এ বছর কতজন হজ পালন করতে পারবেন?

চলতি বছর হজ পালনের আরো অন্তত ২০ দিন বাকি আছে। এরই মধ্যে হজ যাত্রীদের স্বাগত জানানোর জন্য সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলো প্রস্তুত হচ্ছে।

মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় হজযাত্রীদের গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে সে তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার জেরে সৌদি আরবের বাদশাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, চলতি বছর দেশের মাত্র ১০ হাজার মানুষ হজ পালন করতে পারবেন। করোনা সংক্রমণের ভয়ে সীমিত পরিসরে মানুষজন নিয়ে ধর্মীয় এ রীতি পালন করা হবে।

এর আগের বছর ২০১৯ সালে প্রায় ২৫ লাখ হজযাত্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরবে এসেছিল।

কিন্তু চলতি বছর যে ১০ হাজার মানুষ হজ করতে পারবে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশ হলো বিদেশি, যারা সৌদিতে বাস করছেন। আর ৩০ শতাংশ হলো সৌদি নাগরিক।

সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়া বলেছেন, ৬৫ বছরের বেশি বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় থাকা কাউকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হবে না।

পবিত্র মক্কা শহরে আসার আগে হজযাত্রীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে এবং হজ শেষে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (সিডিসি) এক বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছর হজের সময় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবাকে স্পর্শ বা চুম্বন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাওয়াফ ও নামাজ আদায়ের সময় একজন থেকে অন্যজনকে দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

পাথর নিক্ষেপের যে রীতি আছে সেখানে বিশেষ ধরণের পাথর ব্যবহার করতে হবে।

হজযাত্রী ও আয়োজকদের সকলের মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। জামাত নামাজের অনুমতি দেয়া হলেও মুসল্লিদের মাস্ক পরতে হবে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এছাড়াও মিনা, মুজদালিফাহ ও আরাফাতের পবিত্র স্থানগুলোতে ১৯ জুলাই রোববার থেকে শুরু হয়ে ২ আগস্ট অবধি হজ্জের অনুমতি ছাড়া যেতে পারবেন না।

মক্কার এই সুবিশাল মসজিদের সকল ফ্রিজ সরিয়ে নেয়া হবে, যার যার ব্যক্তিগত পানির পাত্রে পানি নিয়ে পান করতে হবে। আলাদা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

যে তাবুর নিচে হাজিরা অবস্থান করেন সেখানে প্রতি ৫০ বর্গমিটারে ১০ জনের বেশি থাকা যাবে না।

সৌদি আরবের প্রায় ৯০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বিদেশী হজযাত্রীদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অতীতে যুদ্ধ ও মহামারীর কারণে হজ বাতিল করা হলেও ১৯৩২ সালে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে আর হজ বাতিল করা হয়নি।

হজ করতে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিষিদ্ধ করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সৌদি আরবের ঘোষণার আগেই ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সেনেগাল ও সিঙ্গাপুর করোনার উদ্বেগের কারণে তাদের নাগরিকদের এ বছর হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

উল্লেখ্য, ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হজ। এটি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের পক্ষে তাদের জীবদ্দশায় কমপক্ষে একবার সম্পাদন করা ফরজ।

ঢাকায় বৃটিশ ভিসা আবেদন কেন্দ্রের তালা খুলছে রোববার

তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ বাংলাদেশে থাকা বৃটিশ ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর তালা আগামী রোববার খুলছে। ভারত, শ্রীলঙ্কাসসহ দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক দেশে আগেই খুলেছে। বৃটিশ ভিসা প্রসেসিংয়ে সেবা প্রদানকারী (আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান) ভিএফএস গ্লোবাল জানিয়েছে, রোববার থেকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর সেবা কার্যক্রম ফের চালু হবে।

করোনার সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত পদক্ষেপের কারণে যারা পূর্ব নির্ধারিত তারিখে ভিসা আবেদন জমা দেয়ার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি তারা নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অনলাইনে লগইন করতে পারেন। অতীতে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তবে ভিএফএস গ্লোবালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেননি তাদের  অ্যাপয়েন্টমেন্ট (অনলাইনে) প্রদানের প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫শে মার্চ থেকে বাংলাদেশে থাকা বৃটিশ ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে তালা ঝুলছে।

ভ্যাটের হারে জটিলতায় বিপাকে ইন্টারনেট সেবা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনলাইনে ব্যবসা করছেন অনেক উদ্যোক্তা। ইন্টারনেটই এখন তাঁদের মূল হাতিয়ার। এই ইন্টারনেট খরচ বেড়ে গেলে বা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও বড় সংকটে পাড়বেন তাঁরা। অথচ বাড়তি ভ্যাট আরোপের ফলে বছরে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে মাত্র ৫০ কোটি টাকা।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) বলছে, আইএসপি সেবাদাতারা গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করে ৫ শতাংশ হারে। পক্ষান্তরে আইএসপিরা পাইকারি ব্র্যান্ডউইডথ আইআইজিদের কাছ থেকে কেনার সময় ভ্যাট দেয় ১৫ শতাংশ হারে ও ব্যান্ডউইডথ বহন করার জন্য এনটিটিএনদের ভ্যাট দেয় আরও ১৫ শতাংশ। মোট ৩৫ শতাংশ ভ্যাট সরকারকে দিতে হচ্ছে আইএসপিদের। একই পক্ষের ওপর বারবার ভ্যাট আরোপ এবং আইএসপিরা ভ্যাট আইনে রিবেট বা অব্যাহতি না পাওয়ার কারণে তাদের খরচ বেড়ে যায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

আইএসপিএবির দাবি, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্য ভ্যাটের শিকার হচ্ছে। এখন যে ভ্যাটের কাঠামো রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে ক্রেতা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। বিষয়টি সুরাহার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শরণাপন্ন হয়েছে সংগঠনটি। তারা সুরাহার দাবিতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কর্মসূচির কথাও ভাবছে।

এ ছাড়া সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। ফলে মোবাইলে কথা বলা, খুদে বার্তা পাঠানো ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও বেড়েছে। অপারেটরদের হিসাবে, এখন প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে কথা বলা ও খুদে বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার কর পায় ২৫ টাকা। আর মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে সরকার পায় ১৮ টাকার মতো।

করোনায় মাছের সাফল্যে উল্টো যাত্রা

করোনার প্রভাবে হরিণা চিংড়ির দাম কমে গেছে। বিপাকে মাছ ব্যবসায়ী ও চাষিরা। কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকার স্থলে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকায়। বিক্রির জন্য মাছ নামাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল খুলনার কেসিসি রূপসা পাইকারি মাছবাজারে।  ছবি: প্রথম আলো

মাছপ্রিয় বাঙালির কাছে বর্ষা প্রিয় একটি ঋতু। এই সময়ে নতুন পানির ছোট মাছের স্বাদ ভালো হয় বলে প্রচলিত আছে। জেলে আর খামারিরাও এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। কারণ, বেশি মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু এ বছরটা ঠিক তার উল্টো। পুকুরে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে মে। এ সময়টায় করোনার কারণে দেশে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় খামারিরা হ্যাচারিগুলো থেকে পোনা আনতে যেতে পারেননি। নদী–খাল–বিলে মাছ ধরাও কমে গেছে। তার ওপরে মাছের দাম ও বিক্রি দুই–ই তিন মাস ধরে কমছে তো কমছেই।

অথচ গত বছরই মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ রেকর্ড গড়েছে। স্বাদুপানির মাছে বাংলাদেশ তার তৃতীয় স্থানটি ধরে রেখে উৎপাদন বাড়ানোর হারে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। চাষের মাছে দেশ গত ছয় বছরের মতোই পঞ্চম স্থান রয়েছে।

মাছপ্রিয় বাঙালির কাছে বর্ষা প্রিয় একটি ঋতু। এই সময়ে নতুন পানির ছোট মাছের স্বাদ ভালো হয় বলে প্রচলিত আছে। জেলে আর খামারিরাও এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। কারণ, বেশি মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু এ বছরটা ঠিক তার উল্টো। পুকুরে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে মে। এ সময়টায় করোনার কারণে দেশে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় খামারিরা হ্যাচারিগুলো থেকে পোনা আনতে যেতে পারেননি। নদী–খাল–বিলে মাছ ধরাও কমে গেছে। তার ওপরে মাছের দাম ও বিক্রি দুই–ই তিন মাস ধরে কমছে তো কমছেই।

অথচ গত বছরই মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ রেকর্ড গড়েছে। স্বাদুপানির মাছে বাংলাদেশ তার তৃতীয় স্থানটি ধরে রেখে উৎপাদন বাড়ানোর হারে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। চাষের মাছে দেশ গত ছয় বছরের মতোই পঞ্চম স্থান রয়েছে।

জুন গড়িয়ে জুলাই চলে এল। পুরোদমে বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিবছরের মতো এবার এখনো মাছের দাম বাড়েনি। জেলে–খামারিরা যতটুকু মাছ নিয়ে বাজারে হাজির হচ্ছেন, তা–ও বিক্রি হচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট ও কিছুটা বেশি দামের মাছের বিক্রি ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কারণ, ভোক্তারা করোনার এই সময়ে কম দামি ও মাঝারি আকৃতির মাছের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে দেশে নিত্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে রুই মাছের দাম, ১১ শতাংশ। আর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা লাইট ক্যাসেল দেশের মৎস্য খাতের ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে একটি জরিপ গত ৩০ জুন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা দেখিয়েছে, গত তিন মাসে রুই মাছের দাম ১১ শতাংশ ও কাতলা মাছের দাম ৩ শতাংশ কমেছে। আর পাবদা মাছে ২৩ শতাংশ ও চিংড়িতে ৫২ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আরিফ আজাদ  মৎস্য চাষিরা চারদিক থেকে বিপদে আছেন। গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তাঁরা পোনা সংগ্রহ ঠিকমতো করতে না পারায় এ বছর মাছের উৎপাদন এমনিতেই কমে আসবে।

করোনা মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক গবেষণায় এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

করোনা আক্রান্ত অনেকের মস্তিষ্কে প্রদাহ, মানসিক ব্যাধি ও প্রলাপের মতো মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতা দেখা গেছে।
গবেষণায় এ–সংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত পাওয়ার পর গত বুধবার বিজ্ঞানীরা করোনাজনিত মস্তিষ্কে ক্ষয়ক্ষতির ‘সম্ভাব্য তরঙ্গ’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) এ–সংক্রান্ত গবেষণায় আক্রান্ত ৪৩ রোগীর মস্তিষ্কের অস্থায়ী কর্মহীনতা, স্ট্রোক কিংবা মস্তিষ্কে আরও গুরুতর সমস্যার উপস্থিতি দেখা গেছে।

বিশ্বে করোনার ঊর্ধ্বগতি, প্রতিদিন শনাক্ত ২ লাখ করে

চলতি মাসের শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে হঠাৎ করে দ্রুত ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে। মাসের প্রথম আট দিনের মধ্যে চার দিনই দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের হার ২ লাখ ছাড়িয়েছে। বাকি চার দিন ছিল ২ লাখের নিচে। আট দিনের গড় প্রায় ২ লাখ। অথচ গত মাসেও গড় ছিল দেড় লাখের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির দিনে দিনে অবনতি ঘটছে।

জুলাইয়ের এ বাড়তি সংখ্যায় সবচেয়ে বড় অংশ থাকছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটিতে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার প্রথমবারের মতো ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে গত বুধবার। তবে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের সঙ্গে তুলনায় মৃত্যু অতটা বাড়েনি। তারপরও মৃত্যুর সংখ্যা একটু একটু করে বাড়তির দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

করোনা মহামারির বৈশ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত সময়ে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ রোগী। মারা গেছেন প্রায় ৩৮ হাজার। অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় ২ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের। অথচ গত জুনেও দৈনিক গড়ে দেড় লাখের কম রোগী শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন সাড়ে ৪ হাজারের কিছু বেশি। ওই মাসে বিশ্বজুড়ে মোট শনাক্ত হয়েছে ৪৩ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোগী, মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের।

করোনা মহামারির সার্বক্ষণিক হিসাব প্রকাশ করছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস ডট ইনফো। এ ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর 
সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ছুঁই ছুঁই। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭১ লাখের বেশি রোগী। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি মানুষের।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গতকাল সদস্যরাষ্ট্রগুলোর এক ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই মহামারির বিস্তার আরও দ্রুতগতিতে ঘটছে। বিগত ছয় সপ্তাহে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

সংক্রমণ ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষ দেশ। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। দেশটিতে তারপর থেকে যে মহামারি পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, তার আর উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই, বরং দিনে দিনে আরও অবনতি ঘটছে পরিস্থিতির। যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩২ লাখ ছুঁই ছুঁই। মৃত্যু ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে ৬১ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্তের রেকর্ড। এদিন যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন আরও ৮৯০ জন রোগী।

করোনার সংক্রমণে প্রথমে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য হিমশিম খেয়েছে। সেই নিউইয়র্ক সামলে উঠলেও এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া আর ফ্লোরিডায় যেন সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে টেক্সাসের কর্তৃপক্ষ আবারও লকডাউন করেছে। অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোয়ও বিভিন্ন শহর কর্তৃপক্ষ আবারও লকডাউনের পথে হাঁটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যগুলোয় করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে, সেগুলোর তালিকা করলে লুইজিয়ানা থাকবে নিচের দিকেই। তারপরও এখানকার গভর্নর জন বেল এডওয়ার্ডস বুধবার বলেছেন, ‘আমাদের অঙ্গরাজ্যজুড়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আর এ রোগ এক বা দুই এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই।’

সিএনএন জানায়, ফ্লোরিডার অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেখানকার হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রগুলোর (আইসিইউ) ধারণক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। বুধবার এখানকার ৪২টি হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের সব আইসিইউ শয্যা রোগীতে ভরা। নতুন করে আর আইসিইউতে রোগী রাখা সম্ভব নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও। দেশটিতে ১৭ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মারা গেছেন ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ। পেরু, চিলিসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য দেশগুলোর পরিস্থিতিও দিনে দিনে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকোর অবস্থাও ততটা ভালো নয়।

সংক্রমণ ও মৃত্যুতে তৃতীয় শীর্ষ দেশ দক্ষিণ এশিয়ার ভারত। এ দেশেও সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটেছে যেন। কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই ২০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দৈনিক মৃত্যুও ৫০০ জনের আশপাশে থাকছে। এর মধ্যে ৪ জুলাই মারা যান ৬১০ জন, যা এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। ভারতে ৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২১ হাজারের বেশি।