বাতাসে করোনা ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির কোভিড-১৯ মহামারির টেকনিক্যাল প্রধান মারিয়া ভ্যান কারখোভ বলেছেন, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পদ্ধতি হিসেবে বায়ুবাহিত সংক্রমণ ও অ্যারোসল সংক্রমণের সম্ভাব্যতার বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও’র সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক টেকনিক্যাল প্রধান বেনেডেত্তা অ্যালাগ্রাঞ্জি বলেছেন, করোনাভাইরাসের বায়ুবাহিত সংক্রমণের প্রমাণ হাজির হচ্ছে তবে এখনও তা চূড়ান্ত নয়।

তিনি বলেন, জনসমাগম স্থলে নির্দিষ্ট পরিবেশে, অতিরিক্ত মানুষ, বদ্ধ, আলো-বাতাস প্রবেশের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার মতো পরিবেশে বায়ুবাহিত সংক্রমণের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এখন প্রমাণ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ডব্লিউএইচও’র কর্মকর্তা ভ্যান কারখোভ জানান, আগামী দিনে সংস্থাটি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যম নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক সারসংক্ষেপ প্রকাশ করবে।

জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির প্রতি সোমবার ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজ জার্নালে ৩২ দেশের ২৩৯ জন বিজ্ঞানী এক খোলা চিঠিতে দাবি করেছেন, তাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেটের ক্ষুদ্র সংস্করণ বা অ্যারোসল কণা দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। খোলা চিঠিতে ওই গবেষকেরা বলেছেন, করোনাভাইরাস দীর্ঘসময় বাতাসে ভেসে থাকার মধ্য দিয়ে যে ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে; ডব্লিউএইচও সে ব্যাপারে যথাযথ সতর্কতা জারি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আহ্বান জানিয়েছেন, এই ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য সংস্থাটির নির্দেশিকা হালনাগাদ করার জন্য।

মহামারির শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের দুই ধরনের সংক্রমণকে গুরুত্ব দিয়ে আসছিল। একটি হলো আশপাশের কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ফোঁটা (ড্রপলেট) শ্বাসের মাধ্যমে ঢুকে যাওয়া। আরেকটি হচ্ছে কোনও কিছুর দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করার পর চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া।

পঞ্চগড় থেকে ভারত-নেপাল ও ভুটান যাবে ট্রেন

পঞ্চগড় থেকে ভারত-নেপাল ও ভুটান যাবে ট্রেনরেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন হলে ভারতের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং এবং নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বাণিজ্য।

তিনি বলেন, দিনাজপুর থেকে তিন-চারটি পথ দিয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হবে। এমন প্রস্তাবনা আমরা তৈরি করেছি। রেলওয়ে লালমনিরহাট ডিভিশন থেকে মন্ত্রণালয়ে এমন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে বিরল স্থলবন্দর দিয়ে রেলপথ নির্মাণের একটি ভালো প্রকল্প নেয়া হবে। যাতে করে মানুষ ভবিষ্যতে মনে রাখবে।

সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পাকুড়া রেলবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই পরিদর্শন শেষে এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিরল রেলবন্দরকে দেশের এক নম্বর রেলবন্দর হিসেবে রূপান্তরের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এক সময় দেশের মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল। বর্তমানে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এবার বাংলাদেশে তিন কোটি ৭৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। ২৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য বাংলাদেশে উদ্বৃত্ত আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। বিএনপির আমলে রেলকে সংকুচিত করে দেয়া হয়েছিল, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে রেলকে অন্য মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করেছেন।

বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিরল পৌরসভার মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে এসে বলে ছিলেন বিরলে স্থলবন্দর হবে। এটি হবেই, কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার রেললাইনের কাজ হয়েছে, মাত্র ২০০ কোটি টাকার স্লাইড করতে পারব না? ভবিষ্যতে এ বন্দর দিয়ে নেপালেও পণ্য পরিবহন হবে।

গরিবের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে ভ্যাকসিন: ড. আসিফ মাহমুদ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, ‘অন্ধকারে আশার আলো’ দেখাচ্ছে। এবার নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সফল হয়ে কবে আসবে  কাঙ্ক্ষিত ভ্যাকসিনটি, সেই দিন গুনছে মানুষ। এরইমধ্যে পদে পদে যেসব প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেগুলো সমাধান করতে পারলে চলতি বছরের বিজয়ের মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরেই এই ভ্যাকসিন বাজারে আনা সম্ভব হবে জানিয়েছে গ্লোব বায়োটেক। শুধু তা-ই নয়, বাজারে এলে সেটি দেশের ১৬ কোটি মানুষের কেনার সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ।

সম্প্রতি তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমরা আপাতত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় নিচ্ছি আমাদের রেগুলেটেড এনিমেল ট্রায়াল করতে। এরপর আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল বিএমআরসিতে (বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ) জমা দেব।
ভ্যাকসিনটির প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়াল, অগ্রগতি, সামনে কী কী কাজ হবে, আরও কয় ধাপ পেরোতে হবে, কার্যকারিতা কেমন হতে পারে, এমনকি ডেলিভারি মেকানিজম কীভাবে হতে পারে, এ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন ড. আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটি প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা পাঁচটি খরগোশের ওপরে ট্রায়াল করি। আমরা যেহেতু তিনটা ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট নিয়ে কাজ করছি, সে কারণে তিনটা ক্যান্ডিডেট আমরা তিনটি খরগোশের শরীরে প্রয়োগ করি। এরপর একটা খরগোশ কন্ট্রোলড থাকে, যেটাতে আমরা কোনো ভ্যাকসিন প্রয়োগ করিনি। আরেকটি খরগোশের শরীরে আমরা প্লাসিবো দিই, সেখানে ভ্যাকসিনের অ্যাক্টিভ ম্যাটারিয়াল ছিল না, শুধু ফর্মুলেশন বাফার দেওয়া হয়। কন্ট্রোলে যেটা ছিল, সেটাতে কোনো কিছুই ইনজেক্ট করা হয়নি। আর যে খরগোশটিকে প্লাসিবো দেওয়া হয়, সেটি নরমাল ছিল। এরপর ১৪তম দিনে আমাদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা তিনটি খরগোশের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করি। রক্ত থেকে সিরাম আলাদা করে আমরা দেখতে পাই তিনটি খরগোশের শরীরেই যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।‘আমরা মোট চারটি ক্যান্ডিডেট এবং তিনটি ডিফারেন্ট ডেলিভারি মেকানিজম নিয়ে কাজ করছি। ‌ আমাদের বর্তমান ট্রায়ালে তিনটি টার্গেট। একটি ডেলিভারি মেকানিজম নিয়ে। আমরা আরও ব্যাপকভাবে এনিমেলের ওপর ট্রায়াল করব। সেখানে আরও নয়টি ক্যান্ডিডেটের ট্রায়াল হবে। সার্বিক ফলাফল পর্যালোচনা করে যে ক্যান্ডিডেটের রেজাল্ট বেশি সুইটেবল হবে, আমরা সেটা নিয়েই হিউম্যান ট্রায়ালে যাব। ’

ড. আসিফ মাহমুদ এও বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি, আমরা একটি বায়ো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। বায়ো ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি হিসেবে বায়োলজিকস প্রডাক্ট বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সেই অভিজ্ঞতা আমরা এখানে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছি। বায়োলজিকস প্রডাক্ট কোয়ালিটি অত্যন্ত কঠিনভাবে মেইনটেইন করতে হয়। আমরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে গিয়েও সেই কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করেছি। টোটাল প্রসেসিং কোয়ালিফাইড করেই আমাদের ফাইনাল ফর্মুলেশন প্রোডাক্টটা তৈরি করতে পেরেছি। সে কারণে আমরা ইনিশিয়াল ট্রায়ালে কোনো ধরনের টক্সিসিটি পাইনি। সুতরাং আমরা বলতে পারি এটা মানুষের শরীরেও কোনো ধরনের টক্সিসিটি তৈরি করবে না। এখন মূল কথা, মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারবে কি-না, সেটা শরীরে প্রয়োগ করলেই জানা সম্ভব। আমাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা হচ্ছে, বিশ্ববিখ্যাত যত ভ্যাকসিন কোম্পানির নাম শুনবেন, যেমন আমেরিকার মর্ডানা, তারা একটিমাত্র ক্যান্ডিডেট এবং একটি ডেলিভারি সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে। কিংবা যুক্তরাজ্যের ড. সারাহ গিলবার্ট টিমের কথা শুনবেন, তারাও ভাইরাল ফ্যাক্টর ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। তবে আমরা একইসঙ্গে ১২টি ক্যান্ডিডেট নিয়ে কাজ করছি। তাই আমাদের টিকার সফলতার হার নিয়ে আমরা গভীর আত্মবিশ্বাসী।

গবেষক আসিফ মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রজেক্টটা তৈরি করেছি বায়োটেক লিমিটেডের পক্ষ থেকে। এটা একটা বায়ো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। আমরা বায়োলজিকস ড্রাগ তৈরি করি। কিন্ত গত ০৮ মার্চ যখন দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়, তখন আমরা দৃষ্টি দিই কোভিড-১৯ রোগের দিকে। আমরা একসঙ্গে তিনটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি। রিসার্স এবং ডেভেলপমেন্ট টিমের নেতৃতে আমি রয়েছি। আর আমাদের ওভারঅল সবগুলো প্রোজেক্টের প্ল্যানিং এবং তত্ত্বাবধান করেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও গবেষক দলের প্রধান ড. কাকন নাগ এবং প্রতিষ্ঠানের সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। এছাড়াও আমাদের কোম্পানির আরও অনেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। এবং করছেন।

ড. আসিফ আরও বলেন, আমরা কিন্তু পুরো ভাইরাসকে ভ্যাকসিনের টার্গেট হিসেবে গ্রহণ করিনি। টার্গেট হিসেবে আমরা করোনা ভাইরাসের একটি পোর্শন নিয়েছি। কোন পোর্শন নেব, সেটার জন্য আমাদের কিছু বায়োইনফরমেটিক্স সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়েছে। আমরা যেটা করেছি, যখন টার্গেট সিলেক্ট করি, তখন ডাটাবেজে যতগুলো সিকোয়েন্স সাবমিটেড হয়েছিল, এরমধ্যে বাংলাদেশের সিকোয়েন্সও ছিল, সবগুলো সিকোয়েন্স এনালাইসিস করেই আমরা টার্গেট করি। প্রতিনিয়ত যত নতুন নতুন সিকোয়েন্স আসছে, সেগুলোকেও আমরা কনসিডার করছি। আমরা যে টার্গেট সেট করেছি, সেটা কতটা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হলো, সেটাও দেখছি। ওই টার্গেটের মাঝখানে কোনো মিউটেশন হলো কি-না, সেটাও দেখছি। এসব আবার আমাদের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনো ধরনের বাধা দেবে কি-না, সেটাও খেয়াল রাখছি। এরপরেও ভ্যাকসিন প্রতিনিয়ত আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।

ইতালি যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশির শরীরে করোনা শনাক্ত, ফ্লাইট বন্ধ

রোমে পৌছানো একটি ফ্লাইটে বেশ কয়েকজন যাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সব ফ্লাইট এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার বাংলাদেশ থেকে ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছায় ফ্লাইটটি। এর যাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ ব্যক্তি করোনাভাইরাস পজেটিভ। এরপরই এমন সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

দুই মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৬ জুন বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়। এরপর বিমানের একাধিক বিশেষ ফ্লাইটে শতাধিক প্রবাসী ইতালি ফেরেন। সেখানে অনেক বাংলাদেশির শরীরেই করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় রোমে লাৎসিও অঞ্চল কর্তৃপক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢালাও করোনাভাইরাস পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়।

এর আগে, ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স।

বড় ধাক্কা, কুয়েত ছাড়তে হবে ৮ লাখ ভা’রতীয়কে

সম্প্রতি যু’ক্তরাষ্ট্র এইচ-ওয়ান বি ভিসা বন্ধ করার পর এবার ভা’রতীয়দের কপাল পুড়ছে কুয়েতেও। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেদেশে ভা’রতীয়দের সংখ্যা যেন মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে না যায়। এই ম’র্মে একটি বিলেও সম্মতি দিয়েছে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি। নতুন আইন পাশ হলে ৮ লাখ ভা’রতীয়কে কুয়েত ছাড়তে হবে।

কুয়েতে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ভা’রতীয় বাস করেন। সেদেশের বাসিন্দা ৪৩ লক্ষ। তাদের মধ্যে বিদেশি আছেন ৩০ লাখ। বিশ্ব জুড়ে করো’না মহামা’রি শুরু হওয়ার পরেই কুয়েতের প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, বিদেশির সংখ্যা কমানো হবে। জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কুয়েতে ৪৯ হাজার মানুষ করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন।

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ‘গতমাসে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবা অল খালিদ আল সাবা বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ এখন বিদেশি। তাদের সংখ্যা কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হবে।’

কুয়েত সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে কমপক্ষে ৮ লাখ ভা’রতীয়কে সেদেশ ছাড়তে হবে। করো’নাকালে এটা ভা’রতের জন্য বড় ধাক্কা হবে। বিশ্বে যে দেশগুলো করো’নায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে ভা’রত আছে তিন নম্বরে। রবিবার সন্ধ্যায় রাশিয়াকে টপকে ভা’রত তিন নম্বরে উঠে এসেছে। দেশটিতে আ’ক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৯০ হাজার।

ঢাকার বাড়ীওয়ালারাও নির্বাক : অসহায় মানুষ ছুটছে গ্রামে!

প্রতিদিন মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কারণ থাকার মতো অর্থনৈতিক সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে। করোনাকালীন সময়ে মহাসংকটে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

স্বাভাবিক চলার পথে যখন ছন্দপতন হয় তখন যেন হঠাৎ মাথার উপর বাজ পড়ার মতো। করোনার মহামারীতে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়ে দিশেহারা অনেকেই। তিল তিল করে গড়া সংসারে যখন দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় তখন বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করা কতটা সম্ভব?

চাকরিজীবী আরমান গাজী বলেন- আমরা ছোট বাসা ভাড়া নিয়েছি সেখানে চলে যাচ্ছি।সাদেক হোসেন ছোট খাটো ব্যবসা করতেন, ব্যবসা ভাল না তাই বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। কবে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে

আবার কবে চাকরি পাবে বা ব্যবসার মুখ দেখতে পাবে তা বলা কঠিন তাই অনেকেই স্থায়ীভাবে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। গৃহিনী ফিরোজা খাতুন বলেন- ঢাকায় থাকা আর সম্ভব হচ্ছেনা তাই গ্রামে চলে যাচ্ছি। চাকরিজীবী সোহেল রানা চাকরি না থাকায় ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা জানালেন। অন্যদিকে বাড়ীওয়ালারাও নির্বাক এভাবে একের পর এক বাড়ি খালি হয়ে যাচ্ছে। বাড়ির মালিক আব্দুল খালেক বলেন- সব ফ্লাট খালি হয়ে যাচ্ছে ভাড়া কম দিয়ে থাকতে বললাম তাও থাকছেনা।

এদিকে অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলছেন এসময়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা ভাবতে হবে। করোনা মহামারীর কারনে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন স্থবির তখন বাংলাদেশের নিম্নমধ্যবিত্তদের বেঁচে থাকার সকল পথই প্রায় বন্ধ। তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার।করোনা ভাইরাসের এই মহামারীতে কেউ হারিয়েছেন
চাকরি কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা তাই মালামালি নিয়ে কেউ যাচ্ছেন গ্রামের বাড়ি কেউ বা কম বাড়ি ভাড়ায় যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সময়ে প্রয়োজন বিকল্প কর্মসংস্থানের। সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

কোরবানি দিতে পারবেন না ৩০-৩৫ ভাগ মানুষ

প্রতিবার কোরবানি দেন এমন ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ মানুষ এবার ঈদে কোরবানি দিতে পারবেন না। করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ। গত চার মাসে করোনা, সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, কালবৈশাখী, অতিবৃষ্টি ও সর্বশেষ বন্যায় মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, ব্যবসায়ীর ব্যবসা নেই। চাকরি হারিয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা। এসব কারণে এবার কোরবানির সংখ্যা কমবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটিতে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাদের প্রিয় পশু কোরবানি করেন। অত্যন্ত আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় দিনটি। কিন্তু এবার সে পরিস্থিতি নেই। মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছে।

করোনার কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও হাট কর্তৃপক্ষ হাটের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছে। তারপরও অনেক স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পশুর হাট না বসাতে সরকার নিষেধ করছে। সরকার বলছে, জীবিকার তাগিদে বের হতে হবে তবে আগে জীবন। জীবনকে রক্ষা করতে যা কিছু করণীয় তা করতে হবে।

গতবছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল প্রায় এক কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে কোরবানিতে পশু জবাই করা হয়েছিল এক কোটি ৬ লাখ। গতবছরের প্রস্ততকৃত প্রায় ১২ লাখ পশু সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত) ছিল। এর মধ্যে করোনার শুরু থেকে গত চার মাসে পশু জবাই এবং বিক্রির সংখ্যাও কমে গেছে। দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে সারাদেশে দিনে ৪৫ কোটি টাকার গরু কেনাবেচা হয়েছে। সাধারণত মাংস বিক্রির জন্য কসাইদের কাছে এসব গরু বিক্রি হয়। কিন্তু গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দিনে গড়ে ১০ কোটি টাকার বেশি গরু কেনাবেচা হয়নি। ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন এই তথ্য দিয়েছে।

দেশের পশু খামারিরা এবার করোনার শুরু থেকে আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হলো, গতবছরে কোরবানির হাটে তোলা পশু অবিক্রিত আছে ১২ লাখ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গত চার মাসে অজবাইকৃত পশু। তাই এবার খামার থেকে এত সংখ্যক গবাদিপশু কোরবানির পশুর হাটে উঠতে পারবে কি-না, তা সন্দিহান খামারিরা। উঠলেও বিক্রি হওয়া ও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তা দূর হচ্ছে তাদের। খামারিরা বলছেন, এবার গো-খাদ্যের যে দাম তাতে অনেক খামারি হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাই এবারের কোরবানির পশু যদি আরেক বছর লালন-পালন করতে হয় তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে তাদের।

দেশের গরু-ছাগলের খামারিদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, সরকার এবার কোরবানির হাটের যে চাহিদা নিরূপণ করেছে, তা থেকেও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গবাদিপশু কম বিক্রি হবে। কারণ, ক্রেতাদের হাতে টাকা নেই। খামার থেকে হাটে গরু নিয়ে আসার মতো পুঁজি নেই অনেকের। তাছাড়া এবার ট্রাকভাড়াও বেশি।

সংগঠনটি বলছে, কোরবানির হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সরকার কতটুকু উদ্যোগ নেবে, তা নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে। তারা বলছেন, কোরবানির হাট এমনিতেই অপরিচ্ছন্ন থাকে। তাই গরু রাখার জায়গাগুলো যদি নিরাপদ দূরত্বে না থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের কাছে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এবার গরুর হাটে বিক্রি কম হতে পারে। তিনি বলেন, করোনার কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে এবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসবে না। তাছাড়া বাংলাদেশে যে পশু আছে কোরবানির জন্য তা যথেষ্ট।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, যেহেতু এবার দেশের পরিস্থিতিটা অস্বাভাবিক, সে কারণে অন্য বছরগুলোর তুলনায় কোরবানির সংখ্যা এবার কম হবে। তিনি বলেন, এ অবস্থা শুধু বাংলাদেশেই নয়; সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা। গত চার মাসে দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকার কথা নয়। তবে একেবারে হোপলেস (হতাশ) হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। প্রতিবছর যেখানে একজন একাই একটা পশু কোরবানি দিতেন এবার শেয়ারে দেবেন। কোরবানি চলবেই তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে হয়তো প্রতিবছরের মতো স্বাভাবিক হবে না।

বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিডিএফ) সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে সমস্যা তো হবেই। কারণ করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে বলতে চাই, আমাদের ৬০ হাজার আইনজীবী আছেন। এর মধ্যে ২০ হাজার আইনজীবী কোরবানি দিতে পারবেন। বাকি ৪০ হাজার আইনজীবী কোরবানি দিতে পারবেন না। এ রকম বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধেক মানুষই নানাভাবে আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

‘তবে যেহেতু বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি, সে কারণে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অনেকে শেয়ারে হলেও কোরবানি দেবেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার বিষয়ে যে গাইডলাইন দিয়েছে তা অবশ্যই মেনে আমাদের পশু কোরবানি করতে হবে।’

প্রবাসীদের সুখবর দিলেন সৌদি বাদশাহ

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইকামা (বসবাসের অনুমতি) তথা ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা তিন মাসের জন্য এ সুবিধা পাবেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি এ খবর দিয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রোববার বলা হয়, সৌদি আরবে প্রবেশ ও বহির্গমনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন প্রবাসীসহ যেসব পর্যটকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোনো খরচ ছাড়াই তাদেরও ইকামার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাইনাল এক্সিট ভিসার পাশপাশি রাজ্যে অবস্থানরত যেসব প্রবাসীর জন্য এক্সিট ও রি-এন্ট্রি ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল, কিন্তু লকডাউনের কারণে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি, তারাও এই সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া ওইসব প্রবাসীও সৌদি সরকারের এই সুবিধার আওতায় থাকবেন, যারা এক্সিট ও রি-এন্ট্রি ভিসা নিয়ে রাজ্যের বাইরে গিয়ে বিধি-নিষেধের কারণে ফিরতে পারছেন না।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা কোভিড-১৯- এর কারণে সৃষ্ট সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা পুষিয়ে নিতে সরকারে নেওয়া চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাদশাহ সালমান এই সুবিধা দিয়েছন।