ভাড়া কমানোর পরও ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছেন না বাড়িওয়ালারা

 

ভাড়া কমানোর পরও ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন ...

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৪ তলা বাড়ির মালিক আসলাম হোসেন। পরিবারের জন্য এক তলা ও বাকি তিন তলায় ৩টি করে মোট ৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে। নিজের জমানো টাকা আর ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়িটি বানিয়েছেন তিনি। ভাড়া বাবদ যে টাকা পেতেন তা দিয়ে নিজের সংসার ও ব্যাংক লোন ভালোভাবে চালাতে পারতেন। তবে এখন বিপাকে পড়েছেন। ৯টি ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাটের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই মাস যাবত ১টি ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে আছে ৷ চলতি মাসে আরও একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া চলে যাবে। আগামী মাসে আরও দুইটি ফ্ল্যাট খালি হবে বলে জানান তিনি। চেষ্টা করেও নতুন ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছেন না।

এদিকে বাকি ভাড়াটিয়াদের জন্য ভাড়ার পরিমাণও কমাতে হয়েছে। এখন বাসা ভাড়া বাবদ যে টাকা পান তা দিয়ে ব্যাংক লোন, পানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল নিজের সংসার, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর বেতন গৃহপরিচারিকার বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে আগামীতে আরও বিপাকে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন আসলাম হোসেন। শুধু আসলাম হোসেন নয় এ চিত্র প্রায় ঢাকার অধিকাংশ বাড়িওয়ালাদের।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারিতে ভেঙে পড়েছে সারা বিশ্বের অর্থনীতির চাকা। বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। এতে করে দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন মধ্যবিত্তের মানুষ। এর মধ্যেই কেউ কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কারো বেতন কমেছে। নিম্ন ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আয় কমেছে। অন্যদিকে সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কবে খুলবে তারও ঠিক নেই। কর্মহীন হয়ে পড়ায় রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। জানা যায়, ইতিমধ্যে ৫০ হাজারেও বেশি মানুষ পরিবার নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন। এ কারণে রাজধানীর বাসা মালিকরাও পড়েছেন ভাড়াটিয়া সংকটে, বেড়েছে তাদের দুশ্চিন্তা।

মিরপুরের বাসিন্দা আফসানা জেরিন। বাড়ি বাড়া থেকে যে টাকা আসে তা দিয়েই সংসারের যাবতীয় খবর চালান। গত চার মাসের বাড়ি ভাড়ার অধিকাংশই পাননি তিনি। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জেরিনের বাবা। বর্তমানে জেরিনসহ পরিবারের তিন সদস্যও করোনায় আক্রান্ত আছেন।

বার্তা২৪.কম-কে জেরিন বলেন, করোনার সময় ভাড়াটিয়ার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এখন কেউ কেউ এসেছেন। এসময়ে তাদেরও কাজ নেই, তারাও নানা সমস্যায় আছে। যার কারণে ঠিকমতো ভাড়া দিতে পারছেন না। মানবিকতার জায়গা থেকে তাদেরকে কিছু বলতে পারছি না। একটা ফ্ল্যাটে শিক্ষার্থীরা থাকতো। ভাড়া দিতে না পেরে বাসা ছেড়ে দিয়েছে তারা। চলতি মাসের শুরুতে তাদের মালামাল নিয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.