ডলফিনের ফিরে আসা

ঘূর্ণি ডলফিন।  ছবি: আবদুল্লাহ আবু দায়ান

করোনায় নদী আর সমুদ্রতীরে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ায় ডলফিন চলাচলের নিরাপদ এলাকা পেল। মার্চের মাঝামাঝি কক্সবাজার সাগরতীরের খুব কাছে ডলফিনের একটি বড় দল দেখা গেল। ২৫ থেকে ৩০টির বড়সড় দল। গোলাপি ডলফিন, পাখনাহীন পরপয়েস, ঘূর্ণি ডলফিন আর হাম্পব্যাকড ডলফিন—কী ছিল না! সবই গভীর সাগরের ডলফিন।

সাধারণ মানুষের প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে খবরের কাগজ ও টিভি—সর্বত্র। এর ঠিক
১৫ দিনের মাথায় আবার আমরা উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখেছি। কয়েকটি ডলফিন মেরে ফেলেছিলেন জেলেরা।

মাত্র মাস দুয়েকে আসলে প্রকৃতির মধ্যে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন হয় না। কক্সবাজার থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত সব সময়ই কয়েক জাতের ডলফিন দেখা যায়। এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এ এলাকায় ডলফিনের বড় দল আছে। করোনাকালে দলটি শুধু একটু ওপরের দিকে উঠে এসেছে মাত্র। কক্সবাজারে এপ্রিল মাসের ২ ও ৩ তারিখ দুটি ডলফিনের মৃত্যু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিছু ভিনদেশি ডলফিনের ছবি প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

ডলফিন নদী বা সাগরের প্রধানতম সম্পদ। নদীর অবস্থা কেমন আছে, ডলফিন দেখেই অনুমান করা যায়। নদীর যে অংশে ডলফিন বেশি, সেখানে মাছও বেশি পাওয়া যায়। ডলফিন থাকলে মাছের বংশবৃদ্ধি ভালো হয়। পানির গুণাগুণও ভালো থাকে। জেলেরাও জানেন, এই প্রাণীগুলো আছে বলেই তাঁরা বেশি মাছ পান। ডলফিনের উপস্থিতি মানেই জলীয় পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশে সাত জাতের ডলফিন এবং এক জাতের পরপয়েস দেখার তথ্য আছে। এর মধ্যে প্রকৃত মিঠাপানির নদীর ডলফিন মাত্র একটি, নাম গাঙ্গেয় শুশুক। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি মিঠাপানির বড় নদীতেই এদের বসবাস। বিশ্বব্যাপী আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রাণীটি এখন বিপন্ন। তবে বাংলাদেশে এদের অবস্থা এখনো মন্দ নয়। এক সুন্দরবনেই আছে প্রায় ২২৫টি শুশুক। অন্যান্য নদ-নদী মিলিয়ে হাজারখানেক, যা গোটা পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ডলফিনের আরেকটি প্রজাতি ইরাবতী ডলফিন। গোটা পৃথিবীতে প্রাণীটি বিপন্ন তালিকায় থাকলেও বাংলাদেশে এরা খারাপ নেই। ধারণা করা হয়, এখানে আছে প্রায় সাত হাজার ইরাবতী ডলফিন। এদের দেখা মেলে নোনাপানির নদীতে, বিশেষ করে সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদীতে।

অন্য চার জাতের ডলফিন আর এক জাতের পরপয়েসের মধ্যে সবই সাগরের ডলফিন। গভীর সাগরে, বিশেষ করে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে এদের উপস্থিতি বেশ ভালো। এদের কোনো প্রকৃত শুমারি তথ্য আমাদের হাতে নেই। বাংলাদেশে আরও আছে এক জাতের তিমি, নাম ব্রিডিস হোয়েল। মূলত গভীর সাগরে দেখা গেলেও গত মাসে কক্সবাজারে এদের একটি মৃত বাচ্চা দেখা গেছে।

করোনাকালে কেন এত ডলফিন পরিবারের আনাগোনা? গবেষকেরা বলছেন, মানুষের চলাচল কম বলে। এমনকি, জেলেরাও মাছ ধরতে কম নেমেছেন। জাল কম পড়লেই ডলফিন ঘুরে বেড়ানোর জায়গা বেশি পায়।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক। আর নদীর প্রধান প্রাণী ডলফিন। করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ভালো পরিবেশ পেলে এরা কী সহজে অবাধে চলাচল করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ডলফিন রক্ষায় নয়টি অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে। ডলফিন রক্ষায় এমন উদ্যোগ বিশ্বে খুবই বিরল। অভয়ারণ্য হিসেবে এগুলোকে রক্ষা করতে পারলেই ডলফিন হেসেখেলে চলতে পারবে। নদীতে মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

ঢাকার ৪০ লাখ মানুষ বন্যাঝুঁকিতে

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি এখনো দুকূল ছাপিয়ে যায়নি। এখনো বিপৎসীমার কিছুটা নিচেই আছে। কিন্তু তার আগেই ঢাকার পূর্বাংশের বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় বন্যার পানি চলে এসেছে। নন্দীগ্রাম, ত্রিমোহনী, বেরাইদ, সাঁতারকুলসহ ঢাকার এসব এলাকায় ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।

এ সপ্তাহের মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে। ফলে একদিকে শহরের ভেতরে বৃষ্টির পানি জমবে, অন্যদিকে নদীর পানি বন্যা হয়ে শহরে ঢুকবে। এই দুই মিলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকার পূর্বাংশের ১৬টি ইউনিয়নসহ প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বসতি এলাকা বন্যায় ডুবতে পারে। মাসের বাকি সময়ে এই পানি নগরবাসীকে ভোগাতে পারে।

জানতে চাইলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া  এখন মূলত খালগুলো দিয়ে পানি আসছে। আর ঢাকার নিচু এলাকার নিষ্কাশন নালাগুলো সরাসরি নদীর সঙ্গে যুক্ত। বালু, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার পানি বেড়ে যাওয়ায় ওই নালাগুলো দিয়ে পানি নামতে পারছে না। বরং উল্টো সেখান দিয়ে পানি শহরের কিছু এলাকায় ঢুকে পড়ছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ঢাকার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

 

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি এখনো দুকূল ছাপিয়ে যায়নি। এখনো বিপৎসীমার কিছুটা নিচেই আছে। কিন্তু তার আগেই ঢাকার পূর্বাংশের বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় বন্যার পানি চলে এসেছে। নন্দীগ্রাম, ত্রিমোহনী, বেরাইদ, সাঁতারকুলসহ ঢাকার এসব এলাকায় ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।

এ সপ্তাহের মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে। ফলে একদিকে শহরের ভেতরে বৃষ্টির পানি জমবে, অন্যদিকে নদীর পানি বন্যা হয়ে শহরে ঢুকবে। এই দুই মিলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকার পূর্বাংশের ১৬টি ইউনিয়নসহ প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বসতি এলাকা বন্যায় ডুবতে পারে। মাসের বাকি সময়ে এই পানি নগরবাসীকে ভোগাতে পারে।

জানতে চাইলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া  এখন মূলত খালগুলো দিয়ে পানি আসছে। আর ঢাকার নিচু এলাকার নিষ্কাশন নালাগুলো সরাসরি নদীর সঙ্গে যুক্ত। বালু, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার পানি বেড়ে যাওয়ায় ওই নালাগুলো দিয়ে পানি নামতে পারছে না। বরং উল্টো সেখান দিয়ে পানি শহরের কিছু এলাকায় ঢুকে পড়ছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ঢাকার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যা ও জলাবদ্ধতার এই আশঙ্কার মধ্যে আরও ভয়ের কারণ হচ্ছে, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা সিটি করপোরেশন বন্যা মোকাবিলায় এখনো তেমন প্রস্তুতি নেয়নি। জমে থাকা পানি বসতি এলাকা থেকে সরানো, নিম্নবিত্ত মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তাদের জন্য খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুত করার কোনো কাজই এখনো সরকারি কোনো সংস্থা শুরু করেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আমরা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বসব। তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করাসহ বন্যা মোকাবিলার উদ্যোগগুলো নিয়ে কথা বলব।’ তবে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে তা বের করার মতো ব্যবস্থা এ বছর করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার নিচু এলাকাগুলোর উন্নয়নে চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে পূর্বাঞ্চলে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

ঢাকা ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মোট পাঁচটি পাম্পস্টেশন আছে, যেগুলো দিয়ে ঢাকা থেকে জলাবদ্ধতার পানি বের করে দেওয়া হয়। আর বন্যা এলে সেগুলোর স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে পানি আসা ঠেকানো হয়। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে যাওয়ায় ওই স্টেশনগুলো চালু করা হয়েছে। কিন্তু ওই স্টেশনগুলো ঢাকার পশ্চিমাংশের পুরোটা ও পূর্বাংশের রামপুরা পর্যন্ত বন্যামুক্ত করতে পারে।

ঢাকার বাড্ডার পাশে বেরাইদ এলাকার অধিবাসী আসকর আলীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, তাঁর বাসার সামনে পানি চলে এসেছে। আরও পানি বাড়লে বাড়ির ভেতরেঢুকে পড়বে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আখতার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার পূর্বাংশে নিচু এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ৪০ লাখ মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সেখানে আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। ফলে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে তা নামার মতো কোনো খাল বা নালা সেখানে উন্মুক্ত অবস্থায় নেই। সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের বন্যা আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে সেখানকার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে হয়তো ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা কমে আসবে।

ঢাকাসহ দেশের ১৮ জেলায় এখন বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ২৫ লাখ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, বাকিরা সড়ক ও বাঁধের ওপর অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সুনামগঞ্জ ও বগুড়া জেলা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি, বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং উত্তরাঞ্চলে গতকাল সারা দিন প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আগের দুই-তিন দিনের তুলনায় বেশি বৃষ্টি বেড়েছে। আগামী দুই-তিন দিনে বৃষ্টি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে পারে।

ঢাকা মেডিকেলে করোনায় মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর মৃত্যুহার বেশি। এ পর্যন্ত দেশের এই শীর্ষ হাসপাতালে ২ হাজার ১৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৬৩ জন। মৃত্যুহার ১২ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

রাজধানীতে ১৬টি হাসপাতালে এখন করোনার চিকিৎসা হচ্ছে। এর মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ইউনিট-১ ও বার্ন ইউনিট), মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসা বিষয়ে কিছু তথ্যসংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মৃত্যুহার সবচেয়ে কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুহার বেশি।

রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ৫ হাজার ৩০০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সামান্য কিছু রোগী পুলিশ সদস্যের পরিবারের সদস্য। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। হাসপাতালের পরিচালক হাসানুল হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, একাধিক কারণে মৃত্যুহার কম। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হওয়ার কারণে সদস্যদের কারও উপসর্গ দেখা দেওয়ামাত্রই তাঁরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। দ্বিতীয়ত, সদস্যদের বয়স কম, তাই ঝুঁকিও কম।

তৃতীয়ত, পুলিশ হাসপাতাল একটি বিশেষ চিকিৎসাবিধি (ট্রিটমেন্ট প্রটোকল) অনুসরণ করে চিকিৎসা দিচ্ছে, যাতে ফলও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পরীক্ষার সুযোগ থাকায় কারও সময় নষ্ট হয় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রায় দুই মাস আগে মৃত্যু কমিয়ে আনতে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটি। এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল কিছু মৃত্যুর পর্যালোচনাও করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং হাসপাতাল ইউনিট-২-এ করোনার চিকিৎসা চলছে। করোনা রোগীর জন্য সাধারণ শয্যা আছে ৮৮৩টি ও আইসিইউ শয্যা আছে ২৪টি। এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা ছাড়াও ৬২৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ৩টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা এবং ৩০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে।

তারপরও মৃত্যুহার বেশি কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, দুটো কারণে মৃত্যুহার বেশি মনে হচ্ছে। প্রথমত, অন্য হাসপাতালের খারাপ রোগী ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয় বা রেফার করা হয়। এসব রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেশি। দ্বিতীয়ত, বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা পরিস্থিতি খারাপ হলে সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাঁরা ঢাকা মেডিকেলেই আসেন।’ তিনি বলেন, শুরুর দিকের চেয়ে বর্তমান সময়ে মৃত্যুহার কমে গেছে।

মৃত্যুহারে ঢাকা মেডিকেলের পরই আছে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল। এই হাসপাতালে মৃত্যুহার ৯ শতাংশ। এর পরের অবস্থান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের। এই হাসপাতালে ১০০ রোগী ভর্তি হলে ৮ জন মারা যাচ্ছেন। দেশের এই দুটি হাসপাতালে প্রথম করোনা রোগী চিকিৎসা শুরু হয়।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, শুরুর দিকে এই হাসপাতালেও মৃত্যু বেশি হতো। ঢাকা মেডিকেলে করোনার চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে রোগীর চাপ ও মৃত্যু কমে আসতে দেখা গেছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও মৃত্যুহারও যথেষ্ট বেশি। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার রোগী, এর মধ্যে মারা গেছেন ১৭৮ জন। মৃত্যুহার ৬ শতাংশ। এই হাসপাতালে মারা যাওয়া প্রথম ৯৩টি মৃত্যু পর্যালোচনা করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা। তাতে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে আসেন অনেক দেরি করে, যখন রক্তে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যায়। আরও দেখা গেছে, ভেন্টিলেটরের সহায়তায় একজন রোগীকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল  বলেন, করোনায় মৃত্যু নিয়ে দেশে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা এখনো হয়নি। তার জন্য বসে থাকা যাবে না। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে করোনার চিকিৎসা ও মৃত্যুর তথ্য যা পাওয়া যাচ্ছে, তা-ই বিশ্লেষণ করা দরকার। মৃত্যু শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এই বিশ্লেষণ কাজে লাগবে। বিশ্বের অনেক দেশে এমন হয়েছে।