প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন নৌবাহিনীর এক লাখ টন ধারণ ক্ষমতার তিনটি বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ টহল দিচ্ছে। এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পিছু হটবে না বেইজিং। মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউএসএস রোনাল্ড রিগান ও ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে এবং ইউএসএস নিমিতজ পূর্ব অংশে টহল দিচ্ছে। খবর সিএনএন।

২০১৭ সালে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত উত্তেজনার পর ওই অঞ্চলে এতো বেশি বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেনি যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ চীন সমুদ্র ও তাইওয়ান নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এসব যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে টহলে থাকা তিনটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের প্রতিটি ৬০টিরও বেশি বিমান বহনে সক্ষম।গত শুক্রবার (১২ জুন) প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতির খবর প্রথমবারের মতো সামনে আনে বার্তা সংস্থা এপি। হাওয়াইয়ের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের ডিরেক্টর অব অপারেশন্স রিয়ার অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহেলার মার্কিন বার্তা সংস্থাটিকে বলেন, ‘বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ এবং আক্রমণে সক্ষম জাহাজগুলো মার্কিন নৌশক্তির প্রতীক। এই মুহূর্তে এগুলোর তিনটিকে পাওয়ায় আমি খুবই খুশি।’

রবিবার (১৪ জুন) চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমসের এক খবরে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজগুলো বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সমুদ্রে অবস্থানরত সেনাদের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।
বেইজিংয়ের নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ লি জিয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘এসব বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজে ভর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র অঞ্চল এবং এমনকি পুরো দুনিয়াকে দেখাতে চাইছে যে তারা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নৌবাহিনী, যারা দক্ষিণ চীন সমুদ্রে প্রবেশ করতে পারে এবং জাইসা ও নানসা দ্বীপে অবস্থানরত চীনা সেনাদের হুমকি হতে পারে, এমনকি আশেপাশের নৌপথেও ঢুকে পড়তে পারে, যাতে করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারে।’

গ্লোবাল টাইমসের ওই প্রতিবেদনটি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সরকারি ইংরেজি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে চীনা সেনাবাহিনীর অস্ত্র সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে মহড়া আয়োজন করতে পারে বেইজিং।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম ডিএফ-২১ডি এবং ডিএফ-২৬ এর মতো জাহাজ ধ্বংসকারী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শণ করতে পারে চীন।’

সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা ও কৌশল বিদ্যা ইন্সটিটিউটের রিসার্চ ফেলো কোলিন কোহ বলেন, চীন কড়াভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে কারণ তারা মার্কিন নৌবাহিনীকে করোনা ভাইরাস জর্জরিত বাহিনী বলে যেভাবে দেখাতে চায় তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ছে এই টহল।

তিনি বলেন, ‘এটা চীনের সেই বর্ণনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে যাতে তারা বলতে চায় যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চাপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.