করোনাকালে শিশুদের সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে শিশুরা ঘরবন্দী। এ অবস্থায় তারা ইন্টারনেটে ঝুঁকে পড়েছে। অধিক সময় সেখানে ব্যয় করছে। অলস সময় কাটানোয় বাবা–মায়েরা আগের মতো সন্তানদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকারে বাধাও দিচ্ছেন না। ফলে শিশুদের সাইবার বুলিং বা হয়রানির ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

সুইজার‌ল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়ন (আইটিইউ) গতকাল বুধবার এমন সতর্কতার কথা জানায়। সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ লকডাউনের (অবরুদ্ধ) মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ফলে ১৫০ কোটি শিশুর স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শুধু অনলাইনে পড়াশোনার জন্যই নয়, সময় কাটাতে শিশুরা বাধ্য হয়েই ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ছে।

আইটিইউয়ের পরিচালক ডোরেন বোগডান-মার্টিন গতকাল অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাবা–মায়েরা এখনই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতে ইচ্ছুক নন, এমন সন্তানেরা নির্দিষ্ট বয়সের আগেই অনলাইনে আসছে। খুব কম বয়সের শিশুরা এখানে আসছে। অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার বুলিং থেকে নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা দক্ষতা তাদের নেই। তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে, পড়াশোনা শেষ করার পর বিনোদন, গেম খেলা এবং অন্যের সঙ্গে গল্পগুজব করার জন্য শিশুদের অনেক বেশি সময় অনলাইনে কাটছে।

অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষায় নীতিমালা ও নির্দেশাবলি তৈরি করে থাকে আইটিইউ। সংস্থাটির পরিচালক বোগডান-মার্টিন বলেন, অলনাইনে শিশুদের সুরক্ষায় সুপারিশমালা প্রণয়নের কাজ দ্রুতবেগে করে যাচ্ছে আইটিইউ। দুই সপ্তাহের মধ্যে সেই সুপারিশমালা প্রকাশ করা হবে।

করোনা মহামারির প্রভাব শিশুদের মনে নেতিবাচকভাবে পড়বে বলে আগেই সতর্ক করেছেন চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেছেন, ভাইরাস উদ্বেগজনক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় তা শিশুদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক উপদ্রব হিসেবে দেখা দিতে পারে। আইটিইউ এ–ও স্বীকার করেছে, ইন্টারনেট এখন দৈনন্দিন সামাজিক জীবনের বড় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু শিক্ষার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের পাঠদানের জন্য মঙ্গল হবে।

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় পাঠদান এগিয়ে নিতে অনেক দেশে অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ক্লাস হচ্ছে। তবে ডিজিটাল ডিভাইড বা বৈষ্যমের কারণে অনেকেই ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে এসব শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বোগডান-মার্টিন বলেছেন, ইন্টারনেট সুবিধার অভাবে শিশুদের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনলাইনে শিশু হয়রানির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং সংস্থাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে গত মাসে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। সেখানে করোনার মহামারির সময় সরকারগুলোকে শিশু সুরক্ষামূলক সেবা কার্যক্রম খোলা ও সচল রাখতে বলা হয়।

আইটিইউয়ের হিসাবমতে, বিশ্বে মোট ৩৬০ কোটি মানুষের ইন্টারনেট সুবিধা নেই। আর যাদের আছে, তাদের হয় অনেক অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, না হয় সংযোগের মান খুবই দুর্বল। সংস্থাটির এই পরিচালক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য যোগাযোগপ্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট।

পেশা বদলাচ্ছেন চিকিৎসকরা?

'সেই ছোটবেলা থেকে মা-বাবার মুখে শোনা, ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার (চিকিৎসক) হবে। মানুষের সেবা করবে; মুখ উজ্জ্বল হবে পরিবারের, সমাজে বাড়বে সম্মান-প্রতিপত্তি। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও চাইতেন, বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে তার প্রিয় শিক্ষার্থী। এই দুই পেশার বাইরে অন্যকিছু যেন কল্পনায়ই আসত না। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন ফিঁকে হয়ে এসেছে। সমাজে চিকিৎসকের সেই সম্মান আজ আর নেই।' মেডিকেলে ভর্তির শুরু থেকে যে যুদ্ধ আর অধ্যবসায়ের শুরু, ভর্তির পরও তার যেন শেষ নেই। টানা পাঁচ বছর সমাজ-পারিপার্শ্বিকতা সবকিছু বাদ দিয়ে বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা। এমবিবিএস কোর্স শেষের পর চলে বিসিএসের প্রস্তুতি। সবকিছু ঠিক থাকলে মেলে স্বাস্থ্য ক্যাডারের সুযোগ অর্থাৎ ছোটবেলা থেকে লালিত স্বপ্ন সেই সরকারি চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ। স্বাস্থ্য ক্যাডারের শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে পোস্টিং। সেখানে নেই কোনো গাড়ির সুবিধা, ভাড়ায় থাকতে হবে সরকারি কোয়ার্টারে! ব্যক্তিগত সহকারী ও আলাদা কোনো অফিস থাকবে না। পদোন্নতির জন্য প্রয়োজন হবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির, যা শেষ করতে লাগে ১৪-১৫ বছর। এখানেও সেই কঠিন অধ্যবসায়। রয়েছে জটিল পদোন্নতি প্রক্রিয়া, সহযোগী অধ্যাপক হলেও মিলবে না গাড়ি পাওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরির শুরুতে মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব, ডিসি অফিসের কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান। রয়েছে ধারাবাহিক পদোন্নতির সুযোগ, গাড়ি-বাড়ির সুবিধা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে মাসিক ৫০ হাজার টাকা। ব্যক্তিগত সহকারী, পাওয়া যাবে আলাদা অফিসও। আর ইউএনও হলে সরকারি বাংলো ও গাড়ির সুবিধা তো রয়েছে। পদোন্নতি পেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হতে পারেন। রয়েছে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়ার সুযোগ, প্রেষণে আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের সুযোগও আছে। তাহলে প্রশাসনিক ক্যাডার না হয়ে কেন চিকিৎসক হবেন তরুণরা- এমন প্রশ্ন ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নির্বাচিত হওয়া মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মূল্যায়ন বিবেচনায় স্বপ্নের সেই চিকিৎসক হওয়ার পেশায় মন টেকেনি। প্রশাসন পরিচালনার কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সম্মান। এ কারণে ডাক্তারি পড়লেও প্রশাসন ক্যাডার বেছে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যসেবা দিলেও নানাভাবে তাদের বঞ্চিত হতে হয়। সঠিক সময়ে পদোন্নতির সমস্যা, নানাভাবে লাঞ্ছিত-বঞ্চিত হওয়া, যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা না পাওয়াসহ রয়েছে নানা সমস্যা। এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক না হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এমন আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তাদের সবার একই মন্তব্য। 'ভাই, চিকিৎসক হয়ে লাভ কী? সেই মহান পেশা আজ আর নেই। এ কারণে চিকিৎসক হওয়ার বদলে পুলিশ, প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও কর- এ চার ক্যাডারের যে কোনোটি বেছে নেওয়া।' গত মঙ্গলবার ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাডার পদ বেছে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন পুলিশ, প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও কর ক্যাডারে। তাদের সংখ্যা কত- এমন প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি)। সঠিক সংখ্যা বলতে না পারলেও পিএসসি জানায়, এ সংখ্যা শতাধিক। কেন স্বাস্থ্য ক্যাডার ছেড়ে অন্য ক্যাডারে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা- এমন প্রশ্ন রাখা হয় দেশের নামকরা কয়েকটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কাছে। তারা জানান, দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেশায় না থাকার জন্য বেশিরভাগ অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নিরুৎসাহিত করছেন। এমনকি কিছু অভিভাবক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নি করতেও বাধা দিচ্ছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সর্বশেষ ব্যাচের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে ইন্টার্নিতে যোগ দেননি। যদিও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেট না দেয়ার ভয় দেখিয়েছে তবুও শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারপরও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নিতে যোগদানের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে চিকিৎসকদের নানামুখী ঝুঁকির কারণে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই পড়াশোনা শেষে বিসিএসে অন্যান্য ক্যাডারে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। পরিবার থেকেও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের এই পেশায় যোগদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। মা-বাবারা চাচ্ছেন না, তাদের সন্তান ঝুঁকির মুখে পড়ুক। চিকিৎসা ব্যতীত অন্য যে কোনো পেশায় যেতে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করছেন তারাও। কথা হয় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে। তারা বলেন, মেডিকেলে যারা পড়ে তারা অত্যন্ত মেধাবী। শুধু চিকিৎসা পেশা কেন, তারা অন্য পেশায়ও যেতে পারে। তাছাড়া চিকিৎসার চেয়ে অন্য পেশায় এখন সম্মান বেশি, সুযোগও বেশি। তাই তাদের সন্তানদের এখন পছন্দের যে কোনো পেশায় যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন। এছাড়া বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেশায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বেড়েছে মৃতু্যঝুঁকিও। এ কারণে তাদের সন্তানদের চিকিৎসা পেশায় থাকতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা অন্য ক্যাডারে যেতে পারেন, তবে এ হার যদি বেশি হয় সেটি উদ্বেগের- উলেস্নখ করে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, চিকিৎসকরা অন্য পেশায় যেতেই পারেন। কারণ একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর যে কোনো পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। যদি বিসিএসে কেউ প্রথম হয় তাহলে সে যে পেশায় যেতে চায় তাকে সে পেশা দিতে হবে। তবে খুব বেশি হারে যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে বিষয়টি উদ্বেগের। এ বিষয়ে কথা হয় গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'পরীক্ষাকেন্দ্রিক লেখাপড়ার কারণে আমাদের মূল্যবোধের চর্চা অনেকটা কমে এসেছে। যে কারণে ডাক্তাররা এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। বিষয়টা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ তাদের জন্য পরিবারের, সমাজের এবং রাষ্ট্রের বিনিয়োগ রয়েছে। তাদের দায়িত্ব সমাজের ঋণ শোধ করা। এ ব্যাপারে কোনো ঘাটতি থাকা উচিত নয়।' 'আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন ডাক্তারদের চিকিৎসা পেশায় টিকিয়ে রাখতে পারে' বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক। তিনি বলেন, 'ডাক্তারদের পেশা বদলানো নতুন কিছু নয়। করোনাভাইরাসের কারণে ভবিষ্যতে এই পেশা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও মনে হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করতে হবে। ডাক্তাররা চিকিৎসা ক্যাডারে যাওয়ার পর অন্যান্য ক্যাডারদের যে আমলাতান্ত্রিক সুবিধাগুলো আছে, সেগুলো যদি ডাক্তাররাও পান তাহলে চিকিৎসা পেশায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।' স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে এক লাখের বেশি চিকিৎসক নিবন্ধন নিয়েছেন। বর্তমানে সরাসরি চিকিৎসা পেশায় যুক্ত এমন চিকিৎসকের সংখ্যা (সরকারি ও বেসরকারি) ৬০-৭০ হাজার। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৫-৩০ হাজার। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা ও রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় কমপক্ষে দুই লাখ চিকিৎসক প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সূত্র অনুযায়ী, দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পাঁচ বছরের এমবিবিএস ডিগ্রি নিতে একজন শিক্ষার্থীর ব্যয় হয় ১৮-২০ লাখ টাকা। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় ১৫ লাখ টাকার মতো। এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা অন্য পেশায় চলে গেলে স্বাস্থ্যসেবার মানের তো উন্নয়ন হবে-ই না উল্টো তাদের পেছনে ব্যয়িত অর্থ বৃথা যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়াকে 'স্বাভাবিক' বলছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসলেও তারা যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছেন না। এ কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা বিসিএস পাস করে যোগ দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে তার পদোন্নতি হতে থাকে। অথচ একজন চিকিৎসকের পোস্ট গ্রাজুয়েট না করলে পদোন্নতি হয় না। চার বছরের কোর্স শেষ করতে অনেক সময় আট থেকে দশ বছর লেগে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়ে সে অন্য ক্যাডার বেছে নিচ্ছে। মহাসচিব আরও বলেন, চিকিৎসকরা মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়ার পরও প্রশাসন ক্যাডারের অধীনস্থ হয়ে থাকতে হয়। এটি তাদের জন্য অমর্যাদাপূর্ণ। এ কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সম্মানজনক পেশা বেছে নিচ্ছেন। একজন উপসচিব হয়ে যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ৩০ বছর পর একজন চিকিৎসক অধ্যাপক হয়ে সে সুযোগ-সুবিধা পান না। এছাড়া বর্তমান করোনা মহামারির কারণে অনেকে এ পেশা থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই চিন্তা করার সময় এসেছে। সরকার যদি এটাকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে ভবিষ্যতে নিম্ন গ্রেডের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা পেশায় আসবেন। এতে দেশের মানুষ ভালো চিকিৎসক থেকে বঞ্চিত হবেন।

করোনায় সারাবিশ্বে রেমিটেন্স কমবে ২০ শতাংশ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় বিশ্বব্যাপী রেমিটেন্স কমে যাবে ২০ শতাংশ। ২০২০ সালে রেমিটেন্স আনুমানিক ৫৭৩ ডলারে নেমে আসতে পারে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭১৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গুগলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিইডব্লিউ রিসার্চ সেন্টার এই পূর্বাভাস দিয়েছে।রেমিটেন্স প্রেরণকারী প্রধান দেশগুলোতে করোনার প্রাদুর্ভাবে চাকরি হারানোর কারণে বাংলাদেশেও রেমিটেন্স কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেশে আসার প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রেমিটেন্স কমে যাওয়া আমাদের দেশের জনগণ ও অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। পিইডব্লিউ’র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে যে ১০টি দেশের প্রবাসীরা ৬১ শতাংশ রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল করোনার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় গড়ে ১০ দিন পর পর সেই দেশগুলোর শ্রমিকদের চলাফেরা অনেক বেশি হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ রেমিটেন্স প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ কমেছে ২৯ শতাংশ, সৌদি আরবে ৩২ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৪১ শতাংশ, কানাডায় ৩৬ শতাংশ, জার্মানিতে ২৫ শতাংশ, ফ্রান্সে ৪৩ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ শতাংশ এবং ইতালিতে ৪৫ শতাংশ কাজ কমে গেছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও ফেডারেশনের ঢাকা নগর কমিটি গঠিত

“বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও ফেডারেশনের ঢাকা নগর কমিটি গঠিত। জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে পর্যটন খাতের অবদানের স্বীকৃতি, করোনায় কর্মহীন পর্যটন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বাসনে প্রণোদনা প্রদান, ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে সেগুন বাগীচাস্ত ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর আহবায়ক মোহা: রাশেদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভা থেকে মো: রাশেদুর রহমান কে আহবায়ক, আহসান হাবিব সেফ, ফারহানা ইয়াসমিন, মো: শামীম আহমেদ, সাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, শরিফ আহমেদ, মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, খালেকুজ্জামান লিপন, মো: ইকবাল হোসেন কে যুগ্ম আহবায়ক এবং আহসান হাবিব বুলবুল কে সদস্য সচিব এবং ২০ জন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ৩১ সদস্যের “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি এবং মুরাদ দেওয়ান সেফ কে আহবায়ক, রবিউল আউয়াল শেফ, মো: সালামত উল্লাহ, আরাফাত রুবেল, উমর ফারুক, আরিফ খান, নাজমুল ইসলাম, মো; সাজ্জাদ কে যুগ্ম আহবায়ক, খালেকুজ্জামান লিপন কে সদস্য সচিব ও ১২ জন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ২১ সদস্যের “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর ঢাকা নগর কমিটি গঠিত হয়।

জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে পর্যটন খাতের স্বীকৃতি ও করোনাকালে কর্মহীন পর্যটন শ্রমিকদের পুনর্বাসন দাও

জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে পর্যটন খাতের অবদানের স্বীকৃতি, করোনায় কর্মহীন পর্যটন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বাসনে প্রণোদনা প্রদান, ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে সেগুন বাগীচাস্ত ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর আহবায়ক মোহা: রাশেদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত পর্যটন জোটের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরাস এসোসিয়েশনের চেয়রম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর, সংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের পরিচালক কিশোর রায়হান, বাংলাদেশ সেফ ইউনিটি এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব শেফ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের খাত হল পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস পর্যটন। গত অর্থ বছরে পর্যটন শিল্প থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হয়েছে। দেশের মধ্যে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ লক্ষ ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের চলাচল অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রত্যক্ষভাবে ১৫ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ২৩ লক্ষসহ প্রায় ৪০ লক্ষ অর্ধদক্ষ-দক্ষ, অর্ধ শিক্ষিত-উচ্চ শিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ কোটি মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করেছে পর্যটন খাত। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক নৈসর্গকে পরিকল্পিত ভাবে উপস্থাপন আর পর্যটন খাতে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের জীবনমান ও সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করলে এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির সাথে জাতীয় আয়ে পর্যটন শিল্পের ভুমিকা বহুগুন বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট মজুরি কাটামোর অনুপস্থিতি আর শ্রম আইনের যথার্থ প্রযোগ না থাকায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেষ্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক পরিবহনসহ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন খাতের সাথে যুক্ত ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই করোনাকালে কর্মচ্যুত হয়ে, ন্যায্য মজুরি বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে। পর্যটন শিল্পের বর্তমান কর্মীদের এই দুরাবস্থা ভবিষ্যতে মেধাবী ও দক্ষ কর্মীদের এই খাতে আসতে নিরুৎসাহিত করবে। যা পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভাবনা কে দারুনভাবে বাধাগ্রস্থ করবে। জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে পর্যটন খাতের অবদানের স্বীকৃতি, করোনায় কর্মহীন পর্যটন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বাসনে প্রণোদনা প্রদান, ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে সেগুন বাগীচাস্ত ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
“বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর আহবায়ক মোহা: রাশেদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত পর্যটন জোটের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরাস এসোসিয়েশনের চেয়রম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর, সংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের পরিচালক কিশোর রায়হান, বাংলাদেশ সেফ ইউনিটি এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব শেফ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের খাত হল পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস পর্যটন। গত অর্থ বছরে পর্যটন শিল্প থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হয়েছে। দেশের মধ্যে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ লক্ষ ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের চলাচল অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রত্যক্ষভাবে ১৫ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ২৩ লক্ষসহ প্রায় ৪০ লক্ষ অর্ধদক্ষ-দক্ষ, অর্ধ শিক্ষিত-উচ্চ শিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ কোটি মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করেছে পর্যটন খাত। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক নৈসর্গকে পরিকল্পিত ভাবে উপস্থাপন আর পর্যটন খাতে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের জীবনমান ও সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করলে এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির সাথে জাতীয় আয়ে পর্যটন শিল্পের ভুমিকা বহুগুন বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট মজুরি কাটামোর অনুপস্থিতি আর শ্রম আইনের যথার্থ প্রযোগ না থাকায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেষ্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক পরিবহনসহ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন খাতের সাথে যুক্ত ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই করোনাকালে কর্মচ্যুত হয়ে, ন্যায্য মজুরি বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে।
পর্যটন শিল্পের বর্তমান কর্মীদের এই দুরাবস্থা ভবিষ্যতে মেধাবী ও দক্ষ কর্মীদের এই খাতে আসতে নিরুৎসাহিত করবে। যা পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভাবনা কে দারুনভাবে বাধাগ্রস্থ করবে। নেতৃবৃন্দ পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যত বিকাশকে নিশ্চিত করতেই এই খাতে প্রণোদনা দিয়ে এই শিল্পের সাথে যুক্ত দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ষা করার আহবান জানান। প্রতিনিধি সভা থেকে মো: রাশেদুর রহমান কে আহবায়ক, আহসান হাবিব সেফ, ফারহানা ইয়াসমিন, মো: শামীম আহমেদ, সাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, শরিফ আহমেদ, হোসাইন মোহাম্মদ আফজাল, খালেকুজ্জামান লিপন, মো: ইকবাল হোসেন কে যুগ্ম আহবায়ক এবং আহসান হাবিব বুলবুল কে সদস্য সচিব এবং ২০ জন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ৩১ সদস্যের “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি এবং মো: মুরাদ দেওয়ান সেফ কে আহবায়ক, রবিউল আউয়াল, মো: সালামত উল্লাহ, আরাফাত রুবেল, উমর ফারুক, আরিফ খান, নাজমুল ইসলাম, মো; সাজ্জাদ কে যুগ্ম আহবায়ক, খালেকুজ্জামান লিপন কে সদস্য সচিব ও ১২ জন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ২১ সদস্যের “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর ঢাকা নগর কমিটি গঠিত হয়।

ঢাকা ছেড়েছে ১ লক্ষ ভাড়াটিয়া

কুড়িগ্রামের রাশেদুজ্জামান চাকরি করতেন ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে। তাঁর ভাই কাজ করেন একটি সিরামিক পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানে। দুই ভাই উত্তরায় ভাড়া থাকতেন। মানের চাকরি নেই। উত্তরার বাসা ছেড়ে কুড়িগ্রামের কলেজ রোডে তাঁদের বাড়িতে উঠেছেন। অন্য ভাই সাদেকুজ্জামানের বেতন কমে অর্ধেক হয়েছে। তিনি শ্যামলীতে একটি মেসে উঠেছেন। রাশেদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমা’র চাকরি নেই। ছোট ভাইয়ের বেতন কমেছে। সেই কারণে বাসা ছাড়তে হয়েছে। আমি এখন কুড়িগ্রামের বাড়িতে আছি বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে। বাবা পেশায় একজন শ্রমিক।’ করো’’নাভাই’রাস মহা'মা’রির প্রভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগু'লোতে ছাঁটাই ও বেতন কমানো, বাসাবাড়ি ও মেসে নারী গৃহকর্মীদের কাজ না থাকা, সড়কে ভাসমান দোকানে বিক্রি সংকুচিত হয়ে আসা এবং ভিক্ষার পরিমাণ কমে আসায় ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। মধ্যবিত্ত অনেকেই বাসাভাড়ার চাপে তাদের পরিবার পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামে। পরিবারপ্রধান থাকছেন মেস ভাড়া নিয়ে। জুন মাসের প্রথম থেকেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভাড়ার সাইনবোর্ডের সংখ্যা বেড়েছে। ভাড়াটিয়া পরিষদ নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘আমা'দের কাছে যে হিসাব রয়েছে, তাতে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার লোক বাসা ছেড়ে দিয়েছে।’ রাজধানীতে ভাসমান মানুষ ও বস্তিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন’-এর কর্মক’র্তারা নিম্ন আয়ের মানুষের ঢাকা ছাড়ার বি'ষয়টি জানেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে কী’ পরিমাণ মানুষ করো’’নার প্রভাবে ঢাকা ছেড়েছে এর কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারি কোনো দ'প্ত র বা সিটি করপোরেশনের কাছে। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমা’রি অনুসারে, রাজধানীর জনসংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখ। ভাড়াটিয়া পরিষদের হিসাব মতে, এর মধ্যে ৮০ শতাংশ লোক ভাড়ায় বসবাস করে। সে হিসাবে ঢাকা শহরে ভাড়ায় থাকে এক কোটি ৩৬ লাখ মানুষ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করো’’নার কারণে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে সমাজের শ্রেণি কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটে গেছে। গত ৮ জুন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি একটি জ’রিপ তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই জ’রিপে বলা হয়েছে, সাধারণ ছুটির ৬৬ দিনে দেশের তিন কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৭১ জন লোক চাকরি বা উপার্জন হারিয়েছেন। করো’’নার বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আগে দেশে মোট দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল তিন কোটি ৪০ লাখ। ছুটির ৬৬ দিনেই ‘নবদরিদ্র’ মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৮০ লাখে। অর্থনীতি সমিতির মতে, সাধারণ ছুটির কারণে বহু’মাত্রিক ক্ষ'তির সম্মুখীন হয়েছে অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসা। বিশেষ করে ফেরিওয়ালা, হকার, ভ্যানে পণ্য বিক্রেতা, চা-পান-সিগারেট, খুদে দোকান, মুদি দোকান, ক্ষুদ্র হোটেল, রেঁস্তোরা, মাঝারি পাইকারি ব্যবসা। সারা দেশে এ ধরনের ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৮৬ লাখের ওপরে। তাদের ওপর নির্ভরশীল সাত কোটি ৮০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। যারা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৬ শতাংশ। প্রায় ১০ বছর পর পরিবারের লোকজনকে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায় পাঠিয়ে দেওয়ার সি'দ্ধান্ত নিয়েছেন রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা তৌহিদ আহমেদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বাড়িভাড়ার চাপে অসহ্য হয়ে পড়েছি। বেতন অনিয়মিত, তাই গ্রামে ঘর মেরামত করে পরিবার বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।’ গৃহকর্মী ফাতেমা ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের গ্রামে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি তিনটি বাসায় বুয়ার কাজ করতাম। এখন কাজ নেই। স্বামী ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করত, তাও বন্ধ। ঢাকায় চলার মতো অবস্থা নেই। এখন গ্রামে ফিরে যাচ্ছি। দেখি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গ্রামে কিছু করতে পারি কি না?’ রায়েরবাজারের বস্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন শামীম ও নূর জাহান দম্পতি। তাঁদের তিন সন্তান। স্বামী ছিলেন একটি বাড়ির প্রহরী। এখন চাকরি নেই। নূরজাহানেরও বুয়ার কাজ নেই। তাঁরা জামালপুরের সরিষাবাড়ীর গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৫ দিন আগে গিয়ে গ্রামের ঘর মেরামত করে এসেছি। গ্রামেই ফিরে যাব'।’ সেকেন্দার আলী ২০ বছর ধরে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন বাইরের দোকানে কেউ চা পান করতে আসে না। আয়-রোজগার বন্ধ। একদিকে দোকান ভাড়া, অন্যদিকে বাড়িভাড়া। আছে সংসার খরচ। কোনোভাবে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। তাই সব ছেড়ে কি’শোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার গ্রামে ফিরে যাচ্ছি।’  রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বেশ কয়েকজন বাড়িওয়ালার স'ঙ্গে সাধারণ ছুটি থাকায় অনেকেই দু-তিন মাসের বাসাভাড়া দিতে পারেননি। এখন অনেকেই হয়তো কাজে ফিরেছেন; কিন্তু আগের তুলনায় আয় কমে গেছে। অনেকেই বাসা ছেড়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাড়ির মালিকদের ওপর। যারা ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল তারা বিপাকে পড়েছে।  মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের ডি-ব্লকের ২০ নম্বর সড়কের বাড়িওয়ালা জামান মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমা’র এক ইউনিটের তিনতলা বাড়ির একটি ইউনিটে আমি পরিবার নিয়ে বসবাস করি। অন্য দুটি ইউনিটে ভাড়াটিয়া ছিল। একটি পরিবার চলে গেছে। অন্য পরিবার নোটিশ দিয়েছে, তারা গ্রামে চলে যাব'ে বলে জানিয়েছে।’  শরীফ আহমেদ ঢাকায় চাকরি করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ মালিক বিদায় করে দিলেন। এখন গ্রামে ফিরে যাচ্ছি। বাড়ির মালিককে জানিয়ে দিয়েছি।’    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহা'ম্মা'দ শরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমা’র ওয়ার্ডে করো’’না সংক্রমণের মাসখানেক পর থেকেই দেখছি অসংখ্য বাড়িতে ‘টু-লেট’ ঝুলছে। বহু মানুষ বাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।’  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মক’র্তা আবদুল হা'মিদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছে এটা ঠিক। তবে এর সংখ্যা আমা'দের কাছে নেই। বাসাবাড়ি খালি হলে আমা'দের রাজস্বও কমে যাব'ে। তবে কী’ পরিমাণ রাজস্ব কমবে, তা জানতে আরেকটু সময় লাগবে।’