ফরাসিদের ‘অদ্ভুত’ খাদ্যাভ্যাস

সব খাবারে সবার জিবে পানি আসে না। আবার কোনো খাবার চোখে দেখলেই চেখে দেখতে ইচ্ছা করে। কোনো কোনো খাবারের কথা শুনলে বা দেখলে কুঁচকে যায় ভ্রু, এ আবার কেমন খাবার! চাইলেই কি যেকোনো দেশের যেকোনো খাবার তাদের মতো করে খাওয়া সম্ভব? সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে একেক দেশে খাবারের ধরন ও খাওয়ার নিয়ম হয় আলাদা। যেমন ফরাসিদের অনেক খাদ্যাভ্যাস তাদের কাছে দিব্যি স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য দেশের মানুষের কাছে কিছুটা অদ্ভুত, ক্ষেত্রবিশেষে আবার উদ্ভটও লাগতে পারে। জেনে নেওয়া যাক, তাদের খাবার খাওয়ার কিছু অভ্যাস।

মিষ্টির আগে চিজ

পনির বা চিজ তো অনেকেরই বেশ পছন্দ। খাবারের স্বাদ ও চেহারা দুটিই বাড়ায় চিজ। কিন্তু ফরাসিদের চিজ খাওয়ার পদ্ধতিটা অন্য রকম। তারা প্রধান খাবার খাওয়ার আগে কোনোভাবেই চিজ খায় না। মূল খাবার (মেইন কোর্স) খাওয়ার পর আর মিষ্টি খাবার খাওয়ার আগেই শুধু চিজ খায় তারা। সেই চিজ খাওয়ার জন্য সঙ্গে থাকে সবুজ সালাদ ও রুটি।

চিজ খুব পছন্দ ফরাসিদের

কোল্ড কফি বলে কিছু নেই!

সাধারণত গরমে আমরা ঠান্ডা কিছু খেতেই পছন্দ করি। আর যারা কফিপ্রেমী, তাদের কাছে গরমে বরফ ডোবানো একেবারে কোল্ড কফি তো স্বর্গীয়। কিন্তু ফরাসিদের কাছে কোল্ড কফি বলে কিছু নেই। শীত হোক বা গ্রীষ্ম—গরম গরম ধোঁয়া ওঠা কফি পানই পছন্দ ফরাসিদের। তাই চাইলেও সেখানে পাবেন না গলা ভেজানো ঠান্ডা ঠান্ডা কফি।

গরম কফির কাপে চুমুক দিয়ে শেষ হয় ফরাসিদের খাওয়া দাওয়া

পানি, দুধের সঙ্গে সিরাপ

নানান স্বাদের সিরাপের প্রতি ফরাসিদের রয়েছে বিশেষ প্রীতি। লেবু, আনার ও পুদিনার সিরাপ খেতে পছন্দ করে তারা। গরমের সময়ে সিরাপ মেশানো পানীয় যেন ফরাসিদের কাছে ‘জাতীয় খাবার’। সব ধরনের পানীয়, যেমন পানি, লেমনেড, দুধ, এমনকি বিয়ারের সঙ্গেও সিরাপ মিশিয়ে খায় ফরাসিরা।

যে কোনো পানীয়তে সিরাপ মেশাতে ওস্তাদ ফরাসিরা

খেতেই চার ঘণ্টা

ফরাসিরা খাবার খেতে ঘণ্টাখানেক সময় নেয়। তবে সেটা প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে একটি দিন তারা উৎসব করে খাবার খায়। আর দিনটি হলো রোববার। প্রথমেই তারা হালকা নাশতা ও পানীয় দিয়ে খাওয়া শুরু করে। এরপর প্রধান খাবার ও পরে চিজ। তারপর মিষ্টি। আর খাওয়ার পর্ব শেষ করে এসপ্রেসো কফি দিয়ে।

খাওয়া শেষে যতক্ষণ মন চায়, বসে থাকুন রেস্তোরাঁয়

ফরাসিরা রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া শেষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে পারে। কোনোভাবেই খাওয়া শেষে টেবিল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা বা না চাওয়া পর্যন্ত বিল দেওয়ার নিয়ম নেই। একজন চাইলেই খাওয়া শেষে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা দিব্যি রেস্তোরাঁয় বসে, গল্প করে, আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিতে পারে।