রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পশুর হাট নিয়ে বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধও দেয়া হয়েছে।

রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় এ বিষয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গাইডলাইন তৈরি করছে। গাইডলাইন বাস্তবায়নের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। রাজধানীর বাইরে পশুর হাট বসানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা নেবে। তবে এবছর অনলাইন কেনাকাটার ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইজারাদারদের ব্যবস্থাপনায় পশুর হাটের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। ক্রেতাদের মাস্ক পরিধান করে হাটে প্রবেশ করতে হবে। হাটের কাছে ব্যাংক বুথ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এবার রাস্তাঘাটের ওপর পশুর হাট বসানো যাবে না- এ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পশুবাহী ট্রাক কোন হাটে যাবে ট্রাকের সামনে এরকম একটি ব্যানার লেখা থাকতে হবে। পশুর ট্রাক অন্য কোথাও থামানো যাবে না। পশুবাহী কোনো গাড়ি রাস্তায় থামানো যাবে না। নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবারের মতো জাল নোট, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান ও মলম পার্টি থেকে ক্রেতা এবং বিক্রেতাকে নিরাপত্তা দেবে।

৩০০০ বছর আগেকার শহরের সন্ধান!

প্রাচীনকালে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন সভ্যতা। বিখ্যাত অনেক সভ্যতার ব্যাপারে আমরা কমবেশি জানলেও এমন অনেক সভ্যতা বা পুরনো জনপদ গড়ে উঠেছিল যেসব সম্পর্কে খুব বেশি জানতে পারেননি প্রত্নতত্ত্ববিদরাও। খননকাজ চালানোর পর গত বছর সে রকমই এক শহরের হদিস মিলেছে পূর্ব আফ্রিকার ইথিওপিয়াতে। যে শহর টিকে ছিল প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর।

খ্রিস্টপূর্ব ৮০ থেকে ৮২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ব আফ্রিকাতে ছিল আকসুম সভ্যতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এই সভ্যতা। রোমের মতো শক্তিশালী সভ্যতার সঙ্গেও বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল আকসুম সভ্যতার মানুষের। চীন ও প্রাচীন পারস্যের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এই সভ্যতার। নয়া আবিষ্কৃত এই শহর তার সমসাময়িক।

আকসুম সভ্যতার প্রধান শহরের নাম ছিল আকসুম। যদিও কিভাবে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সে বিষয়ে আজও স্পষ্ট ধারণা নেই গবেষকদের। তবে মনে করা হয় প্রাক-আকসুম কোনো জনপদ থেকেই উত্তর ইথিওপিয়ায় গড়ে ওঠে আকসুম সভ্যতা।

আকসুম সভ্যতার উৎস জানতে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা উত্তর ইথিওপিয়ার ইয়েহা অঞ্চলের কাছে খননকাজ শুরু করেন। সেখানেই তাঁরা যে শহরের খোঁজ পেয়েছেন, তা প্রাক-আকসুম যুগের। খননকাজ চালানোর পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে পেয়েছেন পাথরের দেয়ালের সারি। তাঁরা মনে করছেন, এসব সে সময় গড়ে তোলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ।

জনস হসকিন্সের গবেষক মাইকেল হ্যারোয়ার বলেন, ‘এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সভ্যতা। কিন্তু পশ্চিমী দুনিয়া এই সভ্যতার ব্যাপারে জানেই না। গ্রিস ও রোমের বহু কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু ইথিওপিয়ার এই সভ্যতার ব্যাপারে অনেক কিছুই অজানা।’

গবেষকরা এই প্রাচীন সভ্যতাকে বিটা সেমাতি বলে ডাকেন। স্থানীয় টিগরিনিয়া ভাষায় যার অর্থ ‘দর্শকদের বাড়ি’। এই বিটা সেমাতি আবিষ্কারকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন লল্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জ্যাক ফিলিপস। তিনি বলেছেন, ‘আকসুমের ব্যাপারে জানলেও, ওই অঞ্চলে আকসুম পূর্ববর্তী সভ্যতার ব্যাপারে কোনো ধারণাই এত দিন ছিল না।’