ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ রাখার হুমকি

ইন্টারনেট খাতে ৫ ও ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। শনিবার ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
আইএসপিএবির সভাপতি মো. আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমরা ভ্যাট জটিলতা সমাধানের পাশাপাশি আইএলডিসি, আইআইজি এবং আইএসপি ইন্ডাস্ট্রিকে তথ্য-প্রযুক্তি সক্ষম পরিষেবাদি (আইটিইএস) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করছি।’
আইএসপিএবি এ মাসের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে ২-৩ ঘ্ণ্টা ব্রডব্যান্ড সংযোগ বন্ধ রাখার হুমকি দেন। আমিনুল হাকিম বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বিল আদায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেলেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। তিনি জানান, ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমরা এ সেক্টরে সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’ দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে চলমান ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, তিনি যোগ করেন। তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা সমাধান না করা হলে প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টরনেটের মূল্য ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর আগে ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় পরিষেবাগুলো নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং এ খাতকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য আইএসপিএবি ৬১০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান চেয়েছিল। আইএসপিএবি টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের কাছেও এ বিষয়ে একটি আবেদন জমা দিয়েছে। তারা কমপক্ষে দুই বছর ধরে ইন্টারনেট সেবা সরবরাহকারীদের ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।

অদক্ষ সারেং দিয়েই চলছে লঞ্চ

দিন দিন নদীতে নৌ দুর্ঘটনায় লাশের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মৃত্যুবরণ ছাড়াও অনেকেই পঙ্গু হয়ে গেছেন সারাজীবনের জন্য। অতিরিক্ত যাত্রী তোলা, ঘাটে লঞ্চ ভিড়াতে নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, আবার বের হওয়ার সময়ও চলে প্রতিযোগিতা। ঘাটের স্থান দখলে লঞ্চের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন অনেকেই। তাদের এমন প্রতিযোগিতার কারণে লঞ্চগুলোর মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনায় রক্তাক্ত হচ্ছেন যাত্রীরা। নৌবন্দরে বিশৃঙ্খলা চলছে লঞ্চ মালিক-কর্মচারীদের মধ্যে। গত ২৯ জুন সকালের দিনের আলোয় ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে সংঘটিত নৌ দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত সারা দেশের মানুষ। নদী বিস্মৃত বরিশালের নৌপথের নিয়মিত যাত্রীরাও সামপ্রতিক সময়ের ধারাবাহিক দুর্ঘটনার ঘটনায় ভীত। নৌপথে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তাড়া করে বেড়াচ্ছে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে। তাদের মতে, অদক্ষ চালক দিয়ে নৌযান পরিচালনা, ফিটনেসহীন নৌযান দিয়ে পরিবহন ও নৌপথে শৃঙ্খলা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। অন্যদিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়া নৌযানগুলো উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের কারিগরি দুর্বলতাও এসেছে প্রকাশ্যে। অদক্ষচালক দিয়ে নৌযান পরিচালনার দায় লঞ্চ মালিকদের ওপর চাপাচ্ছেন নৌ কর্তৃপক্ষ। তবে লঞ্চ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত মানুষদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকে সামনে এনেছেন নৌ দুর্ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটি) বরিশাল অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে আতঙ্কিত হওয়ার মতো নানা চিত্র। তাদের মতে, বরিশাল নদী বন্দর থেকে বিভিন্ন জেলা উপজেলার অভ্যন্তরীণ ১১টি ও দূরপাল্লার ১টি রুটে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক নৌযান (মাঝারি ও বৃহৎ) যাত্রী পরিবহন করে। এসব নৌযান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে গেলে সেগুলো উদ্ধারে ৬০ মেট্রিকটন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ও ২৫০ মেট্রিকটন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ২টি উদ্ধারকারী জাহাজ তাদের সংগ্রহে আছে। কিন্তু বর্তমানে মাঝারি একটি নৌযানের ওজন ৩০০ মেট্রিকটনের বেশি। এছাড়া ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করা বিলাসবহুল নৌযানগুলোর স্বাভাবিক ওজন ১০০০ মেট্রিকটনের কম নয়। যে কারণে দুর্ঘটনায় পর্যবসিত হওয়া সাধারণ নৌযান (লঞ্চ অথবা জাহাজ) উদ্ধারে বেগ পেতে হয় তাদের। ঢাকা নদী বন্দরে ভীড় করা একাধিক যাত্রী সাধারণের সঙ্গে কথা হয়। এসময় তারা অভিযোগের সুরে বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটের বেশিরভাগ লঞ্চে আপদকালীন সময়ে জীবন বাঁচানোর পর্যাপ্ত উপকরণ থাকে না। এর ওপর লঞ্চ পরিচালনাকারীর (সারেং ও সুকানি) বেশিরভাগই অদক্ষ। এরই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রুটের অনেক লঞ্চের ফিটনেস ঠিক নেই বলেও জানান তারা। এসকল যাত্রীরা অভিযোগ করেন নৌ কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো তদারকি করছে না বলেই এমন বিপদজনক অবস্থা বিরাজ করছে এ অঞ্চলের নৌপথগুলোতে। অন্যদিকে অদক্ষ চালকদের দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে খোদ চালকদের (সারেং) মধ্য থেকেই। সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে কথা হয় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের একজন লঞ্চ চালকের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক বলেন, লঞ্চ মালিকরা কম বেতনে অদক্ষ চালক নিয়োগ করে থাকে লঞ্চ পরিচালনার জন্য। যাদের বেশিরভাগেরই লঞ্চ চালনার প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যবহারিক জ্ঞান কম। অনেকে সুকানিকে (লঞ্চের সাধারণ কর্মচারী) সারেং (চালক) হিসেবে কাজ করায়। অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে লঞ্চ পরিচালনা করা একজন সারেং (চালক) বলেন, আমাকে দিয়ে একদিন লঞ্চ চালাতে মালিকের কয়েক হাজার টাকা প্রয়োজন। সেখানে অদক্ষ একজনকে দিয়ে লঞ্চ চালাতে পাঁচশ টাকার বেশি দরকার পড়ে না। খরচ কমানোর জন্য মালিকরা এ সুযোগ নেয়। যে কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। তবে মালিকদের সঙ্গে সঙ্গে নৌ কর্তৃপক্ষকেও দূষলেন একজন চালক। তিনি উল্লেখ করেন, কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ তদারকি করতো তবে অদক্ষ চালক দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করার ঘটনা বন্ধ করা যেতো। অদক্ষ চালক দিয়ে নৌযান পরিচালনা করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলো নৌ কর্তৃপক্ষের কথাতেও। ময়ূরী-২ লঞ্চের ড্রাইভার শিপর হাওলাদার বলেন, মালিক দায়ী এই লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য। তিনি কীভাবে অদক্ষ চালক দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করেন। ছুটি আছি। তাই কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তা বলতে পারবো না। মালিকের ইচ্ছ মতই লঞ্চ পরিচালিত হয়। এ সময় অন্য ড্রাইভার নিলে খরচ বেশি হবে বলেই হেলপার দিয়ে লঞ্চে পরিচালনা করছেন। বরিশাল নদী বন্দর (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, প্রতিটি লঞ্চ ছাড়ার আগে আমাদের পক্ষ থেকে লঞ্চের চালকসহ নিরাপত্তার অন্যান্য বিষয়ে তদারকি করা হয়। তবে কিছু কিছু সময় অভ্যন্তরীণ রুটের নৌযান মালিকেরা আমাদের চোখ এড়িয়ে সুকানি অথবা অদক্ষ চালক দিয়ে নৌযান পরিচালনার চেষ্টা করে থাকে। দুর্ঘটনায়কবলিত লঞ্চকে উদ্ধার করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, বর্তমানে উদ্ধারকারী জাহাজের চেয়ে এয়ার লিফটিং (বাতাস প্রতিসরণ) পদ্ধতি অবলম্বন করে ডুবন্ত বা ডুবতে থাকা নৌযান উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতি আরও কার্যকর করা গেলে উদ্ধারকারী জাহাজের ওপর ভরসা কমবে। এদিকে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ চেয়ে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি নৌপথগুলোয় সুরক্ষা বৃদ্ধির জোর দাবি এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বরিশাল অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকেও। তারা নৌপথে দুর্ঘটনার নানা কারণ উল্লেখ করে সেগুলো সমাধানের পথ বাতলে দেয়ারও চেষ্টা করেছেন। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল নৌযান যাত্রীদের অনিরাপত্তার পেছনে নৌপথে বিশৃঙ্খলা ও অদক্ষ চালক দিয়ে নৌযান পরিচালনাকে দায়ী করেন। তিনি লঞ্চ মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন সকল নৌযানে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক (মাস্টার) নিযুক্ত করা হয়। এছাড়া তিনি নৌপথে নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি করার কথাও বলেন। তিনি বলেন, লঞ্চসমূহের ওভারটেকিং মনোভাব, নৌ ট্রাফিকিং সংকট ও নৌপথে মাছ ধরা ও ক্ষুদ্র নৌযানের আধিক্য কখনো কখনো বড় দুর্ঘটনা সৃষ্টি করে। যে কারণে নৌপথে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নৌ-পুলিশ প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়া উচিত। বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, নদী শাসন ও নৌ-পথগুলোতে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য সরকারি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নৌযান দুর্ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের যথাযথ বিচার আমরা দেখতে পারি না। এদের বিচার করা গেলে বেপরোয়া নৌযান চলাচল রুখে দিয়ে কিছু দুর্ঘটনা কমানো যেতো। অব্যবস্থাপনা ও নৌযান মালিকদের অতি মুনাফালোভী মনোভাবকে সামনে তুলে ধরেন শিল্পপতি সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিজ্ঞাপন প্রচার করে যে তারা দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু দেশের এতবড় খাত নৌপথ সেখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। আদি আমলের উদ্ধারকারী সরঞ্জাম ও নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন না করা গেলে প্রতিবছর নৌদুর্ঘটনার যে ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে তা হ্রাস করা সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই খাতে নৌযান মালিকদের বিরাট সিন্ডিকেট কাজ করে। যারা খেয়াল খুশি মতো নৌযান পরিচালনা করলেও কেউ তাদের আটকাতে পারে না। এদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সহজ হতো। নৌপথ দিনকে দিন যাত্রীসাধারণের জন্য অরক্ষিত হয়ে উঠছে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের অভাবে। ব্যবসায়ী শাহিন হাওলাদার বলেন, নৌযান যারা পরিচালনা করেন এবং নৌপথ নিরাপদ রাখতে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাদের সবার প্রশিক্ষণ আধুনিক, বাধ্যতামূলক ও যথাযথ কার্যকর করা উচিত। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি আলোর মুখ দেখে না। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমান্ডার গোলাম সাদেক বলেন, কম টাকা মিলছে অদক্ষ চালক কিংবা সারেং সুকানি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তারা লঞ্চে চালকদের সব সময় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আর সেই অনুযায়ী চলচল করার কথা কিন্তু অনেক সময় চাকরি বাঁচাতে মালিকের নির্দেশনা মোতাবেক লঞ্চ চলছে। তার প্রতিফলন হচ্ছে মনিং বার্ড লঞ্চ দুর্ঘটনা। এটা দিয়ে প্রতি মালিককে শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লঞ্চডুবির দৃশ্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ট। এটা চালকের অদক্ষতা প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ থেকে এবার কেউ হজে যেতে পারছেন না

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব এবার বাইরের দেশের হজযাত্রীদের সে দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বাইরের দেশের মুসল্লিরা এবার সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন না। গতকাল সোমবার সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁদের মধ্যে খুবই সীমিতসংখ্যক মুসল্লি এবারের পবিত্র হজে অংশ নিতে পারবেন। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করা ৬১ হাজার মুসল্লি হজে যেতে পারছেন না। এখন তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, না অন্য কিছু করা হবে, সেটি ঠিক করতে আগামীকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সভা ডেকেছে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
  করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব এবার বাইরের দেশের হজযাত্রীদের সে দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বাইরের দেশের মুসল্লিরা এবার সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন না। গতকাল সোমবার সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁদের মধ্যে খুবই সীমিতসংখ্যক মুসল্লি এবারের পবিত্র হজে অংশ নিতে পারবেন। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করা ৬১ হাজার মুসল্লি হজে যেতে পারছেন না। এখন তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, না অন্য কিছু করা হবে, সেটি ঠিক করতে আগামীকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সভা ডেকেছে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, আগামীকাল দুপুরে এই সভা হবে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, হজ নিবন্ধনের জন্য যাঁরা টাকা জমা দিয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, নাকি আগামী বছরের জন্য রাখা হবে, সেটা এই সভায় আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে। কেউ যদি টাকা তুলে নিতে চান, সে ক্ষেত্রে করণীয়ও কাল ঠিক হবে। সভার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হবে। কারণ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ মো. আব্দুল্লাহ মারা যাওয়ার পর এখন প্রধানমন্ত্রীই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। তাঁর অনুমতি নিয়ে পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার মুসল্লির হজে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার নিবন্ধন করেন ৬১ হাজার মুসল্লি। সৌদির সিদ্ধান্তের পর তাঁদের এবার আর হজে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

করোনাকালে শিশুদের সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে শিশুরা ঘরবন্দী। এ অবস্থায় তারা ইন্টারনেটে ঝুঁকে পড়েছে। অধিক সময় সেখানে ব্যয় করছে। অলস সময় কাটানোয় বাবা–মায়েরা আগের মতো সন্তানদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকারে বাধাও দিচ্ছেন না। ফলে শিশুদের সাইবার বুলিং বা হয়রানির ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

সুইজার‌ল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়ন (আইটিইউ) গতকাল বুধবার এমন সতর্কতার কথা জানায়। সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ লকডাউনের (অবরুদ্ধ) মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ফলে ১৫০ কোটি শিশুর স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শুধু অনলাইনে পড়াশোনার জন্যই নয়, সময় কাটাতে শিশুরা বাধ্য হয়েই ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ছে।

আইটিইউয়ের পরিচালক ডোরেন বোগডান-মার্টিন গতকাল অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাবা–মায়েরা এখনই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতে ইচ্ছুক নন, এমন সন্তানেরা নির্দিষ্ট বয়সের আগেই অনলাইনে আসছে। খুব কম বয়সের শিশুরা এখানে আসছে। অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার বুলিং থেকে নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা দক্ষতা তাদের নেই। তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে, পড়াশোনা শেষ করার পর বিনোদন, গেম খেলা এবং অন্যের সঙ্গে গল্পগুজব করার জন্য শিশুদের অনেক বেশি সময় অনলাইনে কাটছে।

অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষায় নীতিমালা ও নির্দেশাবলি তৈরি করে থাকে আইটিইউ। সংস্থাটির পরিচালক বোগডান-মার্টিন বলেন, অলনাইনে শিশুদের সুরক্ষায় সুপারিশমালা প্রণয়নের কাজ দ্রুতবেগে করে যাচ্ছে আইটিইউ। দুই সপ্তাহের মধ্যে সেই সুপারিশমালা প্রকাশ করা হবে।

করোনা মহামারির প্রভাব শিশুদের মনে নেতিবাচকভাবে পড়বে বলে আগেই সতর্ক করেছেন চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেছেন, ভাইরাস উদ্বেগজনক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় তা শিশুদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক উপদ্রব হিসেবে দেখা দিতে পারে। আইটিইউ এ–ও স্বীকার করেছে, ইন্টারনেট এখন দৈনন্দিন সামাজিক জীবনের বড় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু শিক্ষার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের পাঠদানের জন্য মঙ্গল হবে।

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় পাঠদান এগিয়ে নিতে অনেক দেশে অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ক্লাস হচ্ছে। তবে ডিজিটাল ডিভাইড বা বৈষ্যমের কারণে অনেকেই ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে এসব শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বোগডান-মার্টিন বলেছেন, ইন্টারনেট সুবিধার অভাবে শিশুদের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনলাইনে শিশু হয়রানির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং সংস্থাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে গত মাসে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। সেখানে করোনার মহামারির সময় সরকারগুলোকে শিশু সুরক্ষামূলক সেবা কার্যক্রম খোলা ও সচল রাখতে বলা হয়।

আইটিইউয়ের হিসাবমতে, বিশ্বে মোট ৩৬০ কোটি মানুষের ইন্টারনেট সুবিধা নেই। আর যাদের আছে, তাদের হয় অনেক অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, না হয় সংযোগের মান খুবই দুর্বল। সংস্থাটির এই পরিচালক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য যোগাযোগপ্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট।

পেশা বদলাচ্ছেন চিকিৎসকরা?

'সেই ছোটবেলা থেকে মা-বাবার মুখে শোনা, ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার (চিকিৎসক) হবে। মানুষের সেবা করবে; মুখ উজ্জ্বল হবে পরিবারের, সমাজে বাড়বে সম্মান-প্রতিপত্তি। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও চাইতেন, বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে তার প্রিয় শিক্ষার্থী। এই দুই পেশার বাইরে অন্যকিছু যেন কল্পনায়ই আসত না। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন ফিঁকে হয়ে এসেছে। সমাজে চিকিৎসকের সেই সম্মান আজ আর নেই।' মেডিকেলে ভর্তির শুরু থেকে যে যুদ্ধ আর অধ্যবসায়ের শুরু, ভর্তির পরও তার যেন শেষ নেই। টানা পাঁচ বছর সমাজ-পারিপার্শ্বিকতা সবকিছু বাদ দিয়ে বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা। এমবিবিএস কোর্স শেষের পর চলে বিসিএসের প্রস্তুতি। সবকিছু ঠিক থাকলে মেলে স্বাস্থ্য ক্যাডারের সুযোগ অর্থাৎ ছোটবেলা থেকে লালিত স্বপ্ন সেই সরকারি চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ। স্বাস্থ্য ক্যাডারের শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে পোস্টিং। সেখানে নেই কোনো গাড়ির সুবিধা, ভাড়ায় থাকতে হবে সরকারি কোয়ার্টারে! ব্যক্তিগত সহকারী ও আলাদা কোনো অফিস থাকবে না। পদোন্নতির জন্য প্রয়োজন হবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির, যা শেষ করতে লাগে ১৪-১৫ বছর। এখানেও সেই কঠিন অধ্যবসায়। রয়েছে জটিল পদোন্নতি প্রক্রিয়া, সহযোগী অধ্যাপক হলেও মিলবে না গাড়ি পাওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরির শুরুতে মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব, ডিসি অফিসের কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান। রয়েছে ধারাবাহিক পদোন্নতির সুযোগ, গাড়ি-বাড়ির সুবিধা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে মাসিক ৫০ হাজার টাকা। ব্যক্তিগত সহকারী, পাওয়া যাবে আলাদা অফিসও। আর ইউএনও হলে সরকারি বাংলো ও গাড়ির সুবিধা তো রয়েছে। পদোন্নতি পেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হতে পারেন। রয়েছে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়ার সুযোগ, প্রেষণে আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের সুযোগও আছে। তাহলে প্রশাসনিক ক্যাডার না হয়ে কেন চিকিৎসক হবেন তরুণরা- এমন প্রশ্ন ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নির্বাচিত হওয়া মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মূল্যায়ন বিবেচনায় স্বপ্নের সেই চিকিৎসক হওয়ার পেশায় মন টেকেনি। প্রশাসন পরিচালনার কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সম্মান। এ কারণে ডাক্তারি পড়লেও প্রশাসন ক্যাডার বেছে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যসেবা দিলেও নানাভাবে তাদের বঞ্চিত হতে হয়। সঠিক সময়ে পদোন্নতির সমস্যা, নানাভাবে লাঞ্ছিত-বঞ্চিত হওয়া, যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা না পাওয়াসহ রয়েছে নানা সমস্যা। এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক না হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এমন আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তাদের সবার একই মন্তব্য। 'ভাই, চিকিৎসক হয়ে লাভ কী? সেই মহান পেশা আজ আর নেই। এ কারণে চিকিৎসক হওয়ার বদলে পুলিশ, প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও কর- এ চার ক্যাডারের যে কোনোটি বেছে নেওয়া।' গত মঙ্গলবার ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাডার পদ বেছে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন পুলিশ, প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও কর ক্যাডারে। তাদের সংখ্যা কত- এমন প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি)। সঠিক সংখ্যা বলতে না পারলেও পিএসসি জানায়, এ সংখ্যা শতাধিক। কেন স্বাস্থ্য ক্যাডার ছেড়ে অন্য ক্যাডারে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা- এমন প্রশ্ন রাখা হয় দেশের নামকরা কয়েকটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কাছে। তারা জানান, দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেশায় না থাকার জন্য বেশিরভাগ অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নিরুৎসাহিত করছেন। এমনকি কিছু অভিভাবক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নি করতেও বাধা দিচ্ছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সর্বশেষ ব্যাচের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে ইন্টার্নিতে যোগ দেননি। যদিও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেট না দেয়ার ভয় দেখিয়েছে তবুও শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারপরও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নিতে যোগদানের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে চিকিৎসকদের নানামুখী ঝুঁকির কারণে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই পড়াশোনা শেষে বিসিএসে অন্যান্য ক্যাডারে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। পরিবার থেকেও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের এই পেশায় যোগদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। মা-বাবারা চাচ্ছেন না, তাদের সন্তান ঝুঁকির মুখে পড়ুক। চিকিৎসা ব্যতীত অন্য যে কোনো পেশায় যেতে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করছেন তারাও। কথা হয় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে। তারা বলেন, মেডিকেলে যারা পড়ে তারা অত্যন্ত মেধাবী। শুধু চিকিৎসা পেশা কেন, তারা অন্য পেশায়ও যেতে পারে। তাছাড়া চিকিৎসার চেয়ে অন্য পেশায় এখন সম্মান বেশি, সুযোগও বেশি। তাই তাদের সন্তানদের এখন পছন্দের যে কোনো পেশায় যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন। এছাড়া বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেশায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বেড়েছে মৃতু্যঝুঁকিও। এ কারণে তাদের সন্তানদের চিকিৎসা পেশায় থাকতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা অন্য ক্যাডারে যেতে পারেন, তবে এ হার যদি বেশি হয় সেটি উদ্বেগের- উলেস্নখ করে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, চিকিৎসকরা অন্য পেশায় যেতেই পারেন। কারণ একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর যে কোনো পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। যদি বিসিএসে কেউ প্রথম হয় তাহলে সে যে পেশায় যেতে চায় তাকে সে পেশা দিতে হবে। তবে খুব বেশি হারে যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে বিষয়টি উদ্বেগের। এ বিষয়ে কথা হয় গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'পরীক্ষাকেন্দ্রিক লেখাপড়ার কারণে আমাদের মূল্যবোধের চর্চা অনেকটা কমে এসেছে। যে কারণে ডাক্তাররা এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। বিষয়টা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ তাদের জন্য পরিবারের, সমাজের এবং রাষ্ট্রের বিনিয়োগ রয়েছে। তাদের দায়িত্ব সমাজের ঋণ শোধ করা। এ ব্যাপারে কোনো ঘাটতি থাকা উচিত নয়।' 'আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন ডাক্তারদের চিকিৎসা পেশায় টিকিয়ে রাখতে পারে' বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক। তিনি বলেন, 'ডাক্তারদের পেশা বদলানো নতুন কিছু নয়। করোনাভাইরাসের কারণে ভবিষ্যতে এই পেশা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও মনে হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করতে হবে। ডাক্তাররা চিকিৎসা ক্যাডারে যাওয়ার পর অন্যান্য ক্যাডারদের যে আমলাতান্ত্রিক সুবিধাগুলো আছে, সেগুলো যদি ডাক্তাররাও পান তাহলে চিকিৎসা পেশায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।' স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে এক লাখের বেশি চিকিৎসক নিবন্ধন নিয়েছেন। বর্তমানে সরাসরি চিকিৎসা পেশায় যুক্ত এমন চিকিৎসকের সংখ্যা (সরকারি ও বেসরকারি) ৬০-৭০ হাজার। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৫-৩০ হাজার। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা ও রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় কমপক্ষে দুই লাখ চিকিৎসক প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সূত্র অনুযায়ী, দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পাঁচ বছরের এমবিবিএস ডিগ্রি নিতে একজন শিক্ষার্থীর ব্যয় হয় ১৮-২০ লাখ টাকা। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় ১৫ লাখ টাকার মতো। এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা অন্য পেশায় চলে গেলে স্বাস্থ্যসেবার মানের তো উন্নয়ন হবে-ই না উল্টো তাদের পেছনে ব্যয়িত অর্থ বৃথা যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়াকে 'স্বাভাবিক' বলছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসলেও তারা যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছেন না। এ কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা বিসিএস পাস করে যোগ দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে তার পদোন্নতি হতে থাকে। অথচ একজন চিকিৎসকের পোস্ট গ্রাজুয়েট না করলে পদোন্নতি হয় না। চার বছরের কোর্স শেষ করতে অনেক সময় আট থেকে দশ বছর লেগে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়ে সে অন্য ক্যাডার বেছে নিচ্ছে। মহাসচিব আরও বলেন, চিকিৎসকরা মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়ার পরও প্রশাসন ক্যাডারের অধীনস্থ হয়ে থাকতে হয়। এটি তাদের জন্য অমর্যাদাপূর্ণ। এ কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সম্মানজনক পেশা বেছে নিচ্ছেন। একজন উপসচিব হয়ে যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ৩০ বছর পর একজন চিকিৎসক অধ্যাপক হয়ে সে সুযোগ-সুবিধা পান না। এছাড়া বর্তমান করোনা মহামারির কারণে অনেকে এ পেশা থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই চিন্তা করার সময় এসেছে। সরকার যদি এটাকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে ভবিষ্যতে নিম্ন গ্রেডের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা পেশায় আসবেন। এতে দেশের মানুষ ভালো চিকিৎসক থেকে বঞ্চিত হবেন।

করোনায় সারাবিশ্বে রেমিটেন্স কমবে ২০ শতাংশ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় বিশ্বব্যাপী রেমিটেন্স কমে যাবে ২০ শতাংশ। ২০২০ সালে রেমিটেন্স আনুমানিক ৫৭৩ ডলারে নেমে আসতে পারে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭১৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গুগলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিইডব্লিউ রিসার্চ সেন্টার এই পূর্বাভাস দিয়েছে।রেমিটেন্স প্রেরণকারী প্রধান দেশগুলোতে করোনার প্রাদুর্ভাবে চাকরি হারানোর কারণে বাংলাদেশেও রেমিটেন্স কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেশে আসার প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রেমিটেন্স কমে যাওয়া আমাদের দেশের জনগণ ও অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। পিইডব্লিউ’র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে যে ১০টি দেশের প্রবাসীরা ৬১ শতাংশ রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল করোনার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় গড়ে ১০ দিন পর পর সেই দেশগুলোর শ্রমিকদের চলাফেরা অনেক বেশি হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ রেমিটেন্স প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ কমেছে ২৯ শতাংশ, সৌদি আরবে ৩২ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৪১ শতাংশ, কানাডায় ৩৬ শতাংশ, জার্মানিতে ২৫ শতাংশ, ফ্রান্সে ৪৩ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ শতাংশ এবং ইতালিতে ৪৫ শতাংশ কাজ কমে গেছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও ফেডারেশনের ঢাকা নগর কমিটি গঠিত

“বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও ফেডারেশনের ঢাকা নগর কমিটি গঠিত। জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে পর্যটন খাতের অবদানের স্বীকৃতি, করোনায় কর্মহীন পর্যটন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বাসনে প্রণোদনা প্রদান, ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে সেগুন বাগীচাস্ত ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর আহবায়ক মোহা: রাশেদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভা থেকে মো: রাশেদুর রহমান কে আহবায়ক, আহসান হাবিব সেফ, ফারহানা ইয়াসমিন, মো: শামীম আহমেদ, সাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, শরিফ আহমেদ, মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, খালেকুজ্জামান লিপন, মো: ইকবাল হোসেন কে যুগ্ম আহবায়ক এবং আহসান হাবিব বুলবুল কে সদস্য সচিব এবং ২০ জন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ৩১ সদস্যের “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটি এবং মুরাদ দেওয়ান সেফ কে আহবায়ক, রবিউল আউয়াল শেফ, মো: সালামত উল্লাহ, আরাফাত রুবেল, উমর ফারুক, আরিফ খান, নাজমুল ইসলাম, মো; সাজ্জাদ কে যুগ্ম আহবায়ক, খালেকুজ্জামান লিপন কে সদস্য সচিব ও ১২ জন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ২১ সদস্যের “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর ঢাকা নগর কমিটি গঠিত হয়।