ডানা না ঝাপটে ১৬০ কি.মি পথ উড়াল দেয় এই পাখি!

আচ্ছা এমন পাখি দেখেছেন কখনও, যা ডানা না ঝাপটিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়তে পারে? ভাবছেন গল্পকথা! একেবারেই নয়।  সম্প্রতি একটি গবেষণায় সামনে এসেছে বিশ্বে বিশ্বের বৃহত্তম উড়ন্ত পাখির কথা। যা বাতাসের কারেন্টকে কাজে লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে ডানা একবারও না ঝাপটে। অ্যান্ডিয়ান কনডোর পাখির ডানা ১০

পৃথিবীর একমাত্র সোনালি বাঘ!

পৃথিবীর একমাত্র সোনালি বাঘ!

বাঘ এমনিতেই বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। ভারত বাঘ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বহু বছর ধরে। পরিসংখ্যান বলছে, সম্প্রতি ভারতে বাঘের সংখ্যা একটু হলেও বেড়েছে। এই প্রাণীর বিশেষ প্রজাতির একমাত্র সদস্যও যে ভারতেই রয়েছে, জানতেন না অনেকেই। বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছেন আইএফএস পারভিন কাসওয়ান। ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার ময়ূরেশ হেন্দ্রের তোলা সোনালি বাঘের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। এখন সেই ছবিই ভাইরাল। পোস্ট করে তিনি জানান, এই সোনালি বাঘ রয়েছে আসামের কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কে।

পারভিনই জানিয়েছেন, এই সোনালি বাঘ আসলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারই। জিনগত পরিবর্তনের কারণে রং হয়েছে সোনালি। চিত্রগ্রাহক ময়ূরেশ বাঘটির নাম দিয়েছেন গোল্ডি। পারভিন জানালেন, এমনিতে চিড়িয়াখানায় বা ব্যাঘ্র প্রজনন কেন্দ্রে সোনালি বাঘ রয়েছে। কৃত্রিমভাবে প্রজনন করানো হয়। কিন্তু খোলা বনে গোটা দুনিয়ায় একটিও নেই।

মহাসাগরের গভীরে যে রহস্যময় মেঘের আড়ালের বহু রহস্য ভেদ হয়নি আজও

মহাসাগরের গভীরে যে রহস্যময় মেঘের আড়ালের বহু রহস্য ভেদ হয়নি আজও

স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপের রানি ছিলেন মারিয়ানা। তার নামেই নামকরণ হয়েছিল প্রশান্তমহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের। ষোড়শ শতকে সেগুলো ছিল স্পেনীয় উপনিবেশ। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে এই দ্বীপগুলো আসলে ডুবে থাকা কিছু ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির চূড়া।

এই দ্বীপপুঞ্জ থেকে ২০০ কিমি পূর্বে বিস্তৃত বিশ্বের গভীরতম মহাসাগরীয় খাত। ২৫৫০ কিমি লম্বা এবং ৬৯ কিমি চওড়া এই সামুদ্রিক খাতের নাম দেওয়া হয়েছে নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জের নামেই। ফলে গভীরতম খাত ‘মারিয়ানা ট্রেঞ্চ’-এর পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে স্পেনের রানির নাম।

সমুদ্রবিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে এই খাতের গভীরতম অংশের মাপ ১০, ৯৮৪ মিটার। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম এই অঞ্চলের নাম দেওয়া হয়েছে চ্যালেঞ্জার ডিপ।

এর গভীরতা বোঝানোর জন্য বলা হয়, যদি মাউন্ট এভারেস্টকে এর মধ্যে বসিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আরও প্রায় দু’কিমি বা ১.৬ মিটারের মতো জায়গা বাড়তি পড়ে থাকবে। অর্থাৎ পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের থেকেও আয়তনে বড় বিশ্বের গভীরতম খাত।

মারিয়ানা খাতের শেষ সীমায় তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করে ১ ডিগ্রি থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এই অংশে জলস্তম্ভের চাপও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে এই চাপের পরিমাণ প্রায় ৮ টন। সমুদ্রতলে স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় এই পরিমাপ প্রায় হাজার গুণ বেশি। মারিয়ানা খাতে গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায় এই জলস্তম্ভের চাপ।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে যখন দু’টি টেকটনিক পাতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন একটি পাত দ্বিতীয়টির নীচে ঢুকে গেলে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের মতো গভীর সামুদ্রিক খাতের সৃষ্টি হয়।

১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবার মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা মাপে ব্রিটিশ জাহাজ এইচ এম এস চ্যালেঞ্জার। পরে বহু বার বিশ্বের গভীরতম খাত নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে এর গভীরতা সংক্রান্ত তথ্য।

আজ অবধি মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষবিন্দুতে অসংখ্য অভিযাত্রীর পা পড়েছে। কিন্তু মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে পৌঁছতে পেরেছেন মাত্র নগণ্য সংখ্যক অভিযাত্রী।

এই দুই অভিযাত্রী ছিলেন জাক পিকার্ড এবং মার্কিন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ডন ওয়ালশ। ১৯৬০ সালে মার্কিন নৌসেনার ব্যাথিস্কেপে সওয়ার হয়ে এই দুই দুঃসাহসী পৌঁছেছিলেন মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে।

ব্যাথিস্কেপ হল সমুদ্রের গভীরে অভিযান চালানোর জলযান। ডুবোজাহাজের সঙ্গে এর অনেকটাই বৈসাদৃশ্য আছে। সুইস ও ইতালীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ব্যাথিস্কেপ ‘ত্রিয়েস্ত’-এর সাহায্যে বিশ্বের গভীরতম বিন্দুতে অভিযান চালিয়েছিলেন এই অভিযাত্রী জুটি।

পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবতরণের পর গন্তব্যে পৌছতে পেরেছিলেন পিকার্ড এবং ওয়ালশ। কিন্তু চ্যালেঞ্জার ডিপ-এর গভীর বিন্দুতে থাকতে পেরেছিলেন মাত্র ২০ মিনিট। তারা ১০, ৯১৬ মিটার পর্যন্ত নামতে পেরেছিলেন।

তাদের যাত্রাপথে বা গভীরতম বিন্দুতে পৌঁছে কোনও ছবি তুলতেই পারেননি অভিযাত্রীরা। কারণ তাদের যাত্রাপথ ঘিরে ছিল ক্লাউড অব সিল্ট। কিন্তু মহাসাগরের গভীরে মেঘ এল কোথা থেকে?

আসলে এই মেঘ আকাশের জলীয় বাষ্পপূর্ণ কণার সমষ্টি নয়। এ হল বালি, কাদামাটি ও অন্যান্য উপকরণের সমষ্টি, যা পানির প্রবাহে ক্রমাগত জমতে থাকে মহাসগরের গভীর খাতে। সেই জমাটবদ্ধ বালি-কাদামাটির অংশকেই মেঘ বলে বর্ণনা করা হয়।

বিজ্ঞানীদের মূল প্রশ্ন ছিল, মারিয়ানা খাতের গভীরে কি প্রাণের অস্তিত্ব আছে? দুই অভিযাত্রীকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। কিন্তু একে সেখানে নিকষ অন্ধকার। তার ওপর কাদামাটির জমাট মেঘ। ফলে অন্ধকার ভেদ করে ‘ত্রিয়েস্ত’-এর আলো রহস্যভেদ করতে পারেনি।

পিকার্ড বারবার দাবি করেন, তিনি গভীর খাতে একটি ফ্ল্যাটফিশ দেখেছিলেন। কিন্তু তার দাবির সঙ্গে সহমত হতে পারেননি অধিকাংশ বিজ্ঞানী।

তাদের মতে, জলস্তম্ভের অত চাপে কোনও প্রাণী জীবিত থাকতে পারে না। কারণ চাপের ফলে ক্যালসিয়াম দ্রবীভূত হয়ে যাবে। ক্যালসিয়াম গলে গেলে প্রাণীর হাড়ের গঠনও অসম্ভব।

কিন্তু প্রকৃতি বারবার ভুল প্রমাণ করেছে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে। গবেষক ও সমুদ্রবিজ্ঞানীদের ধারণা, চ্যালেঞ্জার ডিপ-সহ মারিয়ানা খাতের বহু অংশের নিকষ অন্ধকারে বহু রহস্য অপেক্ষা করে আছে বাইরের পৃথিবীর জন্য। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের বেশিরভাগ অংশের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অনুমতি সাপেক্ষেই গবেষণা করা যায় বিশ্বের এই ভৌগোলিক বিস্ময়ে।

প্রথম অভিযানের পর অর্ধশতক বছর পেরিয়ে ২০১২ সালে ফের মানুষের অবতরণ মারিয়ানা খাতে। এবার সাব-ডাইভ দেন চিত্র পরিচালক  জেমস ক্য়ামেরন। তিনি পৌঁছাতে পেরেছিলেন ১০, ৯০৮ মিটার পর্যন্ত। একটুর জন্য বেঁচে যায় প্রথম দুই অভিযাত্রীর রেকর্ড। তবে সম্প্রতি আরেক অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো পৌঁছেছেন ১০, ৯২৭ মিটার পর্যন্ত। তিনি প্রথম অভিযাত্রীদের রেকর্ড ভাঙতে পেরেছেন।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তুলনামূলক অগভীর অংশে অ্যাম্ফিপড এবং হলোথুরিয়ান্সের মতো সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব আছে। তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত, প্রাণীবিজ্ঞানের আরও অনেক বিস্ময় অপেক্ষা করছে মারিয়ানা খাতের নিকষ অন্ধকারে। চরম পরিবেশে কী করে প্রাণীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, সেই রহস্য জানা গেলে বায়োমেডিসিন ও বায়োটেকনলজির অনেক বন্ধ দরজা খুলে যাবে।

বিজ্ঞানী মহলের আরও ধারণা, মারিয়ানা খাতের অন্ধকার ভবিষ্যতে আলো ফেলতে পারে পৃথিবীতে প্রাণসৃষ্টির রহস্যের ওপরেও। তবে দূষণের হাত থেকে রেহাই পায়নি এই গভীর বিন্দুও। এখানেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিক!

করোনায় বন্ধ ১৬ হাজার কারখানা, বেকার সাড়ে ১০ লাখ শ্রমিক

দেশে গত কয়েক বছর ধরেই নতুন শিল্পোদ্যোগে স্থবিরতা চলছে। করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারি এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ রাখা কারখানাগুলোর বেশিরভাগই খুলেনি। বেকারত্ব নেমে এসেছে কয়েক লাখ শ্রমিকের ভাগ্যে।
সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের (ডিআইএফই) হিসাব অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর ১৫ হাজার ৯৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানা ১ হাজার ৯১৫টি এবং গার্মেন্টসের বাইরে অন্যান্য খাতের কারখানা ১৪ হাজার ৫০টি।

প্রায় ১০ লাখ ৫১ হাজার শ্রমিক এসব কারখানায় কাজ করতেন । এসব শ্রমিকের বেশির ভাগই বর্তমানে বেকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি মাঠ পর্যায় থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। সরকারি এ হিসেবের বাইরেও গত কয়েক মাসে ৮৭টি কারখানা থেকে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা ৭৫টি। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকায় লে অফ (সাময়িক বন্ধ ঘোষণা) হওয়া কারখানা রয়েছে ৩৭টি। এসব কারণে শ্রম অসন্তোষও চলছে দেশের বিভিন্ন কারখানায়।

বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৬৫টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষ চলছে বলে জানিয়েছে ডিআইএফই। এর মধ্যে ৫৫টিই গার্মেন্টস কারখানা।
বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ২ হাজার গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে বেশির ভাগই রপ্তানিমুখী। তবে এ তালিকায় তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত পোশাক মালিকের বাইরেও বিপুলসংখ্যক কারখানা রয়েছে। সূত্র জানায়, বন্ধ হওয়া এসব কারখানা মূলত স্বল্প পুঁজির এবং অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির। রপ্তানি আদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত হওয়ায় এবং সময়মতো তৈরি পণ্যের অর্থ না পাওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। কারখানা বন্ধ হওয়া সংক্রান্ত এ তথ্য ও পরিস্থিতি শ্রম মন্ত্রণালয় ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিদর্শক শামসুল আলম খান বলেন, দেশব্যাপী মাঠ পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর কারখানা বন্ধ হওয়ার আলোচ্য চিত্র তারা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে সরকার মার্চের শেষের দিকে এসে লকডাউনের আদলে দেশব্যাপী ছুটি ঘোষণা করে। দুই থেকে আড়াই মাস শেষে অর্থনীতি ধীরে ধীরে চালু করা হলেও গতি আসেনি। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানিও কমে গেছে ব্যাপক হারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার। এর প্রভাবে ব্যাপক হারে কর্মহীন হচ্ছেন কর্মী।প্রাতিষ্ঠানিক খাতের বাইরেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হচ্ছেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) হিসাবে করোনা পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ।

বৈশ্বিক গণমাধ্যমে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট, বিপাকে প্রবাসীরা

বৈশ্বিক গণমাধ্যমে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট, বিপাকে প্রবাসীরা

ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের নাটকীয় গ্রেফতারের ঘটনা সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর বাংলাদেশ থেকে যত খবর এপর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তার কোনোটিই সম্ভবত এত বেশি গুরুত্ব পায়নি।-খবর বিবিসির।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এ নিয়ে যে খবরটি প্রকাশ করে তার শিরোনাম, ‘বিগ বিজনেস ইন বাংলাদেশ: সেলিং ফেইক করোনাভাইরাস সার্টিফিকেটস।’ অর্থাৎ বাংলাদেশে জাল করোনাভাইরাস সার্টিফিকেট নিয়ে বিরাট ব্যবসা ফাঁদা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এই খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে এই ধরণের সার্টিফিকেটের একটা বড় বাজার আছে। কারণ ইউরোপে কাজ করে যেসব বাংলাদেশি, তারা সেখানে ফিরে যেতে উদগ্রীব।

এই অভিবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে মুদির দোকান, রেস্তোরাঁয় কাজ করে বা রাস্তায় পানির বোতল বিক্রি করে। যেসব বাংলাদেশি ইতালিতে কাজ করেন, তাদের চাকরিস্থলে ফিরিয়ে নেয়ার আগে এরকম সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে।

কাতার ভিত্তিক আল জাজিরা টেলিভশনে এবং তাদের ইংরেজি ওয়েবসাইটেও এই খবরটি বড় করে প্রচার করা হয়েছে। আল জাজিরার খবরের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশ অ্যারেস্টস হসপিটাল ওনার ওভার ফেইক করোনাভাইরাস রেজাল্টস।

ইন্দোনেশিয়ার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশে হাসপাতাল মালিকরা হাজার হাজার ভুয়া কোভিড-১৯ টেস্ট করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কয়েক কলামজুড়ে এই শিরোনামের সঙ্গে ফলাও করে ছাপা হয়েছে র্যাবের হাতে ধরা পড়া মো. সাহেদের ছবি।

শুধু সাহেদের খবর নয়, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস টেস্ট কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে গ্রেফতারের খবরও আছে অনেক সংবাদপত্রে।

স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত একটি নিউজ পোর্টাল নটিমেরিকার শিরোনাম: হাজার হাজার ভুয়া করোনাভাইরাস টেস্ট করার দায়ে হাসপাতাল মালিক গ্রেফতার।

এই শিরোনামের নিচের ছবিটি অবশ্য জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় বাংলাদেশে ভুয়া করোনাভাইরাস টেস্টের জের ধরে হাসপাতাল মালিকের গ্রেফতারের খবর।

ভারতীয় সংবাদ চ্যানেল উইয়নে এই খবরে বলা হয়, নয়দিন ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মো. সাহেদকে বাংলাদেশের পুলিশ ধরতে সক্ষম হয়। রোগীদের পরীক্ষা না করেই তাদেরকে করোনাভাইরাসমুক্ত সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির খবর যেরকম ফলাও প্রচার পেয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ এসব দেশে।

ইতালিতে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট এ কে জামান বলেন, ইতালির সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরাখবরে বাংলাদেশিদের দায়ী করা হচ্ছে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাস নিয়ে আসার জন্য।

এতে বলা হচ্ছে, প্রবাসী বাংলাদেশি যারা ফেরত এসেছে, তারাই ইতালিতে করোনাভাইরাস নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশিরা যখন চলাফেরা করি, বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, অন্যরা আমাদের দেখে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। এমনকি আগে যেসব বার বা রেস্তোরাঁয় আমরা যেতাম, সেখানকার লোকেরা যেন আমাদের দেখে ইতস্তত বোধ করে।

আইরিন পারভিন খান জানান, তার শহরের কাছাকাছি এক শহরে ৩৬ জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে, এদের প্রায় সবাই বাংলাদেশি। এরপর এখন বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর দাবি পর্যন্ত তুলছে অনেকে।

করোনাভাইরাস নিয়ে কেলেঙ্কারির খবর ইতালির পত্রিকায় ফলাও প্রচার পাওয়ার পর বাংলাদেশিদের ওপর হামলা এবং দুর্ব্যবহারের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলেন তিনি।

মিলানে এক বাংলাদেশি ফুল বিক্রেতাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটা যদি কোন ইতালিয়ানের সঙ্গে করা হতো, এতক্ষণে পুলিশ অনেক কিছুই করতো। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছুই করা হয়নি।

আমার পরিচিত এক বাংলাদেশি নারী সুপারশপে গিয়েছিলেন কেনাকাটা করতে। সেখানে তিনি সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং এর নিয়মকানুন মেনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও সেই নারী দুর্ব্যবহারের শিকার হন।

আইরিন পারভীন খান বলেন, ইতালির সংবাদপত্রগুলোর ওয়েবসাইটে খবরের নিচে যেসব কমেন্ট থাকে, সেগুলো পড়লেই বোঝা যায়, বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ কতটা বেড়েছে।

দ্রুত করোনার হটস্পট হচ্ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল যখন করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত, তখন দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ভয়াবহ এক সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। শুক্রবার তারা বলেছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান মিলে দ্রুত গতিতে করোনা ভাইরাসের নতুন এপিসেন্টার হয়ে উঠছে। এতে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকায় করোনার ভয়াবহতার দিকে এখন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি। তবে এ সময়ে দ্রুতগতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এক মানবিক ট্রাজেডির আবির্ভাব হচ্ছে। কোভিড-১৯ উদ্বেগজনক গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। যেখানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশের বাস। এতে আরো বলা হয়েছে, এরই মধ্যে ভারতে দশ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মানুষের এই দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ চেক দিতে কর্তৃপক্ষ সংগ্রাম করছে।

এতে আরো বলা হয়, প্রতিদিন ভারতে মারা যাচ্ছেন ৬ শতাধিক মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে মনে করা হয়েছিল ভারতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে লকডাউন অনেক স্থানে শিথিল করা হয়। কিন্তু আবার ভয়ঙ্কর আকারে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ১৩০ কোটি মানুষের এই দেশে নতুন করে লকডাউন দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে ডাটা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে সেখানে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে ১০ লাখ ৩ হাজার ৩৮২ জনের।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিলের পর বিশ্বে ঘনবসতিপূর্ণ তৃতীয় দেশ ভারত। ভারতের তুলনায় ওই দুটি দেশে মৃত্যু হয়েছে অনেক বেশি মানুষের। এখন পর্যন্ত মুম্বই ও নয়া দিল্লির মতো মেগাসিটিগুলো করোনার হটস্পট। কিন্তু ছোট শহর অথবা গ্রামীণ এলাকা- যেখানে ভারতের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বাস করেন, সেখানে এলার্ম দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়া পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে সেখানে লকডাউন দেয়া হয়। আরোপ করা হযেছে তিন দিনের শাটডাউন এবং ১০ই আগস্ট পর্যন্ত নৈশকালীন কারফিউ দেয়া হয়েছে।

রক্তে অস্বাভাবিক উচ্চমাত্রায় সুগার থাকলে করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি

রক্তে অস্বাভাবিক উচ্চমাত্রায় সুগার রয়েছে কোভিড -১৯ আক্রান্ত এমন রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশী। চীনের গবেষকরা শনিবার এ কথা জানায়।

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করতে পেরেছেন যে, হাইপারগ্লাইসোমিয়া আক্রান্ত রোগী যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়েনি তারা কোভিড -১৯ এ সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডায়াবেটোলজিয়া জার্নালে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

উহানের দু’টি হাসপাতালে ৬০৫ জন কোভিড -১৯ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া যায়।

রিপোর্টে বলা হয়, উচ্চ রক্তচাপে মুত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে কোভিড -১৯ সংক্রমন আলাদাভাবে মৃত্যু ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর পরিচালিত পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা চালানো হয়।

এই জার্নালে মে মাসে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, ফ্রান্সের হাসপাতালগুলোতে ডায়াবেটিস রয়েছে এমন কোভিড -১৯ আক্রান্ত ১০ জনের ১ জন মারা গেছে। এই হার তুলনামূলকভাবে অন্য রোগীদের চেয়ে অনেক বেশী।

ঈদে আকাশপথে বাড়ছে যাত্রীর চাপ

ফাইল ছবি

আসন্ন ঈদে বাড়ি ফিরতে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের পরিবর্তে অনেকে বেছে নিচ্ছেন আকাশপথ। টিকিট সংগ্রহ করতে যাত্রীদের চাপও বেড়েছে এরই মধ্যে। শুক্রবার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট কাউন্টার থেকে অগ্রিম সংগ্রহ করছেন যাত্রীরা। ঈদ সামনে রেখে বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানান।

করোনার কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নির্দেশনায় শর্তসাপেক্ষে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে শুরু হয়েছে বিমান চলাচল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ দেশের দুটি বেসরকারি সংস্থা ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। শুরুতে দু-একটি ফ্লাইট চালানোর পর যাত্রী সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে বিমান। তবে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার। তবে চালু হয়নি রাজশাহী ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। এবার ঈদে এ দুটি বিমানবন্দর চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলে বেবিচক কর্মকর্তারা জানান।

বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স। করোনার কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ভ্রমণ করে না।

এবার পশুর হাট জমবে না, বলছেন ব্যাপারীরা

এবার পশুর হাট জমবে না, বলছেন ব্যাপারীরা

প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গাবতলীর পশুরহাট জমজমাট হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু-ছাগল নিয়ে আসতে থাকেন ব্যাপারীরা। ঈদের ১০-১২ দিন আগে বেচাকেনা জমে ওঠে। অনেক ব্যাপারী গাবতলী হাট থেকে পশু কিনে আবার এখানেই বিক্রি করেন। দূর দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা ভালো দাম পেলে ঈদের আগেই পশু বিক্রি করে চলে যান। আর দুই সপ্তাহ পরেই কোরবানির ঈদ। কিন্তু এবার গাবতলী পশুরহাটের অধিকাংশ জায়গা এখনও ফাঁকা পড়ে আছে। পাবনা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা থেকে অনেকে গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন, কিন্তু ক্রেতা নেই। বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব ব্যাপারী গাবতলী হাটে এসেছেন তারা বলছেন, এবার হাট জমবে না। গত ১৬ জুলাই সকালে সিরাজগঞ্জ থেকে ৭টি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে এসেছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১০টায় হাটে এসে পৌঁছেছি। বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো গ্রাহক নেই। এর আগে যারা গ্রাম থেকে এসেছিল তারা ৫-৬ দিন থেকে লস দিয়ে গরু বিক্রি করে চলে গেছে। তারা বলেছে, গরু ফিরিয়ে নিয়ে গেলে বা আরও বেশিদিন থাকলে আরও বেশি ক্ষতি হয়। সে কারণে কম দামে গরু বিক্রি করে চলে গেছে। এ ব্যাপারী বলেন, এবার গরুর হাট জমবে না। এটা এখন থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে। কারণ প্রতিবার এই সময় গাবতলী গরুর হাট ভরে যায়। এবার এখন পর্যন্ত মূল হাটের চার ভাগের এক ভাগ ভরেনি। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব ব্যাপারী গরু নিয়ে আসে তারা অনেকেই করোনাভাইরাসের কারণে গরুই কেনেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল বলেন, ঢাকার আশপাশে এখন অনেক বড় বড় গরুর খামার গড়ে উঠেছে। সেখানে ৩৭৫ টাকা কেজি (লাইফ ওয়েট) হিসাব করে গরু বিক্রি করছে। তার চেয়ে অনেক কম দামে আমরা দিচ্ছি তারপরও গ্রাহক নেই। আমার পাশে ২০০ কেজি (লাইফ ওয়েট) ওজনের একটি গরু ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হলো, যার কেজি পড়েছে ৩০০ টাকা। গাবতলীতে দীর্ঘদিন গরুর ব্যবসা করেন জমির আলী। তিনি এখান থেকে গরু কিনে এই হাটেই বিক্রি করবেন। এবারও গরু কিনতে বের হয়েছেন এ ব্যবসায়ী। জমির আলী বলেন, প্রতি বছর এই সময় গাবতলী হাট গরু দিয়ে ভরে যায়। অথচ এবার সেই হাটে গরু এখন পর্যন্ত (১৬ জুলাই) জমছে না। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে তুলনামূলক গরু এবার সস্তা। গত বছর এ সময়ে যে গরু ৭০ হাজার দিয়ে বিক্রি হয়েছে, এবার তার দাম ৫৫ থেকে ৬০ হাজার। গত ১৪ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ১৬টি গরু কিনেছি।

প্রতি গরু দেড় দুই হাজার টাকা লাভ হলে আমিও ছেড়ে দিচ্ছি। গাবতলী হাটে ২০ বছর ধরে ব্যবসা করেন আফজাল সরকার। তিনিও গরু কেনার জন্য ঘুরছেন। গ্রাম থেকে যারা আসে তাদের কাছ থেকে গরু কিনে এই হাটেই বিক্রি করেন। আফজাল বলেন, এবার কোরবানির হাট ভালো জমবে না। কোরবানিও কম হবে। গ্রামগঞ্জের মানুষ এবার গরু কিনছে না। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। এর আগে কিছু গরু কিনেছিলাম। বুধবার ৪০০ টাকা কেজি গরুর মাংস ধরে ওজন করে গরু বিক্রি করেছি। আজ বসে আছি, গরু কিনব কিনা ভাবছি। গত বছর ২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এবারও ক্ষতিতে পড়েছি। গরু কিনে লাভ করতে পারছি না।

কুষ্টিয়া থেকে ১১টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন রকি নামের এক ব্যাপারী। তিনি বলেন, গ্রামেও এখন গরু সস্তা, নেয়ার লোক নেই। তারা যে গরুগুলো এনেছেন গত বছর এই মাপের গরু তিনি ৬০-৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এবার ৪৫-৪৮ হাজারের ওপর দাম ওঠেনি। এই দামে গরু বিক্রি করলে ক্ষতি হবে। কারণ এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি। ১৫টি গরু নিয়ে পাবনা থেকে গাবতলী হাটে এসেছেন শাহ আলম। তিনি বলেন, গ্রামেও গরুর বেচাকেনা নেই। এ কারণে আগেভাগে ঢাকায় এসেছি। এখানেও গরুর দাম কম। যে দামে গরুগুলো কিনে এনেছি সে দামও বলছে না। এবার সারাদেশেই গরুর বাজার কম। প্রতি বছরের মতো মানুষ এবার এত কোরবানি দেবে না। গ্রামেও এ বিষয়টি টের পাওয়া গেছে। কারণ করোনার কারণে অনেকের চাকরি নেই। অনেকের বেতন কমে গেছে। অনেকে চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। তাদের পক্ষে এবার কোরবানি দেওয়া সম্ভব না।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ১২টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন আলম নামের এক খামারি। তিনি বলেন, গরু এসে মনে হচ্ছে ক্ষতি হয়ে গেল। কারণ দুই দিন হয়ে গেল একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। গত বছর এমন সময়ে নিজের খামারের ১৫টি গরু বিক্রি করে আবার বাড়ি গিয়ে বড় ভাইয়ের খামারের ১০টি গরু নিয়ে এসে বিক্রি করেছিলাম। এবার হাটের হাবভাব ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর তিনমাস আগে থেকেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে ব্যাপারীরা গরু কিনেছেন। এবার একটা ব্যাপারীও দেখা যায়নি। তারা করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছে।

আড়াই কোটি লোক দরিদ্র হতে পারে

তরুণ অর্থনীতিবিদদের বাজেট ভাবনা

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা

করোনাভাইরাসের আঘাতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ফলে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক তার প্রতিবেদনে বলেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তাতে করে সব দেশই তাৎপর্যপূর্ণভাবে আক্রান্ত হবে। এতে করে যেসব পরিবারের জীবিকা শিল্প-কারখানার ওপর নির্ভরশীল, তারা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এটা তাদের জন্য অশনিসংকেত।

বিশ্বব্যাংক নির্দিষ্ট করে দিয়ে বলেছে, থাইল্যান্ডের পর্যটন খাত এবং ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়বে। বিশ্বের শীর্ষ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞানুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় সাড়ে পাঁচ মার্কিন ডলারের নিচে তারাই দরিদ্র। করোনার করুণ দৃশ্যপট তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, বিশ্বের প্রায় ৩৫ মিলিয়ন (সাড়ে তিন কোটি) মানুষ দারিদ্র্যের সাগরে পতিত হবে। করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে আড়াই কোটিতে।

বিশ্বব্যাংকের অনুমান, করোনাভাইরাসের কারণে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ কমে যাবে।