১৯১৮ সালের মহামারীতেও মাস্ক উপেক্ষা করেছিল মানুষ

১৯১৮ সালের মহামারীতেও মাস্ক উপেক্ষা করেছিল মানুষ

মহামারীর সময় মাস্ক পরার প্রতি উদাসীনতা নতুন কিছু নয়। এক শতাব্দীকাল আগের মহামারী স্প্যানিশ ফ্লুর সময়েও সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বহু মানুষ সেই নির্দেশের প্রতি কোনো তোয়াক্কাই করেনি।

ফলে ওই মহামারীতে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রেই মারা যায় কমপক্ষে ছয় লাখ ৭৫ হাজার মানুষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি বিস্ট-এ লেখা এক নিবন্ধে এসব কথা বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের সেন্টার ফর দ্য হিস্টোরি অব মেডিসিনের সহকারী পরিচালক ও মহামারী গবেষক জে. আলেকজান্দার নাভারো

তিনি বলেন, ১৯১৮-২০ সালের মহামারী প্রতিরোধেও লকডাউন ও সামাজিক দূরত্বের মতো নানা বিধি আরোপ করা হয়েছিল। স্কুল, কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষের উদাসীনতার কারণে মহামারী ঠেকানো যায়নি।

করোনা মহামারীকালেও সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মাস্ক পরার প্রতি এখনও উদাসীন অনেকেই। দীর্ঘ ওই নিবন্ধে নাভারো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি রাজ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ অবস্থায় বহু স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা সতর্ক করছেন, দ্রুততার সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তা না হলে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞই একমত, মার্কিনিদের প্রকাশ্য স্থানগুলোতে মাস্ক পরা উচিত। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলা উচিত। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষকেই সেটা মানানো যাচ্ছে না।

স্থানীয়ভাবে মাস্ক পরার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে অ্যারিজোনার স্কটসডেল, টেক্সাসের অস্টিনে। ওয়াশিংটন এবং নর্থ ক্যারোলাইনার বেশ কিছু শেরিফ ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের রাজ্যে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবেন না।

আলেকজান্দার নাভারো লিখেছেন, ১৯১৮ সালের মহামারীর ইতিহাস নিয়ে আমি বিস্তর গবেষণা করেছি। তাতে দেখা গেছে, ওই সময়ও কার্যকর কোনো টিকা বা ওষুধ ছিল না। তখনও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আক্রান্তদের পৃথক করে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছিল। অনেক সম্প্রদায়কে মুখে মাস্ক পরতে বলা হয়।

কিন্তু তাতে বিরক্তি বোধ করেন অনেকে। ১৯১৮ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক হারে দেখা দেয় মহামারী। তা দ্রুতই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ সার্ভিস লিফলেট বিতরণ করতে থাকে। তাতে সব নাগরিককে মুখে মাস্ক পরতে বলা হয়। একই আহ্বান জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় রেড ক্রস। কিভাবে মাস্ক তৈরি করা যায় তার বর্ণনা দেয়া হয় তাতে। নাগরিকদের মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে পোস্টার টানিয়ে দেয়া হয় দেশজুড়ে।

কাতারে বিদেশি শ্রমিকেরা বর্ণবৈষম্যের শিকার : জাতিসংঘ

image

কাতারে বিদেশি শ্রমিকেরা কাঠামোগত বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল।

এই সপ্তাহে প্রকাশিত সংস্থাটির একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি তানদেই আছিউমে বলেন, জাতিগতভাবে কাতারে বর্ণবাদ রয়ে গেছে। সেখানে ইউরোপীয়, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ান এবং আরব নাগরিকেরা এক ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। সেই তুলনায় দক্ষিণ এশীয় এবং আফ্রিকানেরা সুরক্ষা পায় না।

বর্তমানে দেশটিতে ২০ লাখ বিদেশ শ্রমিক কাজ করছে। এদের মধ্যে কম মজুরীর বেশিরভাগই এসেছে দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে, বলছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

বিশ্বকাপর স্টেডিয়াম বানাতে কাজ করছে সাড়ে আঠার হাজার শ্রমিক। এর বাইরে নির্মাণকাজ, অতিথিসেবা ও নিরাপত্তাসহ বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকল্পে কাজ করছে আরো অনেক বিদেশি শ্রমিক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমোদন দেওয়ার প্রায় ১০ বছর পর এখন দেখা যাচ্ছে স্বল্প বেতনের ওই শ্রমিকরা মারাত্মক বৈষম্য ও শোষণের শিকার হচ্ছেন।এর মধ্যে মজুরি না দেয়া, অনিরাপদ কাজের পরিবেশ, পুলিশ কর্তৃক জাতিগতভাবে তালিকা করা, এবং সর্বসাধারণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় ঢুকতে না দেওয়া অন্যতম।

জাতিসংঘের ওই বিশেষ প্রতিবেদক বলেছেন, শ্রমিকেরা অত্যাচারী মালিকের কাজে ছেড়ে চলে গেলে তাদের সাধারণত ‘পলাতক’হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এই জাতীয় শব্দ দিয়ে কাতারে নিম্ন মজুরির শ্রমিকের প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয় কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনে কিছু দারুণ সংস্কার চালিয়েছে। তবে আরো মারাত্মক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রতিবেদনের প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য প্রকাশের পরপরই কাতারের সরকার জানুয়ারিতে দাসত্বমূলক শ্রমের ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি সফর বাতিল করেছে।

গত জুনে ফিফা প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো বলেছিলেন, ‘আমাদের সকল ধরনের বর্ণবাদ এবং যে কোনো ধরনের বৈষম্যকে না বলতে হবে।”

 

করোনা সংক্রমণের মধ্যে বর্ষায় ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে যা করণীয়

প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল চলছে। এ সময় বৃষ্টিতে ঘরে কাদার ছাপ, স্যাঁতসেঁতে মেঝে বা দেওয়াল, পোকামাকড়ের উৎপাত লেগেই থাকে।। এ কারণে বর্ষায় ঘরবাড়ির দিকে আলাদা নজর দিতে হয়। তার উপর এ বছর যোগ হয়েছে করোনা। তাই ঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

করোনা সংক্রমণের এই সময় ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। যেমন-

১. বর্ষার এই সময় যখন তখন বৃষ্টি শুরু হতে পারে। তাই দরজা ও জানলার কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখুন কাঠের আসবাবপত্র। বর্ষার পানি থেকে বাঁচার এটাই সেরা উপায়।

২. বাড়িতে কার্পেট থাকলে এ সময় তা গুটিয়ে রাখুন। এতে কার্পেট ভিজে যাওয়ার ভয় কম থাকে। কাদার দাগ লাগার শঙ্কাও দূর হয়। এমনিতেই ভারী কার্পেট পরিষ্কার করা খুব কষ্টসাধ্য। একান্তই কার্পেট রাখতে চাইলে আজকাল বাজারে অনেক স্পঞ্জি, পানি শোষণ ক্ষমতাযুক্ত কার্পেট পাওয়া যায়। বর্ষায় সে গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

৩. আলমারির ভিতর স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটাতে জীবাণুনাশক ন্যাপথলিন রাখতে পারেন। খানিকটা নিমপাতাও রাখতে পারেন। নিম এক দিকে যেমন জলীয় ভাব কাটায়, অন্য দিকে স্যাঁতস্যাতে গন্ধও দূর করে।

৪. এ সময় চাদর, পর্দা সব কিছু পরিষ্কারের ক্ষেত্রে আস্থা রাখুন ড্রাই ক্লিনিংয়ে। কারণ এগুলো ভেজা থাকলে দুর্গন্ধ ছড়াবে অচিরেই। সেখান থেকেও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হতে পার।

৫. বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় বাড়ির সদস্যদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রাখুন। ভুল করেও ঘরের আশেপাশে, টবে পানি জমতে দেবেন না। মশা ও অন্যান্য পোকামাকড় তাড়াতে কীটনাশক ব্যবহার করুন। এক দিন পর পর ব্লিচিং পাউডার ও কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ান বাড়ির চার পাশে। এছাড়া করোনা সংক্রমণ এড়াতে বাড়ির মেঝে, যেসব জায়গা বেশি স্পর্শ করা হয় সেখানে পানিতে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে পরিষ্কার রাখুন।

৬. বর্ষা আসার আগেই বাড়ির ছাদ, মেঝে ও দুই দেওয়ালের সংযোগস্থল পরীক্ষা করা উচিত। মহামারিরর এই সময় অনেকেই হয়তো বাইরের লোক ডাকতে পারছেন না। তবে কোথাও কোনও ফাটল বা আর্দ্রতা জমতে দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধ

ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট ফেসবুক নানা রকম ঝামেলা আর অস্বস্তির মধ্য দিয়ে পার করছে সময়। সম্প্রতি ছোট-বড় প্রায় এক হাজার কোম্পানি ফেসবুক বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ফেসবুক।

প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগের কয়েকদিন প্ল্যাটফরমে নিষিদ্ধ থাকতে পারে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন। প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হচ্ছে, ওই সময়কে ‘ব্লাকআউট’ হিসেবে ধরবে ফেসবুক; নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞাপন চোখে পড়বে না প্লাটফর্মে।

টুইটারে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন সারা বছর নিষিদ্ধ ফেসবুক ঠিক কতদিন বন্ধ রাখবে তা জানা যায়নি। তবে যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ নির্বাচনের দিন বা আগের কয়েক দিনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে আইন রয়েছে।

এদিকে ফেসবুক বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করে এডিএল, এনএএসিপি ও কালার অব চেঞ্জ নামের কয়েকটি সংগঠন। তাদের সঙ্গে জুম প্লাটফর্মে ভার্চুয়াল মিটিং করেছে ফেসবুক সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ। ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে আলোচনা চললেও সমাধানের পরিবর্তে মিটিং শেষে ফেসবুককে বর্জনের ডাক দেয়া সংগঠনের সদস্যরা ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

ক্রেতাশূন্য রাজধানীর বিপণিবিতান

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা এলিফ্যান্ট রোড-নিউ মার্কেট। পুরো এলাকাজুড়ে ছোট-বড় অন্তত ১০-১৫টি শপিংমল-মার্কেট রয়েছে। রয়েছে বিপণিবিতান। শপিং করতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় এখানকার স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু বর্তমানে সে দৃশ্য একেবারেই অনুপস্থিত। ঈদুল আজহার দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও কোনো আমেজ নেই বিপণিবিতানগুলোতে। মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় নেই, খোশগল্পে কাটছে বিক্রেতাদের সময়। চোখেমুখে হতাশার ছাপ কর্মচারীদের।

কারণ বেতন পাননি ৩-৪ মাসের। এমন চিত্র শুধু নিউমার্কেট বা এলিফ্যান্ট রোডে নয়, রাজধানীর সব শপিংমল-মার্কেটের চিত্র এখন এমনই। সরজমিন বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ বন্ধের পর দোকান খুললেও বিকিকিনি নেই। তাদের ভাষ্যমতে, আগে থেকেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দাবস্থা ছিল। এরপর লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল মাকের্টগুলো। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। ঈদুল ফিতরের পর দোকাগুলো খোলা হলেও নেই আগের মতো বেচাকেনা। গত ঈদুল ফিতরের বিশাল ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়েও আসন্ন ঈদুল আজহায় কিছুটা আশাবাদী ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ঈদের বিকিকিনি এখনো শুরু না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় তারা। নতুন পণ্যের কালেকশন বাড়ালেও ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না। বিক্রি না হলেও দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ সব খরচই দিতে হচ্ছে। তবে বেতন পাচ্ছেন না কর্মচারীরা। এ অবস্থায় অনেক কর্মচারী স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। অধিকাংশ দোকানে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। পুনরায় ব্যবসায় ফিরলেও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাতো দূরের কথা, বরং ব্যবসায় টিকে থাকাই যেন দায় হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসন্ন ঈদেও যদি আশানুরূপ ব্যবসা না করতে পারেন, তবে আবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।

এলিফ্যান্ট রোডের সুবাস্তু শপিং, ইস্টার্ন মল্লিকা, ট্রপিক্যাল সেন্টার, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা এবং বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের কয়েকটি দোকানের বিক্রেতারা বলেন, ঈদুল ফিতরে ব্যবসা পুরোটাই লোকসানের ওপর ছিল। ঈদের পর দোকান খুললেও বিক্রি নেই। এ অবস্থায় আমাদের মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এরপরও ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমাদের একটা আশা ছিল যে, কিছুটা হলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের কোনো সাড়া নেই। ২০% থেকে ৩০% ছাড় দিয়েও কাস্টমার মিলছে না।

ইস্টার্ন প্লাজার দেশ ফ্যাশনের বিক্রেতা ফাহিম বলেন, সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাত্র ৪-৫ জন কাস্টমার এসেছেন। এরমধ্যে মাত্র একটি প্রোডাক্ট সেল করতে পেরেছি। দুই-একজন যারাই আসেন দেখে চলে যান। আগে দোকানে নিত্যনতুন কাস্টমার আসতেন। এখন ছোটখাটো কিছু কাস্টমার আসেন। তাও একেবারে জরুরি না হলে আসেন না। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে পথে বসতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের কপালেও বড় দুঃখ আছে। এখন পর্যন্ত আমাদের ২-৩ মাসের বেতন বাকি রয়েছে। আগে যেখানে ৭-৮ জন কর্মচারী কাজ করতো সেখানে এখন মাত্র ৩ জন। তবু মালিক বেতন দিতে পারছেন না। তাহলে আপনারাই ভাবুন ব্যবসার কী অবস্থা!

বসুন্ধারা শপিংমল ও ইস্টার্ন প্লাজার আরো কয়েকটি দোকানের বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। গতবছর এমন সময় দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। এবার তার উল্টো। মানুষ সবাই এখন অভাবের মধ্যে আছে। এ অবস্থায় তারা কেনাকাটা করতে আসছেন না। কোনোমতে খেয়েপরে বেঁচে আছে। আগেতো সখ করেও ঘুরতে অনেকে মার্কেটে আসতো। এখন খুব প্রয়োজন না হলে কেউ আসছেন না।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, গত ঈদুল ফিতরে আমাদের ২০-২২ হাজার কোটি টাকা নাই হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদুল আজহায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ঈদের বিকিকিনি এখনো শুরু হয়নি। ক্রেতারা দোকানে আসছেন না। এমন হলে অবস্থা আগের মতোই হবে। আবারো আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সেজন্য আমরা ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার আবেদন করেছি। যাতে কিছুটা বিক্রি বাড়ানো যায়। কিন্তু যে অবস্থা দেখছি তাতে এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। কারণ এখন পর্যন্ত আমাদের আর্থিক কোনো সহযোগিতা দেয়া হয়নি। প্রণোদনার আওতায় যে ঋণ সেটাও ব্যাংকগুলো দিচ্ছে না। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে সত্যিই ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে।

নিউইয়র্কে সহিংসতা, আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

নিউইয়র্কের হাউস্টন স্ট্রিটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ভবন ঘিরে রাখে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্ক সিটির আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। হত্যা ও হামলার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪ জুলাই পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এই আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশিদের মধ্যেও আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

জুলাই মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিউইয়র্কের ৪৫টি স্থানে বেশ কয়েক দফা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সহিংসতায় ১১ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ দুর্বৃত্তের অস্ত্রের আঘাতে ফাহিম সালেহ খুন হন।

এ ঘটনার পর থেকেই ম্যানহাটন এলাকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৭ জুলাই ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭০ স্ট্রিটে অ্যান্থনি রবিনসন ৬ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ক্রস ওয়াকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি কালো গাড়ি থেকে অ্যান্থনিকে গুলি করে গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে অ্যান্থনির মৃত্যু হয়। তবে অ্যান্থনির মেয়ের কোনো ক্ষতি হয়নি।

১১ জুলাই ব্রুকলিনের নিউজার্সি ও ফুলটন স্ট্রিট এলাকায় সন্ধ্যার দিকে একটি হোটেলের ভেতর অতর্কিতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে হামলাকারীদের গুলিতে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হন। ৯ জুলাই ম্যানহাটনের ১০৪ স্ট্রিট ও কলম্বাস এলাকায় নাইকিয়ান গার্ডেন নামের ২৯ বয়সী এক তরুণ খুন হন। গত দুই সপ্তাহে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তেমন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

নিউইয়র্কে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য করোনাভাইরাসকে দায়ী করেছেন নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও। তিনি বলেন, করোনার কারণে অপরাধ কিছুটা বেড়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে নগরীতে বাস করা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয়। তাঁরা বলেন, জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর পুলিশের ওপর বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা হয়। এসব ঘটনায় তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। উল্টো পুলিশের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপর দিকে এই পরিস্থিতিতে পুলিশও অপরাধ দমনে কাজ করতে তেমন একটা আগ্রহী নয়। যার কারণে প্রতিদিন খুন, চুরি, ডাকাতি ও হামলার ঘটনা ঘটছে।

চাঁদপুরে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল

বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে চাঁদপুরের সফরমালী কোরবানির পশুর হাট বসেছে। হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারিরা বলছে, সরকারের গরু বিক্রির অ্যাপস তারা বুঝে না, তাই হাটে গরু বিক্রি করতে এসেছে। ভিড় বেশি হওয়ায় বাজারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান বলছে ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, সফরমালি হাটটিই অবৈধ। পার্শ¦বর্তী জেলা থেকে কোরবানির পশুর নিয়ে খামারিরা সফরমালি হাটে আসায় এ বাজার ক্রেতা সমাগম বেশি হয়ে। সরজমিন দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরে অগ্রিম পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদের পূর্ব মুহূর্তে খামারে পালিত মোটাতাজা গরু সফরমালি হাটে তুলতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। খামারের এসব চোখ জুড়ানো পশু ক্রয় করতে চাঁদপুরের প্রতি সোমবার ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যায় লক্ষণীয়। তবে এ পশুর হাটটি প্রায় তিন দশক পুরোনো। প্রতি সপ্তাহের সোমবার এখানে গরুর হাট বসে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঈদকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও জীবাণু নাশক টানেল বসিয়ে এ হাট বসানো অনুমতি পেয়ে হাটটি শুরু করে বাজার কমিটি। তারা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ফ্রি মাক্স দিয়ে ও জীবানু নাশক স্প্রে করে এবারা হাট পরিচালনা করছে। কিন্তু লোকজন ঠিকমত মাক্স ব্যবহার করছে না। মানছে না সামাজিক দূরুত্ব।  গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার অ্যাপস এর মাধ্যেমে গরু বিক্রি করবে। তারা অ্যাপস বুঝে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাঠে গরু বিক্রি করতে এসেছে।  বাজার ব্যবস্থা কমিটির সদস্য আজাদ খান বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ফ্রি মাক্স দেয়াসহ জীবাণুনাশক টানেল বসিয়ে জীবাণুমুক্ত করে বাজার পারিচালনা করছে। করোনাকালে এ ব্যবস্থা রেখেই হাট পরিচালনা করবে। বাজার ব্যবস্থা কমিটির পরিচালক আব্দুল আজিজ খান দুদু বলেন, হাটের ইজারা দিয়ে ৯টি এতিম খানা, ৬৪ মসজিদের ইমামদের অর্ধেক বেতন ও দুস্থ অসহায়দের সেবায় খরচ করে থাকি। চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, আমাদের সদর উপজেলায় অনুমোদিত গরুর বাজার আছে ২৪ টি। ইতিমধ্যে অস্থায়ীভাবে কোরবানি উপলক্ষে ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার সফরমালী বাজার আছে, যেটা প্রতি সোমবার বাজার বসে। এই বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যক্তি পর্যায়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ৩০ বছর যাবৎ সরকার কোন ইজারা দেয় নাই। এ ব্যাপারে জেলা প্রসাশক বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ে কোন টোল আদায় অধিকার নাই। পতিপক্ষ বলছে তাদের মামলা আছে। আমার জানামতে টোল আদায় সংক্রান্ত কোন মামলা নাই। মামলা থাকলে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। আমি মনে করি কোন ব্যক্তি দীর্ঘ সময়ে কোন টোল আদায়ের কোন অধিকার সে রাখে না। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এই হাটটি যেন না বসে।