দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা

৮৮ সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ...

প্রতিদিনই নদনদীর পানি বাড়ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বাড়ছে দুর্ভোগ। আগামী মাসের আগে এই পানি কমার সম্ভাবনা নেই। চলমান বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ১৯৮৮ সালের পর এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। হতে পারে এটি এই শতাব্দীতে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা।

উজান থেকে আসা পানিতে জুলাই মাসজুড়েই দেশের ৪০ ভাগ এলাকা ডুবে থাকতে পারে। বন্যায় পানিবন্দি হতে পারে ২৫ জেলার মানুষ। আবহাওয়াবিদরা জানান, মৌসুমি বায়ুর স্থায়িত্ব দীর্ঘ হওয়ায় বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এ কারণে বন্যার স্থায়িত্বকালও বেশি হবে। পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হতে পারে। তবে পরিস্থিতিতে মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশে দীর্ঘ সময় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারতের আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংসহ হিমালয় অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভারত তাদের ব্যারেজগুলোর জলকপাট খুলে দেয়ায় উজানের ঢল নামছে বাংলাদেশের নদনদীতে। যমুনা ও মেঘনায় পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে দেশের মধ্যাঞ্চল। দ্বিতীয় দফার বন্যায় প্রায় ২৫ জেলার ৪০ ভাগ এলাকা ডুবতে পারে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জেলার ১০২টি উপজেলাকে বন্যা উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উপজেলায় ৬৪০ ইউনিয়নের ছয় লাখ ৭৯ হাজার ১৭৮ পরিবার পানিবন্দি। বন্যায় এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৩১ জন। আর মারা গেছেন ২৫ জন। জাতিসংঘের ওসিএইচএ বলছে, বন্যায় অন্তত ৫৪ জন মারা গেছেন। বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন ৫৬ হাজার মানুষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, দেশের চারটি নদী অববাহিকার মধ্যে তিনটিতেই পানি বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা অববাহিকায় পানির সমতল আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহতভাবে বাড়বে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির সমতল স্থিতিশীল আছে। তবে পদ্মা নদীর অন্তত চারটি পয়েন্টে পানি বইছে বিপদসীমার উপরে। যমুনা নদী থেকে পদ্মায় পানি নেমে আসার ধারা অব্যাহত আছে। এ কারণে রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। পানি বাড়ার এ ধারা আরো ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। সবমিলে দেশে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

রাজবাড়ী ও ফরিদপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার উপরে বইছে। ফরিদপুরের ২৫টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে রয়েছে বিভিন্ন সড়ক। শহর রক্ষা বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করায় ঝুঁকির মধ্যে লাখো মানুষ। শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছেই। সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। বিচ্ছিন্ন রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও, বাড়ছে বাঙ্গালী নদীর পানি। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমির ফসল। সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও, দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। এখনো পানিবন্দি প্রায় দুই লাখ মানুষ। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছায় খাদ্য সংকটে মানুষ।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপৎসীমার উপরে। রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলা শহরে পানি প্রবেশ করায় অফিস, ব্যবসা বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কাজ কর্মে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া চরাঞ্চলের দুই লাখের বেশি মানুষ মাস খানেক ধরে বন্যার পানিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দেশের চলমান বন্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের পর এবারের বন্যা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কেউ পুনর্বাসনের বাইরে থাকবে না। সামনে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো বন্যা হওয়ার শঙ্কা আছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে বন্যা মোকাবিলা করার।
পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনূন নিশাত ভোরের কাগজকে বলেন, এবার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হতে পারে। ১৯৯৮ সালের বন্যার মেয়াদ ছিল ৬৩ দিন। ২০১৬ সালের পর চারটি বন্যা হয়েছে। ২০০৪ ও ২০০৭ সালেও মোটামুটি বড় বন্যা হয়েছে। কিন্তু কোনোটিই এবারের মতো এমন বড় ছিল না। মনে হচ্ছে এটি বেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে। ইতোমধ্যে এবারের বন্যার বয়স ২৬ দিন হয়েছে। সবমিলে ৩৫ থেকে ৪০ দিন ধরে বন্যা চলতে পারে।

পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. এ আতিক রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, এখন যে বন্যা সেটা পানি নামার বন্যা। নিম্নাঞ্চলে পানি নামতে গিয়ে প্লাবিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে সারাদেশে বৃষ্টি হওয়ায় প্রায় সব নদীতে পানি বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহ এ অবস্থা থাকবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছেন, ভারতের মেঘালয়, চেরাপুঞ্জি, আসাম, ত্রিপুরা, চীন ও নেপালের পানি এসে বাংলাদেশে বন্যার সৃষ্টি করেছে। বন্যা আরো বেশ কয়েকটি জেলায় বিস্তৃত হয়ে আরো সপ্তাহ দুয়েক স্থায়ী হতে পারে। নতুন ২৩ জেলায় বন্যা বিস্তৃতি লাভ করবে এবং তা আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হবে। চলমান বন্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যেসব কারণে সাবান-পানিতে হাত ধোয়া জরুরি

হাত ধোয়া সব সময়ই একটি ভালো অভ্যাস। যে কোনো ধরনের রোগ থেকে শত হাত দূরে থাকা যায়। আমরা সবাই জানি, হাত না ধুয়ে খাবার খেলে নানা রকম রোগ-বালাই, পেটের অসুখে পড়তে হয়। সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জাও ছড়িয়ে পড়ে একজন থেকে অন্যজনের শরীরে। করোনার এই সময়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। কারণ এই ছোট্ট অভ্যাসটির মাধ্যমে নিজেকে যেমন করোনার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, ঠিক তেমনি রক্ষা করা যায় পরিবারের সব সদস্যকেও। সেই সঙ্গে সংক্রমণ রোধ করে রক্ষা করা যায় প্রতিবেশী ও অন্যদের।

করোনা ভাইরাসটি অতিমাত্রায় সংক্রামক এবং সহজে মরে না এমন প্রকৃতির। বারবার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বদলে ফেলে। বাংলাদেশেই এখন পর্যন্ত চরিত্র বদলে ফেলেছে ৫৯০ বার। আপনার হাতে কোনোভাবে এটা লাগলে আপনি যেখানে হাত দেবেন, সেখানেই এটা লেগে যাবে এবং সেখান থেকে অন্য সবার শরীরে ছড়িয়ে যাবে। তাই বারবার হাত ধোয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। কে, কোথায় এটা লাগিয়ে দিয়েছে, আপনি জানেন না; আর আপনার হাত সেখানে পড়তেই পারে।

সাবান-পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ভালো করে ফেনা তুলে তারপর কনুইয়ের নিচ থেকে পুরো হাত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে। মনে রাখবেন, হাত না ধোয়া কিংবা যেমন-তেমন করে হাত ধোয়া আর ইচ্ছে করে নিজেকে ও অন্য সবাইকে করোনা আক্রান্ত করাÑ একই কথা। তাই চেষ্টা করুন সর্বদা যেন আপনার হাত নিরাপদ থাকে। খাবারের আগে, খাবার তৈরির আগে, পায়খানা-প্রস্রাবের পরে, হাঁচি-কাশির পরে, যে কোনো কারণে হাতে ময়লা লাগলে, বাইরে থেকে আসার পরে অবশ্যই আপনার হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।

মনে যদি প্রশ্ন আসে কেন এমন করে হাত ধুতে হবে? উত্তর জেনে নিন কিন্তু আমার এ ছোট অনুরোধটুকু মানুন।

করোনা ভাইরাস একটি অতিক্ষুদ্র প্রোটিন-লিপিডের (আমিষ ও চর্বি) মিশ্রণ। অথচ ভীষণ শক্তিশালী ও আত্রমণাত্মক! এর ধ্বংস বা ক্ষয় নির্ভর করে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং কি উপাদান দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার ওপর। চর্বির স্তরে মুড়িয়ে থাকার কারণে ভাইরাসটি সাবান ও ডিটারজেন্ট সহ্য করতে পারে না। কারণ সাবান ও ডিটারজেন্ট যে কোনো স্থানের তেল বা চর্বি সরাতে পারে।

এ কারণে থালা-বাসনের তেল-চর্বি পরিষ্কার করতে অধিক ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার করা হয়। কারণ ক্ষারীয় পরিবেশে চর্বি গলে যায়। সুতরাং সাবান যত বেশি ক্ষারীয় হবে, ভাইরাস ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। কাপড় কাচা সাবান সেজন্য এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। তা হলে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড কেন? হ্যাঁ, একটু সময় নিয়ে প্রচুর ফেনা তৈরি করলে ভাইরাসের গায়ের চর্বির স্তর ভেঙে গিয়ে এটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যাবে।

আরেকটি কথা, হাতের সব জায়গায় যেন ভালোমতো সাবান লাগে, সেটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। কনুই থেকে আঙুলের মাথা, নখের ভেতর পর্যন্ত সাবান লাগাতে হবে। কারণ এসব স্থান সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এবার ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললে হাত নিরাপদ হয়ে গেল। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, করোনামুক্ত থাকুন।

হাটভর্তি গরু ক্রেতা নেই

হাটভর্তি গরু ক্রেতা নেই

রাজশাহীর হাটে গরু ও বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা নেই

উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম পশুহাট সিটি হাট। কোরবানির ঈদের আগে হাটটিতে পা ফেলার জায়গা থাকে না। রবিবার আর বুধবারের সাপ্তাহিক হাট ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন বসাতে বাধ্য হন। ঈদকে সামনে রেখে হাটে প্রচুর গরু আসছে। কিন্তু ক্রেতা নেই আগের মতো। ফলে দিন শেষে ক্রেতার অভাবে বিক্রেতারা বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গরু। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত বসবে সিটি হাট। কিন্তু ক্রেতা সংকটের কারণে এখনই হতাশায় বিক্রেতারা। গোদাগাড়ী থেকে হাটে গরু নিয়ে আসা রাশিদুল জানান, আগের দুই দিনও হাটে গরু এনেছিলেন। কিন্তু ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। সামান্য কিছু লাভে বিক্রি করে দিতে চান। তারপরেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

ইয়াকুব নামের একজন খামারি জানান, আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসতেন গরু নিতে। এবার নেই বললেই চলে। স্থানীয় যারা গরু কেনেন, তারা এখনো গরু কেনা শুরু করেননি। এ কারণে হাটে গরু থাকলেও ক্রেতার অভাব। আবার অনেকে আসছেন শুধু দেখেই চলে যাচ্ছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে গরু কেনাবেচা বেড়েছে। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে গরু বেচাকেনা করতে পারলে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে খামার মালিকরা এমনটাই বলছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

অনলাইনের মাধ্যমে কোরবানির পশু বেচাকেনা হলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে যেমন রক্ষা পাওয়া যাবে, তেমনি খামার মালিকরা ন্যায্যমূল্য পাবে- এমনটাই বলছেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন আল ফারুক। তিনি জানান, খামারিরা অনেকেই ইতিমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে কোরবানির পশু বিক্রি করতে শুরু করেছেন। তবে এর বাইরে যারা হাটে গরু তুলবেন তাদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে গরু তুলতে হবে।

বুনো আবহে মাধবকুণ্ড

পর্যটকের আনাগোনা না থাকায় প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। গত বুধবার মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটনকেন্দ্রে।  ছবি: আনিস মাহমুদ

ছুটিছাটা বলে কিছু নেই। ছুটির দিনে হয়তো ভিড়টা বেশি। কিন্তু প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটকের পা পড়েছে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে, জলপ্রপাতের কাছে। বহু বছর ধরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের চেহারা এ রকমই। একদিকে জলপতনের গমগম আওয়াজ, অন্যদিকে মানুষের বিচরণ। টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে পাহাড়ি নির্জনতার শান্ত প্রকৃতি।

কিন্তু করোনাকাল যেন সেই প্রকৃতিকে তার আপন সৌন্দর্যে ফেরার একটুখানি সুযোগ করে দিল। পর্যটকের ভিড় নেই। নেই চেনা সেই কোলাহল। এতে নির্জন পাহাড়ি ঝরনার কাছে একটু একটু করে ফিরে আসছে বুনো আনন্দ। বন্য প্রাণীরা ফিরছে তাদের হারানো জায়গাটিতে। ঝরনার কাছে পাথরে পাথরে ঘুরছে শামুক, পাহাড়ি কাঁকড়া। সন্ধ্যায় হরিণ ডাকছে। ঘুরছে বনমোরগ। গাছে গাছে লাফালাফি বেড়েছে বানরের। অচেনা ঝোপ-লতাপাতা মাথা তুলছে খোলা ফাঁকফোকরে।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের হৃদয় খোঁড়ে তৈরি হওয়া মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক বন্ধ। নেই পর্যটকদের আনাগোনা। বন্ধ হয়ে আছে শতাধিক ছোটবড় দোকানপাট। নেই গাড়ি চলার শব্দ। মাধবকুণ্ডের প্রকৃতি এখন শান্ত, নিঝুম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এখন মাধবকুণ্ডে মানুষের পদচারণা নেই বলে ফিরছে প্রাণ-প্রকৃতি। মাধবকুণ্ডে চলার পথে জমে ওঠেছে শ্যাওলা। ফাঁকা জায়গাগুলোতে মাথা তুলছে বুনো ঘাসলতা, জেগে উঠছে চেনা-অচেনা গাছ। মাধবকুণ্ড ঝরনার কাছে পাথরে পাথরে ছড়িয়ে আছে ছোটবড় শামুকের ঝাঁক। একটু সাড়া পেলেই পাথরের ফাঁকে ফাঁকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাচ্ছে পাহাড়ি কাঁকড়া, যা মাধবকুণ্ডে পর্যটকের উপস্থিতির সময় কখনোই দেখা যেত না। মাধবকুণ্ডের কোলে যারা বড় হয়েছেন, সেই আদিবাসী মানুষগুলোও পুরোনো সময়ের সঙ্গে মিল খোঁজে পাচ্ছেন নতুন পরিবেশের, যা তাঁদের জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। একটু একটু করে তা আবার ফিরে আসছে।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত-সংলগ্ন মাধবকুণ্ড আদিবাসী খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) ওয়ান বর এল গিরি। তিনি বলেন, ‘মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন অনেক ভালো। করোনার আগে শামুক ও কাঁকড়া দেখা যেত না। এখন সিঁড়ির ওপরে শামুক ও পাহাড়ি কাঁকড়ার চলাফেরা দেখা যাচ্ছে। পাল পাল বনমোরগ দেখা যাচ্ছে। যখন ছোট ছিলাম, দেখতাম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ ছড়ায় মাছ ধরছেন। আগে যেভাবে ছড়াতে মাছ ধরতে দেখতাম, এখন সেভাবেই মাছ ধরা হচ্ছে।’

নিজ দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের ভিসা ‘বাতিল’ করলো আরব আমিরাত

করোনাভাইরাসের কারণে আরব আমিরাতের যে সকল প্রবাসীরা বর্তমানে নিজ নিজ দেশে অবস্থান করছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তবে এ খড়্গ পড়ছে শুধুমাত্র যারা ছয় মাস বা তার বেশি সময় আটকা পড়ে আছেন বা ছুটি কাটাচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় আমিরাতের মন্ত্রী পরিষদ। এতে বলা হয়েছে, ৬ মাসের বেশি আমিরাতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের দেশে অভ্যন্তরে প্রবেশের যে সুযোগ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।

অবশ্য, সীমান্ত বন্ধ থাকায় আশেপাশের দেশে আটকে থাকা নিজ দেশের বাসিন্দাদের জন্য এ সুযোগ রয়েছে। বিমান চালু হওয়া মাত্রই তাদের ফিরতে হবে বলেও জানায় আরব আমিরাত।

বিজ্ঞপ্তিতে বাতিল হয়ে পড়া প্রবাসীদের নতুন করে আবেদনের কথাও বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যাদের গত ১ মার্চের পর ছয়মাসের সময়সীমা শেষ হয়েছিল; তাদেরকে ভিসার জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।

গত বুধবার দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে আমিরাতে বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ সমাপ্ত হতে চলেছে। যদিও সরকার এ বছরের শুরুর দিকে ঘোষণা করেছিল, গত ১ মার্চের পরে মেয়াদ শেষ হওয়া ভিসা ডিসেম্বরের শেষ দিকে সয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করা হবে; তা আর হচ্ছে না। করোনভাইরাসজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যারা আটকে পড়েছেন, তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। নতুন করে তাদের আবেদনের সুযোগ দেবে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই থেকে ভিসা সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু করেছে আমিরাত সরকার। তাই যারা দেশে আছেন, এখনো ছয়মাস হয়নি তাদেরকে যতদ্রুত সম্ভব আমিরাতে প্রবেশের অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নেতৃবৃন্দরা। পাশাপাশি দেশে আটকে থাকা আমিরাত প্রবাসীদের ব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক হওয়ারও অনুরোধ করেছেন তারা।

দ্রুত ওজন কমায় কমলালেবু!

সারা বছরই বাজারে কমলালেবু পাওয়া যায়। কমলালেবু হল ভিটামিন সি সহ একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের উত্স। একাধিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, কমলালেবুর রস স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম। এছাড়াও নিয়মিত কমলালেবুর রস খেতে পারলে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সহজেই দূরে থাকা যায়।

কমলালেবুর খাওয়ার আরও কিছু উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক-

১) কমলালেবুর রস আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা সর্দি-কাশি, জ্বরসহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

২) কমলার রসে ক্যালোরি আর ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। ওজন কমাতে চাইলে কমলালেবুর রস অত্যন্ত কার্যকর একটি বিকল্প হতে পারে।

৩) কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি যা ফ্রি র‍্যাডিকেলের প্রভাবে ত্বকের শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ত্বককে বলিরেখা পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে থাকা ভিটামিন সি ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, দীপ্তিময় করে তুলতে সাহায্য করে।

৪) কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রেট। এই সাইট্রেটের ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি পাথর জমা ঠেকাতে সাহায্য করে। কিডনিতে জমা পথরের জন্য যে ব্যথা হয়, তা থেকেও মুক্তি দিতে কমলালেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী।

৫) কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। এ ছাড়াও কমলালেবুতে রয়েছে হেস্পিরিডিন এবং নারিঞ্জেনিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েডস (জৈব সংশ্লেষণ) যা আর্থ্রাইটিসের মতো ব্যথা উপশমে অত্যন্ত কার্যকর।

বেসরকারি এয়ারলাইন্স বন্ধের উপক্রম

করোনায় লোকসানের ভারে এখন বন্ধের উপক্রম দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো। সেই সাথে চাকরির অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এয়ারলাইন্সসহ অ্যাভিয়েশন খাতে জড়িত ৬৩ হাজার কর্মী। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে সরকারি বেসরকারিসহ বিমান কোম্পানিগুলোর লোকসান হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ১৭ শ’ কোটি, ইউএস বাংলার প্রায় ৪০০ কোটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ২০০ কোটি এবং নভো এয়ারের লোকসান ৬৯ কোটি টাকা। এর বাইরে সিভিল অ্যাভিয়েশন দেনা জমেছে শত শত কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

তবে এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান অল্পস্বল্প আয় করছে। শতাধিক পণ্যবাহী ও চার্টার্ড ফ্লাইট চালিয়ে গত তিন মাসে প্রায় আড়াই শ’ কোটি টাকা আয় করেছে বিমান। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিভিন্ন হারে তাদের কর্মীদের বেতন কমিয়েছে। আর বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের কর্মীদের অবৈতনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ বিমান আগে যেখানে বিশ্বের ১৭টি গন্তব্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করত সেখানে এখন মাত্র দু’টি গন্তব্যে ফ্লাইট চালু আছে। বেসরকারি তিনটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটির সকল কার্যক্রম এখনো বন্ধ রয়েছে। আর যা স্বল্প পরিসরে চালু আছে তা যাত্রী সঙ্কটে প্রস্তুতির পরও ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বছরের শুরু থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে বিমান যাত্রী এসেছে প্রায় আট লাখের মতো কিন্তু এর পর থেকে জুনে বিমান চলাচল পুনরায় চালুর আগ পর্যন্ত মোটে ৩৪ হাজার যাত্রী এসেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত বেসরকারি বিমান সংস্থার মধ্যে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সকল প্রকার কার্যক্রমই বন্ধ রয়েছে। এর বাইরে ছয় মাসে ইউএস বাংলার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ২০০ কোটি টাকা এবং নভো এয়ারের ৬৯ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। রিজেন্ট তাদের সব কর্মীকে তিন মাসের অবৈতনিক ছুটিতে পাঠিয়েছিল যা সম্প্রতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শুধু মহামারী পূর্ববর্তী সময়ে বিক্রি হওয়া টিকিটের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য অল্প কিছু কর্মী কাজ করছেন।

অপর দিকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আয়াটা) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় এই বছর বিমান যাত্রীর সংখ্যা গড়ে ৪৯ শতাংশ কম হবে। আয়াটার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত কোনো এয়ারলাইন্সে কর্মী ছাঁটাই না হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান কোম্পানি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের বেতন বিভিন্ন হারে কমিয়ে দিয়েছে। বিমান শ্রমিক লীগ বলছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সাথে জড়িতদের বেতন কমানো হয়েছে ১৫ শতাংশ আর কর্মকর্তা পর্যায়ে কাটা হয়েছে ২০ শতাংশ। এসব কারণে বিমান খাতের সাথে নানাভাবে জড়িত ৬৩ হাজার কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিরাজমান পরিস্থিতির বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহামারীর কারণে টানা আড়াই মাস বন্ধ থাকায় পর অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে ফ্লাইট। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ৩৫ দফা নির্দেশনায় বেড়েছে খরচ। যদিও যাত্রী খরায় কমে গেছে আয়। বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে সীমিত আকারে চালু ফ্লাইট অব্যাহত রাখাও অনেকটা অনিশ্চিত অবস্থায় আছে।

তিনি জানান, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির ১৭০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ক্যাপাসিটি লস ছিল ২৬ শতাংশ, যেটা মার্চের শেষে এসে দাঁড়িয়েছিল ৭৬ শতাংশ।

এর বাইরে মার্চের শেষে জুন পর্যন্ত সব কমার্শিয়াল অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সীমিত আকারে শুধু চার্টার্ড ও কার্গো ফ্লাইট চালানো হচ্ছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং সপ্তাহে ঢাকা-লন্ডন একটি কমার্শিয়াল ফ্লাইট চালু হয়েছে। তবে সেখানে অনেক বাধ্যবাধকতা আছে। কোভিড- ১৯ বিষয়ক স্বাস্থ্যবিধির কারণে এই দু’টি গন্তব্যেও উড়োজাহাজের আসন অনুযায়ী যাত্রী নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্দেশনা হচ্ছে, বিমানের পেছনের দু’টি সারি খালি থাকতে হবে। যদি বিমান চলা অবস্থায় কেউ অসুস্থ হয় তাহলে তাকে সেখানে আইসোলেট করা হবে। আবার সিভিল অ্যাভিয়েশন বলছে পাশাপাশি দুইজন বসতে পারবে না।

অপর দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো: কামরুল ইসলাম জানান, চলমান পরিস্থিতিতেই তারা এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন। কারণ প্রতি মাসে তারা এখন শত কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত। তিনি জানান, এই মহামারীতে তারা বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া বিদেশীদের নিজ নিজ গন্তব্য পৌঁছাতে বিভিন্ন দেশে ৫৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। তবে বর্তমানে নিয়মিত একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং দেশের ভেতরে কক্সবাজার ছাড়া বাকি রুটগুলোতে ৩৬ থেকে ৩৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, এ অবস্থায় টিকে থাকতে হলে সরকার থেকে তাদের কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন। এরমধ্যে অন্যতম হলোÑ অ্যরোনটিকাল, নন-অ্যরোনটিকাল চার্জেসগুলো আছে যেমন ল্যান্ডিং, পার্কিং, নিরাপত্তা, ন্যাভিগেশন এসবের চার্জগুলো আগামী পাঁচ বছরের জন্য মওকুফ। আর অপরটি হলো ফুয়েল কস্ট। বাংলাদেশে শুধু একটা কোম্পানির কাছ থেকে আমরা এটা কিনতে পারি। তাদের একটা মনোপলি আছে। জেট ফুয়েলের বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দামে ডিফারেন্স আছে। সেটা যেন একটা যৌক্তিক পর্যায়ে আসে। একটি এয়ারলাইন্সের অপারেশন কস্টের ৪০ শতাংশই হল জ্বালানি খরচ।

ব্যবসায়ীদের আস্থার সংকট বাড়ছে

ব্যবসায়ীদের আস্থার সংকট বাড়ছে

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে মারাত্মক আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা। আস্থার সংকট কাটাতে না পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।

এক সমীক্ষার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে বেসরকারি খাতে। ফলে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় আস্থা সূচক মাইনাস ১৯ দশমিক ২৭ পয়েন্টে নেমে আসে। অথচ ২০১৮ সালে একই সময়ে বেসরকারি খাতে এই সূচক ছিল প্লাস ৪৩ পয়েন্ট। বিশেষত এ সময়ে চীন থেকে পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন খাতের পণ্য উত্পাদন প্রক্রিয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়।

দেশের বিজনেস কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসল পার্টনার্স (এলসিপি)-এর এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স-২০১৯-২০’ (বিসিআই)- শিরোনামে বৃহস্পতিবার অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। গত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৫৯টি খ্যাতনামা বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে এ মানদণ্ড তৈরি করা হয়।

লাইট ক্যাসল পার্টনার্স (এলসিপি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমএসসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লাইট ক্যাসল পার্টনার্স (এলসিপি)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে লাইট ক্যাসল পার্টনার্সের পরিচালক জাহিদুল আমিন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চলমান অর্থনৈতিক ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের এখন অর্থনীতির নির্দিষ্ট খাতের পরিবর্তে প্রতিটি খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করার সময় এসেছে। তখনই আমরা পদ্ধতিগতভাবে সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে যেতে পারব।

সমীক্ষায় সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই মনে করেন, করোনার প্রভাবে গত ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ধস নামে। ৪০ শতাংশ ধারণা করছেন, এর প্রভাবে পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে সবচেয়ে বেশি হারে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশংকা রয়েছে। আলোচনায় এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়। এগুলো হচ্ছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ, বেসরকারি খাতে নিম্নতর ঋণপ্রবাহ, সরকারি সঞ্চয় স্কিমে সুদের হার কমে যাওয়া ইত্যাদি।

ভারতে একদিনে আক্রান্ত প্রায় অর্ধলাখ, মৃত্যু ছাড়াল ৩০ হাজার

করোনা

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৩১০ জন মানুষ। দৈনিক আক্রান্তের হিসাবে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

এ নিয়ে দেশটিতে কোভিড রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৮৭ হাজারেরও বেশি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে শুক্রবার এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আরও ৪৯ হাজার ৩১০ জন মানুষ কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৫ জন করোনার কবলে পড়েছে।

পাশাপাশি ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে কোভিড- ১৯।

বৃহস্পতিবার সারা দিনে ৭৪০ জন করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। প্রতিদিনই সেখানে নতুন করে আরও বহু মানুষ এই রোগের শিকার হচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গেও পাল্লা দিয়ে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে নতুন করে ২ হাজার ৪৩৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু কলকাতাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৫।

বৃহস্পতিবার সারাদিনে ৩৪ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে কলকাতাতে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দেয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দৈনিক হারে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলছে শহর কলকাতায়। তবে পিছিয়ে নেই উত্তর ২৪ পরগনাও। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই জেলায় ৫৪৫ জন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। এদিকে হাওড়াতে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩০৩ জন। ফলে রাজ্যের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশই বাড়ছে।

বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি, উদ্বিগ্ন কৃষক

রাজবাড়ীতে পাটখেতে বন্যার পানি। সম্প্রতি সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের কাঠুরিয়া গ্রাম থেকে তোলা ছবি। প্রথম আলো

রাজবাড়ীতে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের বাইরের পুরো চর এলাকায় আবাদ করা বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় মধ্য দিন কাটাতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। বন্যায় ৯ হাজার ৬২২ বিঘা জমির ফসলহানি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকেরা এসব তথ্য দিয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পাঁচটি উপজেলা নিয়ে রাজবাড়ী জেলা। এর মধ্যে চারটি উপজেলাই পদ্মার তীরে। এগুলো হচ্ছে রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, কালুখালী ও পাংশা। এসব উপজেলার এক হাজার ২৮৩ হেক্টর (৯ হাজার ৬২২ বিঘা) জমির ফসল বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৭২ বিঘার জমির পাট, ২ হাজার ১০ বিঘা বোনা আউশ, ২৪০ বিঘার রোপা আউশ, ২১০ বিঘার তিল, প্রায় ১ হাজার ২৮২ বিঘার বোনা আমন, ৭৫ বিঘা রোপা আমনের বীজতলা ও ৮৩৩ বিঘার বিভিন্ন ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজি আছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার চরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় খেতের বিভিন্ন ফসল তলিয়ে আছে। কিন্তু অনেক খেতের পাট পানির ওপরে কিছুটা মাথা বের করে আছে। তুলনামূলক উঁচু এলাকার পাটগাছ মাথা বের করে আছে। তবে পাটগাছের নিচের অংশ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তিলগাছের শুধু ডাঁটা বের হয়ে আছে। গাছ থেকে ফল ঝরে পড়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর তিনটি অংশে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। রাজবাড়ীর মহেন্দপুর ও পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে চার সেন্টিমিটার ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় সাত সেন্টিমিটার পানি কমেছে। তবে তিন পয়েন্টেই পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের কাঠুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সামাদ ব্যাপারী বলেন, পদ্মায় সাধারণত পানি শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আসে। কিন্তু এবার আষাড় মাস শেষ হওয়ার আগেই চলে এসেছে। এ কারণে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। তিনি তিন বিঘা জমিতে আমন, দুই বিঘা জমিতে পাট, সাত বিঘা জমিতে তিল আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে শুধু তিন বিঘা জমির তিল ঘরে তুলতে পেরেছিলেন। ওই তিল তিনি ১৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে তিল আরও পরিপক্ব হলে ভালো দাম পেতেন। জমির ধান দিয়ে আগামী ছয় মাস চলতে পারতেন। বন্যায় ধান নষ্ট হওয়ায় এবার হয়তোবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাবেন।

কাঠুরিয়া গ্রামের আরেক কৃষক ফিরোজ ব্যাপারী বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমির তিলের মধ্যে দুই বিঘার তিল বাড়ি নিতে পেরেছি। এ ছাড়া দেড় বিঘা জমির পাট, চার বিঘা জমির আমন ধান, আধা বিঘা জমির পটোল নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আগামী দিনগুলো অনিশ্চয়তায় কাটাতে হবে।’

পাংশার চররামনগর গ্রামের বাসিন্দা মালেক প্রামাণিক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে বাদাম চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। এখন আবার পাট ও ধানে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। ১২ বিঘা জমিতে পাট ও ১৪ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছিলাম। প্রতি বিঘা জমিতে অন্তত আট মণ করে পাট ও ধান সাত থেকে আট মণ করে পেতাম । কিন্তু হিসাব করে লাভ নেই। কোনো কিছুই ঘরে তুলতে পারি নাই। কেউ বলবে না, ১০ কেজি চাল নিয়ে যাও। আমাদের ক্ষতির কথা বলে কি লাভ হবে?’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস বলেন, জেলায় মোট জমির পরিমাণ ৭৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর। বন্যায় প্রায় চার কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটচাষিদের। যেসব কৃষক রোপা আমন ধানের চাষ করেছেন, তাঁদের জন্য দেড় মেট্টিক টন ধানের বীজতলা তৈরি করা হবে। এসব বীজতলার চারা কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। জেলার চরাঞ্চলের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী-১ আসনের সাংসদ কাজী কেরামত আলী বলেন, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পদ্মায় পানি বাড়তে পারে। তবে এখন তেমন ভাঙন নেই। পানি কমার সময় ভাঙন শুরু হবে। পাউবোকে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।