ঘুরে আসুন মহেরা জমিদার বাড়ি থেকে

মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল । Mohera Jamidar Bari, Tangail. - YouTube

প্রথমে ঢুকলাম কালীচরণ লজে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির শেষের দিকে এটি নির্মিত। অন্য ভবন থেকে অনেকটা আলাদা। বর্তমানে এই লজ পুলিশের জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এখানে আছে পুলিশের ব্যবহহৃত পুরনো দিনের হাতিয়ার। বিভিন্ন ছবিতে লেখা জমিদার বাড়ির ইতিহাস। জমিদারদের ব্যবহার করা নানান সামগ্রী রয়েছে এখানে। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের একটা আলাদা শিহরণ থাকে। কারণ এগুলোর একেকটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস।

পাশের চৌধুরী লজ গোলাপি রঙা। সুন্দর নকশাখচিত ভবনটির পিলারগুলো রোমান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। ভেতরে ঢেউ খেলানো ছাদ। দোতলা ভবনটির সামনে সুন্দর বাগান ও সবুজ মাঠ।

দৃষ্টিনন্দন মহেড়া জমিদার বাড়ি

এরপর আমরা গেলাম আনন্দ লজে। মহেড়া জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এটি। তিন তলা বিশিষ্ট ভবনের সামনে আটটি সুদৃশ্য কলাম। এখানকার ঝুলন্ত বারান্দা দৃষ্টিনন্দন। আনন্দ লজের সামনে হরিণ, বাঘ ও পশু-পাখির ভাস্কর্যসহ একটি চমৎকার বাগান আছে।

সবশেষে থাকা মহারাজ লজ বাইজেনটাইন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এর সামনে ছয়টি কলাম। এছাড়া ভবনের শোভা বাড়িয়েছে সিঁড়ির বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা। এতে মোট কক্ষ আছে বারোটি। সামনে বাগান ও পেছনে একটি টেনিস কোর্ট। এসব ভবন শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

মহেরা জমিদার বাড়ি - টাঙ্গাইল জেলার দর্শনীয় স্থান - ভ্রমণ গাইড

জমিদার বাড়ির পেছনের দিকে মিনি চিড়িয়াখানা। এতে দেখা যায় হরিণ, খরগোশ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রাণী। একেবারে শেষ প্রান্তে শিশু পার্ক। ‘পাসরা পুকুর’ ও ‘রানী পুকুর’ নামে দুটি পুকুর মনোরম। এছাড়া জমিদারদের আরও স্থাপনা ছড়িয়ে আছে আশেপাশে।

ইতিহাস বলছে, ১৮৯০ সালের আগে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে প্রতিষ্ঠিত হয় মহেড়া জমিদার বাড়ি। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকবাহিনী এতে হামলার পাশাপাশি বাড়ির কূলবধূসহ গ্রামের পাঁচজনকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। পরবর্তী সময়ে তারা লৌহজং নদীর নৌপথে দেশত্যাগ করেন।

মহেড়া জমিদারবাড়ি, টাঙ্গাইল » আদার ব্যাপারী

জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি সুরম্য ফটক। প্রবেশপথের আগে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল একটি দীঘি। এর দক্ষিণ পাশে বিস্তৃত আম্রকানন। এছাড়া বড় আকারের তিনটি ভবনের সঙ্গে রয়েছে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর ও গোমস্তাদের ঘর।

কিভাবে যাবেন :  ঢাকা থেকে আপনি ট্রেন যোগে যাতায়াত করতে পারেন । মির্জাপুরগামী ট্রেন যোগে যাতায়াত করতে পারেন । মির্জাপুর থেকে আপনাকে আবার পাকুল্লা বাস স্ট্যান্ড নামতে হবে। পাকুল্লা থেকে সিএনজি করে মহেরা জমিদার বাড়িতে যেতে হবে। ঢাকা থেকে মির্জাপুরগামী ট্রেনে চেয়ার কোচে ৬৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে। সেখান থেকে পাকুল্লা বাসস্ট্যান্ডে ২০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। পাকুল্লা থেকে মহেরা জমিদার বাড়িতে সিএনজি করে ২০ টাকা দিতে হবে।

প্রবেশ মূল্য:

মহেরা জমিদার বাড়িতে প্রবেশ মূল্য ৮০ টাকা ।

দর্শনার্থীদের জন্য কিছু দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। তা হল :

১. কোন ভবনের ছাদে উঠা যাবে না।
২. পুকুরে নামা এবং গোসল করা যাবে না ।
৩. বাগানের ডালপালা ভাঙ্গা এবং ফুল ছেঁড়া যাবে না ।
৪. শালীনতা এবং সৈাজন্যমূলক আচরণ বজায় রাখুন।
৫. ধূপমান/মাদকদব্য পরিহার করূন।
৬. যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না।
৭. নির্ধারিত টয়লেট ব্যবহার করূন।
৮. চিড়িয়াখানা পশু-পাখিকে বিরত্ত করবেন না।
৯. মাগরিবের আযানের ১৫ মিনিট পূর্বে অত্র এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.