ঢাকার দিকে বন্যার পানি

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাঁধে আশ্রয় নিতে ভেলায় ভেসে রওনা দিয়েছেন এই নারীরা। গতকাল দুপুরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুমারী এলাকায়।  ছবি: সোয়েল রানা

উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট দিয়ে শুরু হয়ে বন্যার পানি এখন দেশের মধ্যাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় চলে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার বন্যার পানি ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে পৌঁছে গেছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ, দোহার ও মানিকগঞ্জের নিম্নাঞ্চল এখন বন্যার পানির নিচে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে পানি চলে আসতে পারে।

ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলে বেড়িবাঁধ থাকলেও পূর্বাঞ্চলে বন্যা ঠেকানোর মতো বাঁধ বা অন্য কোনো অবকাঠামো নেই। পূর্বাঞ্চলে বেশির ভাগ নিচু এলাকার জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক এলাকা করা হয়েছে। ফলে পানি এসে সেই আবাসিক এলাকাগুলোকে প্লাবিত করবে সহজেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঢাকা ওয়াসা পানিনিষ্কাশনের জন্য পাঁচটি স্থানে পাম্প স্থাপন করলেও তা পূর্বাংশের নিম্নাঞ্চলকে বন্যামুক্ত করতে পারবে না। গোড়ান, বনশ্রী, বাসাবো, আফতাবনগর, সাঁতারকুলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যবর্তী ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও ডিএনডি বাঁধ এলাকাতেও বন্যার পানি আসতে পারে। বিস্তীর্ণ এলাকায় একবার পানি ঢুকে পড়লে তা কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগবে নামতে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার দিকে বন্যার পানি আসছে, সেটা আমরা জানি। ডিএনডি এলাকায় বন্যার পানি দূর করতে সেনাবাহিনীর একটি টিম কাজ করছে। ঢাকায় পানি ঢুকে পড়লে তা নিষ্কাশন করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের হিসাবে, বর্তমানে দেশের ১৫টি জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। এদের জন্য প্রায় ১ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেগুলোতে প্রায় ২১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ১ হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। আজ বুধবার দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ১৪টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরতে গতকাল ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বন্যা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, বন্যার পানি ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ বাড়বে। সেই বৃদ্ধিটা আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ স্থায়ী হবে। ২৩টি জেলায় বন্যা বিস্তৃতি লাভ করবে। ভারতের মেঘালয়, চেরাপুঞ্জী, আসাম, ত্রিপুরা এবং চীন ও নেপালের পানি এসে দেশে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় আক্রান্ত জেলার সংখ্যা এখন ১৭। বন্যায় আক্রান্ত মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৬৪।

ঢাকার চারপাশে নদীর পানি বাড়ছে

প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পদ্মার পানি প্রতিদিনই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। জেলার হরিরামপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলার দৌলতপুরের প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এখনো জেলায় কোনো আশ্রয়কেন্দ্র চালু হয়নি।

বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জাল হোসেন জানান, পানি বাড়ায় তাঁর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদী, কাশি দয়ারামপুর, রামনারায়ণপুর, পুরানপাড়াসহ আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ব্রাহ্মণদী গ্রামের বেশ কয়েকটি বসতভিটায় পানি ঢুকেছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শীতলক্ষ্যার পানি বাড়লেও এখনো তা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেনি। তবে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আগামী তিন–চার দিনের মধ্যে জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোর মধ্যে তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গার পানি দ্রুত বাড়ছে। ঢাকা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকার পয়োনিষ্কাশন লাইন বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে গিয়ে পড়েছে। আর পূর্বাংশের পয়োনিষ্কাশন লাইন পড়েছে বালু ও শীতলক্ষ্যায়। কিছু অংশের নিষ্কাশন নালা হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন লেকের মধ্যে পড়েছে। ফলে ঢাকার চারপাশের নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে গেলে রাজধানীর বড় অংশের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে। আর বিপৎসীমা অতিক্রম করলে খালগুলো দিয়ে পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে।

ঢাকা ওয়াসার পানির পাম্প রয়েছে কল্যাণপুর, সেগুনবাগিচা, রামপুরা ও জনপদে। আর গোড়ানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাম্প আছে। সাধারণত পানির উচ্চতা ৩ দশমিক ৬৫ মিটার উঠলেই গেট বন্ধ করে দিয়ে পাম্পগুলো চালু করে ঢাকা ওয়াসা। গতকাল পর্যন্ত পানির উচ্চতা সাড়ে ৩ মিটার পর্যন্ত ছিল। তবে প্রতিদিনই পানির উচ্চতা বাড়ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা শহরের পশ্চিমাংশের ১৬৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ থাকায় সেখান দিয়ে পানি প্রবেশ করতে পারবে না। তবে পূর্বাংশের কিছু নিচু এলাকায় পানি ঢুকলে বেশি কিছু করার নেই। পানি পাম্প করে দ্রুত নামানোর চেষ্টা করতে হবে।

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের উজানে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে গতকালও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিদিনই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আগামী দু-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে আগামী তিন-চার দিন উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ। এখানে প্রতিবছর বন্যা হবে এবং যদি তা ২০ শতাংশ এলাকার মধ্যে থাকে, তাহলে তা এখানকার জন্য ভালো। কারণ, এতে সারা বছর ভূগর্ভের পানি পূর্ণ ভরাট হয়। তবে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে, বন্যার পানি ঢুকে পড়লে তা নামতে বেশি সময় লাগবে। এর কারণ হলো, নদীগুলোর প্রবাহ পথে বাঁধ ও সড়কসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, ঢাকার পানি নামানোর জন্য আপাতত করণীয় হলো, চারপাশের নদীগুলোর সঙ্গে সংযোগ খালগুলো দ্রুত যুক্ত করা এবং ভ্রাম্যমাণ পাম্প বসিয়ে নিম্নাঞ্চলের পানি সরানোর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

যমুনা গিলছে জনপদ, শূন্য করে দিচ্ছে জীবন

বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবারগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় ‍নিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সারিয়াকান্দির রৌহদহ এলাকায়। ছবি: সোয়েল রানা

গুড়ায় যমুনা নদী ভয়ংকরভাবে ফুঁসে উঠেছে। প্রবল স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন চরের জনপদ। ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা মানুষ। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন এক চর থেকে অন্য চরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, যমুনায় পানি বৃদ্ধি গত বছরের রেকর্ড ছাড়ানোর অপেক্ষায়। গত বছরের ১৮ জুলাই যমুনায় সর্বোচ্চ বিপৎসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে হু হু করে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এবার এ রেকর্ড ভাঙতে পারে দু-এক দিনের মধ্যে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান বলেন, সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়ায় যমুনা নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় সেখানে পানি প্রবাহিত হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ বুধবার সকাল ছয়টায় সেখানে ১৭ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ যমুনায় বর্তমানে বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩৮ সেন্টিমিটার।

সহায়সম্বল নিয়ে কলাগাছের ভেলায় করে বাঁধে যাচ্ছে বানভাসি মানুষেরা। সারিয়াকান্দির রৌহদহ এলাকায়। প্রথম আলোজেলা প্রশাসকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্র জানায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৯৮টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৭২। বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ। খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে কৃষকের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির পাট, ধান, বীজতলাসহ আবাদি ফসল।

মঙ্গলবার বিকেলে যমুনার বন্যাদুর্গত সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার আট/দশটি চর ঘুরে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে প্রবল স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফুঁসছে যমুনা। ভাঙছে নদীর কুল। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সারিয়াকান্দির আউচারপাড়া, সুজনেরপাড়া, উত্তর শিমুলতাইড়, মানিকদাইড়সহ বেশ কয়েকটি চরের জনপদ। বসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মসজিদ, কবরস্থান ভেঙে বিলীন হচ্ছে চর। এসব চরের পাটের ফসল পানিতে নিমজ্জিত। যমুনার ঢলে ভাসছে দলিকা, হাটবাড়ি, বিরামের পাঁচগাছি, খাটিয়ামারিসহ বিস্তীর্ণ চরের অর্ধশত লোকালয়।

বাঁধে আশ্রয় নিতে ভেলায় ভেসে রওনা দিয়েছেন তিন নারী। সারিয়াকান্দির ঘুঘুমারি এলাকায়। ছবি: প্রথম আলোপ্রবল স্রোতের তাণ্ডবে নদী ভাঙনে বিলীন আউচারপাড়া চর। এই চরের প্রায় ৪০০ বসতভিটা, গাছপালা, আধাপাকা স্কুল ভবন, পাকা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নদীগর্ভে চলে গেছে। এক মাস আগেও যেখানে হাজারো মানুষের বসবাস ছিল, সেখানে এখন বসতির কোনো চিহ্ন নেই। গৃহহারা মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন তেকানীচুকাইনগর চরে খোলা আকাশের নিচে।

নদীভাঙনে দিশেহারা ফিরোজ হোসেন খন্দকার বলেন, ‘কয়দিন আগেও এটি চারশডা ঘরের বসতি আচলো। স্কুল, ক্লিনিক, মসজিদ সবই আচলো। এখন সবই লদীর প্যাটত।’ তিনি বলেন, ‘১০ বিঘা জমির পাটের খ্যাতসহ আবাদি জমি, বাপ দাদার বসতভিটা চোখের সামনে লদীটা খায়্যা ফালাল। কিচ্চুই করবার পারনো না।’

উত্তর শিমুলতাউড় চর নদী ভাঙনে বিলীনের পথে। লোকালয়ের সঙ্গে এখানে বিলীনের পথে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকও। চরের বাসিন্দা সোহেল শেখ বলেন, ‘এক মাস আগেও লদী আচলো দুই আড়াই কিলোমিটার দুরত। হঠাৎ শুরু হলো ভাঙনের তাণ্ডব। এক মাসেই চাড়ডা চর ভাঙ্গে পুরোডাই শ্যাষ।’

এভাবে আউচারপাড়া, কাকালীহাতা, সুজনেরপাড়া ও উত্তর শিমুলতাইড় চরের প্রায় দেড় হাজার বসতবাড়ি যমুনায় বিলীন হয়েছে বলে জানান চরের বাসিন্দারা। ফয়েজ শেখ বলেন, ‘বসতভিটাটা হারানো, সঙ্গে সাতবিঘার পাট। এখন অন্য চরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্চি।’

চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ১৩টি চরের ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। নদী ভাঙনে বসতবাড়ি হারিয়ে ৯০০ পরিবার গৃহহারা। তারা তিন সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

হাওরের ঘরে ঘরে বন্যার ক্ষত

উঠানজুড়ে বন্যার পানি। ঘরের বেড়ার গায়ে হাঁটুসমান পানির দাগ এখনো স্পষ্ট। মেঝেতে থিকথিকে কাদা। কয়েকটা ইট বিছিয়ে পা ফেলার ব্যবস্থা করছিলেন শেলেনা বেগম (৪০)। মেয়েটাকে নিয়ে ১৫ দিন পর ঘরে এসেছেন। এ কয়েকটা দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছিলেন অন্যের বাড়িতে।

শেলেনা বেগমের ঘরের মেঝে ও বেড়া মাটির, ওপরে টিনের চালা। বললেন, দুই দফা বন্যার পানি ঢুকেছে তাঁর ঘরে। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। পানি নামলেও ঘরের ভেতর কাদার কারণে হাঁটা দায়। তাই ইট বিছিয়েছেন মেঝেতে। বালু ফেলতে হবে। একটি রাজহাঁস ছিল। সেটি বিক্রি করেছেন ৭০০ টাকায়। এই টাকা দিয়ে ইট কিনেছেন। বন্যার পানির তোড়ে ঘরের বেড়া ভেঙে গেছে। ধসে গেছে রান্নাঘর। দিনমজুর স্বামী ফয়জুল হকের হাতে কাজ নেই। ঘর ঠিক করার মতো হাতে টাকাও নেই। আর ঘর না হয় হলো। কিন্তু খেয়েপরে বাঁচবেন কীভাবে, এই চিন্তায় এখন দিশেহারা তাঁরা।

অনেক বাড়িঘরে এখনো বন্যার পানি। ছবি: প্রথম আলো

উঠানজুড়ে বন্যার পানি। ঘরের বেড়ার গায়ে হাঁটুসমান পানির দাগ এখনো স্পষ্ট। মেঝেতে থিকথিকে কাদা। কয়েকটা ইট বিছিয়ে পা ফেলার ব্যবস্থা করছিলেন শেলেনা বেগম (৪০)। মেয়েটাকে নিয়ে ১৫ দিন পর ঘরে এসেছেন। এ কয়েকটা দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছিলেন অন্যের বাড়িতে।

শেলেনা বেগমের ঘরের মেঝে ও বেড়া মাটির, ওপরে টিনের চালা। বললেন, দুই দফা বন্যার পানি ঢুকেছে তাঁর ঘরে। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। পানি নামলেও ঘরের ভেতর কাদার কারণে হাঁটা দায়। তাই ইট বিছিয়েছেন মেঝেতে। বালু ফেলতে হবে। একটি রাজহাঁস ছিল। সেটি বিক্রি করেছেন ৭০০ টাকায়। এই টাকা দিয়ে ইট কিনেছেন। বন্যার পানির তোড়ে ঘরের বেড়া ভেঙে গেছে। ধসে গেছে রান্নাঘর। দিনমজুর স্বামী ফয়জুল হকের হাতে কাজ নেই। ঘর ঠিক করার মতো হাতে টাকাও নেই। আর ঘর না হয় হলো। কিন্তু খেয়েপরে বাঁচবেন কীভাবে, এই চিন্তায় এখন দিশেহারা তাঁরা।

শেলেনা বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামে। সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের উত্তর দিকে কাছুখালি হাওরের পারে এই গ্রাম। গ্রামের অনেক বাড়িঘরে এখনো বন্যার পানি।

 গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে কথা হয় শেলেনার সঙ্গে। মায়ের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে মেয়ে সুরমা বেগম (১০) বলছিল, ‘ই ঘরও থাকতাম কিলা? চারদিকে পানি। বেড়া ভাঙা, ডর করে। সরকার থাকি আমরারে কিছু সাহায্য দিলে উপকার অইত।’

শেলেনার প্রতিবেশী শফিক নূর (৩৫) জানালেন, বন্যার পানি ঘরের ভেতর প্রবেশ করায় গোলায় থাকা ধান ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। দুবারের বন্যায় তাঁদের অবস্থা একেবারে কাহিল। কীভাবে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। শফিক নূর বলেন, ‘একবার সরকার থাকি দশ কেজি চাউল পাইছিলাম। ই চাউলদি খয় বেলা যায় খইন? আর তো সাহায্য পাইলাম না। আমরার চলার কোনো উপায় নাই। রুজি–রোজগার নাই। হাত একবারে খালি।’

তাঁদের ঘরের পেছনে আরও তিনটি ঘর। সব কটিতেই তালা ঝুলছে। ঘরগুলো যেন পানির ওপর ভাসছে। মানুষজন আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামের মূল সড়কের পাশে থাকা আত্মীয়ের বাড়িতে। এসব ঘরে বন্যার পানি থাকায় আমির উদ্দিন, শিরিনা বেগম, আমাতি বেগমের পরিবার এখনো বাড়ি ফেরেনি। নৌকায় থাকা মাঝি মিজানুর রহমান বলছিলেন, এবার বন্যার পানি নামছে খুবই ধীরে। তাই এসব ঘর থেকে পুরোপুরি পানি সরে যেতে আরও সপ্তাহখানেক লেগে যাবে।

দক্ষিণ দিকের একটি টিনের ঘরের বারান্দায় থাকা কিছু হাঁসকে খাবার দিচ্ছিলেন মুক্তার আলী (৫২)। তাঁর ঘরেও ছিল বন্যার কোমরসমান পানি। পানি নামার পর তিনিও গতকাল এসেছেন বাড়িতে। তিন মেয়ে এখনো আছে তাদের নানার বাড়ি। ঘরের ভেতর খাটের ওপর তাঁর স্ত্রী মমিনা বেগম জিনিসপত্র গোছগাছ করছিলেন। মুক্তার আলী জানালেন, তাঁর কোনো জমিজিরাত নেই। হাঁস পালন করে সেই আয় দিয়ে সংসার চলে। বন্যার পানিতে তাঁর ২২৬টি হাঁস মরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে বসতঘরেরও। মমিনা বেগম বলেন, ‘ঋণ করি চলরাম। সামনের দিন কিলা যাইব আল্লাই জানে। একটার পর একটা বিপদ। বিপদ ইবার আমরার পিছু ছাড়ের না।’

কৃষক আবদুস সালাম জানালেন, সংগ্রামপুর গ্রামে ৩৭০টি পরিবার আছে। মানুষজন কৃষিকাজের পাশাপাশি হাওরে মাছ ধরে, কেউ কেউ দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দরিদ্র মানুষের অনেকেই বেকার। বেশির ভাগ ঘরেই বন্যার পানি ছিল। অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে। দুই দফা বন্যার দখল কাটিয়ে ওঠা এসব মানুষের জন্য খুবই মুশকিল।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রণজিৎ চৌধুরী জানলেন, তাঁর ইউনিয়নে ৪৮টি গ্রাম। পরিবারের সংখ্যা পাঁচ হাজার। এর মধ্যে তিন হাজার পরিবারই বন্যায় আক্রান্ত। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাঁরা ৬০০টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। এ ছাড়া ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১৫০টি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে শুকনো খাবার। রণজিৎ চৌধুরী বললেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সেটি পর্যাপ্ত নয়। আরও সহায়তা প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জে প্রথম দফা বন্যা দেখা দেয় গত ২৫ জুন। গোটা জেলা তখন কমবেশি বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। ওই বন্যার পানি নামতে না নামতেই ১০ জুলাই থেকে আবার জেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। এখনো পুরো জেলা বন্যাকবলিত। গত তিন দিন সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল কম নামায় জেলার নদী ও হাওরে পানি কমছে। তবে পানি ধীরে নামায় মানুষজন রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ প্রথম আলোকে বলেন, জেলার সব উপজেলায় তাঁদের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে।

যত দূর চোখ যায় পানি আর পানি

নৌকায় করে বন্যার্তরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার সকালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বাবনা গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: আব্দুল আজিজ

জামালপুরে পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকার ঘরবাড়ি–রাস্তাঘাট তলিয়ে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তেমনই একটি দুগর্ত এলাকা ইসলামপুর উপজেলা। সেখানে যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। কোথাও বুকসমান, কোথাও কোমরসমান পানি। এলাকার লোকজন খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এখন মরিয়া।

ইসলামপুর উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ইসলামপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙে বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাবিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপের নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে।

দুর্গত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারপাশে শুধু পানি আর পানি। পানি বাড়তে থাকায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকজন ছুটছেন। নৌকার অভাবে নারী-পুরুষ গলাসমান পানিতে হেঁটে সেতুর ওপর বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন। অনেকেই জলমগ্ন বাড়ি থেকে নৌকা দেখে তাঁদের বহন করার জন্য ইশারায় ডাকছেন।
দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দুই দফার বন্যায় দুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগও দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৯টি মেডিকেল টিম প্রস্তুতের কথা বলা হলেও দুর্গত এলাকার লোকজনের অভিযোগ, প্রথম দফার বন্যায়ও তাঁরা মেডিকেল টিম দেখেননি, এবারও দেখেননি। বেশির ভাগ এলাকায় এখনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামপুরের পূর্ব বাবনা গ্রামের কয়েকজন নারী-পুরুষ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে জানালেন, দ্বিতীয় দফার বন্যা তাঁদের এলাকায় কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। কোনো জনপ্রতিনিধির দেখা পাননি তাঁরা। প্রথম দফার বন্যার সময় অল্প কিছু খাবারের প্যাকেট বিতরণ করে জনপ্রতিনিধিরা চলে যান। ত্রাণ বিতরণেও পক্ষপাত হয়। জনপ্রতিনিধি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরাই বেশি ত্রাণসামগ্রী পান।
দুর্ভোগের শিকার ব্যক্তিরা সরকারের ত্রাণসামগ্রী জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে না দিয়ে সরাসরি সরকারি লোকজন দিয়ে বিতরণের দাবি জানান।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো.নায়েব আলী প্রথম আলোকে বলেন, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সাতটি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। একই সঙ্গে ছয়টি পৌরসভাও বন্যাকবলিত হয়েছে। ওই ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২৭৯টি গ্রামের ৩ লাখ ২১ হাজার ২৬৯ জন মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

তিনি জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। মেডিকেল টিমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিদিন টিমগুলো দুর্গত এলাকায় যাওয়ার কথা। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

ত্রাণসামগ্রী বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষপাতের বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও কোথাও অব্যবস্থাপনা থাকলে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরাই ত্রাণ পাবেন।’

 

করোনায় বিপাকে গরুর খামারিরা

করোনায় বিপাকে গরুর খামারিরা

আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখেই পরম যত্নে পশু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের কচুয়ার খামারিরা।

গত বছর পশুর ভালো দাম পেলেও করোনার কারণে এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সঠিক মূল্য না পাওয়া নিয়ে চিন্তায় প্রহর কাটছে খামারিদের। আশঙ্কা রয়েছে লোকসানের।

গত বছর এ সময়টাতে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও এবার তাদের দেখা না পাওয়ায় বিরাট লোকসানের শঙ্কায় আছেন তারা। ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে তাদের। কচুয়ায় মোট দুগ্ধ খামার রয়েছে ১২টি ও গরু মোটাতাজাকরণ খামার রয়েছে ১৫টি।

উপজেলার সর্ববৃহৎ গরুর খামারি কচুয়ার পালাখাল, গুলবাহার, সাচারসহ বিভিন্ন খামারের বড় আকারের গরু নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। এখন পর্যন্ত ক্রেতার দেখা না পাওয়ায় আশঙ্কা করছেন লোকসানের।

কচুয়ার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছর দু-একটি করে গরু প্রায় প্রতিটি পরিবারেই লালন-পালন করে থাকে। এ বছরেও কচুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫০ হাজার গরু মোটাতাজা করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য পালন করছে।

কচুয়ার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছর দু-একটি করে গরু প্রায় প্রতিটি পরিবারেই লালন-পালন করে থাকে। এ বছরেও কচুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫০ হাজার গরু মোটাতাজা করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য পালন করছে।

খামারের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করতে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পাইকারের দেখা মিলছে না। খামার মালিকরা যদি গরুর ন্যায্য দাম না পান, তা হলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে।

খামারি জীবন সাহা বলেন, ভারত থেকে গরু না এলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম জানান, কচুয়ার প্রতিটি গ্রামেই কৃষকরা গরু লালন-পালন করে থাকেন। এ রকম ছোট-বড় খামারি ও এর বাহিরে অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যতে হানা দিয়েছে করোনার থাবা। তবে ইতিমধ্যে কচুয়ার কয়েকটি খামার পরিদর্শন করেছি এবং খামারিদের পরামর্শ দিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, পাইকার না এলে তাদের পথে বসতে হবে।

খামারের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করতে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পাইকারের দেখা মিলছে না। খামার মালিকরা যদি গরুর ন্যায্য দাম না পান, তা হলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে।

খামারি জীবন সাহা বলেন, ভারত থেকে গরু না এলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম জানান, কচুয়ার প্রতিটি গ্রামেই কৃষকরা গরু লালন-পালন করে থাকেন। এ রকম ছোট-বড় খামারি ও এর বাহিরে অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যতে হানা দিয়েছে করোনার থাবা। তবে ইতিমধ্যে কচুয়ার কয়েকটি খামার পরিদর্শন করেছি এবং খামারিদের পরামর্শ দিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, পাইকার না এলে তাদের পথে বসতে হবে।

‘ধুঁকছে’ ভারত, আক্রান্তে নতুন রেকর্ড

'ধুঁকছে' ভারত, আক্রান্তে নতুন রেকর্ড

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ৪২৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। যা দেশটিতে একদিনে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড। এনিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৩৬ হাজার ১৮১ জনে দাঁড়ালো। আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে দেশটির অবস্থান তৃতীয়।

বুধবার সকালে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন করে করোনায় আরও ৫৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩০৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ৬ লাখ। দেশজুড়ে সুস্থতার হার ৬২ দশমিক ২৩ শতাংশ।

দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। শুধুমাত্র এই রাজ্যেই আক্রান্ত ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি জন। মারা গেছে ১০ হাজার ৬৯৫ জন।

এরপরের অবস্থানে থাকা তামিল নাড়ুতে আক্রান্ত দেড় লাখের কাছাকাছি। এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা দিল্লিতে আক্রান্ত লক্ষাধিক।

২১০০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮ শ’ ৮০ কোটি

২১০০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮ শ’ ৮০ কোটি

পৃথিবীর জনসংখ্যা ২১০০ সালে দাঁড়াবে ৮ শ’ ৮০ কোটিতে। এই সংখ্যা জাতিসংঘের বর্তমান হিসাবের চেয়ে ২ শ’ কোটি কম। বুধবার এক সমীক্ষায় এ কথা বলা হয়।

এতে আরো বলা হয়, জন্মহার হ্রাস এবং বয়স্ক লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে বিশ্বে ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ ঘটবে। শতাব্দীর শেষ দিকে ১৯৫টি দেশের ১৮৩টিতে যারা অভিবাসীদের ঢল আটকে দিচ্ছে সেসব দেশে জনসংখ্যার স্তর বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন সীমা কমে যাবে। একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল মেডিকেল জার্নাল দ্য লানসেটে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

জাপান, স্পেন, ইতালি, থাইল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পোল্যান্ডসহ বিশ্বের ২০টির বেশী দেশে জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। চীনের জনসংখ্যা ৮০ বছরে ১৪০ কোটি থেকে কমে দাঁড়াবে ৭৩ কোটি।

অপরদিকে সাব সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোতে ২১০০ সাল নাগাদ জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়ে ৩ শ’ কোটিতে দাঁড়াবে, এককভাবে নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা ৮০ কোটি এবং ভারতের জনসংখ্যা হবে ১১০ কোটি।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস এন্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই) পরিচালক ও রিপোর্টের লিড লেখক ক্রিস্টোফার মুররে এএফপিকে বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের এই হিসাব পরিবেশের জন্য সুখবর, খাদ্য উৎপাদনের ওপর চাপ কমবে এবং কার্বন নি:সরণ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি সাব সাহারান আফ্রিকার কোন কোন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, যদিও আফ্রিকার বাইরে বেশীরভাগ দেশে শ্রম জনশক্তি হ্রাস পাবে এবং জনসংখ্যা পিরামিড ঘুরে যাবে, এতে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই পরিস্থিতিতে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর জন্য জনসংখ্যার স্তর ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার উত্তম সমাধান হচ্ছে অভিবাসন নীতি সহজ করা এবং যে সব পরিবার সন্তান গ্রহন করতে চায় তাদের সামাজিক সহায়তা দেয়া।

জন্মহার হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশী হ্রাস পেয়ে ২০১৭ সালের ৬৮ কোটি ১০ লাখ থেকে কমে ২১০০ সালে দাঁড়াবে ৪০ কোটি ১০ লাখ।

অন্যদিকে বিশ্বের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ অথবা ২৩৭ কোটি লোকের বয়সের সীমা হবে ৬৫ বছরের অধিক। ৮০ বছর বয়সী লোকের সংখ্যা বর্তমানের ১৪ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ।

এবারের হজে অংশ নেবে ১৬০ দেশের হাজি

এবারের হজে অংশ নেবে ১৬০ দেশের হাজি

করোনা পরিস্থিতিতে ১৬০ দেশের নির্বাচিত ১০ হাজার হাজি হজ পালনের সুযোগ পেয়েছে। শুধুমাত্র সৌদি আরবে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের অধিবাসী ও স্থানীয় নাগরিকদের নির্বাচিতরা এ সুযোগ পেয়েছেন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পূর্বের ঘোষণা মতে, এবারের মোট হজযাত্রীর ৭০ শতাংশ থাকবেন সৌদি আরবে অবস্থারত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা। অনলাইনে আবেদন করে এবারের হজে ১৬০ দেশের নাগরিকরা হজের অনুমতি পেয়েছেন।

এবারের হজ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাজিরা মিনায় তাঁবুতে থাকবেন না। কাবা শরিফ স্পর্শ ও হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তাওয়াফ ও সায়ি করতে হবে। নামাজের জামাতেও দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। সর্বাবস্থায় হজযাত্রীদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। হাজি ছাড়া অন্য কেউ হজের স্থানগুলোতে প্রবেশ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, আগামী ১৯ জুলাই (২৮ জিলকদ) থেকে ২ আগস্ট (১২ জিলহজ) পর্যন্ত নির্বাচিত হাজি ছাড়া অন্য কেউ মিনা, মুজদালিফা ও আরাফায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস: পশু কোরবানির সময় সংক্রমণ রোধে করণীয়

ছবি সংগৃহীত

ঈদুল আজহার প্রধান আকর্ষণ পশু কোরবানি করা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমরা প্রতি বছরই পশু কোরবানি করে থাকি।

পশু কোরবানির সময় সংক্রমণ রোধে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। এবার করোনাভাইরাসের কারণে মানতে হবে বাড়তি আরও কিছু নিয়ম।

করোনাকালে পশু কোরবানি ও সংক্রমণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আলী (কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুধ খামার সাভার, ঢাকা)।

তিনি বলেন, পশু কোরবানির পর সংক্রমণ ও যে কোনো রোগ–বালাই থেকে নিরাপদে থাকতে অবশ্যই সবসময় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আর করোনার এ সময়ে মানতে হবে বাড়তি আরও কিছু নিয়ম।

আসুন জেনে নিই এই সময়ে পশু কোরবানির বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ আলীর পরামর্শ–

১. যে স্থানে পশু কোরবানি করা হবে, সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

২. কোরবানির কাজটি সম্পূর্ণ করতে অবশ্যই মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

৩. কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য একটি গর্ত করুন ও জবাই শেষে মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।

৪. কোরবানির স্থানে অযথা বেশি লোকসমাগম করা যাবে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে কোরবানি সম্পন্ন করুন।

৫. কোরবানি ও মাংস তৈরির আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

৬. কোরবানির স্থানে ডেটল, ব্লিচিং পাউডার অথবা জীবাণুনাশক স্প্রে করুন।

৭. কোরবানি শেষে কুসুম কুসুম গরমপানি দিয়ে গোসল করুন ও গায়ের পোশাক পরিষ্কার করুন।
৮. কোরবানি বর্জ সঠিক স্থানে ফেলুন। এ ছাড়া যে জায়গায় পশু জবাই করা হবে, সেখানে রক্ত লেগে থাকলে পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিন।

৯. কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করুন।

১০. অযথা কোথাও জটলা পাকাবেন না। নিজে ও পরিবারের প্রতি যত্নশীল হোন।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত রুল বাতিল করে দিয়েছে আদালত। অনলাইনে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, তাদেরকে যার যার দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল আইসিইর নির্দেশনায়। এতে অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ফলে হার্ভার্ড এবং এমআইটি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করে।

এর প্রেক্ষিতে ফেডারেল বিচারক অ্যালিসন বারো সংক্ষিপ্ত শুনানিতে জানান, সরকার ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও বাতিল হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিবিসি। এতে বলা হয়, এ মাসের শুরুর দিকে আইসিই ঘোষিত নির্দেশ ব্লক করে দিতে আবেদন জানিয়েছিল হার্ভার্ড ও এমআইটি।

অনলাইনে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ সম্বলিত এই উদ্যোগকে দেখা হয় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি হিসেবে। এসব প্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে খুলে দেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তারা আবেদনে জানিয়েছে, এমন নির্দেশের ফলে শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ ক্ষতি হবে। এটা তার ব্যক্তির ক্ষতি এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।