দুবাই যেতে কভিড সনদ; আবুধাবিতে লাগবে না

দুবাই যেতে কভিড সনদ; আবুধাবিতে লাগবে না

সংযুক্ত আরব-আমিরাতের দুবাই যেতে কভিড-১৯ মুক্ত সনদ বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সরকার। আগামী ১৭ জুলাই থেকে নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। কিন্তু দেশটির রাজধানী আবুধাবি যেতে এই ধরণের কোন সনদ লাগবে না। আরব-আমিরাত সরকারের এমন নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ বিমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, আরব-আমিরাত সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে বলে এমনটি হচ্ছে। এখানে আমরা কিছু করছি না।

তিনি বলেন, ১৭ জুলাই থেকে দুবাইগামী যাত্রীদের ভ্রমনের আগেই কভিড সনদ জমা দিতে হবে এবং আরব-আমিরাত সরকার নির্ধারিত বাংলাদেশের অনুমোদিত ল্যাব থেকে সনদ নিয়ে ভ্রমন করতে হবে। সেই সনদের মেয়াদ অবশ্যই ৯৬ ঘণ্টা থাকতে হবে। কেবলমাত্র কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদধারীরাই বিমানে ভ্রমণ করতে পারবেন।

এর আগে আরেক নির্দেশনায় বাংলাদেশ বিমান বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে দুবাই-আবুধাবি যেতে কভিড-১৯ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এখন সেটির পরিবর্তন হলো। আর ১৬ জুলাই পর্যন্ত দুবাইগামী যাত্রীদের বাংলাদেশ থেকে যাত্রার আগে কভিড-১৯ সনদ লাগছে না।

কিন্তু বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ এখনও যাত্রীদের জন্য ঘোষণা দেয়নি কোথায় কভিড পরীক্ষা এবং সনদ নিবেন। জানতে চাইলে তাহেরা খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, উৎকণ্ঠার কিছু নেই। বিমানের পক্ষ থেকেই প্রত্যেক যাত্রীকে ফোন করে বলে দেয়া হচ্ছে কোথায় কভিড টেস্ট ও সনদ পাবেন।

জানা গেছে, ১৬ জুলাই পর্যন্ত দুবাই যেতে কোভিড সনদ বাধ্যতামূলত না হলেও কোভিড সনদ না নিয়ে দুবাই যাওয়ার পর বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

জানতে চাইলে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ঢাকা হয়ে দুবাই যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা এবং শারজাহ প্রবাসী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের ইমিগ্রেশন চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেই সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে কভিড সনদ প্রয়োজন হয়নি। তবে দুবাই বিমানবন্দরে নামার পর যেসব যাত্রীদের কোভিড সনদ ছিলো তারা দ্রুত ইমিগ্রেশন শেষ করে বের হয়ে গেছে। কিন্তু বেশিরভাগ যাত্রীর কোভিড সনদ ছিলো না। তারাই ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি বলেন, কভিড সনদ না নিয়ে আসায় বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বাড়তি সময় লেগেছে দুবাইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আসতে। পরে সিদ্ধান্ত পেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আমরা টেস্ট করেছি। এরপর অন্য কাগজপত্র জমা দিয়ে ইমিগ্রেশন শেষ করেছি। সেই টেস্টের ফলাফল পরদিন সকাল ১১-১২টার মধ্যে মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে চলে আসে। কভিড-১৯ মুক্ত সনদ পাওয়ার পর কাজ শুরু করেছি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও আবুধাবি যাওয়ার জন্য বিদেশি এমিরেটস এয়ারলাইনস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাংলাদেশ বিমানই ভরসা। ১৭ জুলাই থেকে বাংলাদেশ বিমান ঢাকা থেকে সপ্তাহে তিনটি আবুধাবি এবং তিনটি দুবাই ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন শুরু ১৯ জুলাই

হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন শুরু ১৯ জুলাই

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের হজযাত্রী যেতে না পারায় ১৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের নিবন্ধন বাতিলের আবেদন। কেউ নিবন্ধন বাতিল না করলে তার নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য কার্যকর থাকবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি আরব সরকার বাইরে থেকে হজযাত্রীদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গতকাল এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস মহামারিজনিত কারণে এ বছর অন্য দেশ থেকে কোনো হজযাত্রী হজ পালন করতে সৌদি আরবে যেতে পারবেন না। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও সৌদি আরবের নাগরিকদের অংশগ্রহণে সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের জন্য প্রাক-নিবন্ধিত ও নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিদ্ধান্তসমূহ হলো—২০২০ সালে হজ পালনের জন্য যাদের প্রাক-নিবন্ধনের মেয়াদ বৈধ ছিল, তা ২০২১ সালের জন্য বলবত্ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় যেসব প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তি ২০২০ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য বৈধ থাকবে। নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজ মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ২০২০ সালের হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল বিষয়ে ই-হজ সিস্টেমের ওপর সব ব্যাংকের প্রতিনিধি, নিবন্ধনকেন্দ্রের প্রতিনিধি এবং হজযাত্রী নিবন্ধনকারী এজেন্সির প্রতিনিধিদের ১৩ জুলাই থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হজ পালনের জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল করতে চাইলে আগামী ১৯ জুলাই থেকে হজ পোর্টাল www.hail.gov.bd অথবা

https://prp.pilgrimbd.org/ hajrefund লিংকে নিজে বা নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদিত হলে তার অনুকূলে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার তৈরি হবে এবং ২০২০ সালের নিবন্ধন ও প্রাক-নিবন্ধন উভয়ই বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের কর্তন ছাড়া প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ নিবন্ধন বাতিলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ অনলাইনে সরাসরি হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। কোনো হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব না থাকলে তার ইচ্ছানুযায়ী পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এজন্য তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি নিবন্ধনকারী ব্যাংক থেকে অনলাইনে হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর অথবা এজেন্সির মাধ্যমে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জমা অর্থ আগের মতো পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা থেকে হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি অথবা এজেন্সির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে। ২০২০ সালে নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে এবারের হজে মুজদালিফা, মিনা ও আরাফাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি আরব সরকার। এই নির্দেশ অমান্য করলে বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে হাজিদের। খালিজ টাইমস জানায়, গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে এক সরকারি সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নেওয়া সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অমান্য করলে শাস্তির বিধান অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

ঐ সূত্র আরো বলেছে, আগামী ২৮ জিলকদ (১৯ জুলাই) থেকে জিলহজের ১২ তারিখ (২ আগস্ট) পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট পবিত্র স্থানে (মুজদালিফা, মিনা ও আরাফাত) প্রবেশ করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি হবে দ্বিগুণ।

এছাড়া ইসলামের পবিত্র নিদর্শন কাবাও স্পর্শ করা যাবে না এবারের হজে। নামাজের সময় তো বটেই, কাবা শরিফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে হাজিদের মধ্যে। এই সময়ে হাজি ও আয়োজকদের প্রত্যেককে সব সময়ের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

করোনায় দেশে ফেরাদের আবার বিদেশ পাঠানো হবে

করোনায় দেশে ফেরা ২ লাখ প্রবাসীর কী ...

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর দেশে ফেরা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আবারও বিদেশ পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অনুষ্ঠিত ‘করোনাভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য করণীয়’ শীর্ষক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, করোনার পর বিশ্ব বাজারে কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতে কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দুই খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের জন্য মোট ৭০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। করোনা পরবর্তী আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত আসা কর্মীদের আবারও বিদেশ পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। বিরূপ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমানোর জন্য ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দেয়া হবে। বিদেশ ফেরতদের জন্য সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।

দেশে ফেরা প্রবাসীদের জীবন অনিশ্চয়তায়!

দেশে ফেরা প্রবাসীদের জীবন ...

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বেশিরভাগ দেশ ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করায় প্রবাসে কর্মরত বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক ইতোমধ্যে চাকরি হারিয়ে বাধ্য হয়েছেন দেশে ফিরে আসতে। বাংলাদেশে লকডাউনের কারণে আটকে পড়ায় নতুন করে আবার বিদেশ গিয়ে চাকরি করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছেন। এখন এই অভিবাসী শ্রমিকদের দেশে ফেরত আসা ঠেকাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুইভাবেই সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে দুই লাখ অভিবাসী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। এছাড়া ২১শে মার্চ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার পর এ পর্যন্ত চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন আরও অন্তত ১৮ হাজার শ্রমিক।

সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারাতে পারেন। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে সামনের দিনগুলোয় অভিবাসীদের ফেরত আসার এই স্রোত আরও বাড়বে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগেই এই প্রাদুর্ভাব হানা দিয়েছিল সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইতালিসহ আরও নানা দেশে। যেখানে বহু বাংলাদেশি অভিবাসী কাজ করেন। ওই দেশগুলোয় বছরের শুরুর দিকেই লকডাউন শুরু হওয়ায় বেকায়দায় পড়ে যান প্রবাসী শ্রমিকরা।

বিশেষ করে যারা অবৈধভাবে আছেন, তাদেরকে এখন জোর করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার বৈধ শ্রমিকদের অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বেশিরভাগের সেটা নবায়ন করা হচ্ছে না। আবার চুক্তির মেয়াদ যাদের আছে, তাদের অনেককেই ছুটির নামে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

যেমনটা ঘটেছে ঢাকার দনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাশেদুল হাসান রুমির সঙ্গে। গত তিন বছর ধরে সিঙ্গাপুরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। সেখানকার কোম্পানির সাথে তার আরও দুই বছর কাজের চুক্তি ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর গত ১১ই মার্চ তাকে ছুটির কথা বলে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখন তার ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে অথচ লকডাউনের কারণে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা হয়নি। তিনি আদৌ সিঙ্গাপুরে ফিরে গিয়ে কাজ করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখন বিদেশ যাওয়ার ঋণ কিভাবে শোধ করবেন, তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল সাত সদস্যের পরিবারকেই বা কিভাবে সামলাবেন এমন নানা দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাকে। অভিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুটি উপায়ে সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রবাসীদের বেসরকারি সংস্থা রামুরুর চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই শ্রমিকদের যেন আবার তাদের কাজের জায়গায় ফিরতে পারেন, সেজন্য কাজ করছে সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। বিদেশ থেকে শ্রমিকদের এই ফিরে আসা ঠেকাতে সেইসঙ্গে এরিমধ্যে ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনে এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নাসরিন জাহান। অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর কাছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর যৌথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা যেন শ্রমিকদের বাংলাদেশে ফেরত না পাঠিয়ে তাদের দেশেই বিকল্প কর্মসংস্থানে যুক্ত করার চেষ্টা করে।

এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে যেসব প্রবাসী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে এই টাকা নেওয়া হবে। প্রত্যাগত শ্রমিক বা তাদের পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ ৪% সুদে এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। সবশেষ বাজেটে এই দেশে ফেরা প্রবাসীদের জন্য বাড়তি আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অবনমন হতে যাচ্ছে বৃটেনে

৩০০ বছরের মধ্যে বৃটেনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অবনমন হতে যাচ্ছে। এর ফলে ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া রোধ করতে বৃটেনে বাড়াতে হবে ট্যাক্স। একই সঙ্গে কর্তন করতে হবে খরচের খাত। এ সতর্কতা দিয়েছে খরচ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অফিস ফর বাজেট রেসপন্সিবিলিটি। তারা বলেছে, ২০২০ সালে বৃটেনের অর্থনীতির সংকোচন ঘটতে যাচ্ছে শতকরা ১২.৪ ভাগ।

এ সময়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ধারদেনার খাত বৃদ্ধি পাবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, মে মাসে বৃটিশ অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ধীর গতিতে অগ্রসর হয়েছে।

আগের মাসের তুলনায় তা ছিল শতকরা মাত্র ১.৮ ভাগ। তাও করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে লকডাউন শিথিল করার ফলে। ওদিকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার সরকার ১০ বছর আগের কঠোরতায় ফিরে যাবে না।

অনেক দেশ ভুল পথে যাচ্ছে, সতর্কতা

অনেক বেশি দেশ ভুল পথে হাঁটছে ...

করোনা ভাইরাসের বিষয়ে অনেক দেশই ভুল পথে হাঁটছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিশ্বে এই মহামারি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এমনই সতর্কবার্তা দিলেন হু প্রধান প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রেয়েসুস। সেই সঙ্গে সমস্ত দেশের উদ্দেশে তিনি এ বার্তাও দিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যদি কঠোর পদক্ষেপ না করা হয়, তা হলে আরও ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়তে হবে গোটা বিশ্বকে।

সোমবার জাতিসয়ঘের সদর দফতর জেনিভায় এক ভিডিয়ো কনফারেন্সে হু প্রধান বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশই করোনাভাইরাস নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে না। এই মুহূর্তে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আমেরিকা ও ব্রাজিলের। করোনাভাইরাসের হটস্পট হয়ে উঠেছে এই দুই দেশ। এই দুই দেশের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন হু প্রধান। এই দুই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হু প্রধান জানান, রবিবার গোটা বিশ্বে ২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। যার মধ্যে ৫০ শতাংশই দু’টি দেশের এবং ৮০ শতাংশ সংক্রমণ দশটি দেশের।

রাতে ভালো ঘুমের জন্য যা প্রয়োজন

সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে নিদ্রাহীনতার সমস্যা।

দিনের বেলায় ঘুম ঘুম অনুভব করার ফলে আপনি ক্লান্তিতে ভুগতে পারেন এবং আপনার কাজ করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। এছাড়া এটি আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকর।

তবে একটি গবেষণা অনুযায়ী, একাগ্র ধ্যান (মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন) আপনাকে নিদ্রাহীনতার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এটি মূলত মনকে শান্ত করার একটি অনুশীলন।

জামা ইন্টারনাল মেডিসিনে কয়েক বছর আগে প্রকাশিত এক গবেষণায় ৪৯ জন মধ্যবয়স্ক এবং প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন।

তাদের মধ্যে অর্ধেক ব্যক্তি একটি মননশীলতা সচেতনতা প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন যা তাদের ধ্যান শেখায় এবং অন্য অনুশীলনগুলো তাদের ‘প্রতি মুহূর্তের অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা এবং আবেগগুলোতে’ মনযোগ দিতে সহায়তা করে।

দলের অন্য অর্ধেক ব্যক্তি একটি ঘুম শিক্ষার ক্লাস সম্পন্ন করেন, যা তাদের ঘুমের অভ্যাস উন্নত করার উপায় শিখিয়েছিল।

হার্ভার্ড অনুমোদিত বেনসন হেনরি ইনস্টিটিউট ফর মাইন্ড বডি মেডিসিনের পরিচালক ইমেরিটাস ডা. হারবার্ট বেনসন বলেন, ‘মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন হলো শিথিলতার প্রতিক্রিয়া ডেকে আনার কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম।’

রিলাক্সেশন রেসপন্স, ৭০ এর দশকে তিনি এ শব্দটি তৈরি করেছিলেন যা মূলত গভীর একটি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন।

রিলাক্সেশন রেসপন্স বা মন শান্ত করার এ প্রক্রিয়া হতাশা, কষ্ট এবং উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের মানসিক চাপ সম্পর্কিত সমস্যাগুলো দূর করতে সহায়তা করে।

ডা. বেনসন বলেন, অনেক মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা বা রোগগুলো হতাশার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

প্রথম পদক্ষেপ: আপনার নিঃশ্বাস, একটি শব্দ (‘ওম’), একটি সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা, একটি ইতিবাচক শব্দ (যেমন-‘শান্তি’) বা একটি বাক্যাংশ (‘শান্তিতে নিঃশ্বাস নেয়া, প্রশ্বাসের সাথে দুঃশ্চিন্তা বের করে দেয়া‘ বা ‘আমি এখন নিরুদ্বেগ’)। এছাড়া আপনি যদি কোনো শব্দ বেছে নেন তবে সেটি উচ্চস্বরে বা নিঃশব্দে পুনরাবৃত্তি করুন এবং নিঃশ্বাস ছাড়ুন।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: কোনো বিষয়ে দুঃচিন্তা করবেন না। যদি নিজের মনকে বিচলিত মনে হয়, গভীর শ্বাস নিন বা নিজেকে বলুন ‘চিন্তা করছি, চিন্তা করছি‘ এবং ধীরে ধীরে নিজের পছন্দের বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিন।

করিডোর ছাড়াই ঢুকছে গরু

সরকারের নিষেধাক্কা থাকার পরও কুড়িগ্রাম সীমান্ত পথে দেদার ঢুকছে গরু। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার আমার সংবাদকে জানান, যাত্রাপুর হাটে ভারতীয় গরু বিক্রির আইনগত কোনো বৈধতা নেই।

এখানে কোনো বিট খাটাল বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেই। কিন্তু কীভাবে একটি চক্র এসব অবৈধ ব্যবসা করে দেশীয় গরু ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছেন তা তারা (হাট কর্তৃপক্ষ) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। এসব গরুর কোনো করিডোরও হচ্ছে না।

ফলে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্বও হারাচ্ছে। তবে যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, বিজিবি ভারতীয় গরু প্রতি ৫০০ টাকা করিডোর ফি আদায়ের বিনিময়ে এসব ভারতীয় গরু হাটে বিক্রি ও তা ট্রাকযোগে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের অনুমতি দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, করিডোর ফি আদায়ের কাগজ নিয়েই এসব গরু হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর বিজিবি এসব গরু ধরলা সেতু পার হওয়ার অনুমতি দেয়।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিবি ২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জামাল হোসেন আমার সংবাদকে জানান, নদ-নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু চোরচালান বেড়ে গেলেও তা প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর রয়েছে।

আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু গরু সিজ করেছি। তবে বন্যা এবং বৈরী আবহাওয়ায় সীমান্তে নজরদারি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে গরু চোরাকারবারিরা। বিজিবি নৌপথে টহল জোরদার করেছে। এরপরও যদি কোনো ভারতীয় গরু পাচারের খবর পাওয়া যায় তাহলে বিজিবি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যাত্রাপুর হাটে করিডোর বা বিট খাটালের অনুমতি দেয়া হয়নি জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, দেশীয় খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু পাচার রোধে প্রশাসন কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় গরু পাচার রোধে আমাদের টাস্কফোর্স কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এখনও করোনার ছোবলমুক্ত সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা

Saint Martin, Bangladesh - Chokkor

মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। করোনাভাইরাস থেকে এখনও নিরাপদ সেখানকার বাসিন্দারা।

পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় ছড়ায়নি সংক্রমণ। তবে যোগাযোগ সংকটে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। প্রশাসন বলছে, যেকোনমূল্যে দ্বীপটিকে রাখা হবে করোনামুক্ত।