পাহাড়ী এলাকার ডেলিভারি বয়

পাহাড়ী এলাকার ডেলিভারি বয়

কলম্বিয়ার পাহাড়ী এলাকার মানুষের কাছে হিরো হিসেবে পরিচিত চকলেট রঙের ল্যাব্রাডর এরস (আট বছর)। সে তার মুখে এক ঝুঁড়িতে তরকারি ও ফল নিয়ে বাড়ি বাড়ি ডেলিভারি করে। দেশটির সরকার সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার কথা চিন্তা করে কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ির বাজার করে দেয়। এল পরভানির মিনি মার্কেটের খরিদ্দারদের আর কোন চিন্তা নেই।

মালিককে ফোন করে দিলে ঠিক সময়ে এরস জিনিস নিয়ে পৌঁছে যাবে তার বাড়ি। তবে খাবার ডেলিভারি করার পর আদর না করলে বা কোন উপহার না দিলে সে খদ্দেরের বাড়ি ছেড়ে বের হয় না। এরসের মালিক মারিয়া নাটিভিদাদ বোতেরো বললেন, সে ছিল বলেই আমাদের কষ্ট কমে গেছে। না হলে পাহাড়ী পথ ধরে কিভাবে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতাম। এরসকে প্রথম প্রথম মেনে নেয়নি বোতেরো পরিবার। যদিও ছেলের চাপে পড়ে এরসকে ঘরে ঢুকতে দিতে হয়েছিল মারিয়াকে।

তারপরও ভালবাসতে বেশি সময় লাগেনি। চার বছর আগেই যখন তিনি মিনি মার্কেট খুললেন, তখন থেকেই শুরু হলো এরসকে ডেলিভারির প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ। এরস ঠিকানা পড়তে পারে না। বোঝে শুধু মালিকের ভাষা আর খদ্দেরদের নাম। তার গলায় ঝুঁড়ি ঝুলিয়ে দিয়ে খদ্দেরের নাম বলে দিলেই সে লাফাতে লাফাতে তার বাড়ি চলে যায়। খাবার ছাড়াও ওই ঝুঁড়িতে থাকে মূল্য তালিকা। খদ্দেররা সেটি পড়ে বোতেরোর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠিয়ে দেয়। কলম্বিয়ায় প্রত্যেক দিন তিন হাজার করে নতুন আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। যথারীতি সরকার ফের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ডেলিভারি বয়ের খুব প্রয়োজন এই সময়ে। সেই কাজটিই খুশি মনে করছে এরস নামের কুকুর। -নিউইয়র্ক পোস্ট

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.