ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল”

ছোট্ট শান্ত পাখি নয়। এখন ভয়-আতঙ্কের নাম ‘বুলবুল’। গতকাল শুক্রবার বঙ্গোপসাগরের বুকে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘বুলবুল’। সুন্দরবনের পশু-পাখিগুলো এখন অনেক আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে আছে।   অনেক বনের অজানা পশু-পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের এর জন্য হন্য হয়ে ঘুরাফেরা করছে। মানুষ যেখানে বুঝতে পারে বুলবুল এর ভয়াবহতা কত ? তাহলে সুন্দরবনের পশু-পাখিগুলোর ভয়াবহতা কিরকম হবে তা আপনারা বুঝে নেন। গভীর রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘বুলবুল’র গতিবেগ বেড়ে ওঠে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটারে। 


ঘূর্ণিঝড়টি ঝাপটা দিতে পারে আজ শনিবার সন্ধ্যায়। ফুঁলে-ফুঁসে গর্জে উঠেছে সাগর। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখানো হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত বহাল আছে। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে পূর্ণিমা সন্নিকট সময়ের প্রভাবে দেশের চর উপক‚ল দ্বীপাঞ্চলে স্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া নেটওয়ার্কগুলোর পূর্বাভাস, ‘বুলবুল’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা সুন্দরবনের নিকট দিয়ে উপক‚লে আছড়ে পড়তে পারে আজ সন্ধ্যায়।

 সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ‘বুলবুল’ উপক‚লভাগে আঘাত হানার সময় যদি অতি বৃষ্টিপাত হয়, দিক-পরিবর্তন করে কিংবা প্রকৃতির আপন নিয়মে শক্তি হারায় সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হতে পারে দুর্বল। যদিও রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘বুলবুল’ ছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এটি বাংলাদেশ উপক‚লের দিকে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কি.মি. দূরত্বে এগিয়ে আসে। আর পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপক‚লের প্রায় দুশ’ কি.মি. অদূরে। অতীতে এই কার্তিক মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বেশক’টি সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এদেশে আঘাতের রেকর্ড রয়েছে। যা ‘কার্তিকের তুফান’ হিসেবে পরিচিত।