পোড়া কপাল প্রবাসীদের, সনদ নিয়ে ভোগান্তি আর অপদস্ত

পোড়া কপাল প্রবাসীদের। যেদিকে যাই সেদিকে ভোগান্তি আর অপদস্ত। ন্যূনতম সম্মানটুকুও যেন প্রাপ্য নই। অথচ নামে রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এমনভাবে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার রেমিট্যান্স যোদ্ধা আবুল বাশার।
সোমবার ভোর তখন সাড়ে তিনটা। হঠাৎ বেজে ওঠে মুঠোফোন। রিসিভ করতেই বলে ওঠেন, আমি আবুল বাশার বলছি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে।

কি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সকাল ৮টার ফ্লাইটের যাত্রী আমি। যাব দুবাইয়ে। কিন্তু করোনা বা কোভিড-১৯ সনদ না পাওয়ায় আমি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে অবস্থান করছি এখনো।

তার পাশ থেকে একই মুঠোফোনে শফিউল আলম নামে আরেকজন বলে ওঠেন, আমি আমিরাত প্রবাসী। আমিও বসে আছি সনদের জন্য। শাহ আমানত বিমান বন্দর থেকে সকাল ৬টার ফ্লাইটের যাত্রী আমি। তিনি বলেন, শুধু আমি নই, আমার সাথে কমপক্ষে আড়াইশো বিদেশগামী হাসপাতালের সামনে রাতভর অবস্থান করছে। নাওয়া-খাওয়া নেই, চোখে ঘুম নেই। সে কি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। আমাদের জন্য যদি বিন্দুমাত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে মনে করেন তাহলে একটু এসে দেখে যান।
তার পাশ থেকে জরিপ আলী নামে ওমান প্রবাসী একজন বলেন, আমি সকাল ৬টার ফ্লাইটের যাত্রী। এখানে যারা আছেন সবার কারো ৬টায়, কারো ৮টায়, কারো ৯টায় ফ্লাইট। কিন্তু এখনো করোনার সনদ মেলেনি কারোই। অথচ ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ৬ ঘন্টা আগে করোনার (কোভিড-১৯) সনদ পাওয়ার কথা। সে হিসেবে আমাদের হাতে আছে ৩-৪ ঘন্টা। সে এক শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা, সঙ্গে টেনশন। ফ্লাইট যদি মিস হয়, তাহলে অনেক টাকা গচ্চা যাবে, সঙ্গে টিকেটের টাকাও মার যাবে।
বিদেশগামীরা বলেন, বিমানের টিকেট নিশ্চিত করে ৩৫০০ টাকায় দু‘দিন আগে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিই। তখনও ৩-৪ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। যার রিপোর্টের সনদ রোববার বিকেলে দেয়ার কথা। কিন্তু রাত ১২টায়ও রিপোর্ট না পেয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে অবস্থান নেয় বিদেশগামীরা। বলা হচ্ছে-সার্ভারের সমস্যা। সার্ভারও এখন আমাদের দুর্ভোগের কারণ।
বিদেশগামীদের মতে, প্রায় ২৫০ জন বিদেশগামী সিভিল সার্জন অফিসের সামনে রাতভর দাঁড়ানো। এরমধ্যে অনেকের করোনা পজিটিভ পাচ্ছে, যারা আশেপাশেই দাঁড়ানো। সবকিছুর একটা লিমিট থাকে। তাদের এ সমস্যার কারণে অনেক প্রবাসীর বিদেশ যাত্রাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সার্ভার ডাউনের কারণে রোববারের রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হয়েছে। এতে বিদেশগামীরা কষ্ট পেয়েছেন। ওইদিন ২৮১ জন বিদেশগামীর করোনা সনদ দিতে হয়েছে। এতে আমাদেরও কষ্ট হয়েছে। উনারা ঘুমাননি, আমরা ঘুমিয়েছি তা নয়। তবুও এ জন্য আমি দু:খিত। এরপরও সবাইকে আমরা রাতের শেষের দিকে করোনা সনদ দিতে পেরেছি। আশা করি বিমানে উঠতে কারো অসুবিধা হয়নি।
প্রসঙ্গত, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশ যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই যাত্রীকে করোনা পরীক্ষার সনদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আর এ ৭২ ঘণ্টায় তাদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামে শুধু ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিআইটিআইডি হাসপাতালের পরীক্ষাগারে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত সোমবার থেকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা শুরু হয়। মঙ্গলবার থেকে বিআইটিআইডি প্রবাসীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু করে। চট্টগ্রামে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে ৬৬৩ জন বিদেশযাত্রীর নমুনা সংগ্রহ করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। এ পর্যন্ত ১১ জন প্রবাসীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
জানা গেছে, বিদেশগামী প্রায় সব ফ্লাইটই ছাড়ছে ঢাকা থেকে। ফলে যাত্রী যদি চট্টগ্রাম, সিলেট বা অন্যান্য জেলার বাসিন্দা হয় তার ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়। এ ধরনের যাত্রীকে নিজ শহর থেকে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে নিয়েই ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন বিপত্তি যাত্রীর ইন্স্যুরেন্স পলিসি (বীমা)।

সুখবর : আমিরাতে ভিসা নবায়নের সুযোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা ভিসা নবায়নের সুযোগ পাচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের ভিসা ও আইডির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়নের সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া যাদের ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারাও জরিমানা ছাড়াই দেশত্যাগ করার সুযোগ পাবেন।

১৩ জুলাই আমিরাতের ফেডারাল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইসিএ) এমন ঘোষণা দিয়েছে। এক মাসের রিনিউ ১২ জুলাই শুরু হয়েছিল, আইসিএর মুখপাত্র ব্রিগেস্ট খামিস আল কাবি একটি টিভি সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) আমিরাতের ফেডারেল কেবিনেট ভিসা ও আইডি সম্পর্কীয় পূর্ববর্তী ঘোষিত সকল সিদ্ধান্ত বাতিল করে সংশোধনী ঘোষণা করেছে।

নতুন ঘোষণা মতে যাদের ভিসা ও আইডি কার্ড এ বছরের (২০২০) মার্চ-এপ্রিলে শেষ হয়েছে তাদের ১২ জুলাই থেকে রিনিউ করতে হবে। যাদের ভিসা ও আইডি কার্ড মে মাসে শেষ হয়েছে তাদের ১১ আগস্ট থেকে রিনিউ করতে হবে, যাদের জুন ও ১১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রিনিউ করতে হবে। আর যাদের ১১ জুলাই হতে পরবর্তী সময়ে শেষ হয়েছে বা হবে তারা ক্রমান্বয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে রিনিউ করতে পারবেন।

যে সমস্ত দেশের সাথে বিমান যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে সে সমস্ত দেশের ইউএই রেসিডেন্স ভিসাধারীরা আমিরাতে প্রবেশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে তাদের যাবতীয় ডকুমেন্ট নবায়ন করার সুযোগ পাবেন। যারা আমিরাতের বাইরে অনূর্ধ্ব ছয় মাস অবস্থান করেছেন তারাও এ সুযোগ পাবেন।

ব্রিগেড আল কাবি পুনরায় উল্লেখ করেছিলেন, দেশের বাসিন্দা এবং নাগরিকদের নথিগুলি পুনর্নবীকরণের জন্য ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়। দেশের বাইরের লোকদের নবায়নের জন্য এক মাসের উইন্ডো থাকবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের আগমনের তারিখের ছাড়ের সময়কাল শুরু হবে।

করোনা সার্টিফিকেট সংগ্রহে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

সোনার হরিণ করোনা নেগেটিভ সনদ, বাতিল ...

প্রবাসী অধ্যুষিত কুমিল্লা অঞ্চলের বিদেশফেরত ব্যক্তিরা করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে নমুনা পরীক্ষার সিডিউল পেতে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাচ্ছেন না তারা। সরকার বিদেশগামীদের জন্য কোভিড নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করলেও সব জেলায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় প্রবাসীদের ভুগতে হচ্ছে। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ফি, নমুনা গ্রহণ ও সার্টিফিকেট নিতে নিয়মের বেড়াজালে যাত্রার আগে ঘাম ঝরিয়ে টানা তিন দিন ছুটাছুটি করছেন তারা। কিন্তু সময়মতো করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারায় বিদেশযাত্রা বাতিল হচ্ছে অনেকের।

জানা গেছে, বিদেশযাত্রীদের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে একমাত্র কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ছয় জেলার প্রবাসীদের নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা ছাড়াও অপর পাঁচ জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনীর প্রবাসীদেরও কুমিল্লায় আসতে হচ্ছে এই পরীক্ষার জন্য।

প্রবাসীরা বিমানের টিকেট কনফার্ম করার পর তিন দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাতে পান সার্টিফিকেট। গত (২০ জুলাই) সোমবার থেকে কুমিল্লায় শুরু করা হয় নমুনা সংগ্রহ। বিদেশযাত্রীদের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার একমাত্র স্থান হচ্ছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব। গত মঙ্গলবার থেকে ওই ল্যাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও নমুনা সংগ্রহ হয় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে। রিপোর্টও দেওয়া হচ্ছে এই কার্যালয় থেকে। রেজিস্ট্রেশন, নমুনা প্রদান ও রিপোর্ট গ্রহণের জন্য পরপর তিন দিন ব্যয় করতে হচ্ছে বিদেশযাত্রীদের। এ কারণে ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক বয়স্ক যাত্রীকেও বাধ্য হয়ে আসতে হচ্ছে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, কুমিল্লায় ছয় জেলার বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের সরকারি নিয়ম কানুন মেনে করোনা সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। গত ২০ জুলাই থেকে প্রায় ৫০০ প্রবাসীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে ৪০০ প্রবাসীকে। তার মধ্যে নয় জন প্রবাসীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবাসীরা করোনা সার্টিফিকেটের জন্য নমুনা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সামাজিক দূরত্ব না মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন ও নমুনা দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রবাসীরা সার্টিফিকেটের জন্য এসে উল্টো সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থেকে আবর আমিরাত (দুবাই) প্রবাসী জসিম উদ্দিন সোমবার কুমিল্লা এসেছেন করোনা সার্টিফিকেটেরে জন্য। তিনি গত শনিবার কুমিল্লা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নমুনা দিয়ে গেছেন। তার ফ্লাইট সোমবার বিকাল ৫টায়। তিনি বলেন, ‘সোমবার ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে ফেনী থেকে কুমিল্লা এসেছি করোনা সার্টিফিকেট নিতে। মাথায় চিন্তা রিপোর্ট পজিটিভ-নেগেটিভ নিয়ে। সকাল ১১টা পর্যন্ত বসে আছি সার্টিফিকেটের জন্য। রিপোর্ট পেলেই যেতে হবে ঢাকা বিমান বন্দরে।’ তার দাবি, হয় সময় বাড়ানো হোক, না হয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

অন্যদিকে গত শনিবার মিজানুর রহমান নামে এক প্রবাসী নমুনা দিতে এসে মলমপার্টির খপ্পরে পড়েছেন কুমিল্লা নগরীর চকবাজার বাস স্ট্যান্ডে। তিনি চৌদ্দগ্রাম মিয়া বাজার থেকে এসেছেন। ওইদিন তার ভাই নূরুন নবী জানান, অনেক যুদ্ধের পর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নমুনা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মলমপার্টি কবলে পড়ে তার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ফেনী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার আবর আমিরাত (দুবাই) যাওয়ার কথা। ফ্লাইট বিকাল ৫টায় কিন্তু ৪০ ঘণ্টায় করোনা সার্টিফিকেট পাননি।

লক্ষ্মীপুর থেকে নমুনা দিতে এসেছেন বাহরাইন প্রবাসী ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টায় এসে দাঁড়িয়ে আছি নমুনা দেওয়ার জন্য। রেজিস্ট্রেশন হলেও ৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও নমুনা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৯ তারিখ আমার ফ্লাইট। আজ নমুনা দিয়ে ফ্লাইটের আগের দিন সার্টিফিকেট পাবো কি না সেই চিন্তায় ঘুম আসছে না। কারণ বিমানের টিকিট কেটে ফেলছি।’ তার দাবি, রেজিস্ট্রেশন, নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট দেওয়া হলে তাদের দুর্ভোগ কমবে।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘কুমিল্লাসহ ছয় জেলায় এই পর্যন্ত প্রায় ৫০০ প্রবাসীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪০০ জনকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। যাদের পজিটিভ এসেছে তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের যেসব সমস্যা হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। তবে দালাল কিংবা কারও দ্বারা কেউ যাতে প্রতারিত না হন সে কারণে তাদের নিজেদের আসতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি ৩০ কিংবা ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রবাসীদের করোনা সার্টিফিকেট দিতে।

স্পেনে মিলছে না বাংলাদেশি পাসপোর্ট, চরম ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

স্পেনে বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশি পাসপোর্ট মিলছে না। ভুক্তভোগীরা পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। দূতাবাসের আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও সাড়া দিচ্ছে না বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

অনেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্প্যানিশ রেসিডেন্ট কার্ড রিনিউ করতে পারছে না বাংলাদেশি পাসপোর্ট না পাওয়ায়। এতে করে অনেকের অবৈধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবৈধ হলে বাংলাদেশে বৈধ ভাবে রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ নেই।

গতবছর ভুক্তভোগীরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে সরাসরি বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করলে তারা আশ্বাস দেন বিষয়টি সমাধান করবেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও সমাধান হয়নি বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সুপারিশকৃত আটকে থাকা পাসপোর্ট গুলোর। বাংলাদেশি পাসপোর্ট না পাওয়ায় চরম হতাশা এবং ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় আছেন ভুক্তভোগীরা।

বিমান চলাচল কম, প্রভাব পড়বে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে

করোনাভাইরাসের কারণে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঠিকতা কমে যেতে পারে। প্রতিদিন উড্ডয়মান বিমানের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার কারণে আবহাওয়ার এই আশংকা করা হচ্ছে।আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য যে বিশাল পরিমাণ তথ্যে প্রয়োজন হয় তার একটি বড় অংশ আসে বিমান চলাচলের সময় পাইলটের দেওয়া আবহাওয়ার প্রতিবেদন থেকে। অর্থাৎ পাইলট যে কিছুক্ষণ পর পর স্টেশনকে জানায় যে কত তাপমাত্রা, কত বাতাসের মধ্যে সে উড়ছে এই তথ্যগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের মতে বিমানের দেওয়া তথ্যগুলো কৃত্রিম উপগ্রহের দেওয়া তথ্যের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিমানের দেওয়া তথ্য এতো দরকারি কারণ, ভূমির স্টেশন, জাহাজ ও ওশান বুয়োজ থেকে কেবল ভূমিতে আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়। স্যাটেলাইট জানায় কেবল বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে। এর মধ্যবর্তী স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য আবহাওয়াবিধরা বিমানের প্রতিবেদনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

করোনাভাইরাস মহামারির ছড়িয়ে পড়াকে রোধ করতে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত এক মাসে ফ্লাইটের সংখ্যা কমেছে প্রায় এক লাখ। সামনের দিনগুলোতে আরও কমে যেতে পারে। আর এই কারণে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ব্যবহৃত ডাটার সরবরাহ কমেছে ৬৫ শতাংশ।পূর্বাভাস মডেলগুলোতে সাধারণত যত বেশ ডাটা ব্যবহার করা যায় তত বেশি সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া যায়। যে হোক আবহাওয়া হোক অন্য কোনও পূর্বাভাস।এদিকে আবহাওয়ার মডেলগুলো সাধারণত ক্যায়োটিক হওয়ার কারণে একটি ছোট্ট পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক বড় ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।সমস্যা সমাধানের উপায় হচ্ছে অনেকগুলো আবহাওয়া বেলুন আকাশে পাঠানো যেগুলো বিমানের হয়ে বায়ুমণ্ডলের মধ্যবর্তী স্থানের আবহাওয়ার তথ্য জানাবে।

রাজধানীতেও বন্যার পানি ঢুকছে

ঢাকার ডেমরার নলছাটা, দুর্গাপুর, তাম্বুরাবাদ, ধিত্পুর, খলাপাড়া, ঠুলঠুলিয়া, আমুলিয়া, মেন্দিপুর এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো বালু নদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নলছাটার কিছু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে।

জানা গেছে, এরইমধ্যে খিলগাঁওয়ের ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে ইদারকান্দি, ফকিরখালী, দাসেরকান্দি ও গজাইরাপাড়ার রাস্তাঘাট এবং নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ডিএসসিসির ৬, ৭১ ও ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলগুলোরও একই হাল।

এদিকে, বন্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ঢাকার আশপাশের এলাকার মানুষও। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মায় পানি বেড়ে এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপত্সীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্কুল, বেড়িবাঁধসহ এলাকার মহাসড়কের ঢালে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও শতাধিক মাছের খামার ও ফসলি ক্ষেত।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উত্তরাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা বানের পানিতে রূপগঞ্জের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।
গতকালও শীতলক্ষ্যা ও বালু নদের পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে।
শতাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। ডুবে গেছে ফসলী জমি, রাস্তাঘাট।

মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্রায় সব আঞ্চলিক পাকা সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বিশেষ করে শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গত রবিবার রাতে পানির তোড়ে শিশুয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে সরিষাবাড়ী-মাদারগঞ্জ যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
গাইবান্ধায় সব নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক ওপরে।

মধ্যপ্রাচ্যে যাবার অপেক্ষায় ১ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক

করোনা পরিস্থিতির কারণে এক লাখের বেশি শ্রমিকের বিদেশ যাত্রা আটকে আছে।

এদের মাঝে ৮৫ শতাংশ সৌদি আরবসহ মোট ৯৫ শতাংশ যাবেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বাকিরা অন্যান্য দেশে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) অনলাইনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী

নোমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিদেশগামী এসব কর্মীর মাঝে কারও ভিসা হয়েছে, আবার কারও টিকিট করা হয়েছিল।

কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তারা বিদেশ যেতে পারেননি। তারা যেন সবাই বিদেশ যেতে পারেন সে

বিষয়ে কোরবানির ঈদের পর নিয়োগকর্তা দেশের সাথে কথা বলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব কর্মীর ভিসা ও টিকিটসহ বিভিন্ন কাজ করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রায় ১৬ কোটি

টাকা খরচ হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সরকারি প্রণোদনা চেয়েছি। করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা দক্ষ শ্রমিক

পাঠানোর জন্য কাজ করব। যাতে কোনো দুর্যোগ আসলেও আমাদের কর্মীদের কোনও সমস্যা না হয়।
শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, অনেকে বলছে সৌদি বা অন্য দেশ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ লোক দেশে ফেরত আসবে।

এ তথ্য সঠিক নয়। করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে দেশগুলো যখন কাজ উন্মুক্ত করে দেবে তখন সব কর্মী আবার

কাজে যোগদান করতে পারবেন।

১ আগস্ট থেকে সীমান্ত উন্মুক্ত করছে কাতার

আগামী ১ আগস্ট থেকে কভিড-১৯ সংক্রমণে স্বল্প ঝুঁকির দেশগুলোতে থাকা নাগরিক ও প্রবাসী বাসিন্দাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করছে কাতার। ওইদিন থেকে বিদেশী কর্মী ও পারিবারিক ভিসার অভিবাসীসহ যাদের ভিসা আছে এমন যেকোনো ব্যক্তি কাতারে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা স্বল্প ঝুঁকির দেশের তালিকায় না থাকায় প্রবেশের পর বাংলাদেশীদের এক সপ্তাহ থাকতে হবে হোটেলে।

সম্প্রতি কাতারের যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ ও কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদেশীদের কাতার আসাসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।  এতে দেশ ও ক্যাটাগরিভেদে বিদেশীদের ফেরার ক্ষেত্রে আলাদা প্রক্রিয়া ও নিয়ম নির্ধারণ করেছে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সেখানে কভিড-১৯-এর স্বল্প ঝুঁকিতে থাকা ৪০টি দেশের তালিকা দেয়া হয়েছে। ওই ৪০টি দেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে কভিড-১৯ পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফল পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সাতদিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে স্বল্পঝুঁকির তালিকার বাইরে থাকা দেশগুলো থেকে যারা কাতারে ফিরতে চাইবেন, তাদের প্রথমে কাতার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ওয়েবসাইট কাতার পোর্টালে কাতারে ফেরার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।  এতে অনুমতি মিললে কাতারে আসার পর তাকে নির্ধারিত হোটেলে এক সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওই ব্যক্তি যদি কর্মী ভিসাধারী হন, তবে তার কোয়ারেন্টিনের খরচসংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বহন করতে হবে। তবে বিদেশী কর্মীদের ফেরার অনুমতি দেয়ার বেলায় সরকারি ও আধাসরকারি খাতে কর্মরত কর্মীদের চাহিদা ও কাতারের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

এ প্রসঙ্গে কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের প্রথম সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, কাতারে কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, কিন্তু ছুটিতে গিয়ে আটকা পড়েছেন এমন বাংলাদেশীরা আগামী ১ আগস্টের পর থেকে ফিরতে পারবেন।  তবে এজন্য আগে নিজ নিজ কর্মস্থলে তাদের যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে তারা কাতারে ফিরতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পারিবারিক ভিসায় যারা কাতারে থাকেন, তাদের মধ্যে যারা কভিডের স্বল্পঝুঁকির তালিকার বাইরের দেশ থেকে কাতারে ফিরবেন তাদের ফেরার পর নিজ খরচে এক সপ্তাহের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর তাদের করোনার পরীক্ষা করা হবে।  করোনার ফল নেগেটিভ হলে বাসায় আরো এক সপ্তাহের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর পজিটিভ হলে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে যেতে হবে। কোন কোন হোটেলে প্রথম সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, এরই মধ্যে সেগুলোর তালিকা ডিসকভার কাতার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই এক সপ্তাহের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে এক সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টিন প্রযোজ্য হবে।  তাদের মধ্যে রয়েছেন ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি, ক্যান্সার চিকিৎসাধীন ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও মা, লিভার ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী শিশু ও শিশুর মা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে অসুস্থ ব্যক্তি।

কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বে কম ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এসব দেশ থেকে কাতারে এলে বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট করা হবে এবং ১০টি শর্ত মেনে চলার শপথনামায় স্বাক্ষর করে এক সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সেক্ষেত্রে হোটেল কোয়ারেন্টিনের কোনো প্রয়োজন নেই। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালটা, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, লিথুনিয়া, লাটভিয়া, জাপান, সাইপ্রাস, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, স্লোভাকিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, মরক্কো, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্লোভেনিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, চেক, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, তুরস্ক, আইসল্যান্ড, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ও এন্ডোরা।

সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক লাফে কমে গেছে

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের দাম বোতল (১২ কোজি) প্রতি ১০০ টাকা কমিয়ে ৬০০ টাকা করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)।

তবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে বেসরকারি এলপি গ্যাসের বাজার।চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ সরবরাহ সক্ষমতা থাকায় সরকারি এলপিজির দাম কমলেও সুবিধা পাবে সীমিত সংখ্যাক গ্রাহক। বেসরকারি এলপিজির বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের দাম বোতল (১২ কোজি) প্রতি ১০০ টাকা কমিয়ে ৬০০ টাকা করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)।

তবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে বেসরকারি এলপি গ্যাসের বাজার।চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ সরবরাহ সক্ষমতা থাকায় সরকারি এলপিজির দাম কমলেও সুবিধা পাবে সীমিত সংখ্যাক গ্রাহক। বেসরকারি এলপিজির বাজার

বিশ্ব বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপিজির দাম আমরা বোতল প্রতি একশ টাকা কমিয়েছি। এখন থেকে বাজারে ৬০০ টাকায় ১২ কেজির সরকারি এলপিজির বোতল পাওয়া যাবে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) করপোরেশন কার্যালয়ে এলপিজির দাম কমানো সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সেখানে আগে থেকেই কমিটির করা সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মত হন সবাই। দাম কমানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছে

তা বাস্তবায়নে দু-একদিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অথচ বেসরকারি কোম্পানির এলপি গ্যাসের ১২ কেজির বোতল গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র অনুয়ায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে এলপিজি ব্যবহৃত হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন। ৯ বছরের ব্যবধানে এ চাহিদা ৭ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। যার মধ্যে মাত্র বছরে ২০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষম সরকারি এলপিজি কোম্পানি। ২০৪১ সালে এলপিজির চাহিদা ৮০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহা. শের আলী বলেন, গত ১০ বছরে ব্যাপক হারে এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে।এলপিজি ব্যবসায় ৫৬টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। আমরা মনে করছি, যে সব কোম্পানি অনুমোদন দেয়া হয়েছে এগুলো যদি উৎপাদনে আসে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আর কোনো সংকট হবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট থেকে এলপিজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমদানি ক্রড অয়েল থেকে সামান্য পরিমাণে এলপিজি পাওয়া যায়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কনডেনসেট ও ক্রড অয়েল থেকে প্রাপ্তএলপিজির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন। একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন। বাংলাদেশের দুটি কোম্পানি ত্রিপুরাতে এলপিজি রফতানির জন্য সম্প্রতি এমওইউ স্বাক্ষর করছে।

রাষ্ট্রীয় কোম্পানি দেশের মোট চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৯৮ শতাংশ এলপি গ্যাস দেশের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান যমুনা, বসুন্ধরা, ওরিয়ন, ওমেরা, নাভানা নিজ নামে এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্লিনহিট, টোটাল, পেট্রোম্যাক্স, লাফার্স, জি-গ্যাস, ডেলটা নামে বাজারজাত করছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ করেছিল, যাতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বোতলের গায়ে লিখে দেয়া হয়। তারা সহজেই এটি করতে পারে। এতে গ্রাহক এলপিজি সঠিক দামে কিনতে পারবেন। দেশের প্যাকেটজাত সব পণ্যেই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা থাকে। কিন্তু এলপিজি সিলিন্ডারের গায়ে দাম লিখতে ব্যবসায়ীরা রাজি হচ্ছেন না। তারা বলছেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর বিষয়টি নির্ভরশীল, তাই এলপিজির মূল্য এভাবে লিখে দেয়া সম্ভব নয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, যেকোনো খাতে সরকারি কোম্পানি থাকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। সরকারি কোম্পানি চাহিদার সিংহভাগ সরবরাহ করবে। যেটুকু পারবে না, সেটা বেসরকারি কোম্পানি বা ব্যবসায়ীরা করবে। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। দেশে এলপিজি খাত শুধু নয়, প্রকৃতপক্ষে গ্যাস খাত পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বছরের পর পর সরকারি এলপিজি কোম্পানির সক্ষমতা, বিপণন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের একটি অংশ অ;নৈ;তিক সুবিধা পাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে জনগণের। দাম বাড়লে জনগণকে সেটা দিতে হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. এম শাসুল আলম বলেন, আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ দেয়া না দেয়ার বিষয়টিও এলপিজি ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা এলপিজির বাজার ধরে রাখতে মরিয়া। অথচ আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ দিলে সরকারি রাজস্ব বাড়তো। অবৈধ ব্যবহার কমতো। এখন অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বিপিসির আধীনস্থ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, সরকারে সিদ্ধান্ত আছে এলপিজির বাজার সম্প্রসারণের। ইস্টার্ন রিফাইনারী দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন করা হলে তখন এলপিজি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

একইসঙ্গে মহেশখালীতে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অদূর ভবিষতে সেটা বাস্তবায়ন হলে সরকারি এলপিজির উৎপাদন সরবরাহ অনেক বাড়বে। গুণগত মান নিয়ে এক পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি এলপিজির গুণগত মান শতভাগ সঠিক।

নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে সুবিধা পেত বিরাট জনগোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এলপিজি নয়, পুরো গ্যাস খাত নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকের।বিপিসি চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন,