হোটেল রেস্তরাঁর ক্ষতি

লকডাউনের কারণে বন্ধ হওয়ার পথে বহু রেস্তোরাঁ, ছাঁটাই শুরু সুইগি -জোমাটোতে | 30 percentage of hotels-restaurants in West Bengal may wind up by year end

দেশের ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণের পর থেকে প্রায় সব রকম ছোট-বড় হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধ রয়েছে। সর্বস্তরের মানুষকেই যখন লকডাউনে প্রায় গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে, তখন হোটেল-রেস্তরাঁ খোলা থাকে কিভাবে। সেসব হোটেল-রেস্তরাঁয় যাবে কে বা কারা? আর খাবেই বা কি? সবই তো ঝুঁকিপূর্ণ। করোনাকালে সংক্রমণের ছোঁয়াছানির খাবার গ্রহণসহ সরবরাহে রয়েছে নানা বিধিনিষেধ ও নিয়ম-কানুন। এর ফলে হোটেল-রেস্তরাঁর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকা। রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তরাঁ মালিক সমিতি। তদুপরি গত দুই বছর ধরে রাজধানীর চকবাজারের সুখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজারসহ রকমারি ইফতার সামগ্রী বেচাকেনা ছিল প্রায় বন্ধ। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সারা দেশে হোটেল-রেস্তরাঁ রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০ হাজার। এতে কর্মসংস্থান হয় ৩০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী-বাবুর্চি-বয়-বেয়ারার। সব মিলিয়ে হোটেল-রেস্তরাঁ খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২ কোটি মানুষ। তাদের এবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় অর্ধেকের হয়েছে মালিকানা বদল। করোনকালে শুধু টেকওয়ে, পার্সেল ও অনলাইনে ডেলিভারি দিয়ে হোটেল-রেস্তরাঁ খুলে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। এর পরিমাণও ২/৩ শতাংশের বেশি নয়। এমতাবস্থায় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তরাঁ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন হোটেল-রেস্তরাঁ মালিক সমিতি। উল্লেখ্য, সরকার লকডাউনের সময়সীমা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবে দূরপাল্লার যানবাহনসহ লঞ্চ-স্টিমার-ট্রেন খুলে দেয়ার কথা বলেছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সেক্ষেত্রে হোটেল-রেস্তরাঁর মালিকদের দাবিও মেনে নেয়া বাঞ্ছনীয়। তবে এসব যেন চালু করা হয় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ভেজালমুক্ত অবস্থায়।

লকডাউনের প্রভাবে বন্ধ হতে পারে ৩০% রেস্তোরাঁ

রাজধানীসহ সারাদেশে খাদ্য ও পানীয়তে নানা মাত্রায় ভেজালের বিষয়টি সুবিদিত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য সমূহ ক্ষতিকর ও হুমকিস্বরূপ। আরও যা দুঃখজনক তা হলো, রমজান, ঈদ উৎসব ও বাংলা নববর্ষে ভেজালের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় বহুগুণ। তার মানে দাঁড়ায়- যত চাহিদা তত ভেজাল। আগে সময়ে সময়ে ভেজাল প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেল-রেস্তরাঁ-পানি ও কোমল পানীয় তৈরির কারখানাগুলোতে পরিচালিত হতো অভিযান। এ সময় যা দেখা যেত, তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রীতিমতো হুমকি তো বটেই, পীড়াদায়কও। অনেক হোটেল-রেস্তরাঁই অত্যন্ত নোংরা, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন তো বটেই; এমনকি টয়লেটের পাশেই রান্নাঘর, যা যে কোন মানুষের ঘৃণাসহ বমন উদ্রেক করার জন্য যথেষ্ট। ভ্রাম্যমাণ আদালত অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাদ্যে ভেজাল ও অপরিচ্ছন্নতার জন্য যৎসামান্য জরিমানা এবং ম্যানেজারসহ দু’চারজনকে জেল দ- দিলেও মালিকপক্ষকে কখনই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। অতঃপর ভেজাল প্রতিরোধে গঠিত হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তারা পর্যায়ক্রমে হোটেল রেস্তরাঁয় গ্রেডিং শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি প্রধানত করোনার কারণে। কোন হোটেল-রেস্তরাঁ- কনফেকশনারিই এখন পর্যন্ত এ-প্লাস অর্জন করতে পারেনি। রাজধানীবাসীর জন্য এটা খুবই দুঃখজনক ও পরিতাপের বিষয় বৈকি।

রেষ্টুরেন্ট

প্রতিদিন অনেক মানুষ দেশের নানা স্থান থেকে নানা কার্যোপলক্ষে এসে থাকেন রাজধানীতে। বিশ্বের নানা স্থান থেকে আসেন বিদেশী পর্যটকরা। ক্ষুন্নিবৃত্তির প্রয়োজনে তাদের অনিবার্য শরণাপন্ন হতে হয় হোটেল-রেস্তরাঁগুলোর। তবে দুঃখজনক হলো অন্তত এই মুহূর্তে সুনিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, অমুক রেস্তরাঁর খাবার ও পানীয় শতভাগ ভেজাল ও জীবাণুমুক্ত এবং নিরাপদ। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তরাঁ অবশ্যই আছে, তবে তাদের রান্না করা খাবার এবং পানীয় সর্বাংশে বিশুদ্ধ এমন নিশ্চয়তা মিলবে কিসের ভিত্তিতে? করোনার দুঃসময়ে যেন তা না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে হোটেল-রেস্তরাঁর মারিকদের। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও (বানিখাক) ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.