সেন্টমার্টিনে ভাঙ্গন ধরেছে জেটি ও রাস্তাঘাটে, উপড়ে গেছে গাছপালা

image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পূর্ণিমা তিথির জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে উপকুলে আছড়ে পড়েছে। সামুদ্রিক জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটিতে ভাঙ্গন ধরেছে। সেন্টমার্টিনের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে কিছু এলাকা, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও সদর উপজেলার বেশকিছু এলাকা ভাঙ্গা বেড়িবাধ দিয়ে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

সেন্টমার্টিনের সংবাদকর্মী আব্দুল মালেক সংবাদকে জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আতংকে দ্বীপের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছিলো। তার চেয়ে বেশি আঘাত হানছে প্রবল জোয়ারে। জোয়ারের পানিতে দ্বীপের পাড়ের গাছপালা উপড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাঙ্গছে রাস্তাঘাট। তাই তার মতো দ্বীপের সব বাসিন্দারা ভয়ে আছেন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ সংবাদকে জানান, বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জোয়ারের পানির তোড়ে দ্বীপের একমাত্র জেটির আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। টেকনাফের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। দ্বীপে আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা নিজ নিজ বাড়িতে এবং হোটেল/রিসোর্টে অবস্থান করছে।

তবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া। তিনি সংবাদকে বলেন, দ্বীপে সব মিলিয়ে বাসিন্দা রয়েছে ১০ হাজার ২৬ জন। ইতিমধ্যে দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ মিলে ৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে ৬ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের পানিতে জেটির পল্টুন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সকল ধরণের ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টেকনাফে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০টি অধিক ট্রলার। আর ছোট ট্রলার, নৌকা ও স্পীডবোট সমূহ দ্বীপের উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আশা করি, সবার সমন্বয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলা সম্ভব হবে।

মহেশখালীর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শরীফ বাদশা সংবাদকে জানান, ধলঘাট, মাতারবাড়ীর বেড়ীবাধ দিয়ে জোয়ারের পানিতে বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল সংবাদকে জানান, চৌফলদন্ডী, ইসলামপুর, পোকখালী ইউনিয়নের বেশকিছু পয়েন্টে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে মৎস্য ঘেরের ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ সংবাদকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চল থেকে কমপক্ষে ১০ লাখ লোক নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে আসতে মাইকিং করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষনিক কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন ও নৌযান প্রস্তুত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপিপি) ৬ হাজারসহ ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। জেলার ৫৭৬ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্টান ও ২৫টি মুজিব কিল্লায় মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ৮ উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.