হোটেলে বাস আর নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকবেন চিকিৎসক–নার্স

হোটেলে বাস আর নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকবেন চিকিৎসক–নার্স

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক হোটেলে থাকতে হবে না। ঢাকা মহানগরে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্ধারিত ছয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারবেন। আর ঢাকা মহানগরের বাইরের জেলা–উপজেলার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবেন।

তবে কেউ সরকারি আবাসন সুবিধা গ্রহণ করতে না চাইলে ভাতা পাবেন। ঢাকা মহানগরের একজন চিকিৎসক দৈনিক ২ হাজার টাকা, নার্স ১ হাজার ২০০ টাকা এবং অন্যরা ৮০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ঢাকার বাইরের চিকিৎসকেরা দৈনিক পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা, নার্স ১ হাজার টাকা এবং অন্যরা পাবেন ৬৫০ টাকা করে। কেউ এক মাসে ১৫ দিনের বেশি এ ভাতা পাবেন না।

কোভিড–১৯ চিকিৎসার জন্য সারা দেশে নির্ধারিত হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে ৫ হাজার ৭২৬ জন চিকিৎসক, ১০ হাজার ৪ জন নার্স, ৭ হাজার ৫১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ২৩ হাজার ২৮৫ জন সম্পৃক্ত রয়েছেন। সবাই ভাতা নিতে চাইলে মাসে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারির জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ঢাকা মহানগরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আবাসন সুবিধার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) একাডেমি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, ন্যাশনাল একাডেমি অব এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট।

ঢাকা মহানগরের বাইরে জেলা–উপজেলার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা করা হবে।

প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘একেকজন একেক রকম হোটেলে থাকেন, তাতে সমালেচনা হয়। আবার সব জেলা-উপজেলায় হোটেলও নেই। তাই আমরা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই ভাতা তাঁরা যেভাবে চান, ব্যবহার করতে পারবেন। তাঁরা বাসায় থাকুন বা হোটেলে থাকুন, সেটা তাঁদের বিষয়।’ বিল নিয়ে সমালোচনার কারণে কি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? জবাবে মন্ত্রী বলেন, হোটেল থেকে আসলে তেমন বিল আসেনি। তাঁদের ভাতা দিয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আর ভাতা না নিলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্র জানায়, তাঁদের আলাদাভাবে থাকার জন্য ভাড়ার ভিত্তিতে আবাসিক হোটেল ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু হোটেলে থাকার যে বিল আসছে, তাতে করে সরকারের ব্যয় বেশি হচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে কোয়ারেন্টিন খাতে অর্থ বিভাগ থেকে ছাড় করা অর্থের পরিমাণ ছিল ১০৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এত বিপুল বরাদ্দ সত্ত্বেও সব স্বাস্থ্যকর্মী এর সুবিধা পাননি। এ নিয়ে সমালোচনা হয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি আবাসিক স্থাপনা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে চিকিৎসকদের আবাসন ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা শহরের বিয়ামসহ অন্য কয়েকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে একজনের খাওয়া–থাকাসহ তিন হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। বড় বড় নগরীতে, এমনকি জেলা সদরেও এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এর শতভাগ ব্যবস্থাপনা ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আবাসন সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাঁদের কমর্কালীন দৈনিক ভাতা দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের দুজন ঊর্ধ্বতন কমর্কর্তা জানান, করোনা চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি নীতিমালা ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। তাঁরা সাধারণভাবে একাধারে ১৫ দিনের বেশি দায়িত্ব পালন করবেন না। প্রতি মাসে ১৫ দিন দায়িত্ব পালন শেষে পরবর্তী ১৫ দিন তাঁরা সঙ্গনিরোধ ছুটিতে থাকবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.