করোনাভাইরাস: চা, কফি বা গরম পানি খেয়ে কি ভাইরাস দূর করা যায়?

এক কাপ গরম পানীয় হয়তো কিছুটা স্বস্তি বা আরামবোধ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ঠাণ্ডা একটা দিনে।

হয়তো বিক্ষিপ্ত মনকে কিছুটা ঠাণ্ডা করতে পারে, অন্য মানুষজনের কাছাকাছি অনুভব করার বোধ তৈরি করতে পারে।

কিন্তু করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর মতো কঠিন সময়ে কি এটি কোন সহায়তা করতে পারে?

সামাজিক মাধ্যম এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ বার্তাগুলোয় এখন এ ধরণের অনেক দাবি, পরামর্শ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব ভুয়া বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে এগুলো তারই অন্যতম।

একটিতে দাবি করা হয় যে, গরম পানি পান করলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যেতে পারে।

করোনায় প্রবাসীদের নিয়ে তিন সংকটে বাংলাদেশ

করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত আসা প্রবাসীর সংখ্যা হতে পারে সাত লাখ৷ এরা প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যসহ আরো কয়েকটি দেশে কাজ করেন৷ আর তাদের নিয়ে যে সংকট হতে পারে তার জন্য কী প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ?

 

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৯ হাজার প্রবাসীকে ফেরত পাঠানো হবে৷ করোনার ঠিক আগে এবং করোনার মধ্যে আরো দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরো প্রায় চার-পাঁচ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিকে ফেরত আসতে হতে পারে৷ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওর সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে৷

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে তাদের ধাপে ধাপে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হচেছ৷

কুয়েত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে ৷ যারা এর আওতায় নিবন্ধন করেছে তাদের সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশিকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে৷ তাদের ফেরত পাঠানো হবে৷ সৌদি আরব থেকে চার হাজার ২৬২ জন, ওমান থেকে এক হাজার, মালদ্বীপ থেকে চারশ’ প্রবাসীকে ফেরত পাঠানো হবে৷ এছাড়া জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও ফেরত পাঠানো হবে৷

করোনার মাঝেও শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই মধ্যেপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে দেশে ফিরেছেন এক হাজার ৫০৩ জন বাংলাদেশি৷ আর চলতি মাসের ১১ মে পর্যন্ত ফিরেছেন ৬৭৩ বাংলাদেশি৷

আর এপর্যন্ত বিশ্বের ১৭ টি দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি৷ মারা গেছেন ৫৮৬ জন৷ তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০ জন, যুক্তরাজ্যে ২০০ , সৌদি আরবে ৭৬ , কুয়েতে ১৭, ইটালিতে আট, কানাডায় সাত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছয়, ফ্রান্স ও স্পেনে পাঁচ জন করে, কাতারে চার , সুইডেনে দুই, মালদ্বীপ, পর্তুগাল, কেনিয়া, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও গাম্বিয়ায় এক জন করে বাংলাদেশি মারা গেছেন৷

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরীফুল হাসান জানান জানান,‘‘আমাদের যে এক কোটি প্রবাসী আছেন তাদের ৭৫ ভাগই আছেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে৷ আর তারা মূলত শ্রমজীবী মানুষ৷ সেখানে শতকরা দুই ভাগের মত প্রবাসীর স্থায়ী কোনো কাজ আছে৷ বাকিদের কোনো স্থায়ী কাজ নেই৷ শুধুমাত্র সৌদি আরবেই তিন লাখ প্রবাসী আছেন ফ্রি ভিসায়৷

আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তাতে এখন তাদের অধিকাংই কাজ হারিয়েছেন৷ তারা খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে আছেন৷’’

তিনি এই করেনার কারণে বাংলাদের সামনে তিনটি সংকট দেখতে পাচ্ছেন৷ সেগুলো হলো বিপূল সংখক প্রবাসীর চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা, তাদের কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী আয় কমে অর্থনীতির ওপর চাপ৷

তিনি জানান, ‘‘প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় গড়ে ৫০ হাজার লোক বিদেশে কাজ নিয়ে যেতেন৷ গত তিন মাস ধরে তা বন্ধ আছে৷ করোনা যদি আরো তিন মাস থাকে তাহলে তিন লাখ লোকের কর্মস্থান বন্ধ হয়ে যাবে৷ করোনা শুরুর আগেই দুই লাখ প্রবাসী ছুটিতে এসেছেন৷ তারা যেতে পারেননি৷ আর কখনো যেতে পারবেন কিনা তাও অনিশ্চিত৷ করোনার মধ্যেও প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে৷ আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আরো তিন-চার লাখ প্রবাসীকে ফেরত পাঠানো হতে পারে৷ শেষ পর্যন্ত মোট সংখ্যাটি সাত লাখ হতে পারে৷’’

তিনি জানান, ‘‘প্রবাসী আয় কমতে শুরু করেছে৷ প্রবাসীরা গড়ে ১৫০-১৬০ কোটি ডলার দেশে পাঠান ৷ কিন্তু মার্চে তা ১২৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে৷ এপ্রিলে ১০৮ কোটি ডলার যা গত তিন বছরে সর্বনিম্ন৷’’

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামসুল আলম জানান, নানা ধরনের সংকট তো তৈরি হচ্ছে৷ প্রতিদিন কমপক্ষে তিন হাজার বাংলাদেশি বিদেশে যেতেন কাজ করতে৷ তারা যেতে পারছেন না৷ আবার যাদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে তারাও আসতে পারছেন না৷ যারা ছুটিতে এসেছেন করোনার আগে তারাও যেতে পারেননি৷

সেই কর্মকর্তা জানান, ‘‘অবশ্য কত প্রবাসী এখন বিপদে আছেন এবং কতজন চাকরি বা কাজ হারিয়েছেন তা বলা কঠিন৷ কারণ সমস্যাটা পুরো দুনিয়ার৷ যারা সৌদি আরবসহ বিভন্ন দেশে ছোট খাট ব্যবসা, দোকানপাট চালাতেন বা অস্থায়ী কাজ করতেন তাদের এখন আর কোনো কাজ নেই৷৷ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসী যারা অসহায় অবস্থায় আছেন তাদের সহায়তা কর হচ্ছে যতদূর সম্ভব৷ আর এরইমধ্যে মোট ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যারা চাকরি হারিয়েছেন, যাদের কাজ নেই তাদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য৷ আর আমরা ওইসব দেশকেও অনুরোধ জানিয়েছি যে তারা যেন আমাদের নাগরিকদের দেখেন৷’’

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং যারা ফিরে আসবেন তারা যাতে দেশে কিছু করে খেতে পারেন এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তারা শতকরা চার ভাগ সুদে এই ঋণ পাবেন৷
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এর আগে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যেসব দেশে আমাদের প্রবাসীরা আছেন তাদের সহায়তার জন্য ওইসব দেশকে আমরা অনুরোধ করেছি৷ তাদের সহায়তায় তারা কোনো উদ্যোগ নিলে আমরা পাশে থাকব৷’’

 

 

করোনায় সংকটে ট্রাভেল ব্যবসা

করোনাভাইরাস আতঙ্কে বদলে গেছে নিউইয়র্কের জনজীবন। আতঙ্কে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে গ্রোসারিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনির্দিষ্টকাল ঘরে কাটাতে হবে—এমন আশঙ্কায় পণ্যের মজুত করছেন অনেকে। তবে এখন বিলাসি বা অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় কারও আগ্রহ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে অনেক ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এতে বিপর্যয় নেমে এসেছে অর্থনীতিতে। করোনা–আতঙ্কে মানুষ ঘোরাফেরাও বন্ধ করে দিয়েছে। যাত্রী সংকটে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে

উড়োজাহাজ চলাচল কমে গেছে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এতে ধাক্কা লেগেছে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ব্যবসায়। যাত্রী না থাকায় তাদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এই ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এর সঙ্গে জড়িতরা।

উত্তর আমেরিকাকে ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায় জড়িত কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন বলেন, পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে, তারা বুঝতে পারছেন না। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যবসায় চরম বিপর্যয় নেমে আসবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।

জননী ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও কামরুজ্জামান বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাস আতঙ্ক শুরুর আগে প্রতিদিন ২০/২৫টি বুকিংয়ের কল আসত। এখন কল আসছে আগে বুকিং দেওয়া টিকিটের ক্যানসেল বা বাতিল করার জন্য। অনেকেই টিকিটের রিফান্ড চাচ্ছেন। এসব রিফান্ড ইস্যু করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।’

কামরুজ্জামান বলেন, হোলসেলার কোম্পানির কাছ থেকে তারা টিকিট নিয়ে এসেছেন। এখন টিকিটের রিফান্ড করতে গিয়ে তাদের ফি ও মাশুল গুনতে হচ্ছে। গ্রাহক চাচ্ছেন ফুল রিফান্ড। একে তো কোনো নতুন বুকিং নেই, তার ওপর এখন এসব ঝুট–ঝামেলা সামাল দিতে হচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিকে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই অচলাবস্থা আর কিছুদিন চললে অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। অনেকেই চাকরি হারাবেন।

কর্ণফুলী ট্রাভেল ইনকের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সেলিম হারুন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসায় জড়িত। তিনিও বললেন একই কথা। সেলিম বলেন, বছরের এই সময়ে ব্যবসা চাঙা থাকে। প্রচুর মানুষ নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। এবার করোনার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকেই ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করেছে। সামার ভ্যাকেশন, হজ মৌসুমসহ ভ্রমণ বাণিজ্যের তুঙ্গের এই সময়ে এমন মন্দাবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করলেন তিনি।

লিম বলেন, প্রতি বছর নিউইয়র্ক থেকে ১০–১৫ হাজার মানুষ পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান। এবারে তা হচ্ছে না। একের পর দেশের সঙ্গে বিমান সংযোগ বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসায়ী জীবনে এমন সংকটের অভিজ্ঞতা কারও আছে বলে জানা নেই। আর কিছুদিন এমন চললে ব্যবসাপাতি বন্ধ হয়ে পড়বে।রহমানিয়া ট্রাভেল সার্ভিসেসের প্রেসিডেন্ট এম কে রহমান মাহমুদ বলেন, করোনাভাইরাসের বিপর্যয়ের প্রথম ধাক্কা পড়েছে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির ওপর। নিউইয়র্কের কয়েক হাজার ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী এখন মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। একদিকে ভ্রমণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে আতঙ্কিত মানুষের ভ্রমণে অনাগ্রহ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে না। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই এখন চিন্তার বড় কারণ।

গ্লোবাল ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুদ্দিন ও রশিদ ট্রাভেলসের হারুন রশীদ একই আশঙ্কার কথা জানালেন। বললেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কমিউনিটিতে আমাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ রাখার। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কার্যত কিছুই করার নেই।’

তবে আশাবাদী এম কে রহমান। তাঁর বিশ্বাস, পরিস্থিতি যতই নাজুক হোক, এর অবসান ঘটবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই পরিস্থিতির জন্য সবাইকে মূল্য দিতে হবে। কিন্তু সেটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটিই দেখার বিষয়। তাঁর আশা, হজ মৌসুমের আগেই পরিস্থিতি ভালো হবে। আবার লোকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

করোনার উপসর্গ দেখা দিলে যেখানে যাবেন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে এমন আশঙ্কা হলে অনলাইনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফ্লু কর্ণারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে কিংবা ব্র্যাক ও জেকেজি পরিচালিত কিয়স্কে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসতে পারেন।

এর বাইরে ব্যয়বহুল বেসরকারি ১৩ টি প্রতিষ্ঠানকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে সরকার। হাসপাতালে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও হাসপাতাল প্রতিনিধি বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে, বেশিরভাগ হাসপাতালই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি আদায় করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেছেন, ৪৯ টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রধানত, বিএসএমএমইউ, ব্র্যাক ও জেকেজির কিয়স্কগুলোতে গিয়ে নমুনা দিতে হবে। কিছু কিছু সরকারি হাসপাতালও নমুনা নিয়ে থাকে।

পাঠকদের জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোর নাম দেওয়া হলো:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নমুনা দিতে হলে আগে থেকেই অনলাইনে সাক্ষাৎকার ফরম পূরণ করতে হবে। বিএসএমএমইউএর ওয়েবসাইটের ডানদিকে ফিভার ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ক্লিক করুন লেখা বাটনে চাপলেই পাওয়া যাবে সাক্ষাৎকার ফরমটি। যাঁরা এই ফরম পূরণ করবেন তাঁদের মুঠোফোন নম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট নম্বর ০১৫৫২১৪৬২০২ থেকে খুদে বার্তা পাঠানো হবে। এই খুদে বার্তা দেখালে পরীক্ষা করা যাবে।

বিএসএমএমইউএর ফিভার ক্লিনিক সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে ফোন করা যাবে ০১৪০৬৪২৬৪৪৩ এই নম্বরে।

ব্র্যাকের কিয়স্ক:

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক মোরশেদা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকার ৩৪ টি জায়গায় তাঁরা কিয়স্ক স্থাপন করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করে তাঁরা সরকার নির্ধারিত গবেষণাগারে পৌঁছে দেন।
দৈনিক এক একটি বুথ থেকে তাঁরা ত্রিশটি নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন। সক্ষমতা বেশি হলেও, গবেষণাগারের সক্ষমতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আপাতত এই সীমা ঠিক করে দিয়েছে। তবে কিয়স্কের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

ব্র্যাকের কেন্দ্রগুলো রয়েছে

সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল – মিরপুর ১৩
৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার – মিপুর ১৩
আনোয়ারা মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ – বাউনিয়া
উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ – উত্তরা
উত্তরা হাই স্কুল (ডিএনসিসি) – সেক্টর-৬, উত্তরা
১০ নং কমিউনিটি সেন্টার (ডিএনসিসি) – সেক্টর ৬, উত্তরা
উত্তরখান জেনারেল হাসপাতাল – উত্তরখান, ওয়ার্ড ৪৫
নবজাগরণ ক্লাব, জামতলা – ইসমাঈলদেওয়ান মহল্লা, আজিমপুর, দক্ষিণখান

পল্টন কমিউনটি সেন্টার – নয়াপল্টন, পল্টন থানার উল্টোদিকে
কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল – ১ ও ২ (শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদেও জন্য)
প্রেস ক্লাব – (তোপখানা)
৫০ নম্বর ওয়ার্ড যাত্রাবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার – শহীদ ফারুক সড়ক, জলাপাড়া, যাত্রাবাড়ি
সুইপার কলোনী, দয়াগঞ্জ বস্তি – যাত্রাবাড়ি
হাজী জুম্মন কমিউনিটি সেন্টার – নয়াবাজার মোড়, হাজী রশিদ লেন
বাসাবো কমিউনিটি সেন্টার – বাসাবো
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি – সেগুনবাগিচা
আমলিগোলা পার্ক ও কমিউনিটি সেন্টার – ধানমন্ডি
সূচনা কমিউনিটি সেন্টার – মোহাম্মদপুর
আসাদুজ্জামান খান কামাল কমিউনিটি সেন্টার (ডিএনসিসি) – মধুবাগ, মগবাজার
মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম চৌধুরী কমিউনিটি সেন্টার – কামরাঙ্গীরচর
শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল – টঙ্গি
উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স – সাভার
জেকেজি হেলথ কেয়ার:

পল্লীবন্ধু এরশাদ বিদ্যালয় – করাইল, বনানী
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল (শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদের জন্য)
সবুজবাগ সরকারি মহাবিদ্যালয়, বাসাবো , খিলগাঁও
খিলগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ , খিলগাঁও
তিতুমীর কলেজ
নারায়ণগঞ্জ

১. নারায়ণগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ
২. এম ডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয় , সিদ্ধিরগঞ্জ

মিটফোর্ড হাসপাতালে নমুনা দেওয়া যায়, বাকিগুলোয় সীমিত পরিসরে:
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ফ্লু কর্নার থেকে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক রাশিদুন নবী প্রথম আলোকে বলেন, গড়ে ১৪০ টি নমুনা তাঁরা পরীক্ষা করছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে বা উপসর্গ নিয়ে যারা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি আছেন কিংবা অন্যকোনো রোগে ভর্তি রোগীরা পরীক্ষা করাতে পারবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিরউদ্দীন। এর আগে বহির্বিভাগে আসা রোগীরা নমুনা দিয়ে যেতে পারতেন। এখন রোগীর চাপ বাড়ায় এ প্রক্রিয়া থেকে হাসপাতালকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
ও চাইল্ড হেলথ কেয়ার রিসার্চ ফউন্ডেশন ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঢাকার যেখানে নমুনা পরীক্ষা করা যাবে:

এভারকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা
প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ লিমিটেড, ঢাকা
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, ঢাকা
আনওয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হসপিটার, ঢাকা
এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকা
ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেড, ঢাকা
বায়োমেড ডায়াগনস্টিক, ঢাকা
ডিএমএফআর মলিকিউলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, ঢাকা
ল্যাব এইড হসপিটাল, ঢাকা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ হেলথ সায়েন্সেস জেনারেল হসপিটাল, ঢাকা
কেয়ার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

ঢাকার বাইরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা যাবে:

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রাফাতউল্লাহ কমিউনিটি হসপিটাল, বগুড়া
শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি (প্রাইভেট) লিমিটেড, চট্টগ্রাম
ঢাকার বাইরে যেসব জায়গায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, এখন সব হাসপাতালে ফ্লু কর্ণার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কোভিড-১৯ এর উপসর্গ আছে এমন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিগুলোতে পাঠানো যাবে।

অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী পরীক্ষা হচ্ছে:

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ
আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ , নোয়াখালি
নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, জামালপুর
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ
রংপুর মেডিকেল কলেজ
এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
খুলনা মেডিকেল কলেজ
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল
কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল

*এসব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগী বা বহির্বিভাগে আসা রোগীর নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর বাইরে, নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করা হচ্ছে কয়েকটি গবেষণাগারে। যেমন:

চিটাগাং ভেটেরেনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সে ইনস্টিটিউট
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়
গাজী কাভিড-১৯ পিসিআর ল্যাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

গবেষণাগারগুলো যেখানে:

মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর ল্যাবে পরীক্ষা হতে পারে। এর বাইরেও
নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হচ্ছে নিচের গবেষণাগারগুলোয়।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার
আইইডিসিআর
জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান
আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়
চাইল্ড হেলথ কেয়ার রিসার্চ ফউন্ডেশন ও ঢাকা শিশু হাসপাতাল
আর্মর্ড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি ও সিএমএইচ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
আইদেশি (বেসরকারি)
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান
মুগদা মেডিকেল কলেজ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

করোনার সঙ্গে যেভাবে মানিয়ে চলবেন

বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি জরুরি। মন তৈরি হলে যে কোনো কাজে মনোযোগ, মনোবল, ইতিবাচক চিন্তা করার ক্ষমতা সবই বাড়বে। করোনাভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি সর্বগ্রাসী আক্রমণ ঠেকাতে হলে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:

ধারণা করা হয়েছিল ঘরে থাকলে ও নিয়ম মানলে করোনা কাছে ঘেঁষতে পারবে না। সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে যাবে। কমবে মহামারীর প্রকোপ। আর বিজ্ঞানীদের গবেষণা তো চলছেই। ওষুধ বা টিকা কিছু একটা বেরলে সমস্যা মিটবে পুরোপুরি।

কিন্তু কোনোটাই হলো না। কিছু মানুষ লকডাউন মানলেন, কিছু মানলেন না, কেউ কেউ মানতে পারলেন না। ফলে সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধমুখী হচ্ছে ক্রমশ। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েই দিল, এবার ডেঙ্গু, এইডসের মতো ধীরে ধীরে অদৃশ্য এই শত্রুর সঙ্গে বসবাসের কৌশল শিখে নিন।
ভারতের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী বলেন, নিয়ম মানলে তো ভাল। কিন্তু যা হচ্ছে তা কোনো নিয়ম নয়। অবৈজ্ঞানিক সব ব্যাপার। এই যে গরমের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় গরম পানি খাচ্ছেন, চা খাচ্ছেন, কী এর কারণ? ভাইরাস মরবে? ভাইরাসকে মারতে গেলে পানির তাপমাত্রা যা হতে হবে, তাতে তো মানুষই মরে যাবে!

তিনি বলেন, কেউ আবার রোদে দাঁড়িয়ে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কারণ তাতে ভিটামিন ডি তৈরি হবে, করোনা পালাবে! ভিটামিন ডি দরকার। এখন বলে নয়, সব সময়েই দরকার। কিন্তু বাড়াবাড়ি করলে তো বিপদ। আসলে মানুষকে ভাল করে বোঝানো হচ্ছে না। স্রেফ বলে দেওয়া হচ্ছে এটা করো, ওটা করো। কেন করতে হবে, না করলে কী হবে তা না বুঝলে যা হয়। কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কেউ বাড়াবাড়ি করছেন। আর রোগ থেকে যাচ্ছে রোগের মতো। মহামারীর মোকাবেলা এভাবে হয় না।

তার পরামর্শ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। ট্রেনিং দিতে হবে। তারপর সবাই যখন বুঝবেন এই পথে চললে ভাল হবে, তারা নিজেরাই ঠিকঠাক নিয়ম মানবেন, চাপিয়ে দিতে হবে না।

জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেছেন, রোগ ঠেকানোর ৮০ শতাংশ চাবিকাঠি আছে হাত ধোওয়ার মধ্যে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাত ধুতে হবে। আপনি যদি এমন জায়গায় হাত দেন যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা আছে, যেমন গণপরিবহণে উঠলে, লিফটের বোতাম-দরজার হাতল বা সিঁড়ির রেলিং ধরলে, পাঁচ জন ব্যবহার করে এমন কিছুতে হাত দিলে, টাকা দেওয়া-নেওয়া করলে ইত্যাদি, সেই হাত নাকে-মুখে-চোখে বা অন্য কোথাও লাগার আগেই ভাল করে ধুয়ে নিতে হয়। ধুতে হয় খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে এসে। কাজেই বাইরে বেরনোর সময় সঙ্গে ছোট একটা সাবান ও ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল আছে এমন স্যানিটাইজার নিন। কিছু টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার রুমাল রাখুন। হাত ধোওয়ার সুযোগ থাকলে সাবান পানিতে হাত ধুয়ে নিন। না হলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। সাধারণ সাবান হলেই হবে। অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল সাবানের কোনো দরকার নেই। তার আলাদা কোনো ভূমিকা নেই। তা ছাড়া আপনার লড়াই তো ব্যাক্টিরিয়ার বিরুদ্ধে নয়, ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

• সাধারণ মানুষের গ্লাভস পরার দরকার নেই। নিয়ম মেনে না পরলে উল্টে বিপদের আশঙ্কা বেশি। তার চেয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া অনেক নিরাপদ।

• রাস্তায় বেরলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। অফিসেও পরে থাকবেন। কাপড়ের ট্রিপল লেয়ার মাস্ক সবচেয়ে ভাল। তবে গরমে অসুবিধে হলে ডাবল লেয়ারই পরুন। বেশ বড় মাপের। নাকের উপর থেকে চিবুকের নীচ ও কান পর্যন্ত গালের পুরোটাই ঢাকা থাকতে হবে। আপনার ৬ ফুটের মধ্যে কেউ যেন মাস্ক ছাড়া আসতে না পারে, সে দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি ফিরে সাবান পানিতে মাস্ক ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। বা যদি ৫টা মাস্ক থাকে ও আলাদা করে রাখার জায়গা থাকে, পর পর ৫ দিন আলাদা আলাদা মাস্ক পরে আবার ষষ্ঠ দিন আবার এক নম্বর মাস্ক দিয়ে শুরু করতে পারেন। রোগ ঠেকানোর ২০ শতাংশ দায়িত্ব আছে মাস্কের উপর।

• মাস্ক পরছেন বলে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবেন না, এমন যেন না হয়। ৬ ফুটের বেশি দূরত্ব রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল। নয়তো কম করে ৩ ফুট।

• চোখে চশমা থাকলে আর কোনো সাবধানতা লাগবে না। না থাকলে রোদচশমা পরেন। কারণ চোখ দিয়েও কিন্তু জীবাণু ঢুকতে পারে।

• বড় চুল হলে চুল ভাল করে বেঁধে স্কার্ফ বা ওড়নায় মাথা ঢেকে নেবেন। কারণ বাসে-ট্রামে খোলা চুল অন্যের নাকে-মুখে উড়ে লাগতে পারে। তাদের রোগ আছে কি না তাতো জানেন না। সেই চুল আপনার নাকে-মুখে লাগলে বিপদ হতে পারে। তা ছাড়া বড় চুলে রোজ শ্যাম্পুও করা যায় না। বিপদ বাড়ে তা থেকে।

• নিয়মিত ধোওয়া যায় এমন স্যান্ডেল বা জুতো পরে বেরবেন।

• গয়নাগাটি পরে বের হবেন না। কারণ ধাতুর উপর প্রায় পাঁচ দিন থেকে যেতে পারে জীবাণু। ঘড়ি পরারও দরকার নেই।

• অফিসে নিজস্ব কাপ রেখে দেবেন। সাবান-পানিতে ধুয়ে সেই কাপে চা বা কফি খাবেন।

• বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যাবেন। নয়তো খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয় এমন ফল খাবেন। প্যাকেটের বিস্কুট বা বাদাম খেতে পারেন মাঝেমধ্যে। প্যাকেট খুলে পরিষ্কার করে ধোওয়া পাত্রে ঢেলে তারপর হাত ধুয়ে খাবেন।

• রাস্তার কিছু খাওয়া এ সময় ঠিক নয়। বড় রেস্তরাঁয় যদি সব নিয়ম মেনে খাবার বানানো হয়, এক-আধ বার খেতে পারেন। তবে সে সবও যত এড়িয়ে যেতে পারবেন তত ভাল। খাবার বাড়িতে এনে গরম করে খেলে অবশ্য অসুবিধে নেই।

• জুতো বাইরে খুলে ঘরে ঢুকবেন। পাঁচ জোড়া জুতো থাকলে এক এক দিন এক একটা পরতে পারেন। ষষ্ঠ দিনে আবার প্রথম জোড়াটা পরবেন। কারণ ৫ দিন পর্যন্ত ভাইরাস লেগে থাকতে পারে জুতোয়। না থাকলে সাবান-পানিতে জুতো ধুয়ে তবে ঘরে ঢোকাতে পারবেন। এর পর বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড়, চশমা সাবান-পানিতে ধুয়ে, তুলোয় স্যানিটাইজার ভিজিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করে ভাল করে সাবান মেখে, শ্যাম্পু করে গোসল করবেন।

• বাড়িতে কাজের লোক বা অন্য কেউ এলে ঘরে ঢোকার আগে হাত এবং পা ভাল করে সাবান পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। ধোওয়া মাস্ক পরতে হবে। গোসল করে জামাকাপড় বদলে নিতে পারলে আরও ভাল।

• খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। বাহুল্য বর্জিত হালকা খাবারই ভাল এই সময়। ঘরে বানানো সাধারণ বাঙালি খাবার। ভাজা-মিষ্টি একটু কম খাওয়া ভাল। ফল খাবেন সুবিধেমতো। মাছ-মাংস-ডিম, যার যেমন সুবিধে।

• প্রচুর পানি খাওয়ার কোনো দরকার নেই। শরীর যতটুকু চায় ততটুকু খেলেই হবে।

• ভেষজ উপাদান খেতে ইচ্ছে হলে খাবেন। না খেলেও ক্ষতি নেই। কারণ আদা, ভিনিগার ইত্যাদিরা ভাইরাস মারতে পারে না। পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খেলে, অল্প ব্যায়াম করলে ও ভাল করে ঘুমোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিই ঠিক থাকবে।

• গায়ে হালকা রোদ লাগানো খুবই দরকার। সকালের দিকে একটু মর্নিং ওয়াকে গেলে ব্যায়ামও হবে, রোদও লাগবে গায়ে। ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেরায় না। কাজেই ভয় নেই। সময় থাকলে একটু বেলার দিকেও বেরতে পারেন। চড়া রোদ ঠেকাতে ছাতা নিয়ে নেবেন। মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাও সহজ হবে।

• অনেকের ধারণা সনা বাথ নিলে ভাইরাস মরে। ভুল ধারণা। গরমের মধ্যে ও সব করার দরকার নেই।

• জিম বা বিউটি পার্লারে এখনই যাওয়ার দরকার নেই।

যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। নিয়ম মানুন। অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই। করে লাভও নেই। কারণ কিসে ভাইরাস মরবে, তা কেউ জানে না। কাজেই তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আমবাগানের নিচে ১২০০ বছর আগের বৌদ্ধবিহার

জায়গাটিতে একসময় ছিল আমবাগান। ১৯৮৮ সালে এক ঝড়ে বাগানের বেশির ভাগ গাছ ভেঙে পড়ে। যশোরের কেশবপুর উপজেলার ডালিঝাড়া গ্রামের ওই বাগানে তখন কচু ও কলাগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন বাগানমালিক। চাষের জন্য মাটি প্রস্তুত করতে গিয়ে একটু গভীরেই শক্ত ইটে বাধা পাওয়া যায়। বিষয়টি স্থানীয় মানুষের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কিন্তু এলাকার বাইরে এ ঘটনা তখন খুব একটা জানাজানি হয়নি।

জায়গাটিতে একসময় ছিল আমবাগান। ১৯৮৮ সালে এক ঝড়ে বাগানের বেশির ভাগ গাছ ভেঙে পড়ে। যশোরের কেশবপুর উপজেলার ডালিঝাড়া গ্রামের ওই বাগানে তখন কচু ও কলাগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন বাগানমালিক। চাষের জন্য মাটি প্রস্তুত করতে গিয়ে একটু গভীরেই শক্ত ইটে বাধা পাওয়া যায়। বিষয়টি স্থানীয় মানুষের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কিন্তু এলাকার বাইরে এ ঘটনা তখন খুব একটা জানাজানি হয়নি।

ওই ঘটনার প্রায় ৩০ বছর পর গত নভেম্বরে বাগানটির মালিক রিজিয়া সুলতানা ও তাঁর স্বামী মোস্তফা মোড়ল সিদ্ধান্ত নিলেন সেখানে আবারও আমের চারা লাগাবেন। এবার জমি আরও বেশি খুঁড়তে গিয়ে বিশাল লাল ইটের স্তূপ পাওয়া গেল। খবরটি প্রচার হওয়ার পর গত ডিসেম্বর মাসে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আফরোজা খান এবং সহকারী পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান এসে জানালেন ওই জমিটি তাঁরা একটু খুঁড়ে দেখতে চান।

জমির নিচে পুরোনো ইটের স্তূপ থাকতে পারে, এটা আগে থেকেই জানার কারণে অনুমতি দিলেন রিজিয়া ও মোস্তফা দম্পতি। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয় খননকাজ, চার দিনের মাথায় বেরিয়ে এল লাল ইটের তৈরি বিশাল স্থাপনার চিহ্ন। তিন মাস ধরে খননকাজের পর বেরিয়ে এল চমকপ্রদ সব তথ্য। ওই ইটের স্তূপ আসলে মধ্যযুগের এক বৌদ্ধমন্দির কমপ্লেক্সের একাংশ। ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ বছর আগের ওই বৌদ্ধ স্থাপনাটি শুধু বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য আবিষ্কার নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাতেও এত বিস্তৃত ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের বৌদ্ধ স্থাপনা দেখা যায়নি।

প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যশোরের কেশবপুর উপজেলার ওই বিহারের ধ্বংসাবশেষে এমন কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশ এবং ভারতের বিহার, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বৌদ্ধ স্থাপনা থেকে আলাদা। অধিদপ্তরের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অংশে এমন বৈশিষ্ট্যের বৌদ্ধ স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চল কার্যালয়ের দল কেশবপুরের ওই বৌদ্ধবিহার আবিষ্কার করেছে। এ স্থাপনা আনুমানিক ১ হাজার ২০০ বছর আগের।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের করা স্কেচ থেকে দেখা যায়, বৌদ্ধবিহারটি আয়তাকার। পূর্ব দিকে দুটি মন্দির, দক্ষিণ বাহুতে ৮টি ভিক্ষু কক্ষ, পশ্চিম বাহুতে ৬টি ভিক্ষু কক্ষ এবং মাঝখানে একটি বড় কক্ষ রয়েছে। গঠনশৈলী বিবেচনায় বড় কক্ষটিই বিহারের প্রধান প্রবেশদ্বার ছিল বলে ধারণা করা হয়। বৌদ্ধবিহারটির পূর্ব দিকে দুটি বৌদ্ধমন্দির উন্মোচিত হয়েছে।

আলোচ্য স্থাপনাটিকে তিনটি মন্দিরবিশিষ্ট বৌদ্ধবিহার বলে শনাক্ত করতে চাই। বিহারটির স্থাপত্যিক পরিকল্পনায় অন্যান্য বিহারের চেয়ে ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমান বিহার, ওডিশা এবং পশ্চিম বাংলায় আর বাংলাদেশে অদ্যাবধি যেসব বৌদ্ধবিহার বা মহাবিহার আবিষ্কৃত হয়েছে, সেসব বিহারের সঙ্গে এই ভূমি পরিকল্পনার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাংশের ভূমিরূপ একই ধরনের। নিয়মিত গতি বদল হয়ে এমন নদী ও সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার কারণে এই অঞ্চলের ভূমিরূপের বয়স তুলনামূলকভাবে নবীন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই অঞ্চলকে সব সময় প্রভাবিত করে আসছে। গাঙ্গেয় বদ্বীপের এই ভূভাগে পশ্চিম বাংলায় প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূপ্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বেশি হয়েছে। ঐতিহাসিক যুগ থেকেই এই ভূভাগে মানববসতির আলামত খুঁজে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশসংলগ্ন ভূভাগে কয়েকটি আদি মধ্যযুগীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বাদ দিলে মূলত সুলতানি ও মোগল আমলের স্থাপত্যিক নিদর্শনই বেশি পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছরের নানামুখী গবেষণায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সুন্দরবনসহ সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ও প্রাক্-মধ্যযুগীয় বসতির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এই স্থাপনা তার নতুন এক সংযোজন।

বাংলায় ১৭৩৭ সালের বিধ্বংসী ঝড়ের স্মৃতি ফেরাল ঘূর্নিঝড় আস্ফান

প্রায় পৌনে তিনশো বছর আগে, ১৭৩৭ সালে এমন ঝড় দেখেছিল বাংলা। সেবার হাজার হাজার মানুষ ঝড়ে গাছচাপা পড়েছিলেন, বেশি গিয়েছিলেন নদীর জলে। বুধবার সারাদিন অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আস্ফান দাপটে সেই স্মৃতিই ফিরে এল রাজ্যে। ১৯৯৯ সালের পর দেশে প্রথম সুপার সাইক্লোন আর তাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল বাংলা।

বুধবার কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ একসময় উঠেছিল ঘন্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। যেমনটা হয়েছিল ১৭৩৭ সালে। আর কাকদ্বীপ, বকখালীতে গতিবেগ সর্বোচ্চ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। তছনছ হয়ে গিয়েছে এই অঞ্চল-সহ দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশ। ক্ষতির খতিয়ান এখনও মেলেনি। মৃত্যু আপাতত ১০-১২ জন এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

এদিকে, আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, এত বড় বিপর্যয়ের পরও সক্রিয় নিম্নচাপ। তার জেরে বৃহস্পতিবারও বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের ঘন্টায় ৮০-৯০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা। আস্ফান ধ্বংসাত্মক চেহারা নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা ছিলই। আবহাওয়া অফিস ঘণ্টায় ঘণ্টায় বুলেটিন দিয়ে ঝড়ের গতিপ্রকৃতি জানাচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজে নবান্নের কন্ট্রোল রুমে ঠায় বসেছিলেন। দিঘা-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের তদারকিতে ছিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগেই ৫ লক্ষ মানুষকে সরানো হয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়ে। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ।

দুপুর ২টোর আগে দিঘা, কাঁথি, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ, বকখালি, কাকদ্বীপ-সহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল হাওয়া ছিল। আস্ফান দিঘা ও হাতিয়ার মাঝে আছড়ে পড়বে, এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তা আচমকা অভিমুখ বদলে হলদিয়ার কাছে চলে আসে। এরপর সাগরদ্বীপ ছুঁয়ে কলকাতায়। পূর্ব দিক থেকে কলকাতাকে তছনছ করে দেয়। সবমিলিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাস ছিল ৯০ কিলোমিটার মতো।

আস্ফান হেড অর্থাৎ প্রথমাংশ স্থলভাগ ছোঁয়ার পর চার ঘণ্টা লেগেছে টেল বা শেষাংশ পেরতে। মাঝের ঘণ্টাখানেক সময় ‘আই’ অংশটি থাকায় ঝড়ের প্রকোপ ততটা বোঝা যায়নি। সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে বৃহস্পতিবার দুপুর গড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আস্ফান পূর্বতন সমস্ত ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিকে হারিয়ে দিয়েছে। ফণী, বুলবুলের চেহারা এত নির্মম ছিল না। আয়লা প্রভাব অবশ্য এরকমই কিছুটা ছিল। তবে এবার আস্ফান দাপটে এমন সন্ত্রস্ত, অন্ধকার চেহারার শহর দেখেনি কেউ।

ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সর্বোচ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় দেশে আঘাত হেনেছিল। তাতে ১০ থেকে ৩৩ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসও হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ ও অসংখ্য গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ২২৩ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। এতে প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভেসে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর।

এদিকে, শনিবার (১৬ মে) রাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে রূপ নিয়েছে। তবে নতুন সৃষ্ট এ ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ কত হতে পারে- এ নিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর এখনও তেমন কিছু না বললেও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আম্ফান সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে।