দুর্বল হচ্ছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র, বন্ধ হয়ে যেতে পারে মোবাইল পরিষেবা, স্যাটেলাইট!

একের পর এক বিপর্যয় দেখছে গোটা বিশ্ব৷ ২০২০ শুরু না হতেই করোনার প্রকোপ৷ যা কিনা গোটা বিশ্বকে প্রায় স্তব্ধ করে দিয়েছে৷ প্রথম বিশ্বের দেশগুলি থেকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ, বাদ পড়েনি কেউ-ই! মৃত্যু মিছিল সবর্ত্র৷ করোনার মাঝেই বাংলা ও ওড়িশায় ধেয়ে এল আমফান ঝড়৷ একেবারে তছনছ করে দিল বাংলার বেশিরভাগ জেলাকে ৷ আমফানের তাণ্ডব থেকে এখনও নিজেদের কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলার মানুষ৷

ফের যেন বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ৷ না এবার কোনও রোগ বা ঘূর্ণিঝড় নয় ৷ বরং তার থেকেও যেন আরও বেশি ক্ষতরনাক খবর শোনালো ইউরোপিয়ান স্পেশ এজেন্সি ও তাঁদের তোলা কিছু স্যাটেলাইট ছবি ৷ সেই ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দুর্বল হয়ে আসছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র৷ যার ফল কিনা ভয়াবহ৷

বিশদে জানালেন বিজ্ঞানীরা, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র এমন এক ধরনের চৌম্বক ক্ষেত্র যা পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত। ভূপৃষ্ঠে এর আয়তন ২৫ থেকে ৬৫ মাইক্রোটেসলা৷ এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণেই মহাবিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ধরনের মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা পাচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র যদি কোনওদিন শূন্য হয়ে যায় তাহলে এ গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব টিকে থাকাটাই কঠিন হবে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চৌম্বক ক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। যা কিনা বেশ দুশ্চিন্তার৷

তা এই চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হলে কী হতে পারে?

গবেষকদের ধারণা ভূচৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হয়ে যাওয়া পৃথিবীর মেরুর পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। গোলমাল হতে পারে ম্যাগনেটিক নর্থ ও ম্যাগনেটিক সাউথের ৷ আজ থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার বছর আগেও একইভাবে একবার পৃথিবীর মেরু পরিবর্তন ঘটেছিল।

বিজ্ঞানীদের কথায়, প্রাথমিকভাবে মোবাইল, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে ৷ স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা৷ তবে আশার আলো একটাই, এই ঘটনা ঘটতে লাগবে বহু বছর৷ একদিনে টুক করে এটা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই৷

প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনতে আরব আমিরাত সরকারের ঘোষণা

বিভিন্ন দেশে ছুটিতে অবস্থানরত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেসিডেন্স ভিসাধারীদের ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খালেদ আবদুল্লাহ বেলহুল এ তথ্য জানান।

খালেদ আবদুল্লাহ বেলহুল জানান, ফেডারেল অথরিটির সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ২ লাখ প্রবাসীকে আমিরাতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যেসব রেসিডেন্স ভিসাধারী ফিরতে চান তাদেরকে

smartservicec.ica.gov.ae এই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরে টিকিট বুক করতে হবে।

পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জানান, আরব আমিরাতে ফিরতে চাওয়া সব প্রবাসীকে করো’নাভাই’রাস পরীক্ষা করতে হবে ও

তাদের অবশ্যই পৃথক পৃথক বাড়িতে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর এ ব্যয়ের জন্য অর্থ তাদেরকেই প্রদান করতে হবে।

তাদেরকে সরকার অনুমোদিত একটি ট্র্যাকিং অ্যাপ ডাউনলোড এবং এর ব্যবহার করতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, যোগ করেন খালেদ আবদুল্লাহ বেলহুল।

হাদিস অনুযায়ী ওষুধ বানিয়ে করোনা চিকিৎসায় সাফল্যের দাবি সৌদির

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৭৮ লাখ ৭২ হাজার ছয়শ ১৯ জন এবং মারা গেছে চার লাখ ৩২ হাজার ছয়শ ৭৫ জন। এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, তখন হাদিসে বর্ণিত উপায়ে ওষুধ বানিয়ে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছে সৌদি আরবের গবেষক দল।

সহীহ বুখারী শরিফের ৫৩৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল (সা.) বলেছেন, “কালিজিরা সকল রোগের ওষুধ কেবল বিষ ছাড়া। ” তিনি (আয়েশা) বললেন ‘বিষ’ কী? জবাবে নবী (সা.) বললেন, “মৃত্যু”।

হাদিসের এই বাণীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘তাইবুভিড’ নামে একটি ওষুধ তৈরি করেছে মদীনার ‘তাইবাহ ইউনিভার্সিটির অ্যান্টি-কোভিড ট্রিটমেন্ট’ গবেষক দল। আমেরিকান জার্নাল ‘পাবলিক হেল্থ রিসার্চ’ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে। এই ওষুধের মূল উপাদান হল: কালিজিরা, ক্যামোমিল ও প্রাকৃতিক মধু।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে সারিয়ে তোলার জন্য গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন-

দুই গ্রাম কালোজিরা, এক গ্রাম চামেলি ফুল, এক চামচ মধু একত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে খেতে হবে। এসব খাওয়ার পর জুস কিংবা একটি কমলা খাওয়া যেতে পারে। লেবু খেতে পারলে ভালো হয়। এভাবে প্রতিদিন একবার করে খেতে হবে। করোনামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে খেতে হবে।

গবেষকরা আরো বলছেন, রোগী আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলে প্রথম সপ্তাহে দিনে পাঁচবার এভাবে খেতে হবে। আর পরবর্তী সময়ে মহামারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিনে একবার করে খেতে হবে।

রোগীর যদি কাশি বেশি হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে কালোজিরা এবং লবঙ্গ মেশানো পানি গরম করে ধোঁয়া নাক দিয়ে টেনে নিতে পারেন। কিংবা কালোজিরা ও চামেলি পানিতে গরম করেও বাষ্প টেনে নিতে পারেন।

গবেষকরা বলছেন, যদি অক্সিজেনের অভাব হয়, তাহলে এক চামচ কালোজিরা, এক চামচ চামেলি এবং এক কাপ পানি একটি পাত্রে নিয়ে হালকা গরম করতে হবে। এভাবে দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার পানি গরম করে বাষ্প নাক দিয়ে টেনে নিতে হবে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের তাবিয়াহ ইউনিভার্সিটির মেডিসিন অনুষদের ক্লিনিক্যাল বায়োক্যামিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার মেডিসন বিভাগের গবেষকরা এ নিয়ে গবেষণা করেছেন।

গবেষকদের একজন ডা. সালেহ মুহাম্মদ বলেন, কালোজিরা এবং চামেলি করোনা সংক্রমণ বন্ধ করে দিতে সক্ষম। আল্লাহর রহমতে, যেসব করোনা রোগীদের তাবিয়াহ ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তাদের সবাই সেরে উঠছে, তারা নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই পদ্ধতিতে রোগীদের সেরে উঠতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগছে না।

পদ্মার পানি বাড়ছে, ভয়ংকর চেহারায় ফিরছে ভাঙন

নদ-নদীর পানি কোথাও বাড়ছে, আবার কোথাও কমছে। একই সঙ্গে ভাঙনও ভয়ংকর চেহারায় ফিরছে। মুন্সীগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি বাড়ছেই।

কুড়িগ্রামে ধরলা এবং নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার পানি ফের বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বগুড়ার বাঙ্গালী নদীর পানিও বেড়েছে।

তবে কমছে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানির গতি। বন্যায় এখনো ডুবে আছে শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে আছে লাখো মানুষ। বন্যাদুর্গত এলাকায় চলছে খাবার সংকট। বগুড়ায় যমুনা, কিশোরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র এবং রংপুরের পীরগাছায় চলছে তিস্তার ভাঙন। এর ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে নদীপারের মানুষ। ভয় আর আতঙ্কে ভাঙন এলাকা থেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অনেকেই।

এদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় গতকাল এক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, বন্যা ও বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ সব স্থানে নদীভাঙন রোধে কাজ চলছে। এরই মধ্যে সারা দেশের মানুষকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চলমান করোনা মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পুরোদমে এগিয়ে চলছে বেড়িবাঁধের কাজ। তিনি আশা করেন, এবারের বর্ষা মৌসুমে সারা দেশে কোনো নদীভাঙন হবে না।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পানি এখনো বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছে। ভাগ্যকূলে পদ্মার পানি ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ১১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে পদ্মা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের জনপদগুলো প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের বহু এলাকা এখন জলমগ্ন। দ্রুত পানি আসার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টঙ্গিবাড়ীর দিঘিরপারে কান্দারবাড়ী-শরিষাবন বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০০ একর জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। লৌহজংয়ের মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া যশলদিয়া, কুমারভোগ, কনকসার, হলদিয়া, লৌহজং-টেউটিয়া ও গাঁওদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শ্রীনগরের ভাগ্যকূলের আশপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যাতঙ্ক বিরাজ করছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে টঙ্গিবাড়ীর কান্দারবাড়ী-শরিষাবন বাঁধের প্রায় ১০ ফুট বিলীন হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পদ্মা নদী অংশে পানি বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া এখনো সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর ও পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপত্সীমার নিচে রয়েছে। তবে জেলার কোথাও এখনো বন্যার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রামের তিনটি চর ও কালুখালীর হরিণবাড়িয়া চরের ফসলি জমিসহ নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের ধান-পাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি ধীরে ধীরে কমলেও ধরলার পানি ফের বাড়ছে। গতকাল শনিবার সকালে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার যথাক্রমে ৫৯ ও ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা পানি বাড়ায় সদর উপজেলা ছাড়াও ফুলবাড়ী, উলিপুর ও রাজারহাটের শতাধিক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তার পানি বেড়ে রাজারহাট ও উলিপুরের ছয়টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত ও কিছু ঘরবাড়ি।

ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমে বিপত্সীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বেড়ে বিপত্সীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার ফলে এবার বাঙ্গালী নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম এখনো ডুবে আছে। বন্যা দুর্গত এলাকার পাট, ধানসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। যমুনার প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনের কবলে এরই মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার চার শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নীলফামারী : তিস্তার পানি ফের বেড়ে ডিমলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকাল সকালে ওই উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপত্সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘এর আগে বন্যার পানি নেমে গেলেও গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি বাড়তে থাকে। গতকাল ভোরে আবারও পানি বাড়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করলেও শনিবারও বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে তিস্তার পানি ১৭ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে এখনো বিপত্সীমার নিচে রয়েছে। এদিকে গত শুক্রবার রাতে সাঘাটার জুমারবাড়ী-হলদিয়া সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর পানির স্রোতে একটি পাকা সড়কের ২০০ ফুট ভেঙে গেছে। এদিকে সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি সপ্তাহের মধ্যেই যমুনাগর্ভে হারিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে নিম্নাঞ্চলের ২১৬টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।

কিশোরগঞ্জ : ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সাহেবেরচর গ্রাম। প্রতিদিন এই নদে বিলীন হচ্ছে গ্রামের নতুন নতুন এলাকা, বসতবাড়ি। বিপন্ন লোকজন, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ছুটছে অজানা ঠিকানায়। গ্রাম রক্ষায় সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কয়েক মাস চলে গেলেও এই কাজ শুরুই করেনি তারা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে খরচ হবে আরো কয়েক কোটি টাকা।

পীরগাছা (রংপুর) : পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামটি বিলীনের পর পাশের হাগুরিয়া হাশিম ভাঙনের কবলে পড়েছে। তিস্তার ভাঙনে গত চার দিনে প্রায় অর্ধশত বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে আরো শতাধিক বাড়ি।

সুনামগঞ্জ : সুরমা নদীর পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে। ফলে জেলা শহরের আশপাশের এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। শহরের বাইরেও নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। হাওরে এসে সুরমার পানি চাপ তৈরি করায় পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। অনেকের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে এখনো জেলা শহরের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজারসহ চারটি উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন আছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ৬১টি ইউনিয়নে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ৬৬ হাজার ৮৬৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : মির্জাপুরে নদীর পানির প্রবল চাপে ধল্যা-বিলপাড়া আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়কটির গ্রামনাহালী আদাবাড়ী এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত চারটি কালভার্ট স্থানীয় প্রভাবশালীরা বন্ধ করে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাশের বাসাইলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী দুই উপজেলার ২৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে।

এশিয়ার সর্ববৃহৎ আম গাছ

প্রথম দেখাতে বটগাছের মত বিশাল আকৃতি দেখে অনেকেই ভুল করে বসেন। বট গাছের মত বিশাল আকৃতি হলেও গাছটি আসলে বট গাছ নয়, এটি একটি আমগাছ।বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তে মন্ডুমালা গ্রামে আমগাছটি প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে উঠে আজ ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে নয়, এই আমগাছটি এখন বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশে । গাছের মূল থেকে ডালপালাকে আলাদা করে দেখতে চাইলে রীতিমত ভাবতে হয়। আমগাছটির ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য শুধু দেশের পর্যটক নয়, বিদেশের অনেক অতিথিকেও আকৃষ্ট করে। শত ব্যস্ততার মধ্যে একটু সময় করে ছুটে গিয়ে চোখ জুড়ানোর লোভ সামলাতে পারেন না তারা। ব্যতিক্রমী এই আমগাছ পশ্চাৎপদ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাকে বিশ্বের কাছে আজ পরিচিত করে তুলেছে। সূর্যপুরী ঠাকুরগাঁও এর মানুষের প্রিয় একটি আমের জাত। সুস্বাদু, সুগন্ধী, রসালো আর ছোট আটি জাতটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য । সেই সূর্যপুরী জাতের লতা বোম্বাই জাতীয় লতানো বিশাল আকৃতির আমগাছটি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দুই বিঘারও বেশী জায়গা জুড়ে। উচ্চতা আনুমানিক ৮০-৯০ ফুট। আর পরিধি ৩৫ ফুটের কম নয়। মুল গাছের ০৩ দিকে ১৯টি মোটা মোটা ডালপালা বেড় হয়ে অক্টোপাসের মত মাটি আঁকড়ে ধরেছে। বয়সের ভারে গাছের ডালপালা গুলো নুয়ে পড়লেও গাছটির শীর্ষভাগে সবুজের সমারোহ, সবুজ আমে টইটম্বুর। প্রতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মণেরও বেশি আম পাওয়া যায় এই গাছ থেকে।আমগুলোর ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ২৫০ গ্রাম। স্থানীয়দের কাছে এই আমগাছের ইতিহাস অনেক পুরোনো। মাটি আঁকড়ে থাকা মোটা ডালপালা গুলো দেখে অনেকেই গাছটির বয়স অনুমান করতে চেষ্টা করেন। কেউ বলেন ১৫০ বছর, আবার কেউ বলেন ২৫০ বছর। তবে এলাকার বায়োজোষ্ঠ্যরাও গাছটির বয়স কত তার সঠিক ভাবে বলতে পারেন না। তাঁরা বলেন কোন সময় আমগাছটি লাগানো হয়েছে তা জানা নেই। প্রাচীন এই গাছটি সম্পর্কে তারা জেনেছেন তাঁদের বাপ-দাদার কাছ থেকে। তারা আরো জানান, এই আমগাছের চারা থেকে পাশে কয়েকটি গাছ লাগানো হয়েছিলো। ১৫ বছর পর সেটাও একই ভাবে ডালপালা মাটির দিকে নুয়ে পড়ছে। ১৫ বছর আগে লাগানো আমগাছটির আকৃতি দেখে সহজেই মূল গাছটির বয়স অনুমান করা যায়, গাছটির বয়স ২০০ বছরের কম নয়।

অবশেষে ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘আয়া সোফিয়া’ হচ্ছে মসজিদ

আয়া সোফিয়া। কেউ বলে হাজিয়া সোফিয়া। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপত্য নির্দশন। কখনও গির্জা, কখনও ক্যাথলিক গির্জা আবার কখনও মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে এটিকে মসজিদে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে তুরস্ক।

সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি ও ডেইলি পাকিস্তানের তথ্য মতে, তুরস্কের ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া জাদুঘর আলোচনার তুঙ্গে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান প্রাচীন এই স্থাপনাটিকে মসজিদে রূপান্তরের আগ্রহের কথা ঘোষণা করেন। এরপরে থেকেই এই আলোচনার সূত্রপাত।

ফিরে দেখা
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্থাপিত এ স্থাপনাটি অর্থোডক্স গির্জার জন্য সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়। ১২০৪ সাল পর্যন্ত এ স্থাপনাটি গির্জা হিসেবে উপাসনা চলে।

১২০৪ সালের পর এটি ক্যাথলিক গির্জায় রূপান্তরিত হয়। যা প্রায় ৫৭ বছর ক্যাথলিক গির্জা হিসেবে ব্যবহারের পর ১৯৬১ সালে তা আবার অর্থোডক্স গির্জায় রূপান্তরিত হয়। আর তা ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৯২ বছর স্থায়ী হয়।

১৪৫৩ সালে (পঞ্চদশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে) এ অঞ্চলটি উসমানিয় খলিফাদের দখলে আসে। উসমানিয় শাসকরা এ স্থাপনাটিকে মসজিদে পরিণত করে। যা ৫০০ বছর স্থায়ী হয়। সে সময় এ স্থাপনাটিকে ‘ইম্পেরিয়াল মসজিদ’ নামে ঘোষণা দিয়ে প্রধান মসজিদের মর্যাদা দেয়া হয়।

৪৮২ বছর মসজিদ থাকার পর ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও রাষ্ট্রপতি কামাল আতাতুর্ক এ স্থাপনাটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন।

এক পর্যায়ে স্থাপনাটি নিয়ে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের দ্বন্দ্বের কারণে নতুন নিয়ম চালু হয়। আর তাহলো- এ স্থাপনার মূল হলরুমটি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সেটি মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান কেউই ব্যবহার করতে পারবে না।

তবে উভয় ধর্মের অনুসারিদের জন্য এ স্থাপনায়ই রয়েছে আলাদা আলাদা স্থান। আবার জাদুঘরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা আলাদা ইবাদতের স্থানও নির্মাণ করা হয়।

২০১৯ সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, পর্যটকরা হাজিয়া সোফিয়ার ব্লু মসজিদে আসা যাওয়া করতে পারবেন। এজন্য তাদের হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘরের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে মসজিদটি পরিদর্শন করতে হবে বলে জানান। পাশাপাশি এটি মসজিদে পরিণত করতে আলোচনা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

আয়া সোফিয়াকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তুরস্কের বাইরে সমালোচিত হচ্ছেন। তবে এই সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো বহির্বিশ্বকে এ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেছেন মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এই নেতা।

তিনি আরও বলেছেন, আমাদের মসজিদ নিয়ে বহির্বিশ্বের কেউ গলাবাজি করলে আমরা সেটিকে তুরস্কের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা মনে করবো।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের লেভান্ট অঞ্চলে একটি নতুন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের প্রার্থনাস্থলকে আমরা যেভাবে সম্মানের চোখে দেখি, তাদের থেকেও ঠিক এরকম আচরণই আশা করি। এটি নিয়ে তাদের কোনো মতামত আমাদের জানার আগ্রহ নেই বলেও জানান এরদোয়ান।

এরদোয়ান বলেন, এটি সত্য যে তুরস্কে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ- এরপরও এখানে বসবাসরত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও সমান স্বাধীনতা ভোগ করে। তারা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। আর তাদের এসব অধিকার রক্ষা করা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে লাখ লাখ মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের অজুহাতে নিহত হচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমাদের উচিত, আগে সেগুলো বন্ধ করা।

উল্লেখ্য কনস্টেন্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) বিজয়ের আগে আলোচিত স্থাপনাটি ছিল একটি গির্জা। শহর বিজয়ের পরে উসমানি সুলতান সেনাপতি মুহাম্মাদ আল ফাতিহ এটিকে মসজিদে পরিণত করেন। দীর্ঘ ৪৮২ বছর পর আধুনিক তুরস্কের রূপকার মোস্তফা কামাল পাশা (আতাতুর্ক) ১৯৩৫ সালে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর বানিয়ে ফেলেন।

এখন এ আয়া সোফিয়া কি জাদুঘর হিসেবেই বহাল থাকবে নাকি মসজিদে রূপান্তরিত হবে? – এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তুর্কি কাউন্সিল অফ স্টেট গত বৃহস্পতিবার শুনানি শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই আদালত এ ফায়সালা প্রদান করবেন। তখনই জানা যাবে জাদুঘরই থাকছে না মসজিদে পরিণত হবে আয়া সোফিয়া।

কাবা চত্বরে মহান আল্লাহর জিকির করছে পাখিরা!

কাবার চত্বর। যেখানে সব সময় হাজারো মানুষের তাওয়াফে ছিল মুখরিত, বৈশ্বিক মহা’মারি করোনায় সে দৃশ্য এখন বিরল। সেখানে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে সময় কাটায়।

মনে হচ্ছে যেন, পাখিরা কাবা চত্বরে মহান রবের জিকির করছে। দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে কাবা শরিফ চত্বরে তাওয়াফও বন্ধ রয়েছে। নীরব নিস্তব্ধ কাবা শরিফের মাতআফে আ’ইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই পাখির ঝাঁক নেমে পড়েছে। যেন তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদতে মশগুল।

হারামাইন শারিফাইন ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়া এক ছবিতে দেখা যায়, কাবা শরিফ চত্বরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাবা শরিফ সংলগ্ন মাকামে ইব্রাহিমের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার সামনেই পাখির ঝাঁক কাবা চত্বরে নেমে পড়েছে। কাবা শরিফের চারপাশ যেখানে সব সময় হাজারো মানুষের তাওয়াফে মুখরিত ছিল, সেখানে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে সময় কাটায়। মনে হচ্ছে যেন, পাখিরা কাবা চত্বরে মহান রবের জিকির করছে। হারামাইন শারিফাইন ফেসবুক পেজে এমনই মন্তব্য করছেন অনেকে।

অনেকে আবার এও মন্তব্য করেছেন, ‘হে আল্লাহ! পাখির মতো আমাদের কাবা চত্বরে সময় কাটানোর তাওফিক দাও। মহামারি করোনা থেকে মুক্তি দিয়ে তাওয়াফ করার তাওফিক দাও।’ ইতিমধ্যে ২০ বছর অপেক্ষার পর একাকি পায়ে হেটে কাবা শরিফ তাওয়াফের ইচ্ছাপূরণ করেছেন এক ব্যক্তি। যে কিনা ২০ বছর আগে এমন এক স্বপ্নে দেখেছেন, যার ব্যাখ্যা ছিল, ‘সে ব্যতীত অন্য কেউ কাবা চত্বরে তাওয়াফ করবে না।’ সম্প্রতি তা বাস্তবায়ন হয়েছে মর্মে খবর ও ভি’ডিও প্রকাশিত হয়েছে।

সৌদি আরব ইতিমধ্যে দুই ধাপে সব মসজিদ খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে মতে প্রথম ধাপে গত ৩১ মে রোববার স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজে অংশগ্রহণের জন্য মসজিদে নববিসহ অনেক মসজিদ খুলে দিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২০ জুন মোতাবেক ২৮ শাওয়ালও বাকি মসজিদ খুলে দেবে। তবে পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফ পুরোপুরি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা এখনও আসেনি।

মুসলিম উম্মাহ তাদের হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র কাবা শরিফে তাওয়াফ ও ইবাদতের জন্য মুখিয়ে আছে। কখন আসবে সেই সময়। কখন আসবে সে ঘোষণা। মুমিন মুসলমানের চাওয়া, ‘হে আল্লাহ! আপনি মহামারি করোনা থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি দিন। খুলে দিন কাবার দরজা।’ আমিন।