পশুর হাটে গেলে মেনে চলুন ৭ স্বাস্থ্যবিধি

ছবি সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এই সময়ে এসেছে ঈদুল আজহা। এই ঈদে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মানুষ পশু কোরবানি করে থাকেন। আর কোরবানির পশু সাধারণ হাট থেকেই কিনতে হয়।

অনলাইনে পশু বেচাবিক্রি হলেও এখন পশু কেনার জন্য হাটে যাচ্ছেন অনেকেই। সাধ ও সাধ্যের ভারসাম্য রাখতে কিছু মানুষ চাইলেও পশুর হাটে যাওয়া এড়াতে পারছেন না। তবে হাট থেকে আপনার করোনা সংক্রমণ হতে পারে।

পশুর হাট থেকে যেহেতু করোনা সংক্রমণ হতে পারে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

আসুন জেনে নিই যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন–

১. কোরবানির হাটে করোনা সংক্রমণ রোধ সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে মাস্ক। সার্জিক্যাল মাস্ক ও তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক পরতে পারেন। ভালো মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণ এড়ানো যায়।

২. এমন মাস্ক পরবেন যা নাকের ওপর থেকে চোয়ালের নিচের অংশ পর্যন্ত যেন ভালোভাবে আটকে থাকে। কোনো অবস্থাতেই মাস্ক মুখ থেকে খুলে থুতনি ও কানে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।

৩. অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তাই যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন।

৪. গবাদিপশুর গায়ে এই ভাইরাস লেগে থাকবে এমন নয়। তবে গায়ে হাত দেয়ার সময় ‘হ্যান্ড গ্লাভস’ ব্যবহার করবেন। বাড়ি থেকে সাবান ও পানির বোতল নিয়ে যেতে পারেন। পশু স্পর্শ করার পর হাত ধুয়ে নিন।

৫. পিপিই পরে হাটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে আপনি গরমে অসু্স্থ হয়ে যেতে পারেন। তবে পা বাঁচাতে গামবুট পরতে পারেন।

৬. হাট থেকে ফিরেই হাত সাবানপানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গায়ের পোশাক, জুতা এবং নিজেকে জীবাণুমুক্ত করুন।

৭. কোরবানির পশুটিকে সাবান কিংবা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হবে।

সুখবর! মেয়াদউত্তীর্ণ ভিসার মেয়াদ ৩ মাস বাড়ালো সৌদি আরব

অভিবাসীদের মেয়াদউত্তীর্ণ ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ সোমবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। সবাই বিনামূল্যে ভিসা নবায়ন করার সুযোগ পাবেন।
সৌদি পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনার কারণে সব ফ্লাইট বাতিল করার পর সৌদি আরবে অনেক অভিবাসী ফিরতে পারেনি।
এসময় তাদের এক্সিট ও রি-এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। এখন তারা ফিরতে পারছে না। তাদের সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মার্চে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সৌদি প্রশাসন সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়।
যার কারণে ছুটিতে যাওয়া অভিবাসীরা আটকে যায়।

সংক্রমণ কমে আসায় মে মাসের শেষ দিকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তা জুনের শেষ দিকে কার্যকর করা হয়।
দেশটিতে গত ৩১ মে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়ে এখনো সরকার থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

জুনের মাঝামাঝি সৌদি বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করার বিষয়ে তারা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রাখছে।
কিন্তু গত সপ্তাহে এক ঘোষণায় তারা জানায়, ফ্লাইট চালু করার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৪ জনের সংক্রমণ হয়েছে।
সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯৩৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ জনের।

আনুষ্ঠানিকতা শুরু, কাল পবিত্র হজ

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ বুধবার। আর আগামীকল বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ। দীর্ঘ ৯০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজে অংশ নিতে পারছেন না কেউ। করোনাভাইরাসের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মাত্র ১০ হাজার হজযাত্রীর পদচারণায় মিনার মাঠে শুরু পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা পবিত্র মক্কা নগরী থেকে পাড়ি জমান মিনায়। মিনার খিমায় (তাঁবু) তাদের সবাইকে একত্রে কাটাতে হবে। আজ সারা দিনে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ শেষে তারা মিনা থেকে যাবেন আরাফাতের ময়দানে। আরফার ময়দানই হল হজের মূল কার্যক্রম। এবারের হজে হাজীদের সব খরচ দিচ্ছে সৌদি আরব সরকার। হজের দ্বিতীয় দিন আরাফাত ময়দানের খুতবা বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনূদিত হবে।

চলতি বছরের হজ হবে প্রযুক্তি নির্ভর

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করে থাকে লাখ লাখ মুসলমান। কিন্তু চলতি বছরের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। অথচ মঙ্গলবার কাবাচত্বরে ছিলেন না কোনো হাজি। কেবল পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শেষ মুহূর্তের ধোয়ামোছার কাজ করছিলেন।

গত বছর হজ করেছিলেন ২৫ লাখ মুসলমান। করোনার কারণে চলতি বছর হজের অনুমতি পেয়েছেন এক থেকে ১০ হাজার ব্যক্তি।
তাও এর কেউ বিদেশি নন, সবাই সৌদির বাসিন্দা। এই স্বল্প সংখ্যক হাজিকে বারবার করোনা শনাক্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
হজ চলাকালে মক্কার হোটেলগুলোতে তারা থাকবেন আইসোলেশনে।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমর আল মাদ্দাহ জানান, হাজিদের জন্য থার্মাল স্ক্যানার বসানো ও ইলেকট্রনিক পরিচয় পত্রের মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুরো হজপ্রক্রিয়া শেষ করতে প্রযুক্তিই আমাদের কালো ঘোড়া।
করোনা সংক্রমণের কোনো ঘটনা এবং এতে মৃত্যু ছাড়াই যাতে হজ শেষ হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

মক্কায় প্রবেশের আগেই হাজিদের হাতে পরার জন্য ব্যান্ড সরবরাহ করেছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এই ব্যান্ডের মাধ্যমে হাজিদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ এবং বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকা নজরদারি করা যাবে।
হাজিদের শারীরিক তাপমাত্রা পরীক্ষার জন্য কাবাঘরের আশেপাশের সব জায়গায় থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে।

এবার হাজিদের ২০ জনের গ্রুপ করা হয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য দলনেতা হাজিদের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ে যাবেন।
কোথাও যাতে ভিড় না হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হজের ফরজ আহকামগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আরাফার ময়দানে অবস্থান। আরাফায় হাজিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে উচ্চপ্রযুক্তির পরিচয় পত্র সরবরাহ করা হয়েছে।
অ্যাপসের মাধ্যমে এই পরিচয় পত্রটির সঙ্গে হাজিদের ফোনে সংযোগ থাকবে।
অ্যাপস ও পরিচয় পত্রের মাধ্যমে দলছুট হাজিকে শনাক্ত করে তার দলের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যাবে এবং হাজির কোনো বিশেষ খাবারের চাহিদা থাকলে সেই অনুরোধও করা যাবে। এই কার্ডে হাজিদের ব্যক্তিগত তথ্য, স্বাস্থ্যের অবস্থা, আবাসস্থান ও অন্যান্য তথ্য থাকবে।

হাজিদের ইহরামের কাপড়ে সিলভার ন্যানো টেকনোলজি যুক্ত করা হয়েছে। এটি কাপড়ের ব্যাক্টেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করবে এবং কাপড়কে পানিনিরোধক করবে।

হজ করতে এক জন মুসলমানকে কয়েক হাজার ডলার ব্যয় করতে হয়। তবে এবার হাজিদের খাবার, আবাসন, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবার পুরো খরচ দিচ্ছে সৌদি সরকার।

রিসোর্ট ব্যবসায় ধস

করোনা মহামারীতে লোকসান গুনছে গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট।
এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন ২৫ হাজারের বেশি কর্মী। আয় না থাকলেও বর্তমানে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে রিসোর্টগুলোর।
উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে।
কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চান তাঁরা।

গত মার্চ ও এপ্রিলে গাজীপুরের রাজাবাড়ী এলাকার সারাহ রিসোর্টে বুকিং ছিল দেড় কোটি টাকার বেশি।
দেশে করোনা সংক্রমণের পর একের পর এক বুকিং বাতিল হতে থাকে।
সরকারি সিদ্ধান্তে গত ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ আছে ২০০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বড় রিসোর্টটি।
এতে ওই দুই মাসে রিসোর্টটির আর্থিক ক্ষতি হয় কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকা।
তবে বন্ধ থাকলেও একাধিক সুইমিংপুল, জিম, খেলাধুলার হরেক রকমের মাঠ, শিশু কর্নার, বোটিং ইত্যাদিসহ আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠা রিসোর্টটির কর্মীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা।

দুরবস্থার এ চিত্র শুধু সারাহ রিসোর্টের নয়, করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট।
সারাহ রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিল আমাদের ভরা মৌসুম।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং ছিল। চীনে করোনার প্রভাব বিস্তারের পর এর ঢেউ আমাদের দেশেও এসে পড়ে।
বিদেশিরা আসতে না পারায় মার্চের শুরু থেকেই বুকিং বাতিল হতে থাকে। কমতে থাকে দেশীয় অতিথিদের সংখ্যাও।
রিসোর্ট বন্ধ থাকায় শুধু ওই দুই মাসেই আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

৩২ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি বিশ্ব পর্যটন খাতে

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসেবে গত জানুয়ারী এবং মে মাসের মধ্যে বিশ্বের পর্যটন খাতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি ডলার বেশির।
এক রিপোর্টে সংস্থাটি বলেছে, ২০০৯ সালের বিশ্ব আর্থিক সংকটের সময় যতটা ক্ষতি হয়েছিল, এই ক্ষতি তার তিনগুণ।

এই কয়েক মাসে পর্যটকের সংখ্যা কমেছে ৩০ কোটি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৫৬ শতাংশ কম।

বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল যুরাব পোলোলিকাশভিলি বলেছেন, পর্যটনে এই নাটকীয় ধস লাখ লাখ মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

৩০ জুলাই হজ, আইসোলেশনের মধ্যে ‘হাজিরা’

সৌদিতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ৩০ দিন পূর্ণ হবে জিলকদ মাস। সে হিসেবে আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।
৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে কুরবানি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ১৯ জুলাই থেকে হজে অংশগ্রহণকারীদের আইসোলেশনের মাধ্যমে এবারের হজের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। খবর আল-আরাবিয়া ডটনেট।

এক টুইটে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী এবার বিশেষ শর্তে মুসল্লিদের হজ পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
হজ শুরুর আগে হজে অংশগ্রহণকারী প্রটোকল অনুযায়ী ৭ দিনের আইসোলেশনে রয়েছেন।

করোনার সংক্রমণের কারণে গত ২২ জুন এক ঘোষণায় সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটি বসবাসকারী সব দেশের নাগরিকদের এবারের হজে সীমিত আকারে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে।

হজ ইসলামের পাঁটি স্তম্ভের অন্যতম একটি। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ ইবাদত।
প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২৫ লাখ লোক হজে অংশগ্রহণ করতো।
প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে মাত্র ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের হজ।
গত ১০-১৫ জুলাই ইলেক্ট্রনিক আবেদন প্রক্রিয়ায় ১৬০ দেশের নাগরিকদের এবারের হজে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করা হয়েছে।

মহামারি করোনা ভাইরাস যেন হজের সময় কারও মধ্যে না ছড়ায় সে লক্ষ্যে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি সরকার।
পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি বিনা অনুমতিতে মক্কা ও এর আশপাশের এলাকায় প্রবেশের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
যারা ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে হজের রোকন অঞ্চলে প্রবেশ করবে তাদের জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
একাধিকবার প্রবেশ করলে এ জরিমানা দ্বিগুণ হবেও বলে জানিয়েছেন দেশটির দায়িত্বশীল প্রশাসন।

উল্লেখ্য যে, ৩০ জুলাই হজ সম্পন্নের প্রস্তুতিতে আগামী ২৯ জুলাই ইহরাম বেধে জোহরের আগেই মিনায় পৌঁছতে হবে হাজিদের। তার আগে সব হাজিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৭ দিন আইসোলেশন করতে হবে। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৯ জুলাই থেকে আইসোলেশনের মাধ্যমে হজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জমে ওঠেনি হাট, লোকসানের শঙ্কা

0করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার রাজধানীর পশুর হাটে ক্রেতা অনেক কম। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গতকাল থেকে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গরু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসা ১৭টি পশুর হাট এখনো জমে ওঠেনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যবারের তুলনায় হাটে এবার ক্রেতা অনেক কম। এই অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ক্রেতাশূন্য হাটেও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বেশির ভাগ মানুষ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এ বছর ছয়টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে গাবতলীর হাটটি স্থায়ী। বাকি পাঁচটি অস্থায়ী। সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার থেকে হাটে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল উত্তরের চারটি হাটে গিয়ে ক্রেতার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা দেখা যায়নি।

গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, শুয়ে-বসে, গল্প-আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন পশু ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তাতে গরজ নেই অনেকের। হাটে আসা ক্রেতাদের মুখে মাস্ক থাকলেও ব্যবসায়ীদের মুখ খালি। অনেক ব্যবসায়ীর মাস্ক আবার নাক ও মুখের বদলে থুতনিতে ঝুলছে। হাসিল নেওয়ার নির্ধারিত ঘরের সামনে ভিড় হতে দেখা গেল। হাটের মূল প্রবেশপথের পাশে যে স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটা অব্যবহৃত পড়ে ছিল।

জামালপুরের জাকারিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম গাবতলীর হাটে ৮১টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছে। একেকটির দাম হাঁকা হচ্ছে আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা। গতকাল পর্যন্ত তাঁদের মাত্র দুটি গরু পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, হাটে ক্রেতাই নেই। অনেকে দাম জানতে চায়, কিন্তু কোনো দরদাম করে না। দাম শুনেই চলে যায়।

যশোরের মনিরামপুর থেকে ১৫টি অস্ট্রেলিয়ান সংকর জাতের ষাঁড় নিয়ে গাবতলীতে এসেছেন ব্যবসায়ী আসমত আলী। তাঁর খামারে পালন করা ৩৩ মণ ওজনের একটি গরুর দাম চাইছেন ১২ লাখ টাকা। ওই গরুর দাম ৫ লাখ টাকা উঠেছে বলে জানান তিনি।

উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ ভবন পর্যন্ত খালি জায়গায় বসা হাটে গিয়ে কাউকে স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি। মাইকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েই দায় সারছেন ইজারাদারের লোকজন। উত্তরের এই হাটেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

হাট ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন, হাটের প্রবেশপথে বাধ্যতামূলক হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও ডিএনসিসির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজ–সংলগ্ন মস্তুল-ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশের হাটটিতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ৩০০ ফুট সড়কের পাশে খালি জায়গার ওই হাটে একাধিক জায়গা দিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ রয়েছে। ওই হাটে গিয়েও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

এই হাটে চারটি গরু নিয়ে পাবনা থেকে এসেছেন খামারি শিবলী খান। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা তো ছিল একেকটা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বেচব। আগের বছরেও এমন দামেই আমি বিক্রি করেছি। কিন্তু করোনার কারণে এবারে ওই দাম পাব না।’

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল দুপুরে ভাটারা-সাইদ নগরের হাট পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আমরা শহরের বাইরে হাট বসানোর জন্য চেষ্টা করেছি। হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, সেটা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে তৈরি করা একটি মনিটরিং টিম পর্যবেক্ষণ করছে। একটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালতও আছে। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এবার ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ একটি। এই হাটে ছয়টি গরু নিয়ে গত তিন দিন ক্রেতার অপেক্ষায় আছেন ফরিদপুরের ব্যাপারী জহিরুল ইসলাম। ক্রেতাসংকটের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় একটি গরুও তিনি বিক্রি করতে পারেননি।

রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে জহিরুলের মতো আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বেচাবিক্রি পরিস্থিতি জানতে চাইলে তাঁরা একই সুরে কথা বললেন। মোতালেব হোসেন নামের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আরেক ব্যাপারী অনেকটা আক্ষেপ করেই বললেন, লাভের আশা তিনি এবার করছেন না। কারণ, করোনার কারণে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম। ন্যূনতম লাভ হলেই গরু ছেড়ে দেবেন।

গতকাল বেলা দুইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতে গরুর হাটের প্রবেশমুখে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে গরু নিয়ে ব্যাপারীরা বিপাকে পড়েছেন। আবার মাঠে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই। আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকেই গরু দেখতে হাটে গেছেন। ইচ্ছুক জনতার মধ্যে যাঁরাই হাটে আসছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই।

বিকেল সাড়ে চারটায় ডিএসসিসির আরেক অস্থায়ী হাট উত্তর শাহজাহানপুরের মৈত্রী সংঘের মাঠে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। হাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা জানালেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কেনাবেচার প্রথম দিনে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাত্র ১২টি গরু বিক্রি হয়েছে। হাসিল আদায়ের অফিসে দায়িত্বরত হাকিম নামের একজন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার হাটে গরু কম এসেছে। বেচাবিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ।

উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠের আশপাশের খালি জায়গায় দরপত্র আহ্বানের পর থেকেই সেখানকার বাসিন্দারা হাট না বসানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে কেনাবেচা শুরু হলেও কলোনির বাসিন্দারা বলছেন, ছয় দিন আগে থেকেই সেখানে পশু রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এলাকায় পশুর হাট বসানোর কারণে তাঁরা বেশ বিপাকে পড়েছেন।

কোরবানির পশুর হাটগুলোর দেখভালের দায়িত্ব পালন করে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ। স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বাসাবাড়ির আঙিনায় গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন  বলেন, যারা ইজারার শর্ত ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল থেকে প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

করোনায় ১৪ লাখ প্রবাসী হারিয়েছেন কাজ

করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ প্রবাসী আয়ে ধাক্কা লেগেছে। সামনের দিনগুলোতে যা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন  দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা।

সংকট মোকাবিলায় আসছে বাজেটে প্রবাসী-কল্যাণে বরাদ্দ বাড়াতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন অভিবাসন খাতের গবেষকরা। প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠকরা বলছেন, সরকারকে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যোগ্য প্রতিনিধি নিয়োগ, গবেষণা জোরদারসহ বিশেষ পরিকল্পনাও হাতে নিতে হবে ।

এক কোটি বাংলাদেশি শ্রমিক দেড় শতাধিক দেশের শ্রমবাজারে প্রায় নিরলশ ভাবে কাজ করছেন। যাদের অবদান জিডিপিতে ১২ শতাংশ। এই অবদান মজবুত করেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে। করোনা মহামারীতেও প্রবাসী শ্রমিকের অবদানে রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপে বিপর্যস্ত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেই সিংহভাগ প্রবাসী কাজ করে, যেখানে জ্বালানি তেলের দাম কমা, পর্যটনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই পড়েছে করোনার থাবা। অন্যান্য দেশেও লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিনের কর্মবিরতি চলছে।

করোনা পরিস্তিতে এরই মধ্যে কাজ হারিয়ে এক লাখের বেশি শ্রমিক দেশে ফিরেছে বলেও জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সেইসাথে ছুটিতে আসা কয়েক লাখ শ্রমিক ফিরতে পারেননি কাজে। সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকটি উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে করোনার প্রভাবে বেকার হয়েছেন ১৪ লাখ প্রবাসী শ্রমিক। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা আছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘোষণা হতে যাওয়া বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন সংগঠক এম এস সেকিল চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমাদের মিশনগুলোতে সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে হবে। প্রবাসীদের নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা দেশে হয়নি। এটার খুব দরকার রয়েছে।

সরকার গতবছর প্রথমবারের মত প্রবাসীদের রেমিটেন্সে নগদ ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে । বরাদ্দ রাখা হয় ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা। যা বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন গবেষক তাসনিম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী এ বছর আমাদের রেমিটেন্স কমে যাবে প্রায় ২২ শতাংশ। এটা মাথায় রেখেই এবারের বাজেট দিতে হবে। প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে কমপক্ষে ৪ শতাংশ প্রণোদনা দেবার দাবি জানাচ্ছি।

চলতি অর্থবছর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রনালয় ২১ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স প্রত্যাশা করেছিলো, এখন পর্যন্ত ১১ মাসে এসেছে, ১৬৩৫ কোটি ডলার।

করোনা আক্রান্ত যাত্রীদের চিকিৎসার দায় নেবে এমিরেটস এয়ারলাইন্স

কোন যাত্রী করোনায় আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা এবং কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যয়ভার বহন করবে এমিরেটস।
দুবাইভিত্তিক এই এয়ারলাইন্স বিশ্বের প্রথম কোনো বিমান সংস্থা যারা যাত্রীদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

এমিরেটসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিমানের সব ধরনের যাত্রীরাই এই সুবিধা পাবেন।
আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এমিরেটসের বিমানে যাত্রার পর কোনো যাত্রী করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসার খরচ বাবদ প্রতি যাত্রীকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার দেওয়া হবে।

আক্রান্ত যাত্রীকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হলে তাকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ ডলার করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ চিকিৎসা খরচ এবং কোয়ারেন্টাইনের পুরো খরচই বহন করবে এমিরেটস।

এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আহমেদ বিন সায়েদ আল মাকতুম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যাত্রীদের করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এমিরেটস।