ভ্রমণ টিপস : বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের পূর্বে জেনে নিন কিছু আদব কায়দা

 বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3

ভ্রমণ সব সময়ই অসাধারণ অভিজ্ঞতার আধার। দারুণ ও মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, ব্যক্তিগত পরিবর্তন সবকিছুই পরিলক্ষিত হয় ভ্রমণের মাধ্যমে। ভ্রমণকারীর ভ্রমণে শুধু নিজের উপকার হয় তাই নয়, স্থানীয়রাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, সংস্কৃতির দেয়া-নেয়া হয়। ভ্রমণের এই তো আনন্দ!

তবে এই মুহূর্তে ট্যুরিজম খাতে বিভিন্ন পরিবর্তন আসছে। সব সময় এই পরিবর্তন আশাজনক হবে এমন নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যুরিজমগুলোতে জায়গা নির্বাচন, পরিবেশ নিয়ে নানা সময় অভিযোগ আসছে, চাপ বাড়ছে ভ্রমণ করতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে।

যতই সমস্যা তৈরি হোক, তাই বলে কি ভ্রমণকারীরা চুপচাপ বসে থাকবেন? মোটেও নয়! নিয়মিত ভ্রমণ করতে হলে, বিশ্বকে জানতে হলে, খরচ সীমার মধ্যে রাখতে হলে অবশ্যই তাকে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হবে। একজন বৈশ্বিক ভ্রমণকারীর জন্য এই ভ্রমণ পরামর্শ গুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মনে রাখুন নতুন জায়গায় আপনি মেহমান

যে দেশে ঘুরতে এসেছেন সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে, সেখানে আপনি অল্প কয়দিনের মেহমান মাত্র। সেই দেশের প্রতি, সেখানকার মানুষের প্রতি সব সময় সম্মান রাখতে হবে। আপনার কাজ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সাথে মিশে যেতে হবে। বদলে, আপনিও তাদের কাছ থেকে একই রকম ব্যবহার, শ্রদ্ধা পাবেন।

যথাযথ পোশাক

আপনি যেখানেই যান না কেন, সেখানে আপনার গায়ের রঙ এর চেয়ে পোশাক কথা বলবে দ্রুত। নতুন এলাকায় নতুন মানুষদের মত পোশাক পরলে তারা দ্রুত আপন ভাবতে পারে। পোশাকে যদি কিছুটা আরাম কমও লাগে তবু সেটা প্রকাশ না করাই উত্তম।

মনে রাখবেন, এটা তাদের দেশ, তাদের বাড়ি, আপনার নয়। স্থানীয় একটি পোশাক (হতে পারে সেটি শাড়ি, স্কার্ফ যে কোনও কিছু) আপনাকে সাহায্য করবে দ্রুত সবার সাথে মিশে যেতে। অপরিচিতদের সাথে কথা শুরু করার একটি মাধ্যমও হতে পারে পোশাক।

ট্রাভেল টিপস ভ্রমণ পরামর্শ - বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3

আগ্রহকে বাঁচিয়ে রাখুন

যখন ভ্রমণে যাবেন কখনোই কোনও কিছু নিয়ে আগ্রহ দেখাতে ভয় পাবেন না। প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যে শুধু আপনার জানার কৌতূহলকে তৃপ্ত করে তাই নয়, বরং আপনি যে জায়গাটি ঘুরে দেখছেন সেটি সম্পর্কে আরও নতুন নতুন জিনিস সামনে আনে, স্থানীয় মানুষের সাথে যোগাযোগের রাস্তা খুলে দেয়।

খুব সাধারণ কিছু কথা যেমন, খাবার, এলাকার বাজার, শিশুদের নাম-বয়স ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে এক সময় পরিবার, জীবন, দেশের রাজনীতিসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে জানা যায়।

সাবলীল আচরণ

হাসুন, নম্র থাকুন, আনন্দ প্রকাশ করুন-এই তিনটি সহজ উপায় আপনার ভ্রমণকে করে দেবে অনেক সহজ। একজন মানুষের হাসিতে তার মন কেমন, তিনি গম্ভীর নাকি রাগী বিষয়গুলো প্রকাশ পায়। প্রথম পরিচয়ে একজন অচেনা মানুষের কাছে এই বিষয়গুলোই আপনাকে সহজ করে তুলবে বিশেষ করে যখন আপনি সেখানকার ভাষা সম্পর্কে জানেন না।

আপনি যত জায়গাতেই যাচ্ছেন, অন্তত ৫০ শতাংশ এলাকার ভাষাই আপনার জানা নেই। তাই ভ্রমণের সাথে সাথে আচরণের এই বিষয়গুলোও আয়ত্ত করতে হবে।

কিছু শব্দ জেনে নেয়া

বিদেশি অনেক কঠিন শব্দ নিয়ে যখন আপনি ভাবনায় পড়েছেন, তখন সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেলে চেষ্টা করুন স্থানীয় অল্প কিছু শব্দ শিখে নিতে। হ্যালো, প্লিজ, থ্যাংক ইউ এগুলো কিছু নতুন শব্দ শিখে নিলেও হবে। এতে মানুষকে অভিবাদন জানানো, কথার ভাব প্রকাশ করা, খাবার অর্ডার দেয়ার মত ছোট ছোট কাজগুলো করা সহজ হবে।

স্থানীয় খাবার খান

স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে তাদের কাজে উৎসাহিত করুন। যখনই আপনি ভ্রমণ করতে যাবেন, সেখানের মানুষের যেন অর্থনৈতিক লাভ হয় সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে। এর মানে এই নয় যে বিদেশি ব্যবসাকে আপনি অনুৎসাহিত করছেন।

বিদেশি ব্যবসা যারা করছে তারা অন্য দেশের খাবার বা ঐতিহ্য হয়ত নিজ দেশে এনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু স্থানীয়রা সর্বদাই নিজেদের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তাদের এই চেষ্টাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানানো উচিত।

ট্রাভেল টিপস - ভ্রমণ পরামর্শ- বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3

স্থানীয়দের ছবি তোলার আগে অনুমতি নেয়া

কথাটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। হুটহাট ছবি তুললে হয়তো শুধু ছবিটাই তোলা হবে, পরিচিত হওয়া হবে না। যখন একজন স্থানীয় ব্যক্তির ছবি অনুমতি নিয়ে তুলবেন তখন তার সাথে কথা বলার একটি রাস্তা তৈরি হবে।

ছবি তুলতে চান সেটি যদি ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে না পারেন, চেষ্টা করুন ইশারায় বোঝাতে। হয়ত এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এই ছবি আর সময়টুকু একটা দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে আপনার জীবনে।

এক জায়গাতেই সব অর্থ খরচ নয়

এক দোকানে বসেই আপনি সব খাবার খেলেন, জিনিস কিনলেন এতে কিন্তু সেই সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হলো না। ঘুরে দেখুন পুরো এলাকা, প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় খাবার খান, জিনিস কেনার সময় ভিন্ন ভিন্ন দোকানে যান। এতে পরিচয়টাও বাড়বে, অর্থটাও এক জায়গায় খরচ হবে না।

ভাল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন

শুধু নিজ দেশে নয়, পৃথিবীর কোনও দেশে গিয়েই আবর্জনা ছুঁড়ে ফেলা উচিত নয়। বরং যদি সম্ভব হয়, আশেপাশে নোংরা বা আবর্জনা চোখে পড়লে সেটি পরিষ্কার করে ফেলুন। ভাবতে পারেন, এটা আপনার দেশ নয়, আপনার এলাকা নয়। আপনি কেন পরিষ্কার করবেন?

মজার বিষয় হচ্ছে, স্থানীয়রা ট্যুরিস্টদের অনেক বেশি লক্ষ্য করে। হয়তো নিজেদের ভেতর সচেতনতা তৈরি হয় না, কিন্তু ট্যুরিস্টদের দেখলে তারাও এগিয়ে আসে পরিচ্ছন্নতার কাজে। আর নতুন পরিচয় তৈরির এটাও একটা সুযোগ।

যতটা সম্ভব হাঁটুন, অথবা সাইকেল ভাড়া করুন

যত হাঁটবেন তত দেখবেন, জানবেন। তবে হাঁটার বদলে সাইকেলটাও মন্দ না। ঘুরতে ঘুরতে কোথাও থেমে যাওয়া, হুটহাট কোনও দোকানে থেমে খাবার খাওয়া, মানুষের সাথে গল্প করতে করতে হয়তো নতুন কোনও এলাকাতেই রাত কাটিয়ে দেওয়া- দারুণ এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতা অবশ্যই। গাড়ি অথবা বাসে সব সময় এই অভিজ্ঞতাগুলো পাওয়া যায় না। মানুষ এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্যতা পেতে এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী আছে?

 বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে 3 ভ্রমণ পরামর্শ

স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করা

স্থানীয় যে যানবাহনগুলো আছে সেগুলোতে ভ্রমণের হয়ত অভ্যাস আপনার নেই। কিন্তু যদি চড়তে পারেন তবে নতুন অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে সহজেই। নতুন জায়গা, ভাষা নিয়ে ভাব প্রকাশ করা অবশ্যই কিছুটা সমস্যার হতে পারে, কিন্তু চেষ্টাটা করতে হবে আপনার নিজের জন্যই।

একটি বাসে উঠলে অনেক ধরনের মানুষ দেখা যায়, স্থানীয়দের সাথে কথা হয়, তাদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানা হয়, এলাকার দোকান, খাবার নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.