ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের বিছানাকান্দি থেকে

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

মন যখন ভাল নয় বা এই শহরের ক্লান্তিময় জীবন থেকে আবার নিজেকে সতেজ প্রাণ পেতে চান তাহলে ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের বিছানাকান্দি থেকে । সিলেট শহরের বিমানবন্দর রোড ধরে বিছানাকান্দির পথ। দু’পাশের সবুজ চা বাগান পেছনে ফেলে আপনাকে যেতে হবে গন্তব্যে। এই পথ ধরে গেলে মনে হবে, পুরো পৃথিবীটাই যেন সবুজের রাজ্য। আর আঁকা বাঁকা পাহাড়ি উঁচুনিচু পথটাকে কেউ বড় অজগর বলেও ভুল করতে পারেন।   

সিলেট শহর হতে ৬০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে বিছানাকান্দি গ্রাম। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক ধরে সালুটিকর বাজারের ডান দিকে গাড়ী নিয়ে গোয়াইনঘাট লিঙ্ক রোডে হয়ে দেড় ঘণ্টা গেলেই আপনি পৌঁছে যাবেন বিছানাকান্দি। এক্ষেত্রে শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিলে সহজে এবং কম খরচে বিছানাকান্দি যাওয়া যায়। হাদারপাড় বাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা। সেখানে পৌঁছুতে লাগবে কমবেশি দেড় ঘণ্টা। বাজারের পাশেই খেয়াঘাট। ঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ করে যাওয়া যায় বিছানাকান্দি। দর কষাকষি করে ৫০০ টাকার মধ্যে নৌকা রিজার্ভ করা যায়। যদিও পর্যটকদের কাছে অতিরিক্ত  ভাড়া হাঁকানোর নজির এখানকার মাঝিদের আছে। তাই আগে থেকে ভাড়া ঠিক করে নেয়া ভলো।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

নৌকায় যেতে যেতে দেখতে পাবেন দু’পাশে সবুজ গ্রামের প্রতিচ্ছবি। সাথে দূরে মেঘালয়ের পাহাড় গুলো দেখে অতি নীরস লোকটিও যদি একটু রসিকতা করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেটিই যেন স্বাভাবিক। নৌকা যতই আগাবে সামনের দিকে আপনি ততই অবাক হতে বাধ্য। নদীর ধার ঘেঁষে মাঝে মাঝে উঁচু করে স্তূপ আকারে জমিয়ে রাখা হয়েছে সাদা, কালো ও বাদামি পাথরের চাঁই। মনে হবে সবুজ পাহাড়ের কোলে আরেক সাদা পাহাড়।

নৌকায় প্রায় পনের মিনিট ভ্রমণের পরই দেখা মিলবে বিছানাকান্দির। সীমান্তের ওপার থেকে বয়ে আসা স্বচ্ছ জলধারা বড় বড় পাথরের ফাঁকে আপনাকে নিয়ে যাবে মায়ার স্রোতে। পাথরের বুকে শীতলের আলিঙ্গনে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে যেতে পারবেন শহরের মায়া। স্রোতের মধ্যে ডুবন্ত পাথরের উপর দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন অন্য এক রাজ্য। যেখানে এপারের প্রকৃতি ওপাড়ের পাহাড়ের সাথে যেন মিতালী করছে গভীর মমতায়। আকাশে ভাসমান মেঘের নেই সীমানা। সেই মেঘেদের পাহাড়ের কোলে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন এখানে। সেই সাথে হিম শীতল পানিতে নিজের শরীরের সাথে ভিজবে আপনার মনও।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে করে সিলেট যাওয়া যায়। সিলেট শহরের যে কোন প্রান্ত থেকে রিজার্ভ করা সিএনজি নিয়ে যেতে হবে হাদারপাড় বাজার, ভাড়া নেবে বড়জোর ৫০০ টাকা। সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে যাওয়া সহজ। হাদারপাড় পর্যন্ত ভাড়া নেবে জনপ্রতি ৮০ টাকা। সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মত। হাদারপাড় বাজার নেমে নৌকা ঠিক করতে হবে বিছানাকান্দি পর্যন্ত। ভাড়া নেবে ৪০০-৫০০ টাকা আপ ডাউন। তবে দামাদামি করে নৌকা ঠিক করা ভালো। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটেই যাওয়া যায়।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

যেখানে থাকবেন: বিছানাকান্দিতে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে সিলেট শহরে থাকার মতো অনেক উন্নতমানের হোটেল গড়ে উঠেছে। সিলেট শহর থেকে বিছানাকান্দিতে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা যায়।

সাবধানতা: এখানে পানিতে নামতে হলে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। সীমান্তের ওপাড় থেকে আসা স্রোতের বেগ অনেক বেশী ক্ষিপ্র থাকে। এ স্রোতে না বুঝে নেমে পড়লে প্রচণ্ড পাথরের ফাঁকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভ্রমন করুন রাতারগুল থেকে

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

আপনার ক্লান্তিময় , ব্যস্তময় নাগরিক জীবন থেকে কিছুটা দূরে থাকতে ভ্রমন করতে পারেন সিলেটের রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট থেকে । নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততায় কখনো কখনো জীবন একদমই একঘেয়েমী হয়ে যায়। শরীর ও মন দুটোই যেন অলস ও নিথর হয়ে পড়ে। দুটোকেই সুস্থ রাখার জন্য চাই বিনোদন। তাই অনাড়ম্বর কর্মজীবনের ব্যস্ত সময়কে পেছনে ফেলে দুই রাত একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এলাকা সিলেটের রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট থেকে। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন যা ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামে খ্যাত। এই অরণ্য বছরে ৪-৫ মাস পানির নিচে থাকে। তবে জলে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বনের গাছগুলো দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমায় বেশি বর্ষার মৌসুমে। তখন অবশ্য ডিঙ্গি নৌকায় করে ঘুরতে হয়। ডিঙিতে চড়ে বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে দেখা যাবে প্রকৃতির রূপসুধা। জলমগ্ন বলে এই বনে সাপের আবাসটাই বেশি, তবে ভাগ্য ভালো হলে দেখা হয়ে যেতে পারে দু-একটা বানরের সাথে। তাছাড়া চোখে পরার মত বনে সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিলসহ নানা জাতের পাখিতো আছেই।

রশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

♦ অবস্থান: সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে, গুয়াইন নদীর দক্ষিণে এই বনের অবস্থান। সিলেট শহর থেকে এর দূরত প্রায় ২৬ কিলোমিটার। যেতে লাগবে-  গাড়ি > ইঞ্জিন নৌকা > ডিঙ্গি নৌকা।

♦ যেভাবে যাবেন: রাতারগুল যেতে পারেন দু-দিক দিয়ে। এয়ারপোর্টের পেছন থেকে একটা বাইপাস রোড ফতেহপুর হয়ে হরিপুরে গিয়ে মিশেছে। এদিকেও যেতে পারেন। অথবা জাফলং রোডেও যেতে পারেন। তবে যেতে হবে সিলেট থেকেই।

যাইহোক, মানুষ ৬-৮ জন হলে প্রথমেই সিলেট শহরে ‘চৌহাট্টা থেকে একটা মাইক্রোবাস ঠিক করে নিন। আসা-যাওয়ার বাবদ খরচ পরবে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মত। মাইক্রোবাসে করে প্রায় ঘণ্টাখানেক যাওয়ার পর পৌছে যাবেন গোয়াইন নদীর তীরে।

রশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

এখানে নেমেই ড্রাইভারের মোবাইল নাম্বার নিয়ে নিন, যাতে পরে এসে খুঁজে পেতে সমস্যা না হয়। তারপর চলে যান সোজা নদীর ঘাট। সেখান থেকে যেতে হবে প্রায় আধঘণ্টা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে। খরচ পরবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মত।

মনে রাখবেন এই নৌকা কিন্তু বনের ভেতর ঢুকবে না। বনে ঢুকতে হবে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে। এই নৌকা আপনাকে বনের পাশে নামিয়ে দেবে। বনে নামার পর কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে ডিঙ্গি নৌকা। কথাবার্তা বলে একটা ঠিক করে নিন। ডিঙ্গি নৌকার ভাড়া পরবে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকার মত।

♦ সিলেটের আম্বরখানা মোড় থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করেও যেতে পারেন মোটরঘাট। যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। সেখান থেকে নৌকা রিজার্ভ করেও রাতারগুল যেতে পারবেন।

♦ সর্তকতা: বর্ষায় বনে জোঁক আর সাপের প্রকোপ বেশি থাকে। তাই সাবধান থাকবেন। যাঁরা সাঁতার জানেন না, সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখতে পারেন। তাছাড়া বনে ঢুকে পানিতে হাত না দেয়াই ভালো। কারণ বিষাক্ত সব সাঁপ এখানে ঘুরে বেড়ায়! নৌকায় বসে কোন গাছের ডালে হাত দিতেও সতর্ক থাকুন।

রশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

♦ সিলেটের বাইরে থেকে যারা আসবেন তাদের জন্য আরেকটা সতর্কবাণী- রাতারগুল থাকা-খাওয়ার কোন ব্যাবস্থা নেই। যাওয়ার সময় হালকা পাতলা কিছু খাবার (চিপস, বিস্কিট, পানি ইত্যাদি) সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন। আর থাকার জন্য ফিরে আসতে হবে সিলেটেই।

♦ পরামর্শ: রোদের জন্য ছাতা নিতে পারেন। তবে দুপুর টাইমে না যাওয়াই ভালো। খুব সকালে গেলে অনেক পাখি দেখতে পারবেন। তাদের কিচিরমিচিরে পরিবেশটা হবে অন্যরকম। আবহাওয়াটাও ঠাণ্ডা থাকবে। তাছাড়া শেষ বিকেলের দিকেও যেতে পারেন। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হবে তখন গাঁ ছমছমে ভাব আসবে।

ঘুরে আসুন সিলেটের জাফলং থেকে

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

মন যখন আপনার চায় পাহাড়, উচুঁ উচুঁ টিলা দেখতে তখনই ঘুরে আসতে পারেন নয়নবিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর পরিবেষ্টিত সিলেটের জাফলং থেকে। জাফলং এর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেকে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবেন। মন অনেক ভাল হয়ে যাবে।   জাফলং অনেকটা বাংলাদেশের শেষ সীমানা ও ভারতের সীমানা জুরে পরিবেস্টিত। সিলেটের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বছর জুড়েই সিলেটে জাফলং এ পর্যটকদের ঢল নামে। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে অন্যতম সিলেটের জাফলং। সারিবদ্ধ চা বাগান, চারদিকে সবুজের সমারোহ, উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা, গহিন অরণ্য আর ঝর্ণাধারা। এছাড়া আছে লালা খাল, খাসিয়াপুঞ্জি, রাতারগুল, লোভাছড়া, পানতুমাই, বিছনাকান্দি।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

উঁচু পাহাড়, স্বচ্ছ জল, রকমারি নুড়ি পাথরের সমন্বয়ে গড়া আসাম সীমান্তবর্তী জাফলং। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির জন্য অনেকেই আসেন এখানে। সিলেটের জাফলং প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপলীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছেআকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশীপর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিকস্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমনপিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমনে এসে জাফলং নাগেলে ভ্রমনই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

সিলেট শহর থেকে যখন আপনি জাফলং এর দিকে যাবেন তখন আপনি দেখবেন আপনার ডানদিকে বড় বড় ভারতের অধ্যাবেষ্টিত পাহাড় এর চূড়া আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছে। সিলেটনগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এরঅবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রুপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলংএর রুপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠেস্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়েরসবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টিপাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সংকুল-সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজারফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়। জাফলং এর পানি দেখতে অনেক সচ্ছ এবং অনেক পরিস্কার। এ পানি আপনি পানাহার করতেও পারবেন। শীত মৈাসুমে পানি কম থাকলেও বর্ষার মৈাসুমে জাফলং এর পানি কানায় কানায় পরিপূর্ন হযে থাকে। অনেকে নৈাকায় ভ্রমন করে থাকে।   জাফলং এ অনেক নৈাকা ভাড়া করা যায়। 

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

যেভাবে যাবেন

ঢাকার কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে সিলেট যাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন পরিবহনের বাস নিয়মিতই যায় ঢাকা থেকে।

জাফলং এ যেতে হলে সিলেটের শহর থেকে সিএনজি অথবা মাইক্রোবাস করে যেতে পারেন ।  এসব পরিবহনে যেতে হলে ভাড়া আপনাকে চুত্তি করে যেতে হবে।   এছাড়া সিলেট শহর থেকে লোকাল বাস যায়।   বাসে যাতায়াতে অনেকটা পরিবহন খরচ কম হয়ে থাকে।  

কোথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে উন্নতমানের হোটেল রয়েছে। সিলেট শহরে আপনি পর্যটনের মোটেল ও স্টার ক্যাটাগোররি আবাসিক হোটেল পাবেন। 

জাফলং এ আপনি পর্যটনের মোটেল পাবেন ।   এছাড়া আপনি উন্নতমানের আবাসিক হোটেল পাবেন।  

সুন্দরবন বাচিঁয়ে দিল ঘূর্নিঝড় বুলবুলের হাত থেকে

সপ্তম আর্চায এর তালিকার মধ্যে ছিল সুন্দরবন। হয়ত বা কোন কারনে তা অর্জন করতে পারে নাই। পৃথিবির অন্যতম ম্যানগ্রোেব ফরেষ্ট এর তালিকায় রয়েছে সুন্দরবন। মায়ের আঁচলের মতো ঢাল হয়ে আবারও খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত বুকে ধারণ করায় ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনে আঘাতহানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ভোর ৫টায় সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করে। এ সময় থেমে থেমে তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে যায় ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে। সুন্দরবনের কারনে ঘূর্নিঝরের বুলবুলের গতিবেগ কমে দাড়িয়েছে ঘন্টায় ৭০-৮০ কি.মি.।  

এই ঝড়ে খুলনার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় কয়েক হাজার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর পড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

কয়রার বেদকাশী এলাকার বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, বুলবুলের প্রভাব ঠেকিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। না হলে আরও অনেক ক্ষতি হতো।

উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন না থাকলে ২০০৭ সালের সিডরের তাণ্ডবের মতোই ভয়াবহ হতো বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি।

আমাদের উচিত সুন্দরবনকে রক্ষা করা যেকোন মানবসৃষ্ট কারন থেকে । সুন্দরবন আমাদের প্রাকিতৃক বিপর্যয় থেকে ঢাল সরূপ কাজ করে থাকে। সুন্দরবন না থাকলে হয়তবা আমরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মূখিন হতাম। সুন্দরবন যেরকম আমাদের প্রাকিতৃক বিপর্যয় হাত থেকে রক্ষা করে থাকে ঠিক তেমনি অক্সিজেনে ভান্ডার হিসেবে কাজ করে থাকে। পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত ও বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের সীমানা ঝুরে রয়েছে আমাদের এই সুন্দরবন। প্রতি বছরই কোন না কোন কারন বশত সুন্দরবনের অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্মূাখন হচ্ছে। যা ভবিশ্যতে আমাদের জন্য হুমকি সরূপ হযে দাড়াবে।   তাই সংশ্লিষ্ট মহলকে অবশ্যই সুন্দরবনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর তা না হলে এরকম প্রাকিতৃক বিপর্যয়ের মধ্যে আমরা আমাদের উপকূলীয় এলাকা সমূহ হারিয়ে ফেলব।

কয়রার বেদকাশী এলাকার বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, বুলবুলের প্রভাব ঠেকিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। না হলে আরও অনেক ক্ষতি হতো।

উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন না থাকলে ২০০৭ সালের সিডরের তাণ্ডবের মতোই ভয়াবহ হতো বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ড থেকে ঘুরে আসুন

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস


প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে এই মাধবকুন্ড জলপ্রপাত দেখতে। সারা বছরই দেশী বিদেশী পর্যটকের আনা গোনা লেগেই আছে এখানে।

সুউচ্চ ২০০ফুট পাহাড় থেকে উপচে পড়া পানির দৃশ্য দেখে আপনার ভালো লাগবে অবশ্যই। প্রেমিকদের নিকট প্রিয়ার বিদায় নেয়ার দৃশ্য, প্রিয়া যেন মাথার চুল এলিয়ে দুলিয়ে চলে যাচ্ছে দূর কোথায়। ইচ্ছে হবে পানির সাথে মিতালী করতে। পানি এত পরিষ্কার যে ,ভাবতে আপনার বিস্ময়ের ভাব কাটবে না ।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

কোথা থেকে এত পানি আসছে প্রচন্ড গতিতে, যে টিলার উপর থেকে পানি পড়ছে সেটা সম্পূর্ন পাথরের টিলা । ২০০ ফুট উচু টিলাটি কালো বর্নের পাথরের । নীচে রয়েছে অসংখ্য পাথর নানা প্রকার ভেদে। কুন্ডের ডানদিকে রয়েছে একটি গুহা যা পাথর বেষ্টিত। স্তানীয় ভাষায় গুহা কে কাব বলে । দেখলে মনে হয় এটা মানুষের তৈরী ,অথচ এটা প্রাকৃতিক ভাবেই সৃষ্টি হয়েছে । আশে-পাশের নৈসর্গিক দৃশ্য আর সবুজ চা-পাতাময় বাগানগুলো আপনার মন কেড়ে নিবে। মাধবকুন্ড কে আকর্ষনীয় করার জন্য রয়েছে মাধবকুন্ডের ইকো-পার্ক, জেলা পরিষদের রেষ্ট হাউস,পিকনিক সেড ও গাড়ী পার্কিং জায়গা রয়েছে।

দেশের প্রথম ইকোপার্ক, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের আশপাশ এলাকার চা বাঁগান, পাঁহাড়ি টিলা ও দেশী-বিদেশী পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের দিন দিন কাছে টানছে।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ডতে ভিতরে রয়েছে পর্যটনের রেস্তরা এবং বাহিরে রয়েছে অসংখ্য দোকান-পাট।   সিলেট শহর থেকে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই সিএনজি অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে যেতে হবে।   সকাল সকাল বের হয়ে গেলে আপনি ভালমতন ঘুরে আসতে পারেন।  

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

মাধবকুন্ডের পথে যেতে যেতে আপনি অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবেন।  আরও অনেক টিলা দেখতে পারবেন যা আপনাকে অবিভূত করে তুলবে।  মাধবকুন্ডের ভিতরে প্রবেশ করতে কিছুক্ষন হেঁটে আপনাকে যেতে হবে।   এক বিশাল পাথরের গুহার মধ্যে দেখতে পারবেন মাধবকুন্ডের জলপ্রপাত।  

সিলেট থেকে সড়ক পথে আপনি যেভাবে যাবেন, সময় লাগবে মাএ ২/৩ ঘন্টা । অথবা ঢাকা থেকে সড়ক পথে গেলে আপনি শ্রীমঙ্গল , মৌলভীবাজার হয়ে যেথে পারেন। সময় লাগবে মাএ ৭/৮ ঘন্টা। যদি যান , ভ্রমন টি অবশ্যই আপনার স্মৃতি পাতায় আনন্দের স্মৃতিকথা হয়ে রইবে চিরকাল।

ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল”

ছোট্ট শান্ত পাখি নয়। এখন ভয়-আতঙ্কের নাম ‘বুলবুল’। গতকাল শুক্রবার বঙ্গোপসাগরের বুকে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘বুলবুল’। সুন্দরবনের পশু-পাখিগুলো এখন অনেক আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে আছে।   অনেক বনের অজানা পশু-পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের এর জন্য হন্য হয়ে ঘুরাফেরা করছে। মানুষ যেখানে বুঝতে পারে বুলবুল এর ভয়াবহতা কত ? তাহলে সুন্দরবনের পশু-পাখিগুলোর ভয়াবহতা কিরকম হবে তা আপনারা বুঝে নেন। গভীর রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘বুলবুল’র গতিবেগ বেড়ে ওঠে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটারে। 


ঘূর্ণিঝড়টি ঝাপটা দিতে পারে আজ শনিবার সন্ধ্যায়। ফুঁলে-ফুঁসে গর্জে উঠেছে সাগর। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখানো হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত বহাল আছে। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে পূর্ণিমা সন্নিকট সময়ের প্রভাবে দেশের চর উপক‚ল দ্বীপাঞ্চলে স্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া নেটওয়ার্কগুলোর পূর্বাভাস, ‘বুলবুল’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা সুন্দরবনের নিকট দিয়ে উপক‚লে আছড়ে পড়তে পারে আজ সন্ধ্যায়।

 সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ‘বুলবুল’ উপক‚লভাগে আঘাত হানার সময় যদি অতি বৃষ্টিপাত হয়, দিক-পরিবর্তন করে কিংবা প্রকৃতির আপন নিয়মে শক্তি হারায় সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হতে পারে দুর্বল। যদিও রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘বুলবুল’ ছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এটি বাংলাদেশ উপক‚লের দিকে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কি.মি. দূরত্বে এগিয়ে আসে। আর পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপক‚লের প্রায় দুশ’ কি.মি. অদূরে। অতীতে এই কার্তিক মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বেশক’টি সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এদেশে আঘাতের রেকর্ড রয়েছে। যা ‘কার্তিকের তুফান’ হিসেবে পরিচিত।

ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল থেকে

দেশের বিখ্যাত চায়ের নগরী হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শহরের চারদিকে রয়েছে সবুজের সমারোহ, পাহাড় আর উঁচু, নিচু টিলার শেষ নেই। চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। উপজেলার বেশির ভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান। দেশে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টর্মাটিন, সুন্দরবন, বান্দরবনে ঘুরেছেন  কিন্তু ভ্রমণ করেননি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক লীলাভূমি মৌলভীবাজারের  শ্রীমঙ্গল। এখানে আপনি যে দিকেই তাকাবেন দুচোখ জুড়ে দেখবেন দিগন্ত জোড়া চায়ের বাগান। যা দেখলে চোখ জুড়ে খেলে যাবে এক অপরূপ সুন্দর ও সবুজের সমারোহ। তাই হয়তোবা ভাবছেন কিভাবে  যাবেন শ্রীমঙ্গলে!
বাংলাদেশে  চা-বাগান মানেই শ্রীমঙ্গলের নাম চলে আসে সবার আগে।

শ্রীমঙ্গল চা বাগান

চায়ের জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার অবস্থান সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়। পাতা আর কুঁড়ির এই দেশ পাহাড় আর চা বাগানে ঘেরা আর সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ স্থান। সবুজে মোড়ানো শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চা বাগান। রয়েছে আনারস ও রাবার বাগান। চায়ের রাজধানী এই শ্রীমঙ্গলের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পশুপাখির বিচরণ নিমিষেই মুগ্ধ করে দেয় চোখ আর মনকে। শ্রীমঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম পাশে কিছু অংশ হাইল হাওর ছাড়া পুরোটা উপজেলাই চা বাগান দ্বারা আবৃত। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভেতর দিয়ে যাবেন, তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্যরাশি যেন আপনার সম্মুখে।

চা গবেষণা কেন্দ্র

চায়ের রাজধানীতে গড়ে উঠেছে গবেষণা কেন্দ্র। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রটি শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই স্থানটি বিটিআরআই হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। শহর থেকে ১০ থেকে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সহজেই বিটিআরআই পৌঁছে যেতে পারেন। বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস। অফিস গেটে রিকশা থেকে নামা মাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহার। বিটিআরআইয়ের অপরটি চা বোর্ডের অফিস। দুটোই পাশাপাশি। ভেতরে দেখতে পাবেন ৫০-৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ। চা ম্যানুফ্যাকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব, গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ বাংলাদেশের একমাত্র ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। বিটিআরআইয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।

গত বছর দেশে প্রথমবারের মতো বিটিআরআইয়ে চা জাদুঘর স্থাপন করা হয়। চা জাদুঘর স্থাপিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে সংযোজিত হয়েছে নতুন মাত্রা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে যাওয়া যায় শ্রীমঙ্গল। তবে বাসে যদি যান, রাস্তা ফাঁকা থাকলে ট্রেনের আগেই পৌঁছাবেন। হানিফ, ইউনিক, রূপসী বাংলাসহ বিভিন্ন বাস রয়েছে আরামবাগ, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। সিলেট মেইল অথবা উপবনে করেও যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। ট্রেনে ভাড়া ৩০০-৩৫০ (স্নিগ্ধা), ২৭০ (শোভন চেয়ার), ২০০ (সুলভ)। বাসের ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা।

কী খাবেন

শ্রীমঙ্গলে খাবারের খরচ অনেক কম। প্রায় সব ধরনের রেস্তোরাঁই রয়েছে শহরে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে রয়েছে সাত রঙের চা। মাধবকুণ্ড, হাকালুকি এবং লাউয়াছড়ায় ভাত, ডাল, মুরগির মাংস, হাঁসের মাংসের সঙ্গে মজাদার খাবার হিসেবে পাওয়া যায় বকের মাংস।

অনেকটা সময় এই শ্রীমঙ্গলের গল্প শুনে এখন কি আপনার দুই চোখে সারি সারি চা বাগানের দৃশ্য ভেসে উঠছে? তাহলে এখনই ব্যাগ গোছানো শুরু করে দিন। এই ছুটির বাকি কটা দিন না হয় কাটিয়ে দিন শ্রীমঙ্গলেই!

ভ্রমন করুন

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

ভ্রমন করলে মন অনেক ভাল থাকে ।   এসব কথা আমার না ।   মেডিকেল সাইন্স এ কথা বলে।   মেডিকেল ভাষায় আপনি যদি ভ্রমনে বের হন তাহলে আপনার মধ্যে এক অন্য অনূভুতি কাজ করবে।   আপনি নিজেকে খুজে পাবেন আপনার হারিয়ে যাওয়ার মাঝে।   এই কর্মব্যস্ত শহরের জীবনের মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে আপনাকে সাহায্য করবে ভ্রমন।   ভ্রমন শুধুমাত্র ক্লান্তি দূর করা নয়, যা আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার স্বপ্নের রাজ্যে।  

আপনি যখন আপনার চারপাশের পরিবেশে অতিষ্ট এবং আপনি নিজেকে বারে বারে ফিরে পেতে চান আপনার মধ্যে থেকে এবং খুঁজে ফেরেন আপনার সুন্দর অতিত সময়গুলো তখন ভ্রমন আপনার জন্য এক অনন্য দিগন্ত বয়ে আনবে ।     

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

হতাশাকে দূরে রাখুন

যে কোন কাজে সফল না হলে হতাশ হয়ে পড়বেন না, এতে আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে । বার বার অসাফল্যের কথা চিন্তা করলে আপনি শারীরীক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন। হতাশা জীবনে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা ।

সবসময় হাসি খুশি থাকুন

হাসি দিয়ে জয় করুন মনের সব কষ্ট আর বাধা । যে কোন বিষয়ে পজিটিভ মনোভাব ব্যক্ত করার চেষ্টা করুন । মন খারাপের বিষয় ভুলে নিজে হাসি খুশি থাকুন, সাথে অন্যদের ও হাসি আর আনন্দে থাকার পরামর্শ দিন । প্রাণ খুলে হাসুন আর কষ্টকে দিন বিদায় ।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

নিজের যত্ন নিন

নিজেকে একটু সময় দিন । প্রতিদিন অন্তত এমন একটি কাজ করুন যা আপনার ভালো লাগে । পরিবার, বন্ধু ও আত্নীয়দের থেকে একটু সময় বের করে নেয়ার চেষ্টা করুন নিজের জন্য । নিজের পরিচর্যা করুন, এতে আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে ।  

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে, হাঁটা সবচেয়ে ভালো ব্যয়াম । সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় নিয়ম করে হাঁটুন । এতে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি আপনাকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে সাহায্য করবে । এছাড়া মন ভালো রাখতে ইয়োগা ও করতে পারেন ।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

অবসরে ঘুরে বেড়ান

নগর জীবন থেকে একটু অবসর নিতে ঘুরে আসতে পারেন পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের সাথে আপনার পছন্দের যে কোন জায়গায়। তবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য যে কোন খোলামেলা জায়গা নির্বাচন করুন, এতে মনে আসবে প্রশান্তি আর আনন্দ।

এই ব্যস্ত জীবনকে সহজ করে তোলা মোটেই সহজ ব্যাপার না তবে একটু চেষ্টা করলে ক্ষতি কী! আপনার গতিময় জীবনকে সহজ ও সফল করে তুলতে আছে আপনার পাশেই । আপনার যে কোন পরামর্শ বা সেবার প্রয়োজন হলে শেয়ার করুন আমাদের সাথে । সহজ হোক আপনার জীবন, সুন্দর হোক আপনার পথচলা ।

ঘুরে আসুন ভোলা জেলায়

চরফ্যাশন উপজেলা 

প্রত্যেকটি বস্ত্ত বা এলাকার একটি নাম থাকাটাইস্বাভাবিক। আর এই নাম থাকার পিছনেও থাকেবিভিন্ন যুক্তি বা সার্থকতা। এ এলাকাটির নামচরফ্যাশন হওয়ার পিছনেও যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।যেমন-এ চরফ্যাশন পূর্বে কখনো নোয়াখালী,কখনো বরিশাল আবার কখনো বা পটুয়াখালীরগলাচিপার সাথে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানেচরফ্যাশন থানাটি ভৌগলিক অবস্থান কিন্তু পূর্বেএমন ছিল না। এ চরফ্যাশন ছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রঅসংখ্য চর। ঠিক তখনই বরিশালের জেলাম্যাজিষ্ট্রেট এইচ,জে,এইচ ফ্যাশন সাহেব১৮৮৫-৮৭ সালের দিকে প্রশাসনিক ভাবে এঅঞ্চলের চরগুলির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং এলাকারপ্রান কেন্দ্র বর্তমান চরফ্যাশন বাজারটি গঠনকরেন। মিঃ ডোনাবানের পরিকল্পনা অনুসারেপ্রস্তাবিত এ বাজারের নাম রাখা হয় চরফ্যাশনবাজার। পরবর্তীতে এলাকার একমাত্র প্রানকেন্দ্রচরফ্যাশন বাজারের নাম অনুসারে গোটাএলাকার নাম করন করা হয় চরফ্যাশন। তিনিচরফ্যাশনের উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টাকরেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা 

ভোলা দ্বীপটি পদ্মা, মেঘনা ও বহ্মপুত্র নদীর শাখাপ্রশাখায় বাহিত পলি দ্বারা গঠিত। পলি, লতা-

পাতাও কচুরিপানা ভাসমান অন্যান্য আবর্জনা ধীরেধীরে জমা হয়ে প্রবাল দ্বীপের ন্যয় চর পড়া শুরুহয়, এর সাথে পলি জমে-এ মূল ভূখন্ডের উৎপত্তি হয়। এই দ্বীপের বয়স প্রায় ৫০০ বছর ভোলা নামকরণের পিছনে স্থানীয়ভাবে একটিকাহিনী প্রচলিত আছে । ভোলা শহরের মধ্যে দিয়েবয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মতঅপ্রশস্ত ছিলনা । এক সময় এটা পরিচিত ছিলবেতুয়া নদী নামে । 

খেয়া নৌকার সাহায্যেলোকজনের পারাপারের কাজ চলত ।  খুব বুড়োএক মাঝি এখানে খেয়া নৌকার সাহায্যেলোকজনকে পারাপার কাজ করত । তার নামছিল ভোলা গাজী পাটনী । আজকের যুগিরঘোলেরকাছেই তার আস্তানা ছিল । এই ভোলা গাজীর নামঅনুসারেই এক সময় স্থানটির নামকরণ হয় ভোলা।

দৌলতখান উপজেলা

বাংলাদেশের উপকুলীয় ভোলার দ্বীপন্জল ভোলারপূর্বপ্রান্তে সর্বনাশী মেঘনার তীরে অবস্থিতদৌলতখান উপজেলা  প্রচলিত কথায়, ইতিহাসেরভাষায় দৌলতখান ভদ্রলোকের বাসস্থান । এক সময় দৌলতখান ছিল ভোলার

 প্রান কেন্দ্র । শতবর্ষ পূ্র্বেএখানে ছিল মহাকুমা সদর ।সাগর পারের চর জঙ্গলআবেদত্ত কাহিনীর প্রথম সূত্রপাত মেঘনা  তীরের এইদৌলতখানেই । মোঘল আমলের প্রথম দিকেও এইএলাকা ছিল আরাকান রাজ্যের মগ , জলদস্যু ওপর্তুগীজ ফিরিংঙ্গিদের আশ্রয়স্থল ।

 বাংলার মোঘলসুবেদার মীর জুমলার মৃত্যুর পর আমলগীরের মামাএবং  সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের ভাই আসক খানের পুত্রশায়েস্তা খানকে বাংলার সু্বেদার নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ১৯৬৬ খিঃ চট্রগ্রাম পর্তুগীজদেও দুর্গ জয়করেন । এসময় মোগল বাহিনীর দুর্ধর্ষ সেনাপতিশাহাবাজ খা তাহার একজন দুঃসাহসিক সামান্তসেনা দৌলতখার সহায়তায় বঙ্গোপসাগর ওমেঘনার সঙ্গমস্থল সন্দীপ ও উত্তর দিকে মেঘনারউপকুল বাহিয়া পর্তুগীজ জলদস্যৃ ও আরাকানেরমগদিগকে স্থল ও নৌ যুদ্বে পরাজিত করেতাহাদেরকে বিতারিত করে এই এলাকায় স্থানীস্থাপন করেন । অতপর মোঘলদের রীতি অনুসারেমেঘনা তীরের তাদের বিজিত এলাকা দুইভাগেবিভক্ত করে ইলিশা নদির উত্তর দিকের নাম রাখেনউত্তর শাহাবাজপুর এবং দক্ষিন অংশের নাম রাখেন দৌলতখান ।

মনপুরা উপজেলা

প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরাহচ্ছে ভোলা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বেসাগরের বুকে নয়নাভিরাম আরেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।মনগাজী নামে এখানকার এক লোক একদা বাঘেরআক্রমনে নিহত হন। তার নামানুসারে মনপুরানাম করন করা হয়। ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে অত্রউপজেলাপট গঠিত হলেও বর্তমানে নবগঠিত ৪নংদক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন গঠিত হওয়ায় বর্তমানেইউনিয়ন সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪টি। প্রাকৃতিকসৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত এ্ উপজেলায়রয়েছে প্রাকৃতির অপরুপ রুপ। জাতির জনকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ উপজেলায়চিন্তানিবাস করার ইচ্ছা পোষন করেছিলেন। প্রতিবছর শীতে শত শত পর্যটক ভীর করে এউপজেলার নয়নাবিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে।এ উপজেলা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে ট্রলার যোগেনিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।উপজেলা সদরে আবাসিক হোটেল ছাড়াও এখানেরয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত জেলা পরিষদডাক বাংলো, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাকবাংলো, কারিতাস ডাক বাংলো প্রভৃতি।

তজুমদ্দিন উপজেলা

জনৈক তমিজউদ্দিন এর নামানুসারে এ উপজেলারনামকরণ করা হয়। উপজেলার পূর্বে মেঘনা নদী,উত্তর ও পশ্চিমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা এবংদক্ষিণে লালমোহন উপজেলা। ১৮৭২ সালের ১৫ইজানুয়ারীর জরীপে ইহাকে দৌলতখাঁ থানার একটিআউটপোষ্ট হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।২৮/০৮/১৯২৮ ইং তারিখ থেকে এই থানাটি একটিআলাদা থানার মর্যাদা পেয়ে আসছিল। মনপুরা এইথানার একটি ইউনিয়ন ছিল। নদীভাঙ্গনে এই থানাঅতি সংকুচিত হয়ে আসছে। অপর দিকে যাতায়াতও অন্যান্য কারণে মনপুরা আলাদা থানার স্বীকৃতিপাওয়ায় ইহার আয়তন আরো কমে যায়।১৪/০৩/১৯৮৩ তারিখে ভোলা জেলার দ্বিতীয় উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

লালমোহন উপজেলা

লালমোহন নামকরনে ইতিহাস একটিব্যতিক্রম ঘটনা। আনুমানিক ১৯০৪ সালের দিকেবিভিন্ন পারিপার্শিক অবসা্থান ও সুযোগ সুবিদাবিবেচিত করে সাথানীয় মরহুম মেহের আলী  তারনিজস্ব ভূমির ইপর একটি সাধারন হাট বা বা্জারপ্রতিস্টা করেন নিজের নাম অনু সারে এর নামরাখেন “মেহের গঞ্জ”।১৯১৯ সালের ৭ই জানুযারীআনুষ্ঠানিক ভাবে লালমোহন থানার কার্যক্রম শুরুহয়।

কিভাবে যাবেন ভোলাতে ???

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে।   কর্নফুলি ও তাসরিফ লঞ্চ চলাচল করে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়।   ছাড়ার সময় রাত ৮ – ৯ ঘটিকার মধ্যে লঞ্চ সদরঘাট থেকে ত্যাগ করে চলে যায়।  ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় পৈাছায় ভোর ৫ ঘটিকায়।   এর মধ্যে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা, দৌলতখান উপজেলা, তজুমদ্দিন উপজেলা এবং সর্বশেষ চরফ্যাশন উপজেলা লঞ্চ থামায়।   লঞ্চ ভ্রমনে আপনি উপভোগ করবেন ভোলা জেলার অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য।  আপনাকে মনোরোম প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে যাবে সে এক কল্পনা জগতে।  লঞ্চ ভ্রমনের সময় দেখবেন অনেক সারি সারি নৈাকা মাছ ধরছেন অনেক রাত জেগে জেলেরা।   সে এক মিলন মেলার মধ্যে পরে যায় জেলেদের মধ্যে। 

কত লঞ্চ ভাড়া ??

আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক দিগন্তের পথে।   যদি হয় পূর্নিমার রাত তাহলে আর কোনো কথা নাই।   চাঁদের জোছনা আলো আপনাকে বারে বারে মূর্ছনার প্রতিক হয়ে দাড়াবে । ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় যেতে হলে আপনাকে   লঞ্চ এর ভাড়া গুনতে হবে মোটামুটির সাধ্যের মধ্যে।   ডেকের ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা ।   সিঙ্গেল কেবিন এর ভাড়া ১০০০ টাকা ও ডাবল কেবিনের এর ভাড়া ১৮০০ টাকা ।   যেহেতু ভোলা জেলার ভ্রমনে অনেক সময় আপনাকে লঞ্চে থাকতে হবে তাই  লঞ্চ মালিকরা লঞ্চে কোনো সৈাখিন বা বিলাশ সিটের ব্যবস্থা রাখে নাই। 

পর্যটন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে চরফ্যাশন জ্যাকব টাওয়ার

উদ্বোধনের অপেক্ষায় দ্বীপজেলা খ্যাত ভোলার চরফ্যাশনে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ‘জ্যাকব টাওয়ার’, যা এরই মধ্যে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এ টাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে ভ্রমণপিপাসুদের আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত জ্যাকব টাওয়ারে পর্যটক আকর্ষণের সব ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। টাওয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলারে চোখ রাখতেই দেখা মিলবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরির নয়নাভিরাম সবুজের সারি। মনে হবে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ঘন বনজঙ্গল। ডানে-বামে চোখ ফেরাতে ভেসে উঠে তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। চোখ বন্ধ করে কান পাতলেই শোনা যাবে ঢেউয়ের গর্জন। এভাবে চোখের সামনে উঠে আসবে চারপাশের প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

প্রায় ২২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থান করে মনে হবে মেঘের ভেলায় ভাসছি, হাত বাড়ালেই পেঁজা তুলোর মতো মেঘ যেন ছোঁয়া যায়। জেলা শহর ভোলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সাগরকোল ঘেঁষে উপজেলা শহর চরফ্যাশনে নির্মিত এ টাওয়ার উদ্বোধনের মাধ্যমে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে বলে আশা করছেন সবাই। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা ৫ বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞের ফসল এটি।

সাবেক বন পরিবেশ উপমন্ত্রী ভোলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের একান্ত চেষ্টা শ্রমে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেবাংলার আইফেল টাওয়ারপরিচিতি পাওয়া এই স্থাপনা। উপমন্ত্রী জ্যাকব ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলেছেন তার নির্বাচনী এলাকা চরফ্যাশন এবং মনপুরা উপজেলাকে। চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এরই মধ্যে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের কাছে।

প্রায় ১ একর জমিতে এ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চরফ্যাশন পৌরসভা। ২২৫ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত নির্মিত এ টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্পন সহনীয়। ভূমির উপরিতল থেকে টাওয়ারের ওপর থাকা গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ১৩ জনের ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার, যার সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যাবে। এছাড়া বিশ্রামাগার এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ রয়েছে খাবারের সুব্যবস্থা। টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় আরও ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম সুইমিংপুল, বিশ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার ফ্যাশন স্কয়ার ও অত্যাধুনিক শিশুপার্ক।

চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) 

এর অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে। ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়। চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। বর্তমানে কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।

কিভাবে যাবেন চর কুকরি মুকরিতে ???

চরফ্যাশন থেকে কচ্ছপিয়া ঘাটে আসতে ৩০-৪০ মিনিট লাগবে।  লেগুনার ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা ।  আর রির্আব নিলে ভাড়া লাগবে ৫০০-৬০০ টাকা।   চরকচ্ছপিয়া ঘাট থেকে লোকাল ট্রলার ভাড়া ৫০ টাকা ।   তেতুলিয়া বাজার থেকে ট্রলার যোগে চরকচ্ছপিয়া যায়।   প্রতিদিন সকাল ৯টায় এবং দুপুর ১২ টায় লোকাল ট্রলার ছাড়ে।  তাই ট্রলার উঠতে সময় যোগে আগে থেকে ঘাটে উপস্হিত থাকতে হয়।  

খামাড়বাড়ি

চর ফ্যাশন থেকে খামাড় বাড়ি যেতে মেটামুটি অনেক সময় লাগে। আপনি চাইলে অটোবাইক রিকসা যোগে যেতে পারেন খামার বাড়িতে । ভাড়া পরবে আসা-যাওয়া ৩০০-৪০০ টাকা । খামার বাড়িতে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা জনপ্রতি । খামার বাড়িতে দেখতে অনেক সুন্দর । মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ পরিবেশে আপনি হারিয়ে যাবেন ।