সুন্দরবন

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

            সুন্দরবন কিভাবে যাবেন ? কি দেখবেন ? বিস্তারিত পড়ুন !!!

সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম একটি ম্যানগ্রোব ফরেষ্ট।   বিশ্বের অন্যান্য পর্যটনের মধ্যে মাথা তুলে দারিয়ে আছে।   আমরা যখন পশু-পাখির আবাসের কথা চিন্তা করি  তখনই বনের কথা মনে পরে যায়।   সুন্দরবন আমাদের জন্যে গর্বের বিষয়।  

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। সারি সারি সুন্দরী, পশুর, কেওড়া, গেওয়া এবং গোলপাতা গাছ। দৃষ্টি যতদূর যায় যেন কোনো শিল্পী সবুজ অরণ্য তৈরি করে রেখেছেন। 

ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন 
ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে চাইলে সরাসরি বাসে খুলনা যেতে হবে। এছাড়া ট্রেন ও প্লেনেও খুলনা যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে খুলনার ট্রেনে উঠে খুলনা শহরে যেতে পারবেন। প্লেনে যেতে হলে যশোর নামতে হবে। যশোর থেকে বাস অথবা গাড়ী ভাড়া করে খুলনা যাওয়া যায়। খুলনা শহরে অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানে রাতে অবস্থান করে পরের দিন সকালে সুন্দরবন যেতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রথম যেতে হবে মংলা। খুলনা থেকে প্রাইভেট গাড়ি অথবা বাসে মংলা যাওয়া যায়। দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। মংলা ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা লঞ্চে যেতে হবে সুন্দরবন। মংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল যেতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। সকালে খুলনা থেকে মংলা হয়ে সুন্দরবন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে আবার খুলনা ফিরে আসা যায়। এছাড়া খুলনা স্টিমার ঘাট থেকে সকালে সরাসরি সুন্দরবন লঞ্চ ছেড়ে যায়। এগুলো বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির। তাদের কাছ থেকে আগে টিকিট কেটে রাখতে হবে।   

ভ্রমণকালে যা সঙ্গে রাখতে হবে 
ভ্রমণকালে সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স ও অভিজ্ঞ টুর অপারেটর। বন কর্মকর্তার অনুমতি প্রাপ্তির পর ভ্রমণকালে সুদক্ষ ও সশস্ত্র বন প্রহরী। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবহারের কাপড়। এক জোড়া কেডস, শীতকালে গেলে শীতবস্ত্র, একটি করে কম্বল, রেডিও, ক্যামেরা।  নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততায় আপনি যখন ক্লান্ত। তখনই ঘুরে দেখে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সুন্দরবন। 

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

সুন্দরবনে কী কী দেখবেন
পশুর নদী থেকেই মূলত শুরু হবে সুন্দরবন যাত্রা, নৌকায় ওঠার পরপরই চোখের সামনে ফুটে উঠবে সুন্দরবনের গাছের সারি। তরতর করে নৌকা এগোবে পশ্চিম দিকে, নৌকার ছাদে বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। সেখান থেকেই খুব ভালোমতো নদীতে খেয়াল রাখলে দেখা যাবে, কিছু ডলফিন একটু পর পর ভেসে উঠছে আবার ডুব দিচ্ছে। এগুলোকে বলা হয় বটলনোজ ডলফিন বা ইরাবতী ডলফিন। নৌকা ৪০ মিনিট চলার পর সোজা এসে থামবে করমজলের ঘাটে। করমজলে যাওয়ার সময় জোয়ার-ভাটার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। ভাটার সময় করমজলে গেলে তাড়াতাড়ি যাওয়া যাবে।

করমজল মূলত হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র। করমজলে নেমেই বনে ঢোকার টিকিট কাটতে হবে, জনপ্রতি ২০ টাকা করে টিকিট কেটে বনে পা ফেললেই গা ছমছম করে উঠবে শিহরণে। নিমেষেই চোখ চলে যাবে গাছের আড়ালে, গোলপাতার ফাঁকে, হেতাল বনের ঝোপে। কিছু একটা নড়তে দেখলেই মনে হবে, এই বুঝি বিরাট গর্জন করে ছুটে আসছে বনের রাজা, বেঙ্গল টাইগার। করমজলে ঢুকতেই চোখে পড়বে সুন্দরবনের বিশাল একটা থ্রিডি ম্যাপ। এখানে খুব সহজেই নিজেদের অবস্থান দেখা যাবে। এরপর সোজা হয়ে দাঁড়ালেই দুটো রাস্তা আসবে সামনে-একটা এঁকেবেঁকে বাঁ দিকে হারিয়ে গেছে, আরেকটা ডানে হাত বাড়িয়ে ডাকছে। ডানের রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলেই একটা বিশাল খাঁচা দেখা যাবে, এখানে হরিণের বসবাস। মূলত এটা হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, ছোট, বড়, মাঝারি-সব আকৃতির হরিণ ছুটে আসবে আপনাদের দেখে। মানুষে তাদের কোনো ভয় নেই, ঘাস আর কচি পাতা ছিঁড়ে দিলে খুব আয়েশ করে হাত থেকে নিয়ে খেতে শুরু করবে। এরপর রয়েছে কুমিরের আস্তানা। এখানে এক মাস বয়সী কুমির থেকে শুরু করে এক বছর বয়সী কুমির রয়েছে। দেখলে অবাক হয়ে যেতে হবে যে এই বিশালদেহী কুমিরের সাইজ একসময় থাকে টিকটিকির মতো!

কুমির দেখা শেষ করে ঢুকতে হবে বাঁ পাশের ট্রেইলে। একে বলা হয় ‘মাংকি ট্রেইল’। সুন্দরবনের মাঝখান দিয়ে বানানো কাঠের এক রাস্তা ধরে কিছুদূর হাঁটলেই চোখে পড়বে ৩০ থেকে ৪০টি বানরের এক বিশাল দল। বছরের যেকোনো সময়ে গেলেই এদের একই জায়গায় পাওয়া যাবে। এই দলে বাচ্চা থেকে শুরু করে বিশালদেহী সব বয়সের বানর রয়েছে। মানুষ দেখলেই কোথায় ভয় পেয়ে চলে যাবে তা না, বুক চিতিয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে। তাদের মধ্যে বয়সে বড় নেতাটি, বন বিভাগ তার নাম দিয়েছে ‘ভোলা’-এবার সে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে, কোনোভাবেই যেতে দেবে না। আশপাশের সব বানর একসঙ্গে চেঁচামেচি করছে, সে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি! এই সময় যদি কেউ ভয় পেয়ে দৌড় দেয়, তাহলেই শেষ। বানরের দল খামচে একাকার করে দেবে! হাতে কোমল পানীয়র একটা আধখাওয়া বোতল থাকলে সেদিকেই থাকবে নেতার নজর। কালবিলম্ব না করে বোতল বাড়িয়ে দিলেই সে খপ করে ধরে ফেলবে, এরপর চোখের নিমেষে ঢকঢক করে পুরো বোতল সাবাড় করে দেবে! তাজ্জব হয়ে দেখবেন, এবার সে পথ ছেড়ে দিয়েছে। ভাবখানা এমন যে তোমাদের এই বনে ট্যাক্স দেওয়া হয়ে গেছে, এবার তোমরা ঘুরে আসতে পারো। গোটা তিরিশেক বানরের মাঝখান দিয়ে আর কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাকি রাস্তা পার হয়ে যাওয়া যাবে।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

আকর্ষণীয় ট্যুর স্পট:
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের টাইগার পয়েন্ট খ্যাত কটকা ও কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্র, মংলা বন্দরের অদূরে কর্মজল বন্যপ্রাণী ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হারবাড়িয়া ইকোট্যরিজম কেন্দ্র, এবং পশ্চিম বিভাগের হিরণপয়েন্ট খ্যাত নীলকমল অভয়ারণ্য, শেখেরটেক প্রাচীন মন্দির, সাতক্ষীরা-বুড়িগোয়ালিনীর কলাগাছিয়া ইকোট্যরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য- পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত এসব স্পটে কুমির প্রজনন, অসুস্থ হরিণের পরিচর্যা, হাজার বছরের পুরোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষসহ প্রকৃতির অপরূপ সব দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। এসব স্পটে এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত কাঠের তৈরি ওয়াকওয়ে ধরে বনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গোসাপ, কাঁকড়া অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যও দেখতে পারেন। টাইগার পয়েন্ট, হিরনপয়েন্ট বা বুড়িগোয়ালিনী, হারবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলে যেতে পারে। এসব স্থানে রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।

দুবলার চর:
বন বিভাগের নির্ধারিত ট্যুর স্পটের বাইরে জেলেদের মৌসুমী বসতি দুবলার চরেও যান অনেক পর্যটক। শীতকালে বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত মাছ শুঁটকী করার দৃশ্য আর বর্ষাকালে ইলিশ মাছ ধরার মহোত্সব দেখতে পাবেন সেখানে। দেখা যাবে হাজার হাজার জেলের কঠোর জীবন সংগ্রামের চিত্রও। প্রতিবছর এখানে রাস পূর্ণিমায় বসে রাসমেলা, যা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক পর্যটকও ভিড় করেন সেখানে। রাসমেলা পরিণত হয় লাখো মানুষের মিলনমেলায়।

পরশমনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস

খরচ:
সুন্দরবনের প্যাকেজগুলোতে জাহাজে ওঠার পর থেকে তিনদিনের টুর শেষে আবার ঘাটে ফেরা পর্যন্ত লঞ্চভাড়া, ফুয়েল, খাবার, নাস্তা, প্রত্যেকের সরকারী পাশ, রেভিনিউ, গাইড, গানম্যান, বনে ঘুরার ছোট নৌকা সহ অন্যান্য সব খরচ ইনক্লুড থাকে। অবশ্য পকেটে হিউজ পাত্তি নিয়া গেলেও সেখানে খরচ করার কোন যায়গা নাই! অনেকে ঢাকা থেকেও প্যাকেজ করে। এখানে খুলনা বা মংলা থেকে সম্ভাব্য খরচ উল্লেখ করা হল। 

#খাবারের মান ও জাহাজ ভেদে মাঝারি ধরনের একটি টুরে সাধারনত খরচ পরে ৬০০০-৮০০০ টাকা।

#বেশি ভালো যেতে চাইলে এর উপরে পারহেড ১৯,০০০ টাকা পর্যন্তও প্যাকেজ আছে।

#আর সুন্দরবন টুরের খরচ কমানোর যে চেস্টা করছিলাম। সেই মোতাবেক স্টুডেন্টদের জন্য সুখবর হল এই যে ৩৫ থেকে ৪০ জন হলে একটি লঞ্চে ফ্লোরিং করে ৪০০০-৫০০০ টাকার মধ্যেও তিন দিনের সুন্দরবন ভ্রমন সম্ভব।

তবে ন্যাশনাল হলিডে গুলোতে খরচের কোন লিমিট নেই। আর পরাপর দুইদিন যদি ছুটি পরে তাহলেতো কোন কথাই নেই। খরচ আকাশও ছুতে পারে। আর এডভান্স দিয়ে এক দেড় মাস আগে বুকিং না দিলে খালি পাওয়াই কঠিন। 

অনেকে জাহাজ ভাড়া নিয়ে নিজেরাই আয়োজন করতে চায়, হ্যা সুন্দরবনে নিজেরাও আয়োজন করা সম্ভব, কিন্তু প্যারা মহদয় আপনাকে এতটাই অতিষ্ঠ করিতে পারে যে, আপনার টুরের আনন্দ মাটি না হয়ে কাঁদায় পরিনত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি!

কিভাবে যাবেন সাজেক ভ্যালি ???

Discover of Tourism

সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley), বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসাবে খ্যাত। সমুদ্রপৃষ্ঠ  থেকে যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪০ কিলোমিটার। সাজেক যেতে হলে অবশ্যই বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হবে।

কি দেখবেন

চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন চমৎকৃত। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।

Discover of Tourism

কংলাক পাহাড় হচ্ছে সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। আর সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। কংলাক পাড়া থেকেই কর্ণফুলী নদী উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। চাইলে রুইলুই পাড়া থেকে দুই ঘন্টা ট্রেকিং করে কমলক ঝর্ণা দেখে আসতে পারবেন। সুন্দর এই ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামেও পরিচিত।

দিন কিংবা রাত সাজেক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত, সময় গড়ায় তবু সাজেক পুরাতন হয় না। সাজেকে গেলে অবশ্যই সকালে ভোরের সময়টা মিস করবেন না। মেঘের খেলা আর সূর্যোদয়ের আলোর মেলা এই সময়েই বসে। এই জন্যে আপনাকে খুব ভোরে উঠে চলে যেতে হবে হ্যালিপ্যাডে, সেখান থেকেই সবচেয়ে সুন্দর সূর্যোদয় দেখা যায়। বিকেলের কোন উঁচু জায়গা থেকে সূর্যাস্তের রঙ্গিন রূপ আপনাকে বিমোহিত করবেই। আর সন্ধ্যার পর আকাশের কোটি কোটি তারার মেলা, আপনার প্রাণ জুড়িয়ে দিবে নিমিষেই। আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখা পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের। ঘুরে দেখতে পারেন চারপাশ ও আদিবাসীদের জীবন যাপন। সহজ সরল এই সব মানুষের সান্নিধ্য আপনার ভাল লাগবে।

আর হাতে সময় থাকলে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে ঢু মেরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার থেকে।

কখন যাবেন

সাজেকের রূপের আসলে তুলনা হয় না। সারা বছরই বর্ণিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। বছরের যে কোন সময় আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন। তবে বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। তাই এই সময়টাই সাজেক ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।

সাজেক যাবার উপায়

সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। তাই প্রথমেই আপনাকে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে চাইলে সৌদিয়া, শ্যামলি, শান্তি পরিবহন, এস আলম, ঈগল ইত্যাদি বাসে করে যেতে পারবেন। নন এসি এইসব বাস ভাড়া ৫২০ টাকা। এসি বাসে যেতে চাইলে বিআরটিসি ও সেন্টমার্টিন পরিবহনে ৭০০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। আর বাসগুলো সাধারণত রাত ১০ টার মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া শান্তি পরিবহন বাস সরাসরি দীঘিনালা যায়, ভাড়া ৫৮০ টাকা। ঢাকায় গাবতলী, কলাবাগানসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে এইসব পরিবহণের কাউন্টার। ছুটির দিন গুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকেট কেটে রাখা ভালো নয়তো পড়ে টিকেট পেতে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরের কাছ থেকে জীপগাড়ি/চাঁন্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পারবেন। যাওয়া আসা সহ দুইদিনের জন্যে ভাড়া নিবে ৮,০০০-১০,০০০ টাকা। এক গাড়িতে করে ১২-১৫ জন যেতে পারবেন। তবে লোক কম থাকলে অন্য কোন ছোট গ্রুপের সাথে কথা বলে শেয়ার করে গাড়ি নিলে খরচ কম হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সিএনজি দিয়ে সাজেক যেতে পারবেন। রিজার্ভ ভাড়া লাগবে ৪০০০-৫০০০ টাকা। তবে পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা বলে সিএনজি দিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।

Discover of Tourism

জীপ সমিতি পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যান সমিতি কতৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা

স্থান যাত্রার ধরণ
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক আসা-যাওয়া
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রি যাপন, আলুটিলা রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ সহ
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ২ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ২ রাত্রি যাপন, আলুটিলা রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ সহ

এছাড়া আপনি যদি একা বা ২-৩ জন হন তাহলে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্ত্বর থেকে অনেক গ্রুপ পাওয়া যায়, সেখানে অন্য গ্রুপের সাথে কথা বলে তাদের সাথে শেয়ার করে যেতে পারবেন অথবা জিপ সমিতির অফিসে গেলে ওরা ম্যানেজ করে দিবে অন্য কোন গ্রুপের সাথে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে দিঘীনালায় গিয়ে সেখান থেকে সাজেক যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার। খগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা বাস ভাড়া ৪৫ টাকা, মোটর সাইকেল জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা। আবার চাইলে মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে সাজেক ঘুরে আসা যায়। যে কোন গাড়ি ঠিক করার আগে কি দেখবেন, কি করবেন এইসব ভালো মত কথা বলে নিবেন।

তবে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, যেভাবেই যান আপনাকে দিঘীনালায় ১০টার আগেই পৌছাতে হবে। দিঘীনালা থেকে বাকি রাস্তা নিরাপত্তার জন্যে আপনাকে সেনাবাহীনির এসকোর্টে যেতে হবে। সেনাবাহিনীর এসকোর্ট দিনে দুইবার পাওয়া যায়। সকাল ১০ টায় একবার, আবার বিকেল বেলায়। সকালের এসকোর্ট মিস করলে আপনাকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, বিকেলের টা মিস করলে আপনাকে পরেরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এসকোর্ট ছাড়া যাবার অনুমতি পাবেন না। দিঘীনালা পৌঁছে হাতে সময় থাকলে হাজাছড়া ঝর্ণা ঘুরে দেখে আসতে পারবেন।

দিঘীনালা থেকে যাবার পথে বাগাইহাট, মাচালং বাজার, তারপর রুইলুই পাড়া হয়ে পৌঁছে যাবেন সাজেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যেতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন ঘন্টা। এই সময় আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা ধরে চলার সময়টুকু আপনার জন্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চারদিকে সারি সারি পাহাড় আর সবুজের সমারোহ আপনাকে ভুলিয়ে দেবে পথের সব ক্লান্তি।

Discover of Tourism

চট্রগ্রাম থেকে সাজেক ভ্রমণ : চট্রগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি বা দিঘীনালা হয়ে সাজেক যেতে পারবেন। চট্রগ্রামের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস সারাদিনে ৪টি বাস চলাচল করে, ভাড়া ২০০টাকা । এছাড়া অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের (ভাড়া ১৯০টাকা) বাস চলাচল করে। চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা।

রাঙ্গামাটি থেকে সাজেক ভ্রমণ : রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথ এবং সড়কপথ উভয়ভাবেই বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭ টা ৩০ থেকে ১০টা ৩০ এর মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে যেতে আর সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা। জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। রাঙ্গামাটি বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭ টা ৩০ থেকে ৮ টা ৩০ ঘটিকার মধ্যে বাস ছাড়ে, জনপ্রতি ভাড়া নেয় ২০০ টাকা। সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। এছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব। বাঘাইছড়ি থেকে জীপ (চাদেঁর গাড়ি) অথবা মোটর সাইকেলে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায় এতে জনপ্রতি ভাড়া লাগে ৩০০/-টাকা।

Discover of Tourism

কোথায় থাকবেন

সাজেকে থাকার জন্যে অনেক ৪০ এর অধিক রিসোর্ট ও আদিবাসী কটেজ আছে। এক রাতের জন্যে জনপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া পরবে। ছুটির দিনে যেতে চাইলে আগে মাসখানেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো, নয়তো ভালো রুম পাবার নিশ্চিয়তা কম। আর কম দামে থাকতে চাইলে আদিবাসী কটেজ গুলোতে থাকতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন অনেক কটেজ হয়েছে। সাজেকের সব কটেজ থেকেই মোটামুটি সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়।

সাজেকের রিসোর্ট কটেজ

সাজেক রিসোর্ট (Sajek Resort) : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট সাজেক রিসোর্ট। এই আর নন এসি রুম গুলোর ভাড়া ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা। আছে খাবারে ব্যবস্থা। সেনাবাহিনিতে কর্মরত বা প্রথম শ্রেনীর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে ডিসকাউন্ট রয়েছে।

রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Resort) : মোট ৫ টি রুম আছে। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। নিচ তলার রুম ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন।

মেঘ মাচাং (Megh Machang) : সুন্দর ভিউ ও তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্যে মেঘ মাচাং রিসোর্ট অনেকের পছন্দ। আছে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। মেঘ মাচাং-এ পাঁচটি কটেজ আছে । ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা।

 জুমঘর ইকো রিসোর্ট (Jumghor Eco Resort) : থাকার জন্যে কাপল রুম এবং শেয়ার রুম দুটাই আছে। কটেজ প্রতি ভাড়া ২০০০-৩০০০ টাকা।

 লুসাই কটেজ (TGB Lushai Cottage) : কাপল রুম, ডাবল বেড সহ আছে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। সুন্দর ডেকোরেশন ও ভালো ল্যান্ডস্কেপিক ভিউয়ের এই কটেজের রুমের ভাড়া ২০০০-৩০০০ টাকা।

মেঘ পুঞ্জি রিসোর্ট (Meghpunji Resort) : সুন্দর ইকো ডেকোরেশনের ও আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপিক ভিউ সহ মেঘপুঞ্জিতে আছে ৪টি কটেজ, প্রতিটিতে ৩-৪ জন থাকা যাবে। ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা।

রিসোর্ট রুংরাং (Resort Rungrang) : রুংরাং রিসোর্টে আছে ৬টি ডাবল এবং ৪টি কাপল রুম। ভাড়া ডাবল বেড – ২৫০০ টাকা, কাপল- .২০০০ টাকা। উইক ডে তে রুম ট্যারিফের উপর ২০% ডিসকাউন্ট।

 আলো রিসোর্ট (Alo Resort) : সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়ায়। ৬ টি রুমের মধ্যে ডাবল রুম ৪ টি (২টি বেড)। ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা।

 আদিবাসী ঘর: এ ছাড়া আরও কম খরচে থাকতে চাইলে আদিবাসিদের ঘরেও থাকতে পারবেন। জনপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকায় থাকা যাবে। ফ্যামিলি বা কাপল থাকার জন্যে আদর্শ না হলেও বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে থাকা যাবে।

কিভাবে যাবেন কলকাতায় ???

কিভাবে যাবেন কলকাতায় ???

কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা।

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন?

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ভ্রমনের বিস্তারিত তথ্য

ভুটান ভ্রমন করবেন কেন? পৃথিবীর এত এত দেশ থাকতে আপনাকে ভুটান ভ্রমন করতে হবে কেন? এই জিজ্ঞাসা সবার আগেই করা উচিৎ। তার কারন, যে দেশে ভ্রমন করবেন সে দেশ সম্পর্কে আপনার জানা থাকা জরুরী। তাই ভুটান সম্পর্কে কিছু ধারনা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। ভ্রমন প্রিয় মানুষের প্রথম এবং প্রধান উদ্যেশ্য থাকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য উপভোগ করা। যতটুকু সম্ভব কাছে থেকে উপভোগ করা। এছাড়াও থাকে সেই ভৌগলিক এলাকার কালচার, আচার আচরন চলাফেরা ইত্যাদি। এসব দিক বিবেচনা করলে ভুটান ভ্রমন একজন পর্যটকের ভ্রমন তালিকায় উপরের দিকে থাকে। ইউরোপ আমেরিকার অনেক মানুষই এই দেশটিকে ভ্রমন করে তৃপ্ত হয়েছেন। তাহলে আপনি কেন নন? আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন?

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন? কিভাবে ভুটান যাবেন?

ভৌগলিক দিক থেকে ভুটান এবং বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব অনেক কম। এ কারনে সড়ক পথে ভ্রমন করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়। ভারতের ট্রানজিট ভিসা নেওয়াটা একেবারে সহজ ব্যাপার নয়। অনেক ঝামেলার। তাছাড়াও সড়ক পথে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ভুটান যেতে প্রায় ২৪ঘন্টার মত সময় লাগে। কারন বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থল বন্দর খোলে সকাল নয়টার দিকে। আপনি ঢাকা থেকে যে বাসে চড়েই যান না কেন, তা যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। ট্রাফিক জ্যাম না থাকলে গিয়ে পৌঁছায় ভোর ছয়টার দিকে। এবার বসে থাকতে হয় স্থল বন্দর খোলার জন্যে। খোলার পরেও আরাম নেই, সেখানে অনেক লম্বা লাইন। এখান থেকে পার পেতে পেতে প্রায় দুপুর একটা। দুই দেশের স্থল বন্দরে ডিপারচার/এন্ট্রি নিতে নিতে দিনের অর্ধেক যাবে খতম হয়ে।

এ কারনে আপনি এসব ঝামেলা এড়াতে বিমানে যেতে পারেন। ভুটান বিমানে যেতে চাইলে আগে থেকে ভিসা প্রসেসিং এর দরকার নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বিমান বন্দরেই এন্ট্রি পারমিশন দেয়া হয়। তবে ভুটানের বিমান বন্দর খুবই ছোট এবং সেটা পারো নগরীতে অবস্থিত। এখানে খুবই কম ফ্লাইট থাকে। Drukair(Royal Bhutan Airlines) ঢাকা থেকে পারো পর্যন্ত কিংবা কোলকাতা থেকে পারো ফ্লাইট আছে।

তারপরেও কথা থেকে যায়। যাদের ভ্রমন বরাদ্ধ খুবই কম তাদের বেলায় বিমান নির্বাচন করা যায় না। বাস বা রেল পথ হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা উপায়।

বাসে যাবেন?

যেকোন বাস মানিক, হানিফ অথবা শ্যামলী পরিবহন ছাড়াও এস আর পরিবহন ব্যবহার করে বুড়িমারি চলে যান। বাসের লোকেরাই মাত্র ৯০০টাকার বিনিময়ে আপনাকে ঐ পাড়ে যেতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ সরকারের ভ্যাট যা এখান থেকেই বাসের লোকেরা জমা দিয়ে দেয়। সকাল ৯টা থেকে আপনার পালা আসতে যত সময় লাগে ততটুকুই হচ্ছে দেরি।

ঐ পাড়ে মানে ভারতে ঢুকার পর আপনার এন্ট্রি করানো হবে। সেখানেও একই বাসের কাউন্টার পার্ট বা টীম আপনাকে গ্রহন করে কাজটা বাংলাদেশী টাকা ১০০এ করে দিবে। এবার আপনার ভুটান যাবার পালা।

সরাসরি ভুটান কোন বাস যায় না। তবে আপনি চ্যাংরাবান্ধা বাস স্টপে গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে চলে যেতে পারেন ময়নাগুঁড়ি বাইপাস এ। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়ালেই কিছুক্ষন পরে পাবেন শিলিগুঁড়ি জয়গাঁ বাস। এই বাস অনেক স্টেশনে থামলেও আপনাকে ঠিকই নিয়ে যাবে জয়গাঁ পর্যন্ত। ভাড়া সাধারনত ৮০/৭০ রুপি।

জয়গাঁ এলে আপনাকে ইন্ডিয়া স্থল বন্দর খুঁজে নিতে হবে। ভ্যান বা রিক্সা নিয়ে খুঁজতে পারেন। সেখানে আবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ভুটান গেইট খোলা থাকে একই সময় পর্যন্ত। জয়গাঁ এ কাজ হয়ে গেলে চলে যান ভুটান গেইট। খুবই পরিচিত। অনেকেই দেখিয়ে দেয়। ভুটান গেইট এলে এখানে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়ে একটি ফর্ম পূরন করে পাসপোর্টের এক কপি ফটোকপি জমা দিলে এন্ট্রি পারমিশন পাওয়া যাবে। এন্ট্রি সাধারনত আপনার অন্যান্য দেশের ভিসার মেয়াদের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়। এখানে কোন বাড়তি খরচ নেই।

এতক্ষন ধরে যদি আপনি উল্যেখিত পথ আর যানবাহন ধরে এগিয়ে আসেন তবে ধরে নিচ্ছি তখন ভুটান সময় অনুসারে সন্ধ্যা ৬টা বা সাড়ে ৬টা বাজে। বাংলাদেশের সময়ও এখন তাই। এই সময়ে আপনি থিম্পু কিংবা পারো এর কোন দিকেই যেতে পারেন না। কারন সেখানে যেতে প্রায় ৫ঘন্টা লাগে। রাত ১০টার ভুটানে হোটেল খুঁজে পাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ন। আমার পরামর্শ হচ্ছে এখানে মানে পুয়েন্টসলিং এ থেকে যান। এখানে ৭৫০ রুপি থেকে শুরু করে অনেক বেশি দামের হোটেল আছে। যার যার ইচ্ছামতো হোটেল বুকিং নিয়ে নিন। রাত ৮টার আগে হোটেল না পেলে আপনার কপালে দুঃখ আছে হয়ত।

কিছু তথ্য মনে রাখুনঃ

সময়ঃ আগেও বলেছি, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় আর ভুটানের স্থানীয় সময় একই। তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। এখানে রাত ৮টায় সব দোকান পাট অবাক করা বিস্ময়ে বন্ধ করে দেয়।

খাবারঃ খাবার সব সময় সাথে রাখার দরকার নেই বলে মনে হয়। কারন এখানের খাবার তেমন দামী নয়। অন্তঃত আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের রেস্তোঁরার চেয়ে সস্তা। কিন্তু এই খাবার সন্ধ্যা হবার সাথে সাথে আপনাকে সাথে রাখতে হবে। কারন অনেক রাতে বা ১১টার দিকে যদি ক্ষিদে পায় আপনি খাবার পাবেন না।

অর্থনীতিঃ টাকা পয়সা বা ডলার যদি সাথে নিয়ে যান তবে তা চ্যাংড়াবান্ধাতেই ইন্ডিয়ান রুপি করে নিয়ে যান।  ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি চলে কোন বাধা ছাড়াই। তাই নিয়ে নিন যা লাগে। ভুটানে কোথাও আপনি ডলার কনভার্ট করার সুযোগ পাবেন না। যদিও পান তারা অনেক কম দামে কিনে নিবে।

যোগাযোগঃ ভুটানে একটি নিজস্ব টেলিকম(বি মোবাইল) আছে যার সিম কিনতে হলে অনেক দূরে অফিসে যেতে হয়। কিন্তু এটি না নিয়ে আপনি অন্য যে কোন টেলিকম লাইন নিতে পারেন। বি মোবাইল এর নেটওয়ার্ক ভাল নয়। তবে খরচ অনেক কম কিন্তু বি মোবাইলে। ইন্টারনেট ১জিবি ৯৯রুপি।

ইন্টারনাল যানবাহনঃ ভুটানের বাসে চড়ে ভ্রমন খুব ঝামেলার। ট্যাক্সি নিয়ে নিন যেখানে খুশি যেতে পারবেন। খরচ ইন্ডিয়া থেকে কিছু কম।

কোথায় কোথায় যাবেনঃ ইমিগ্রেশন এ যখন অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন তখন আপনার কাছে ভুটান ভ্রমনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার নাম চাওয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষেই থিম্পু, পারো এর নাম উল্যেখ করেন। এখান থেকে মূলত এই দুই জায়গায় ভ্রমনের অনুমতি দেয়া হয়। কেউ যদি পুনাখা যেতে চান থিম্পু থেকে অনুমতি নিতে পারেন। একই রকম ফর্ম পূরন করে পুনাখা যেতে হয়। ছুটির দিনে থিম্পু ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ থাকে।

কিভাবে ভুটান ভ্রমন করবেন এর প্রথম এবং প্রাইমারি তথ্য সমূহ দেয়ার চেষ্টা করেছি। এর পরে আবার অন্য সময়ে আরো বিস্তারিত কিছু তথ্য দেয়া হবে যাতে শুধু মাত্র বিভিন্ন স্থানের বর্ননা পাওয়া যাবে। এছাড়াও আপনাদের মধ্যে কেউ যদি কিছু জানতে চান তবে কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন।

নেপাল ভ্রমণ

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

   নেপাল ভ্রমণ

পোখারার কাছে সারাংকোট থেকে হিমালয় পর্বতমালার মাছাপুচ্ছুরে পর্বতের ওপর সূর্যোদয়।এবার ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বা করছেন। এই ছুটিতে প্রতিবেশী দেশ হিমালয়কন্যা নেপালের কথা ভাবতে পারেন আপনি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অল্প সময় এবং অল্প টাকায় এত চমৎকার একটি দেশে ঘুরতে যাওয়া সত্যি অসাধারণ অভিজ্ঞতার ব্যাপার। আপনার ছুটি কত দিনের তার ওপর ভিত্তি করে আপনার পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন। আকাশ ও সড়কপথে নেপাল যাওয়া যায়। তবে আকাশপথে খরচ বেশি হবে আর সময় ও শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা বেশি হবে সড়কপথে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু এবং কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা চলাচল করে প্রতিদিন। ঢাকা থেকে ফ্লাইটে কাঠমান্ডু পৌঁছাতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো। বোর্ডিং কার্ড নেওয়ার সময় বাঁ দিকে আসন নেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাহলে ল্যান্ডিংয়ের আগে একনজর হিমালয় দেখে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে নিরাপত্তা

তল্লাশিচৌকিতে দীর্ঘ লাইন হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। নেপালে শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাই নয়, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সুবিধাও রয়েছে।

তিন–চার দিনের ছুটি হাতে নিয়ে গেলে আপনি শুধু ঘুরতে পারবেন কাঠমান্ডু এবং এর আশপাশের কিছু এলাকা। আর সাত বা আট দিন সময় পেলে পোখারা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোও ঘোরার সুযোগ পাবেন আপনি। যাঁরা এভারেস্ট বা অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে ট্রেকিংয়ের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা পরিকল্পনা। বলে রাখি, সুন্দর আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পূর্বপরিকল্পনা ভীষণ জরুরি। পোখারার নয়নাভিরাম ফেওয়া লেক। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই বিনা মূল্যে করে নিতে হবে অন অ্যারাইভাল ভিসা। ভিসা করার সময় পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হয়, তাই সঙ্গে কয়েক কপি ছবি রাখবেন। সঙ্গে ছবি না থাকলে অবশ্য এয়ারপোর্টে ছবি তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এয়ারপোর্টেই পাবেন মানি এক্সচেঞ্জ আর ট্যাক্সি ভাড়া করার বুথ। এখানে কিছু ডলার নেপালি রুপিতে বদলে নিন ট্যাক্সি ভাড়া, হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য খরচের জন্য। সরকারি এজেন্সি থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করুন। ভাড়া সবখানেই চড়া, কিন্তু সরকারি এজেন্সির গাড়িচালক এবং গাড়িগুলো নির্ভরযোগ্য।

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকার নাম থামেল। এটি কাঠমান্ডুর পুরোনো এলাকার দিকে অবস্থিত। প্রতিটি গলিতে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং কেনাকাটার প্রচুর দোকান আছে। বেশির ভাগ ভ্রমণকারী থামেলেই থাকেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেশে বসেই দেখে নিতে পারেন আপনার বাজেট অনুসারে হোটেলগুলোর অবস্থা। এ ছাড়া ওয়ো (OYO) মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও খুঁজে নিতে পারেন আপনার পরিকল্পনামতো পছন্দের হোটেল। তবে বলে রাখি, অ্যাপে বা নেটে দেখা ছবি ও রেটিংয়ের সঙ্গে আসল জায়গার মিল সব সময় নাও থাকতে পারে। কাজেই সরাসরি থামেলে পৌঁছে, পায়ে হেঁটে কিছু হোটেল সরাসরি দেখে নিয়ে বুকিং করাও একটা ভালো উপায়। চেক-ইনের সময় দেখে নিন হোটেলে যেন গরম পানি, ওয়াই-ফাই, পরিষ্কার লিনেন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস থাকে। এ হোটেলগুলো আপনি প্রতিদিন বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। আর যাঁরা অনেকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকতে চান বা ব্যাকপ্যাকার পরিবেশে থাকতে চান, তাঁদের জন্য আছে জোস্টেল (Zostel) নামের দারুণ হোটেল চেইন। কাঠমান্ডু, পোখারা দুই শহরেই পাবেন জোস্টেলের সুবিধা। বুকিং করে নিতে হবে ওয়েবসাইট থেকে। এগুলোতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়

বাঙ্ক বেড আর ২ হাজার টাকার মধ্যে পাবেন আলাদা কক্ষ। সুবিধা ও চাহিদা অনুসারে দামের হেরফের হতে পারে। তাই আগেভাগে বুকিং করা ভালো।

হোটেলের আশপাশেই পেয়ে যাবেন খাবার রেস্তোরাঁ। অনেক সময় রেস্তোরাঁগুলোতে যে খাবার দেয় তা দুজনে ভাগ করে খাওয়াও সম্ভব। কাঠমান্ডু পৌঁছে ইন্টারনেট প্যাকেজসহ একটি মোবাইল সিমকার্ড কিনে নিন। নেপালে ফোনকলের খরচ অনেক বেশি। ইন্টারনেট থাকলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্রি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।

কাঠমান্ডুর বৌদ্ধনাথ স্তূপের প্রেয়ার হুইল।প্রথম দিন বিকেলের বাকি সময় কাটাতে পারেন থামেলের কাছে ‘গার্ডেন অব ড্রিমস’–এ ঘুরে। হেঁটে ঘুরতে পারেন পুরোনো কাঠমান্ডুর অলিগলি। দরবার স্কয়ারের দিকে সন্ধ্যাটা বেশ জমে ওঠে নানা বয়সী মানুষের ভিড়ে। পুরোনো কাঠমান্ডু আর থামেলের আশপাশটা পায়ে হেঁটে ঘোরাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যায় থামেলের গলিগুলো জমে ওঠে পর্যটকদের পদচারণে। ওপেন এয়ার রেস্তোরাঁর গানের আওয়াজ আর বাতাসে প্রেয়ার ফ্ল্যাগের আলোড়ন আপনাকে আমোদিত করবে। হালকা নাশতার জন্য রাস্তার পাশে ছোট ছোট খাবারের

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

দোকানে পাবেন মোমো, বিভিন্ন কাঠি কাবাব আর চাওমিন। তবে রাত ১০টার দিক থেকে রাস্তাগুলো খালি হতে শুরু করে আর ক্লাবগুলো সরব হতে থাকে। এ সময় হেঁটে ঘোরাঘুরি করতে পারেন দল বেঁধে। নেপালে একদম ফিক্সড প্রাইজ সুপারশপ বাদে সব জায়গাতেই দামদর করে জিনিস কিনবেন। দ্বিতীয় দিনটি রাখা উচিত কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্য। আর যদি তিন–চার দিনের ছোট ট্যুর হয়, তবে দিনটা শুরু করা উচিত নগরকোটে সূর্যোদয় দেখে। সাধারণত, যে হোটেলে থাকবেন, সেখান থেকে পরের দিনের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার সার্ভিস নিতে পারেন। প্রতিটি হোটেলের নিজস্ব গাড়ি বা পরিচিত এজেন্সি থাকে, যেগুলো এই কাজে নিয়োজিত। আপনি সারা দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা। নগরকোটে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে মাঝরাতে রওনা হতে হবে। এখানে আপনাকে ড্রাইভার বা গাইডের ওপর নির্ভর করতে হবে, যদি আপনি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন। তাঁরাই আপনাকে জানিয়ে দেবে সবকিছু। সূর্যোদয় দেখার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে বাড়তি দেড় থেকে দুই হাজার বাংলাদেশি টাকা।নেপালে প্রথমবার হলে ড্রাইভার বা গাইডের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে। আর নেপালেসঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে। আর নেপালে নিতে পারেন

পরিকল্পনা ঠিক করে ড্রাইভার বা গাইডকে জানান। কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের মূল দর্শনীয় স্থানগুলো হলো কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার, শয়ম্ভুনাথ মন্দির, বৌদ্ধনাথ মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দির এবং প্রাচীন ভক্তপুর শহর। এর বাইরেও রয়েছে বহু মন্দির ও চক এবং স্কয়ার। কাঠমান্ডু এমন একটি শহর যেখানে ইতিহাস মিশে রয়েছে প্রতিটি ইঞ্চিতে। যে জায়গাগুলো টিকিট কেটে দেখতে হয়, সেগুলোতে সার্কভুক্ত দেশের জন্য টিকিট মূল্য নামমাত্র। অনেক জায়গায় বাংলাদেশি হওয়ার কারণে আপনি বিনা টিকিটেই সেসব জায়গা দেখার সুযোগ পাবেন।

চার দিনের ভ্রমণ হলে ভক্তপুরকে পরের দিন দেখার জন্য রেখে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে শপিংয়ের জন্য কিছুটা সময় পাবেন হাতে। আর যদি আপনি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা চান, তবে প্রথম বা দ্বিতীয় দিন হোটেলে ফিরেই বুকিং করে ফেলুন ‘দা লাস্ট রিসোর্টে’ এক দিনের ট্রিপ। থামেলেই আছে এদের অফিস। ভোর ছয়টায় ওদের শাটল-বাসে করে রওনা হয়ে ঘণ্টা চারেকের মধ্যে পৌঁছে যাবেন রিসোর্টে। সেখানে আছে বাঞ্জি জাম্প, সুইং জাম্প, রিভার র‍্যাফটিংসহ নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ। কেউ রাতে থাকতে চাইলে ক্যাম্পিংয়ে সুযোগও আছে। বিভিন্ন প্যাকেজ থেকে আপনার নিজের পছন্দের প্যাকেজটি আপনাকে বেছে নিতে হবে।

কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক বৌদ্ধনাথ স্তূপ।কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বাসে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে। কাঠমান্ডুতে যে হোটেলে উঠবেন তাদের বললেই তারা আপনাকে সব ব্যবস্থা করে দেবে। অথবা আপনিও একটু খবর নিয়ে পোখারা যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে ফেলতে পারেন গুগলের সাহায্য নিয়ে। পোখারা যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের খাবারের রেস্তোরাঁগুলোতে বাস থামবে। সেগুলোতে খাওয়াদাওয়াসহ আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে হবে আপনাকে। পোখারার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে ফেওয়া হ্রদ ও তার আশপাশের এলাকা, ওয়ার্ল্ড পিস প্যাগোডা, ডেভি’স ফলস, ভারাহি মন্দির ও বেশ কিছু জাদুঘর।

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ঘুরে বাসযাত্রায় বেশ আনন্দ পাবেন। পোখারা শহর অনেক গুছানো। সেখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করবে আপনাকে। পোখারা পৌঁছে সময় পেলে হোটেলে ব্যাগ বোঁচকা রেখে চলে যান লেকের ধারে। লেকের পাড়ে বসে, পাহাড়ের আড়ালে সূর্যাস্ত দেখা অসাধারণ স্মৃতি হিসেবে থাকবে আপনার আজীবন। পোখারার মূল আকর্ষণ ফেওয়া হ্রদ এবং এর ওপর করা প্যারাগ্লাইডিং। পাহাড়ের ওপর থেকে ফেওয়া হ্রদের ওপর দিয়ে উড়ে বেড়ানোর সময় পুরো পোখারা উপত্যকা দেখতে পাবেন। এই হ্রদের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কের পাশে পাবেন পুরো ট্যুরিস্ট জোন এবং হোটেল ও দোকানপাট। মূল শহরটি এই লেক রোড থেকে বেরিয়ে ভেতরের দিকে।

পোখারার সারাংকোট থেকেও আপনি দেখতে পারেন হিমালয়ের কোলে সূর্যোদয়। ভোর হওয়ার আগে আপনাকে যেতে হবে সারাংকোট। মাচাপুচ্ছুরে পর্বতের গায়ে সূর্যোদয় দেখতে বহু মানুষ আসে এখানে। আগের মতোই এখানেও হোটেলে থাকা–খাওয়া এবং ঘোরাঘুরির সব ব্যবস্থা করতে পারবেন। হোটেলের জন্য এখানে খরচ পড়বে ৬ হাজার ৮ হাজার বাংলাদেশি টাকার মতো।

কাঠমান্ডুর থামেলে একটি রেস্তোরাঁয় সন্ধ্যাকালীন নেওয়ারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এখানে ভাড়া পাওয়া যায় বাইসাইকেল বা মোটরবাইক/স্কুটার। ভাড়া করা তাই বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল/স্কুটারে করে নিজের পছন্দমাফিক ঘুরতে বেশ মজা। আর না হলে, সারা দিনের জন্য ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন অথবা সাধারণ যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন। বাইসাইকেলের ভাড়া সারা দিন ৫০০ টাকার মতো পড়বে। মোটরবাইক/স্কুটার নিতে পারবেন যদি আপনার বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে। লাইসেন্স না থাকলে পাসপোর্ট জমা রাখতে হতে পারে।

পরশ মনি টুরস এন্ড ট্রাভেলস 

সন্ধ্যায় ক্যাফে আর পাবগুলো সরব হয়ে ওঠে পোখারার লেক রোডে। বিভিন্ন জায়গায় এক কাপ কফির সঙ্গে খেলতে পারেন স্নুকার বা অন্য কোনো বোর্ড গেম। ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন দোকান, কেনাকাটার জন্য। পোখারায় বেশ কিছু নামকরা নেওয়ারি (নেপালি) খাবারের দোকান আছে। আর আছে কিছু নামকরা পিজ্জারিয়া বা পিৎজার দোকান। রাতের খাবার সারতে পারেন এগুলোতে। পোখারাতে দর্শনীয় জায়গাগুলো হয়তো এক দিনেই দেখে ফেলা সম্ভব। তবে তারপরও পরামর্শ থাকবে পোখারাতে এক দিন বেশি থাকার। শহর, হ্রদ মিলিয়ে অসাধারণ সুন্দর জায়গা পোখারা। আর হাতে টাকা থাকলে পোখারা থেকে মাউন্ট এভারেস্ট সাইট সিয়িং ফ্লাইটে উড়ে আসতে পারেন এভারেস্টের চূড়ার কাছ থেকে। খরচ পড়বে প্রতিজনের জন্য ২০০ ডলার বা ১৭ হাজার বাংলাদেশি টাকার মতো।

পোখারা থেকে কাঠমান্ডু ফিরবেন বাসে করে। বিকেল ও সন্ধ্যাটা ঘুরেফিরে, কিছু শপিং করে চলে যাবে। পরদিন ফিরতি ফ্লাইট। একটু সময় নিয়ে চলে যান এয়ারপোর্টে। যথারীতি চেষ্টা করবেন বাঁ দিকে আসন নেওয়ার। তাহলে ফিরতি পথেও দেখা হয়ে যাবে হিমালয়।

[/pl_text]
[/pl_col]
[/pl_row]