কাবা চত্বরে মহান আল্লাহর জিকির করছে পাখিরা!

কাবার চত্বর। যেখানে সব সময় হাজারো মানুষের তাওয়াফে ছিল মুখরিত, বৈশ্বিক মহা’মারি করোনায় সে দৃশ্য এখন বিরল। সেখানে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে সময় কাটায়। মনে হচ্ছে যেন, পাখিরা কাবা চত্বরে মহান রবের জিকির করছে।  দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে কাবা শরিফ চত্বরে তাওয়াফও বন্ধ রয়েছে। নীরব নিস্তব্ধ কাবা শরিফের মাতআফে আ’ইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই পাখির ঝাঁক নেমে পড়েছে। যেন তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদতে মশগুল।

হারামাইন শারিফাইন ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়া এক ছবিতে দেখা যায়, কাবা শরিফ চত্বরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাবা শরিফ সংলগ্ন মাকামে ইব্রাহিমের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার সামনেই পাখির ঝাঁক কাবা চত্বরে নেমে পড়েছে। কাবা শরিফের চারপাশ যেখানে সব সময় হাজারো মানুষের তাওয়াফে মুখরিত ছিল, সেখানে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে সময় কাটায়। মনে হচ্ছে যেন, পাখিরা কাবা চত্বরে মহান রবের জিকির করছে। হারামাইন শারিফাইন ফেসবুক পেজে এমনই মন্তব্য করছেন অনেকে।

অনেকে আবার এও মন্তব্য করেছেন, ‘হে আল্লাহ! পাখির মতো আমাদের কাবা চত্বরে সময় কাটানোর তাওফিক দাও। মহামারি করোনা থেকে মুক্তি দিয়ে তাওয়াফ করার তাওফিক দাও।’ ইতিমধ্যে ২০ বছর অপেক্ষার পর একাকি পায়ে হেটে কাবা শরিফ তাওয়াফের ইচ্ছাপূরণ করেছেন এক ব্যক্তি। যে কিনা ২০ বছর আগে এমন এক স্বপ্নে দেখেছেন, যার ব্যাখ্যা ছিল, ‘সে ব্যতীত অন্য কেউ কাবা চত্বরে তাওয়াফ করবে না।’ সম্প্রতি তা বাস্তবায়ন হয়েছে মর্মে খবর ও ভি’ডিও প্রকাশিত হয়েছে।

কবর খুঁড়তে গিয়ে হাজার বছর আগের কুরআনের আয়াত উ’দ্ধার হয়েছে খণ্ড খণ্ড পাথরে লেখা রয়েছে আয়াতগু’লি

৬৫৫ হিজরী সনে পাথরে খোদাই করে এই আয়াত সমূহ লেখা হয়েছিল খন্ড পাথরগু’লিতে কোরআন মাজিদের বিভিন্ন সুরার আয়াত খোদাই করে লেখা আছে কুরআন মাজিদের আয়াত লেখা খণ্ড পাথর গু’লো মক্কা ইসলামিক মিউজিয়ামে সংরক্ষিত করা হয়েছে আমা’দের প্রা’ণপ্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম নিজ হাতে আজওয়া খেজুরের বী’জ রোপণ করেছিলেন এ খেজুরের বী’জ রোপন ও জ’ন্মের পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ

যার ফলে এ খেজুরের রয়েছে বিশেষ বরকত ও ফজিলত হযরত সালমান ফার্সীর (রা:) মালিক ছিল একজন ইয়াহুদী। হযরত সালমান ফার্সী যখন মুক্তি চাইল তখন ইয়াহুদী এই শর্তে তাকে মুক্তি দিতে চাইল যে যদি তিনি নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার দেন এবং ত্রিশটি খেজুর গাছ রোপন করে আর খেজুর গাছে খেজুর ধরলে তবেই সে মুক্ত আসলে ইহুদির মুক্তি দেবার ই’চ্ছা ছিল না হযরত সালমান ফার্সীর (রা:) মালিক ছিল

একজন ইয়াহুদী। হযরত সালমান ফার্সী যখন মুক্তি চাইল তখন ইয়াহুদী এই শর্তে তাকে মুক্তি দিতে চাইল যে যদি তিনি নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার দেন এবং ত্রিশটি খেজুর গাছ রোপন করে আর খেজুর গাছে খেজুর ধরলে তবেই সে মুক্ত। আসলে ইহুদির মুক্তি দেবার ই’চ্ছা ছিল না কেননা সালমান ফার্সীর(রা:) পক্ষে ৬০০ দিনার যোগাড় করা কঠিন ছিল। আর ৬০০ দিনার যোগাড় করলেও খেজুর গাছ রোপন করে তাতে ফল

ধরে ফল পাকানো অনেক সময়ের ব্যাপার যাক হযরত সালমান ফার্সী(রা:) রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে ঘ’টনা বর্ণনা করলেন রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন তারপর হযরত আলী (রাঃ) কে সাথে নিয়ে গেলেন ইয়াহুদীর কাছে ইহুদী এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তবে ফল ফলাতে হবে। রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে ইহুদীর

দেয়া খেজুরগু’লো সে আগু’নে পু’ড়িয়ে কয়লা করে ফেলছে যাতে চারা না উঠে। রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রাঃ) কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফার্সী (রা:) কে বললেন পানি আনতে আলী (রাঃ) গর্ত করলে রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে

সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ফার্সী (রা:) কে এ দির্দেশ দিলেন যে বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না সালমান ফার্সী (রা:)পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ আর খেজুরগু’লো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেছে।

উজান থেকে ধেয়ে আসছে পানি, ব্যারেজ এলাকায় মাইকিং করছে পানি উন্নয়নর র্বোড, সর্তকতা জারি

উজান থেকে পানি ধেয়ে আসার কারনে রবিবার দুপুরে তিস্তা ব্যারেজ ও আশেপাশের চরাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। সেই সাথে চরঞ্চলের বিশেষ সর্তকতা জারি করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, রবিবার বিকেলে লালমনিরহাটে তিস্তার ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার , ধরলা কুলাঘাট পয়েন্ট বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত। ক্রমেই পানি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে পানি উন্নয় বোর্ডের লালমনিহাটের উপ বিভাগীয় প্রোকৌশলী মহিবুল হক জানান,ক্রমেই ধেয়ে আসছে পানি। ফলে তিস্তা ধরলা ফুলে ফেপে উঠে লোকালয়ে প্রবেশ করে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে জেলার অন্তত ৬০ হাজার মানুষ। ৪র্থ দফা বন্যার কারনে এসব এলাকায় দেখা দিয়ে চরম খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ ব্যাধী।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়,সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুর্ণা, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজারের অধিক মানুষ আবারও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু কাঁচা-পাকা সড়কে পানি উঠে পড়ায়।

এছাড়া তিস্তা-ধরলার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী  পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, মোঃ আবু জাফর জানান, ,ত্রাণ পর্যাপ্ত থাকায় প্রতিদিনেই ত্রাণ দেয়া অব্যাহত আছে। আমরা এই বিষয়ে তৎপর আছি । এ জেলার বানভাসি মানুষের পাশে। আমরা তাদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

বৃষ্টিতে অনাসৃষ্টি, গোটা রাজধানীতে থইথই পানি

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। গতকাল ভোর ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাতে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজধানীর কোথাও কোথাও জলাবদ্ধ রাস্তা, ঝরছে বৃষ্টি, সেই সঙ্গে ছিল না পর্যাপ্ত গণপরিবহণ। সব মিলিয়ে কাজে বের হয়ে নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। মঙ্গলবার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন অলি-গলি ও মূল সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়েন কাজে বের হওয়া মানুষজন। অনেক স্থানে রাস্তা ও ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে করে নগরজীবনে স্বাভাবিক চলাচলে ছন্দপতন ঘটে।

বর্ষা বা বৃষ্টি মানেই রাজধানীবাসীর কাছে জলাবদ্ধতার এক তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম। এদিকে, সোমবারের তুলনায় গতকাল বৃষ্টিপাত কম হলেও আজিমপুর, নিউমার্কেট, রাজাবাজার, ফার্মগেট, মগবাজার, মাতুয়াইল, মতিঝিল, ফকিরাপুল ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে জমে থাকা পানির উপর খেলা করছে শিশুরা। জরুরি প্রয়োজনে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে ভ্যানে করে রাস্তা পার হচ্ছেন অনেকেই।

আবার নিম্ন আয়ের মানুষজনকে পানিতে কাপড় ভিজিয়েই রাস্তা পার হতে দেখা গেছে। অথচ পাশে থাকা বড় ডাস্টবিন থেকে ময়লা-আবর্জনা রাস্তার পানিতে ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, সোমবারের বৃষ্টিতে মার্কেটের ভেতরে পানি ঢুকলেও গতকাল এক নম্বর গেটের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ক্রেতা সমাগম ছিল না। দুপুরের পরও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে বেচাকেনা একেবারেই খারাপ বলেও জানান বিক্রেতারা। এছাড়া, আজিমপুর কবরস্থান রোড, ধানমন্ডি ২৭, পশ্চিম রাজাবাজার, পূর্ব রাজাবাজার, ফার্মগেট, মগবাজার ও ক্ষিলখেতসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, উত্তর রায়েরবাগের দিকে একটি সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া সেখানের ইনু পট্টির দিকেও কিছু নিচু সড়কে পানি জমে। এসব সড়ক দিয়ে মানুষকে কষ্ট করে চলাচল করতে দেখা গেছে। উত্তর রায়েরবাগের বাসিন্দা আহাদ আলী জানান, সব জায়গায় নতুন সড়ক হলো। দোতলা মসজিদ থেকে যে সড়কটি ইনু পট্টির রাস্তায় গিয়ে মিলেছে, সেই সড়কটি কালভার্ট পর্যন্ত হলো, বাকি অংশটা নিচুই রয়ে গেল। তাই এখানে বৃষ্টি হলেই পানি ওঠে বলে জানান তিনি। স্থানীয়রা জানান, মাতুয়াইল কবরস্থান থেকে মাদ্রাসা বাজার যেতে সড়কের কিছু কিছু স্থানে পানি জমেছিল। তবে কোথাও পানি জমলেও তা আবার দ্রম্নতই নেমে যাচ্ছে।

শ্রাবণের এমন ধারা আরও ৩ দিন শ্রাবণের ভারী আকাশ থেকে ঝরো ঝরো বৃষ্টি চলছেই। এই একটু থামে, আবার ঝেঁপে নামে। গত দুদিনের আবহাওয়ার চিত্র এ রকমই। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টির এমন ধারা আরও তিন দিন থাকতে পারে। বৃষ্টির কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে প্রবল সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই দেশের সব জায়গাতেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া দপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব একটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দপ্তরের সকালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। ছয় ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার জেলায়, ৫১ মিলিমিটার। এছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৩৩, ময়মনসিংহে ৩৭, কুমিলস্নায় ৩১, নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, দুই বা তার বেশি দিন বৃষ্টি হতে পারে। এরপর কয়েক দিন বৃষ্টির মাত্রা কমবে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলকে ৩ নম্বর সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই কারণে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিলস্না, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ বিশ্ব পর্যটনে ধস

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কেভিড-১৯) আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতে ধস নেমেছে। বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হোটেল-মোটেলগুলো পর্যটকের অভাবে হাহাকার করছে। করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের ক্ষতি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। আকাশপথে ঢাকা থেকে চীনসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ফ্লাইট অর্ধেকে নামিয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো।

প্রায় ৮০ শতাংশ বাংলাদেশি ভ্রমণকারী করোনার আতঙ্কে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোতে বুকিংকৃত টিকিট বাতিল করেছে। এদিকে বাংলাদেশে তিনজনের আক্রান্তের খবরে বাংলাদেশে আসার পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণও বাতিল করছে অনেক বিদেশি পর্যটক। বাংলাদেশে পর্যটক আগমন ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে এয়ারলাইন্স ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই পর্যটক আকর্ষণের জন্য বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত ব্রিফ করার পরামর্শ দিয়েছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) তথ্যমতে, ৭০টি এয়ারলাইনস চীন থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং আরো ৫০টি এয়ারলাইনস সম্পর্কিত বিমান পরিচালনা বন্ধ করেছে। ফলে সরাসরি চীন থেকে আসা বিদেশিদের জন্য বিদেশি বিমান সংস্থার সক্ষমতা ৮০ শতাংশ কমেছে এবং চীনা এয়ারলাইনসের ধারণক্ষমতা কমেছে ৪০ শতাংশ।

আইকাও বলছে, বৈশ্বিক এয়ারলাইনসের পূর্বাভাসের তুলনায় যাত্রী কমেছে প্রায় দুই কোটি বা ১৬.৪ শতাংশ। এতে বিশ্বব্যাপী বিমান সংস্থাগুলোর জন্য মোট অপারেটিং রাজস্ব কমেছে ৫০০ কোটি ডলার। জাপান পর্যটন উপার্জনে ১২৯ কোটি ডলার হারাতে পারে। এরপর থাইল্যান্ডের ক্ষতি হবে ১১৫ কোটি ডলার।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সূত্রে জানা যায়, করোনা আতঙ্কে বাংলাদেশিরা বাইরে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বিশেষ করে সংক্রামক দেশগুলোতে পূর্বনির্ধারিত টিকিট বাতিল করছে। একইভাবে বিদেশি পর্যটকরাও বাংলাদেশ সংক্রমিত হওয়ায় বুকিং টিকিট বাতিল করছে। বর্তমান সময়ে ভরা পর্যটন মৌসুমে এমন প্রতিক‚ল পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ট্যুর অপারেটররা। তারা জানান, হোটেল বুকিং, উড়োজাহাজের টিকিট বুকিং বাতিল করছে ৮০ শতাংশ পর্যটকই। যাত্রীরা রিফান্ড (টাকা ফেরত) নিচ্ছেন। শুধু চীনের গন্তব্যগুলোতেই শুধু খারাপ অবস্থা নয়, অন্যান্য দেশেও এই প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পর্যটন, ওমরাহ ও এয়ারলাইন্স খাতে। মোটকথা সব ধরনের পর্যটনে লেগেছে বড় ধরনের ধাক্কা। তারা বলছেন, ইনবাউন্ড, আউটবাউন্ড ও ডমেস্টিক সব ফর্মেটেই পর্যটনের অবস্থা শোচনীয়। পর্যটনের প্রধান অবলম্বন এয়ারলাইন্স ও হোটেল-মোটেল। শুধু করোনার কারণে এসব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হোটেল-মোটেলগুলো পর্যটকের অভাবে হাহাকার করছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর যাত্রী কমেছে ৭৫ শতাংশের বেশি। এরই মধ্যে সৌদি সরকার কর্তৃক হঠাৎই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ওমরাহ পালনের ওপর। ওমরাহর ভর মৌসুমে এ ধরনের বিধিনিষেধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে বিমান ঘোষণা দিয়েছে বিক্রিত টিকিট ফেরত প্রদানের।

কক্সবাজার, কুয়াকাটা, বান্দরবন, খাগড়াছড়ির হোটেল মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, হোটেলগুলো একদম ফাঁকা। কোনো গেস্ট নেই। তারা বলছেন, প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আসেন বাংলাদেশ ভ্রমণে। এর একটি বড় অংশ চীনা পর্যটক, যা এখন বন্ধ। এ কারণে আমরা সময়ের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছি।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে ভাইরাস শনাক্তকরণ কার্যক্রম সঠিকভাবে মেনে চলার জন্য সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে যাত্রী কমে যাওয়ায় চীন থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলো গত সপ্তাহ থেকে ফ্লাইট অর্ধেকের বেশি কমিয়ে এনেছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটেও ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমাচ্ছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স।

ফ্লাইটের বুকিং বাতিল করা ছাড়াও টিকিট কনফার্ম (নিশ্চিত) থাকা সত্তে¡ও যাত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ার (নো শো) হার বাড়ছে। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত চায়না সাউদার্নের কর্মকর্তা জানান, গুয়াংজুগামী ফ্লাইটে কনফার্মেশন কমছেই। নো শো হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

চীন থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে প্রতিদিন ছয়টি ফ্লাইটে বাংলাদেশে ঢুকছে ৭০০ যাত্রী। পর্যটন, ব্যবসা ও চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান সিঙ্গাপুর। সেখানকার পর্যটন এলাকাগুলো এখন জনশূন্য, রাস্তাঘাটও ফাঁকা। যাত্রী আগমন ও সেবা বিবেচনায় একাধিকবার বিশ্বে শীর্ষস্থান পেয়েছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এরই মধ্যে যাত্রী হারাতে শুরু করেছে বিমানবন্দরটি।

আটাব সভাপতি মনছুর আহমদ কালাম বলেন, এত প্রভাব পড়বে তা আমাদের হিসাবের বাইরে ছিল। টিকিটের ৮০ শতাংশই বাতিল হচ্ছে, যাত্রীরা রিফান্ড (টাকা ফেরত) নিচ্ছেন। শুধু চীনা ফ্লাইটেই খারাপ অবস্থা নয়, অন্যান্য দেশেও এই প্রভাব পড়ছে। বলা চলে বিশ্ব পর্যটনে ধস নেমেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল-আহসান মানবকণ্ঠকে বলেন, বিমানবন্দরে ভাইরাস শনাক্তকরণ কার্যক্রম সঠিকভাবে মেনে চলার জন্য সবাই তৎপর। যাত্রী কমে যাওয়ায় চীন থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলো গত সপ্তাহ থেকে ফ্লাইট অর্ধেকের বেশি কমিয়ে এনেছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটেও ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমাচ্ছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স।

টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, পর্যটনের একটি বড় বাজার চীন। করোনা ভাইরাসের কারণে উভয় পর্যটনেই বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ওপর আবার সিঙ্গাপুর, চীন, থাইল্যান্ড, জাপানসহ আরো কিছু গন্তব্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমাদের ট্যুর অপারেটররা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) তৌফিক রহমান বলেন, আমার ছয়টি গ্রæপের প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশে ভ্রমণ বাতিল করেছেন। এতে অন্য মাত্রার ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের উচিত প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসমুক্ত এই প্রেস নোট প্রতিনিয়তই আমাদের পর্যটক আসা দেশগুলোসহ বহির্বিশ্বে প্রচার করা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, করোনার কারণে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ক্ষতির মুখে পড়েছে। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন তিনি। বিশ্বের উদীয়মান পর্যটন গন্তব্যে থাকা চীনের আশপাশের সিঙ্গাপুর, জাপান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ ঝুঁকিতে পড়েছে। করোনা সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে চীনসহ আরো ছয় দেশের নাগরিকদের জন্য অন অ্যারাইভাল (আগমনী) ভিসা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বেতন দিতে ৫০০ কোটি টাকা অনুদান চান তারকা হোটেলের মালিকেরা

তারকা হোটেল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে। ঢাকা, ২২ জুলাই। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

তারকা হোটেল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে

করোনাভাইরাসের কারণে বেশিরভাগ তারকা হোটেলের অতিথির সংখ্যা শুন্যে নেমে এসেছে। এতে বিপর্যস্ত হোটেলগুলোর ব্যবসা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকারের কাছে ৫০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছেন তারকা হোটেল মালিকেরা। পাশাপাশি সুদ মওকুফ, কর ছাড়,পরিষেবা বিল মওকুফ ও নতুন ঋণে সুবিধাসহ আরও নানা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তারকা হোটেল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে। গুলশানের হোটেল রেনেসাঁয় আজ আজ বুধবার সকালে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এখানে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিহা সভাপতি ও হোটেল আগ্রাবাদের প্রধান নির্বাহী এইচ এম হাকিম আলি। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিহা’র বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খালেদ-উর-রহমান।

খালেদ-উর-রহমান বলেন, জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু করোনার আঘাতে এ খাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি বছরই হোটেলগুলোর ক্ষতি ৭ হজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। করোনায় বেশির ভাগ হোটেলের অতিথি সংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা স্মরণকালে সর্বনিম্ন। অনেক হোটেল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হোটেলগুলো পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

খালেদ-উর-রহমান প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএটিএ) তথ্য তুলে ধরে বলেন,বাংলাদেশে করোনাকালে বেকার হয়ে পড়ার হুমকির মুখে রয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি হোটেল শ্রমিক ও কর্মচারী। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বেশকিছু দাবি তুলে ধরেন তিনি।

খালেদ-উর-রহমান বলেন, এর আগে পোশাক শিল্পে ক্ষতি নিরসনে সরকার ঘোষিত বিশেষ তহবিল জনমনে ব্যাপক প্রশংসা ও আশার সঞ্চার করেছে। আমরাও দেশের গৌরবজনক ভূমিকা রেখে আসা হোটেল তথা পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে চাই।

বিহার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, তারকা হোটেলগুলোর ঋণের সুদ গত মার্চ থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মওকুফ করা। চলমান ঋণের কিস্তি আগামী বছরের জুন থেকে চালু করা ও এর আগের সুদ স্থগিত রাখা।

এছাড়া সরকার ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩ বছর মেয়াদী করা এবং ঋণ বিতরনের তারিখ হতে ১ (এক) বছর বিরতি দেওয়া। লকডাউনে কারণে ছুটিতে যাওয়া হোটেলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য ৫০০ কোটি টাকা অনুদান চায় বিহা।

হোটেল মালিকদের দাবির মধে আরও রয়েছে, গত মার্চ থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব পরিষেবা বিল মওকুফ করা। এছাড়া চলতি অর্থবছরের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন থেকে কর কর্তন মওকুফ চায় সংগঠটি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদ-উর-রহমান বলেন, সরকারের আহ্বানে করেনা রোগীদের সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন হোটেলে রাখা হলেও এর ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সরকার লকডাউন দিয়েছে। তাই আমাদেরকে দেখার দায়িত্ব সরকারের।

খালেদ-উর-রহমান বলেন, আগে ব্যাংকগুলো এসে আমাদের ঋণ দিয়েছে। কারণ ব্যবসা ভালো ছিল। তাই এখনো ব্যাংকগুলোকে সুবিধা দিতে হবে। এই খাতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। গত মার্চ পর্যন্ত কোনো ঋণ বকেয়া নেই। এখন ঋণ শোধ না করলে সব নিলামে উঠে যাবে। কে কিনবে এত সম্পদ?

তিন তারকা থেকে ৫ তারকা ৪৭ টি হোটেল বিহার সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ও র‌্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রামের এমডি সাব্বির আহমেদ,প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ফিন্যান্স) আসিফ আহমেদ, লং বিচ হোটেলের এমডি আবুল কালাম আজাদ, লেকশোর হোটেল গুলশানের এমডি কাজি তারেক শামস, আমারি ঢাকার এমডি অশোক কেজরিওয়াল, হোটেল লা ভিঞ্চির এমডি এটিএম সাইদুল আলম, রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের জিএম আজিম শাহ, দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা এবং হানসার সিইও সাখাওয়াত হোসেন, দ্য ওয়ে ঢাকার এমডি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ এবং বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মায়ার সিইও রাশাদুল হোসেন চৌধুরী।

বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় সাগরে ভাসছেন জাহাজের দুই লাখ কর্মী

বিবিসি প্রতীকী ছবি

জাহাজে কাজ করেন ভারতের তেজস্বী দুজেসা। বাড়ি ফেরার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে জলসীমা বন্ধ। ফলে তেজস্বীর মতো বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ, যাঁরা জাহাজে কাজ করেন, তাঁরা সমুদ্রে আটকা পড়েছেন।

তেজস্বীদের এই দলে কার্গো জাহাজের প্রকৌশলী থেকে বিলাসবহুল প্রমোদতরির কর্মীরাও রয়েছেন। জাহাজে কাজ করেন, এমন বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্বজুড়ে জাহাজের কর্মীদের আটকে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, জাহাজগুলো সমুদ্রে আটকে পড়ায় সেখানে মানবিক সংকট দিন দিন বাড়ছে।

করোনার সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করার আগে এই কর্মীরা জাহাজে চেপে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ তাদের স্থল, জল ও আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে অনেক জাহাজকর্মীর যাত্রা শেষ হলেও তাঁরা আর দেশে ঢুকতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন তেজস্বী। একটি বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিজেকে ধরে রেখেছি। কারণ, আমার আসলে কিছু করার নেই।’ তিনি ভারতের একটি কার্গো জাহাজে কাজ করেন। তেজস্বীর মতো প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় কর্মী এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। মহামারির কয়েক মাস আগেই তাঁরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছিলেন।

তেজস্বী বলেন, ‘সর্বশেষ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জাহাজ থেকে মাটিতে পা রেখেছিলাম গত ফেব্রুয়ারি মাসে।’ জাহাজের কর্মীরা সাধারণত ছয় থেকে আট মাস টানা কাজ করে থাকেন। এরপর আরেক দল কর্মীর কাছে জাহাজ বুঝিয়ে দিয়ে জাহাজ থেকে নামতে পারেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবার সেটা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যে একটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি।

সারা বিশ্বে যে পরিমাণ জাহাজকর্মী রয়েছেন, তার এক-চতুর্থাংশ ফিলিপাইনের নাগরিক। জানা গেছে, দেশটির প্রায় ৮০ হাজার জাহাজকর্মী এখনো সমুদ্রে আটকা পড়ে আছেন। এমন অনিশ্চয়তার কারণে সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকা বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেছেন। ফ্লোরিডার পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ফিলিপাইনের এক নাগরিক আত্মহত্যা করেছেন। এসব ঘটনার পর জাহাজ পরিচালনা করেন, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এমন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি।

বাংলাদেশিরা ২ শর্ত মেনে কাতার যেতে পারবেন

২১ জুলাই রাতে কাতারের যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ ও কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদেশিদের কাতার আসাসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ছবি: রয়টার্স

কাতারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে কঠোর নিয়মকানুন ধাপে ধাপে শিথিল করা হচ্ছ। দীর্ঘ চার মাস ধরে স্থবির জনজীবন স্বাভাবিক করার তৃতীয় ধাপ শুরু হচ্ছে আগামী ১ আগস্ট থেকে। এদিন থেকে কাতারে ফিরতে পারবেন বিদেশি কর্মী ও পারিবারিক ভিসার অভিবাসীসহ এ দেশের ভিসা আছে—এমন যেকোনো ব্যক্তি।

২১ জুলাই রাতে কাতারের যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ ও কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদেশিদের কাতার আসাসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে দেশ ও ক্যাটাগরিভেদে বিদেশিদের ফেরার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা প্রক্রিয়া ও নিয়ম নির্ধারণ করেছে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, বাংলাদেশে আটকে থাকা কাতারপ্রবাসী কর্মীরা ১ আগস্ট থেকে দুটি শর্ত মেনে কাতারে ফিরতে পারবেন। প্রথমে কাতার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ওয়েবসাইট কাতার পোর্টালে কাতারে ফেরার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। এতে অনুমতি মিললে কাতারে আসার পর ওই কর্মীকে নির্ধারিত হোটেলে এক সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এই কোয়ারেন্টিনের খরচ কোম্পানিকেই বহন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য কাতার কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিদেশি কর্মীদের ফেরার অনুমতি দেওয়ার বেলায় সরকারি ও আধা সরকারি খাতে কর্মরত কর্মীদের চাহিদা ও কাতারের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পারিবারিক ভিসায় যাঁরা কাতারে থাকেন, তাঁরা বাংলাদেশ থেকে কাতারে ফেরার পর নিজ খরচে এক সপ্তাহের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর তাঁদের করোনার পরীক্ষা করা হবে। করোনার ফল নেগেটিভ হলে বাসায় আরও এক সপ্তাহের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর পজিটিভ হলে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে যেতে হবে।

কোন কোন হোটেলে প্রথম সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, ইতিমধ্যে সেগুলোর তালিকা ডিসকোভার কাতার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই এক সপ্তাহের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে এক সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টিন প্রযোজ্য হবে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি, ক্যানসার চিকিৎসাধীন ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও মা, লিভার ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী শিশু ও শিশুর মা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে অসুস্থ ব্যক্তি।

এদিকে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বে কম ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এসব দেশ থেকে কাতারে এলে বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট করা হবে এবং ১০টি শর্ত মেনে চলার শপথনামায় স্বাক্ষর করে এক সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে হোটেল কোয়ারেন্টিনের কোনো প্রয়োজন নেই। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালটা, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, লিথুনিয়া, লাটভিয়া, জাপান, সাইপ্রাস, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, স্লোভাকিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, মরক্কো, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্লোভেনিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, চেক, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, তুরস্ক, আইসল্যান্ড, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ও এন্ডোরা।

কাতারে ২১ জুলাই পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৪৩০ জন। তবে এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ১৯১ জন। ফলে, আর আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৭৯ জন।

এ পর্যন্ত কাতারে করোনায় ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত স্বাস্থ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ১৬৮ জনের।

করোনার ধাক্কা লেগেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে: বাণিজ্যমন্ত্রী

করোনার ধাক্কা লেগেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, করোনা মহামারীর ধাক্কা লেগেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি আমরা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কমপেটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের জন্য জমি লিজ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম এনডিসি, ইসিফোরজে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ওবায়দুল আজম ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধি হোসনে আরা ফেরদৌস সুমি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে আমরা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছি। তারপরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েই এগিয়ে চলেছি।

আমাদের রফতানির ৮৪ ভাগ তৈরি পোশাক। অন্যান্য কোনো পণ্যই আমরা বিলিয়ন ডলার রফতানি করতে পারি না। পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য অনেক পণ্য রফতানি করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, চামড়া আমাদের একটি বড় সম্ভাবনাময় রফতানি খাত। এ খাতের পণ্য বিশ্ববাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রযুক্তিজ্ঞান অর্জন করে দেশের চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

চুক্তি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ হবে। এখানে মেনুফ্যাকচারিং খাতের আধুনিকায়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ, ডিজাইন তৈরি ও উদ্ভাবনে সহায়তা, উৎকর্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে অনেক দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা সম্ভব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণে এ খাত বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং রফতানি বাড়বে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সারা বিশ্বে আজ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর মাঝেও বাংলাদেশ অর্থনীতি সচল রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসেছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়। চুক্তিতে সই করেন বেজার নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল মান্নান ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. সফিকুল ইসলাম। ইসিফোরজে প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে বেজার ১০ একর জমির ওপর এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে ৪ একর জমির ওপর দুটি টেকনোলজি সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

আগামী সপ্তাহ থেকে ওমানে পূর্ণ লকডাউন

আগামী সপ্তাহ থেকে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন ঘোষণা করেছে ওমান। মঙ্গলবার করোনা ভাইরাস মোকাবিলা বিষয়ক সুপ্রিম কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ২৫ শে জুলাই থেকে শুরু হবে এই লকডাউন। তা অব্যাহত থাকবে ৮ই আগস্ট পর্যন্ত।

এ সময়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সব রকম চলাচল, প্রকাশ্য স্থানে মেলামেশা এবং দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে পড়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। ফলে ঈদের নামাজের জমায়েত, এর সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কেটও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। ওমানের নিউজ এজেন্সি ওএনএ’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে লকডাউন চলাকালে নিরাপত্তা টহল এবং চেকপয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা হবে।