ভ্যাটের হারে জটিলতায় বিপাকে ইন্টারনেট সেবা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনলাইনে ব্যবসা করছেন অনেক উদ্যোক্তা। ইন্টারনেটই এখন তাঁদের মূল হাতিয়ার। এই ইন্টারনেট খরচ বেড়ে গেলে বা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও বড় সংকটে পাড়বেন তাঁরা। অথচ বাড়তি ভ্যাট আরোপের ফলে বছরে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে মাত্র ৫০ কোটি টাকা।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) বলছে, আইএসপি সেবাদাতারা গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করে ৫ শতাংশ হারে। পক্ষান্তরে আইএসপিরা পাইকারি ব্র্যান্ডউইডথ আইআইজিদের কাছ থেকে কেনার সময় ভ্যাট দেয় ১৫ শতাংশ হারে ও ব্যান্ডউইডথ বহন করার জন্য এনটিটিএনদের ভ্যাট দেয় আরও ১৫ শতাংশ। মোট ৩৫ শতাংশ ভ্যাট সরকারকে দিতে হচ্ছে আইএসপিদের। একই পক্ষের ওপর বারবার ভ্যাট আরোপ এবং আইএসপিরা ভ্যাট আইনে রিবেট বা অব্যাহতি না পাওয়ার কারণে তাদের খরচ বেড়ে যায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

আইএসপিএবির দাবি, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্য ভ্যাটের শিকার হচ্ছে। এখন যে ভ্যাটের কাঠামো রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে ক্রেতা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। বিষয়টি সুরাহার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শরণাপন্ন হয়েছে সংগঠনটি। তারা সুরাহার দাবিতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কর্মসূচির কথাও ভাবছে।

এ ছাড়া সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। ফলে মোবাইলে কথা বলা, খুদে বার্তা পাঠানো ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও বেড়েছে। অপারেটরদের হিসাবে, এখন প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে কথা বলা ও খুদে বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার কর পায় ২৫ টাকা। আর মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে সরকার পায় ১৮ টাকার মতো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.