্মী ফেরত এসেছেন বাংলাদেশে।
তাদের একটি অংশ ফিরেছেন কারামুক্ত হয়ে কিংবা অবৈধ হয়ে পড়ায় সাধারণ ক্ষমার সুযোগে। বড় অংশ ফিরেছেন কাজ হারিয়ে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রাক্কলনে, করোনা মহামারিতে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আগে অন্তত দুই লাখ কর্মী দেশে আসেন, যারা আটকা পড়েছেন। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার হিসাবে অন্তত সোয়া এক লাখ কর্মীর বিদেশ যাওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষের পথে ছিল। অনেকে বিদেশ থেকে রিটার্ন টিকেটও কেটে এসেছিলেন। তারা যেতে পারেননি। সব মিলিয়ে চার লাখ কর্মীর জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তায়।

চাঙ্গা হচ্ছে পর্যটন শিল্প

পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে ভিড় : মঙ্গলবার খুলছে সাজেক ভ্যালি খুলেছে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, বান্দরবান খাগড়াছড়ি, মাধবকুন্ড, চলনবিল হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট থেকে কক্সবাজারসহ দেশের বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চলনবিল, হালতিবিল, মাধবকুন্ড, লাউয়াছড়া, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, জাফলং, টাঙুয়ার হাওর, হাকালুকির হাওর ও সবুজ চা বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন কেন্দ্র সর্বত্র ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সব বয়সের মানুষ। করোনা আতঙ্কে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার ফলে এক ধরনের অবসাদ মানুষকে ঘিরে ধরেছে। বিশেষ করে শিশুরা ঘরবন্দি থেকে অনেকটা বিমর্ষ। এর থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ছুটছে সমুদ্র কিংবা পাহাড় ঘেরা প্রাকৃতির কাছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে বাংলাদেশের দার্জিলিং খ্যাত পর্যটন কেন্দ্র রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি। এটা খুললে কোলাহাল বাড়বে পর্যটকদের। সেই সাথে জীবন জীবিকার সংস্থান বাড়বে।
করোনা মহামারির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়- এ খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০ লাখ জনবল বেকার হয়ে পড়েছিল। পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় আবার সবাই কর্মচঞ্চল হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। খুব দ্রæত পর্যটন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ।

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যে ঘেরা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ধীরগতিতে হলেও এ শিল্পের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কারণে পর্যটন শিল্পের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডবিøউইএফ) ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমপেটেটিভনেস রিপোর্ট-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম বলা হয়েছে। এ রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ ধাপ এগিয়েছে, যা ২০১৭ সালে ছিল ১২৫তম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের মূল উপাদান হতে পারে এই দেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ। পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র, বনাঞ্চল, হাওরসহ বৈচিত্র্যের সম্ভার আমাদের এই দেশ। এই সম্পদগুলোকে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে এই দেশে দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আমাদের বর্তমান ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজতর করতে হবে। আমাদের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের কর্মকান্ডকে আরও পর্যটক বান্ধব করতে হবে। যেসব সূচকে আমাদের দেশ পিছিয়ে আছে, তাতে আরও মনোযোগ দিতে পারলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে এই শিল্পে আরও উন্নতি করতে পারবে। করোনাকালীন ক্ষতিও সহজে কাটিয়ে উঠতে পারবে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজার থেকে শামসুল হক শারেক জানান, র্পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবার স্বরূপে ফিরছে দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের অর্থনীতি। গত ১৭ আগস্ট থেকে খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসছেন কক্সবাজারে। করোনার কারণে দীর্ঘ পাঁচমাস ঘরবন্দি থাকার পর মানুষ ভ্রমণ করছেন পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সকলেই কক্সবাজার ভ্রমণ করে ক্লান্তি ও অবসাদ কাটানোর চেষ্টা করছেন। গতকাল পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কলাতলীর ডলফিন মোড়, লাবনী পয়েন্ট, সীইন পয়েন্টসহ সৈকত এলাকা ও হোটেল মোটেল জোনে পর্যটকদের পদচারণা। খবর নিয়ে জানা গেছে, হিমছড়ি ইনানী বিনোদন কেন্দ্রও সরব হয়েছে পর্যটকে। এদিকে করোনা সচেতনতায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার নির্দেশনা থাকলেও কিছু কিছু ভ্রমণকারী এবং ব্যবসায়ী তাতে এখনো কিছুটা অসচেতন দেখা গেছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছেন।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রমতে, কক্সবাজার শহরের সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল, ১৪০টিরও অধিক রেস্টুরেন্ট, ২ শতাধিক ট্যুর অপারেটর অফিসসহ পর্যটন শিল্পনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সচল হয়েছে। এর সাথে অর্ধশত পরিবহন সংস্থা ও বিমান পর্যটক পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে আসছে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসছেন পর্যটকরা। এখন উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ সৈকত, হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এতে আবারো চাঙ্গ হয়ে উঠছে কক্সবাজারের পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, গত ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সীমিত পরিসরে পর্যটন শিল্প গত ১৭ আগস্ট থেকে খুলে দেয়া হয়েছে। ভ্রমণকালে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, জেলার পর্যটন শিল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ ছাড়াও এরসঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত রয়েছে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সীমিত পরিসরে পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পর্যটকদের প্রতিও কঠোর দৃষ্টি থাকবে। কেউ স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া কোনো কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে এমন সতর্কতাও রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সকল ব্যবসায়ীদের ৬৫ দফা দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি কেউ সেই নির্দেশনা অমান্য করে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা আছে আগে থেকেই।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবুল কাসেম সিকদার জানান, দীর্ঘ পাঁচ মাস ব্যবসা বন্ধ থাকার কারণে বিপুল লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন বিধি-নিষেধ সহকারে হলেও পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ায় তারা আনন্দিত। কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্ধ লাখ শ্রমিক কর্মচারীর ঘরে আনন্দ ফিরে এসেছে। পাঁচ তারাকা হোটেল সীগালের সিইউ এমরুল হাসান রুমী এ প্রসঙ্গে বলেন, এ উদ্যোগ ভালো হয়েছে। পর্যটন সুবিধার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভালো হচ্ছে এবং কক্সবাজারের অর্থনীতি সচল হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম সেলিম জানান, জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন বালাই নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকির ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেকে মাস্ক ছাড়াই ঘুরছেন। টানা ৫ মাস বন্ধ থাকার পর ২২ আগস্ট ১৬টি শর্ত দিয়ে খুলে দেওয়া হয় পর্যটন স্পটগুলো। প্রথম দিন থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক লোকসমাগম হয়। পতেঙ্গা সৈকতসহ নগরীর প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে পর্যকটের ভিড় লেগে আছে। পার্কগুলোতে আসছে শিশুরা। নানা বয়সের মানুষ ভিড় করছে আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্ক, পতেঙ্গা সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে। নগরীর সিআরবি শিরিষতলা, ডিসি হিল, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক, কর্ণফুলী শিশুপার্ক, আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্ক, চান্দগাঁও স্বাধীনতা কমপ্লেক্সসহ বিনোদনকেন্দ্রে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা টানা পাঁচ মাসের বেশি সময় ঘরবন্দি। পার্ক উন্মুক্ত হওয়ায় তারা বেজায় খুশি। মা-বাবার হাত ধরে ছুটছে পার্কে, চিড়িয়াখানায়। খোলা আকাশ মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছে তারা।

মহানগরীর অদূরের আনোয়ারার পারকি সৈকত, রাঙ্গুনিয়ার শেখ রাসেল এভিয়েরি পার্ক, সীতাকুন্ড ও বাঁশখালীর ইকো পার্ক, সীতাকুন্ডের গুলিয়াখালী সৈকত, মীরসরাইয়ের মহামায়া লেকসহ সব বিনোদন কেন্দ্রেই এখন উৎসবের আবহ। এসব বিনোদন স্পটকে ঘিরে নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িতরা এখন দারুণ ব্যস্ত। দীর্ঘদিন পর পর্যটনের দুয়ার খুলে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি এসেছে। মন্দা কাটাতে শুরু করেছে পর্যটন খাত।

খুলনা থেকে আবু হেনা মুক্তি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে খুলেছে বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। করোনা পরিস্থিতিতে গত ৫ মাস ধরে বন্ধ ছিল এ অঞ্চলের সব পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল মোটেল, রেস্তোরাঁ, সব ধরনের পর্যটন ব্যবসা। তবে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এখনও উন্মুক্ত করা হয়নি। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি মানুষগুলো হাঁপিয়ে ওঠার পর খুলনার শহরের কোল ঘেঁষা রূপসা নদীর ওপর খানজাহান আলী সেতুটি খুলনাবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে সীমিত পরিসরে ভিড় জমাচ্ছে। শ্যামনগর রিসোর্ট, বটিয়াঘাটার রানা রিসোর্ট, ওয়াইসি রিসোর্টসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো চাঙ্গা হচ্ছে। এসব পর্যাটন কেন্দ্রগুলো আবারও স্বরূপে ফিরে আসায় আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

পটুয়াখালী থেকে মো: জাকির হোসেন, পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত কুয়াকাটা সাগর সৈকত। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই মাস আগে কুয়াকাটা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছুটিরদিন সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটা সাগর সৈকতে। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসাসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরিফ জানান, দীর্ঘদিন পরে কুয়াকাটার হোটেলগুলোর অধিকাংশ রুমই বুকিং হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। সাপ্তাহিক দুইদিন ছুটির সাথে একদিন বেশি ছুটি পাওয়ায় আজ সকাল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন ঘটতে থাকে।

খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২৮ আগস্ট শুক্রবার থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় খাগড়াছড়ির প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ফলে পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোও খুলছে। জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা ও মায়াবিনী লেক। এসব পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিদিন বাড়ছে পর্যটক। এদিকে খাগড়াছড়ির সবকটি বিনোদন কেন্দ্র এবং বাংলার দার্জিলিং নামে খ্যাত সাজেক ভ্যালি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়া কটেজ- হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট মালিকদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণসহ খাগড়াছড়ি জেলার স্থানীয় সাংবাদিক রুপায়ন তালুকদার এ প্রতিনিধিকে জানান- পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে কৃজ্ঞতাসহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সিলেট থেকে ফয়সাল আমীন জানান, ওরা ছুটছে দলে দলে প্রকৃতির নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাসের খোঁজে। করোনা পরিস্থিতি থামিয়ে দিয়েছিল তাদের সেই উচ্ছ্বাসময় পদধ্বনি। কিন্তু এখন নতুন করে শুরু হয়েছে প্রাণের মেলা সিলেটের সবকয়টি পর্যটন স্পটে। প্রতিদিন দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভিড় জমেছে। গতকাল (শুক্রবার) সিলেটের চা বাগান, গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, রাতারগুল ও জাফলংয়ে রাতারগুল, জাফলং দেখা গেছে ব্যাপক সংখ্যক পর্যটক সমাগম। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, লাউচড়া জাতীয় উদ্যান, ৭১ বধ্যভূমি, চা গবেষণা ইনস্টিটিট এসব প্রকৃতির মনমুগ্ধকর স্থানে পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকদের আনাগোনায় জমে উঠেছে আবাসিক হোটেল ব্যবসা। আগেভাগেই বুকিং ছাড়া হোটেল-রিসোর্টে স্থান পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা আনোয়ার হোসেন জসিম জানান, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে।

দিনাজপুর থেকে মাহফুজুল হক আনার জানান, এ অঞ্চলে ঐতিহাসিক কান্তজি মন্দির, রামসাগর তেঁতুলিয়াসহ অনেক বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী রংপুরের ভিন্নজগৎসহ আরো অনেক বাণিজ্যিক বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে। পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যটকদের আগমন আশানুরূপ হচ্ছে না। স্বপ্নপুরীর ম্যানেজারের দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, করোনাভাইরাসের পরে এখনো এখানে সাধারণ মানুষের আগমন নেই বললেই চলে। প্রতিদিন যেখানে গড়ে দশ হাজার লোকের সমাগম ঘটতো সরকারিভাবে খুলে দেওয়ার পর এখন ঘরে পাঁচশ’ লোক আসছে না। অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর একই অবস্থা।

নরসিংদী থেকে সরকার আদম আলী জানান, নরসিংদীর ব্যক্তি মালিকানাধীন বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্ক খুলে দেওয়া হলেও এখনো পর্যটকের খুব একটা ভিড় দেখা যাচ্ছে না। পার্কটিতে দৈনিক ২০ হাজার লোকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এখন দৈনিক ৫০০ লোকও পার্ক ভিজিট করতে আসছে না বলে কতৃপক্ষ জানায়। তবে খুব শিগগির আগের মত জমে উঠবে বলে তারা আশাবাদী।


0

করোনায় এমিরেটস, ইতিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজের হালচাল

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় তিন বিমানসংস্থা- এমিরেটস এয়ারলাইনস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজ। অঞ্চলটির ‘বিগ থ্রি’ নামে পরিচিত এই বিমানসংস্থা গুলো বিশ্বখ্যাত।
তারাই পরস্পরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীও। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিমানযাত্রায় ধস নেমেছে। তার প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানসংস্থা গুলোর ওপরেও।
সবাই চেষ্টা করছে করোনা মহামারির আগের অবস্থায় ফিরে যেতে। স্বাভাবিক যাত্রা শুরু করতে। কিন্ত মহামারির মধ্যে তাদের ব্যবসার হাল কেমন ছিল? এ প্রশ্নের উত্তর ব্যাখ্যা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যারোটাইমডটঅ্যারো।
প্রতিবেদনটি অনুসারে, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনা বন্ধের ঘোষণা দেয় গত ২৫শে মার্চ।

এর একদিন পর একই পথ অনুসরণ করে এমিরেটসও। পরবর্তী দুই মাস ধরে উভয় কোম্পানিই যাত্রী পরিবহণ বন্ধ রাখে।
তার জায়গায় কার্গো উড়িয়ে বেড়ায় ও মাঝে মাঝে নাগরিক ফিরিয়ে আনার কাজ করে।
তবে কিছুটা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল কাতার এয়ারওয়েজ। তারা যাত্রী পরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ না রেখে, সীমিত করে ফেলে।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যাত্রী পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পুরোপুরি বাদ করে দেওয়া হয় না। যাত্রীবাহী বিমানগুলো দিয়ে বিদেশে আটকে থাকা মানুষজনকে দেশে ফিরিয়ে নেয়, মেডিক্যাল সাপ্লাই ও কার্গো পরিবহণ করে।
ফলস্বরুপ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশ এগিয়ে যায় কাতার এয়ারওয়েজ।
এপ্রিলে তারা ঘোষণা দেয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনে পরিণত হয়েছে কোম্পানিটি। সেসময় বিশ্ববাজারের ১৭.৮ শতাংশই ছিল তাদের দখলে।

মধ্য-মে থেকে ফের ধীরে ধীরে যাত্রী পরিবহণের ব্যবসায় ফিরতে শুরু করে এমিরেটস ও ইতিহাদও। কিন্তু ততদিনে বেশ এগিয়ে ছিল কাতার।
প্রতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ৩০টি বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করছিল তাদের বিমান। তবে কাতার এয়ারওয়েজ লকডাউনের সময় ও এখনো এগিয়ে থাকলেও কমে এসেছে ব্যবধান।
এমিরেটস এয়ারলাইন্স ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ- উভয় এয়ারলাইনই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান।
আইএটিএ অনুসারে, চলতি বছর বিমান চলাচল কমে যাওয়ায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার হারাতে যাচ্ছে দেশটি।
অন্যদিকে, বিমান চলাচল কমায় কাতার হারাতে যাচ্ছে ৩০০ কোটি ডলার।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়।

Baishakh tourists throng Cox's Bazar beach

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ থাকা কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো কাল সোমবার থেকে ফের খুলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার আগেই হাজার হাজার পর্যটক এখন কক্সবাজারে।

খুলেছে হোটেল-মোটেল ও সৈকতের দোকানপাটও। তবে কয়েকদিন ধরে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকায় পর্যটকদের পদচারণায় বিঘ্ন ঘটছে।

গত ১৮ মার্চ থেকে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন, শহরকে রেডজোন ঘোষণা করে সব ধরনের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর গত ১ জুলাই থেকে লকডাউন শিথিল করে কক্সবাজার শহরের দোকানপাট খুলে দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়নি পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তবে গত সপ্তাহে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় কাল সোমবার থেকে পর্যটকদের জন্য সীমিত পরিসরে কক্সবাজার পৌরসভার দর্শনীয় স্থানগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

জেলা প্রশাসক জানান, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ১৩টি শর্তে খুলে দেওয়া হচ্ছে শহরের হোটেল-মোটেলগুলো। ফলে সোমবার থেকে কক্সবাজার শহরের সেই চিরচেনা দৃশ্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামীকাল সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও বিমান চলাচল খুলে দেওয়া হয়েছে আরো পক্ষকাল আগে। এর আগে গত মাসে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের হোটেলগুলো খুলে দেওয়া হয়।

হোটেল মালিকদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার আশা করেন, লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা মানুষগুলো মুক্ত হাওয়া খেতে আবারও কক্সবাজারে আসবেন।

তবে এখন একটি কক্ষে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত পর্যটক থাকার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাপল বেড ও টুইন বেডে সর্বোচ্চ দুজন অবস্থান করতে পারবেন। সে হিসেবে কক্সবাজারের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে একদিনে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার পর্যটক রাত যাপন করতে পারবেন। করোনার আগে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ ছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে কাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার আগেই কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে আসছে বেশ পর্যটক। কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় কক্সবাজার সমুদ্র উপকুলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ রয়েছে। এ কারণে কক্সবাজার শহর ও সৈকতে পর্যটকদের পদচারণায় বিঘ্ন ঘটছে।

Introduction To Hotel & Tourism

Introduction to Hotel & Tourism

Concept of tourism:   The concepts of tourism adopted (accepted) by the international association of scientific experts in tourism was put forward by the swiss Professors Hunkier and Kraft as follows: “tourism is the sum of phenomena (experience/ occurrence/ fact) and relationship arising (happen/occur/take place) from the travel and stay of nonresidents in so far as they do not lead to permanent resident and are not connected with any earning activity.” Since then the basic concepts has been broadened (spread out/ expand/ enlarge) to include various forms of business and vocational travel because their economical significance is same.

On an analysis of the above the definition we find the features of tourism: 

  • Tourism arises the movement of people to, and their stay in, various destinations.
  • There are two elements in all tourism – the journey to the destination and stay.
  • The journey to the stay should take place outside the normal place of residence and work.
  • The movement to destination is of a temporary character with the intention to return within a few days. Tourism is expected to spend a minimum of 24 hours and maximum of six month in the destination.
  • Destinations are visited for the purpose other than taking permanent residence or employment.

Tourism is a leisure activity, which involves as a wise judgment use of participation in tourism. But character of tourism distinguishes from migration, which means a long-term population movement with a view to taking up permanent residents.

  • The purpose of travel or visit, which express a practical motivation.
  • It is usually necessary to define the time element. The minimum and maximum period have to be established for a particular purpose.
  • Much tourism is characterized by seasonality or periodically (the high connectionof visitor activity at particular of the year).

New concept:  According to WTO “Tourism comprises the activities of persons travelling to and staying in places outside their usual environment for not more than one consecutive year for leisure, business and other purposes.”

 

 

বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

প্রতিকূল আবহাওয়ায় বরিশালের আভ্যন্তরীন রুটে সবধরণের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, বরিশাল নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া বৈরি আবহাওয়াও বিরাজ করছে। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া লক্ষীপুরগামী লঞ্চগুলো উত্তাল মেঘনা পারি না দিয়ে আবার বরিশাল নৌ বন্দরের ফিরে এসেছে।
বরিশাল বিভাগীয় আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ২৪ ঘন্টায় এই বিভাগে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সমুদ্রে স্পষ্ট লঘুচাপে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে।
আগামী দুইদিন এমন অবস্থা থাকতে পারে বলেও মনে করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মাহফুজুর রহমান বলেন, সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরগুলোতে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুম জানান, বিভাগের ৪২টি নদীর মধ্যে কোন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না। তবে সর্বশেষ সকাল ৯ টায় দৌলতখান উপজেলার সুরমা ও মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা এই বিভাগে সর্বোচ্চ নদীর পানি।